পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস জব সল্যুশন

পরীক্ষাBJS & BARতারিখ২০ অক্টোবর, ২০২৩সময়55 minutes৯৯ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন১০০
সিলেবাস
বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষা-২০২২
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস জব সল্যুশন

BJS & BAR · ২০ অক্টোবর, ২০২৩ · ১০০ প্রশ্ন

.
দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমা অর্থ এমন মোকদ্দমা যেখানে ___________সংশ্লিষ্ট স্বার্থ জড়িত থাকে।
  1. সম্পত্তি বা অফিস
  2. সম্পত্তি ও অফিস
  3. শুধু সম্পত্তি
  4. শুধু অফিস
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৯ ধারার ব্যাখ্যাতে বলা আছেঃ  যে মোকদ্দমায় সম্পত্তি বা পদের অধিকার সম্পর্কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় সে মোকদ্দমা দেওয়ানি প্রকৃতির, যদিও উচ্চ অধিকার সম্পূর্ণরূপে ধর্মীয় আচার বা উৎসব সম্পর্কিত প্রশ্নের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করতে পারে।

♦ দেওয়ানি আদালতের সকল দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমা বিচার করার এখতিয়ার আছে, মোকদ্দম প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিচারার্থে গ্রহণ বারিত করা হয়েছে সে সকল মোকদ্দমা বিচার করার এখতিয়ার দেওয়ানি আদালতের নেই।

♦ যে বিষয়সমূহকে দেওয়ানি প্রকৃতির মনে করা হয়-
১) সম্পত্তির অধিকার (right to property) বা
২) পদের অধিকার (right to office)
.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর ________ ধারা একই বিচার্য বিষয় নিয়ে একই পক্ষগণের মধ্যে একাধিক বিচারকার্য নিষিদ্ধ করে।
  1. ১০
  2. ১১
  3. ১৫
  4. ১৫১
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ১১ তে রেস জুডিকাটার (res judicata) বিধান আছে।  দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ ধারার বিধান অনুযায়ী কোন বিষয়ে একবার আদালত সিদ্ধান্ত দিলে ঐ বিষয় নিয়ে একই পক্ষদ্বয়ের মাঝে পুনরায় মামলা করা যায় না । 

♦ একই ব্যক্তিগণের মধ্যে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়া বিষয় নিয়ে পুনরায় নতুন মামলা করা যায় না। অর্থাৎ মোকদ্দমার পক্ষদ্বয়ের মাঝে চূড়ান্তভাবে কোন বিষয় নিষ্পত্তি হলে ঐ একই বিষয় নিয়ে একই পক্ষদ্বয়ের মাঝে পরবর্তীতে পুনরায় নতুন করে কোন মামলা করা যাবে না। এই নীতিকেই রেস জুডিকাটা বা দোবারা দোষ বলে।
.
প্রত্যেক মোকদ্দমা দাখিল করতে হবে বিচার এখতিয়ারসম্পন্ন _______পর্যায়ের আদালতে।
  1. জেলা জজ নির্ধারিত
  2. সর্বোচ্চ
  3. সর্বনিম্ন
  4. যে-কোনো
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫ ধারার বিধান হল যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে। এই ধারা  অনুযায়ী  প্রত্যেকটি মোকদ্দমা তা বিচার করার এখতিয়ারসম্পন্ন সর্বনিম্ন আদালতে দায়ের করতে হবে।
.
The Code of Civil Procedure, 1908 এ ‘প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা দায়েরের ধারণা পাওয়া যায় _________
  1. Order 1, rule 8
  2. Order 1, rule 13
  3. Order 5, rule 7
  4. Order 6, rule 3
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১ বিধি-৮  মতে একই ব্যক্তি একই স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকলের পক্ষে মোকদ্দমা করতে বা আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারে (One person may sue or defend on behalf of all in same interest)।

♦ যেক্ষেত্রে কোন মোকদ্দমায় বহু সংখ্যক লোকের একই স্বার্থ থাকে, সেক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নিয়ে এরূপ এক বা একাধিক ব্যক্তি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তির পক্ষে মোকদ্দমা দায়ের করতে বা মোকদ্দমায় বিবাদী হতে পারে।

♦ এক্ষেত্রে আদালত বাদীর খরচে স্বার্থসংশ্লিষ্ট সকলকে ব্যক্তিগত জারির মাধ্যমে নোটিশ দিবেন। স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অধিক হলে এভাবে নোটিশ জারি যুক্তিসঙ্গত হবে না। তখন গণ বিজ্ঞপ্তি দেয়া যাবে।
.
নিচের কোন আইনটি 'Procedural Law'?
  1. The Limitation Act, 1908
  2. The Evidence Act, 1872
  3. The Specific Relief Act, 1877
  4. The Code of Civil Procedure, 1908
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি হওয়া উচিৎ ছিল - নিচের কোন আইনটি 'Procedural Law' নয়?
তাহলে সঠিক উত্তর হতো - গ) The Specific Relief Act, 1877.

প্রশ্ন অনুসারে অপশনে তিনটি সঠিক উত্তর থাকায় প্রশ্নটির উত্তর তুলে দেয়া হয়েছে।
=====================
♦ যে আইনে কোন মোকদ্দমা বা মামলার বিচার করার পদ্ধতি অর্থাৎ মামলা দায়ের থেকে শুরু করে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা পর্যন্ত যে সকল আইনী প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি অনুসরণ করে বিচার করতে হয়, সেই প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি বা নিয়ম যে আইনে উল্লেখ থাকে সেই নিয়ম সংশ্লিষ্ট আইনকে পদ্ধতিগত আইন [Procedural Law or Adjective Law) বলেযেমন ফৌজদারী কার্যবিধি, দেওয়ানী কার্যবিধি, তামাদি আইন ইত্যাদি। Procedural Law এবং Adjective Law উভয় পদ্ধতিগত আইন বোঝাতে ব্যবহার করা হয়।

♦ যে আইন কোন অধিকারকে সংজ্ঞায়িত করে, সৃষ্টি করে এবং অর্পণ করে বা কোন শাস্তিকে সংজ্ঞায়িত করে এবং দায় আরোপ করে সেই আইনকে তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন [Substantive Law] বলে। যেমন: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, দণ্ডবিধি ইত্যাদি। দণ্ডবিধিতে বিভিন্ন অপরাধকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, উক্ত অপরাধের শাস্তি উল্লেখ করা হয়েছে। এই কারণে এটা তত্ত্বগত আইন।
.
The Code of Civil Procedure, 1908 অনুযায়ী 'Review' এর দরখাস্ত মনঞ্জুর হলে তার বিরুদ্ধে প্রতিকার কী?
  1. রিভিশন
  2. আপিল
  3. রেফারেন্স
  4. কোনো প্রতিকার নেই
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির ১০৪ ধারায় ও ৪৩ আদেশে  "আদেশ হতে আপীল" এর বিধান আছে । এইখানে বলা আছে ৪৭ আদেশের ৪ বিধির আধিনে রিভিউ আবেদন বা দরখাস্ত মনঞ্জুর হলে তার বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে। 
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭ এবং ধারা ১১৪ তে রিভিউর বিধান আছে । আদালত রিভিউ আবেদন মনঞ্জুর করলে এর বিরুদ্ধে আপীল চলে , তবে রিভিউ না-মনঞ্জুর করলে তার বিরদ্ধে রিভিশন চলবে।
.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর কোন ধারানুযায়ী to do justice and to undo injustice করা যাবে?
  1. ৫১
  2. ১৫১
  3. ১৫২
  4. ১৫৪
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫১ ধারায় আদালতের সহজাত ক্ষমতা রক্ষণের বিধান রয়েছে। ১৫১ ধারামতে দেওয়ানী আদালত ২টি ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যथ-
i) ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা (For the ends of justice); এবং
ii) আদালতের কার্যধারা বা আদালত কর্তৃক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা (To prevent abuse of the process of the court)।

♦ ন্যায়বিচারের জন্য অথবা আদালতের পরোয়ানার অবমাননা প্রতিরোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় আদেশ দানের ব্যাপারে আদালতের যে অনন্তর্নিহিত ক্ষমতা রয়েছে, এই বিধির কোন বিধান দ্বারা তা সীমাবদ্ধ বা কোনভাবে প্রভাবিত হবে না।
.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর Order 17, rule 1 অনুযায়ী একটি দেওয়ানি মোকদ্দমায় চূড়ান্ত শুনানীর স্তরে বাদীর অনুপস্থিতির কারণে মোকদ্দমা খারিজ হলে কত টাকা খরচ দাখিল করলে মোকদ্দমা পনুঃবহাল হতে পারে?
  1. ১০০০
  2. ২০০০
  3. ৩০০০
  4. ৫০০০
ব্যাখ্যা
♦ আদেশ 17 বিধি ১ অনুযায়ী যদি মোকদ্দমা খারিজ বা একতরফা নিষ্পত্তি হয় তবে সেই পক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে ২,০০০ টাকা ব্যয়সহ খরচ জয়া দিয়ে মোকদ্দমাটি পুনর্বহালের ( Revival of Proceedings) আবেদন করতে পারেন।
.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর Section 89A (10) এর বিধানানুযায়ী 'Panel of Mediators' প্রস্তুত করেন কে?
  1. জেলা জজ
  2. আইন মন্ত্রণালয়
  3. জেলা প্রশাসক
  4. হাইকোর্ট বিভাগ
ব্যাখ্যা
♦ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির সাথে পরামর্শক্রমে আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত জজ, বিরোধ নিষ্পত্তির প্রশিক্ষিত বলে জানা কোন ব্যক্তি এবং প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত এইরূপ ব্যক্তিবর্গ ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ যারা উক্ত উদ্দেশ্যে উপযুক্ত বলে বিবেচিত তাদের সমন্বয়ে জেলা জজ মধ্যস্থতাকারীগণের একটি তালিকা তৈরী করবেন (সময়ে সময়ে তা হালনাগাদ করতে হবে) এবং তার প্রশাসনিক এখতিয়ারাধীন সকল দেওয়ানি আদালতকে তালিকার বিষয়ে তিনি অবহিত করবেন।

♦ মধ্যস্থতাকারীর যোগ্যতা-
i) জেলা জজ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত প্যানেল সদস্য; বা
ii) অবসরপ্রাপ্ত জজ; অথবা
iii) সংশ্লিষ্ট মোকদ্দমার পক্ষগণ নিযুক্ত উকিল ব্যতীত অন্য যে কোন উকিল মধ্যস্থতাকারী হতে পারবেন।

♦ তবে প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে (Office of Profit) নিযুক্ত কোন ব্যক্তি মধ্যস্থতাকারী হতে পারবে না
১০.
The Code of Civil Procedure, 1908 অনুযায়ী প্রতিটি সমনে __________ স্বাক্ষর করবেন।
  1. আদালত
  2. বিচারক
  3. জারিকারক
  4. জেলা নাজির
ব্যাখ্যা
♦ আদেশ ৫ বিধি ৩ অনুযায়ী " Every such summons shall be signed by the Judge or such officer as he appoints, and shall be sealed with the seal of the court" উপরোক্ত প্রত্যেকটি সমনে বিচারক অথবা তৎকর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকবে এবং উক্ত আদালতের সীলমোহরে মোহরাঙ্কিত থাকতে হবে।

♦ অর্থাৎ সমনে আদালতের সীল থাকবে এবং বিচারক বা নিযুক্ত অফিসারের কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হবে।
১১.
দেওয়ানি জারি মামলায় একজন দায়িককে সর্বোচ্চ কতদিন দেওয়ানিকারাগারে আটক রাখা যায়?
  1. ৬ মাস
  2. ৯০ দিন
  3. ৩ মাস
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা
♦ The Code of Civil Procedure, 1908 এর ‍Section 58 এর বিধান হলঃ আটক ও মুক্তি (Detention and release)। 

এই ধারায় বলা আছে যে, ৫০ টাকার বেশি পরিশোধের ডিক্রির ক্ষেত্রে ৬ মাসের বেশি দেওয়ানি জেলে আটক রাখা যাবে না; এবং ৫০ টাকার কম হলে সে ক্ষেত্রে ৬ সপ্তাহের বেশি আটক রাখা যাবে না।

♦ অর্থাৎ The Code of Civil Procedure, 1908 এর ‍Section 58 এর বিধানানুযায়ী দেওয়ানি জারি মামলায় একজন দায়িককে সর্বোচ্চ ৬ মাস দেওয়ানিকারাগারে আটক রাখা যায়। 
১২.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর Order 33, rule 1 অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি Pauper গণ্য হবেন যদি মামলার সম্পত্তি ও প্রয়োজনীয় পোষাক পরিচ্ছদ ব্যতীত তার টাকা না হয়।
  1. ১৫০০০
  2. ১২০০০
  3. ১০০০০
  4. ৫০০০
ব্যাখ্যা
♦ The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ৩৩ বিধি-১ বিধান মতেঃ  নিঃস্ব হিসাবে মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে (Suits may be instituted in forma pauperis): আদালত কর্তৃক নিঃস্ব ঘোষিত হলে নিঃস্ব ব্যক্তি হিসেবে মোকদ্দমা করা যায়।

♦ কোনো ব্যক্তি নিঃস্ব (Pauper) বলে গণ্য হবে যদি- মোকদ্দমা দায়ের করতে প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি দিতে অক্ষম হয় বা যে ক্ষেত্রে কোন কোর্ট ফি নির্ধারিত নয় এবং সেক্ষেত্রে মোকদ্দমার বিষয়বস্তু ও তার প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র ছাড়া ৫০০০ টাকার বেশি সম্পত্তি না থাকে।
১৩.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর Order 39,rule 2 অনুযায়ী দেওয়ানি আদালত কর্তৃক আরোপিত নিষোধাজ্ঞার আদেশ ক্রমাগত লংঘনকারীকে কতদিন দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখার বিধান আছে?
  1. অনধিক ৬ মাস
  2. সর্বোচ্চ ১ বছর
  3. অনধিক ৯০ দিন
  4. সর্বোচ্চ ১৮০ দিন
ব্যাখ্যা
♦ The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ৩৯ বিধি-২ বিধান হল লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি বা ধারাবাহিকতা রোধে নিষেধাজ্ঞা (Injunction to restrain repetition or continuance of breach):ও
♦‌ চুক্তিভঙ্গ বা অন্য কোন প্রকার ক্ষতি করা থেকে বিবাদীকে বিরত রাখার জন্য মোকদ্দমা শুরুর পর যেকোন সময়, রায়ের পূর্বে বা পরে আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য আবেদন করতে পারে।

♦ যদি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা হয়, অথবা কোন শর্ত ভঙ্গ করা হয় তবে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরকারী আদালত দোষী ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ দিতে পারেন, এবং উক্ত ব্যক্তিকে অনধিক ৬ মাস মেয়াদের জন্য দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখারও নির্দেশ দিতে পারেন।

♦ এরূপ কোন ক্রোক ১ বছরের অধিক বলবৎ থাকবে না, উক্ত সময়ের পরও যদি অবাধ্যতা বা চুক্তি লঙ্ঘন অব্যাহত থাকে, তাহলে সম্পত্তি নিলামে বিক্রয় করা যাবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ হতে আদালত উপযুক্ত পরিমাণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে পারেন।

♦নোট: বিধি ২ এর অধীন যেকোন আদেশই আপিলযোগ্য
১৪.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর কোন আদেশ বলে মোকদ্দমায় পক্ষভুক্ত হওয়া যায়?
  1. Order 1
  2. Order 2
  3. Order 5
  4. Order 10
ব্যাখ্যা
♦ The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ১ বিধি-৮ একই ব্যক্তি একই স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকলের পক্ষে মোকদ্দমা করতে বা আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারে (One person may sue or defend on behalf of all in same interest ): যেক্ষেত্রে কোন মোকদ্দমায় বহু সংখ্যক লোকের একই স্বার্থ থাকে, সেক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নিয়ে এরূপ এক বা একাধিক ব্যক্তি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তির পক্ষে মোকদ্দমা দায়ের করতে বা মোকদ্দমায় বিবাদী হতে পারে।
♦ এক্ষেত্রে আদালত বাদীর খরচে স্বার্থসংশ্লিষ্ট সকলকে ব্যক্তিগত জারির মাধ্যমে নোটিশ দিবেন। স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অধিক হলে এভাবে নোটিশ জারি যুক্তিসঙ্গত হবে না। তখন গণ বিজ্ঞপ্তি দেয়া যাবে।
১৫.
মামলার যে-কোনো পর্যায়ে কোনো সম্পত্তি বা বস্তু সম্পর্কে কোনো প্রশ্নের উদ্ভব হলে আদালত _________ করতে পারবেন।
  1. পরিদর্শন
  2. অনুসন্ধান
  3. তদন্ত
  4. ক্রোক
ব্যাখ্যা
♦ আদেশ ১১ বিধি ১৮ মতেঃ পরিদর্শনের আদেশঃ (১) যেক্ষেত্রে ১৫ বিধি অনুসারে নোটিশ প্রাপ্ত পক্ষ পরিদর্শনের জন্য সময় নির্দেশ করে নোটিশ না দেয়, বা পরিদর্শনের সুযোগ প্রদানে আপত্তি করে, অথবা উকিলের কার্যালয় ব্যতিত অন্য কোন স্থানে পরিদর্শনে প্রস্তাব করে, সেক্ষেত্রে ইহা প্রত্যাশী পক্ষের আবেদনক্রমে আদালত সেরূপ স্থানে এবং পন্থায় পরিদর্শনের আদেশ দিতে পারেন, যেরূপ তিনি সঙ্গত মনে করেনঃ তবে শর্ত থাকে যে, আদালত যদি মনে করেন যে, মামলার সুষ্ঠু বিচারের জন্য বা মামলার খরচ বাচানোর জন্য ইহা প্রয়োজনীয় নহে, তবে আদালত সেরূপ আদেশ প্রদান করবেন না।
১৬.
Principle of Res judicata একটি ________ বিষয়।
  1. আইনগত
  2. ঘটনাগত
  3. আইন ও ঘটনার সম্মিলিত
  4. আদালতের স্বেচ্ছাধীন
ব্যাখ্যা
♦ The Code of Civil Procedure, 1908 এর ধারা ১১ তে  Principle of Res judicata আছে।  একই ব্যক্তিগণের মধ্যে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়া বিষয় নিয়ে পুনরায় নতুন মামলা করা যায় না। অর্থাৎ মোকদ্দমার পক্ষদ্বয়ের মাঝে চূড়ান্তভাবে কোন বিষয় নিষ্পত্তি হলে ঐ একই বিষয় নিয়ে একই পক্ষদ্বয়ের মাঝে পরবর্তীতে পুনরায় নতুন করে কোন মামলা করা যাবে না। এই নীতিকেই রেস জুডিকাটা বা দোবারা দোষ বলে ।

