পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (সাহিত্য)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
"বাংলাবিদ সাহিত্য পরীক্ষা - ২: টপিক: মধ্যযুগের প্রাথমিক ধারণা ও শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, মঙ্গলকাব্য [লাইভ ক্লাস ⎯ ৩ ও ৪]"
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

বাংলাবিদ (সাহিত্য) · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ধর্মকেন্দ্রিকতা
  2. বিজ্ঞানমনস্কতা
  3. ব্যক্তিস্বাধীনতা
  4. মানবতাবাদ
সঠিক উত্তর:
ধর্মকেন্দ্রিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মকেন্দ্রিকতা
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য মূলত ধর্মপ্রচার ও ধর্মীয় ভাবধারার উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। 
-------------------------------------------------
• মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য:
- বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের বিস্তৃতিকাল- ১২০১ খ্রি. – ১৮০০ খ্রি.।  
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মূল ভিত্তি ছিল ধর্ম।
- এই সময় সাহিত্য লেখা হতো মানুষের মধ্যে ধর্মীয় বিশ্বাস জাগ্রত করা এবং ধর্মীয় আদর্শ প্রচারের জন্য।
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য মূলত দেব-দেবী, ভক্তি ও ধর্মীয় কাহিনিকে কেন্দ্র করে রচিত হয়।
- মঙ্গলকাব্যে লৌকিক দেব-দেবীর মাহাত্ম্য, বৈষ্ণব পদাবলীতে রাধা–কৃষ্ণের ভক্তিপূর্ণ প্রেম, আর অনুবাদ সাহিত্যে রামায়ণ–মহাভারতের ধর্মীয় ভাব প্রকাশ পেয়েছে।
- মুসলিম কবিদের রচিত প্রণয়োপাখ্যানে কিছুটা মানবীয় প্রেমের প্রকাশ দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে সাহিত্যে আধ্যাত্মিকতা ও অলৌকিকতার প্রাধান্য ছিল।
- এ যুগে গদ্যের প্রচলন না থাকায় সাহিত্য ছিল মূলত কাব্যনির্ভর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের পুঁথি কোন স্থান থেকে আবিষ্কৃত হয়?
  1. মন্দির
  2. পাঠশালা
  3. গোয়ালঘর
  4. গ্রন্থাগার
সঠিক উত্তর:
গোয়ালঘর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোয়ালঘর
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:  
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্যিক নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত।
- এটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম একক গ্রন্থ, অর্থাৎ একজন কবির একক রচনায় সম্পূর্ণ একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
- তিনি মধ্যযুগের আদি কবি হিসেবে পরিচিত।

- কাব্যটির কাহিনি লোকসমাজে প্রচলিত রাধা–কৃষ্ণের প্রেমকাহিনি অবলম্বনে রচিত।
- এতে ধর্মীয় ভক্তিভাবের সঙ্গে মানবীয় প্রেম ও আবেগ প্রকাশ পেয়েছে, যা মধ্যযুগীয় সাহিত্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
- এই কাব্যটি দীর্ঘদিন অজ্ঞাত ছিল।
- অবশেষে ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে পুঁথিটি আবিষ্কৃত হয় এবং ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- পুঁথিটি আবিষ্কার ও সম্পাদনা করেন বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ।
- তাঁর সম্পাদনায় এটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়।
- আবিষ্কারের সময় পুঁথিটির অবস্থা ছিল অসম্পূর্ণ—প্রথম দুই পাতা ও শেষের একটি পাতা অনুপস্থিত ছিল, মাঝের কিছু পাতাও পাওয়া যায়নি।
- পুঁথিটি পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামে একটি গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে আবিষ্কৃত হয়—যা বাংলা সাহিত্য ইতিহাসে এক বিস্ময়কর ঘটনা।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
গঠনরীতির বিচারে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যটি মূলত কোন শ্রেণিভুক্ত?
  1. পদাবলি
  2. নাট্যগীতি
  3. ধামালি
  4. শোকগীতি
সঠিক উত্তর:
নাট্যগীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাট্যগীতি
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন: 
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গঠনরীতির দিক থেকে মূলত একটি নাট্যগীতি।
- এটি একটি বৈষ্ণব কাব্য। 
- এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
- কাব্যটির রচনাকাল নির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও একে প্রাক্-চৈতন্য যুগের (খ্রিস্টীয় ১৪শ শতক) রচনা বলে মনে করা হয়।
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই এর গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামে দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- কাব্যটি ১৩টি খণ্ডে বিভক্ত।
- এবং এতে মোট ৪১৮টি পদ রয়েছে।
- জন্মখণ্ড থেকে বিরহখণ্ড (রাধাবিরহ) পর্যন্ত প্রতিটি খণ্ডে কাহিনি ধাপে ধাপে অগ্রসর হয়েছে।

- কাব্যের প্রধান চরিত্র কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই (দূতী)।
- চরিত্রগুলোর মধ্যে রাগ–অনুরাগ, বাক্‌বিতণ্ডা, দ্বন্দ্ব ও আবেগের সংঘাত বিদ্যমান থাকায় কাব্যটি কেবল গীতিমূলক নয়; বরং এতে নাটকের মতো গতি ও সংঘর্ষ দেখা যায়।
- এই নাটকীয় উপাদান ও সংলাপনির্ভর কাঠামোর কারণেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনকে নাট্যগীতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

উল্লেখ্য,
রসগত দিক থেকে সমগ্র কাব্যজুড়ে ধামালি প্রধান হয়ে উঠেছে বলে ড. বিমানবিহারী মজুমদার একে ' রাধাকৃষ্ণের ধামালি' বলে উল্লেখ করেছেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

.
‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ গ্রন্থটি অন্য কোন নামে পরিচিত?
  1. শ্রীকৃষ্ণকীর্তি
  2. শ্রীকৃষ্ণসদ্ভাব
  3. শ্রীকৃষ্ণস্তুতি
  4. শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় রচিত কোনো লেখকের প্রথম একক গ্রন্থ।

