পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়27 minutes
মোট প্রশ্ন৪১
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৪: বিষয়ের নাম: বাংলা ব্যাকরণ - সম্পূর্ণ সিলেবাস [৮০ নম্বর] উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান, মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা বই, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ বই ইত্যাদি।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪১ প্রশ্ন

.
'ঐচ্ছিক' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. ক) পারত্রিক
  2. খ) অনিচ্ছুক
  3. গ) অনিচ্ছাকৃত
  4. ঘ) আবশ্যিক
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবশ্যিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবশ্যিক
ব্যাখ্যা
• 'ঐচ্ছিক' শব্দের বিপরীত শব্দ 'আবশ্যিক'। 

• অন্যদিকে: 
- 'ঐহিক' শব্দের বিপরীত শব্দ- পারত্রিক।
- 'ইচ্ছুক' শব্দের বিপরীত শব্দ- অনিচ্ছুক।
- 'ইচ্ছাকৃত' শব্দের বিপরীত শব্দ- অনিচ্ছাকৃত। 

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ  বিপরীত শব্দ: 
- 'বিরত' এর বিপরীত শব্দ- 'নিরত',  
- 'উদ্ধত' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো - বিনীত, 
- 'ভীরু' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো - নির্ভীক, 
- 'জঙ্গম' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো - স্থাবর,  
- 'ঢালু' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো - সমান, 
- 'উদ্যত' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো- বিরত, 
- 'উদ্ধত' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো- বিনীত,   
- 'সুলভ'  এর বিপরীত শব্দ- দুর্লভ।  

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. ক) মাতাহীন শিশুর কী দুঃখ!
  2. খ) উপরিউক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।
  3. গ) প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বীতা থাকবেই।
  4. ঘ) সময় বড়ো সংক্ষেপ।
সঠিক উত্তর:
খ) উপরিউক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উপরিউক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।
ব্যাখ্যা
- 'উপরিউক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়' বাক্যটি সঠিক।

• অন্যান্য অপশন:
অশুদ্ধ: মাতাহীন শিশুর কী দুঃখ!
শুদ্ধ: মাতৃহীন শিশুর কী দুঃখ!

অশুদ্ধ: প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বীতা থাকবেই।
শুদ্ধ: প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই।

অশুদ্ধ: সময় বড়ো সংক্ষেপ।
শুদ্ধ: সময় খুব সংক্ষেপ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
.
নিচের কোনটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ নয়?
  1. ক) টাকমাথা
  2. খ) ঘিভাত
  3. গ) কাজলকালো
  4. ঘ) হাতেখড়ি
সঠিক উত্তর:
ঘ) হাতেখড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হাতেখড়ি
ব্যাখ্যা
•  'হাতেখড়ি' এর ব্যাসবাক্য -  খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে।
- এটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ নয়। 
- এটি পদলোপী বহুব্রীহির উদাহরণ।

• কর্মধারয় সমাস

- যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
- যেমন - গোলাপ নামের ফুল = গোলাপফুল,
- যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।

• কিছু কর্মধারয় সমাসের সমস্যমান পদে ‘যে' যোজক থাকে,
- যেমন 
- খাস যে জমি = খাসজমি,
- চিত যে সাঁতার = চিতসাঁতার
- ভাজা যে বেগুন = বেগুনভাজা,
- সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ,
- কনক যে চাঁপা = কনকচাঁপা,
- টাক যে মাথা = টাকমাথা,
- যে চালাক সে চতুর = চালাকচতুর, ,
- যে শান্ত সে শিষ্ট = শান্তশিষ্ট.

• কিছু কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক শব্দ হয়, সেগুলোকে দ্বিগু কর্মধারয় বলে।
- যেমন - তিন ফলের সমাহার = ত্রিফলা,
- চার রাস্তার মিলন = চৌরাস্তা। 

• কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লোপ পায়।
- এগুলো মধ্যপদলোপী কর্মধারয় নামে পরিচিত। যেমন -
- ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত,
- হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি,
- ঘরে আশ্রিত জামাই = ঘরজামাই,
- বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা।

• যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়।
- এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন -
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো,
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
.
টা, -টি নির্দেশক যুক্ত হয় কোন পদের সঙ্গে?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) বিশেষণ
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• নির্দেশক:
- যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
যেমন: -টা, -টি, -খানা, -খানি, -জন, -টুকু। 
- বিশেষ্য, সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে -টা, -টি নির্দেশক বসে।
- এর দুটি রূপান্তর: -টো ও -টে।
- যেমন - বাড়িটা, ছেলেটা, এটা, সেটা, আমারটা, কিছুটা, একটা, সারাটা, করাটা;
- দিনটি, মেয়েটি, একটি, কয়েকটি, আরেকটি; দুটো; তিনটে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
.
প্রত্যক্ষ উক্তির 'এই' পরোক্ষ উক্তিতে কী হবে?
  1. ক) উহা
  2. খ) ওটা
  3. গ) সেটা
  4. ঘ) সেই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেই
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তির 'এই' পরোক্ষ উক্তিতে হবে - সেই।