♦ অর্থাৎ Principle of Res judicata হল আইন ও ঘটনার সম্মিলিত একটি বিষয়।
১৭.
টাকার ডিক্রি জারি মামলায় কোন ধরনের দায়িককে দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা যাবে না?
  1. ষাটোর্ধ্ব পুরুষ
  2. যে-কোনো বয়সী স্ত্রীলোক
  3. বিকলাঙ্গ পুরুষ
  4. নিঃষ্ব ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
♦ The Code of Civil Procedure, 1908 এর ধারাঃ ৫৬ হল- অর্থের ডিক্রি জারিতে মহিলাকে গ্রেফতারের বা আটকের বাধা-নিষেধ (Prohibition of arrest or detention of women in execution of decree for money): আদালত অর্থ পরিশোধের ডিক্রি জারির জন্য কোন মহিলাকে দেওয়ানি জেলে গ্রেফতার বা আটক রাখার কোন আদেশ প্রদান করবেন না।
১৮.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর Order 9, rule 4 অনুযায়ী কোনো মামলা খারিজ হলে বাদী -
  1. নতুন মামলা দায়ের করতে পারবেন
  2. নতুন মামলা দায়েরে বারিত হবেন।
  3. রিভিউ চাইতে পারবেন
  4. ষাট দিনের মধ্যে খারিজাদেশ সরাসরি বাতিল চাইতে পারবেন
ব্যাখ্যা
♦ The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ৯ বিধি-৪ মতে বাদী নতুন মোকদ্দমা করতে পারে বা আদালত মোকদ্দমাটি নথিতে পুনর্বহাল করতে পারেন (Plaintiff may bring fresh suit or Court may restore suit to file): কোন মোকদ্দমা ২ বা ৩ বিধির অধীনে খারিজ করা হলে,
বাদী নতুন মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে, অথব
খারিজের আদেশ রদ করার আবেদন করতে পারে,
(তামাদি মেয়াদ ৩০দিন, অনুচ্ছেদ: ১৬৩)এবং
 ♦ সে যদি আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারে যে, কোর্ট ফি বা ডাক মাশুল (Postal charge) দিতে না পারার অথবা উপস্থিত হতে না পারার জন্য যথেষ্ট কারণ ছিল তবে আদালত মোকদ্দমার খারিজ আদেশ রদের আদেশ দান করবেন এবং মোকদ্দমার কার্যধারা পরিচালনার জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করবেন।
১৯.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর কোন ধারার বিধান মতে হাইকোর্ট বিভাগ অধস্তন আদালত থেকে যে-কোনো মামলা বদলী করতে পারেন?
  1. ২১
  2. ২২
  3. ২৩
  4. ২৪
ব্যাখ্যা
♦ The Code of Civil Procedure, 1908 এর ২৪ ধারা মতেঃ স্থানান্তর ও প্রত্যাহারের সাধারণ ক্ষমতা (General power of transfer and withdrawal ): মোকদ্দমার যেকোন পক্ষের আবেদনক্রমে, সকল পক্ষকে নোটিশ দিয়ে এবং তাদের কারো বক্তব্য শুনার ইচ্ছা করলে তা শ্রবণ করে অথবা কোন নোটিশ না দিয়া স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে হাইকোর্ট বিভাগ অথবা জেলা আদালত যে কোন সময়-
‌তার সম্মুখে বিচারাধীন কোন মোকদ্দমা, আপিল বা অন্যান্য কার্যক্রম তার অধীনস্থ এবং এখতিয়ারসম্পন্ন কোন আদালতে বিচার বা নিষ্পত্তির জন্য স্থানান্তরিত করতে পারেন, অথবা
♦ তার অধীনস্থ কোন আদালত হতে কোন মোকদ্দমা, আপিল বা অন্যান্য কার্যক্রম-

১) প্রত্যাহার করতে পারেন, এবং

২) তা বিচার বা নিষ্পত্তি করতে পারেন, অথবা

৩) অধীনস্ত কোন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে বিচার বা নিষ্পত্তির জন্য স্থানান্তর করতে পারেন; অথবা ৪) যেই আদালত হতে তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, সেই আদালতে বিচার বা নিষ্পত্তির জন্য প্রেরণ করতে পারেন।  

♦কোন মোকদ্দমা স্থানান্তরিত বা প্রত্যাহৃত হয়ে থাকলে যে পর্যায়ে তা স্থানান্তর বা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, সেই পর্যায় হতে বিচার শুরু করতে পারেন।

♦স্বল্প এখতিয়ার আদালত হতে স্থানান্তরিত বা প্রত্যাহৃত মোকদ্দমার বিচারকারী আদালতকে উক্ত মোকদ্দমার ব্যাপারে স্বল্প এখতিয়ার আদালত বলে গণ্য করতে হবে।
২০.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর কত ধারা অনুযায়ী আপিল আদালত মোকদ্দমা remand এ প্রেরণ করেন?
  1. ৯৬
  2. ১০৫
  3. ১০৭
  4. ১০৯
ব্যাখ্যা
♦ The Code of Civil Procedure, 1908 এর ১০৭ মতে আপিল আদালতের ক্ষমতা: (১) যে সকল শর্ত ও নিয়ন্ত্রণ বিধি দ্বারা হতে পারে, সে সাপেক্ষে কোন আপিল আদালতের নিম্নোক্ত ক্ষমতাগুলো থাকবে-
ক. মোকদ্দমা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা;
খ. মোকদ্দমা পুনর্বিচারের জন্য পাঠানো; (remand )
গ. বিচার্য বিষয় গঠন এবং সেগুলি বিচারের জন্য প্রেরণ করা এবং
ঘ. অতিরিক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ করা বা গ্রহণের নির্দেশ দান করা।
২১.
সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের প্রতিকার প্রাপ্তির বিষয়টি--------
  1. একচ্ছত্র অধিকার
  2. আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা
  3. সাংবিধানিক অধিকার
  4. দেওয়ানিঅধিকার
ব্যাখ্যা
♦ যে সকল কার্য সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায়:
(ক) যখন সম্মতিভুক্ত কার্যসম্পাদন পুরোপুরি বা আংশিক একটি আছি / জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হয়।
(খ) কার্যসম্পাদন না করলে যে ক্ষতি হবে তার পরিমাণ নির্ণয়ের কোন মানদন্ড না থাকলে ।
(গ) কার্যসম্পাদন না করলে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিকার লাভ করা যায় না ।
(ঘ) আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে।

♦ এই ধারায় প্রতিকার প্রদান আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা।
২২.
যে সকল ক্ষেত্রে আদালত নিষেধাজ্ঞার প্রার্থনা নামঞ্জুর করতে পারে সেগুলো The Specific Relief Act, 1877 এর কোন ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ৫৪
  2. ৫৫
  3. ৫৬
  4. ৫৭
ব্যাখ্যা
♦ The Specific Relief Act, 1877 এর  ৫৬ ধারামতে আদালত ১১ টি ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না।
 নিম্নেবর্ণিত ১১ টি ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা যাবে না-
১. বিচার বিভাগীয় কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্য
২. অধীনস্থ আদালত ছাড়া অন্য কোন আদালতের কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্য
৩. কোন ব্যক্তিকে আইন প্রণয়ন বিষয়ক কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা থেকে বিরত রাখার জন্য 
৪. সরকারের কোন বিভাগের সরকারি কর্তব্যে বা বিদেশী সরকারের কোন কাজে হস্তক্ষেপ করার জন্য। ৫. কোন ফৌজদারি বিষয়ে কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্য।
৬. যে চুক্তির কার্য সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করা যায় না এমন চুক্তি ভঙ্গ নিরোধের উদ্দেশ্য।
৭. উৎপাত নয় এমন কাজ নিরোধ করার জন্য ।
৮. এমন একটি ক্রমাগত লঙ্ঘন নিরোধ করার জন্য যেটাতে বাদী মৌন সম্মতি প্রাদান করেছে
৯. ট্রাস্ট ভঙ্গের মোকদ্দমা ব্যতীত অন্য কোন সাধারণ কার্যক্রমের মাধ্যমে সমপরিমাণ যথার্থ প্রতিকার নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়।
১০. যখন আবেদনকারী বা তার প্রতিনিধির আচরণ এমন যে, যা তাকে আদালতের সাহায্য হতে বঞ্চিত করে ।
১১. যেখানে আবেদনকারীর মামলার বিষয়বস্তুতে কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই ।
২৩.
The Specific Relief Act, 1877 এর কোন ধারা অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের মোকদ্দমা করা যায়?
  1. ৪২
  2. ৫৪
ব্যাখ্যা
The Specific Relief Act, 1877 এর ধারা ৮ অনুযায়ী  সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার: সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি তা দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে নির্ধারিত পন্থায় পুনরুদ্ধার করতে পারে ।

♦ বাদীকে স্বত্ব প্রমাণ করতে হবে। বেদখল হওয়ার দিন থেকে পরবর্তী ১২ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা করতে হবে (তামাদি আইনের ১৪২ ও ১৪৪ অনুচ্ছেদ)।

♦ সরকার বাদী হলে ৬০ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে (অনুচ্ছেদ-১৪৯)

♦ এটি আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা নয় ।
২৪.
The Specific Relief Act, 1877 এর কোন ধারায় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না?
  1. ১০
  2. ৪২
ব্যাখ্যা
♦ The Specific Relief Act, 1877 এর ৯ ধারা অনুযায়ী সরকার কর্তৃক বেদখল হলে মোকাদ্দমা দায়ের করা যাবে না। অর্থাৎ সরকারের বিরুদ্ধে ধারা ৯ এর অধীন মোকদ্দমা দায়ের করা যায় না। (No suit under this section shall be brought against the Government)
♦এই ধারা অনুসারে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের কর যাবে না। 
২৫.
The Specific Relief Act, 1877 এর ২১ ধারার অধীন কত ধরনের চুক্তি বলবতযোগ্য নয়?
  1. ১০
ব্যাখ্যা
♦ ধারা-২১: কোন চুক্তিসমূহ সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না (Contracts not specifically enforceable )- চুক্তির প্রকৃতি অনুসারে কিছু কিছু চুক্তির সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদন করার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়ে থাকেন এবং কিছু কিছু চুক্তির ক্ষেত্রে আদালত সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করে না। যে যে ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আবেদন নামঞ্জুর করতে পারে তা সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। কারণ এগুলি সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদনের যোগ্য নয়।
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারামতে নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। যথা-

১) কোন চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট হলে 
২) কোন চুক্তি জটিল ও অসংখ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের সমষ্টি বা পক্ষসমূহের ব্যক্তিগত যোগ্যতা/সংকল্পের উপর নির্ভরশীল অথবা চুক্তিটি বলবৎ যোগ্য না হলে 

৩) চুক্তির শর্তাবলী নির্ণয় করা না গেলে 
৪)চুক্তিটি প্রকৃতিগতভাবে বাতিলযোগ্য হলে 

৫)চুক্তিটি ট্রাস্টিগণ কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে সম্পাদিত হলে
৬)বিশেষ কোন কর্পোরেশন বা পাবলিক কোম্পানী কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূত কোন চুক্তি

৭) চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বে বিষয়বস্তুর উল্লেখযোগ্য অংশ বিলুপ্ত হলে  অথবা
৮)যে চুক্তি ক্রমাগতভাবে ৩ বছর চলে ।
২৬.
কোনো চুক্তি বাতিলযোগ্য হলে The Specific Relief Act, 1877 অনুযায়ী আদালত চুক্তিটি ______
  1. সংশোধন করবেন
  2. রদ করবেন
  3. বাতিল করবেন
  4. পক্ষদের ইচ্ছায় সিদ্ধান্ত দেবেন
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ থেকে ৩৮ ধারায় চুক্তি রদের বিধান রয়েছে ।
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারা অনুযায়ী একটি লিখিত চুক্তিতে স্বার্থ আছে এমন যে কোন ব্যক্তি (Any person interested in a contract) চুক্তিটি রদ করার জন্য মামলা করতে পারে এবং আদালত যে ক্ষেত্রে চুক্তিটি বিচারপূর্ব রদের আদেশ দিতে পারবেন-  তা হল ধারা ৩৫(১) অনুযায়ী চুক্তিটি বাতিল যোগ্য বা বাদী কর্তৃক সমাপনীয় হলে আদালত চুক্তিটি বিচারপূর্ব রদ করতে পারে ।
২৭.
আবশ্যকীয় সম্পূরক প্রতিকার (Further Relief) না চাইলে The Specific Relief Act, 1877 এর কোন ধারার মামলা ব্যর্থ হয়?
  1. ৩৯
  2. ৪২
  3. ৪৪
  4. ৫৩
ব্যাখ্যা
♦ The Specific Relief Act, 1877 এর ৪২ ধারার বলা আছে এরূপ ঘোষণার প্রতিবন্ধকতা: তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে বাদী শুধু স্বত্বের ঘোষণা ছাড়া আরও প্রতিকার পেতে সমর্থ অথচ তা করা হতে বিরত থাকেন সেক্ষেত্রে আদালত ঐরূপ কোন ঘোষণা প্রদান করবেন না ।
(Bar to such declaration: Provided that no Court shall make any such declaration where the plaintiff, being able to seek further relief than a mere declaration of title, omits to do SO)
♦ দেওয়ানি মামলায় মূল প্রতিকার থেকে সরাসরি সৃষ্ট প্রতিকারকে আনুষঙ্গিক প্রতিকার বলে। অর্থাৎ কোন মোকদ্দমায় মূল প্রতিকারের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য যে প্রতিকার দাবী করা হয়, তাকে আনুষঙ্গিক প্রতিকার বা Consequential relief বলে।
♦ ঘোষণামূলক মামলায় আনুষঙ্গিক প্রতিকার চাওয়া কী বাধ্যতামূলক- বাদী যদি আনুষঙ্গিক প্রতিকার পাওয়ার অধিকারী হয়, তাহলে ঘোষণামূলক মামলায় আনুষঙ্গিক প্রতিকার প্রার্থনা করা বাধ্যতামূলক।
♦ আনুষঙ্গিক প্রতিকার থাকার পরও বাদী মামলায় আনুষঙ্গিক প্রতিকার ছাড়া শুধুমাত্র ঘোষণামূলক ডিক্রির জন্য আবেদন করলে, আদালত মামলাটি খারিজ না করে ঘোষনাটি প্রত্যাখান করবে।
২৮.
The Specific Relief, 1877 এর কোন প্রতিকারটি The Code of Civil Procedure, 1908 দ্বারা নিয়ন্ত্রিত?
  1. অস্থায়ী নিষোধাজ্ঞা
  2. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
  3. প্রতিকোধমূলক প্রতিকার
  4. বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা
ব্যাখ্যা
♦ The Specific Relief, 1877 এর ধারাঃ ৫৩ তে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার বিধান মতে: অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হল এমন যা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অথবা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে। মামলার যে কোন অবস্থাতেই এগুলি মঞ্জুর করা যায়, এবং দেওয়ানী কার্যবিধি দ্বারা তা নিয়ন্ত্রিত হয়।