- কাব্যটির পুঁথির প্রথম ও শেষাংশ খণ্ডিত থাকায় গ্রন্থের আসল নাম ও কবির বিস্তৃত পরিচয় নির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।
- যদিও গ্রন্থের ভেতরে কবির ভণিতা আছে, তবু কোথাও কাব্যের নাম উল্লেখ নেই।
- এই অবস্থায় সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ লোকশ্রুতি ও কৃষ্ণলীলা–কেন্দ্রিক বিষয়বস্তুর ওপর ভিত্তি করে কাব্যটির নামকরণ করেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
- তবে এই নামকে অনেক গবেষক যথার্থ মনে করেন না।
- কারণ, ‘কীর্তন’ বলতে ভক্তিসঙ্গীতের মাধ্যমে নাম–রূপ–গুণের সরব উচ্চারণ বোঝায়।
- অথচ এই কাব্যে কৃষ্ণের উপস্থিতি থাকলেও প্রকৃত কীর্তনের রূপ অনুপস্থিত।

- কাব্যে ১২টি স্থানে ‘ধামালি’ শব্দের ব্যবহার থাকায় কেউ কেউ মনে করেন এর নাম ‘রাধাকৃষ্ণের ধামালি’ হওয়াই যুক্তিযুক্ত হতো।
- অপরদিকে, পুঁথিতে প্রাপ্ত একটি চিরকুটের সূত্রে জানা যায় যে কাব্যটির প্রকৃত নাম হলো ‘শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ব্ব’ (শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ)।
- ‘সন্দর্ভ’ শব্দের অর্থ রচনার সংকলন বা গবেষণামূলক গ্রন্থ। 
- সুতরাং আভিধানিক অর্থে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ বলতে বোঝায় ‘শ্রীকৃষ্ণ বিষয়ক সংকলন/গবেষণা’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রথম খণ্ডের নাম কী?
  1. জন্মখণ্ড
  2. তাম্বুলখণ্ড
  3. দানখণ্ড
  4. বিরহখণ্ড
সঠিক উত্তর:
জন্মখণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন্মখণ্ড
ব্যাখ্যা

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন: 
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন হলো মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- এটি গীতি-আলেখ্য কাব্য, অর্থাৎ কাব্যটি মূলত গান ও কবিতার মাধ্যমে তৈরি, যেখানে রাধা ও কৃষ্ণের প্রেমলীলা মূল বিষয়।
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের ধারায় চর্যাপদের পরে এই কাব্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

- কাব্যটি মোট ১৩টি খণ্ডে বিভক্ত।
- প্রতিটি খণ্ড আলাদা আলাদা গল্প বা বিষয় উপস্থাপন করে।
- খণ্ডগুলোর নাম হলো:
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুলখণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবনখণ্ড,
- কালিয়দমনখণ্ড,
- যমুনাখণ্ড,
- হারখণ্ড,
- বাণখণ্ড,
- বংশীখণ্ড,
- বিরহখণ্ড।
--------------------------------------
জন্মখণ্ড:
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রথম খণ্ড হলো জন্মখণ্ড, যেখানে ঈশ্বরের ইচ্ছায় কৃষ্ণ ও রাধা মর্ত্যে জন্মগ্রহণ করেন। বিষ্ণুর অবতার কৃষ্ণ জন্ম নেন পাপী রাজা কংসকে বধ করার উদ্দেশ্যে, দেবকী ও বাসুদেবের সন্তান হিসেবে। জন্মের সঙ্গে সঙ্গে প্রাণের নিরাপত্তা সঙ্কটে পড়ায় বাসুদেব কৃষ্ণকে গোপনে বৃন্দাবনের নন্দগোপের ঘরে নিয়ে যান।সেখানে, লক্ষ্মী অবতার রাধা জন্ম নেন সাগর গোয়ালার স্ত্রী পদ্মার গর্ভে। দৈব নির্দেশে রাধা বালিকা অবস্থায় নপুংসক অভিমন্যু বা আয়ান গোপের সঙ্গে বিয়ে করেন। আয়ান গোচারণ করতে গেলে বৃদ্ধা পিসি বড়ায়ি রাধার দেখাশোনা করেন। এই খণ্ডে মূলত কৃষ্ণ ও রাধার জন্ম, শৈশবকাল এবং তাদের গোপন প্রতিপালনের কাহিনী সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা কাব্যটির পরবর্তী গল্পের ভিত্তি স্থাপন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুঁথিতে মোট কতটি সংস্কৃত শ্লোক রয়েছে?
  1. ৪০৯টি 
  2. ৪১৮ টি
  3. ১৬১ টি 
  4. ৪০৭ টি 
সঠিক উত্তর:
১৬১ টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬১ টি 
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন হলো বড়ু চণ্ডীদাস রচিত মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি প্রধান আখ্যানকাব্য।
- এটি প্রাক-চৈতন্য যুগের (চতুর্দশ–পঞ্চদশ শতাব্দী) শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে গণ্য।
- ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রাম থেকে কাব্যের পুঁথিটি আবিষ্কার করেন।
- কাব্যটি মূলত রাধা–কৃষ্ণের প্রেম, বিরহ এবং লীলাকাহিনীকে কেন্দ্র করে রচিত, যার প্রধান চরিত্র হলো কৃষ্ণ, রাধা এবং বড়ায়ি।

- কাব্যের মোট পদসংখ্যা ৪১৮টি, যার মধ্যে সংস্কৃত শ্লোকের সংখ্যা ১৬১টি।
- পুঁথিটি ২২৬টি পাতা নিয়ে তৈরি, যা মিলিয়ে ৪৫২টি পৃষ্ঠা হয়েছে।
- তবে পুঁথির মাঝের ৪৫টি পৃষ্ঠা বিলুপ্ত থাকায় প্রাপ্ত পৃষ্ঠার সংখ্যা বর্তমানে ৪০৭টি।
- পুঁথিটি লেখা হয়েছে ৩ জন লিপিকরের হাতে, অর্থাৎ তিনটি ভিন্ন হাতের লেখা রয়েছে।
- এছাড়াও, কাব্যের কবির ভণিতার সংখ্যা ৪০৯টি, যা গ্রন্থের স্বাতন্ত্র্য ও বিশদ পরিচয়কে আরও সমৃদ্ধ করেছে। 

