পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived

পরীক্ষা৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন২৮
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৮ বাংলা ব্যাকরণ টপিকসমূহ: ১. বাংলা ভাষা (ভাষা ও বাংলা ভাষা রীতি; বাংলা ব্যাকরণ ও এর আলোচ্য বিষয়) ২. ধ্বনিতত্ত্ব (ধ্বনি ও বর্ণ-প্রকরণ; ধ্বনির উচ্চারণ বিধি; ধ্বনি পরিবর্তন, ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান; সন্ধি) ৩. বাক্য প্রকরণ (যতিচিহ্ন ও এর ব্যবহার; প্রয়োগ ও অপ্রয়োগ) উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ২৮ প্রশ্ন

.
শুদ্ধ যুক্তবর্ণ কোনটি?
  1. হ্ + ষ + ম = হ্ম
  2. হ্ + উ = হু
  3. হ্ + ণ = হৃ
  4. হ্ + ঋ = হ্ন
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ যুক্তবর্ণ - হ্ + উ = হু

অন্যদিকে,
- হ্ + ম = হ্ম,
- হ্ + ঋ = হৃ,
- হ্ + ন = হ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।
.
কোনটি ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. নাতি + বৌ = নাতবৌ
  2. মা + এর = মায়ের
  3. কুড়ি + এক = কুড়িক
  4. রুপা + আলি = রুপালি
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সঙ্গে ব্যঞ্জনধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে ব্যঞ্জনধ্বনি মিলিত হয়ে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

যেমন:
- নাতি + বৌ = নাতবৌ,
- উৎ + চারণ = উচ্চারণ, 
- চার + টি = চাট্টি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- স্বরসন্ধির উদাহরণ:
রুপা + আলি = রুপালি, 
কুড়ি + এক = কুড়িক, 
মা + এর = মায়ের।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
.
'আটমেসে ˃ আটাসে' কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. সম্প্রকর্ষ
  2. অপিনিহিতি
  3. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  4. অভিশ্রুতি
ব্যাখ্যা
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।

যেমন:
- আটমেসে ˃ আটাসে,
- কুটুম্ব ˃ কুটুম,
- জানালা ˃ জান্লা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
কোনটি বিশেষ নিয়মে সাধিত সন্ধি?
  1. উৎ + স্থান = উত্থান
  2. গো + পদ = গোষ্পদ
  3. আ+ চর্য = আশ্চর্য
  4. তৎ + কর = তস্কর
ব্যাখ্যা
বিশেষ নিয়মে সাধিত কতগুলো সন্ধি:

যেমন:
সম্ + কৃত = সংস্কৃত,
উৎ + স্থান = উত্থান
পরি + কার = পরিষ্কার, 
সম্ + কার = সংস্কার,
উৎ + স্থাপন = উত্থাপন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
কতগুলো সন্ধি নিপাতনে সিদ্ধ হয়:
তৎ + কর = তস্কর,
আ+ চর্য = আশ্চর্য,
গো + পদ = গোষ্পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
কত শতকে লেখ্য গদ্য রীতি সাধু রীতির জন্ম দেয়?
  1. উনিশ শতকে
  2. একুশ শতকে
  3. বিশ শতকে
  4. শতের শতকে
ব্যাখ্যা
লেখ্য ভাষা রীতি:
- লিখিত বাংলা ভাষার আদি নিদর্শনের নাম 'চর্যাপদ'। প্রায় এক হাজার বছর আগে লেখ্য বাংলা ভাষার কাব্য রীতিতে এটি রচিত।
- ব্যবহারিক প্রয়োজনে ক্রমে লেখ্য গদ্য রীতির জন্ম হয়। উনিশ শতকের সূচনায় এই গদ্য রীতি সাধু রীতির জন্ম দেয়। বিশ শতকের সূচনায় সাধু রীতির পাশাপাশি চলিত রীতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
- একুশ শতকের সূচনায় চলিত রীতির একটি আদর্শ রূপ প্রমিত রীতি হিসেবে গৃহীত হয়েছে। এই প্রমিত রীতিই লেখ্য বাংলা ভাষার সর্বজনগ্রাহ্য লিখিত রূপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
.
একাধিক বাক্যের মধ্যে নিকট সম্পর্ক থাকলে তাদের মাঝে যোগসূত্র রক্ষার জন্য, কোন চিহ্ন ব্যবহার করা হয়?
  1. সেমি
  2. সেমিকোলন
  3. হাইফেন
  4. কোলন
ব্যাখ্যা
সেমিকোলন (;):
- একাধিক বাক্যের মধ্যে নিকট সম্পর্ক থাকলে তাদের মাঝে যোগসূত্র রক্ষার জন্য সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়। সেমিকোলনচিহ্ন কমার চেয়ে দ্বিগুণ সময় বিরতি নেয়। দুটো বাক্যের মধ্যে ভাব বা অর্থের সম্বন্ধ থাকলে সেমিকোলন বসে।

