পরীক্ষা আর্কাইভ

Science Expert

পরীক্ষাScience Expertতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৭
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১৫ টপিক: - প্রাণিজগতের শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে আলোচনা। - বিভিন্ন পর্বের প্রাণীর বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা। - বিগত সালের প্রশ্ন। - মানবদেহ নিয়ে আলোচনা। - মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গতন্ত্র নিয়ে আলোচনা। - বিগত সালের প্রশ্ন। [ক্লাস – ৩২, ৩৩] (২য় রাউন্ড)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Science Expert

Science Expert · তারিখ অনির্ধারিত · ১৭ প্রশ্ন

.
নিচের কোনটি প্রাণী বৈচিত্র্যের প্রকারভেদ?
  1. জিনগত বৈচিত্র্য
  2. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য
  3. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

প্রাণিজগতের বিভিন্নতা বা প্রাণী বৈচিত্র্য (Animal diversity): বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীতে বিরাজমান সকল প্রাণীর মধ্যে
যে জিনগত, বাস্তুসংস্থানগত ও প্রজাতিগত বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে প্রাণী বৈচিত্র্য বলে। প্রকৃতিতে কয়েক ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখা যায়। যথা-

• জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity): 
- একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে।
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই প্রজাতির মধ্যে ঘটে তাই একে অন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। যেমন- মানব প্রজাতির বিভিন্ন রেস এর মধ্যে নাক ও কানের গঠনগত পার্থক্য, একই পিতা-মাতার সন্তানের মধ্যে পার্থক্য। আবার মানুষ একই প্রজাতিভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মঙ্গোলয়েড, ককেশয়েত, নিগ্রয়েড ইত্যাদি রেস দেখা যায় এবং এদের দেহের গঠন, গায়ের রং, চুলের রং ও আকৃতি ইত্যাদিতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়।

• প্রজাতিগত বৈচিত্র্য: 
- ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলে।
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই গণভুক্ত প্রজাতিগুলোর মধ্যে ঘটে তাই একে আন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। একই গনভুক্ত প্রজাতির মধ্যে ক্রোমোসোম সংখ্যা ও আঙ্গিক গঠনে যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। যেমন- রয়েল বেঙ্গল টাইগার  ও সিংহ একই গণভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্রোমোসোম সংখ্যা ও জিনের বিন্যাস ভিন্ন হওয়ার ফলে এদের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বিরাজ করে।

• বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য:
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর সাথে জীবজগতের মিথস্ক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশিয় একক বা বায়োম সৃষ্টি হয়। যেমন- তুন্দ্রা বায়োম, মরূ বায়োম, তৃণ ভূমি বায়োম ইত্যাদি।
- বিভিন্ন বায়োমে বসবাসকারি জীবের বৈচিত্র্যকে বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বলে। যেমন- বন, তৃণভূমি, জলাভূমি, হ্রদ, নদী, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ বিভিন্ন জীব সম্প্রদায়।

উৎস: জীব বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
পাকস্থলীর প্যারাইটাল কোষ থেকে কোন রাসায়নিক পদার্থটি নিঃসৃত হয়?
  1. H2SO4
  2. HCl
  3. HNO3
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

পরিপাক নালি:
- মানবদেহে পরিপাক ও পরিশোষণ পরিপাকতন্ত্রের মাধ্যমে সংগঠিত হয়।
- পরিপাকতন্ত্র পরিপাক নালি ও পরিপাক গ্রন্থি নিয়ে গঠিত।
- মানুষের পরিপাক নালি মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত ৮-১০ মিটার বিস্তৃত দীর্ঘ নালি বিশেষ যা কোথাও থলির ন্যায় স্ফীত আবার কোথাও  কুণ্ডলীকৃত।
- বিভিন্ন অংশ যেমন- মুখছিদ্র, মুখবিবর, গলবিল, অন্ননালি, পাকস্থলি, ক্ষুদ্রান্ত্র (ডিওডেনাম, জেজুনাম ও ইলিয়াম), বৃহদন্ত্র (সিকাম, কোলন ও মলাশয়) দ্বারা পরিপাক নালি গঠিত।

• পাকস্থলি:
- বক্ষ গহ্বরের ডায়াফ্রামের নীচে উদরের উপরের অংশে অন্ননালি ও ক্ষুদ্রান্ত্রের মাঝখানে বাঁকানো থলির মত অংশই পাকস্থলি।
- একে কয়েকটি অংশে ভাগ করা যায়। যেমন- কার্ডিয়া, ফার্নডাস ও ছোট-বড় বাঁক, পাইরোলাস ও গ্রাসনালি।
- পাকস্থলির প্রত্যেক অংশের মিউকোসা স্তরে অসংখ্য গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থাকে। এই গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় দু'লিটার গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরিত হয়।
- পাকস্থলির প্রাচীর পেশীবহুল এবং নলাকার গ্রন্থি সমৃদ্ধ। 

• কাজ:
- খাদ্যদ্রব্যকে সাময়িকভাবে জমা রাখে এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে।
- গ্যাস্ট্রিন হরমোন গ্যাস্ট্রিক জুস ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। গ্যাস্ট্রিক জুসের ৯৯.৪৫% পানি।
- পাকস্থলীর প্যারাইটাল কোষ থেকে নিঃসৃত HCI জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে।
- মিউসিন HCI-এর ক্ষতিকর ভূমিকা থেকে পাকস্থলীর প্রাচীরকে রক্ষা করে।
- গ্যাস্ট্রিক রসের এনজাইমগুলো HCI-এর উপস্থিতিতে আমিষ ও স্নেহজাতীয় খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যার জনক কে?
  1. অ্যারিস্টটল
  2. ক্যারোলাস লিনিয়াস
  3. চার্লস ডারউইন
  4. উপরের কাউকেই নয়
ব্যাখ্যা

• আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যার জনক ক্যারোলাস লিনিয়াস

• অ্যারিস্টটল: 
- অ্যারিস্টটলকে প্রাণিবিজ্ঞান এবং জীববিজ্ঞান এর জনক বলা হয়।
- প্রাণীদের গঠন ও স্বভাব নিয়ে তার ব্যাপক গবেষণা রয়েছে।

• ক্যারোলাস লিনিয়াস:
- যেকোনো প্রাণী সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে হলে সর্বপ্রথম প্রয়োজন তার শনাক্তকরণ। আর এ কাজটি সুচারুভাবে সম্পন্ন করার অন্যতম মাধ্যম হলো শ্রেণিকরণ।
- প্রাণিবিজ্ঞান চর্চার শুরু থেকেই অনেক বিজ্ঞানী প্রাণিদের শ্রেণিবদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। তারমধ্যে অন্যতম ছিলেন সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস (১৭০৭-১৭৭৮)। এজন্য তাকে আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যার জনক (Father of taxonomy) বলা হয়।
- প্রতিটি জীবের দুটি বৈজ্ঞানিক নাম (গণ ও প্রজাতি) প্রদানের প্রবর্তন করেন, যেমন মানুষের জন্য Homo sapiens। একে দ্বিপদী নামকরণ বলা হয়।

• চার্লস ডারউইন:
- চার্লস ডারউইন বিবর্তনবাদ এবং প্রাকৃতিক নির্বাচন এর ধারণা আবিষ্কার করেন।
- তার বিখ্যাত বই 'On the Origin of Species' এই তত্ত্বকে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি দেয়। 

উৎস: ১) জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) BBC

.
লালা রসে কোন এনজাইমটি থাকে?
  1. টায়ালিন
  2. অ্যামাইলেজ
  3. সুক্রেজ
  4. ল্যাকটেজ
ব্যাখ্যা

• এনজাইম: 
- এনজাইম হলো এক ধরনের জৈব অনুঘটক, যা প্রোটিন দিয়ে গঠিত এবং জীবদেহের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতিকে ত্বরান্বিত করে, কিন্তু নিজে বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে অপরিবর্তিত থাকে, ফলে বারবার ব্যবহৃত হতে পারে।
- এটি হজম, শক্তি উৎপাদন, কোষের বৃদ্ধি ও বিপাকসহ প্রায় সমস্ত জৈবিক প্রক্রিয়া সম্পাদনের জন্য অপরিহার্য।

• খাদ্য পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকা: 
- মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে। 
- মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে।
- মূলত তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়। লালারসে মিউসিন এবং দু'প্রকারের পরিপাকীয় এনজাইম; যথা- টায়ালিন ও মলটেজ থাকে।

যে সকল এনজাইম পরিপাকে অংশ নেয় সেগুলো হচ্ছে:
- লালা রসে: টায়ালিন ও মলটেজ।
- পাকস্থলি রসে: শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই।
- অগ্ন্যাশয় রসে: অ্যামাইলেজ ও মলটেজ।
- আন্ত্রিক রসে: অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটেজ।

মিউসিন: মিউসিন খাদ্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত হয়ে খাদ্য বস্তুকে নরম ও পিচ্ছিল করে।

টায়ালিন: টায়ালিন এনজাইম প্রধানত সিদ্ধ বা রন্ধণকৃত স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ও ডেক্সট্রিন অণুকে হাইড্রোলাইসিস করে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন, মলটোজ ও আইসোমলটোজে পরিণত করে যা পাকস্থলীতে অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে।

মলটেজ: ক্লোরিনের উপস্থিতিতে মলটেজ এনজাইম সামান্য পরিমাণ মলটোজের উপর ক্রিয়া করে গ্লুকোজে পরিণত করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ধানের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
  1. Mangifera indica
  2. Ficus benghalensis
  3. Oryza sativa
  4. Nymphaea nouchali
ব্যাখ্যা

• দ্বিপদ নামকরণ:
-দু'টি পদ নিয়ে গঠিত কোন জীব-প্রজাতির নামকে বলা হয় দ্বিপদ নাম এবং দু'টি পদের সমন্বয়ে নাম দেয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় দ্বিপদ নামকরণ।
- দ্বিপদ নামকরণের প্রবর্তক হলেন সুইডিশ জীববিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস।
- উদ্ভিদ প্রজাতির (শৈবাল ও ছত্রাক সহ) নামকরণ করা হয়ে থাকে ICBN (International Code of Botanical Nomenclature বর্তমানে ICN = International Code of Botanical Nomenclature for Algae, Fungi & Plants) -এর নীতিমালা অনুযায়ী এবং প্রাণী প্রজাতির নামকরণ করা হয় ICZN (International Code of Zoological Nomenclature)-এর নীতিমালা অনুযায়ী।

• বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম:
- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens
- দোয়েল পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Copsychus saularis
- বাঘ (রয়েল বেঙ্গল) এর বৈজ্ঞানিক নাম Panthera tigris
- আম গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica
- বট গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Ficus benghalensis
- কুনোব্যাঙ এর বৈজ্ঞানিক নাম Bufo melanostictus
- ইলিশ মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa ilisha
- ধানের বৈজ্ঞানিক নাম Oryza sativa
- শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম Nymphaea nouchali

উৎস: ১) জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, 
২) জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

.
নিচের কোনটি মানবদেহে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করে?
  1. লোহিত রক্তকণিকা
  2. শ্বেত রক্তকণিকা 
  3. অণুচক্রিকা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• রক্তের উপাদান:
- রক্ত এক প্রকার যোজক কলা। এর অন্তঃকোষ মাধ্যমটি তরল, হলুদ বর্ণের জলীয় পদার্থ দ্বারা গঠিত। এ তরল পদার্থকে প্লাজমা বা রক্তরস বলে। এ প্লাজমার মধ্যে রক্তকণিকাগুলো ভাসমান অবস্থায় থাকে।
- রক্তের দু'টি উপাদান- (১) রক্তরস এবং (২) রক্ত কণিকা। সমগ্র রক্তের ৫৫% রক্তরস এবং বাকি ৪৫% রক্তকণিকা। রক্ত কণিকা প্রধানত তিন ধরনের, যথা- লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অণুচক্রিকা।

• লোহিত রক্তকণিকা:
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্ত কণিকা দ্বি-অবতল, চাকতি আকৃতির এবং নিউক্লিয়াস বিহীন। এতে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে লাল বর্ণের হয়। এজন্য এদের Red Blood Cell বা RBC বলে।
- লোহিত কণিকা প্রকৃতপক্ষে হিমোগ্লোবিন ভর্তি ভাসমান ব্যাগ এবং চ্যাপ্টা আকৃতির। এ কারণে লোহিত কণিকা তার আকারের পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহনে সক্ষম।
- লোহিত কণিকাগুলোর বিভাজন হয় না। এ কণিকাগুলো সার্বক্ষণিক অস্থিমজ্জার ভেতরে উৎপন্ন হয় এবং রক্তরসে চলে আসে। - মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন।
- অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর ক্ষেত্রে লোহিত কণিকা প্লিহা-তে সঞ্চিত থাকে। তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে এখান থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।
- আমাদের জীবনের প্রতি মুহূর্তে লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস হয় আবার সমপরিমাণ তৈরি হয়।

• শ্বেত রক্তকণিকা:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন। হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে। ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে।
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম। এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে।
- ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে দেহে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করে।
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত কণিকার সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে। মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে। শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়।
- রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। শ্বেত কণিকাগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে।

• অণুচক্রিকা:
- এদেরকে প্লাটিলেট (Platelet) বলে। অণুচিক্রকা আকারে ছোট, বর্তুলাকার ও বর্ণহীন। এরা গুচ্ছাকারে থাকে।
- অস্থিমজ্জার মধ্যে অণুচক্রিকা উৎপন্ন হয়। অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন। পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ।
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। কোন রক্তবাহী নালির ক্ষতি হলে এরা অনতিবিলম্বে থ্রোম্বোপ্লাষ্টিন নামক এক প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য নিঃসরণ করে। যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
নিচের কোনটি শ্বাসনালির রোগ?
  1. পারকিনসন
  2. এপিলেপসি
  3. নিউমোনিয়া
  4. স্ট্রোক
ব্যাখ্যা

• শ্বাসনালি-সংক্রান্ত রোগ
- ফুসফুস শ্বসনতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে অনেক সময় এ অঙ্গটি নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। - - বায়ুদূষণ, বিভিন্ন প্রকার ভাসমান কণা এবং রাসায়নিকের প্রভাবেও ফুসফুস অসুস্থ হতে পারে।
- অনেক সময় অজ্ঞতা ও অসাবধানতার কারণে ফুসফুসে নানা জটিল রোগ দেখা দেয় এবং সংক্রমণ ঘটে।
- ফুসফুসের সাধারণ রোগগুলোর কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সাবধানতাগুলো জানা থাকলে অনেক জটিল সমস্যা এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও অনেকাংশে কমানো যায়।
- অ্যাজমা বা হাঁপানি, যক্ষ্মা, ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার হচ্ছে শ্বাসনালির রোগ।

• নিউমোনিয়া:
- নিউমোনিয়া একটি ফুসফুসের রোগ।
- অত্যধিক ঠান্ডা লাগলে এ রোগ হতে পারে। হাম ও ব্রংকাইটিস রোগের পর ঠান্ডা লেগে নিউমোনিয়া হতে দেখা যায়।
- শিশু এবং বয়স্কদের জন্য এটি একটি মারাত্মক রোগ।

কারণ:
নিউমোকক্কাস (Pneumococcus) নামক ব্যাকটেরিয়া এ রোগের অন্যতম কারণ। এছাড়া আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের আক্রমণে নিউমোনিয়া হতে পারে। এমনকি বিষম খেয়ে খাদ্যনালির রস শ্বাসনালিতে ঢুকলে সেখান থেকেও নিউমোনিয়া হতে পারে।

লক্ষণ:
- ফুসফুসে শ্লেষ্মা-জাতীয় তরল পদার্থ জমে কফ সৃষ্টি হয়।
- কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়।
- দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ বেশি জ্বর হয়।
- চূড়ান্ত পর্যায়ে বুকের মধ্যে ঘড়ঘড় আওয়াজ হয়, মারাত্মক শ্বাসকষ্ট হয়।