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

.
মঙ্গলকাব্যে মোট কতজন কবির নাম পাওয়া গেছে?
  1. ৫০ জন 
  2. ৬২ জন 
  3. ৭৫ জন 
  4. ৮০ জন 
সঠিক উত্তর:
৬২ জন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬২ জন 
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য হলো এমন একটি মধ্যযুগীয় কাব্যধারা। 
- এর মূল উদ্দেশ্য হলো নিজের, প্রতিবেশীর এবং সমাজের কল্যাণ বা মঙ্গল সাধন। শব্দ ‘মঙ্গল’ মানে কল্যাণ।
- প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, যে কাব্য রচনা, পাঠ বা শ্রবণ করলে মানুষের জীবন ও সমাজের মঙ্গল হয়, তা মঙ্গলকাব্য।
- কেউ কেউ বলেন, এই কাব্যগুলো দেবতাদের কাছে মঙ্গল কামনা করে রচিত।
- আবার কেউ মনে করেন মঙ্গলকাব্য বিশেষ মঙ্গল নামের সুরে গাওয়া হতো।

- মঙ্গলকাব্যকে কখনও কখনও মধ্যযুগীয় উপন্যাস হিসেবেও ধরা হয়।
- এটি কাহিনিকেন্দ্রিক; মূলত লোকায়াত দেব-দেবী, বিশেষ করে দেবীর পূজা প্রচার ও গুণগান করাই এর লক্ষ্য।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেব-দেবীর মধ্যে মনসা ও চণ্ডী দেবী সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
- এই ধারা পনেরো শতকের শেষ ভাগ থেকে আঠারো শতকের শেষার্ধ পর্যন্ত প্রায় পাঁচশো বছর ধরে লেখা হয়েছে।
- মঙ্গলকাব্যে মোট ৬২ জন কবির নাম পাওয়া গেছে।

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

.
মঙ্গলকাব্যের ছন্দের ধরন কোনটি?
  1. ত্রিপদী
  2. ছন্দপয়ার 
  3. মাত্রাবৃত্ত 
  4. ক+খ 
সঠিক উত্তর:
ক+খ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক+খ 
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য হলো মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি আখ্যানধর্মী কাব্য। 
- এই কাব্যের মূল সাধারণত দেব-দেবী ও তাদের আখ্যানভাগ।
- এই যুগের কবিরা স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে কাব্য রচনা শুরু করতেন এবং প্রায়শই সর্বসিদ্ধিদাতা গণেশ, পিতা-মাতা বা রাজাদের স্তুতি দিয়ে কাহিনি শুরু হত।
- মঙ্গলকাব্যের কাহিনিতে নায়করা সাধারণত স্বর্গভ্রষ্ট বা শাপভ্রষ্ট দেবতা, যারা স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হয়ে মর্ত্যে মানুষ রূপে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাদের স্ত্রীও একইভাবে জন্ম নেন।
- মর্ত্যে তারা মানুষের মতো আচরণ করেন এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে দেবীর পূজা প্রচারের পরে শাপমুক্ত হয়ে আবার স্বর্গে ফিরে যান।

- মঙ্গলকাব্য সমাজ ও ধর্মের বাস্তব চিত্রও তুলে ধরে।
- এতে দেখা যায় দুঃখের কাহিনি, বারমাসী গান, চৌতিশা, নারীর পতি নিন্দা, রন্ধনশিল্প ইত্যাদির বর্ণনা।
- কাব্যটি ছন্দপয়ার ও ত্রিপদী আকারের হয়, যা মূলত পাঁচালি ধরনের এবং মঞ্চে উপস্থাপন করা হত।

- মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা তিনটি:
- মনসামঙ্গল – তুলনামূলকভাবে প্রাচীনতম।
- চণ্ডীমঙ্গল। 
- অন্নদামঙ্গল – তুলনামূলকভাবে আধুনিক।

- একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যের পাঁচটি অংশ থাকে:
- বন্দনা – দেবতাদের বন্দনা ও প্রার্থনা।
- আত্মপরিচয় – নায়কের পরিচয়।
- দেবখণ্ড – দেবতার কাহিনি ও মহিমা।
- মর্ত্যখণ্ড – নায়ক-নায়িকার মর্ত্যজীবন।
- শ্রুতিফল – নৈতিক শিক্ষা ও কাহিনীর ফলাফল।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
নিম্নলিখিত কোনটি লৌকিক ধারার মঙ্গলকাব্য নয়?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. সূর্যমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

লৌকিক ধারার মঙ্গলকাব্য নয়- অন্নদামঙ্গল। 
----------------------------------------------- 
• মঙ্গলকাব্য:
- মধ্যযুগে (খ্রিস্টীয় ১৩শ থেকে ১৮শ শতাব্দী) বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধরণের আখ্যানকাব্য হলো মঙ্গলকাব্য।
- এ ধরনের কাব্য মূলত হিন্দু দেব-দেবীর মাহাত্ম্য প্রচার এবং বিশ্বাস অনুযায়ী শ্রবণকারীর জীবন থেকে অকল্যাণ দূর করে মঙ্গল আনার উদ্দেশ্যে রচিত হতো।

- মঙ্গলকাব্যকে প্রধানত দুটি শ্রেণি বা ধারাতে ভাগ করা হয়:
• লৌকিক ধারা:
- এই ধারা হলো লোকায়ত বা খাঁটি মঙ্গলকাব্য, যা গ্রামীণ সমাজের বিশ্বাস, লোকাচার ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে উদ্ভূত।
- এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কাব্যগুলো হলো:
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর),
- সারদামঙ্গল,
- শিবমঙ্গল,
- শীতলামঙ্গল,
- রায়মঙ্গল,
- ষষ্ঠীমঙ্গল,
- সূর্যমঙ্গল।