যেমন:
- দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।
- কথাটা বলা সহজ; করা কঠিন।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
.
অশুদ্ধ যুক্তবর্ণ -
  1. ঙ্‌ + ক = ঙ্ক
  2. ঙ্‌ + গ = ঙ্গ
  3. ভ্‌ + র = ভ্র
  4. উ্‌ + থ = ত্থ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ যুক্তবর্ণ - উ্‌ + থ = ত্থ
- এর শুদ্ধরূপ - ত্‌ + থ = ত্থ।

অন্যদিকে,
- ভ্‌ + র = ভ্র,
- ঙ্‌ + গ = ঙ্গ,
- ঙ্‌ + ক = ঙ্ক।
উপরিউক্ত যুক্তবর্ণগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।
.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. কৃপণ
  2. মরণ
  3. উষ্ণ
  4. ঋন
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - ঋন

• ঋ, র, ষ - এর পরে মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়।
যেমন:
- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ, ব্যাকরণ ইত্যাদি।

- ঋ, র, ষ - এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য়, ব, হ,ং এবং ক - বর্গীয় ও প - বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী 'ন' মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন:
- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্‌, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ণ,) এরূপ- রুক্সিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
কোন চিহ্নের বিরতিকাল 'এক সেকেন্ড'?
  1. উদ্ধৃতি চিহ্ন
  2. হাইফেন
  3. ইলেক বা লোপ চিহ্ন
  4. কোলন
ব্যাখ্যা
কোলন (:)
- বাক্যের প্রথম অংশের কোনো উক্তিকে দ্বিতীয় অংশে ব্যাখ্যা করা এবং উদাহরণ উপস্থাপনের কাজে কোলন ব্যবহৃত হয়।
- কোলন চিহ্নের বিরতিকাল - এক সেকেন্ড

যেমন:
ভাষার দুটি রূপ: কথ্য ও লেখ্য।
সভার সিদ্ধান্ত হলো: প্রতি মাসে সব সদস্যকে দশ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে।

অন্যদিকে,
হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।
ইলেক বা লোপ চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।
একক উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।
১০.
কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. সৌহার্দ্যতা
  2. কার্পণ্য
  3. পৌরুষ
  4. গাম্ভীর্য
ব্যাখ্যা
• 'সৌহার্দ্যতা'- প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ। এর শুদ্ধ প্রয়োগ - সৌহার্দ। 

তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ:
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।

অন্যদিকে:
- গাম্ভীর্য, পৌরুষ ও কার্পণ্য শব্দ গুলোর শুদ্ধপ্রয়োগ ঘটেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১.
'হাটুয়া > হাউটা' কোন ধ্বনির পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অভিশ্রুতি
  2. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  3. অন্তর্হতি
  4. স্বরলোপ
ব্যাখ্যা
অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদানুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।

