পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৪৪
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১২ ইসলামে রাজনৈতিক ব্যবস্থা: আমর বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার, ইসলামি রাষ্ট্র ও ব্যক্তিজীবন, মজলিসে শুরা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, ইসলামি দেশের রাষ্ট্রীয় ও বৈদেশিক নীতি। [উৎস: লেকচার-৮ ও সংশ্লিষ্ট বই]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৪ প্রশ্ন

.
ব্যক্তিজীবনে ইসলামী রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য কী?
  1. অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
  2. নৈতিক উন্নয়ন
  3. সামাজিক সংস্কার
  4. রাজনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

ইসলামী রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হলো এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করা যেখানে ব্যক্তি ও সামগ্রিকভাবে নাগরিকরা নৈতিকভাবে উন্নত হবে, যার ভিত্তি হলো আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও তাঁর নির্দেশিত জীবনযাপন। এই নৈতিক উন্নয়ন তাকওয়া বা আল্লাহভীতির মাধ্যমে অর্জিত হয়, যা সৎগুণাবলীর মূল এবং ব্যক্তি ও সামাজিক চরিত্র গঠনের জন্য অপরিহার্য। 

.
ইসলামে রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য শর্ত নয় কোনটি?
  1. মুসলিম হওয়া
  2. পুরুষ হওয়া
  3. ন্যায়পরায়ণ হওয়া
  4. আমিরুল মুমিনিন উপাধি ধারণ করা 
ব্যাখ্যা

ইসলামে রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য সাধারণভাবে অবশ্যই মুসলিম, আল্লাহভীরু, ন্যায়পরায়ণ, এবং শরিয়তের বিধানগুলো সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে সক্ষম হতে হবে। তাকে অবশ্যই পুরুষ, আমানতদার, বিচক্ষণ, এবং জনগণের কল্যাণে নিবেদিত হতে হবে। তবে ‘আমিরুল মুমিনিন’ উপাধি ধারণ করা কোন শর্ত নয়।

.
ইসলামে ব্যক্তিজীবনের মূলনীতি কী?
  1. যাকাত প্রদান 
  2. পারিবারিক বন্ধন রক্ষা 
  3. দায়িত্বশীলতা
  4. সামাজিক মর্যাদা
ব্যাখ্যা

ব্যক্তিজীবনে দায়িত্বশীলতা বলতে নিজের কাজের জন্য নিজে দায়বদ্ধ থাকা, নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা, এবং সমাজ ও পরিবারের প্রতি নিজের ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করা বোঝায়। এর অর্থ হলো, নিজের কর্তব্যগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং সেগুলো সময়মতো ও সঠিকভাবে সম্পন্ন করা, যাতে নিজের ও অন্যদের কোনো ক্ষতি না হয়। দায়িত্বশীল হতে হলে নিজের সিদ্ধান্ত ও কাজের ফলাফল মেনে নিতে হয় এবং ভুল হলে তা সংশোধন করার মানসিকতা রাখতে হয়। এজন্য ইসলামে ব্যক্তিজীবনের একটি মূলনীতি হলো দায়িত্বশীলতা।

.
ইসলামি গণতন্ত্রের ভিত্তি কী?
  1. তাওহিদ ও রিসালাত
  2. ধর্মনিরপেক্ষতা
  3. জনগণের সার্বভৌমত্ব   
  4. পুঁজিবাদ
ব্যাখ্যা

ইসলামি গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো শরিয়া বা ইসলামী আইনের আনুগত্য, শাসিতদের সম্মতি ও পরামর্শ (শুরা), এবং শাসকের প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার। সবকিছু ছাড়িয়ে প্রধান ভিত্তি হলো তাওহিদ ও রিসালাত। 

.
ইসলামি রাষ্ট্রের প্রধান বিভাগ কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

ইসলামী রাষ্ট্রের প্রধান বিভাগগুলো ৩টি:
আইন বিভাগ (Legislature): যে বিভাগ শরিয়াহর ভিত্তিতে আইন প্রণয়ন করে।  

বিচার বিভাগ (Judiciary): শরিয়াহ আইন অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনা করা হয় এই বিভাগের মাধ্যমে।  

নির্বাহী বিভাগ (Executive/Administration): রাষ্ট্রের প্রশাসন পরিচালনা এবং শরিয়াহর বিধান কার্যকর করার দায়িত্ব এই বিভাগের উপর থাকে। 

