পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১২
সিলেবাস
বিষয় - নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সু-শাসন টপিকসমূহ: 1) Definition of Values Education and Good Governance; 2) Relation between Values Education and Good Governance; 3) General Perception of Values Education and Good Governance; 4) Importance of Values Education and Good Governance in the life of an individual as a citizen as well as in the making of society and national ideals. ------------- নির্দেশনা: ১. এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আজ বা যেকোন সময় পরীক্ষা শুরু করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে। ২. এই পরীক্ষাটি "Award Mania: Season - 9” এর জন্য প্রযোজ্য ।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ] · তারিখ অনির্ধারিত · ১২ প্রশ্ন

.
জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার জন্য কোন মূল্যবোধের চর্চা গুরুত্বপূর্ণ?
  1. নৈতিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরমত সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলোও সুশাসনের জন্য আবশ্যক।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা দ্বারা সকলের মধ্যে জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- অর্থাৎ জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা গুরুত্বপূর্ণ।


উল্লেখ্য,
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো হলো: 
- পরমত সহিষ্ণুতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, ন্যায়পরায়ণতা, সচেতনাবোধ সৃষ্টি, দায়বদ্ধতা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসন মিলিতভাবে কোন ধরনের সমাজ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক?
  1. দুর্নীতিগ্রস্ত সমাজ
  2. অস্থির ও বিশৃঙ্খল সমাজ
  3. সুশৃঙ্খল ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ
  4. স্বৈরতান্ত্রিক ও সংঘাতময় সমাজ
সঠিক উত্তর:
সুশৃঙ্খল ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশৃঙ্খল ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসনের সমন্বয় একটি সুশৃঙ্খল ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ গঠনে সহায়ক।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, সততা, ও দায়িত্ববোধের বিকাশ ঘটায়, যা সমাজে সুশাসনের ভিত্তি রচনা করে।
- সুশাসনের কার্যকারিতা তখনই নিশ্চিত হয়, যখন শাসক ও জনগণ উভয়েই ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, এবং জবাবদিহিতার নীতিগুলো মেনে চলে।
- ফলস্বরূপ, মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের সমন্বয় একটি ন্যায়সঙ্গত, সুশৃঙ্খল এবং স্থিতিশীল সমাজ গঠনে সহায়ক হয়, যেখানে প্রত্যেকের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
সমাজে নাগরিক চেতনা উন্নত করতে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে?
  1. ধর্মীয় শিক্ষা
  2. মূল্যবোধ শিক্ষা
  3. পারিবারিক শিক্ষা
  4. স্কুল-কলেজের শিক্ষা
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ শিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ শিক্ষা
ব্যাখ্যা
⇒ উল্লিখিত প্রশ্নের অপশন অনুসারে সমাজে নাগরিক চেতনা উন্নত করতে "মূল্যবোধ শিক্ষা" গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

⇒ মূল্যবোধ ও চেতনা:

- মূল্যবোধ শিক্ষা সমাজে নাগরিক চেতনার উন্নতি ঘটায়।
- এটি মানুষের মধ্যে সঠিক আচরণ, নৈতিকতা, এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে।
- নাগরিক চেতনা বৃদ্ধি পেলে মানুষ তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয় এবং সমাজে সহমর্মিতা, শৃঙ্খলা, এবং ন্যায়বিচারের পরিবেশ তৈরি হয়।
- এর ফলে সমাজে ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে সামষ্টিক স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা সামাজিক স্থিতিশীলতা ও উন্নতির জন্য অপরিহার্য।
- মূল্যবোধ শিক্ষা তাই একটি সুশৃঙ্খল ও সুস্থ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