♦ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মামলার যেকোন অবস্থাতেই মঞ্জুর করা যায় এবং এটি দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৩৯ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
২৯.
X অনুচিতভাবে Y এর ট্রেডমার্ক ব্যবহার করে। Y কোন ধরনের প্রতিকার চাইতে পারে?
  1. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
  2. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
  3. ঘোষনামূলক প্রতিকার
  4. বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা
ব্যাখ্যা
♦ চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র শুনানির পর মামলার গুণাগুণের উপর ভিত্তি করে প্রদত্ত ডিক্রি দ্বারা মঞ্জুর করা হয়।
  ৫টি ক্ষেত্রে আদালত চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন। যথা-
১. যেক্ষেত্রে বিবাদী, বাদীর সম্পত্তির জিম্মাদার (Trustee)
২. যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের প্রকৃত ক্ষতি বা সম্ভাব্য ক্ষতি নিরসণের কোনো মানদন্ড নেই।
৩. যেক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত না।
৪. যেক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
৫. যেক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় জটিলতা নিরসনের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন ।
♦ চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য মোকদ্দমা দায়েরের তামাদি মেয়াদ ৬ বছর। (অনুচ্ছেদ-১২০)
♦চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা। 
♦ Explanation = For the purpose of this section a trademark is property.
♦ব্যাখ্যাঃ এই ধারার উদ্দেশ্য অনুসারে ট্রেডমার্ক সম্পত্তি।
— এই ধারার অধীন ট্রেডমার্ক সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।
৩০.
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্র সম্পর্কে The Specific Relief Act, 1877 এর কোন ধারায় বলা হয়েছে?
  1. ৫৩
  2. ৫৪
  3. ৫৫
  4. ৫৬
ব্যাখ্যা
♦ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্র সম্পর্কে The Specific Relief Act, 1877 এর ৫৬ ধারায় বলা হয়েছে।
৫৬ ধারামতে আদালত ১১ টি ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না।
= নিম্নেবর্ণিত ১১ টি ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা যাবে না-
১. বিচার বিভাগীয় কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্য ২. অধীনস্থ আদালত ছাড়া অন্য কোন আদালতের কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্য;
৩. কোন ব্যক্তিকে আইন প্রণয়ন বিষয়ক কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা থেকে বিরত রাখার জন্য।
৪. সরকারের কোন বিভাগের সরকারি কর্তব্যে বা বিদেশী সরকারের কোন কাজে হস্তক্ষেপ করার জন্য।
৫. কোন ফৌজদারি বিষয়ে কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্য ।
৬. যে চুক্তির কার্য সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করা যায় না এমন চুক্তি ভঙ্গ নিরোধের উদ্দেশ্য।
৭. উৎপাত নয় এমন কাজ নিরোধ করার জন্য ।
৮. এমন একটি ক্রমাগত লঙ্ঘন নিরোধ করার জন্য যেটাতে বাদী মৌন সম্মতি প্রাদান করেছে।
৯. ট্রাস্ট ভঙ্গের মোকদ্দমা ব্যতীত অন্য কোন সাধারণ কার্যক্রমের মাধ্যমে সমপরিমাণ যথার্থ প্রতিকার নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়।
১০. যখন আবেদনকারী বা তার প্রতিনিধির আচরণ এমন যে, যা তাকে আদালতের সাহায্য হতে বঞ্চিত করে।
১১. যেখানে আবেদনকারীর মামলার বিষয়বস্তুতে কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই।
৩১.
The Code of Criminal Procedure, 1898 অনুসারে বছরের কম বয়সী ব্যক্তিকে কিশোর বলা হয়েছে।
  1. ১৬
  2. ১৫
  3. ২১
  4. ১৮
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারাঃ ২৯খ মতে কিশোরদের ক্ষেত্রে এখতিয়ার (Jurisdiction in the case of juveniles): মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ ব্যতীত অন্য কোন অপরাধে অপরাধীর বয়স ১৫ বছরের কম হলে তার বিচার যে কোন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট করতে পারেন ।
[নোট: শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ১৫ ও ১৫ক অনুসারে শিশুর বিচার করার একমাত্র এখতিয়ার শিশু আদালতের। সুতরাং এই ধারার বর্তমানে কার্যকারীতা নেই।]
৩২.
আপিলের শর্তে জামিন চাইতে হলে দণ্ডের মেয়াদ কত হতে হয়?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ৪২৬(২ক) মতে কোন ব্যক্তি অনূর্ধ্ব ১ বছর মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে এবং উক্ত দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকলে, আপিল পেশ ও আপিল আদালতের আদেশ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পর্যাপ্ত সময়ের জন্য আদালত তাকে জামিনে মুক্তি দিতে পারে যতদিন সে জামিনে মুক্ত থাকবে ততদিন পর্যন্ত কারাদণ্ড স্থগিত রয়েছে বলে গণ্য হবে।
৩৩.
কখন অধিকতর তদন্ত করা যায়?
  1. কেবল সাক্ষ্য অপর্যাপ্ত হলে
  2. তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হলে
  3. আসমী আবেদন করলে
  4. মামলার যে-কোনো পর্যায়ে
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ১৭৩ মতে ম্যাজিস্ট্রেট যদি সন্তুষ্ট না হন, তাহলে তিনি মামলাটি আমলে নেয়ার পূর্বে পুলিশকে আরও তদন্তের (Further Investigation) নির্দেশ দিতে পারেন। এছাড়া তদন্তকারী পুলিশ অফিসার পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করার পরও ১৭৩(৩খ) ধারার অধীন অধিকতর তদন্ত করতে পারে (Do Further Investigation)। এই অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে আরও কোন সাক্ষ্য পেলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ১৭৩(৩খ) ধারার আওতায় পুনরায় যে চার্জ শীট দাখিল করে তাকে সম্পূরক চার্জ শীট (Supplementary charge sheet) বলে। সম্পূরক চার্জ শীট তদন্ত প্রক্রিয়ার একটি অংশ।

♦ পূর্বে দাখিলকৃত চার্জ শীটের আসামীকে সম্পূরক চার্জ শীট থেকে বাদ দেয়া যায়না; তবে সম্পূরক চার্জ শীটে নতুন করে আসামী যুক্ত করা যায়।

♦ অর্থাৎ মামলার যে-কোনো পর্যায়ে অধিকতর তদন্ত করা যায়
৩৪.
আদালতের হেফাজতে রক্ষতি অপরাধ সংক্রান্ত কোনো সম্পতি ফেরৎ পাওয়ার জন্য আদালতে কী দাখিল করা আবশ্যক?
  1. জামানত
  2. মুচলেকা
  3. চুক্তিপত্র
  4. নিশ্চয়তাপত্র
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারাঃ ৫১৭ মতেঃ (১) কোন ফৌজদারী আদালতে কোন অনুসন্ধান বা বিচার সমাপ্ত হবার উপর উক্ত আদালতে পেশকৃত বা উহার হেফাজতে রক্ষিত কোন সম্পত্তি বা দলিল, যা সম্পর্কে কোন অপরাধ করা হয়েছেবা যা কোন অপরাধ করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়, তা ধ্বংস, বাজেয়াপ্ত বা যে ব্যক্তি উহার দখল দাবী করে তাকে প্রদান বা অন্য কোনভাবে উহার বিহিত ব্যবস্থা করার জন্য আদালত যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন সেরূপ আদেশ দিতে পারবেন।

(২) যখন হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা আদালত এরূপ আদেশ প্রদান করেন এবং সুবধিাজনকভাবে নিজস্ব অফিসারের মাধ্যমে উক্ত সম্পত্তি উহার অধিকারী ব্যক্তিকে অর্পণ করতে না পারেন, তখন উক্ত আদালত নির্দেশ দিতে পারবেন যে, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট অথবা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট উক্ত আদেশ কার্যকর করবেন।

(৩) এই ধারার অধীন আদেশ দেয়া হলে তা সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি গৃহপালিত পশু বা দ্রুত ও স্বাভাবিক ক্ষয়শীল না হলে, এবং

(৪) উপধারায় বর্ণিত বিধান মতে না হলে একমাসের জন্য কার্যকর করা যাবে না। অথবা যে ক্ষেত্রে আপীল পেশ করা হয়, সেক্ষেত্রে আপলের নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর করা যাবে না।

৫) যে ব্যক্তি কোন সম্পত্তির দখলের অধিকারী বলে দাবী করে সেই ব্যক্তি যদি আদালতের সন্তুষ্টি বিধান করে জামিনদারসহ বা ব্যতিত এই মর্মে একটি মুচলেকা সম্পাদন করে যে, এই ধারার অধীন প্রদত্ত আদেশ আপীলে সংশোধিত বা বাতিল হলে সে উক্ত সম্পত্তি আদালতে অর্পণ করবে। তাহলে এই ধারার কোন বিধান (১) উপধারা অনুসারে আদালত কর্তৃক উক্ত ব্যক্তিকে সম্পত্তি প্রদানের ব্যাপারে কোন বাধার সৃষ্টি করবে বলে মনে করা যাবে না।ব্যাখ্যাঃ যেক্ষেত্রে কোন সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধ করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়, সেক্ষেত্রে এই ধারার অধীন সম্পত্তি বলতে সেই সম্পত্তিই বুঝায় না যা মূলতঃ কোন পক্ষের দখলে বা নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল। বরং উক্ত সম্পত্তি যাতে রূপান্তরিত বা বিনিময়ের ফলে সঙ্গে সঙ্গে বা অন্য কোনভাবে যা সংগৃহিত হয়েছে তাও বুঝায়।
৩৫.
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কোথায় আটক রাখা হবে তা নির্ধারণ করেন কে?
  1. সংশ্লিষ্ট আদালত
  2. কারা কর্তৃপক্ষ
  3. সরকার
  4. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
♦ The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারাঃ ৫৪১ (১) বর্তমানে বলবৎ কোন আইনে ভিন্নরূপ ব্যবস্থা করা না হলে এই বিধির অধীন কারাদণ্ড বা হাজত বাসের নির্দেশ প্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে কোথায় আটক রাখা হবে সরকার সে সম্পর্কে নির্দেশ দিতে পারবেন
৩৬.
‘আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার’ সংক্রান্ত বিধানটি The Code of Criminal Procedure, 1898 এর কোন ধারায় আছে?
  1. 339A
  2. 339C
  3. 339B
  4. 339
ব্যাখ্যা
 ♦ The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারাঃ ৩৩৯-খা(১) মতে যেক্ষেত্রে ৮৭ ও ৮৮ ধারার বিধান পালন করার পর আদালতের বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, আসামীকে যাতে গ্রেফতার ও বিচারে সোপর্দ করা না হয় সেজন্য সে পলায়ন করেছে বা আত্মগোপন করেছে এবং তাকে গ্রেফতার করার আশু সম্ভাবনা নাই, সেক্ষেত্রে নালিশী অপরাধ আমলে গ্রহণকারী আদালত বহুল প্রচারিত কমপক্ষে দুইটি বাংলা দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত আদেশ দ্বারা উক্ত ব্যক্তিকে আদেশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই আদালতে হাজির হবার নির্দেশ দিবেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উক্ত নির্দেশে ব্যর্থ হলে তার অনুপস্থিতিতে তার বিচার অনুষ্ঠিত হবে(।
২) আসামীকে হাজির করার পর কিংবা আসামী হাজির হবার পর অথবা জামিনে মুক্ত হবার পর যেক্ষেত্রে আসামী পলায়ন করে কিংবা হাজির হতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে
(১) উপধারায় বর্ণিত পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে না এবং নালিশী অপরাধের জন্য এরূপ ব্যক্তির বিচার করতে উপযুক্ত আদালত এরূপ করার কারণ লিপিবদ্ধ করে তার অনুপস্থিতিতেই এরূপ ব্যক্তির বিচার করবেন। 
৩৭.
নিম্নের কোন অপরাধের ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতি প্রযোজ্য?
  1. গুরুতর আঘাত
  2. দণ্ডনীয় নরহত্যা
  3. বেপরোয়া যান চালানোর দ্বারা মৃত্যু
  4. সাধারণ আঘাত
ব্যাখ্যা
♦ গতানুগতিক ফৌজদারি বিচার পদ্ধতি অনুসরণ না করে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে যে বিচার করা হয়, তাকে সংক্ষিপ্ত বিচার বা Summary Trial বলে। ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬০ থেকে ২৬৫ ধারায় সংক্ষিপ্ত বিচার বা Summary Trial সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

♦ নিম্নলিখিত অপরাধসমূহের সংক্ষিপ্তভাবে বিচার করা যায়। যথা-
i) মৃত্যুদন্ড, যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা ২ বছরের অধিক মেয়াদের কারাদন্ড যোগ্য অপরাধ ব্যতীত অন্যান্য অপরাধ অর্থাৎ ২ বছর বা এর কম মেয়াদের কারাদন্ড যোগ্য অপরাধের বিচার।
ii) দন্ডবিধির ২৬৪, ২৬৫, ২৬৬ ধারামতে ওজন ও পরিমান সম্পর্কিত অপরাধ, ৩২৩ ধারামতে আঘাত, ১০ হাজার টাকার কম মূল্যের চুরি, ১০ হাজার টাকার কম মূল্যের সম্পত্তি অসৎভাবে আত্মসাৎ, ১০ হাজার টাকার কম মূল্যের চোরাইমাল গ্রহণ, গোপন ও হস্তান্তর;
iii) দন্ডবিধির ২৭৭,২৭৯,২৮৫, ২৮৯, ২৯০-২৯৪, ৩৩৪, ৩৩৬, ৩৪১,৩৫২ ধারার অপরাধ ।
iv) ক্ষতি (Mischief), দন্ডবিধির ৪৪৭ ধারামতে অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ, ৪৪১, ৪৫৩, ৪৫৪, ৪৫৬ ও ৪৫৭ ধারামতে কৃত অপরাধ, অপরাধজনক ভীতি প্রদর্শন, ৫০৯ ও ৫১০ ধারামতে ইভটিজিং বা মাতলামি;
v) পূর্বে বর্ণিত অপরাধ সমূহে সহায়তা ও অপরাধসমূহ করার চেষ্টা (abetment and attempt to commit the foregoing offences); এবং any of
vi) ১৮৭১ সালের গবাদি পশুর অনধিকার প্রবেশ আইনের ২০ ধারার অধীন অপরাধের সংক্ষিপ্তভাবে বিচার করা যায়।
এছাড়াও মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯ এর অধীনে সংক্ষিপ্তভাবে বিচার করা যায়।
মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমান আদালত সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে বিচার পরিচালনা করে থাকে।

♦অর্থাৎ যেগুলো জরিমানাযোগ্য, জরিমানাসহ বা ব্যতীত অনধিক ১ মাস মেয়াদের কারাদন্ডে দন্ডনীয় অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিচার করতে পারেন।

♦অপশনে সাধারণ আঘাতের  ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে।
৩৮.
সাধারণভাবে একজন যুগ্ম দায়রা জজ অনধিক ------- বছরের কারাদণ্ড দিতে পারেন
  1. ১০
  2. ১২
  3. ১৪
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ৩১ ধারায় হাইকোর্ট বিভাগ এবং দায়রা আদালাতের দন্ড প্রদানের ক্ষমতা আলোচনা করা হয়েছে যা নিম্নরূপ-
হাইকোর্ট বিভাগ আইনে অনুমোদিত যে কোনো দন্ড দিতে পারে। এবং দায়রা জজ এবং অতিরিক্ত দায়রা জজ আইনে অনুমোদিত যে কোন দন্ড দিতে পারে।
তবে দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ মৃত্যুদন্ড দিলে তা হাইকোর্টের অনুমোদন নিয়ে কার্যকর করতে হয়। 
♦ ৩১ ধারানুযায়ী দায়রা আদালত এবং সুপ্রিম কোর্ট যে কোন পরিমান অর্থদন্ড দিতে পারেন এবং যুগ্ম দায়রা জজ সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদন্ড দিতে পারে ।
৩৯.
কোন ক্ষেত্রে রায় প্রদানের দিন আসামীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয় -
  1. আসামীকে খালাস দিলে
  2. আসামীকে ২ মাসের কারাদণ্ড দিলে
  3. কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হলে
  4. আসামী হাজতে থাকলে
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৬ ধারায় আদালত কোন ফৌজদারি মামলায় কিভাবে রায় প্রদান করবে, সে সম্পর্কে বলা হয়েছে। সাধরনত বিচার সমাপ্ত হওয়ার পর তৎক্ষনাৎ বা পক্ষদ্বয়কে নোটিশ প্রদান করে পরবর্তী যেকোন সময়ে প্রকাশ্যে আদালতে (open court) আদালতের ভাষায় অথবা আসামী বা তার এডভোকেটের বোধগম্য ভাষায় রায় ঘোষনা করতে হবে।
♦ ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি না পেলে আসামির উপস্থিতিতে রায় ঘোষনা করতে হয়, তবে জরিমানা বা খালাস প্রদানের রায় শুধুমাত্র আইনজীবির উপস্থিতিতে দেওয়া যায়। তবে কোন পক্ষের অনুপস্থিতিতে প্রদত্ত রায় অসিদ্ধ (invalid) বলে বিবেচিত হবে না।
♦আদালত সাধারণত রায়ের সারাংশ (substance of judgment) পড়ে থাকে, তবে কোন পক্ষ অনুরোধ করলে বিচারক সম্পূর্ন রায় পড়ে শোনাবেন ।
৪০.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ১৪৪ ধারার বিধানসমূহ কোন এলাকায় প্রযোজ্য হবে না?
  1. জেলা সদরে
  2. মহানগরীতে
  3. পৌরসভায়
  4. উপজেলা সদরে
ব্যাখ্যা
♦ আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কারো আবেদনের প্রেক্ষিতে অথবা নিজে স্বত্বঃপ্রণোদিত হয়ে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে-
i) আইনানুগভাবে কর্মরত কোন ব্যক্তির প্রতি বাধা, বিরক্তি বা ক্ষতির আশংকা;
ii) মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তা বিপন্ন হবার আশংক;
iii) উৎপাত বা জনসাধারনের শান্তিভঙ্গের আশংকা;
iv) দাঙ্গা বা মারামারির আশংকা;  এবং
v) আগু প্রতিরোধ ও দ্রুত প্রতিকার প্রয়োজন হলে।  