.
মাসলাহা মুরসালা বলতে কী বোঝায়?
  1. এমন কল্যাণকর বিষয়, যার জন্য শরীয়তে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে
  2. এমন কল্যাণকর বিষয়, যার জন্য শরীয়তে স্পষ্ট অনুমতি বা নিষেধাজ্ঞা নেই
  3. এমন কল্যাণকর বিষয়, যার জন্য শরীয়তে স্পষ্ট দলিল রয়েছে
  4. এমন কল্যাণকর বিষয়, যা কেবল কিয়াস দ্বারা প্রমাণিত
ব্যাখ্যা

মাসলাহা মুরসালা (المصلحة المرسلة) হলো ইসলামি আইনশাস্ত্রের একটি নীতি, যা "অপ্রচলিত কল্যাণ" বা "সাধারণ জনস্বার্থ" হিসেবে পরিচিত। এটি এমন একটি কল্যাণকর কাজ বা বিষয়, যা কোনো নির্দিষ্ট দলিলের (কুরআন বা সুন্নাহ) মাধ্যমে সরাসরি সমর্থিত বা নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু মানবজাতির সাধারণ কল্যাণের জন্য জরুরি। ফিকাহবিদগণ এই নীতি ব্যবহার করে নতুন আইনগত বিধান তৈরি করেন, যা সমাজের বৃহত্তর কল্যাণে আসে। 

.
ইসলামী গণতন্ত্রে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা কার?
  1. শুরা পরিষদ
  2. আল্লাহ                                 
  3. রাষ্ট্রপ্রধান                              
  4. সংসদ
ব্যাখ্যা

ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, চূড়ান্তভাবে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর। তাঁর দেওয়া জীবনব্যবস্থা বা শরীয়াহই হলো প্রকৃত ও সঠিক আইন।

মানুষের ভূমিকা:
আধুনিক ইসলামী চিন্তাধারায়, মানুষ আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত আইন মেনে চলে। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এই ঐশ্বরিক আইনকে সমাজে প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহার করেন। তাই, আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় মানুষের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।

.
ইসলামী গণতন্ত্রে নেতৃত্ব নির্বাচনের মূলনীতি কী?
  1. জনপ্রিয়তা
  2. বংশগৌরব
  3. মেধা ও যোগ্যতা 
  4. অর্থনৈতিক ক্ষমতা   
ব্যাখ্যা

ইসলামী গণতন্ত্রে নেতৃত্ব নির্বাচনের মূলনীতিগুলো হলো নির্বাচন, পরামর্শ, মেধা ও যোগ্যতা এবং জনগণের সম্মতি বা বাইয়াত। নেতৃত্ব নির্বাচন হতে হবে আল্লাহর নির্দেশনার ভিত্তিতে, যেখানে জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচন করা হয়। পরামর্শের (শুরা) মাধ্যমে নির্বাচিত নেতৃত্ব জনগণের ইচ্ছা-অনিচ্ছার প্রতিফলন ঘটায় এবং তাদের সম্মতির ভিত্তিতেই নেতৃত্ব গ্রহণ করা হয়। 

.
ইসলামে অমুসলিম রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের ভিত্তি কী?
  1. শক্তির আধিপত্য
  2. ন্যায়, শান্তি ও চুক্তি
  3. অর্থনৈতিক বিনিময়     
  4. রাজনৈতিক স্বার্থ
ব্যাখ্যা

ইসলামে অমুসলিম রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের ভিত্তি হলো ন্যায়, শান্তি ও চুক্তি, যেখানে পারস্পরিক সম্মান, সহযোগিতা এবং বৈধ চুক্তিগুলোর প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম শান্তি ও সহাবস্থানকে উৎসাহিত করে এবং মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে নির্দেশ দেয়। 

১০.
সার্বভৌমত্বের মূল ধারণা প্রথম কে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেন?
  1. হাবস                                  
  2. রুশো                                   
  3. প্লেটো
  4. জিন বোদিন
ব্যাখ্যা

সার্বভৌমত্বের মূল ধারণাটি ষোড়শ শতাব্দীতে ফরাসি দার্শনিক জিন বোদিন (Jean Bodin) স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেন। তিনি সামন্ততন্ত্র থেকে আধুনিক জাতীয় রাষ্ট্রে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে ফরাসি রাজার ক্ষমতাকে সুসংহত করার জন্য এই ধারণাটির ব্যবহার করেন, যা সামন্ত প্রভুদের ওপর রাজার নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব বোঝাতে সাহায্য করে।