- তবে অন্যান্য অপশনগুলোও (ধর্মীয় শিক্ষা, পারিবারিক শিক্ষা, এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষা) নাগরিক চেতনা গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।
- কিন্তু মূল্যবোধ শিক্ষা নাগরিক চেতনার মূলভিত্তি হিসেবে কাজ করে। মূল্যবোধ শিক্ষা ছাড়া অন্য শিক্ষা নাগরিক চেতনা গঠনে তেমন বেশি ভূমিকা রাখতে পারে না,
- অর্থাৎ মূল্যবোধ শিক্ষাই নাগরিক চেতনা উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এই জন্য উল্লিখিত প্রশ্নে সঠিক উত্তর (খ)- 'মূল্যবোধ শিক্ষা' নেওয়া হয়েছে।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
একটি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে প্রধান ভূমিকা পালন করে-
  1. সরকার
  2. গণমাধ্যম
  3. সুশীল সমাজ
  4. বিচার বিভাগ
সঠিক উত্তর:
সরকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকার
ব্যাখ্যা
সরকার ও সুশাসন:
-সরকার একটি দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রধান ভূমিকা পালন করে।
- কারণ এটি নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন করে যা সুশাসনের ভিত্তি তৈরি করে।
- এই নীতি ও আইন কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো সরবরাহ করে।
- যদি সরকার স্বচ্ছ ও জবাবদিহি সম্পন্ন হয়, তবে এটি জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়।
- সরকারের মূল দায়িত্ব হল জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা, যা সুশাসনের একটি অপরিহার্য দিক।

উল্লেখ্য,
- যদিও গণমাধ্যম, বিচার বিভাগ এবং সুশীল সমাজও সুশাসনে ভূমিকা রাখে, তবে সরকারই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মূল ভূমিকা পালন করে।
- কারণ এটি নীতিমালা, আইন, এবং কার্যক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকে।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
.
নীতিগত ও নৈতিক মূল্যবোধের অনুপস্থিতি সমাজে কী ইঙ্গিত করে?
  1. শিক্ষার অবক্ষয়
  2. আইনের অবক্ষয়
  3. মূল্যবোধের অবক্ষয়
  4. সুশাসনের অবক্ষয়
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধের অবক্ষয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধের অবক্ষয়
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের অবক্ষয়:
- মূল্যবোধ মানুষের আচরণ ও নৈতিকতার ভিত্তি গড়ে তোলে।
- মূল্যবোধের অবক্ষয় বলতে সমাজে নৈতিক ও নীতিগত মূল্যবোধের অভাব বা অনুপস্থিতিকে বোঝায়।
- যখন এই মূল্যবোধগুলি সমাজে অনুপস্থিত থাকে বা ক্ষীণ হয়ে যায়, তখন মানুষের মধ্যে নৈতিকতা ও সততার অভাব দেখা দেয়, যা বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কাজের প্রসার ঘটায়।
- এটি ঘটলে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়।
- মূল্যবোধের অভাবে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি পায়। যেমন- ইভ-টিজিং পর্নোগ্রাফি ইত্যাদি।
- মূল্যবোধের অবক্ষয় ফলে সমাজে সম্মান ও শ্রদ্ধার অভাব দেখা দেয়।
- এটি সমাজে সম্মান ও শ্রদ্ধার অভাব তৈরি করে এবং মানুষের মধ্যে সম্পর্কের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল করে দেয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মূল্যবোধ শিক্ষা গ্রহণের প্রধান লক্ষ্য কী?
  1. ব্যক্তিগত স্বার্থের অগ্রাধিকার
  2. আইন অমান্য করার প্রবণতা
  3. সামাজিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার বিকাশ
  4. সমাজে বিশৃঙ্খলা এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
সামাজিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার বিকাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার বিকাশ
ব্যাখ্যা
⇒ উল্লিখিত প্রশ্ন অনুসারে, মূল্যবোধ শিক্ষা গ্রহণের প্রধান লক্ষ্য "সামাজিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার বিকাশ"।

⇒ মূল্যবোধ শিক্ষা:

- মূল্যবোধ শিক্ষা সমাজে সামাজিক শৃঙ্খলা এবং ন্যায়বিচার বিকাশ ঘটায়।
- এই শিক্ষা মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, সততা, এবং দায়িত্ববোধ তৈরি করে, যা সমাজে শৃঙ্খলা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের আচরণে নিয়ম ও শৃঙ্খলা নিয়ে আসে, যা সমাজে শান্তি এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।
- এটি মানুষকে ন্যায় এবং ন্যায়বিচার মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করে, যা সমাজে সাম্য এবং অধিকার নিশ্চিত করে।

অন্যদিকে, মূল্যবোধ শিক্ষার উদ্দেশ্যের বিপরীত হচ্ছে:
- ব্যক্তিগত স্বার্থের অগ্রাধিকার,
- আইন অমান্য করার প্রবণতা, এবং
- সমাজে বিশৃঙ্খলা এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
.
সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত?
  1. জনমনে ভীতি সৃষ্টি
  2. রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন
  3. আইনের শাসন উপেক্ষা
  4. নৈতিক মূল্যবোধের উপর গুরুত্ব
সঠিক উত্তর:
নৈতিক মূল্যবোধের উপর গুরুত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক মূল্যবোধের উপর গুরুত্ব
ব্যাখ্যা

সমাজ ও সুশাসন:
- সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে নৈতিক মূল্যবোধের উপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
- কারণ সুশাসন তখনই কার্যকর হয় যখন সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচার, সততা, এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়।
- নৈতিক মূল্যবোধ মানুষকে সৎ, দায়িত্বশীল, এবং আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে সাহায্য করে, যা সমাজে একটি সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করে।
- এভাবে, সমাজে আইন ও ন্যায়বিচারের প্রতি শ্রদ্ধা বৃদ্ধি পায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়।

অন্যদিকে,
- আইনের শাসন উপেক্ষা, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বা জনমনে ভীতি সৃষ্টি সমাজে অস্থিতিশীলতা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে, যা সুশাসনের মূল ধারণার পরিপন্থী।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতির জন্য দায়ী প্রধান কারণ কী?
  1. অসৎ নেতৃত্ব
  2. নৈতিকতার অভাব
  3. অর্থনৈতিক অভাব
  4. আইনের প্রয়ােগের অভাব
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতার অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতার অভাব
ব্যাখ্যা
⇒ উল্লিখিত প্রশ্নে রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতির জন্য দায়ী প্রধান কারণ হল 'নৈতিকতার অভাব'।

⇒ দুর্নীতি ও নৈতিকতা: 
- সাধারণভাবে দুর্নীতি বলতে আইন ও নীতির বিরুদ্ধ কাজকে বুঝায়।
- দুর্নীতির সাথে পেশা, ক্ষমতা, সুযোগ-সুবিধা, পদবি, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ইত্যাদি বিষয় গভীরভাবে জড়িত।
- নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব সমাজের শাসন ও প্রশাসনে দুর্নীতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
- কারণ এটি ব্যক্তির আচরণ এবং সমাজের সামগ্রিক মানকে প্রভাবিত করে।
- যখন ব্যক্তিরা সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারে না বা নৈতিকভাবে দুর্বল হয়, তখন তারা দুর্নীতির দিকে ঝুঁকতে পারে।

⇒ উল্লেখ্য,
- যদিও অন্যান্য কারণগুলোও দুর্নীতির জন্য দায়ী হতে পারে, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- যদি মানুষের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ এবং সততার অভাব থাকে, তবে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
- অসৎ নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক অভাব ও আইনের প্রয়োগের অভাব দুর্নীতিকে আরও উৎসাহিত করে, কিন্তু নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাবই প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
সমাজে মূল্যবোধের ভিত্তি শক্তিশালী করা যায়-
  1. শিক্ষার মাধ্যমে
  2. ধর্ম চর্চার মাধ্যমে
  3. গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে
  4. সুশাসনের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
শিক্ষার মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
⇒ শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড এবং নীতি।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়, কারণ শিক্ষা মানুষের মধ্যে বিভিন্ন নৈতিকতা, ন্যায়নীতি এবং সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে।
অর্থাৎ সমাজে মূল্যবোধের ভিত্তি শক্তিশালী করা যায়-শিক্ষার মাধ্যমে।