প্রতিকার:
- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
- তরল ও গরম পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো।
- বেশি করে পানি পান করানো।

প্রতিরোধ:
- শিশু ও বয়স্কদের যেন ঠান্ডা না লাগে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা।
- ধূমপান পরিহার করা।
- আলো-বাতাসপূর্ণ গৃহে বসবাস করা।
- রোগীকে সহনীয় উষ্ণতায় ও শুষ্ক পরিবেশে রাখা।

- অপরদিকে পারকিনসন, এপিলেপসি ও স্ট্রোক হলো স্নায়ুবিক রোগ।

উৎস: জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।

.
অস্টিয়া কোন পর্বের প্রাণীদের দেহপ্রাচীরে দেখা যায়?
  1. পরিফেরা
  2. নিডারিয়া
  3. নেমাটোডা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• পরিফেরা:
- প্রাণী বিবর্তনের প্রথম ধাপ হিসেবে এ পর্বের প্রাণিদের চিহ্নিত করা হয়।
- দেহে অসংখ্য ছিদ্র থাকায় এদের ছিদ্রাল প্রাণীও বলা হয়।
- এই পর্বের সদস্যদেরকে সাধারণভাবে স্পঞ্জ নামে অভিহিত করা হয়। ১৮৩৬ সালে Grant সর্বপ্রথম এই পর্বটির নামকরণ করেন। 
- এ পর্যন্ত পাঁচ হাজারের অধিক প্রজাতির সন্ধান পওয়া গেছে।
- এদের কিছু প্রজাতি মিঠাপানির, অন্যরা সকলেই সামুদ্রিক। এই পর্বের প্রাণীরা পানির তলদেশে বা ভাসমান কোন বস্তুর সাথে সংলগ্ন থাকে।

বৈশিষ্ট্য:
- এদের দেহ কোষ দুই স্তরে বিন্যস্ত। এরা সরলতম বহুকোষী প্রাণী।
- এদের দেহপ্রাচীর অস্টিয়া নামক অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত।
- এদের দেহে বিশেষ ধরনের নালীতন্ত্র বিদ্যমান, এর সাহায্যে অভ্যন্তরীণ পরিবহন ঘটে।
- এই পর্বের প্রাণীদের কোন অঙ্গ নেই ফলে এরা চলতে পারে না।
- এদের পরিপাক অন্তঃকোষীয়।
- এদের অন্তঃকঙ্কাল স্পিকিউল বা ফাইব্রাস নামক প্রোটিনে তৈরি স্পঞ্জিন সমন্বয়ে গঠিত।

উৎস: ১)জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ডায়ালাইসিস কিসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. যকৃত
  2. বৃক্ক
  3. হৃদপিণ্ড
  4. স্নায়ু
ব্যাখ্যা

• বৃক্ক: 
- মানবদেহের উদরগহ্বরের পেছনের অংশে, মেরুদণ্ডের দুদিকে বক্ষপিঞ্জরের নিচে পিঠ-সংলগ্ন অবস্থায় দুটি বৃক্ক অবস্থান করে।
- প্রতিটি বৃক্ক দেখতে শিমবীজের মতো এবং এর রং লালচে হয়।
- বৃক্কের বাইরের পার্শ্ব উত্তল এবং ভিতরের পার্শ্ব অবতল হয়। অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাস বা হাইলাম বলে। হাইলামের ভিতর থেকে ইউরেটার এবং রেনাল শিরা বের হয় এবং রেনাল ধমনি বৃক্কে প্রবেশ করে। দুটি বৃক্ক থেকে দুটি ইউরেটার বের হয়ে মূত্রাশয়ে প্রবেশ করে। ইউরেটারের ফানেল আকৃতির প্রশস্ত অংশকে রেনাল পেলভিস বলে।
- বৃক্ক সম্পূর্ণরূপে এক ধরনের তনুময় আবরণ দিয়ে বেষ্টিত থাকে, একে রেনাল ক্যাপসুল বলে।
- ক্যাপসুল-সংলগ্ন অংশকে কর্টেক্স এবং ভেতরের অংশকে মেডুলা বলে। উভয় অঞ্চলই যোজক কলা এবং রক্তবাহী নালি দিয়ে গঠিত। - মেডুলায় সাধারণত ৮-১২ টি রেনাল পিরামিড থাকে। এদের অগ্রভাগকে রেনাল প্যাপিলা বলে। এসব প্যাপিলা সরাসরি পেলভিসে উন্মুক্ত হয়।
- প্রতিটি বৃক্কে বিশেষ এক ধরনের নালিকা থাকে, যাকে ইউরিনিফেরাস নালিকা বলে। প্রতিটি ইউরিনিফেরাস নালিকা নেফ্রন এবং সংগ্রাহক বা সংগ্রাহী নালিকা (Collecting tubule)-এই দু'টি প্রধান অংশে বিভক্ত। নেফ্রন মূত্র তৈরি করে আর সংগ্রাহী নালিকা রেনাল পেলভিসে মূত্র বহন করে।
- বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যকরী একক হলো নেফ্রন। প্রতিটি বৃক্কে প্রায় ১০ থেকে ১৫ লক্ষ নেফ্রন থাকে।