১১.
ইসলামী রাষ্ট্রে প্রশাসনিক ক্ষমতার মূলনীতি কোনটি?
  1. ন্যয়পরায়নতা                                  
  2. মসজিদ প্রতিষ্ঠা
  3. শুরা ভিত্তিক শাসন
  4. একনায়কতন্ত্র
ব্যাখ্যা

ইসলামী রাষ্ট্রে প্রশাসনিক ক্ষমতার মূলনীতি হলো 'শুরা' বা পরামর্শভিত্তিক শাসন, যেখানে রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই ব্যবস্থায় আল্লাহকে চূড়ান্ত সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং তাঁরই নির্দেশনা ও আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। শাসনকার্যের জন্য পরামর্শ সভার (শুরা) মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা ইসলামী রাষ্ট্রের একটি অপরিহার্য অংশ।

১২.
আধুনিক গণতন্ত্রের সুতিকাগার কোন দেশ? 
  1. গ্রিস                                                               
  2. ফিনল্যান্ড                                                         
  3. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  4. যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা

যুক্তরাজ্যকে আধুনিক গণতন্ত্রের সূতিকাগার বলা হয়, কারণ এই দেশ থেকেই সংসদীয় গণতন্ত্রের উৎপত্তি হয়েছে এবং এটি আধুনিক গণতন্ত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে, গণতন্ত্রের প্রাথমিক ধারণা এবং প্রাচীনতম রূপের জন্মস্থান হিসেবে প্রাচীন গ্রীস, বিশেষ করে এথেন্সকেই বিবেচনা করা হয়। 

১৩.
গণতন্ত্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্লোগান কোনটি?
  1. গণতন্ত্রই সাম্য প্রতিষ্ঠা করে
  2. জনগনই সকল ক্ষমতার উৎস
  3. গণতন্ত্রই মুক্তি
  4. গণতন্ত্রই শক্তি  
ব্যাখ্যা

"জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস" এই স্লোগানটি হাল আমলে সবচেয়ে জনপ্রিয়, এটি জনগণের সার্বভৌমত্ব (Popular Sovereignty) বা জনগণের শক্তি (People Power) এর একটি মৌলিক নীতি, যা আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর ভিত্তি। এর অর্থ হলো, সরকার জনগণের সম্মতি ও কর্তৃত্ব নিয়েই কাজ করে এবং জনগণই চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী।

১৪.
মজলিশে শুরার সদস্য নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কোনটি?
  1. ন্যায়পরায়ণতা                                                   
  2. সত্যবাদিতা
  3. তাকওয়া
  4. উচ্চ বংশ
ব্যাখ্যা

কুরআনে আল্লাহ বলেন- “তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সেই লোকই অধিক সম্মানিত যে লোক অধিক মুত্তাকি। (সুরা আল-হুজুরাত, আয়াত ১৩)
সুতরাং, মজলিশে শুরার সদস্য নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে তাকওয়াকে। এছাড়া মজলিশে শুরার সদস্য নির্বাচনে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যোগ্যতা, মেধা, ন্যায়পরায়ণতা ইত্যাদি। একজন সদস্যের অবশ্যই ইসলামি জ্ঞান, জনগণের আস্থা, এবং জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে, যাতে তিনি  সুচারুরূপে পরামর্শ দিয়ে রাষ্ট্রের কল্যাণে অবদান রাখতে পারেন। 

১৫.
‘ইসতিদলাল’ কী?
  1. কুরআন-সুন্নাহের তুলনায় কিয়াসকে প্রাধান্য দেওয়া
  2. কুরআন, হাদিস ও যুক্তির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা
  3. ব্যক্তিগত ইচ্ছা অনুযায়ী আইন করা  
  4. লোকমুখে প্রচলিত রেওয়ায অনুসরণ করা
ব্যাখ্যা

'ইসতিদলাল' হলো ইসলামি আইন বা শরিয়তে একটি পদ্ধতি যেখানে সরাসরি ধর্মীয় গ্রন্থ (কুরআন বা সুন্নাহ) থেকে কোনো বিধান বের করা না গেলে, কিয়াস বা অন্যান্য ইসলামি উৎস থেকে যুক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে ঐ বিধানটি নির্ণয় করা হয়। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে মুজতাহিদ কোনো নতুন বা জটিল সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে পূর্বের প্রতিষ্ঠিত নিয়ম বা নীতির আলোকে যৌক্তিক অনুমান বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। 

১৬.
তাকলিদ বলতে কী বোঝায়?
  1. সমকালীন মতামতসমূহকে তুলনা করা 
  2. অন্য মুজতাহিদের মতামত অনুসরণ করা
  3. কিয়াসের প্রতি অতি বিশ্বাসী হওয়া
  4. অন্ধ অনুসরণ করা
ব্যাখ্যা