• পৌরাণিক ধারা:
- এই ধারা হলো বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক, যেখানে কাহিনী প্রধানত পুরাণকথা ও দেবতার আখ্যানের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কাব্যগুলো হলো:
- অন্নদামঙ্গল,
- গৌরীমঙ্গল,
- ভবানীমঙ্গল,
- দুর্গামঙ্গল,
- কমলামঙ্গল,
- গঙ্গামঙ্গল,
- চণ্ডিকামঙ্গল।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০.
মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি কে?
  1. বিজয়গুপ্ত
  2. কানা হরিদত্ত
  3. নারায়ণ দেব
  4. দ্বিজ বংশীদাস
সঠিক উত্তর:
কানা হরিদত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানা হরিদত্ত
ব্যাখ্যা

মনসামঙ্গল:
- মনসামঙ্গল হলো মঙ্গলকাব্যের আদি ও প্রাচীনতম শাখা, যা প্রধানত সাপের দেবী মনসাকে কেন্দ্র করে রচিত।
- মনসাকে কেতকা বা পদ্মা নামেও ডাকা হয়, তাই এই কাব্যকে কেতকামঙ্গল বা পদ্মাপুরাণও বলা হয়।
- মনসামঙ্গল কাব্য পূর্ববঙ্গের বনজঙ্গল, নদী ও খাল বিলের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে, যেখানে গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রাম ও জীবনকাহিনি ফুটে ওঠে।
- মনসামঙ্গলের জনপ্রিয়তার কারণে বিভিন্ন কবির কাব্য থেকে অংশ সংগ্রহ করে তৈরি করা সংকলনকে বাইশা বা বাইশ কবির মনসামঙ্গল বলা হয়।
- মনসামঙ্গলের শ্রেণি/ধারা- লৌকিক বা লোকায়ত।

- মনসামঙ্গলের প্রধান কবিরা:
কানা হরিদত্ত:
- মনসামঙ্গলের আদি কবি। প্রথম রচিত গীত কানা হরিদত্তের।

• নারায়ণ দেব:
- মনসামঙ্গলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি; কাব্যের নাম ‘পদ্মাপুরাণ’।

• বিজয়গুপ্ত:
- বাংলা সাহিত্যে মনসামঙ্গল কাব্যের প্রথম রচয়িতা হিসেবে সুস্পষ্ট সন তারিখসহ পরিচিত বিজয়গুপ্ত। তাকে মনসামঙ্গল কাব্যের শ্রেষ্ঠ কবিও বলা হয়। তিনি বরিশালের কবি। তার লেখা মনসামঙ্গল কাব্যের নাম পদ্মপুরাণ।

• বিপ্রদাস পিপিলাই:
- মনসাবিজয় নামে কাব্য রচনা করেছেন।

• দ্বিজ বংশীদাস:
- বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের পাতুয়ারী গ্রামের কবি; গ্রামে গ্রামে মনসার গান গাইতেন। চন্দ্রাবতী নামক প্রাচীনতম মহিলা কবির পিতাও তিনি।

• অন্যান্য কবি: কেতকাদাশ, ক্ষেমানন্দ ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১.
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে কোন চরিত্রকে সর্বাধিক প্রতিবাদী পুরুষ চরিত্র হিসেবে গণ্য করা হয়?
  1. চাঁদ সওদাগর
  2. মনিরাম
  3. কৃষ্ণ
  4. লক্ষিন্দর
সঠিক উত্তর:
চাঁদ সওদাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদ সওদাগর
ব্যাখ্যা

• মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মনসামঙ্গল কাব্যের চাঁদ সওদাগরকে সর্বাধিক প্রতিবাদী পুরুষ চরিত্র হিসেবে গণ্য করা হয়। 
-------------------------------------------------
• মনসামঙ্গল:
- মনসামঙ্গল বাংলা মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্যধারার সবচেয়ে প্রাচীন ও জনপ্রিয় ধারা।
- ‘মনসামঙ্গল কাব্য’-এর আদি কবি কানহরিদত্ত হলেও শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে স্বীকৃত বিজয়গুপ্ত।
- বিজয়গুপ্ত ‘পদ্মপুরাণ’ নামে এই কাব্য রচনা করেন।
- এখানে দেবী মনসার জন্ম ও চাঁদ সওদাগরের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- এছাড়া এটি সর্পদেবী মনসার পূজা প্রতিষ্ঠা, তাঁর মাহাত্ম্য, শক্তি ও মানবজীবনে তাঁর প্রভাবকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে।

- কাহিনীর মূল চরিত্র চাঁদ সওদাগর।
- তিনি প্রথমে মনসাকে তুচ্ছ করলেও পরে দেবীর অলৌকিক শক্তি স্বীকার করে নেন।
- এই বিরোধ, সংকট ও গ্রহণের মধ্য দিয়েই কাব্যের গল্প এগোতে থাকে।
- মনসামঙ্গলে কেবল পৌরাণিক আখ্যানই নয়, সমাজবাস্তবতার দিকও প্রকাশ পেয়েছে।
- চাঁদ ও মনসার দ্বন্দ্বে আর্য–অনার্য সংঘাত, দেব–মানব বিরোধ, এবং সমাজের শ্রেণী-বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছিল।

- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
• দেবী মনসা,
• চাঁদ সওদাগর,
• বেহুলা,
• লক্ষিন্দর,
• সনকা ও
• নেতাইধোপানি।

- মধ্যযুগের সাহিত্যে চাঁদ সওদাগর সর্বাধিক প্রতিবাদী পুরুষ চরিত্র হিসেবে বিবেচিত। 
- আর বেহুলা সেই যুগের সর্বাধিক প্রতিপ্রাণা নারী চরিত্র— যিনি স্বামীর প্রাণ রক্ষার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত ছিলেন। 

উৎস: 
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস – মাহবুবুল আলম; 
লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ। 