• বৃক্ক বিকল:
- নেফ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনিতে পাথর ইত্যাদি কারণে কিডনি ধীরে ধীরে বিকল হয়ে যায়। আকস্মিক কিডনি অকেজো বা বিকল হওয়ার কারণগুলো হলো কিছু ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ইত্যাদি।
- কিডনি বিকল হলে মূত্রের পরিমাণ কমে যাবে। রক্তে ক্রিয়েটিনিন বৃদ্ধি পাবে। তখন রক্তের বর্জ্য দ্রব্যাদি অপসারণের জন্য নির্দিষ্ট সময় পর পর রোগীকে ডায়ালাইসিস করা হয়।

• ডায়ালাইসিস:
- বৃক্ক সম্পূর্ণ অকেজো বা বিকল হওয়ার পর বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ত পরিশোধন করার নাম ডায়ালাইসিস।
- সাধারণত 'ডায়ালাইসিস মেশিনের' সাহায্যে রক্ত পরিশোধন করা হয়। এ মেশিনের ডায়ালাইসিস টিউবটির এক প্রান্ত রোগীর হাতের কব্জির ধমনির সাথে এবং অন্য প্রান্ত ঐ হাতের কব্জির শিরার সাথে সংযোজন করা হয়। ধমনি থেকে রক্ত ডায়ালাইসিস টিউবের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করানো হয়। এর প্রাচীর আংশিক বৈষম্যভেদ্য হওয়ায় ইউরিয়া, ইউরিক এসিড এবং অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ বাইরে বেরিয়ে আসে। পরিশোধিত রক্ত রোগীর দেহের শিরার মধ্য দিয়ে দেহের ভেতর পুনরায় প্রবেশ করে।
- ডায়ালাইসিস টিউবটি এমন একটি তরলের মধ্যে ডুবানো থাকে, যার গঠন রক্তের প্লাজমার অনুরূপ হয়। এভাবে ডায়ালাইসিস মেশিনের সাহায্যে নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ (ইউরিয়া এবং অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ) বাইরে নিষ্কাশিত হয়। তবে এটি একটি ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।

• প্রতিস্থাপন:
- যখন কোনো ব্যক্তির কিডনি বিকল বা অকেজো হয়ে পড়ে তখন কোনো সুস্থ ব্যক্তির কিডনি তার দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়। এই প্রক্রিয়াকে কিডনি সংযোজন বলে। 
- কিডনি সংযোজন দুভাবে করা যায়: কোনো নিকট আত্মীয়ের কিডনি অথবা কোনো মৃত ব্যক্তির কিডনি রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়। 

উৎস: জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।

১০.
কানের পিনা হচ্ছে -
  1. তরুণাস্থি
  2. অস্থি
  3. অস্থিসন্ধি
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• অস্থি (Bone):
- অস্থি যোজক কলার রূপান্তরিত রূপ। এটি দেহের সবচেয়ে দৃঢ় কলা।
- অস্থির মাতৃকা বা আন্তঃকোষীয় পদার্থ এক ধরনের জৈব পদার্থ দিয়ে গঠিত। মাতৃকার মধ্যে অস্থিকোষগুলো ছড়ানো থাকে।
- একদিকে অস্থির পুরাতন অংশ ক্ষয় হতে থাকে এবং অন্যদিকে অস্থির মধ্যে নতুন অংশ গঠন হতে থাকে। এই ভারসাম্য নষ্ট হলে অস্থির বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়। বয়স বাড়লে অবশ্য এমনিতেই ভারসাম্যটি হাড় ক্ষয়ের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে।
- অস্থি মূলত ফসফরাস, সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের বিভিন্ন যৌগ দিয়ে তৈরি। এছাড়া অস্থিতে প্রায় 40-50 ভাগ পানি থাকে।  

• তরুণাস্থি (Cartilage):

- তরুণাস্থি অস্থির মতো শক্ত নয়। এগুলো অপেক্ষাকৃত নরম এবং স্থিতিস্থাপক। এটি যোজক কলার ভিন্নরূপ।
- এর কোষগুলো একক বা জোড়ায় জোড়ায় খুব ঘনভাবে স্থিতিস্থাপক মাতৃকাতে বিস্তৃত থাকে।
- তরুণাস্থি কোষগুলো থেকে কন্ড্রিন নামক এক ধরনের শক্ত, ঈষদচ্ছ রাসায়নিক বস্তু বের হয়। 
- সব তরুণাস্থি একটি তন্তুময় যোজক কলা নির্মিত আবরণী দিয়ে পরিবেষ্টিত থাকে, একে পেরিকন্ড্রিয়াম বলে। এই আবরণটি দেখতে চকচকে সাদা, তাই আমরা সাধারণত তরুণাস্থিকে সাদা, নীলাভ এবং চকচকে দেখতে পাই।
- আমাদের দেহে কয়েক রকম তরুণাস্থি আছে (যেমন কানের পিনার তরুণাস্থি)। তরুণাস্থি বিভিন্ন অস্থির সংযোগস্থলে, কিংবা অস্থির কিছু অংশে উপস্থিত থাকে।

• অস্থিসন্ধি (Joint):
- দুই বা ততোধিক অস্থির সংযোগস্থলকে অস্থিসন্ধি বলে।
- প্রতিটি অস্থিসন্ধির অস্থিগুলো একরকম স্থিতিস্থাপক রজ্জুর মতো বন্ধনী দিয়ে দৃঢ়ভাবে আটকানো থাকে, ফলে অস্থিগুলো সহজে সন্ধিস্থল থেকে বিচ্যুত হতে পারে না।
- সন্ধিস্থল বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালনে সাহায্য করে।