তাকলিদ পারিভাষিক অর্থে বোঝায়- মুজতাহিদের কথা বিনা দলিলে অনুসরণ করা। যে ব্যক্তি তাকলিদ করে তাকে মুকাল্লিদ বলা হয়। 

১৭.
ইসলামি রাষ্ট্রে বৈদেশিক নীতির মূল ভিত্তি কী?
  1. আন্তর্জাতিক স্বার্থ
  2. ভূরাজনীতি
  3. সামরিক শক্তি
  4. আল-কুরআন ও সুন্নাহ
ব্যাখ্যা

ইসলামী রাষ্ট্রে বৈদেশিক নীতির মূল ভিত্তি হলো আল-কুরআন ও সুন্নাহ, যা রাষ্ট্রের সকল কার্যক্রম ও আচরণের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে। এই পবিত্র গ্রন্থগুলো থেকে প্রাপ্ত নীতিমালা অনুসরণ করে প্রতিবেশী ও অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন, শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা এবং ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হয়। 

১৮.
ইসলামে অমুসলিম রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রথম অগ্রাধিকার কী?
  1. যুদ্ধ ঘোষণা
  2. শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান
  3. রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার
  4. অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ
ব্যাখ্যা

কুরআন (সুরা মুমতাহিনা: ৮) এ বলা হয়েছে, যারা তোমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে না, তাদের সাথে সদাচরণ ও ন্যায়নীতি অবলম্বন করো। তাই ইসলামি নীতির প্রথম লক্ষ্য হলো শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান।

১৯.
ইসলামের বৈদেশিক সম্পর্কের একটি প্রধান লক্ষ্য কী?
  1. সাম্রাজ্য বিস্তার
  2. অর্থনৈতিক আধিপত্য
  3. দাওয়াহ
  4. রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ
ব্যাখ্যা

৬ষ্ঠ হিজরিতে হুদায়বিয়া সন্ধির পরে রাসুল (সা) সম্রাট হেরাক্লিয়াস, কিসরা প্রমুখকে ইসলাম গ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি পাঠান। এতে বোঝা যায়, ইসলামের বৈদেশিক নীতি মূলত দাওয়াতকেন্দ্রিক।

২০.
দারুল ইসলাম ও দারুল হারব বিভাজনের অর্থ কী?
  1. আদর্শগত অবস্থান
  2. অর্থনৈতিক বিভাজন
  3. ভৌগোলিক বিভাজন
  4. সামরিক বিভাজন
ব্যাখ্যা

ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে—যেখানে ইসলাম কার্যকর (দারুল ইসলাম) এবং যেখানে শত্রুতা বিরাজমান (দারুল হারব)। এটি মূলত নীতিগত/আদর্শিক শ্রেণিবিন্যাস।

২১.
ইসলামি বৈদেশিক নীতির দায়িত্ব প্রধানত কার ওপর ন্যস্ত?
  1. সাধারণ জনগণ
  2. খলিফা 
  3. শুরা পরিষদ
  4. আলেম সমাজ
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রপ্রধান (খলিফা/আমির) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বৈদেশিক নীতি পরিচালনা করেন। তবে শুরা পরিষদ পরামর্শদানের অধিকার রাখে। ইসলামি বৈদেশিক নীতির দায়িত্ব প্রধানত খলিফার ওপরেই ন্যস্ত। খলিফা হলেন ইসলামী রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, যিনি শরীয়াহ এবং ইজমার (ঐকমত্য) নীতি অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। রাষ্ট্র পরিচালনা, বিশেষ করে বৈদেশিক নীতি প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ—এইসব নির্বাহী দায়িত্ব খলিফার হাতেই থাকে। 

২২.
ইসলামি বৈদেশিক নীতিতে যুদ্ধবন্দীদের প্রতি আচরণের বিধান কী?
  1. হত্যা করা
  2. দাসে পরিণত করা
  3. মুক্তিপণ বা সদাচরণ
  4. অনাহারে রাখা
ব্যাখ্যা

ইসলামী বৈদেশিক নীতিতে যুদ্ধবন্দীদের প্রতি আচরণ নির্ধারিত হয় খলিফার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যার মধ্যে মুক্তিপণ আদায়, মুক্তি, বা সদাচরণ করা অন্তর্ভুক্ত থাকে, তবে এই সিদ্ধান্তগুলো সাধারণত সন্ধি ও সন্ধিভিত্তিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বন্দীর ভূমিকা ও অবস্থার ওপর নির্ভর করতে পারে। 