- শিক্ষার মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরে মূল্যবোধের প্রসার ঘটে, যা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সহায়ক হয়।

⇒ অন্যদিকে, 
ধর্ম চর্চার মাধ্যমে:
- ধর্মীয় মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহারকে সুশৃঙ্খল ও ন্যায়সঙ্গত করতে সাহায্য করে, যা সমাজে নৈতিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়ক।
গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ মানুষের মধ্যে সমতা, স্বাধীনতা, এবং ন্যায়বিচারের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়ায়, যা সমাজে মূল্যবোধের উন্নতি ঘটায়।
 সুশাসনের মাধ্যমে:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা করলে সমাজে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১০.
কোনটি সুশাসনের মূল বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. অংশগ্রহণ
  2. জবাবদিহিতা
  3. অসংবেদনশীলতা
  4. আইনের শাসন
সঠিক উত্তর:
অসংবেদনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসংবেদনশীলতা
ব্যাখ্যা
⇒ উল্লিখিত প্রশ্নে 'অসংবেদনশীলতা' সুশাসনের বৈশিষ্ট্য নয়।

সুশাসনের বৈশিষ্ট্য:
- সুশাসনের মৌলিক ও প্রাথমিক চরিত্র হচ্ছে - সুশাসনের আওতায় সকল কাজ হবে অপব্যবহার ও দুর্নীতিমুক্ত এবং ন্যায়পরায়ণ ভিত্তিক ও আইনের শাসনের প্রতি শর্তহীনভাবে অনুগত।
- সুশাসনের এই চরিত্র বা বৈশিষ্ট্য বিস্তারিতভাবে আলোচনা করলে তা কয়েকটি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে।

- নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হল:
→ অংশগ্রহণ,
→ আইনের শাসন,
→ স্বচ্ছতা,
→ জবাবদিহিতা,
→ সংবেদনশীলতা,
→ ঐকমত্য।

এসব ছাড়াও সুশাসনের জন্য ন্যায়পরায়নতা, কার্যকারিতা ও দক্ষতার শর্তপূরণ একান্ত আবশ্যক।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
মূল্যবোধের অভাব হলে সমাজে কোনটি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়?
  1. আইন
  2. সুশাসন
  3. অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
  4. রাজনীতিক দুর্বৃত্তায়ন
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ এবং সুশাসনের সম্পর্ক:
- মুল্যবোধ ও সুশাসন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এবং একে অপরের সহায়ক।
- রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন দূর করে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মূল্যবোধের বিকল্প নেই।
- মূল্যবোধ সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটায়।
- যে সমাজ বা রাষ্ট্রে মূল্যবোধের এই উপাদান অনুপস্থিত, সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।
- অর্থাৎ মূল্যবোধের অভাব হলে সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
- সামাজিক ন্যায়বিচারের মাধ্যমে মূল্যবোধের শিক্ষা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গতি সঞ্চার করে।
- সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও মূল্যবোধ রক্ষা পায়।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১২.
সুশাসনের অভাবে কোনো দেশের পরিস্থিতিতে কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হতে পারে?
  1. দুর্নীতি বৃদ্ধি
  2. সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি
  3. অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত
  4. উল্লিখিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসনের অভাবজনিত প্রভাব:
- সুশাসন একটি দেশের কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- এর অভাবে দেশের উপর বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যেমন: ক) দুর্নীতি বৃদ্ধি খ)  সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি  গ) অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত।

ক) দুর্নীতি বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়, কারণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি নির্ধারকরা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পায়।
খ) সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে জনগণের অধিকার লঙ্ঘিত হয়, এবং যখন জনগণ অনুভব করে যে তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সরকার তাদের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়।
গ) অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া:
- সুশাসনের অভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়, কারণ অদক্ষ নীতি, দুর্নীতি এবং অপব্যবহারের কারণে সম্পদের সঠিক ব্যবহার হয় না।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা এবং পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।