♦১৪৪ ধারার আদেশ সাধারণত সর্বোচ্চ ২ মাস পর্যন্ত বলবৎ থাকে; তবে সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তি দ্বারা ১৪৪ ধারার আদেশকে ২ মাসের অধিক সময় পর্যন্ত বলবৎ রাখতে পারে।‌
♦১৪৪ (৪) ধারামতে কোন ম্যাজিস্ট্রেট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির আবেদনক্রমে ১৪৪ ধারার আওতায় তার নিজের বা তার অধীনস্ত কোন ম্যাজিস্ট্রেট বা তার পূর্ববর্তী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশ বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারেন।‌
১৪৪ ধারা মেট্রোপলিটন এলাকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবেনা। তবে মেট্রোপলিটন এলাকায় মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে।
♦ ১৪৪ ধারার আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা জজের নিকট রিভিশন করা যাবে।
৪১.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর বিধানানুসারে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে শান্তি ভঙ্গের আশংকায় কোনো ক্রোককৃত সম্পত্তিতে রিসিভার নিয়োগ করেন কে?
  1. দেওয়ানি আদালত
  2. দায়রা জজ
  3. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  4. যে-কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
♦ The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা-১৪৬ ; সম্পত্তি ক্রোক বা রিসিভার নিয়োগ- জমি বা পানি নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট যদি প্রকৃত দখলকারী নির্ধারণ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তিনি সম্পত্তি ক্রোক বা রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন।

♦স্থাবর সম্পত্তি নিয়ে যে কোন সময় বিরোধ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় নিজের সম্পত্তি অন্য দখল করে নিতে পারে বা অন্যায়ভাবে দখলীয় সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করে দিতে পারে। তাই স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধে শান্তিভঙ্গ হতে পারে এমন পরিস্থিতিতে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক গৃহীত কতিপয় ক্ষমতা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ থেকে ১৪৮ ধারা পর্যন্ত বর্ণনা করা হয়েছে। জমি বা জলাশয় দখলকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিলে ১৪৫ ধারা অনুযায়ী কেউ প্রতিকার চাইতে পারেন।
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার মামলা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা হয়। কিন্তু এটি ফৌজদারি মামলা ও প্রতিকার নয়। ১৪৫ ধারার মামলা মূলত দেওয়ানি প্রকৃতির (Civil Nature) এবং Civil প্রতিকার। এই প্রতিকার ক্ষণস্থায়ী এবং সাময়িক সময়ের জন্য মাত্র। তাই ১৪৫ ধারার প্রতিকারকে প্রায় (Quasi) দেওয়ানি এখতিয়ার বলা হয়।
৪২.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর বিধানানুসারে অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রদত্ত দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করতে হবে কোথায়?
  1. দায়রা জজ আদালতে
  2. হাইকোর্ট বিভাগে
  3. আপিল বিভাগে
  4. স্পেশাল জজ আদালতে
ব্যাখ্যা
♦ The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা-৪১০ অনুযায়ী দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজের দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগের নিকট ৬০ দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করতে হয়।
৪৩.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর কোন ধারার অধীনে পুলিশ সাক্ষীকে পরীক্ষা করে?
  1. ১৫৪
  2. ১৬১
  3. ১৬৪
  4. ২০০
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় পুলিশ অফিসার কর্তৃক সাক্ষী পরীক্ষার বিধান রয়েছে।

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারা অনুযায়ী তদন্ত পরিচালনাকারী কোন পুলিশ অফিসার মামলার সাথে পরিচিত যে কোন ব্যক্তি বা সাক্ষীকে পরীক্ষা করতে পারে বা জবানবন্দী রেকর্ড করতে পারে।
৪৪.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর কোন ধারায় আপোসযোগ্য মামলার বিষয় বর্ণিত হয়েছে?
  1. ২০২
  2. ২৫৬
  3. ৩৪০
  4. ৩৪৫
ব্যাখ্যা
♦ The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ৩৪৫ ধারায় আপোসযোগ্য মামলার বিষয় বর্ণিত হয়েছে। 
৪৫.
একটি মামলা সংক্ষিপ্ত বিচারে প্রদত্ত ১৫০ টাকার অর্থদণ্ডের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আপিলে আপিল আদালত এটি _______
  1. সরাসরি খারিজ করবেন
  2. শুনানীর জন্য নোটিশ দিবেন
  3. মঞ্জুর করে খালাস দিবেন
  4. মঞ্জুর করে মামলা পুনর্বিচারে পাঠাবেন
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৪ ধারামতে সংক্ষিপ্ত বিচারের ক্ষেত্রে অনধিক ২০০/- টাকা জরিমানা করা হলে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে কোন আপিল চলে না।

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২১ ধারামতে আদালত মনে করলে আপিল সংক্ষিপ্তভাবে খারিজ করতে পারেন। তবে আইনজীবীকে বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দিতে হবে।
♦ বিশেষ নোট- ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন যে সকল ক্ষেত্রে আপিল করা যায় না, সে সব ক্ষেত্রে রিভিশন দায়ের করা যায়।
৪৬.
ম্যাজিস্ট্রেট The Code of Criminal Procedure, 1898 এর কোন ধারা মোতাবেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে পারেন?
  1. 501
  2. 504
  3. 539A
  4. 539B
ব্যাখ্যা
♦ The Code of Criminal Procedure, 1898 এর  ধারাঃ ৫৩৯খ (১) কোন অনুসন্ধান, বিচার বা অন্য কার্যধারার কোন পর্যায়ে কোন জজ বা ম্যাজিষ্ট্রেট পক্ষসমূহকে নোটিশ দিয়া যে স্থানে কোন অপরাধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে সেই স্থান অথবা উক্ত অনুসন্ধান বা বিচারে প্রদত্ত কোন সাক্ষ্য যথাযথভাবে উপলব্ধি করার জন্য প্রয়োজন বলে মনে করলে অন্য কোন স্থান সফর ও পরিদর্শন করতে পারবেন, এবং অনাবশ্যক বিলম্ব ছাড়াই উক্ত পরিদর্শন বা সফরে দৃষ্ট কোন প্রাসঙ্গিক ঘটনা সম্পর্কে একটি স্মারকলিপি প্রস্তুত করবেন।
(২) উক্ত স্মারকলিপি মামলার নথির অংশ হবে । পাবলিক প্রসিকিউটর অথবা আসামী চাইলে উহার একটি নকল তাকে বিনা মূল্যে সরবাহ করতে হবে।
৪৭.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ২৪৭ ধারা মোতাবেক নালিশকারীর অনুপস্থিতির কারণে আসামী খালাস পাবে যদি ____________ ।
  1. গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু হয়
  2. সমন ইস্যু হয়
  3. রায়ের জন্য দিন থাকে
  4. কয়েকজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গৃহীত হয়
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ২৪৭ ধারায় শুনানির দিন অভিযোগকারীর অনুপস্থিতির ফলাফল আলোচনা করা হয়েছে। যথাযথভাবে সমন জারি হওয়ার পরও অভিযোগকারী শুনানির দিন অনুপস্থিত থাকলে ম্যাজিস্ট্রেট উপযুক্ত মনে করলে আসামিকে খালাস দিতে পারেন; অথবা পরবর্তী কোন তারিখ পর্যন্ত মামলার শুনানী মুলতবী রাখতে পারেন।

♦অভিযোগকারী সরকারী কমকর্তা হলে এবং তার ব্যক্তিগত হাজিরা প্রয়োজন না হলে, ম্যাজিষ্ট্রেট তাকে হাজিরা হতে অব্যাহতি দিয়ে মামলায় অগ্রসর হতে পারবেন ।

♦ তবে ২৪৭ ধারা অনুযায়ী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত অভিযোগকারীর অনুপস্থিতির কারণে অভিযুক্তকে খালাস দিলে তাকে পুনরায় বিচার করা যাবে, কেননা এক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার ছাড়াই শুধুমাত্র অনুপস্থিতির কারণে তাকে খালাস প্রদান করা হয়েছে।
৪৮.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ২৪৯ ধারার বিধান মতে ম্যাজিস্ট্রেট আসামীকে মুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে মামলাটি __________ করবেন।
  1. মুলতুবি
  2. স্থগিত
  3. বন্ধ
  4. খারিজ
ব্যাখ্যা
♦ The Code of Criminal Procedure, 1898 এর  ২৪৯ ধারামতে নালিশি মামলা (CR Case) ব্যতীত অন্য কোনভাবে দায়েরকৃত মামলাতে ফরিয়াদি না থাকলে, মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট বা প্রথম শ্রেনীর ম্যাজিষ্ট্রেট অথবা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের অনুমতিক্রমে যেকোন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খালাস বা দন্ডের রায় প্রদান না করে মামলার কার্যক্রম বন্ধ রেখে আসামিকে মুক্তি (Release) দিতে পারেন।

♦ নালিশি মামলা বা CR Case-এর ক্ষেত্রে ২৪৯ ধারা প্রযোজ্য নয়।
৪৯.
জামিন অযোগ্য অপরাধ হলেও নিম্নের কোন ব্যক্তির জামিন মঞ্জুর করা যেতে পারে?
  1. অক্ষম
  2. স্ত্রীলোক
  3. ১৫ বছরের পুরুষ
  4. পূর্বোক্ত সবার
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারায় জামিন অযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে জামিনের বিধান রয়েছে। জামিন অযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে জামিনের বিধান সমূহ নিম্নরূপ-

♦ জামিন অযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে আসামী ১৬ বৎসরের নিম্ন বয়স্ক বা স্ত্রীলোক বা পীড়িত বা অক্ষম হলে অথবা আদালত উপযুক্ত মনে করলে জামিন দিতে পারেন (May be released on bail)। এক্ষেত্রে জামিন দেওয়া আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা (Discretionary Power)।

♦অভিযুক্ত আসামি মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ডে শাস্তিযোগ্য কোন অপরাধে দোষী হতে পারে বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত কারন থাকলে, আদালত উক্ত ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি প্রদান করবেনা।

♦ অর্থাৎ মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডনীয় অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে জামিনে মুক্তি পেতে পারে যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি i) ১৬ বছরের কম (any person under the age of sixteen years), ii) স্ত্রীলোক (any woman) অথবা, iii) অসুস্থ বা অক্ষম (any sick or infirm person ) হয়।
৫০.
নালিশী মামলার ক্ষেত্রে কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের উক্ত নালিশ গ্রহণের এখতিয়ার না থাকলে কি করবেন?
  1. ফেরত দিবেন
  2. উপযুক্ত আদালতে প্রেরণ করবেন
  3. খারিজ করবেন
  4. প্রাথমিক তদন্তের জন্য পাঠাবেন
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ২০১ ধারায় অভিযোগ বা নালিশ ফেরতের (return of complaint) বিধান রয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ২০১ ধারামতে নালিশ গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটের অপরাধটি আমলে নেয়ার ক্ষমতা না থাকলে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট সঠিক এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতে দাখিলের জন্য নালিশটি (complaint) ফেরত পাঠাবেন। তবে উক্ত অভিযোগ যদি লিখিতভাবে করা না হয়, তাহলে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট ফরিয়াদিকে উপযুক্ত আদালতে যেতে নির্দেশ প্রদান করবেন।

তবে GR মামলা ফেরৎযোগ্য নয় ।
৫১.
নিম্নের কোন কাজটি সাধারণ ব্যতিক্রমের আওতায় পড়বে না?
  1. পুলিশ কর্তৃক বিনা পরোয়ানায় খুনিকে গ্রেপ্তার
  2. আদালতের রায় অনুযায়ী সম্পাদিত কাজ
  3. ১২ বছরের কম বয়স্ক পরিণত বোধসম্পন্ন শিশুর কাজ
  4. সদবিশ্বাসে কৃত কোনো কাজ
ব্যাখ্যা
♦ যে কাজগুলোকে স্বাভাবিকভাবে অপরাধ বলে গণ্য করা হলেও বিশেষ ক্ষেত্রে অপরাধ বলে গণ্য করা হয়না তাকেই সাধারণ ব্যতিক্রম বা General Exception বলে। দন্ডবিধির ৭৬ থেকে ১০৬ ধারায় কিছু সাধারণ ব্যতিক্রমের উল্লেখ রয়েছে। দন্ডবিধির ৭৬ থেকে ১০৬ ধারার আওতাধীন কার্য বা কার্যবিরতিগুলো (acts or omission) স্বাভাবিকভাবে অপরাধ মনে হলেও সেগুলো ফৌজদারি দায় (criminal liability) থেকে মুক্ত; অর্থাৎ ৭৬ থেকে ১০৬ ধারার আওতাধীন কার্যগুলো অপরাধ মনে হলেও অপরাধী কোন শাস্তি পায়না। 

♦ দণ্ডবিধির ৮৩ ধারা অনুসারে, ৯ বৎসরের বেশি এবং ১২ বৎসরের কম বয়স্ক শিশু যে যথেষ্ট পরিণত বোধসম্পন্ন হয়নি [not attained sufficient maturity] বা অপরিণত বোধসম্পন্ন শিশুর কাজ সাধারণ ব্যতিক্রমের আওতায় পড়বে এবং এমন শিশুর কার্য অপরাধ মর্মে গণ্য হবেনা। কিন্তু প্রশ্নের (গ) অপশনে ১২ বছরের কম বয়স্ক পরিণত বোধসম্পন্ন শিশুর [matured child] কাজ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, এমন শিশুর কার্য বলা হয়েছে, যে তার কার্যের প্রকৃতি এবং ফলাফল বুঝতে যথেষ্ট পরিণত বোধসম্পন্ন [matured] এবং এই কারণে তার কার্য সাধারণ ব্যতিক্রমের আওতায় পড়বেনা এবং তার কার্য অপরাধ মর্মে গণ্য হবে। অন্যদিকে, খুন আমলযোগ্য অপরাধ হওয়ায়, পুলিশ বিনা পরোয়ানায় খুনিকে গ্রেপ্তার করতে পারে এবং এটা আইনে অনুমোদিত ক্ষমতা। আদালতের রায় অনুযায়ী সম্পাদিত কাজ ৭৮ ধারা অনুসারে, সদবিশ্বাসে কৃত কোনো কাজ ৯২ ও ৯৩ ধারা অনুসারে সাধারণ ব্যতিক্রমের আওতায় পড়বে।

♦ সাক্ষ্য আইনের ১০৫ ধারামতে দন্ডবিধির সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহ সহ যে কোন ব্যতিক্রম প্রমানের দায়িত্ব আসামীর।
৫২.
The Penal Code, 1860 অনুসারে কোনো ব্যক্তি অপর কোনো ব্যক্তির ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে কোনো কিছু করলে কাজটি ___________ করেছে বলে গণ্য হবে।
  1. অণ্যায়ভাবে
  2. বেআইনীভাবে
  3. অসাধুভাবে
  4. অবৈধভাবে
ব্যাখ্যা
♦ The Penal Code, 1860  এর ধারা-২৪ অনুসারে: অসাধুভাবে (Dishonestly)- কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির প্রতি অবৈধ লাভ বা অবৈধ ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে কোন কিছু করলে উক্ত ব্যক্তি উক্ত কাজটি অসাধুভাবে করেছে বলে গণ্য হবে।
৫৩.
X ও Y, Z কে পৃথক সময়ে ক্ষুদ্র মাত্রার বিষ প্রয়োগে খুন করার চুক্তি করে চুক্তি মোতাবেক বিষ প্রয়োগ করে। কিন্তু X এর প্রদত্ত বিষের মাত্রার কারণে Z মারা যায়। উক্ত মৃত্যুর জন্য কে/কারা দায়ী?
  1. শুধু X
  2. শুধু Y
  3. তারা উভয়ই
  4. কেউই নয়
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ৩৭ ধারা অনুযায়ী যখন কতিপয় কার্যের মাধ্যমে অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়, তখন কেউ কতিপয় কাজের মধ্যে একটি সম্পাদনের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনে সহযোগীতা করলে উক্ত সহযোগীতাকারী ব্যক্তি অন্য অপরাধীদের সাথে যৌথভাবে সমান দায়ী হবে। অর্থাৎ একই অভিপ্রায় বিদ্যমান না থাকলেও একজন অপরাধীর কাজ যদি অপর অপরাধীর কাজের সহায়ক বা সমর্থনমূলক হয়, তাহলে উভয়ই দায়ী হবে।