২৩.
ইসলামী ফিকহে ‘নাহি আনিল মুনকার’কে কোন স্তরের ফরজ হিসেবে গণ্য করা হয়?
  1. ফরজে আইন
  2. ফরজে কিফায়া
  3. মুস্তাহাব
  4. মুবাহ
ব্যাখ্যা

অধিকাংশ উলামার মতে, আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার ফরজে কিফায়া। অর্থাৎ কিছু মানুষ করলে বাকিদের দায়িত্ব মাফ হবে। কিন্তু কোনো পর্যায়ে এটি ফরজে আইনও হতে পারে।

২৪.
সহিহ মুসলিমে রাসুল (সা) বলেন—“যে ব্যক্তি কোনো মন্দকাজ দেখে, সে যেন হাতে পরিবর্তন করে; না পারলে জিহ্বায়; না পারলে অন্তরে, আর সেটাই দুর্বলতম ঈমান।” -"হাতে পরিবর্তন করা" এর অর্থ কী?
  1. রাজনৈতিক শক্তি প্রয়োগ
  2. আইনি কর্তৃত্বের মাধ্যমে প্রতিরোধ 
  3. কেবল দোয়া করা
  4. অর্থ দান করা
ব্যাখ্যা

হাদিসে "হাতে পরিবর্তন" অর্থ হলো যে যার দায়িত্ব ও ক্ষমতা আছে (যেমন রাষ্ট্রীয় বা পারিবারিক কর্তৃত্ব), সে তার নিজ অবস্থান থেকে ব্যবস্থা নিয়ে মন্দ কাজ বন্ধ করবে।

২৫.
ইসলামী রাষ্ট্রে “আমর বিল মারুফ” বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান উপায় কী?
  1. শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠন
  2. শিক্ষার প্রসার
  3. সৎ আইন প্রণয়ন
  4. আর্থিক সমৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রীয়ভাবে সৎ আইন প্রণয়ন ছাড়া নাহি আনিল মুনকার সম্ভব নয়। ইসলামি শাসনব্যবস্থায় শরীয়াহ আইন কার্যকর করার মূল উদ্দেশ্যও এটি।

২৬.
নাহি আনিল মুনকারের গুরুত্ব কুরআনে কোন জাতির ধ্বংসের উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হয়েছে?
  1. আদ জাতি
  2. সামুদ জাতি
  3. বনি ইসরাইল
  4. কুরাইশ
ব্যাখ্যা

কুরআনে বলা হয়েছে, “বনি ইসরাইল ধ্বংস হয়েছিল কারণ তারা মন্দকাজে একে অপরকে বাধা দিত না” (সুরা মায়েদা ৫:৭৯)।

২৭.
ইসলামে জনগণের ভূমিকা সার্বভৌমত্বের দিক থেকে কোনটি?
  1. খেলাফতের আমানতদার
  2. পূর্ণ শাসক
  3. সর্বোচ্চ বিচারক
  4. আইন প্রণেতা
ব্যাখ্যা

ইসলামী রাষ্ট্র বা খেলাফতে, চূড়ান্ত সার্বভৌমত্ব আল্লাহর হাতে নিহিত থাকে, তবে জনগণ খেলাফতের আমানতদার হিসেবে ভূমিকা রাখে। জনগণ নিজেদের নির্বাচিত প্রতিনিধি (খলিফা) নিযুক্ত করে, যাকে আল্লাহর নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী শাসনকার্য পরিচালনা করতে হয়। এই অর্থে, জনগণ শাসনব্যবস্থার প্রতিনিধি হিসেবে আল্লাহর সার্বভৌমত্বের প্রকাশ ঘটায় এবং শাসনকার্যে আল্লাহর আমানতদার হিসেবে কাজ করে। 

২৮.
ইসলামী রাজনৈতিক চিন্তায় ইজতিহাদের ভূমিকা কী?
  1. নতুন মতবাদ সৃষ্টি
  2. আল্লাহর বিধান ব্যাখ্যা 
  3. জনগণের মতামত প্রাধান্য
  4. খলিফার ইচ্ছা বাস্তবায়ন
ব্যাখ্যা