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু উক্তি পরিবর্তন:

প্রত্যক্ষ  -  পরোক্ষ
এই  -  সেই।
ইহা  -  তাহা/উহা।
এখানে  -  ওইখানে।
আগামীকাল  -  পরদিন।
গতকল্য  -  পূর্বদিন।
এটা  - ওটা/সেটা।
এ  -  সে।
আজ  - সেদিন।
গতকাল  -  আগেরদিন।
এখন  -  তখন।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ক) লক্ষ্ণীপূর্ণিমা
  2. খ) লক্ষ্মীপূর্ণিমা
  3. গ) লক্ষ্ণীপুর্ণিমা
  4. ঘ) লক্ষ্মীপুর্ণিমা
সঠিক উত্তর:
খ) লক্ষ্মীপূর্ণিমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লক্ষ্মীপূর্ণিমা
ব্যাখ্যা
- শুদ্ধ বানান হচ্ছে লক্ষ্মীপূর্ণিমা।

• লক্ষ্মীপূর্ণিমা (লক্ষ্মী + পূর্ণিমা):
- এর সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে লোক্‌খিঁপুর্‌নিমা।
- এর অর্থ হচ্ছে দুর্গাপূজার অব্যবহিত পরের পূর্ণিমাতিথি।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
.
কোনটি অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. ক) বলে, কয়ে
  2. খ) জোরে, আস্তে
  3. গ) অবধি, কর্তৃক
  4. ঘ) আপন, তুমি
সঠিক উত্তর:
গ) অবধি, কর্তৃক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অবধি, কর্তৃক
ব্যাখ্যা
• যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না। – এই বাক্যে ‘ছাড়া’ একটি অনুসর্গ।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ? – এই বাক্যে ‘পর্যন্ত’ একটি অনুসর্গ।

• কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে,
সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২২)।
.
নিচের কোন শব্দে প্রত্যয়ঘটিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. ঐকমত্য
  2. অদ্যপি
  3. পুরুষত্ব
  4. মুহ্যমান
সঠিক উত্তর:
অদ্যপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্যপি
ব্যাখ্যা
- 'অদ্যপি' শব্দে প্রত্যয়ঘটিত অশুদ্ধি ঘটেছে।
- এর শুদ্ধরূপ হচ্ছে অদ্যাপি।

অন্যান্য অপশন:
অশুদ্ধ: ঐক্যমত।
শুদ্ধ: ঐকমত্য।

শুদ্ধ: মুহ্যমান ও মোহ্যমান দুইটিই শুদ্ধ। তবে ‘মোহ্যমান’ হচ্ছে মুহ্যমান শব্দের অপ্রচলিত রূপ।

অশুদ্ধ: পৌরুষত্ব।
শুদ্ধ: পুরুষত্ব।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
.
শিক্ষক বললেন, 'তোমার নাম কী?'- বাক্যের পরোক্ষ উক্তি নিচের কোনটি?
  1. ক) শিক্ষক বললেন যে, আমার নাম কী?
  2. খ) শিক্ষক আমার নাম জানতে চাইলেন।
  3. গ) শিক্ষক বললেন যে, তার নাম কী?
  4. ঘ) শিক্ষক তার নাম জানতে চাইলেন।
সঠিক উত্তর:
খ) শিক্ষক আমার নাম জানতে চাইলেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শিক্ষক আমার নাম জানতে চাইলেন।
ব্যাখ্যা
- বাক্যের পরোক্ষ উক্তি হচ্ছে শিক্ষক আমার নাম জানতে চাইলেন।

• সাধারণত প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তনের সময় প্রথম উদ্ধরণ চিহ্ন স্থানে 'যে' সংযোজক অব্যয় ব্যবহার করতে হয়। তবে প্রশ্নসূচক এবং অনুজ্ঞাসূচক বাক্যে 'যে' ব্যবহৃত হয় না।
যেমন:
প্রত্যক্ষ: শিক্ষক বললেন, 'তোমার নাম কী?
পরোক্ষ: শিক্ষক আমার নাম জানতে চাইলেন।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১০.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ক) স্যাঁতসেতেঁ
  2. খ) স্যাঁতসেঁতে
  3. গ) স্যাঁতসেতে
  4. ঘ) স্যাতঁসেতেঁ
সঠিক উত্তর:
খ) স্যাঁতসেঁতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্যাঁতসেঁতে
ব্যাখ্যা
- শুদ্ধ বানান হচ্ছে স্যাঁতসেঁতে।