♦ যেমন- ক ও খ পৃথকভাবে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মাত্রায় বিষ প্রয়োগ করে ফ-কে খুন করার জন্য একমত হয়। ক ও খ, ফ- কে খুন করার উদ্দেশ্যে চুক্তি অনুযায়ী বিষ প্রয়োগ করে। ফ-এর প্রতি অনুরূপভাবে প্রযুক্ত কতিপয় মাত্রা বিষ প্রয়োগের ফলে ফ-এর মৃত্যু হয়। এখানে ক ও খ ইচ্ছাপূর্বকভাবে খুন সংঘটনে সহযোগিতা করে এবং তারা প্রত্যেকেই এইরূপ একটি কার্য সম্পাদন করে যা দ্বারা মৃত্যু সংঘটিত হয়। সুতরাং যদিও ক ও খ এর কার্যসমূহ স্বতন্ত্র তবুও উভয়েই ফ-কে খুনের অপরাধে দায়ী। [প্রশ্নটি দন্ডবিধির ৩৭ ধারার উদাহরণ ক থেকে দেয়া হয়েছে।]
৫৪.
The Penal Code, 1860 এর কোন ধারায় ‘প্রতারণা’ এর সংজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে?
  1. ৪১৫
  2. ৪০৬
  3. ৪১৭
  4. ৪২০
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ৪১৫ ধারায় প্রতারণার বিধান রয়েছে। প্রতারণা বলতে ফাঁকি দিয়ে বা মিথ্যা বর্ণনার দ্বারা কাউকে এমনভাবে প্রভাবিত করা যে, প্রতারিত ব্যক্তি যেন প্রতারণাকারীর ইচ্ছামাফিক কোন কাজ করে যা প্রতারিত ব্যক্তির দেহ, মন, সুনাম বা সম্পত্তির ক্ষতি করে (damage or harm to that person in body,mind,reputation or property) অথবা প্রতারিত ব্যক্তিকে কোন কাজ করতে বা না করতে বা সম্পত্তি অর্পনে বাধ্য করে।

♦ যে ব্যক্তি প্রতারণা করেন তাকে প্রতারণাকারী বলে, অন্যদিকে যে ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হন তাকে প্রতারিত বলে ।

♦ উদাহরণ-: কোন পণ্যের উপর কোন নকল মার্কা দিয়ে ক, প্রবঞ্চনামূলকভাবে চ-কে বিশ্বাস করায় যে, পণ্যটি কোন প্রসিদ্ধ কোম্পানির তৈরি। এর দ্বারা ক, চ-কে সেই পণ্যটি ক্রয় করতে ও মূল্য প্রদান করতে প্ররোচিত করে। এখানে ক, চ-এর সাথে প্রতারণা করেছে।
৫৫.
The Penal Code, 1860 এর কোন অধ্যায়ে সাধারণ ব্যতিক্রমসূহ বর্ণিত হয়েছে?
  1. দ্বিতীয়
  2. তৃতীয়
  3. চতুর্থ
  4. পঞ্চম
ব্যাখ্যা
♦  দণ্ডবিধির ৪র্থ অধ্যায়ে ফৌজদারী দায়ের সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহ আলোচনা করা হয়েছে। দণ্ডবিধির ৭৬ থেকে ১০৬ ধারায় কিছু কার্য এবং কার্যবিরতিকে [Acts and omission] ফৌজদারী দায় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এ সকল কার্য বা কার্যবিরতি গুলোকে ফৌজদারী দায়ের সাধারণ ব্যতিক্রম [General Exceptions) বলে।

♦  সাক্ষ্য আইনের ১০৫ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি যদি দাবি করে তার কার্য বা কার্যবিরতি দণ্ডবিধির ৭৬ থেকে ১০৬ ধারায় উল্লেখিত কোন সাধারণ ব্যতিক্রমের মধ্যে পড়ে, তবে তা প্রমাণের ভার উক্ত ব্যক্তির উপর বর্তায়
৫৬.
কয়টি ক্ষেত্রে শরীরের ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষা অধিকার মৃত্যু ঘটানোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য?
ব্যাখ্যা
♦  দন্ডবিধির ১০০ ধারামতে দেহ বা শরীরকে প্রতিরক্ষার জন্য ৬টি ক্ষেত্রে আক্রমণকারীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো যায়। যথা-
i) এমন আক্রমন যা মৃত্যু ঘটাতে পারে
ii) এমন আক্রমন যা গুরুতর আঘাত তৈরী করতে পারে 
iii) ধর্ষণের ক্ষেত্রে 
iv) অপ্রকৃত কাম লালসার ক্ষেত্রে 
v) মনুষ্যহরণ বা অপহরণের চেষ্টা করলে 
vi) আইনের আশ্রয় নিতে বাধা দিতে অবৈধভাবে আটক করলে
৫৭.
শরীরের ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকারের স্থিতিকাল _______
  1. মেয়াদহীন
  2. যুক্তিযুক্ত আতঙ্ক থাকা পর্যন্ত
  3. অপরাধের পর ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত
  4. আসামী ধরা না পড়া পর্যন্ত
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ১০২ ধারায় দেহ বা শরীর রক্ষার জন্য আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার কখন আরম্ভ হবে এবং উক্ত অধিকার কতক্ষন পর্যন্ত বহাল থাকবে তা আলোচনা করা হয়েছে।

দেহের প্রতি আক্রমন বা বিপদের যুক্তিযুক্ত আতংক সৃষ্টি হওয়ার সাথে সাথে (reasonable apprehension of danger) অথবা আক্রমন যদি এমন আশঙ্কা সৃষ্টি করে যে আক্রান্ত ব্যক্তি মনে করেন যে তিনি গুরুতর আঘাত পাবেন, সে সময় থেকেই দেহ সম্পর্কিত আত্মরক্ষার অধিকার শুরু হয় ।

অন্যদিকে যতক্ষন পর্যন্ত তদ্রূপ আক্রমনের উদ্যোগ বা আতংক কেটে না যায় ততক্ষন পর্যন্ত আত্মরক্ষার অধিকার বিদ্যমান থাকে।
৫৮.
The Penal Code, 1860 অনুযায়ী সর্বনিম্ন কত জনের অংশগ্রহণে বেআইনী সমাবেশ সংঘটিত হয়?
  1. ১০
ব্যাখ্যা
♦দন্ডবিধির ১৪১ ধারায় বেআইনী সমাবেশের বিধান রয়েছে। পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি জনসাধারণের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী কোন সমাবেশ করলে তাকে বেআইনী সমাবেশ বা Unlawful Assembly বলে।

♦ দন্ডবিধির ১৪১ ধারামতে ৫ বা ততোধিক ব্যক্তি কর্তৃক সৃষ্ট সমাবেশে নিম্নলিখিত ৫টি সাধারণ উদ্দেশ্য বা common object থাকলে তা বেআইনী সমাবেশ বলে গণ্য হবে। যথা-

i) সরকার, সরকারি কর্মচারী বা আইনসভাকে আইনসম্মত ক্ষমতা প্রয়োগকালে বাধা বা বলপ্রয়োগের হুমকি দান।
ii) আইনগত ব্যবস্থা বাস্তবায়নে বাধা ।
iii) অনিষ্ট, অপরাধজনক অনধিকার প্রবেশ বা অপর কোন অপরাধ সংঘটন ।
iv) অপরাধজনক বলপ্রয়োগ পূর্বক সম্পত্তি অর্জন বা কোন ব্যক্তিকে রাস্তা বা পানি ব্যবহার বা দখল থেকে বঞ্চিত।
v) কোন ব্যক্তিকে যা করতে বাধ্য নয় তা করাতে ও যা করতে বাধ্য তা থেকে বিরত রাখতে বাধ্য করা।

♦ বেআইনী সমাবেশ হওয়ার জন্য সর্বনিম্ন ৫ জন ব্যক্তি এবং ১৪১ ধারায় উল্লেখিত ৫ ধরনের সাধারণ উদ্দেশ্যের (common object) যে কোন একটি উদ্দেশ্য অবশ্যই থাকতে হবে।
৫৯.
রাষ্ট্রদ্রোহের সর্বোচ্চ কারাদণ্ড কী?
  1. ৩ বছর
  2. ৭ বছর
  3. ১০ বছর
  4. যাবজ্জীবন
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ১২৪ক তে বলা হয়েছে- রাষ্ট্রদ্রোহীতার শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাথে অর্থদণ্ড বা ৩ বছর মেয়াদী কারাদণ্ডের সাথে অর্থদণ্ড।
৬০.
মারামারি (Affray) সংঘটনের জন্য সর্বনিম্ন কতজনের অংশগ্রহণ আবশ্যক?
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ১৫৯ ধারায় মারামারির বিধান রয়েছে। যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোন প্রকাশ্য স্থানে মারামরি করে শান্তিভঙ্গ করে, তবে তারা “মারামারি” করেছে বলে পরিগণিত হয়।

♦দন্ডবিধির ১৬০ ধারায় মারামারির শাস্তি বিধান রয়েছে । কোন ব্যক্তি যদি মারামারির অপরাধ সংঘটন করে, তবে সে ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা একশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

♦ মারামারি (Affray) সংঘটনের জন্য সর্বনিম্ন দুইজনের অংশগ্রহণ আবশ্যক।
৬১.
‘অপরাধীকে আশ্রয় দান দণ্ডনীয়’ অপরাধ সংক্রান্ত বিধান নিম্নের কোন সর্ম্পকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. পিতা-পুত্র
  2. সন্তান-বৈধ অভিভাবক
  3. স্বামী-স্ত্রী
  4. ভাই বোন
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির  ২১২ ধারায় অপরাধীকে আশ্রয় দান করার বিষয়ের বিধান রয়েছে।
কোন অপরাধ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দোষী বলে জ্ঞাত করা থাকা সত্ত্বেও অথবা সে দোষী বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও তাকে আইনের সাজা হতে বাচাবার উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখে বা আশ্রয়দান করে, সেক্ষেত্রে- দোষী ব্যক্তি যদি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় (if a capital offence):- যদি অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

♦ দোষী ব্যক্তি যদি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় (if punishable with imprisonment for life, or with imprisonment):-
যদি অপরাধটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে কিংবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

♦যদি অপরাধটি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় এবং দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় না হয়, তবে সে ব্যক্তি সে অপরাধটির জন্য বিহিত প্রকারের কারাদণ্ডের দীর্ঘতম মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে

♠ ব্যতিক্রম (Exception):- দোষী ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী অনুরূপ আশ্রয়দান করলে বা লুকিয়ে রাখলে তখন এই বিধান প্রয়োগযোগ্য হবে না।
৬২.
বেঞ্চ সহকারী কর্তৃক আদালতের রায় পরিবর্তন করে নথিতে সামিল করলে তার জন্য সর্বোচ্চ কারাদণ্ড কত বছর?
  1. ১০
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ধারা ২১৯ মতে বিচার বিষয়ক কার্যক্রম আইন বিরোধী বলিয়া জানা সত্ত্বেও সরকারী কর্মচারী কর্তৃক দুর্নীতিমূলক উপায়ে আদেশ, রির্পোট, রায় বা সিদ্ধান্ত প্রণয়ন বা ঘোষণা করাঃ
♦ কোন ব্যক্তি যদি কর্মচারী হিসেবে কোন বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের কোন পর্যায়ে কোন রিপোর্টক, আদেশ, রায় বা দুর্নীতিমূলকভাবে বা দুরভিসন্ধিমূলকভাবে প্রণয়ন করে বা ঘোষণা করে, যা আইন বিরুদ্ধ বলে সে জানে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
৬৩.
The Penal Code, 1860 এর কোন ধারায় 'Culpable Homicide' এর উপাদান বর্ণিত হয়েছে?
  1. ২৯৯
  2. ৩০০
  3. ৩০২
  4. ৩০৭
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ২৯৯ ধারায় নিন্দনীয় নরহত্যার সংজ্ঞা (Culpable homicide)- কোন ব্যক্তিকে প্রত্যক্ষভাবে হত্যা না করে এমন কাজ করা যা তার মৃত্যু ঘটায় তাই হলো নিন্দনীয় নরহত্যা বা Culpable homicide।
♦ দন্ডবিধির ২৯৯ ধারামতে নিম্নলিখিত ৩টি ক্ষেত্রে কোন কাজ নিন্দনীয় নরহত্যা বলে গণ্য হবে। যথা-
i) মৃত্যু ঘটানোর উদ্দেশ্য (with the intention of causing death); অথবা
ii) দৈহিক জখমের উদ্দেশ্যে( with the intention of causing such bodily injury); অথবা
iii) মৃত্যু ঘটতে পারে এরকম জ্ঞান নিয়ে (with the knowledge that he is likely by such act to cause death) কোন কাজ করার ফলে কোন ব্যক্তির মৃত্যু হলে তা নিন্দনীয় নরহত্যা বা Culpable homicide বলে গণ্য হবে।

♦ যেমন- ক একটি কূপের মুখে আড়াআড়িভাবে বাঁশের কঞ্চি পেতে তার উপর ঘাসের পাতা এই উদ্দেশ্যে বিছিয়ে দেয় যাতে কারো মৃত্যু ঘটে অথবা মৃত্যু ঘটতে পারে। চ শক্ত মাটি মনে করে উক্ত ঘাস বিছানো কূপের উপর দিয়ে চলতে গিয়ে কূপের ভিতর পড়ে নিহত হয়। এখানে ক শাস্তিযোগ্য নরহত্যা বা নিন্দনীয় নরহত্যার অপরাধ করেছে।

♦ অর্থাৎ The Penal Code, 1860 এর ২৯৯ ধারায় 'Culpable Homicide' এর উপাদান বর্ণিত আছে। 
৬৪.
নিম্নের কোন অপরাধের শাস্তি শুধু অর্থদণ্ড?
  1. আপ্যায়নের মাধ্যমে ঘুষ গ্রহণ
  2. অনিষ্ট
  3. অনধিকার গৃহে প্রবেশ
  4. অশ্লীল পুস্তুক বিক্রয়
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ধারা-১৭১(ঙ) বিধান মতে নির্বাচনে ঘুষখোরীর শাস্তি (Punishment of bribery in election)- অনধিক ১ বছর কারাদন্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়।

♦ তবে আপ্যায়ন কর্তৃক ঘুষখোরীর অপরাধ হলে কেবল অর্থদন্ডে দন্ডিত করা হবে ।

♦ “আপ্যায়ন” বলতে খাদ্য, পানীয়, প্রমোদ বা রসদ আকারে পারিতোষিক কর্তৃক ঘুষখোরী বুঝায় ।
৬৫.
X লাঠি হাতে নিয়ে Y কে বলে, ‘আমি তোমাকে পিটাবো।’ এর দ্বারা X এর কৃত অপরাধ ________
  1. আক্রমণ
  2. আঘাত
  3. বল প্রয়োগ
  4. আঘাতের চেষ্টা
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ৩৫১ ধারায় আক্রমণের বিধান রয়েছে। যখন কোন প্রকার অঙ্গভঙ্গী বা প্রস্তুতি যা কোন অপরাধজনক বল প্রয়োগের সম্ভাবনা তৈরি করে, কিন্তু প্রকৃত পক্ষে অপরাধজনক বল প্রয়োগ করা হয়না তখন তাকে আক্রমণ বলে।

♦ শুধু মুখের কথার মাধ্যমে আক্রমণ হবে না, আক্রমণের ক্ষেত্রে অবশ্যই কথার সাথে অঙ্গভঙ্গি(Gesture) বা প্রস্তুতি (preparation) থাকতে হবে।

♦ উদাহরণ-৩: ক একটি ছড়ি ঘুরাইতে ঘুরাইতে চ-কে বলল, “তোমাকে পিটুনি দেব।” এখানে শুধুমাত্র ক-এর মুখের কথাগুলো আক্রমণ বলে গণ্য হবেনা, কিন্তু এখানে যেহেতু ক-এর মুখের কথাগুলোর সাথে ছুড়ি ঘুরানোর অঙ্গভঙ্গি রয়েছে, তাই ক-এর মুখের কথাগুলো এবং অঙ্গভঙ্গি মিলে তা আক্রমণ বলে গণ্য হবে।
৬৬.
X সদবিশ্বাসে Y এর একটি ঘড়ি তার (X) নিজের মনে করে নিয়ে যায় এবং তা ব্যবহার করতে থাকে। X এর কৃত কাজ -
  1. অপারধ নয়
  2. চুরি
  3. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ
  4. প্রতারণা
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ৩৭৮ ধারায় চুরির বিধান রয়েছে। ৩৭৮ ধারামতে কোন ব্যক্তির দখল থেকে সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি (Movable property) অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্যে স্থানান্তর করলে বা সরানো হলে তা চুরি বলে গণ্য হবে। অন্যভাবে বলা যায়, যদি কোন ব্যক্তি কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্যে সম্পত্তির দখলে থাকা ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া উক্ত সম্পত্তি স্থানান্তর করে তবে তা চুরি বলে গণ্য হবে।