ইসলামী রাজনৈতিক চিন্তায় ইজতিহাদ আল্লাহর বিধান ব্যাখ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি, যা কুরআন ও সুন্নাহর স্পষ্ট নির্দেশনা নেই এমন ক্ষেত্রে মুসলিম আইনবিদদের উদ্ভূত ও প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা প্রদানের অনুমতি দেয়, যা জনকল্যাণ ও মুসলিম উম্মাহর স্বার্থে কাজ করে। ইজতিহাদের মাধ্যমে আইনবিদরা সমসাময়িক সমস্যাগুলোর সমাধান করতে এবং ইসলামী আইনকে সময়ের সাথে প্রাসঙ্গিক রাখতে পারেন। 

২৯.
“যে কেউ আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান অনুসারে বিচার না করে, সে কাফির” — আয়াতটি কোন সুরায় রয়েছে?
  1. সুরা মায়েদা (৫:৪৪)
  2. সুরা আনফাল (৮:৪২)
  3. সুরা তাওবাহ (৯:৩৮)
  4. সুরা ইউসুফ (১২:৪০)
ব্যাখ্যা

"যে কেউ আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান অনুসারে বিচার না করে, সে কাফির" — এই আয়াতটি সুরা আল-মায়িদার (৫) ৪৪ নম্বর আয়াতে রয়েছে। এই আয়াতে বোঝানো হয়েছে যে, যারা আল্লাহ তাআলার নাযিল করা বিধান অনুযায়ী বিচার করে না, তারা প্রকৃতপক্ষে কাফির বা অবিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত। 

৩০.
আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে মুসলিম উম্মাহর প্রধান দায়িত্ব কী?
  1. নতুন আইন প্রণয়ন
  2. বিদ্যমান শরীয়াহ প্রতিপালন
  3. রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন
  4. আর্থিক সমৃদ্ধি অর্জন
ব্যাখ্যা

ইসলামে আল্লাহকে সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক মনে করা হয় এবং মুসলিম উম্মাহর প্রধান দায়িত্ব হলো আল্লাহর নির্দেশিত শরীয়াহ বা আইন মেনে চলা, যা জীবনের সকল ক্ষেত্রে, যেমন রাজনীতি, অর্থনীতি ও ব্যক্তিগত জীবনে, প্রযোজ্য। শরীয়াহ প্রতিপালনের মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর জমিনে তাঁর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করাই মুসলিমদের প্রধান কাজ।

৩১.
ইসলামি গণতন্ত্রে জনগণের মতামত গ্রহণের পদ্ধতিকে কী বলা হয়?
  1. বাইআত
  2. শুরা
  3. ইজতিহাদ
  4. ইজমা
ব্যাখ্যা

ইসলামি গণতন্ত্রে জনগণের মতামত গ্রহণ বা সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতিকে শুরা বলা হয়। শুরা হলো একটি পরামর্শ প্রক্রিয়া, যেখানে একটি কাউন্সিল বা গণভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। 

৩২.
রাসুল (সা) এর জীবনের কোন ঘটনায় শুরার বাস্তব প্রয়োগ দেখা যায়?
  1. বিদায় হজ
  2. মক্কা বিজয়
  3. খন্দকের যুদ্ধ
  4. হুদায়বিয়ার সন্ধি
ব্যাখ্যা

রাসুল (সা) এর জীবনের খন্দকের যুদ্ধেই যুদ্ধের কৌশল হিসাবে শুরার বা পরামর্শের বাস্তব প্রয়োগ দেখা যায়, যেখানে তিনি পারস্যের সালমান ফারসি (রা)-এর পরামর্শে মদিনার চারদিকে পরিখা খনন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এটি একটি কার্যকর প্রতিরক্ষা কৌশল ছিল, যা শত্রুদের সরাসরি আক্রমণ প্রতিহত করে এবং মদিনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। 

৩৩.
ইসলামি গণতন্ত্রে শাসকের জবাবদিহি কাদের কাছে?
  1. সংসদের কাছে
  2. জনগণের কাছে
  3. মজলিসে খাস এর কাছে
  4. আল্লাহ ও জনগণের কাছে
ব্যাখ্যা

ইসলামী গণতন্ত্রে শাসকের জবাবদিহি শুধু জনগণের কাছেই নয়, বরং চূড়ান্তভাবে আল্লাহর কাছেও থাকে, কারণ ইসলামে শাসকের ক্ষমতা আল্লাহর দেওয়া আমানত হিসেবে বিবেচিত হয় এবং তাকে শরিয়ত (ইসলামী আইন) অনুযায়ী ক্ষমতা ব্যবহার করতে হয়, যা আল্লাহর ইচ্ছার প্রতিফলন। শাসকরা জনগণের সম্মতিতে ক্ষমতায় আসেন এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন, কিন্তু তাদের মূল জবাবদিহিতা আল্লাহর প্রতি, যিনি তাদের কাজের বিচার করবেন। 