• স্যাঁতসেঁতে (বিশেষণ):
- এর সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে শ্যাত্‌ঁশেঁতে।
- এর অর্থ হচ্ছে ঈষৎ সিক্ত, প্রায় ভেজা।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১১.
নিচের কোন বাক্যটি নিত্যবৃত্ত অতীত কালের উদাহরণ?
  1. ক) বিড়াল ইঁদুরটিকে ধরল।
  2. খ) সকালে প্রচুর বৃষ্টি পড়ছিল।
  3. গ) দায়িত্বটি আমি পালন করেছিলাম।
  4. ঘ) প্রতিদিন বিকেলে আমরা শহিদ মিনারে আড্ডা দিতাম।
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রতিদিন বিকেলে আমরা শহিদ মিনারে আড্ডা দিতাম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রতিদিন বিকেলে আমরা শহিদ মিনারে আড্ডা দিতাম।
ব্যাখ্যা
• 'প্রতিদিন বিকেলে আমরা শহিদ মিনারে আড্ডা দিতাম' বাক্যটি নিত্যবৃত্ত অতীত কালের উদাহরণ।

• অতীত কাল:
যে ক্রিয়া পুর্বে ঘটে গেছে, তাকে অতীত কাল বলে।
যেমন: তিনি ঢাকায় গেলেন, আমি বাড়ি ফিরলাম।

অতীত কালের চারটি রূপ:
• সাধারণ অতীত কাল :
- যে ক্রিয়া সাধারণভাবে অতীতে অর্থাৎ বর্তমান কালের পূর্বে সংঘটিত হয়েছে তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল।
যেমন-
- পুলিশ সন্ত্রাসী ছেলেটিকে মেরে ফেলল। 
- বিড়াল ইঁদুরটিকে ধরল।

• ঘটমান অতীত কাল :
- অতীতে কোনো কাজ চলছিল এবং তখনও কাজটি শেষ হয়নি; এরূপ অর্থে ঘটমান অতীত ব্যবহৃত হয়।
যেমন-
- কাল সন্ধ্যায় আমরা ফুটবল খেলা দেখছিলাম।
- সকালে প্রচুর বৃষ্টি পড়ছিল।

• পুরাঘটিত অতীত কাল :
- যে ক্রিয়া অতীতে ঘটেছে এবং এর প্রভাবও শেষ হয়ে গেছে। তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন-
- দায়িত্বটি আমি পালন করেছিলাম।
- প্রিন্সিপাল স্যার আমাদের বাড়ি গিয়েছিলেন।

• নিত্যবৃত্ত অতীত কাল :
- অতীতকালে যে ক্রিয়া সাধারণভাবে এবং সচরাচর ঘটতো তার কাল নিত্যবৃত্ত অতীত কাল।
যেমন-
- আমরা রোজ সকাল সাতটায় হাঁটতে যেতাম।
- প্রতিদিন বিকেলে আমরা শহিদ মিনারে আড্ডা দিতাম।

 উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াত মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১২.
'চলন্ত ট্রেন' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. ক) ভাববাচক
  2. খ) উপাদানবাচক
  3. গ) অবস্থাবাচক
  4. ঘ) গুণবাচক
সঠিক উত্তর:
গ) অবস্থাবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অবস্থাবাচক
ব্যাখ্যা
• অবস্থাবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বােঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে চলন্ত ও তরল অবস্থাবাচক বিশেষণ।

 অন্যান্য অপশন:
• ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – “খুব ভালাে খবর’ ও ‘গাড়িটা বেশ জোরে চলছে’ – এসব বাক্যে খুব এবং বেশ ভাববাচক বিশেষণ।

• উপাদানবাচক বিশেষণ: 
- যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন- বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি – এখানে ‘বেলে’ ও ‘পাথুরে’ উপাদানবাচক বিশেষণ।

• গুণবাচক বিশেষণ: 
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
১৩.
'বিধান অর্থে' অনুজ্ঞার উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) সদা সত্য বলবে।
  2. খ) রোগ হলে ওষুধ খাবে।
  3. গ) কাল একবার এসো।
  4. ঘ) চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে।
সঠিক উত্তর:
খ) রোগ হলে ওষুধ খাবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রোগ হলে ওষুধ খাবে।
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞা পদ:
- আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা, অনুনয় প্রভৃতি অর্থে বর্তমান এবং ভবিষ্যত কালে মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যেরূপ হয় তাকে অনুজ্ঞা পদ বলে।

• ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা:
- আদেশ : সদা সত্য বলবে।
- সম্ভাবনায় : চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে।
- বিধান অর্থে : রোগ হলে ওষুধ খাবে।
- অনুরোধে : কাল একবার এসো (বা আসিও বা আসিবে)। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
১৪.
কোনটি সকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) সামি ঘুমায়।
  2. খ) ইকবাল ভাত খাচ্ছে।
  3. গ) রাতুল খেলে।
  4. ঘ) জাহিদ যাবে।
সঠিক উত্তর:
খ) ইকবাল ভাত খাচ্ছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইকবাল ভাত খাচ্ছে।
ব্যাখ্যা
• বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার:

• সকর্মক ক্রিয়া:

- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে ৷
যেমন সে বই পড়ছে। ইকবাল ভাত খাচ্ছে। বাক্যগুলোতে ‘পড়ছে’ ও 'খাচ্ছে' হলো সকর্মক ক্রিয়া। 'বই' ও 'ভাত' ক্রিয়ার কর্ম।

• অকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন – সামি ঘুমায়, রাতুল খেলে, জাহিদ যাবে। কারণ এই বাক্যগুলোতে কোনো কৰ্ম নেই ৷

এছাড়াও,
• দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে ।
যেমন – শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন। এই বাক্যে ‘দিলেন’ একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া।
‘কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (‘বই’), আর ‘কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (‘ছাত্রকে’)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
১৫.
'ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে'- বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. ক) ঘটমান বর্তমান
  2. খ) পুরাঘটিত বর্তমান
  3. গ) অনুজ্ঞা বর্তমান
  4. ঘ) সাধারণ বর্তমান
সঠিক উত্তর:
খ) পুরাঘটিত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা
- 'ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে'-  বাক্যটি পুরাঘটিত বর্তমান কালের উদাহরণ। 

• পুরাঘটিত বর্তমান:
- যে ক্রিয়ার কার্য কিছুক্ষণ পূর্বে ঘটেছে। কিন্তু এর ফল বা প্রভাব এখনও বর্তমান এরূপ অর্থে পুরাঘটিত বর্তমান কাল হয়।
যেমন:
- ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে।
- আমি অঙ্কটি করেছি।
- তারা বাড়িতে ফিরেছে।

উৎস:
১। উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
১৬.
'দীর্ঘজীবী’ অর্থে কোন বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) পায়া ভারি 
  2. খ) কেউ কেটা
  3. গ) কাকভূষণ্ডী
  4. ঘ) ঝিঙেফুল
সঠিক উত্তর:
গ) কাকভূষণ্ডী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাকভূষণ্ডী
ব্যাখ্যা
• ‘কাকভূষণ্ডী’ বাগধারার অর্থ = দীর্ঘজীবী।

• অন্যদিকে:
- ‘পায়া ভারি’  বাগধারাটির অর্থ = অহঙ্কার।
- 'কেউ কেটা' বাগধারার অর্থ = সামান্য।
- 'ঝিঙেফুল' ফোটা বাগধারার অর্থ = আয়ু ফুরিয়ে আসা।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা:
- 'কালে ভদ্রে' বাগধারাটির অর্থ = কদাচিৎ। 
- ‘ডাকাবুকো’ বাগধারাটির অর্থ = নির্ভীক।
- ‘কূপমুন্ডক’ বাগধারার অর্থ = সীমাবদ্ধ জ্ঞান।
- ‘কানকাটা’  বাগধারাটির অর্থ = বেহায়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১৭.
'সৌম্য' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. ক) কদাচিৎ
  2. খ) করাল
  3. গ) দুষ্কৃতি
  4. ঘ) আদিষ্ট
সঠিক উত্তর:
খ) করাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) করাল
ব্যাখ্যা
• 'সৌম্য' শব্দের বিপরীত শব্দ করাল।

• অন্যদিকে: 
- 'হরদম' শব্দের বিপরীত শব্দ-  কদাচিৎ,
- সুকৃতি' শব্দের বিপরীত শব্দ- দুষ্কৃতি, 
- 'নিষিদ্ধ' শব্দের বিপরীত শব্দ- আদিষ্ট। 

• কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিপরীতার্থক শব্দ:
- 'উদ্ধত' এর বিপরীত শব্দ- বিনীত, 
- 'ভীরু' এর বিপরীত শব্দ- 'নির্ভীক', 
- 'মহাজান' এর বিপরীত শব্দ- 'খাতক', 
- 'ভাটি' এর বিপরীত শব্দ- 'উজান,
- 'বিষ' এর বিপরীত শব্দ- 'অমৃত', 
- 'সিক্ত' এর বিপরীত শব্দ- 'শুষ্ক'। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও মোহাম্মদ আমীন।
১৮.
নিচের কোনটি 'কোরক' শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয়?
  1. ক) √ কুর্ + অক
  2. খ) √ কুর্ + নক
  3. গ) √ কুর্ + অ
  4. ঘ) √ কুর্ + নিক
সঠিক উত্তর:
ক) √ কুর্ + অক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) √ কুর্ + অক
ব্যাখ্যা
কোরক (বিশেষ্য):
- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয়: √কুর্+অক। 