♦ দন্ডবিধির ৩৭৮ ধারার উদাহরণ-৪: ক সরল মনে গ-এর সম্পত্তি নিজের সম্পত্তি বলে বিশ্বাস করে গ-এর দখল হতে নিয়ে যায়। এখানে যেহেতু ক অসাধুভাবে সম্পত্তিটি নিয়ে যায় নাই, সেহেতু সে চুরি করেছে বলে গণ্য হবে না।

অর্থাৎ X এর কৃত কাজ অপারধ নয়।
৬৭.
তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে X, Y কে গুরুতর আঘাত করলে তিনদিন পর Y মারা যায়। The Penal Code, 1860 এর কোন ধারায় X অপরাধ করেছে?
  1. ৩০৭
  2. ৩২৫
  3. ৩০২
  4. ৩০৪
ব্যাখ্যা
♦ The Penal Code, 1860 এর  ৩০৪ ধারায় নিন্দনীয় নরহত্যার জন্য ২ ধরণের শাস্তি রয়েছে। যথা- মৃত্যুর অভিপ্রায় ব্যতীত নিন্দনীয় নরহত্যা হলে শাস্তি অনধিক ১০ বছর কারাদন্ড বা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ড মৃত্যুর অভিপ্রায় নিয়ে নিন্দনীয় নরহত্যা হলে শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা অনধিক ১০ বছর কারাদন্ড এবং অর্থদন্ড।

♦ তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে X, Y কে গুরুতর আঘাত করলে তিনদিন পর Y মারা যায়। X মৃত্যুর অভিপ্রায় ব্যতীত নিন্দনীয় নরহত্যা করেছে তাই তার অপরাধ  The Penal Code, 1860 এর ৩০৪ ধারার বিধান অনুযায়ী গণ্য হবে বা শাস্তি হবে। 
৬৮.
X, Y এর নাকে ঘুষি মেরে নাক ভেঙ্গে দেয়। The Penal Code, 1860 এর কোন ধারায় X অপরাধ করেছে?
  1. ৩২৩
  2. ৩২৪
  3. ৩২৫
  4. ৩২৬
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ধারা-৩২২ তে স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দানের সংজ্ঞা (voluntarily causing grievous hurt) - কাউকে যদি ইচ্ছাকৃতভাবে (intentionally) জেনে গুরুতর আঘাত প্রদান করা হয়, তাহলে তাকে স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দান বলা হয়

♦ যদি কোন লোক প্রকৃতপক্ষে গুরুতর আঘাত দেয় এবং গুরুতর আঘাত দেয়ার ইচ্ছা পোষণ করে অথবা গুরুতর আঘাত দিতে পারে বলে জানে, তবে সে ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দিয়েছে বলে গণ্য হবে। অন্যথায় সে ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দিয়েছে বলে গণ্য হবে না

দন্ডবিধির ৩২৫ ধারায় স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাতের শাস্তি হল অনধিক ৭ বৎসর কারাদন্ড এবং অর্থদন্ড।

♦ X, Y এর নাকে ঘুষি মেরে নাক ভেঙ্গে দেয়। The Penal Code, 1860 এর ৩২৫ ধারায় X অপরাধ করেছে

♦ দন্ডবিধির ৩২৫ ধারার একটি ব্যতিক্রম ক্ষেত্র হল ৩৩৪ ধারা; অন্যদিকে ৩২৬ ধারার ব্যতিক্রম হল ৩৩৫ ধারা
৬৯.
X এর বাবা মৃত Y একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। Z, X এর নিকট Y এর সুনাম ক্ষুন্ন করার ভয় দেখায়। Z এর কৃত কাজ
  1. অপরাধ নয়
  2. অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন
  3. কথা দ্বারা অনিষ্ট
  4. মানহানি
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ৫০৩ ধারায় অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তিকে আতঙ্কিত করার জন্য উক্ত ব্যক্তির সম্পত্তি বা সুনাম বা দেহের ক্ষতি (injury to property, reputation or person) করার ভয় বা হুমকি (threat) দেখানো হলে, তাকে অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন বা Criminal Intimidation বলে।

♦ যেমন- ক, খ-কে একটি দেওয়ানি মামলা পরিচালনা করা থেকে বিরত রাখার জন্য খ-এর বাড়ি পুড়িয়ে ফেলার হুমকি প্রদান করে। এখানে ক অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের দায়ে অপরাধী হবে ।

♦ ভীতি প্রদর্শিত লোকের স্বার্থ নিহিত রয়েছে এমন কোন মৃত লোকের সুনাম নষ্ট করার ভীতি প্রদর্শনও ৫০৩ ধারার অপরাধ বলে গণ্য হবে। যেমন- কামাল, রফিককে একটি কাজ করা থেকে বিরত রাখার জন্য রফিকের মৃত বাবার নামে কুৎসা রটানের হুমকি প্রদান করে। এখানে কামাল অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের দায়ে অপরাধী হবে ।
৭০.
The Penal Code, 18760 এর ধারা -৪৯৯ এ বর্ণিত মানহানির সংজ্ঞার কয়টি ব্যতিক্রমের উল্লেক্ষ আছে?
  1. ১০
ব্যাখ্যা
♦ পেনাল কোড-এর ৪৯৯ ধারায় মানহানি বা defamation এর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে এবং সেখানে মোট ১০ টি ব্যতিক্রম সাপেক্ষে এই অপরাধ সংঘটনের কথা বলা আছে।
♦ ৪৯৯ ধারায় ১০টি  ব্যতিক্রম নিচে দেয়া হল-
১) জনস্বার্থে বা জনগণের কল্যাণের জন্য কারো প্রতি সত্য-দোষারোপ করা হলে তা মানহানি হবে না।
২) জনগণের প্রতি সরকারি কর্মচারীর আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে কোন অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৩) কোন জনসমস্যা/গণসমস্যা সম্পর্কে কোন ব্যক্তির আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৪) কোন আদালতের কার্য বিবরণীর রিপোর্ট প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৫) আদালত কর্তৃক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এমন কোন ফৌজদারি বা দেওয়ানি মোকদ্দমার দোষ, গুণ বা সাক্ষী বা সাক্ষ্যের সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে কোন অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৬) কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার জনগণের উপর ন্যস্ত করা হলে তখন এ বিষয়ে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়। যেমন- কোন ব্যক্তি কোন বই প্রকাশ করলে বা প্রকাশ্য স্থানে বক্তৃতা দিলে তখন তা বিচার করার জন্য জনগণের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।
৭) অন্যের উপর আইনসম্মতভাবে ক্ষমতা রয়েছে এমন ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে কোন নিন্দা করলে তা মানহানি হবে না।
৮) ক্ষমতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তির নিকট সৎ বিশ্বাসে অভিমত দেয়া হলে তা মানহানি বলে গণ্য হবে না। যেমন- পুলিশের কাছে কারো ব্যাপারে অভিযোগ করা ।
৯) কোন ব্যক্তি নিজের বা অন্যের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে বা জনস্বার্থে সৎ বিশ্বাসে কোন দোষারোপ করলে তা মানহানি নয়।
১০) জনকল্যাণে সৎ বিশ্বাসে কোন ব্যক্তিকে সতর্ক করে কিছু বলা হলে তা মানহানি হবে না ।

♦ শান্তি: ধারা ৫০০ অনুযায়ী, মানহানি অপরাধের শাস্তি- ২ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়।
৭১.
The Evidence Act, 1872 এর বিধান অনুযায়ী বিবাহ বিচ্ছেদের পর সর্বোচ্চ _______ দিনের মধ্যে জন্ম হলে এবং ‍উক্ত সময়ের মধ্যে জন্মদাত্রী অবিবাহিত থাকলে বা কারো সাথে দৈহিক সম্পর্ক না হলে বৈধ সন্তানরূপে প্রমাণিত হবে।
  1. ৩ মাসের ইদ্দতকালীন সময়
  2. ৩০০ দিন
  3. ১০ মাস ১০ দিন
  4. ২৮০ দিন
ব্যাখ্যা
♦ The Evidence Act, 1872 এর ১১২ ধারা মতে বৈধ বিবাহ বলবৎকালে অথবা বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার পর মাতা অবিবাহিত থাকা অবস্থায় বিবাহ বিচ্ছেদের ২৮০ দিনের মধ্যে কোন সন্তানের জন্য হলে তাকে ঐ পিতা-মাতার বৈধ সন্তান হিসেবে চূড়ান্ত প্রমান বলে গন্য করা হয়। অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের ১১২ ধারামতে কোন সন্তান বৈধ বলে অনুমান করা হবে যদি-
i) বিবাহ থাকাকালীন অবস্থায় উক্ত সন্তান জন্ম গ্রহণ করে,অথবা
ii) বিবাহ বিচ্ছেদের ২৮০ দিনের মধ্যে উক্ত সন্তান জন্মগ্রহণ করে এবং উক্ত সময়ে সন্তানটির মাতা অবিবাহিত থাকে।

♦  তবে যদি দেখানো হয় যে উক্ত সন্তান যে সময়ে গর্ভে আসে সে সময় উক্ত স্বামী ও স্ত্রীর একে অন্যের নিকট গমনের সুযোগ ছিলনা, তাহলে সন্তানটি উক্ত মায়ের স্বামীর বৈধ সন্তান বলে গন্য হবে না।
♦ অর্থাৎ “Presumption of Paternity” খন্ডনযোগ্য এবং এটি non-access প্রমাণের মাধ্যমে খন্ডন করা যায়।
৭২.
The Evidence : Act, 1872 অনুযায়ী নিম্নের কোনটি সঠিক নয়?
  1. মানচিত্র একটি দলিল
  2. মুদ্রিত বই একটি দলিল
  3. ব্যঙ্গচিত্র দলিল নয়।
  4. বে-সরকারি দপ্তরের হিসাব বই একটি দলিল
ব্যাখ্যা
♦ The Evidence : Act, 1872 এরে ধারা ৩ মতে দলিল (Document)- দলিল বা Document বলতে কোন পদার্থের উপর অক্ষর, সংখ্যা বা চিহ্নের (letters, figures or marks) সাহায্যে প্রকাশিত বা বর্ণিত কোন বিষয়কে বোঝায়।
♦ সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী যে কোন লিখনই দলিল বলে গণ্য হয়। মুদ্রিত, লিথোগ্রাফ বা ফটোগ্রাফকৃত যে কোন কথাও দলিল বলে গণ্য হবে (Words printed, lithographed or photographed are documents)।
♦ কোন মানচিত্র বা নকশা, কোন ধাতু খন্ড বা প্রস্তর খন্ডের উপর খোদাইকৃত কোন বিষয় অথবা কোন ব্যঙ্গচিত্র (caricature) দলিল বলে গণ্য হবে।
৭৩.
The Evidence Act, 1872 এর কোন ধারাটি জেরায় ‘আইনসঙ্গত প্রশ্ন’ সম্পর্কিত?
  1. ১৩৯
  2. ১৪১
  3. ১৪৫
  4. ১৪৬
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ধারা-১৪৬ তে জেরার আইনসঙ্গত প্রশ্নের নিধান আছে- সাক্ষ্য আইনের ১৪৬ ধারামতে নিম্নলিখিত উদ্দ্যেশ্যে জেরা করা যায়। যথা-
আসামীর সত্যবাদিতা, পরিচয় ও মর্যাদা উদঘাটন এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা। 
সাক্ষীর মুখ দিয়ে জেরাকারীর পক্ষে কথা বের করা: এবং
সাক্ষীর বিশ্বাস যোগ্যতা খন্ডন করার মাধ্যমে প্রদত্ত সাক্ষ্যকে বিশ্বাসের অযোগ্য করে তোলার উদ্দ্যেশ্যে জেরা করা যায়।

সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৪৬ঃ জেরায় আইনসঙ্গত প্ৰশ্ন বিধান হল
যখন সাক্ষীকে জেরা করা হয় তখন ইতিপূর্বে উল্লিখিত প্রশ্নসমূহ ব্যতীতও এমন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যাইতে পারে, যদ্বারাঃ
তাহার সত্যবাদীতা পরীক্ষা করা যায় ।
তাহার পরিচয় ও মর্যাদা জানা যায়, অথবা
তাহার চরিত্রের প্রতি আঘাত করিয়া তাহার বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করা যায়,
♦ যদিও প্রশ্নের উত্তরের দ্বারা তিনি বা পরোক্ষভাবে অপরাধের সহিত জড়িত হইতে পারেন অথবা তিনি দন্ড লাভের যোগ্য সাব্যস্ত হইতে পারেন কিংবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাহার দন্ড লাভের যোগ্য সাব্যস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকে।
৭৪.
নিম্নের কোনটি 'Principle of Estoppel' সম্পর্কে সঠিক নয়?
  1. এটি সংবিধিবদ্ধ আইনের বিরুদ্ধে কাজ করে না
  2. এটি আইনগত বিষয়ে প্রযোজ্য নয়
  3. এটির জন্য প্রতারণামূলক অভিপ্রায় আবশ্যক নয়
  4. এটি দ্ব্যর্থবোধক হতে পারে
ব্যাখ্যা
♦ ধারা-১১৫: স্বকার্যজনিত বাধা বা প্রতিবন্ধক (Estoppel) - সাক্ষ্য আইনে estoppel শব্দটি বহুল পরিচিত। সাধারণতঃ স্বকার্যজনিত বাধা বা Estoppel হচ্ছে যা একবার স্বীকার করে নেয়া হয় তা পরবর্তীতে অস্বীকার করার বাধা। অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের যে নীতি কোন ব্যক্তিকে তার পূর্বে প্রদত্ত কোন বক্তব্যকে পরবর্তীতে অস্বীকার করতে বিরত রাখে তা Estoppel বা প্রতিবন্ধক বা স্বকার্যজনিত বাধা নামে পরিচিত। মূলতঃ কোন ব্যক্তির পরষ্পর বিরোধী বক্তব্য গ্রহণীয় নয়, এটাই এস্টপলের মূলনীতি। অর্থাৎ Principle of Estoppel দ্ব্যর্থবোধক হতে পারে না।

♦ সাক্ষ্য আইনের ১১৫, ১১৬ ও ১১৭ ধারায় এস্টপেল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৮ ধারায় এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৪৩ ধারায় Estoppel সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
সাক্ষ্য আইনের ১১৫ ধারায় বলা হয়েছে যখন কোন ব্যক্তি তার ঘোষনা, কাজ বা কার্যবিরতি দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য ব্যক্তিকে কোন বিষয়কে সত্য বলে বিশ্বাস করিয়েছেন এবং সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতে উক্ত ব্যক্তিকে কোন কাজ করতে বলেছেন, তখন উক্ত ব্যক্তি বা তার মধ্যে অথবা তাদের প্রতিনিধিদের মধ্যে কোন মামলায় প্রথমোক্ত ব্যক্তি বা তার প্রতিনিধি তার পূর্বে প্রদত্ত ঘোষণা, কার্য বা কার্য বিরতির বিষয়টি অস্বীকার করতে পারবে না”।

♦আইনের পরিস্থিতি প্রতিবন্ধক হতে পারে কিনা- প্রতিবন্ধক বা Estoppel এর নিয়মটি ঘটনা বিষয়ক প্রশ্নে প্রযোজ্য হয়, আইন বিষয়ে নয়। অর্থাৎ আইন বলে কেউ যদি কোন অধিকার লাভ করে সেক্ষেত্রে Estoppel নীতি প্রয়োজ্য হবেনা।

♦ কোন আইনের বিধান বা আইন বলে পাওয়া অধিকারকে Estoppel নীতি প্রভাবিত করে না।

যেমন- কেউ যদি তার পিতার নিকট থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে কোন সম্পত্তির অধিকারী হয়, তাহলে সে ঐ সম্পত্তি নেবেনা বললেই পরবর্তীতে ঐ সম্পত্তি নিতে বাধাগ্রস্থ হবেনা। কারণ এটি তার আইন দ্বারা সৃষ্ট অধিকার। সুতরাং, আইনের পরিস্থিতি প্রতিবন্ধক হতে পারেনা।
৭৫.
সর্বনিম্ন কত বছর বয়সী শিশু আদালতে সাক্ষী হিসাবে সাক্ষ্য দিতে পারে?
  1. ১২
  2. ১৬
  3. ১৮
  4. কোনো বয়সসীমা নেই
ব্যাখ্যা
♦ আদালতের বিচার কার্যক্রমে কারা সাক্ষ্য দিতে পারবে সে সম্পর্কে সাক্ষ্য আইনের ১১৮ ধারায় বলা হয়েছে। সাক্ষ্য আইনের ১১৮ ধারামতে জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন বুঝতে ও যুক্তিসংগত উত্তর দিতে সক্ষম যে কোন ব্যক্তি সাক্ষ্য দিতে পারে।