১২.
চণ্ডীমঙ্গলের  সর্বশ্রেষ্ঠ কবি কে? 
  1. দ্বিজ মাধব
  2. মানিক দত্ত
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. দ্বিজরাম দেব
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

• চণ্ডীমঙ্গলের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
-------------------
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
- চণ্ডীমঙ্গল মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্য ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান শাখা।
- এখানে লৌকিক দেবী চণ্ডীর মাহাত্ম্য এবং পৃথিবীতে তাঁর পূজা প্রতিষ্ঠার কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- এই ধারার আদি কবি হিসেবে খ্যাত- মানিক দত্ত। 
- এই ধারার সর্বশ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী বিশেষভাবে খ্যাত।
- তাঁর রচনায় চণ্ডীমঙ্গল সর্বাধিক সাহিত্যিক উৎকর্ষ লাভ করে।
- মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গলে দেবীমাহাত্ম্যের পাশাপাশি সমসাময়িক বাঙালি সমাজের বাস্তব চিত্র স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

- চন্ডীমঙ্গল কাব্যের উল্লেখযোগ্য কবিগণ হলেন -
- মানিকদত্ত, দ্বিজ মাধব, মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, দ্বিজরাম দেব, মুক্তরাম সেন।

- এ কাব্যের প্রধান চরিত্র হলো -
- ফুল্লরা, কালকেতু, ধনপতি, ভাড়ুদত্ত, মুরারী শীল৷ বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঠগ চরিত্র ভাড়ুদত্ত।

- চণ্ডীমঙ্গল কাব্য মূলত দুটি প্রধান কাহিনির সমন্বয়ে গঠিত—
• ব্যাধ কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, যা ‘আখেটিক খণ্ড’ নামে পরিচিত,
• এবং বণিক ধনপতি সদাগর ও খুল্লনার কাহিনি, যা ‘বণিক খণ্ড’ নামে অভিহিত।

- অধিকাংশ চণ্ডীমঙ্গলে কাব্যের কাঠামো দেবখণ্ড ও নরখণ্ডে বিভক্ত।
- দেবখণ্ডে দেবী চণ্ডীর সতী ও পার্বতী রূপের পৌরাণিক আখ্যান বর্ণিত হয়।
- আর নরখণ্ডে ব্যাধ ও বণিক শ্রেণির মানবজীবনের কাহিনি স্থান পায়।

- আখেটিক খণ্ডে দেখা যায়—
- দেবী চণ্ডীর ইচ্ছায় স্বর্গচ্যুত নীলাম্বর মর্ত্যে কালকেতু নামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এবং ছায়া দেবী ফুল্লরা রূপে আবির্ভূত হন।
- দরিদ্র ব্যাধ দম্পতির দুঃখ-কষ্টের মধ্য দিয়ে চণ্ডীর কৃপায় গুজরাট নগরী প্রতিষ্ঠার কাহিনি এখানে বর্ণিত হয়েছে।

- অন্যদিকে বণিক খণ্ডে ধনপতি সদাগর ও তাঁর দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনার জীবনকাহিনি উঠে আসে।
- দেবী চণ্ডীর পূজা প্রচারের উদ্দেশ্যে ধনপতির সিংহল যাত্রা, সেখানে তাঁর বন্দিত্ব এবং শেষ পর্যন্ত চণ্ডীর অনুগ্রহে মুক্তিলাভ এই অংশের মূল ঘটনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৩.
অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রথম খণ্ডের প্রধান কাহিনি কোনটি?
  1. মানসিংহের যশোর অভিযান
  2. সীতার দেহত্যাগ, উমারূপ জন্ম ও শিববিবাহ
  3. ভবানন্দের দিল্লি যাত্রার বর্ণনা
  4. বিদ্যাসুন্দর প্রেমকাহিনি
সঠিক উত্তর:
সীতার দেহত্যাগ, উমারূপ জন্ম ও শিববিবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সীতার দেহত্যাগ, উমারূপ জন্ম ও শিববিবাহ
ব্যাখ্যা

অন্নদামঙ্গল:
- অন্নদামঙ্গল মধ্যযুগের একটি উল্লেখযোগ্য কাব্য, যা আনুমানিক ১৭৫২-৫৩ সালে রচিত হয়।
- এর রচয়িতা হলেন মধ্যযুগের শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- প্রথম মুদ্রণ করা হয় ১৮১৬ সালে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যের মাধ্যমে।
- কাব্যটি মূলত দেবী অন্নদার পূজা, মহিমা এবং আখ্যান প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যটি ছন্দ ও অলঙ্কারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুদক্ষভাবে রচিত।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এটি অষ্টাদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য এবং সমগ্র বাংলা সাহিত্যের মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।

- কাব্যটি তিনটি খণ্ডে বিভক্ত:
• প্রথম খণ্ড শিবায়ন অন্নদামঙ্গল,
• দ্বিতীয় খণ্ড বিদ্যাসুন্দর কালিকা মঙ্গল এবং
• তৃতীয় খণ্ড মানসিংহ অন্নদামঙ্গল।

প্রথম খণ্ডে সীতার দেহত্যাগ, উমারূপে জন্মগ্রহণ, শিবের সঙ্গে বিবাহ, অন্নপূর্ণার মূর্তিধারণ এবং কাশীপ্রতিষ্ঠার কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

• দ্বিতীয় খণ্ডে বিদ্যাসুন্দরের প্রেমকাহিনি প্রকাশিত হয়েছে।

• তৃতীয় খণ্ডে মানসিংহের যশোর অভিযান, রাজা প্রতাপাদিত্যের পরাজয় এবং ভবানন্দের দিল্লি যাত্রার বর্ণনা রয়েছে।

- অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিখ্যাত পঙক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
• “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।”
•“মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।”
• “হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।”
• “নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?”
• “বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।”