• অর্থ:
→ মুকুল,
→ কলিকা,
→ কুঁড়ি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৯.
নিচের কোনটি 'সাপ' এর সমার্থক শব্দ নয়?
  1. ক) উরগ
  2. খ) কুরঙ্গ
  3. গ) পন্নগ
  4. ঘ) অহি
সঠিক উত্তর:
খ) কুরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কুরঙ্গ
ব্যাখ্যা
• কুরঙ্গ - 'সাপ' এর সমার্থক শব্দ নয়। 
- এটি হরিণ এর সমর্থক শব্দ। 

• অন্যদিকে: 
- ‘সাপ' এর সমর্থক শব্দ - সৰ্প, অহি, ফণী, নাগ, ভুজগ, ভুজঙ্গ, আশীবিষ, উরগ, বিষধর, পন্নগ

• গুরত্বপূর্ণ কিছু সমার্থক শব্দ: 
- ‘সিংহ' এর সমর্থক শব্দ - কেশরী, পশুরাজ, মৃগেন্দ্র,পারীন্দ্র,মৃগরাজ।
- 'হরিণ' এর সমর্থক শব্দ - মৃগ, কুরঙ্গ, সুনয়ন, সারঙ্গ।
- 'হাত' এর সমর্থক শব্দ- হস্ত, কর, বাহু, ভুজ, পাণি ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২০.
লাল লাল গোলাপ - এখানে 'লাল লাল' দ্বিরুক্তি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে? 
  1. ক) আধিক্য
  2. খ) তীব্রতা
  3. গ) বহুত্ব
  4. ঘ) সামান্য
সঠিক উত্তর:
ক) আধিক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আধিক্য
ব্যাখ্যা
এখানে 'লাল লাল' দ্বিরুক্তি আধিক্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

বিভিন্ন অর্থে শব্দদ্বিত বা অনুকার শব্দের প্রয়োগ:
- আধিক্য অর্থে: পাকা পাকা আম, লাল লাল গোলাপ, বস্তা বস্তা সার, রাশি রাশি ধান।
- সামান্য অর্থে: কবি কবি ভাব, শীত শীত লাগে, কাদা কাদা মাঠ।
- তীব্রতা অর্থে: হিম হিম ঠান্ডা, গরম গরম দুধ, নরম নরম বালিশ।
- বহুত্ব অর্থে: কে কে যাবে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২১.
নিচের কোনগুলি গুণ-বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ক) লবণ, জনতা
  2. খ) পরিবার, দয়া
  3. গ) ভোজন, সরলতা
  4. ঘ) আনন্দ, ধৈর্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) আনন্দ, ধৈর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আনন্দ, ধৈর্য
ব্যাখ্যা
- আনন্দ, ধৈর্য হচ্ছে গুণ-বিশেষ্যের উদাহরণ।

• বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন-
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সােমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

• বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
- এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়।
যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
২২.
নিচের কোনটি ক্রিয়াজাত অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. ক) আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
  2. খ) কার কাছে গেলে জানা যাবে?
  3. গ) এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।
  4. ঘ) মন দিয়ে পড়ালেখা কর।
সঠিক উত্তর:
ঘ) মন দিয়ে পড়ালেখা কর।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মন দিয়ে পড়ালেখা কর।
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াজাত অনুসর্গের উদাহরণ- মন দিয়ে পড়ালেখা কর।
-অনুসর্গকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- সাধারণ অনুসর্গ ও ক্রিয়াজাত অনুসর্গ। 

• সাধারণ অনুসর্গ: 
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, তাকে সাধারণ অনুসর্গ বলে। 
- যেমন: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
- কার কাছে গেলে জানা যাবে? 
- এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। 
- যেমন: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি;
- তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি,
- মন দিয়ে পড়ালেখা কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২২)।
২৩.
নিচের কোনটি বাংলা ধাতু নয়?
  1. ক) কাদ্‌
  2. খ) কথ্‌
  3. গ) নাচ্‌
  4. ঘ) কাট্‌
সঠিক উত্তর:
খ) কথ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কথ্‌
ব্যাখ্যা
• কথ্‌ - সংস্কৃত ধাতুর উদাহরণ।

• ধাতু বা ক্রিয়ামূল:

- বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে।
- এ সকল ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।

ধাতু ৩ প্রকারের। যথা -
১. মৌলিক ধাতু
২. সাধিত ধাতু ও
৩. যৌগিক সংযোগমূলক ধাতু।

• মৌলিক ধাতু: যেসকল ধাতু আর বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু।
- এগুলো সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
- যেমন - চল্‌, পড়, কর্‌, শো, হ, খা ইত্যাদি।

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার।
যথা -
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন - কাদ্‌, কাট্‌, নাচ্‌, আক্‌ কহ্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪.
কোন শব্দটি পত্নীবাচক?
  1. ক) নেতা
  2. খ) গুরু
  3. গ) ছাত্র
  4. ঘ) খােকা
সঠিক উত্তর:
খ) গুরু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গুরু
ব্যাখ্যা
• সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের: পত্নীবাচক এবং অপত্নীবাচক।

• স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক বােঝালে পত্নীবাচক হয়।
- যেমন: পিতা-মাতা, চাচা-চাচি, দাদা-দাদি, জেলে-জেলেনি, গুরু-গুরুপত্নী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
•  স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক না বােঝালে অপত্নীবাচক হয়।
- যেমন: খােকা-খুকি, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, নেতা-নেত্রী, পাগল-পাগলি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
২৫.
নিচের কোনটি ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় নয়?
  1. ক) রূপতত্ত্ব
  2. খ) অর্থতত্ত্ব
  3. গ) ভাষাতত্ত্ব
  4. ঘ) ধ্বনিতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
গ) ভাষাতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভাষাতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
- 'ভাষাতত্ত্ব' ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় নয়।

• ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় অন্তত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- ধ্বনিতত্ত্ব।
- রূপতত্ত্ব।
- বাক্যতত্ত্ব।
- অর্থতত্ত্ব।

• ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগযন্ত্র, বাগযন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল, ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান,
সন্ধি প্রভৃতি।

• রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দনির্মাণ ও পদনির্মাণ প্রক্রিয়া ।

• বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে ।

• অর্থতত্ত্ব
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
২৬.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই ‘ষ’ হয় নি?
  1. ক) ষড়ঋতু
  2. খ) ওষ্ঠ
  3. গ) ঊষা
  4. ঘ) ভূষণ
সঠিক উত্তর:
খ) ওষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ওষ্ঠ
ব্যাখ্যা
• ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে ‘ষ' যুক্ত হয়।
- যথা : কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ষ’ হয়।
যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭.
একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে বলে-
  1. ক) অধীন বাক্য
  2. খ) যৌগিক বাক্য
  3. গ) জটিল বাক্য
  4. ঘ) সরল বাক্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) সরল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সরল বাক্য
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য:
- একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।

যেমন,
- পাপড়ি সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

• সরল বাক্যে অনেক সময়ে ক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে।
যেমন,
- আমরা তিন ভাইবোন।

• বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়।
যেমন,
- তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে বাজারের দিকে গেলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৮.
'Intelligence' এর পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. ক) গুপ্তবার্তা
  2. খ) বুদ্ধিবাদ
  3. গ) উদ্‌ঘাটিত
  4. ঘ) গুপ্তবার্তা বিভাগ
সঠিক উত্তর:
ক) গুপ্তবার্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গুপ্তবার্তা
ব্যাখ্যা
• Intelligence এর পারভাষিক শব্দ - গুপ্তবার্তা।

• অন্যদিকে: 
- Intellectualism- বুদ্ধিবাদ।
- Disclosed - উদ্‌ঘাটিত।
- Intelligence Branch - গুপ্তবার্তা বিভাগ।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
২৯.
কোনটি সাধু ভাষার শব্দ?
  1. ক) দধি
  2. খ) ছাতা
  3. গ) দাঁত
  4. ঘ) বাইরে
সঠিক উত্তর:
ক) দধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দধি
ব্যাখ্যা
- 'দধি' হচ্ছে সাধু ভাষার শব্দ।

অন্যান্য অপশন:
সাধু    -   চলিত
দধি  -  দই, দৈ।
ছত্র  -  ছাতা।
বাহিরে  -  বাইরে।
দন্ত  -  দাঁত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩০.
'মানী' লোকের বহুবচনে কোন লগ্নক ব্যবহৃত হয় না?
  1. ক) গণ
  2. খ) সব
  3. গ) বর্গ
  4. ঘ) বৃন্দ
সঠিক উত্তর:
খ) সব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সব
ব্যাখ্যা
'মানী' লোকের বহুবচনে- 'গণ', 'বৃন্দ', 'মন্ডলী', 'বর্গ'  ইত্যাদি লগ্নক যোহ করা হয়।
যেমন: 
গণ - সদস্যগণ, সচিবগণ
বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ
মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