উৎস: জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।

১১.
মেরুরজ্জু থেকে কয় জোড়া মেরুরজ্জীয় স্নায়ু (Spinal nerves) বের হয়?
  1. ১১ জোড়া
  2. ২৩ জোড়া
  3. ৩১ জোড়া
  4. ৪৬ জোড়া
ব্যাখ্যা

• মেরুরজ্জু (Spinal cord):
- মেরুরজ্জু স্নায়ুতন্ত্রের অংশ। 
- মেরুরজ্জু করোটির পেছনে অবস্থিত ফোরামেন ম্যাগনাম (Foramen magnum) নামক ছিদ্র থেকে কটিদেশের কশেরুকা পর্যন্ত বিস্তৃত।
- মেরুরজ্জু বা সুষুম্না কাণ্ড মেরুদণ্ডের কশেরুকার ভেতরের ছিদ্রপথে সুরক্ষিত থাকে।
- মেরুরজ্জুতে শ্বেত পদার্থ এবং ধূসর পদার্থ থাকে। তবে এদের অবস্থান মস্তিষ্কের ঠিক উল্টো। অর্থাৎ শ্বেত পদার্থ থাকে বাইরে আর ভিতরে থাকে ধূসর পদার্থ।
- দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী ছিদ্র দিয়ে মেরুরজ্জু থেকে ৩১ জোড়া মেরুরজ্জীয় স্নায়ু (Spinal nerves) বের হয়। এসব ঘাড়, গলা, বুক, পিঠ, হাত ও পায়ের স্নায়ু। এসব স্নায়ু মিশ্র প্রকৃতির।
- মেরুরজ্জীয় স্নায়ুগুলো শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে সংকেত আদান-প্রদান করে।
- এই স্নায়ুগুলো ৮ জোড়া সারভিকাল, ১২ জোড়া থোরাসিক , ৫ জোড়া লাম্বার , ৫ জোড়া স্যাক্রাল এবং ১ জোড়া কক্সিজিয়াল স্নায়ু নিয়ে গঠিত। 

উৎস: জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।

১২.
নিচের কোনটি স্তন্যপায়ী প্রাণি?
  1. ব্যাঙ
  2. দোয়েল
  3. শুশুক
  4. কুমির
ব্যাখ্যা

• স্তন্যপায়ী (Mammalia):
- এরা কর্ডাটা পর্বের ভারটেব্রাটা উপপর্বের প্রাণি।
- বিবর্তনের দিক থেকে স্তন্যপায়ী (Mammalia) সবচেয়ে আধুনিক প্রাণি।
- স্তন্যপায়ী প্রাণিরা সন্তান প্রসব করে (ব্যতিক্রম প্লাটিপ্লাস)। 
- মানুষও এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত প্রাণি।
- তিমি, ডলফিন, শুশুক হলো সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণি। 

বৈশিষ্ট্য-
১। দেহ এপিডার্মাল লোম দ্বারা আবৃত থাকে।
২। পরিণত স্ত্রী প্রাণীর কার্যকরী স্তন গ্রন্থি (mammary gland) থেকে ক্ষরিত মাতৃদুগ্ধে নবজাতক লালিত হয়।
৩। উষ্ণ রক্তের প্রাণি।
৪। বহিঃকর্ণে পিনা ও মধ্য কর্ণে তিনটি ক্ষুদ্রান্থি থাকে।
৫। হৃদপিণ্ড সম্পূর্ণভাবে চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট।
উদাহরণ- মানুষ, উট, বাঘ, তিমি, ডলফিন, শুশুক ইত্যাদি। 

অপরদিকে বাকি ৩ টি অপশনের মধ্যে,
- ব্যাঙ হচ্ছে উভচর শ্রেণির প্রাণি।
- দোয়েল হচ্ছে পক্ষীকূল (Aves) শ্রেণির প্রাণি।
- কুমির হচ্ছে সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
মানবদেহের প্রধান হরমোন উৎপাদনকারী গ্রন্থি কোনটি?
  1. পিটুইটারি গ্রন্থি
  2. থাইরয়েড গ্রন্থি
  3. প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি
  4. থাইমাস গ্রন্থি
ব্যাখ্যা

• হরমোন:
- মানুষ এবং বিভিন্ন প্রাণীর দেহে একধরনের বিশেষ নালিবিহীন গ্রন্থি থাকে। এসব গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রস রক্তের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে দেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। নালিবিহীন গ্রন্থি নিঃসৃত এ ধরনের রসকে হরমোন বলে।
- হরমোন পরিবহণের জন্য পৃথক কোনো নালি নেই। হরমোন রক্তস্রোতের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যকোষে পৌঁছে কোষের প্রাণরাসায়নিক কার্যকলাপকে প্রভাবিত করে, জৈবিক কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে।
- সুস্থ দেহের চাহিদা অনুসারে গ্রন্থি থেকে অবিরত ধারায় হরমোন নিঃসৃত হয়। তবে প্রয়োজন অপেক্ষা কম অথবা বেশি পরিমাণ হরমোন নিঃসৃত হলে শরীরে নানারকম অবাঞ্ছিত প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

•মানবদেহের কয়েকটি মুখ্য নালিবিহীন গ্রন্থির (অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি) পরিচিতি, কাজ ও নিঃসৃত হরমোন:

পিটুইটারি গ্রন্থি: 
- পিটুইটারি গ্রন্থি বা হাইপোফাইসিস মস্তিষ্কের নিচের অংশে অবস্থিত।
- এটি মানবদেহের প্রধান হরমোন উৎপাদনকারী গ্রন্থি। কারণ একদিকে পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন সংখ্যায় যেমন বেশি, অপরদিকে অন্যান্য গ্রন্থির উপর এসব হরমোনের প্রভাবও বেশি।
- দেহের সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নালিবিহীন গ্রন্থি হলেও এটি আকারে সবচেয়ে ছোট।
- এই গ্রন্থি থেকে গোনাডোট্রপিক, সোমাটোট্রপিক, থাইরয়েড উদ্দীপক হরমোন (TSH) ইত্যাদি হরমোন নিঃসৃত হয়।
- এটি অন্যান্য গ্রন্থিকে প্রভাবিত করা ছাড়াও মানবদেহের বৃদ্ধির হরমোন নির্গত করে।

থাইরয়েড গ্রন্থি: 
- থাইরয়েড গ্রন্থি গলায় ট্রাকিয়ার উপরের অংশে অবস্থিত।
- এই গ্রন্থি থেকে প্রধানত থাইরক্সিন হরমোন নিঃসরণ হয়। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন থাইরক্সিন (Thyroxine) সাধারণত মানবদেহে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- থাইরয়েডের আরেকটি হরমোন ক্যালসিটোনিন (calcitonin) ক্যালসিয়াম বিপাকের সাথে জড়িত।

প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি: 
একজন মানুষের সাধারণত চারটি প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি থাকে, যার সবগুলোই থাইরয়েড গ্রন্থির পিছনে অবস্থিত।ঃ
- এই গ্রন্থি হতে নিঃসৃত প্যারাথরমোন (Parathormone) মূলত ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসের বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।

থাইমাস গ্রন্থি:
- থাইমাস গ্রন্থি গ্রীবা অঞ্চলে অবস্থিত। থাইমাস গ্রন্থি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিকাশে সাহায্য করে।
- শিশুকালে এই গ্রন্থি বিকশিত থাকে পরে বয়োবৃদ্ধির সাথে সাথে ছোট হয়ে যায়।
- এই গ্রন্থি থেকে থাইমোসিন হরমোন নিঃসরণ হয়।
- পূর্ণবয়স্ক মানুষে সাধারণত এই হরমোন থাকে না, থাকলেও খুবই নিম্ন মাত্রায়।

উৎস: জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।

১৪.
স্নায়ুতন্ত্রের গঠন এবং কার্যক্রমের একক কোনটি?
  1. নেফ্রন
  2. নিউরন
  3. সাইন্যাপস
  4. নিউরোগ্লিয়া
ব্যাখ্যা

• স্নায়ুকলা (Nervous tissue):
- যে কলা দেহের সব ধরনের সংবেদন ও উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং তা পরিবহণের মাধ্যমে উদ্দীপনা অনুসারে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করে, সেটাই স্নায়ুটিস্যু বা স্নায়ুকলা। 
- বহুসংখ্যক স্নায়ুকোষ বা নিউরনের সমন্বয়ে স্নায়ুটিস্যু গঠিত।
- নিউরনই স্নায়ুতন্ত্রের গঠন এবং কার্যক্রমের একক।

• নিউরনের গঠন:
- প্রতিটি নিউরন দুটি অংশ নিয়ে গঠিত-কোষদেহ এবং প্রলম্বিত অংশ।

কোষদেহ (Cell body): প্লাজমামেমব্রেন, সাইটোপ্লাজম আর নিউক্লিয়াস নিয়ে গঠিত নিউরনের গোলাকার, তারকাকার, অথবা ডিম্বাকার অংশ কোষদেহ নামে পরিচিত। এখানে সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজিবস্তু, লাইসোজোম, চর্বি, গ্লাইকোজেন, রঞ্জক কণাসহ অসংখ্য নিসল দানা থাকে।

প্রলম্বিত অংশ:
- কোষদেহ থেকে সৃষ্ট শাখা-প্রশাখাকেই প্রলম্বিত অংশ বলে। প্রলম্বিত অংশ দুধরনের:

(i) ডেনড্রন: কোষদেহের চারদিকের শাখাযুক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রলম্বিত অংশকে ডেনড্রন বলে। ডেনড্রন থেকে যে শাখা বের হয় তাদের ডেনড্রাইট বলে। একটি নিউরনে ডেনড্রন সংখ্যা শূন্য থেকে শতাধিক পর্যন্ত হতে পারে। ডেনড্রাইট অন্য নিউরন থেকে স্নায়ু তাড়না গ্রহণ করে।

(ii) অ্যাক্সন (Axon): কোষদেহ থেকে উৎপন্ন বেশ লম্বা তন্তুর নাম অ্যাক্সন। এর চারদিকে পাতলা আবরণটিকে নিউরিলেমা বলে। নিউরিলেমা এবং অ্যাক্সনের মধ্যবর্তী অঞ্চলে স্নেহ পদার্থের একটি স্তর থাকে। একে মায়েলিন (Myelin) বলে।  

অপরদিকে,
- বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যকারী একক হচ্ছে নেফ্রন।
- সাইন্যাপস হলো দুটি নিউরন বা একটি নিউরন ও অন্য কোনো কোষের (যেমন পেশী কোষ) সংযোগস্থল, যেখানে একটি নিউরন থেকে পরবর্তী কোষে স্নায়ু সংকেত বা তথ্য রাসায়নিক বা বৈদ্যুতিক উপায়ে প্রবাহিত হয়।
- নিউরোগ্লিয়া হলো স্নায়ুতন্ত্রের সহায়ক কোষ, যা নিউরনকে (স্নায়ুকোষ) ধরে রাখে, পুষ্টি যোগায়, সুরক্ষা দেয় এবং স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করে।