♦ সাধারণত অল্প বয়স্ক শিশু, অতিবৃদ্ধ ব্যক্তি, দৈহিক বা মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি, মাতাল অথবা পাগল ব্যক্তি সাক্ষী হিসেবে অযোগ্য অর্থাৎ তারা সাক্ষ্য দিতে পারে না; তবে যদি তারা জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন বুঝতে ও যুক্তিসংগত উত্তর দিতে সক্ষম হয় তাহলে সাক্ষী হিসেবে যোগ্য বলে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে তাদের বয়স, দৈহিক বা মানসিক অবস্থা সাক্ষ্য প্রদানে বাধার সৃষ্টি করবেনা ।
৭৬.
The Evidence Act, 1872 অনুযায়ী সাক্ষী হিসাবে যোগ্যতার মানদণ্ড কী?
  1. শারিরীক সুস্থতা
  2. মোকদ্দমা সম্পর্কে জ্ঞান
  3. জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন বুঝতে ও উত্তর দিতে পারা
  4. প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া
ব্যাখ্যা
♦ আদালতের বিচার কার্যক্রমে কারা সাক্ষ্য দিতে পারবে সে সম্পর্কে সাক্ষ্য আইনের ১১৮ ধারায় বলা হয়েছে। সাক্ষ্য আইনের ১১৮ ধারামতে জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন বুঝতে ও যুক্তিসংগত উত্তর দিতে সক্ষম যে কোন ব্যক্তি সাক্ষ্য দিতে পারে।

♦ সাধারণত অল্প বয়স্ক শিশু, অতিবৃদ্ধ ব্যক্তি, দৈহিক বা মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি, মাতাল অথবা পাগল ব্যক্তি সাক্ষী হিসেবে অযোগ্য অর্থাৎ তারা সাক্ষ্য দিতে পারে না; তবে যদি তারা জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন বুঝতে ও যুক্তিসংগত উত্তর দিতে সক্ষম হয় তাহলে সাক্ষী হিসেবে যোগ্য বলে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে তাদের বয়স, দৈহিক বা মানসিক অবস্থা সাক্ষ্য প্রদানে বাধার সৃষ্টি করবেনা ।
৭৭.
The Evidence Act, 1872 এর ________ ধারায় অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে।
  1. ১০
ব্যাখ্যা
The Evidence Act, 1872 এর ৮ ধারার বিধান বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের অভিপ্রায়, প্রস্তুতি এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কার্যসমূহ (Motive, preparation and previous or subsequent conduct)- যে সকল ঘটনা বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের অভিপ্রায় (Motive), প্রস্তুতি (Preparation) এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কার্য (Previous or Subsequent Conduct) হিসেবে গণ্য হয়, সে সকল ঘটনাকে সাক্ষ্য আইনের ৮ ধারায় প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে।

সাধারণত অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে Motive প্রমাণ করতে হয় না। তবে বাদী যখন Motive দাবী করে ও মামলাটা যদি শুধুমাত্র Circumstantial evidence এর উপর নির্ভর করে তখন Motive প্রমাণ করতে হয়।
৭৮.
‘একজন আসামীর দোষস্বীকারোক্তি শুধু তার বিরুদ্ধে কার্যকর হবে’ The Evidence Act, 1872 এর কোন ধারায় এই নীতির ব্যতিক্রম আছে?
  1. ২৪
  2. ২৫
  3. ২৯
  4. ৩০
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ৩০ ধারামতে দোষ স্বীকার শুধুমাত্র দোষ স্বীকারকারীর নিজের বিরুদ্ধে নয়, বরং তা একই অপরাধে যৌথ-ভাবে অভিযুক্ত অন্য অপরাধীর (co-accused) বিরুদ্ধেও প্রমান করা যায়।

যেমন- গ-কে হত্যা করার অপরাধে ক ও খ-এর যৌথভাবে বিচার হচ্ছে। প্রমাণ করা হয়েছে যে, ক বলেছিল খ ও আমি গ-কে হত্যা করেছি। আদালত খ-এর বিরুদ্ধে এই স্বীকারোক্তির কার্যকারিতা বিবেচনা করতে পারেন ।

অন্যদিকে গ-কে হত্যা করার অপরাধে ক এর বিচার হয়। সাক্ষ্য আছে যে, ক ও খ কর্তৃক গ নিহত হয়েছে এবং খ বলেছে ক ও আমি গ-কে হত্যা করেছি। এক্ষেত্রে আদালত খ এর উক্ত বিবৃতি ক এর বিরুদ্ধে বিবেচনা নাও করতে পারেন। কারণ ক এর সাথে যৌথভাবে খ-এর বিচার হচ্ছে না।

♦ অর্থাৎ ‘একজন আসামীর দোষস্বীকারোক্তি শুধু তার বিরুদ্ধে কার্যকর হবে’ The Evidence Act, 1872 এর ৩০ ধারায় এই নীতির ব্যতিক্রম আছে। যখন  যৌথভাবে বিচার হবে তখন আদালত একজনের দোষস্বীকারোক্তি অন্যজনের  বিরুদ্ধে কার্যকারিতা বিবেচনা করতে পারেন ।
৭৯.
X আদালতে দাবি করেন যে, Y এর দখলাধীন জমিতে তার অধিকার আছে। এর সমর্থনে X কতক বিষয়ের অস্তিত্ব দাবি করেন, যা Y অস্বীকার করেন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অস্তিত্ব প্রমাণের দায় কার?
  1. শুধু X এর
  2. শুধু Y এর
  3. স্বীয় দাবীর সমর্থনে উভয়ের
  4. এটি Judicial Notice এর বিষয়
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ধারা ১০১ এ প্রমাণের দায়িত্ব সংক্রান্ত বিধান আছে।  ১০১ ধারা অনুযায়ী  প্রমাণের দায়িত্ব হল  যিনি কোন বিষয়ের অস্তিত্বের দাবি করিয়া তদুপরি নির্ভরশীল কোন আইনগত অধিকার বা দায় সম্পর্কে আদালতের রায় কামনা করেন, তিনি সেই বিষয়ের অস্তিত্ব অবশ্যই প্রমাণ করিবেন।
♦  কোন ব্যক্তি যখন কোন বিষয়ের অস্তিত্ব প্ৰমাণ করিতে বাধ্য থাকেন, তখন বলা হয় যে, বিষয়টি প্রমাণ করিবার দায়িত্ব সেই ব্যক্তির উপর ন্যস্ত।
৮০.
পুলিশ অফিসারের নিকট প্রদত্ত দোষস্বীকারোক্তি The Evidence Act, 1872 এর ধারা অনুযায়ী প্রহণযোগ্য নয়?
  1. ২৪
  2. ২৫
  3. ২৬
  4. ২৭
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ২৫ ধারামতে পুলিশের নিকট প্রদত্ত স্বীকারোক্তি (confession) অগ্রহনযোগ্য হবে, তবে সাক্ষ্য আইনের ২৭ ধারামতে পুলিশের নিকট আসামীর প্রদত্ত confession বা তথ্যের ভিত্তিতে কোন আলামত উদ্ধার হলে তা প্রাসঙ্গিক হবে।

♦ যেমন- আসামীর দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করলে তা সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে।

♦ পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রদত্ত Confession প্রাসঙ্গিক হবে, যাকে Judicial confession বলে।
৮১.
মৃত্যুকালীন ঘোষণা গ্রহনীয় _____________ ?
  1. কেবল ফৌজদারি কার্যধারায়
  2. কেবল দেওয়ানি কার্যধারায়
  3. দেওয়ানি ও ফৌজদারি কার্যধারায়
  4. কেবল ঘোষণাকারীর মৃত্যুর কারণ সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি কার্যধারায়
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অযোগ্য হলে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাজিরা সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ হলে আদালতে উপস্থিতি ছাড়াও তাদের মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়। যথা-

১) ৩২(১) ধারার অধীন মৃত্যুর কারন সংবলিত বিবৃতি অর্থাৎ মৃত্যু কালীন ঘোষনা (dying delaration);

২) ৩২(২) ধারার অধীন দৈনন্দিন বা স্বাভাবিক কাজ কর্মের বিবৃতি (statement made in course of business);

৩) ৩২(৩) ধারার অধীন আর্থিক অথবা স্বত্ব সম্বন্ধীয় (as to title) স্বার্থের পরিপন্থীমূলক বিবৃতি যা ফৌজদারি বা ক্ষতিপূরনের মামলার উদ্ভব করতে পারে (statement against interest of maker);

৪) সর্বসাধারনের অধিকার বা প্রথা বিষয়ক মতামত (opinion as to public right or custom, or matters of general interest);

৫) পারিবারিক দলিল বা উইল (statement made in will or deed relating to family affairs);

৬) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্বন্ধে বিবৃতি (relates to existence of relationship);

৭) ১৩(ক) ধারায় উল্লিখিত কার্য সংক্রান্ত; অথবা

৮) কয়েকজন কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি (Statement made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question).

♦ অর্থাৎ দেওয়ানি ও ফৌজদারি কার্যধারায় মৃত্যুকালীন ঘোষণা গ্রহনীয়।
৮২.
The Evidence Act, 1872 এর ৫৩ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পূর্ববর্তী সচ্চরিত্র কোন মামলায় প্রাসঙ্গিক?
  1. দেওয়ানি
  2. ফৌজদারী
  3. দেওয়ানি ও ফৌজদারি
  4. কেবল আর্থিক প্রতারণা সংশ্লিষ্ট ফৌজদারী
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ৫৩ ধারামতে ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির ভাল চরিত্র বা সচ্চরিত্র প্রাসঙ্গিক।
৮৩.
The Evidence Act, 1872 অনুযায়ী প্রাথমিক সাক্ষ্য (Primary Evidence) অর্থ _______
  1. আদালতে সরাসরি উপস্থাপিত মৌলিক সাক্ষ্য
  2. আদালতে উপস্থাপিত আসল দলিল
  3. মামলার ঘটনা সম্পর্তিত সাধারণ প্রমাণ
  4. শ্রুত সাক্ষ্য
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ৬২ ধারায় প্রাথমিক সাক্ষ্যের বিধান রয়েছে। সাক্ষ্য আইনের ৬২ ধারা অনুসারে মূল দলিল সরাসরি আদালতে উপস্থাপন করাকে প্রাথমিক সাক্ষ্য বা Primary evidence বলে। এছাড়া নিম্নলিখিত সাক্ষ্যগুলোও প্রাথমিক সাক্ষ্য বলে গণ্য হবে-

i) সাক্ষ্য আইনের ৬২ ও ৯১ ধারা অনুযায়ী লিখিত দলিলের ক্ষেত্রে দলিলের বিষয়বস্তু সম্পর্কে খোদ দলিলটিই প্রাথমিক সাক্ষ্য।

ii) একটি দলিল কয়েক খন্ডে সম্পাদিত হলে, প্রত্যেক খন্ডই একে অন্যের প্রাথমিক সাক্ষ্য ।

iii) যখন কোন দলিল প্রতিলিপিসহ সম্পাদিত হয় (executed in counterpart), তখন প্রত্যেকটি প্রতিলিপি সম্পাদনকারীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক সাক্ষ্য।

iv) যেক্ষেত্রে কিছু সংখ্যক দলিল মুদ্রণ, লিথোগ্রাফি বা ফটোগ্রাফির মাধ্যমে একই পদ্ধতিতে হয়, সেক্ষেত্রে প্রত্যেকটি অন্যগুলির প্রাথমিক সাক্ষ্য। কিন্তু মূল দলিলের নকল হলে, তা মূল দলিলের ক্ষেত্রে প্রাথমিক সাক্ষ্য হবেনা যেমন- এক ব্যক্তির দখলে এমন কতগুলি প্রচার পত্র (placards) আছে বলে দেখান হল, যার সবগুলি একটি মূল দলিল হতে একই সময়ে মুদ্রিত হয়েছে। প্রচার পত্রগুলির যে কোন একটি অপর একটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রথম শ্রেণীর সাক্ষ্য, কিন্তু সেগুলির একটিও মূল প্রচার পত্রের বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রথম শ্রেণীর সাক্ষ্য নয়।

♦ মৌখিক সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে প্রাথমিক সাক্ষ্য- সাক্ষী নিজে দেখে-শুনে বা অনুভব করে যে সাক্ষ্য দেয় তা প্রাথমিক সাক্ষ্য। তার নিকট থেকে অন্য জন শুনে সাক্ষ্য দিলে তা হয় মাধ্যমিক (Secondary) বা পরোক্ষ তথা জনশ্রুতি সাক্ষ্য ।
৮৪.
কোন ক্ষেত্রে মাধ্যমিক সাক্ষ্য দেওয়া যায় না?
  1. মূল দলিল স্থানান্তরযোগ্য না হলে
  2. মূল দলিলের অস্তিত্ব স্বীকার করা হলে
  3. মূল দলিলটি ৭৪ ধারায় বর্ণিত সরকারি দলিল হলে
  4. মূল দলিল সাক্ষ্য প্রদানকারীর দখলে থাকলে
ব্যাখ্যা
মাধ্যমিক সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে প্রধান শর্ত হল যতক্ষণ প্রাথমিক সাক্ষ্য পাওয়া যায়, ততক্ষণ মাধ্যমিক সাক্ষ্য গৃহীত হয়না। দলিলের বিষয়ে কখন মাধ্যমিক সাক্ষ্য দেয়া যায় সে সম্পর্কে সাক্ষ্য আইনের ৬৫ ধারায় বিধান রয়েছে। সাক্ষ্য আইনের ৬৫ ধারা অনুসারে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে কোন দলিলের বিষয়ে মাধ্যমিক সাক্ষ্য প্রদান করা যায়-
i) দলিলটি যার বিরুদ্ধে প্রমাণ করা হবে আসল দলিলটি তার দখলে থাকলে বা উক্ত ব্যক্তি দলিলটির অস্তিত্ব লিখিতভাবে স্বীকার করলে অথবা দলিলটি আদালতের এখতিয়ারের বাইরে হলে।
ii) ৬৬ ধারায় নোটিশ পাওয়ার পরও দলিল দাখিল না করলে।
iii) আসল দলিলটি হারিয়ে গেলে, স্থানান্তর যোগ্য না হলে অথবা সরকারি দলিল হলে।
iv) আইনে সত্যায়িত কপি ব্যবহারের বিধান থাকলে; অথবা
v) আসল দলিলে বহুসংখ্যক দলিলের বিবরণ থাকলে দলিলের বিষয়ে মাধ্যমিক সাক্ষ্য প্রদান করা যায় ।

♦ সুতরাং মূল দলিল সাক্ষ্য প্রদানকারীর দখলে থাকলে সে ক্ষেত্রে মাধ্যমিক সাক্ষ্য দেওয়া যায় না
৮৫.
The Evidence Act, 1872 এর কোন ধারা বৈরী সাক্ষী সম্পর্কিত?
  1. ১৫২
  2. ১৫৩
  3. ১৫৪
  4. ১৫৫
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ১৫৪ ধারায় সুস্পষ্টভাবে বৈরী সাক্ষী বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। বৈরী সাক্ষী হলো এমন একজন সাক্ষী যে, সে যে উপায়ে সাক্ষ্য দিচ্ছে তা থেকে বোঝা যায় যে, সে আদালতের নিকট সত্য বলতে ইচ্ছা প্রকাশ করছে না। বৈরী সাক্ষী বলতে মিথ্যুক সাক্ষী বোঝায় না। সাক্ষী যে সাক্ষ্য দিচ্ছে তা থেকে সাক্ষীর বৈরীতা বুঝতে হবে। বিষয়টি হলো যখন যে পক্ষ কোন সাক্ষীকে আহ্বান করে বা ডাকে, সেই পক্ষ উক্ত সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করবে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ যখন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করে, তখন সাক্ষীর নিকট যে প্রশ্ন করা হয় তখন সে উক্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করতে পারে বা বৈরী হতে পারে। সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ এমন ধরণের সাক্ষীকে বৈরী সাক্ষী হিসাবে ঘোষণা করতে পারে।

♦  যেমনঃ মামলার অভিযোগকারী পক্ষ A -কে সাক্ষী হিসাবে তলব করলো। সাধারণত A অভিযোগকারীর পক্ষে সাক্ষ্য দিবে। কিন্তু A ইচ্ছাকৃতভাবে অভিযোগকারীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করলো। এই ক্ষেত্রে A -কে বৈরী সাক্ষ্য হিসাবে ঘোষণা করা যেতে পারে।