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
বাংলাপিডিয়া।

১৪.
ধর্মমঙ্গল কাব্য মূলত কোন বিষয়কে কেন্দ্র করে রচিত?
  1. লাউসেনের লৌকিক বীরগাঁথা
  2.  রাঢ় বাংলার লোকায়ত সংস্কৃতি, বিশ্বাস ও বীরত্ব
  3. রাজা হরিশ্চন্দ্রের পৌরাণিক কাহিনী
  4. উপরের সবকয়টি 
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকয়টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকয়টি 
ব্যাখ্যা

ধর্মমঙ্গল কাব্য রাঢ় বাংলার সমাজ, রাজনীতি ও লোকধর্মকে কেন্দ্র করে রচিত। এতে লৌকিক দেবতা ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্য, বীর লাউসেনের কাহিনী এবং সাধারণ মানুষের জীবন, বিশ্বাস ও বীরত্ব ফুটে ওঠে। এটি মূলত লোকায়ত সংস্কৃতি ও সামাজিক বীরত্বের মহাকাব্য।
------------------------------
• ধর্মমঙ্গল:
- ধর্মমঙ্গল কাব্য হলো এমন একটি কাব্যধারা যা মূলত ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্য বা গুণগান প্রদর্শনের জন্য রচিত।
- এখানে ধর্মঠাকুরকে অনার্য দেবতা হিসেবে দেখানো হয়, অর্থাৎ সে শহরের ব্রাহ্মণ বা আর্য ধর্মের চেয়ে ভিন্ন, গ্রামীণ বা লোকমুখী দেবতা।
- একই সঙ্গে তাকে কখনও কখনও সূর্য বা বুদ্ধের প্রতীক হিসেবে কল্পনা করা হয়, যা তার অতিপ্রাকৃতিক শক্তি, জ্ঞান ও প্রভাবকে তুলে ধরে।

- ধর্মমঙ্গল কাব্যের মূল আখ্যান প্রধানত দুটি কাহিনীকে কেন্দ্র করে গঠিত।
- প্রথমটি হলো রাজা হরিশ্চন্দ্রের পৌরাণিক কাহিনী
- এবং দ্বিতীয়টি হলো লাউসেনের লৌকিক বীরগাঁথা।

- ধর্মমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রসমূহের মধ্যে আছেন-
- লাউসেন, ধর্মঠাকুর, কালু ডোম, কানড়া, ইছাই ঘোষ, ময়নামতী, রাজা হরিশ্চন্দ্র এবং মদনা ও লুইচন্দ্র। 

-  ধর্মমঙ্গল কাব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল- রাঢ় বাংলার লৌকিক দেবতা ধর্মঠাকুরের মহিমা প্রচার করা।
- কাব্যটির আখ্যান হরিশ্চন্দ্রের কাহিনীর মাধ্যমে শুরু হয়ে, লাউসেনের বীরত্ব ও ধর্মঠাকুরের কৃপায় তার বিজয় প্রদর্শনের মাধ্যমে বিকশিত হয়েছে।
- এছাড়া কাব্যটি রাঢ় অঞ্চলের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পৌরাণিক প্রেক্ষাপটকে ফুটিয়ে তোলে।
- এতে ধর্মঠাকুরের অলৌকিক কর্মকাণ্ড, লাউসেনের বীরত্ব, ধর্মঠাকুরের কৃপায় তার বিজয় এবং প্রাচীন রাঢ়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

- ধর্মমঙ্গল কাব্যের আদি বা প্রথম কবি ছিলেন ময়ূরভট্ট। 
- তিনি ‘হাকন্দপুরাণ’ রচনা করেছেন।

- তবে মধ্যযুগে এই ধারায় রূপরাম চক্রবর্তী ও ঘনরাম চক্রবর্তীকে প্রধান ও জনপ্রিয় কবি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ধর্মমঙ্গলের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি অষ্টাদশ শতাব্দীর ঘনরাম চক্রবর্তী।
- অন্যান্য কবির মধ্যে আছেন- মানিকরাম গাঙ্গুলি, রামদাস আদক, এবং সীতারাম দাস। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১৫.
চণ্ডীমঙ্গলের আখ্যান প্রধানত কোন দুটি খণ্ডে বিভক্ত?
  1. জন্মখণ্ড ও বিরহখণ্ড
  2. পদ্মখণ্ড ও বংশীখণ্ড
  3. আখেটিক খণ্ড ও বণিক খণ্ড
  4. বিদ্যাসুন্দর খণ্ড ও মানসিংহ খণ্ড
সঠিক উত্তর:
আখেটিক খণ্ড ও বণিক খণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আখেটিক খণ্ড ও বণিক খণ্ড
ব্যাখ্যা

চণ্ডীমঙ্গল:
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্য হলো মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি প্রধান মঙ্গলকাব্য শাখা।
- এটি মূলত লৌকিক দেবী চণ্ডীর মাহাত্ম্য ও মর্ত্যে তাঁর পূজা প্রচারের কাহিনী নিয়ে রচিত।

- কাব্যে দুটি প্রধান আখ্যান দেখানো হয়েছে—
- কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনী (আখেটিক খণ্ড) এবং
- ধনপতি-খুল্লনা-লহনার কাহিনী (বণিক খণ্ড)।
- প্রথম কাহিনী দারিদ্র্য, সংগ্রাম এবং সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরে।
- দ্বিতীয় কাহিনী সমুদ্র বাণিজ্য ও ধনসম্পদের মধ্য দিয়ে দেবী চণ্ডীর প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও সমর্পণ দেখায়।

- কাব্যের প্রধান চরিত্র হলো কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি সদাগর, খুল্লনা, লহনা, ভাঁড়ুদত্ত এবং দেবী চণ্ডী।
- কাব্যটি মূলত দুই ভাগে বিভক্ত—দেবখণ্ড ও নরখণ্ড।
- দেবখণ্ডে চণ্ডীর মহিমা ও পূজা প্রচার, আর নরখণ্ডে মানুষের জীবন, দারিদ্র্য, বিলাসিতা এবং সামাজিক প্রথা বর্ণিত হয়েছে।