যেমন
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা,
- মাছুুয়া > মেছো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২.
কোনটি ঘৃষ্টধ্বনি?
ব্যাখ্যা
ঘৃষ্টধ্বনি:
- , ছ, জ, ঝ-এই ধ্বনিগুলোর উচ্চারণকালে জিহ্বা বা তালুর স্পর্শের পর পরই উভয়ের মধ্যে বায়ুর ঘর্ষণজাত ধ্বনি সৃষ্টি হয় বলে এগুলোকে ঘৃষ্টধ্বনি বলে।

অন্যদিকে,
ওষ্ঠ্যধ্বনি:
- যেসব ধ্বনির উচ্চারণস্থান ওষ্ঠ, তাদের ওষ্ঠ্যধ্বনি বলে। উ, ঊ, প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্যধ্বনি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১৩.
কোন শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. স্পষ্ট
  2. আষাঢ়
  3. উৎকৃষ্ট
  4. ঋষি
ব্যাখ্যা
• ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়।
যেমন:
- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।

২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়।
যেমন:
- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়
যেমন -
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ, পাষাণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪.
কোনটি সাধু রীতির বিশেষ্যপদ?
  1. হাতি
  2. মৎস্য
  3. চাঁদ
  4. আগুন
ব্যাখ্যা
বিশেষ্যপদের রূপের পার্থক্য:

সাধু-চলিত:
→ অগ্নি - আগুন,
→ কর্ণ - কান,
→ চন্দ্র - চাঁদ,
→ দন্ত - দাঁত,
→ পক্ষী - পাখি,
→ ব্যাঘ্র - বাঘ,
মৎস্য - মাছ,
→ হস্তী - হাতি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৫.
"কমা" চিহ্নের বিরতিকাল কত?
  1. এক বলার দ্বিগুণ সময়
  2. এক বলতে যে সময় প্রয়োজন
  3. এক সেকেন্ড
  4. থামার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা
কমা (,)
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
- "কমা" চিহ্নের বিরতিকাল - ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।

যেমন:
গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
সুজন, দেখ তো কে এসেছে।
কাল তুমি যাকে দেখেছ, তিনি আমার বাবা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।
১৬.
কোনটি সমাসঘটিত অপপ্রয়োগ?
  1. পিতৃহারা
  2. নিরহঙ্কার
  3. অর্ধরাত্র
  4. নিরভিমানী
ব্যাখ্যা
• সমাসঘটিত অপপ্রয়োগ - নিরভিমানী
- শুদ্ধ প্রয়োগ - নিরভিমান।

অন্যদিকে,
- অর্ধরাত্র,
- নিরহঙ্কার,
- পিতৃহারা।
শব্দগুলো সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭.
কোনটি সাধু রীতির বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. অপরিবর্তনীয়, তাই কৃত্রিম
  2. সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম
  3. গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর
  4. পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষা রীতি:
১. সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
২. সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
৩. সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট
৪. সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
৫. সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
৬. সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর
৮. সাধু ভাষারীতি অপরিবর্তনীয়, তাই কৃত্রিম

অন্যদিকে,
- চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৮.
'সামান্য' শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. শামান্নো
  2. শামান্‌নোঁ
  3. শামান্‌নো
  4. সামান্‌নো
ব্যাখ্যা
শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
- শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়। ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।

উদাহরণ:
- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক্‌], শৃগাল [সৃগাল্‌]।
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
- স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্‌নো]
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
১৯.
'পরমেশ' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পরম + এশ
  2. পরমা + ঈশ
  3. পরম + ঈশ
  4. পরমঃ + ঈশ
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা, 
- যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট, 
- পরম + ঈশ = পরমেশ,
- মহা + ঈশ = মহেশ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০.
কোনটি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়?
  1. শব্দজোড়
  2. বাগ্‌ধারা
  3. বাচ্য
  4. বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা
ব্যাখ্যা
বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে। বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে,বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