৩৪.
ইসলামি গণতন্ত্রে ‘উম্মাহ’ ধারণার অর্থ কী?
  1. রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান
  2. মুসলিম জাতি
  3. রাজনৈতিক দল
  4. অসাম্প্রদায়িকতা
ব্যাখ্যা

ইসলামী গণতন্ত্রে 'উম্মাহ' বলতে একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক বা জাতিগত সীমার মধ্যে আবদ্ধ না হয়ে, সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে একটি ঐক্যের সূত্রে বাঁধা একটি সার্বজনীন সম্প্রদায়কে বোঝানো হয়। এটি নিছক একটি জাতিগত ধারণা নয়, বরং ঈমান, বিশ্বাস এবং জীবনধারার ভিত্তিতে গঠিত একটি আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়। 

৩৫.
ইসলামি গণতন্ত্রে সংবিধানের মূল উৎস কী?
  1. খলিফার অনুশাসন
  2. আন্তর্জাতিক আইন
  3. মজলিসে খাস এর পরামর্শ
  4. কুরআন ও সুন্নাহ 
ব্যাখ্যা

ইসলামি গণতন্ত্রে (বা ইসলামি শাসনব্যবস্থায়) সংবিধানের মূল উৎস হলো পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ। এর সাথে ইজমা (ইসলামি পণ্ডিতদের ঐক্যমত) ও কিয়াস (যুক্তির প্রয়োগ) শরিয়তের অন্যান্য উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই নীতির ওপর ভিত্তি করে জনগণের অংশগ্রহণ ও সম্মতি নিশ্চিত করা হয়, যেখানে আল্লাহর আইনই সর্বোচ্চ। 

৩৬.
ইসলামি গণতন্ত্রে শাসকের প্রধান গুণ কোনটি?
  1. সম্পদশালী হওয়া
  2. ন্যায়পরায়ণতা 
  3. জনপ্রিয়তা
  4. বংশ মর্যাদা
ব্যাখ্যা

ইসলামি গণতন্ত্রে শাসকের প্রধান গুণ হলো ন্যায়পরায়ণতা (ইনসাফ), যা আইনের নৈতিক দিককে তুলে ধরে, সকল নাগরিকের প্রতি সাম্য ও সমান অধিকার নিশ্চিত করে এবং দমন-পীড়ন ও ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে বিরত থাকে। ন্যায়পরায়ণ শাসক জনগণের অধিকার রক্ষা করে এবং তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, যা সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করে।  

৩৭.
বাইআত বলতে কী বোঝায়?
  1. সামাজিক দায়বদ্ধতা
  2. যুদ্ধ চুক্তি
  3. আনুগত্যের শপথ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ইসলামী পরিভাষায় বাইয়াত বলতে বোঝায় আনুগত্যের শপথ বা চুক্তি, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি আল্লাহর বা তাঁর রাসুল (সা.)-এর বা তাঁর মনোনীত কোনো নেতার কাছে পূর্ণ আনুগত্য, ভালোবাসা ও আত্মসমর্পণের অঙ্গীকার করেন। এটি একটি চুক্তি, যেখানে নিজের আমিত্বকে আল্লাহর রাহে উৎসর্গ করা হয় এবং কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। 

৩৮.
ইসলামি রাষ্ট্রে সংখ্যালঘুদের অধিকার কীভাবে নিশ্চিত হয়?
  1. সমান নাগরিকত্ব
  2. সীমিত স্বাধীনতা
  3. কেবল ধর্মীয় অধিকার
  4. কেবল অর্থনৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা

ইসলামি রাষ্ট্রে সংখ্যালঘুরা সমান নাগরিকের মর্যাদা ও অধিকার ভোগ করে থাকে। ইসলামী আইন অনুযায়ী, সকল নাগরিকের জীবন, সম্পত্তি, সম্মান, এবং বিবেক ও ধর্মের স্বাধীনতা (কোন প্রকার বৈষম্য ছাড়াই) সুরক্ষিত। ইসলামী রাষ্ট্রের আইন দেওয়ানী ও ফৌজদারি উভয় ক্ষেত্রেই মুসলিম ও অমুসলিম নাগরিকদের সমান অধিকার দেয়।

৩৯.
ইসলামি রাষ্ট্রে বিচার ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
  1. রাজনৈতিক প্রভাব
  2. সমতার ভিত্তি 
  3. উপজাতি কেন্দ্রিকতা
  4. অনুমোদিত বৈষম্য
ব্যাখ্যা