- কাব্যের আদি-কবি জনশ্রুতি অনুসারে মানিক দত্ত।
- কিন্তু শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে পরিচিত মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
- এছাড়া দ্বিজ মাধব ও হরিরাম প্রমুখও চণ্ডীমঙ্গলে অবদান রেখেছেন।
- কাব্যটি সমাজচিত্র, ধর্মীয় বিশ্বাস ও লৌকিক আধ্যাত্মিকতার সুন্দর মিশ্রণ হিসেবে রচনা করা হয়েছে।
---------------------------------------- 
অন্যদিকে, 
- জন্মখণ্ড ও বিরহখণ্ড — শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের খণ্ড।
- পদ্মখণ্ড ও বংশীখণ্ড — শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের খণ্ড।
- বিদ্যাসুন্দর খণ্ড ও মানসিংহ খণ্ড — অন্নদামঙ্গল কাব্যের খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৬.
অন্নদামঙ্গল মঙ্গলকাব্যের আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি কে ছিলেন?
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. বিজয় গুপ্ত
  4. দ্বিজ মাধব
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের শেষতম ও অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর (১৭১২–১৭৬০)।
- তাকে যুগসন্ধিক্ষণের কবিও বলা হয়। 
- তাঁর পিতা নরেন্দ্রনারায়ণ রায় (মুখার্জি) ছিলেন হাওড়া জেলার পেন্ড্রো গ্রামে জমিদার।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম রচয়িতা কাব্য ছিল দেবতা সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি বিমিশ্র পাঁচালি।
- তিনি অন্নদামঙ্গল মঙ্গলকাব্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। 
- তিনি অন্নদামঙ্গল মঙ্গলকাব্যের আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি। 
- ভারতচন্দ্রই প্রথম কবি যিনি মঙ্গলকাব্যের প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে নতুন আধুনিক কাব্যশৈলী ও বাস্তবধর্মী রচনার সূচনা করেন।
- তাঁর রচনায় পৌরাণিক ও সামাজিক বাস্তবতার সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়। 
- তাঁর রচনা বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগে রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

- ভারতচন্দ্রের সাহিত্যিক প্রতিভা প্রথমে নবদ্বীপ-কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের নজরে আসে।
- মহারাজা তাঁর পাণ্ডিত্য ও ভদ্র আচরণ দেখে ৪০ টাকা মাসোহারা দিয়ে তাকে রাজসভাসদ বা আমত্য পদে নিয়োগ দেন।
- কবি প্রায়ই রাজা কৃষ্ণচন্দ্রকে কবিতা পাঠ করতেন।
- মহারাজা তাঁর প্রতিভায় অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে মঙ্গলকাব্য রচনার নির্দেশ দেন।
- এ নির্দেশ অনুসারে ভারতচন্দ্র অন্নদামঙ্গল রচনা করেন, যা বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের বিখ্যাত কাব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- রচনার সময় তিনি কৃষ্ণনগর পরিবারের একটি কাহিনীকেও সংযোজন করেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র খুশি হয়ে তাঁকে সভাকবি নিযুক্ত করেন।
- পাশাপাশি রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি প্রদান করেছিলেন।
- ভারতচন্দ্র কৃষ্ণনগরে ১৭৬০ সাল পর্যন্ত বসবাস করে ৪৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
- ১৭৬০ সালে তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের অবসান ঘটে এবং আধুনিক যুগের সূচনা হয়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

১৭.
কালিকামঙ্গল ধারার আদি কবি কে? 
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. কৃষ্ণরাম দাস
  3. রামপ্রসাদ সেন
  4. কবি কঙ্ক
সঠিক উত্তর:
কবি কঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবি কঙ্ক
ব্যাখ্যা

কালিকামঙ্গল:
- কালিকামঙ্গল বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্য ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ আখ্যানকাব্য।
- এটি প্রধানত দেবী কালীর মাহাত্ম্য এবং বিদ্যাসুন্দর কাহিনীকে কেন্দ্র করে রচিত।
- এ ধারাকে বিদ্যাসুন্দর বলা হয়।

- এই ধারার আদি কবি হিসেবে পরিচিত কবি কঙ্ক (জন্ম কিশোরগঞ্জ)। 
- এই ধারার শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে পরিচিত ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- সপ্তদশ শতাব্দীতে কৃষ্ণরাম দাস প্রথম বাংলা ভাষায় কালিকামঙ্গল রচনা করেন।
- এই কাব্য ধারার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবি ছিলেন- রামপ্রসাদ সেন, গোবিন্দ দাস এবং সাবিরিদ খান।

- এই কাব্যের মূল বিষয়বস্তু দুই ভাগে বিভক্ত: 
- প্রথমে দেবী কালীর পূজা ও অলৌকিক ক্ষমতার মহিমা প্রচার এবং দ্বিতীয়ত বর্ধমানের রাজকন্যা বিদ্যা ও সুন্দরের প্রেম, গুপ্ত মিলন, সুন্দরের মৃত্যুদণ্ড এবং পরবর্তীতে দেবীর কৃপায় তাদের মিলন।
- কালিকামঙ্গল কাব্যটি লৌকিক ঐতিহ্য ও রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের সংমিশ্রণ, যা মধ্যযুগীয় বাংলায় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৮.
“আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে” উক্তিটি কোন কাব্যে পাওয়া যায়?
  1. কালিকামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