অন্যদিকে,
অর্থতত্ত্ব:
- মূল আলোচ্য - ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২১.
'অদ্য' শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. অদ্‌দোঁ
  2. ওদ্‌দো
  3. ওইদ্‌দোঁ
  4. ঔদ্‌দো
ব্যাখ্যা
'অ' বর্ণের উচ্চারণ:
- অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।
- সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।
- অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা্‌], অনাথ [অনাথ্‌]।
- অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোক্খো‌], অদ্য [ওদ্‌দো], মন [মোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২২.
কোন শব্দটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির নিয়মে গঠিত?
  1. তদবধি
  2. প্রেষণ
  3. ষড়ানন
  4. ণিজন্ত
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ:
- সার + অঙ্গ = সারঙ্গ,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + এষণ = প্রেষণ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়মে গঠিত:
ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত।
ষট্ + আনন = ষড়ানন।
তৎ + অবধি = তদবধি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩.
কোনাে অংশ বাদ দিতে চাইলে কোন চিহ্ন ব্যবহার হয়?
  1. ড্যাশ
  2. হাইফেন
  3. ত্রিবিন্দু
  4. কোলন
ব্যাখ্যা
ত্রিবিন্দু (...):
- কোনাে অংশ বাদ দিতে চাইলে ত্রিবিন্দুর ব্যবহার হয়।

যেমন:
- তিনি রেগে গিয়ে বললেন, “তার মানে তুমি একটা ...।”
- আমাদের ঐক্য বাইরের। ... এ ঐক্য জড় অকর্মক, সজীব সকর্মক নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৪.
অর্থতত্ত্বে আলোচনা করা হয় -
  1. বিশেষণ
  2. শব্দ ও তার উপাদান
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. বিপরীত শব্দ
ব্যাখ্যা
অর্থতত্ত্ব:
- মূল আলোচ্য - ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করে।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়। বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দ গঠন প্রক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৫.
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তনকে কী বলা হয়?
  1. পরাগত সমীভবন
  2. অন্যোন্য সমীভবন
  3. প্রগত সমীভবন
  4. অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
সমীভবন:
- শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।

যেমন:
জন্ম > জম্ম;
কাদনা > কান্না ইত্যাদি।

প্রগত সমীভবন:

- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তনকে প্রগত সমীভবন বলে।

যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৬.
"মসী + আধার = মস্যাধার" এটি কোন সন্ধির উদাহরণ?
  1. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
  2. স্বরসন্ধি
  3. ব্যঞ্জনসন্ধি
  4. বিসর্গসন্ধি
ব্যাখ্যা
• "মসী + আধার = মস্যাধার" এটি 'স্বরসন্ধি' সন্ধির উদাহরণ।

সন্ধির নিয়ম:
• ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বাঈ স্থানে 'য' বা য(্য) ফলা হয়। য-ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।

যেমন:
- অতি + উক্তি = অত্যুক্তি,
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ,
- মসী + আধার = মস্যাধার,
- প্রতি + এক = প্রত্যেক,
- নদী + অম্মু = নদ্যম্পু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭.
কোনটি প্রান্তিক বিরাম চিহ্ন?
  1. বিস্ময় চিহ্ন
  2. কমা
  3. সেমিকোলন
  4. ড্যাশ
ব্যাখ্যা
যতিচিহ্ন:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য বাক্যের মধ্যে বা শেষে নিয়মিত বর্ণের পাশাপাশি সাংকেতিক চিহ্নকে বোঝায়। যতিচিহ্ন ছেদ বা বিরাম চিহ্ন নামেও পরিচিত।

বাক্যে অবস্থান বিবেচনায় বিরাম চিহ্নকে ২ প্রকার:
- প্রান্তিক বিরামচিহ্ন: দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন প্রভৃতি।
- বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন: কমা, সেমিকোলন, ড্যাস, হাইফেন ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৮.
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না, তাকে কী বলে?
  1. ব্যঞ্জনধ্বনি
  2. মৌলিক ধ্বনি
  3. যুগ্মধ্বনি
  4. স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
স্বরধ্বনি:
- সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না, সেগুলোকে স্বরধ্বনি বলে।

উল্লেখ্য,
ব্যঞ্জনধ্বনি:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখের বাহিরে বের হওয়ার আগে বাকপ্রত্যঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বাধা পায়, সেগুলোকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।