- প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’ ‘সমূহ’ ‘আবলি’ ‘মালা’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন: 
সব - ভাইসব, পাখিসব।
সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩১.
'আমি যদি কবি হতুম, তাহলে আর যে বিষয়েই হোক, বর্ষার সম্বন্ধে কখনো কবিতা লিখতুম না' সাধু ভাষায় এ বাক্যে ভুলের সংখ্যা কয়টি?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪টি
ব্যাখ্যা
- প্রশ্নোক্ত বাক্যটি চলিত ভাষার। কিন্তু সাধু ভাষার ক্ষেত্রে বাক্যটিতে ০৪টি ভুল রয়েছে। যেমন: হতুম, তাহলে, হোক, লিখতুম।

• সাধু ভাষা  -  চলিত ভাষা:
» হতুম  - হইতাম।
» তাহলে  - তাহা হইলে।
» হোক  - হউক।
» লিখতুম  - লিখিতাম।

• বাক্যটি সাধু ভাষায় রূপান্তর করলে -
- আমি যদি কবি হইতাম, তাহা হইলে আর যে বিষয়েই হউক, বর্ষার সম্বন্ধে কখনো কবিতা লিখিতাম না।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩২.
'ইতিবৃত্ত' শব্দটির প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) ইতি + √ বৃৎ + ত
  2. খ) ইতঃ + বৃত্ত
  3. গ) ইতি + বৃত্ত
  4. ঘ) ইতঃ + বৃত + অ
সঠিক উত্তর:
ক) ইতি + √ বৃৎ + ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ইতি + √ বৃৎ + ত
ব্যাখ্যা
√• ইতিবৃত্ত (বিশেষণ): 
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: ইতি + √ বৃৎ + ত। 

• ইতিবৃত্ত অর্থ:
- ইতিহাস,
- পুরাবৃত্ত।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি , আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৩.
'গোয়েন্দা' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. ক) তুর্কি
  2. খ) আরবি
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) রুশ
সঠিক উত্তর:
গ) ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফারসি
ব্যাখ্যা
- 'গোয়েন্দা' ফারসি ভাষার শব্দ।

• ফারসি ভাষার গুরুত্বপূর্ণ কিছু শব্দ:
- আবহাওয়া, আমদানি-রপ্তানি, আয়না, উমেদার, কাগজ, কসম, জনাব, গোলাপ, ফরমাশ, শহর, সবজি, বাগান, বরফ, শরবত, সাহেব, হুকুম, হুজুর, চশমা, গোলমাল, গ্রেপ্তার, খবর, খরগোশ ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড), বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা ব্যাকরণ। 
৩৪.
‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’ - বাক্যটিতে কোন গুণের অভাব রয়েছে?
  1. ক) আসত্তি
  2. খ) যোগ্যতা
  3. গ) আসক্তি
  4. ঘ) আকাঙ্ক্ষা
সঠিক উত্তর:
ঘ) আকাঙ্ক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা
• ভাষার বিচারে বাক্যের নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকা চাই।
- যেমন -
-  আকাঙ্ক্ষা,
- আসত্তি এবং
- যোগ্যতা। 

• আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
- যেমন ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে। বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায় চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে। এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

২. আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়। বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।

- যেমন – কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত। লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি। তাই এটি একটি বাক্য হয়নি। মনোভাব পূর্ণ
ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
যেমন –
কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

৩. যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলকখনের নাম যোগ্যতা।
- যেমন- বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। - এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য। কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ , ৯ম - ১০ম শ্রেণি। 
৩৫.
'অতিকায়' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. ক) অননুমেয়
  2. খ) অনাহত
  3. গ) ক্ষুদ্রাকায়
  4. ঘ) অসামান্য
সঠিক উত্তর:
গ) ক্ষুদ্রাকায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্ষুদ্রাকায়
ব্যাখ্যা
• 'অতিকায়' শব্দের বিপরীত শব্দ - ক্ষুদ্রাকায়।

• অন্যদিকে:
- 'অনুমেয়' শব্দের বিপরীত শব্দ - অননুমেয়, 
- 'আহত' শব্দের বিপরীত শব্দ- অনাহত, 
- 'সামান্য' শব্দের বিপরীত শব্দ - অসামান্য। 

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ  বিপরীত শব্দ: 
- 'বিরত' এর বিপরীত শব্দ- 'নিরত', 
- 'উদ্ধত' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো - বিনীত, 
- 'ভীরু' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো - নির্ভীক, 
- 'জঙ্গম' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো - স্থাবর,  
- 'ঢালু' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো - সমান, 
- 'উদ্যত' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো- বিরত, 
- 'উদ্ধত' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো- বিনীত,   
- 'সুলভ'  এর বিপরীত শব্দ- দুর্লভ।  