অন্নদামঙ্গল:
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত ‘অন্নদামঙ্গল’ মধ্যযুগের শেষ এবং শ্রেষ্ঠ মঙ্গলকাব্য।
- এই কাব্যটি মূলত দেবী অন্নপূর্ণার মাহাত্ম্য প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত।
- কাহিনীটি তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত:
• প্রথম ভাগে শিব ও পার্বতীর পৌরাণিক কাহিনী এবং অন্নপূর্ণা দেবীর মাধ্যমে ভবানন্দ মজুমদারের গৃহে পূজা গ্রহণ বর্ণিত হয়েছে; 
• দ্বিতীয় ভাগে বর্ধমানের রাজকন্যা বিদ্যা ও সুন্দরের প্রেমলীলা বর্ণিত হয়েছে;
• এবং তৃতীয় ভাগে মানসিংহের মাধ্যমে প্রতাপাদিত্যর পরাজয় এবং ভবানন্দের রাজ্য ও সম্মান অর্জনের ঐতিহাসিক আখ্যান  বর্ণিত হয়েছে।
-------------------------------------
ঈশ্বরী পাটনী:
- “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে” — এই প্রসিদ্ধ পঙক্তি মধ্যযুগের শেষবর্তী বাংলা কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের অন্নদামঙ্গল কাব্য থেকে নেওয়া।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ছিলেন নদিয়ারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সভাকবি এবং অন্নদামঙ্গল কাব্যর রচয়িতা।
- কাব্যের প্রথম খণ্ড ‘অন্নদা-মাহাত্ম্য’ বা ‘পাটুনী খণ্ড’-এ এই প্রার্থনা প্রকাশ করেছেন ঈশ্বরী পাটনী।
- এতে তিনি দেবী অন্নপূর্ণার কাছে তার সন্তানের জন্য পুষ্টি, সচ্ছল জীবন এবং অভাবমুক্ত জীবন কামনা করেছেন।

- ঈশ্বরী পাটনী ছিলেন সাধারণ পারঘাটার মাঝি।
- তিনি গঙ্গা নদী পারাপারে মানুষের সহায়তা করতেন।
- ঈশ্বরী পাটনীকে নিয়ে ভারতচন্দ্র অন্নদামঙ্গল কাব্যে একটি উপাখ্যান লিখেছেন।
- কাব্য অনুসারে, দেবী অন্নপূর্ণা ছদ্মবেশে নদী পার হতে চাইলে, তিনি প্রথমে দেবীর পরিচয় জানতেন না এবং পার করাতে দ্বিধা বোধ করেন।
- পরে তিনি ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে দেবীকে পারাপার করান।
- তাঁর অকৃত্রিম ভক্তি দেখে দেবী অন্নপূর্ণা ঈশ্বরীকে আশীর্বাদ দেন, যাতে তার সন্তান “দুধে-ভাতে” থাকে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৯.
মনসা দেবীকে নিয়ে বিজয়গুপ্তের লেখা মনসামঙ্গল কাব্যের অন্য নাম কী?
  1. মনসা দেবী 
  2. পদ্মপুরাণ
  3. পদ্মাবতী
  4. মনসাবিজয়
সঠিক উত্তর:
পদ্মপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মপুরাণ
ব্যাখ্যা

• মনসামঙ্গল: 
- বিজয়গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগীয় মনসামঙ্গল কাব্যের একজন সর্বাধিক পরিচিত ও জনপ্রিয় কবি। 
- তিনি মনসামঙ্গল কাব্যের পূর্ণাঙ্গ রচয়িতা।
- মনসামঙ্গল মূলত দেবী মনসাকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে। 
- এই কাব্যটি গল্পরস, করুণরস ও হাস্যরসের প্রয়োগ, চরিত্রচিত্র এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের উপস্থাপনায় সমৃদ্ধ।
- বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গল কাব্য পদ্মপুরাণ নামে পরিচিত।   



উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২০.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্য’র ধনপতি সওদাগর কোন নগরের অধিবাসী?
  1. উজানী নগর
  2. সিংহল নগর
  3. রুপ নগর
  4. বর্ধমান নগর
সঠিক উত্তর:
উজানী নগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উজানী নগর
ব্যাখ্যা

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে ধনপতি সওদাগরের কাহিনী উজানী নগরের পটভূমিতে রচিত হয়েছে।
---------------------------------------------- 
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্য হলো মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঙ্গলকাব্য, যেখানে দেবী চণ্ডীকে কেন্দ্র করে কাহিনী রচিত।
- দেবী চণ্ডীকে অন্য নামে অভয়া, ভবানী বা কখনও অম্বিকা বলা হয়।
- তাই চণ্ডীমঙ্গলকে অভয়ামঙ্গল, ভবানীমঙ্গল বা অম্বিকামঙ্গলও বলা হয়।

- কাব্যটি মূলত দুইটি খণ্ডে বিভক্ত-
- প্রথম খণ্ডকে বলা হয় আখেটিক খণ্ড, যা ব্যাধ কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনী উপস্থাপন করে।
- দ্বিতীয় খণ্ড হলো বণিক খণ্ড, যা ধনপতি সওদাগরের কাহিনী। 

- দ্বিতীয় খণ্ডে উজানী নগরের ধনপতি তার সন্তান লাভের আশায় দ্বিতীয় বিবাহ করেন।
- কিন্তু দ্বিতীয় স্ত্রী খুল্লনা সন্তানহীন থাকায় তাকে বনভূমিতে ছাগল চরাতে পাঠানো হয়।
- সেখানে খুল্লনা দেবী চণ্ডীর পূজা করেন, যা ধনপতি দেখে ভাঙার চেষ্টা করেন।
- তবে খুল্লনা ও দেবী চণ্ডী মিলিতভাবে ধনপতি ও পরিবারকে রক্ষা করেন।
- ধনপতির ছেলে শ্রীমন্ত উপযুক্ত শিক্ষা গ্রহণের পরে বাণিজ্যিক কাজে সিংহলে পাঠানো হয়।
- সেখানে তিনি কমলে কামিনী দেখেন।
- ধনপতি রাজাকে ঘটনা জানান, কিন্তু রাজা তখন তা প্রত্যক্ষ করতে পারেননি।
- পরে দেবী চণ্ডীর কৃপায় রাজা ও ধনপতি উভয়ই উদ্ধার হন।
- শেষে রাজা শ্রীমন্তকে তার কন্যা সুশীলা ও জয়াবতী-এর সঙ্গে বিবাহ প্রদান করেন।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্য মূলত দেবীর পূজা, ন্যায়-অন্যায়, কৌশল ও নৈতিকতার মধ্য দিয়ে চরিত্রের শিক্ষণীয় দিক তুলে ধরে এবং সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।