♦ অর্থাৎ The Evidence Act, 1872 এর ১৫৪ ধারা বৈরী সাক্ষী সম্পর্কিত বিধান আছে।
৮৬.
সুনির্দিষ্ট চুক্তি প্রবলের মোকাদ্দমার তামাদির মেয়াদ বছর।
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ১১৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী  সুনির্দিষ্ট চুক্তি প্রবলের মোকাদ্দমার তামাদির মেয়াদ ১ বছর । চুক্তি সম্পাদনে অস্বীকৃতির বিষয় জানতে পারার দিন থেকে ১ বছরের মধ্যে  সুনির্দিষ্ট চুক্তি সম্পাদনের জন্য মামলা  করতে হবে।
৮৭.
The Limitation Act, 1908 এর ধারায় 'Legal Disability' বিষয়ে ‍উল্লেখ আছে?
  1. ১০
ব্যাখ্যা
♦ আইনগত অক্ষমতা/বৈধ অপারগতা (Legal Disability)- নাবালকত্ব, পাগল বা উম্মাদ অবস্থা অথবা নিবুদ্ধিতার কারণে মামলা দায়ের করতে অসমর্থ হওয়াকে আইনগত অক্ষমতা বা বৈধ অপারগতা (legal disability) বলে। কোন মামলা বা প্রসিডিংস দায়ের করার অধিকারী ব্যক্তি অথবা ডিক্রিজারির দরখাস্ত পেশ করার অধিকারী কোন ব্যক্তি যদি উক্ত মামলা, প্রসিডিংস বা দরখাস্ত পেশ করার জন্য নির্ধারিত মেয়াদ যেদিন হতে গণনা শুরু হবে সেদিন নাবালক, পাগল বা উম্মাদ থাকেন তাহলে তিনি তার নাবালকত্ব, পাগলামি বা উম্মত্ততা শেষ হওয়ার পর ঐ একই মেয়াদের মধ্যে উক্ত মামলা, প্রসিডিংস বা দরখাস্ত দায়ের বা পেশ করতে পারবেন।

♦ মামলা করার কারণ সৃষ্টির সময় (cause of action) মামলা করার অধিকারী ব্যক্তি আইনগতভাবে মামলা করতে অপারগ হলে উক্ত ব্যক্তির তামাদির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ৬-৯ ধারা কার্যকর হবে। কোন ব্যক্তি যতদিন নাবালক, উম্মাদ বা জড়বুদ্ধ/নির্বোধ থাকে ততদিন তার তামাদির মেয়াদ থেকে বাদ যাবে। অর্থাৎ নাবালকত্ব, উম্মাদ বা জড়বুদ্ধতার অবসান হওয়ার পর থেকে তার মামলা দায়েরের সময় গণনা অর্থাৎ তামাদির মেয়াদ শুরু হবে। অন্যভাবে বলা যায়, আইনগত সক্ষমতা অর্জন না করা পর্যন্ত তামাদি সময়সীমা গণনা করা হয় না অর্থাৎ কোন ব্যক্তি আইনগতভবে সক্ষম হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী মামলা করতে পারবে।

♦ তামাদি আইনের ৬ ধারামতে আইনগত অপারগতা বা Legal Disability বলতে ৩টি বিষয়কে বুঝায়। যথা- ১) নাবালকত্ব (minor); ২) উন্মাদ (insane); এবং ৩) জড়বুদ্ধ/নির্বোধ (idiot)।
আইনগত অক্ষমতার বিধানসমূহ কেবলমাত্র বাদীর অক্ষমতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়, বিবাদীর অক্ষমতার ক্ষেত্রে নয় । 
কেবলমাত্র মূল মামলা ও ডিক্রি জারির দরখাস্তের ক্ষেত্রেই আইনগত অক্ষমতা প্রযোজ্য হয়- অন্য কোন ক্ষেত্রে নয় । 

অর্থাৎ তামাদি আইনের ৬ ধারায় আইনগত অক্ষমতা/বৈধ অপারগতা (Legal Disability) বিধান আছে।
৮৮.
The Limitation Act, 1908 এর ২৮ ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট তামাদি সময়ের মধ্যে দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা না করলে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির অধিকার ------
  1. বিলুপ্ত হবে
  2. ক্ষতিগ্রস্থ হবে না
  3. তামাদি বারিত হবে
  4. সরকারের উপর ন্যস্ত হবে
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের ২৮ ধারায় সম্পত্তিতে স্বত্বের বিলুপ্তির (Extinguishment of right to property) বিধান আছে।  ১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ২৬ থেকে ২৮ ধারায় দখলবলে মালিকানা স্বত্ব অর্জন সম্পর্কে বলা হয়েছে। যখন কোন ব্যক্তি তার স্বত্ব দখলীয় কোন স্থাবর সম্পত্তি থেকে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আইন বহির্ভূতভাবে উচ্ছেদ হন, তখন তাকে বেদখল বা Dispossession বলে। তামাদি আইনের ১৪২ নং অনুচ্ছেদমতে, বেদখল হওয়ার ১২ বছরের মধ্যে দখল ফিরে পাওয়ার মামলা না করলে তামাদি আইনের ২৮ ধারা মোতাবেক উক্ত সম্পত্তিতে মালিকের স্বত্ব বা মালিকানা বিলুপ্ত হবে।

তামাদি আইনের ২৮ ধারা অনুযায়ী সম্পত্তির দখল পুনরূদ্ধারের জন্য মামলা দায়ের করার ব্যাপারে তামাদি আইনে যে মেয়াদ নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে, তা উত্তীর্ণ হওয়ার পর সে সম্পত্তিতে বাদীর অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যাবে। কোন অবৈধ প্রবেশকারী কোন সম্পত্তিতে ১২ বছরের বেশী সময় ধরে মূল মালিকের বিনা বাধায় এবং জ্ঞাতসারে দখলে থাকলে মূল মালিকের স্বত্বের বিলুপ্তি হবে এবং কেবল জবর দখলের ভিত্তিতে উক্ত সম্পত্তিতে জবর দখলকারীর স্বত্বের সৃষ্টি হবে।

এভাবে কোন অবৈধ দখলকারী কোন সম্পত্তিতে ১২ বছরের বেশী সময় ধরে দখল থাকার কারণে উক্ত সম্পত্তিতে মূল মালিকের স্বত্বের বিলুপ্তি হয়ে জবর দখলকারীর স্বত্ব বা মালিকানা সৃষ্টি হওয়াকে জবর দখল বা বিরূদ্ধ দখল (Adverse possession) বলে ।

♦ অন্য কথায়, ১২ বৎসরের বেশী সময় ধরে অপরের সম্পত্তি জোর পূর্বক দখলে রাখলে এবং উক্ত সময়ের মধ্যে দখল পুনরুদ্ধারের জন্য সম্পত্তির প্রকৃত মালিক আদালতে শরণাপন্ন না হলে ঐ সম্পত্তির উপর জবর দখলকারীর স্বত্ব অর্জিত হয় এবং তামাদি আইনের ভাষায় একেই জবর দখল বা Adverse possession বলে।
৮৯.
দায়রা জজ কৃর্তক প্রদত্ত মৃত্যু দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে সাত দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করার বিধান The Limitation Act, 1908 এর কোন অনুচ্ছেদে ‍উল্লেখ আছে?
  1. ১৪৮
  2. ১৫০
  3. ১৫২
  4. ১৫৪
ব্যাখ্যা
♦ The Limitation Act, 1908 এর ১৫০ অনুচ্ছেদে ‍উল্লেখ আছে দায়রা জজ কৃর্তক প্রদত্ত মৃত্যু দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে সাত দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করতে হবে।
৯০.
একতরফা ডিক্রি রদ রহিতের জন্য আবেদনের সময়সীমা কত?
  1. ১৫ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের ১৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী  একতরফা ডিক্রি রদ রহিতের জন্য আবেদনের সময়সীমা হল ৩০ দিন ।
৯১.
একতরফাসূত্রে আপিল শুনানী হলে পুনঃশুনানীর জন্য আবেদনের সময়সীমা কত?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ১৬৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একতরফাসূত্রে আপিল শুনানী হলে পুনঃশুনানীর জন্য আবেদনের সময়সীমা হল ৩০ দিন।
৯২.
পাওনা অর্থ আদায়ের মোকদ্দমা দাখিলের তামাদি কত?
  1. ৩ বছর
  2. ৬ বছর
  3. ১০ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
 ♦ তামাদি আইনের ৫৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী  পাওনা অর্থ আদায়ের মোকদ্দমা দাখিলের তামাদি হল ৩ বছর।
৯৩.
যে মোকদ্দমার তামাদির মেয়াদ সম্পর্কে কোনো বিধান নেই সে মোকদ্দমা দাখিল করা যাবে _______ বছরের মধ্যে।
  1. ১২
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের ১২০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যে মোকদ্দমার তামাদির মেয়াদ সম্পর্কে কোনো বিধান নেই সে মোকদ্দমা দাখিল করা যাবে ৬ বছরের মধ্যে। 
৯৪.
'Exclusion of time in legal proceeding' সম্পর্কিত বিধান রয়েছে The Limitation Act, 1908 এর __________ ধারায়।
  1. ১২
  2. ১৩
  3. ১৪
  4. ১৫
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ১২ ধারা বিধান তামাদির মেয়াদ গণনার সময় যে দিন গুলো বাদ যাবে (Exclusion of time in legal proceedings)- তামাদি আইনের ১২ ধারামতে তামাদির মেয়াদ গণনার সময় নিম্নলিখিত দিনগুলো বাদ দিয়ে তামাদি গণনা করতে হবে। যথা-
i) তামাদির মেয়াদ আরম্ভের দিন বা যে তারিখ হতে তামাদি গণনা শুরু হবে;
ii) রায় ঘোষণার দিন (the day on which the judgment complained of was pronounced)
iii) রায় বা ডিক্রির নকল (certified copy) পেতে ব্যয়িত সময় (the time requisite for obtaining a copy of the judgement or decree shall be excluded);
iv) রোয়েদাদ নামঞ্জুর করার দরখাস্তের জন্য রোয়েদাদের নকল পেতে ব্যয় হওয়া সময় (for an application to set aside an award, the time requisite for obtaining a copy of the award shall be excluded); 
v) যে তারিখে কোন নাবালক সাবালকত্ব অর্জন করে ঐ তারিখটিও ১২ ধারার বিধান অনুসারে তামাদি গণনা থেকে বাদ যাবে।

♦ নিলাম ডিক্রিতে কোন সম্পত্তি বিক্রয় করা হলে এবং ঐ নিলামের কোন ক্রেতার ক্রয়কে আটকানোর জন্য কোন দরখাস্ত বা মামলা (রদ) হলে ঐ সময় বাদ যাবে।

♦ যখন কোন ঋণের প্রাপ্তি স্বীকার লিখিতভাবে করা হয়, সেক্ষেত্রে প্রাপ্তি স্বীকারের তারিখ থেকে ১৯ ধারার বিধান অনুসারে নতুন তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে, এবং এই নতুন তামাদির কাল গণনার সময় প্রাপ্তি স্বীকারপত্র স্বাক্ষরের দিনটি বাদ যাবে ১২ ধারার (১) উপ-ধারার বিধান অনুসারে।

‌♦ ডিক্রির ভাষান্তর (Translation) করে নেয়ার জন্য ব্যয়িত সময় বাদ দেয়ার অধিকার ১২ ধারায় নাই। তবে ভাষান্তরিত নকল প্রদানের ক্ষেত্রে কোন দপ্তর যদি অস্বাভাবিক বিলম্ব ঘটায়, তবে তা তামাদি বৃদ্ধির অজুহাত হিসেবে গ্রাহ্য হবে।
৯৫.
মামলা করার অধিকার সৃষ্টির পূর্বেই সংশ্লিষ্টব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে তার আইনানুগ উত্তরাধিকারী মামলা করার যোগ্য হওয়ার তারিখ থেকে তামাদি গণনা শুরু হবে। এই বিধানের ব্যতিক্রম হলো ________ মামলা।
  1. টাকার দাবীর
  2. পথাধিকারের দাবীর
  3. অগ্রক্রয়ের
  4. স্বত্ব ঘোষনার দাবীর
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের ৮ ধারায় বিশেষ ব্যতিক্রমঃ ৬ অথবা ৭ ধারার কোনো কিছুই অগ্রক্রয়ের অধিকার বলবতের মামলায় প্রযোজ্য নহে। যেই মেয়াদের মধ্যে মামলা অবশ্যই দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করিতে হইবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অপারগতার অবসানে বা মৃত্যুর পর তাহা উক্ত ধারাদ্বয়ের কোনো কিছুই তিন বৎসরের অধিক বর্ধিত করিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না।
♦ তামাদি আইনের ৮ ধারামতে আইনগত অক্ষমতা শেষ হওয়ার পর তিন (৩) বছর অতিবাহিত হলে তামাদি মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। অর্থাৎ আইনগত অক্ষমতা শেষ হওয়ার তিন বছর পর মামলা করলে উক্ত মামলা খারিজ হবে।
৯৬.
নিম্নের কে বার কাউন্সিলের সচিব হিসাবে সরকার কর্তৃক নিয়োগ পেতে পারেন?
  1. শুধু একজন জেলা জজ
  2. শুধু একজন অতিরিক্ত জেলা জজ
  3. জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ
  4. যে-কোনো বিচার বিভাগীয় কর্মমর্তা
ব্যাখ্যা
♦ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council order, 1972 রাষ্ট্রপতির ৪৬ নং আদেশ এর অনুচ্ছেদ ৬ক  এর বিধান মতেঃ
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের একজন সচিব থাকবে। সরকার জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজদের মধ্য হতে বার কাউন্সিলের সচিব [Secretary] নিয়োগ করবে।
♦বার কাউন্সিলের সচিবের পদের মেয়াদ হবে সরকার যেমন মেয়াদ নির্ধারণ করে।
♦৬ক অনুচ্ছেদটি ২০১২ সালে সংযুক্ত করা হয়।
♦বার কাউন্সিলের সচিবই হবে বার কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা [Chief Executive Officer বিধি ৫৫।
৯৭.
অন্যান্য আইনজীবী এর উপর কার প্রাক-শ্রোতা অধিকার (Right of Pre-audience) রয়েছে?
  1. বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি
  2. সংশ্লিষ্টবার এসোসিয়েশনের সভাপতি
  3. এনরোলমন্ট কমিটির চেয়ারম্যান
  4. বাংলাদেশের অ্যাটর্নী জেনারেল
ব্যাখ্যা
♦ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council order, 1972 রাষ্ট্রপতির ৪৬ নং আদেশ এর অনুচ্ছেদ ২৬(১)  এর বিধান মতেঃ অন্যান্য আইনজীবী এর উপর বাংলাদেশের অ্যাটর্নী জেনারেল প্রাক-শ্রোতা অধিকার (Right of Pre-audience) রয়েছে। 
৯৮.
'Clients, not Advocate shall not represent confliction interests.' এটি _______ এর প্রতি একজন আইনজীবীর আচরণ সম্পর্কিত নীতি।
  1. আদালত
  2. অন্যান্য আইনজীবী
  3. সাধারণ জনগণ
  4. মক্কেল
ব্যাখ্যা
BBC chapter 1 (7) এর বিধান মতে  মোকদ্দমাকারী মক্কেল, আইনজীবী না। মক্কেলগনের মধ্যে বিদ্যমান তিক্ত সম্পর্ক আইনজীবীদের পারস্পরিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে না, এমনকি প্রতিপক্ষের মক্কেলের প্রতিও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবেনা। আইনজীবীদেরকে পারস্পরিক সংঘাত এড়িয়ে চলতে হবে। মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে এক পক্ষের আইনজীবী অপর পক্ষের আইনজীবীর ব্যক্তিগত স্বভাব বা বৈশিষ্ট্যের প্রতি বিদ্রুপাত্মাক কোন ইঙ্গিত করতে পারবেনা। মামলা দীর্ঘায়িত করতে পারে কিংবা অশোভনীয় কলহের সৃষ্টি করতে পারে এমন ধরনের কথোপকথন আইনজীবীদের অবশ্যই সতর্কতার সাথে পরিহার করতে হবে।
৯৯.
'An Advocate shall not represent conflicting interests.' এটি _________ এর প্রতি একজন আইনজীবীর আচরণ সম্পর্কিত নীতি।
  1. আদালত
  2. অন্যান্য আইনজীবী
  3. সাধারণ জনগণ
  4. মক্কেল
ব্যাখ্যা
♦ BBC chapter 2 (4) এর বিধান মতে একজন আইনজীবী পরস্পর বিরোধী কোন ব্যাপারে কোন মক্কেলের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেনা।
১০০.
একজন আইনজীবীর জন্য নিম্নের কোন কাজটি আচরণ বিধির লংঘন?
  1. মামলা পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণে সম্মত না হওয়া
  2. নিজে অপরাগ হলে অন্য কোনো সন্তোষজনক ব্যসস্থাপনায় শুনানী সম্পন্ন করা
  3. আইন পেশার পাশাপাশি আরেকটি ব্যবসা করা
  4. ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সময় ও শ্রমকে বিবেচনায় নেওয়া
ব্যাখ্যা
BBC chapter 4 (8) এর বিধান মতেঃ  স্বাভাবিক বিধি এই যে, একজন আইনজীবী অন্য কোন পেশা অবলম্বন কিংবা ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না। এমনকি অংশীদার হিসাবেও কোন পেশা অবলম্বন কিংবা ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেনা কিংবা বেতনভুক্ত কর্মচারী হিসাবেও কোথাও কোন দায়িত্ব পালন করতে পারবেনা।