উৎস: ১) জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।
২) EBSCO Link

১৫.
জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় আলোচনা করা হয়?
  1. ট্যাক্সোনমি
  2. সাইটোলজি
  3. হিস্টোলজি
  4. মরফোলজি
ব্যাখ্যা

- ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। এতে সাধারণত নিচে উল্লিখিত বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়:

 • অঙ্গসংস্থান (Morphology): জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বা দৈহিক গঠন বর্ণনা এ শাখার
আলোচ্য বিষয়। দেহের বাহ্যিক বর্ণনার বিষয়কে বহিঃ অঙ্গসংস্থান (External Morphology) এবং দেহের অভ্যন্তরীণ বর্ণনার বিষয়কে অন্তঃ অঙ্গসংস্থান (Internal Morphology) বলা হয়।

• শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা বা ট্যাক্সোনমি (Taxonomy): জীবের শ্রেণিবিন্যাস এবং তার রীতিনীতিগুলো এ শাখার আলোচ্য বিষয়।

•  শারীরবিদ্যা (Physiology): জীবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জৈবরাসায়নিক কার্যাদি, যেমন: শ্বসন, রেচন, সালোকসংশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয় এ শাখায় আলোচনা করা হয়। এছাড়া জীবের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজের বিবরণ এ শাখায় পাওয়া যায়।

হিস্টোলজি (Histology): জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

• ভূণবিদ্যা (Embryology): জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা এ শাখার প্রধান বিষয়।

• কোষবিদ্যা (Cytology): জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়।

• বংশগতিবিদ্যা (Genetics): জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

• বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা এ শাখার বিষয়।

• বাস্তুবিদ্যা (Ecology): এ শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

উৎস: জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।

১৬.
শিখা কোষ কোন প্রাণীতে দেখা যায়?
  1. জেলিফিশ
  2. ফিতা কৃমি
  3. গোল কৃমি
  4. হাইড্রা
ব্যাখ্যা

শিখা কোষ ফিতা কৃমিতে দেখা যায়।

প্লাটিহেলমিনথিস:
- গ্রিক শব্দ platys (= চ্যাপ্টা) এবং helminthes (= কৃমি) থেকে Platyhelminthes শব্দের উৎপত্তি।
- Gegenbaur, ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ফিতাকৃমির জন্য এ নামটি প্রস্তাব করেন। বর্তমানে প্লাটিহেলমিনথিস পর্বের প্রাণীরা সাধারণভাবে চ্যাপ্টাকৃমি নামে পরিচিত।

বৈশিষ্ট্য:
- দেহ নরম, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম এবং পৃষ্ঠ- অঙ্কীয় তল বরাবর চ্যাপ্টা।
- এরা ট্রিপলোব্লাস্টিক অর্থাৎ তিনটি কোষীয় স্তরে বিন্যস্ত থাকে।
- সকল প্রাণী সিলোমবিহীন।
- পৌষ্টিকতন্ত্র অসম্পূর্ণ।
- শিখা কোষ নামক প্রোটোনেফ্রিডিয়া সমন্বয়ে রেচনতন্ত্র গঠিত।
- অধিকাংশ উভলিঙ্গী।

- গোল কৃমি হলো নেমাটোডা পর্বের অন্তর্ভুক্ত।
- জেলিফিশ ও হাইড্রা হলো নিডারিয়া পর্বের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
উভচর প্রাণীর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে - 
  1. জীবন চক্রে সাধারণত ব্যাঙ্গাচি দশা দেখা যায়
  2. পানিতে ফুলকার সাহায্যে ও স্থলে ফুসফুসের সাহায্যে শ্বসন চালায়
  3. হৃদপিণ্ড তিন প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• উভচর (Amphibia):
- এরা কর্ডাটা পর্বের ভারটেব্রাটা উপপর্বের প্রাণি।
- (গ্রীক amphi= উভয়, bios= জীবন)- এ শ্রেণির প্রাণিরা প্রথম স্থলচর মেরুদণ্ডী।
- মূলত স্থলচর হলেও জননকালে ডিম পাড়তে এরা পানিতে আসতে বাধ্য হয়।
- এরা পরিণত বয়সে ডাঙ্গায় বাস করে।
- মেরু অঞ্চলসহ পৃথিবীর প্রায় সব বসবাসযোগ্য স্থানে উভচর পাওয়া যায়। 

বৈশিষ্ট্য-
১। দেহ মস্তক, গ্রীবা ও দেহ কাণ্ডে বিভক্ত।
২। দেহত্বক সাধারণত আঁইশবিহীন, নরম, আর্দ্র ও গ্রন্থিযুক্ত।
৩। পানিতে ফুলকার সাহায্যে ও স্থলে ফুসফুসের সাহায্যে শ্বসন চালায়।
৪। হৃদপিণ্ড তিন প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট। এতে সাইনাস ভেনোসাস বিদ্যমান।
৫। শীতল রক্তের প্রাণি।
৬। জীবন চক্রে সাধারণত ব্যাঙ্গাচি দশা দেখা যায়।
উদাহরণ- সোনাব্যাঙ, কুনোব্যাঙ।

উৎস: ১) জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২) National Geographic. Link