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৬.
'Psychiatry' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. ক) ছদ্মরূপ
  2. খ) ছদ্মনাম
  3. গ) ছদ্মরূপতা
  4. ঘ) মনোরোগবিদ্যা
সঠিক উত্তর:
ঘ) মনোরোগবিদ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মনোরোগবিদ্যা
ব্যাখ্যা
• Psychiatry শব্দের পরিভাষা হচ্ছে 'মনোরোগবিদ্যা'।

• অন্যান্য অপশন:
- Pseudomorph শব্দের পরিভাষা হচ্ছে 'ছদ্মরূপ'।
- 'Pseudonym' শব্দের বাংলা পরিভাষা হচ্ছে 'ছদ্মনাম'৷
- Pseudomorphism শব্দের পরিভাষা হচ্ছে 'ছদ্মরূপতা'।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
৩৭.
'ছেলে-ভুলানো' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) কর্মধারয় সমাস
  2. খ) দ্বন্দ্ব সমাস
  3. গ) তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
গ) তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

ক. বিভক্তি লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- ছেলেকে ভুলানো = ছেলে-ভুলানো, 
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি,
- ধানের খেত = ধানখেত,
- পথের রাজা = রাজপথ, 
- গোলায় ভরা = গোলাভরা,
- গাছে পাকা = গাছপাকা,
- অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু।

খ. সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা,
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা, 
- রান্নার জন্য ঘর = রান্নাঘর,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা,
- গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রামছাড়া,
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।

গ. কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লোপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।
- যেমন গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি,
তেলে ভাজা = তেলেভাজা। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৮.
'নয়' শব্দের মধ্যে কোন কোন স্বরধ্বনি আছে?
  1. ক) অ + এ্‌
  2. খ) ও + এ্‌
  3. গ) অ + উ্‌
  4. ঘ) ও + উ্‌
সঠিক উত্তর:
ক) অ + এ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অ + এ্‌
ব্যাখ্যা
- পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।
যেমন - 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্] তৈরি হয়েছে।

• দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
- [আই্] = তাই, নাই।
- [এই্] = সেই, নেই।
- [আও্]= যাও, দাও।
- [আএ্] = খায়, যায়।
- [উই্,] = দুই, রুই।
- [অএ্] = নয়, হয়।
- [ওউ্] =মৌ, বউ।
- [ওই্] = কৈ, দই।
- [এউ্] = কেউ, ঘেউ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
৩৯.
'কালিমা' শব্দটির প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) কাল + ইমা
  2. খ) কাল + ইমন্
  3. গ) কাল + ঈমন্
  4. ঘ) কাল + ঈমা
সঠিক উত্তর:
খ) কাল + ইমন্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাল + ইমন্
ব্যাখ্যা
• কালিমা (বিশেষ্য): 
- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয়: কাল + ইমন্। 

- অর্থ: 
→ কালির দাগ; মলিনতা।
→ কলঙ্ক।
→ কৃষ্ণত্ব।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪০.
কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ আছে কোন শব্দে?
  1. ক) সালাম
  2. খ) লাল
  3. গ) রাত
  4. ঘ) কাকা
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাকা
ব্যাখ্যা
• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। যেমন: কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক, খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যান্য অপশন:
• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
৪১.
'ঢেউ' এর সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) কল্লোল
  2. খ) পারাবার
  3. গ) ঝটিকা
  4. ঘ) গর্জন
সঠিক উত্তর:
ক) কল্লোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কল্লোল
ব্যাখ্যা
'ঢেউ' এর সমার্থক শব্দ- কল্লোল। 
 
• ‘ঢেউ’ এর সমর্থক শব্দ:
- তরঙ্গ,
- কল্লোল,
- ঊর্মি,
- হিল্লোল,
- লহরী,
- বীচি,
- জোয়ার,
- মহাতরঙ্গ,
- মহোর্মি,
- বীচিমালা,
- লহর,
- তরঙ্গহিল্লোল,
- দোলা,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- ঊর্মিলহরী,
- তরঙ্গমালা,
- তরঙ্গলহরী ইত্যাদি। 

• অন্যদিকে:
- 'পারাবার' হচ্ছে 'সমুদ্র' শব্দের সমার্থক। 
- 'গর্জন' হচ্ছে 'ঝংকার' শব্দের সমার্থক শব্দ। 
- 'ঝটিকা' হচ্ছে ঝড় শব্দের সমার্থক শব্দ। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।