ইসলামি রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সর্বজনীন সমতা ও ন্যায়বিচার, যা কুরআন ও সুন্নাহর নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। এখানে বিচারক, সাধারণ নাগরিক এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি সবাই আইনের দৃষ্টিতে সমান। সকলের জন্য এই সাম্য নিশ্চিত করে যে, কেউ যেন আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে পার না পায় এবং অপরাধীকে যথাযথ শাস্তি দেওয়া হয়। 

৪০.
ইসলামি রাষ্ট্রে শাসকের প্রতি আনুগত্য কখন অবৈধ হয়?
  1. শাসক শরিয়াহ বিরোধী হলে
  2.  জনগণ অসন্তুষ্ট হলে
  3. শাসক দুর্বল হলে
  4. বিদেশি চাপ থাকলে
ব্যাখ্যা

ইসলামি রাষ্ট্রে শাসক যখন শরিয়ত বিরোধী হন, তখন তার প্রতি আনুগত্য আর বৈধ থাকে না। শাসক যতক্ষণ কুরআন-সুন্নাহ অনুসারে চলেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তার আনুগত্য করা জনগণের জন্য আবশ্যক।

৪১.
ইসলামি রাষ্ট্রে ব্যক্তির অর্থনৈতিক জীবনের প্রধান শর্ত কী? 
  1. আর্থিক সমৃ্দ্ধি
  2.  হালাল উপার্জন
  3. উত্তরাধিকার
  4. কর প্রদান
ব্যাখ্যা

ইসলামী রাষ্ট্রে ব্যক্তির অর্থনৈতিক জীবনের একটি প্রধান শর্ত হলো হালাল পথে উপার্জন করা, যা কেবল একটি নৈতিক বাধ্যবাধকতাই নয়, বরং একটি মৌলিক ইবাদতও বটে। এটি ব্যক্তির ইহকাল ও পরকালের সফলতা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করে। হালাল উপার্জনের মাধ্যমে ইসলামে মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের সমৃদ্ধি অর্জিত হয় এবং এর মাধ্যমে আধ্যাত্মিক পরিপূর্ণতা লাভ করা সম্ভব হয়। 

৪২.
ইসলামি রাষ্ট্রে নারীর অধিকার কিসের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত?
  1. গ্রিক আইন
  2. শরিয়াহ
  3. রাজনৈতিক মতাদর্শ
  4. সামাজিক রীতি
ব্যাখ্যা

ইসলামি রাষ্ট্রে নারীর অধিকার শরীয়াহ বা ইসলামি আইনের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। ইসলামি শরীয়ায় নারীদের সম্মান, মর্যাদা, সম্পত্তির মালিকানা, উত্তরাধিকার এবং বিবাহ ও তালাকের ক্ষেত্রে অধিকার প্রদান করা হয়েছে, যা তাদের জীবনব্যাপী সুরক্ষা নিশ্চিত করে। 

৪৩.
ইসলামি রাষ্ট্রে জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ কোন ব্যবস্থার মাধ্যমে হয়?
  1. নির্বাচনী প্রচারণা
  2. মিছিল
  3. ভোট
  4. শুরা পরিষদ
ব্যাখ্যা

ইসলামি রাষ্ট্রে শুরা ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণের ব্যবস্থা থাকে। এই ব্যবস্থায় মজলিসে শুরা (পরামর্শ পরিষদ) গঠন করা হয়, যা রাষ্ট্রপ্রধানকে পরামর্শ ও সহযোগিতা দেয় এবং রাষ্ট্রের মুসলিম জনগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটের মাধ্যমে এটি নির্বাচিত হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো যোগ্যতম ব্যক্তিকে নেতৃত্বে আনা এবং ইসলামী গণতন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। 

৪৪.
ইসলামি রাষ্ট্রে জিহাদের মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. ভূখণ্ড দখল
  2. আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা
  3. অর্থলাভ
  4. গনিমতের সম্পদ
ব্যাখ্যা

ইসলামি রাষ্ট্রে বা যেকোনো ইসলামী প্রেক্ষাপটে জিহাদের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা, অর্থাৎ ইসলামের পরিপূর্ণ আদর্শ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং এর মাধ্যমে সমগ্র মানবজাতির কল্যাণ সাধন করা। জিহাদ একটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়, যা শুধুমাত্র শারীরিক যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রচেষ্টা, সংগ্রাম ও শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ইসলামের আদর্শকে বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠা করার একটি সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে বোঝায়।