পরীক্ষা আর্কাইভ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

পরীক্ষাGKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৫
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১ টপিক: বাংলার প্রাচীন ইতিহাস, জনপদ, পরিব্রাজক, প্রাচীন বাংলার ইতিহাস-মৌর্য বংশ, গুপ্ত বংশ, গুপ্ত পরবর্তী যুগ পাল বংশ, প্রাচীন আমলের শিল্পকলা, মধ্যযুগে বাংলার ইতিহাস, মুসলিম শাসনের চিত্র, তুর্কি শাসনামল [Live Class - 1 & 2 ক্লাস মেন্টর: নিশাত রায়হান অমনি] এছাড়াও [Live Class - 10, 11,12 ক্লাস মেন্টর: তপন ভট্টাচার্য]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৫ প্রশ্ন

.
সপ্তম শতকে গৌড়ের রাজধানীর নাম কী ছিল?
  1. বিক্রমপুর
  2. নাব্য
  3. কর্ণসুবর্ণ
  4. পুণ্ড্রনগর
ব্যাখ্যা
গৌড়:
- ষষ্ঠ শতকে বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অংশে গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান।
- বাংলায় তুর্কি বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
.
নিচের কোনটির নাম প্রথমে ছিল 'কেল্লা আওরঙ্গবাদ'?
  1. আহসান মঞ্জিল
  2. বড় কাটরা
  3. ছোট কাটরা
  4. লালবাগ দুর্গ
ব্যাখ্যা
লালবাগ দুর্গ: 
- প্রথমে এই কেল্লার নাম ছিল কেল্লা আওরঙ্গবাদ।
- এই কেল্লার নকশা করেন শাহ আজম।
- মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব-এর ৩য় পুত্র আজম শাহ ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার সুবেদারের বাসস্থান হিসেবে এ দুর্গের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
- মাত্র এক বছর পরেই দুর্গের নির্মাণকাজ শেষ হবার আগেই মারাঠা বিদ্রোহ দমনের জন্য সম্রাট আওরঙ্গজেব তাকে দিল্লি ডেকে পাঠান।
 এসময় একটি মসজিদ ও দরবার হল নির্মাণের পর দুর্গ নির্মাণের কাজ থেমে যায়।
- নবাব শায়েস্তা খাঁ ১৬৮০ সালে ঢাকায় এসে পুনরায় দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন।
- তবে শায়েস্তা খানের কন্যা পরী বিবির মৃত্যুর পর এ দুর্গ অপয়া মনে করা হয় এবং শায়েস্তা খান ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ বন্ধ করে দেন।
- এই পরী বিবির সাথে শাহজাদা আজম শাহের বিয়ে ঠিক হয়েছিল।
- পরী বিবিকে দরবার হল এবং মসজিদের ঠিক মাঝখানে সমাহিত করা হয়।
- শায়েস্তা খাঁ দরবার হলে বসে রাজকাজ পরিচালনা করতেন।
- ১৬৮৮ সালে শায়েস্তা খাঁ অবসর নিয়ে আগ্রা চলে যাবার সময় দুর্গের মালিকানা উত্তরাধিকারীদের দান করে যান।
- শায়েস্তা খাঁ ঢাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর নানা কারণে লালবাগ দুর্গের গুরুত্ব কমতে থাকে।

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।
.
কোন মৌর্য সম্রাটের রাজত্বকালে প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়?
  1. সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত
  2. সম্রাট বিন্দুসার
  3. সম্রাট অশোক
  4. সম্রাট বৃহদ্রথ
ব্যাখ্যা
পুণ্ড্র:
- প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুণ্ড্র।
- পুণ্ড্র 'জন' বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল।
- পুণ্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুণ্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুণ্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
- সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুণ্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।
- ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুণ্ড্র ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে পুণ্ড্র বর্ধন নামে পরিচিত হয়।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ-৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- এখানে গুপ্তদের সুনিয়ন্ত্রিত শাসনব্যবস্থা ছিল।
- পুণ্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
.
প্রাচীন বঙ্গ জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না কোনটি?
  1. ঢাকা
  2. ফরিদপুর
  3. কুষ্টিয়া
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
বঙ্গ:
- বঙ্গ অত্যন্ত প্রাচীন জনপদ।
- সম্ভবত আর্যযুগের আগে বা শুরুতে (খ্রি. পৃ. ১৫০০-৬০০) বঙ্গ জাতি এ ভূখন্ডের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে জনপদ-রাষ্ট্র তৈরি করে। 
- মহাভারতে ও রামায়ণে শক্তিশালী বঙ্গ রাজ্যের কথা উল্লেখ আছে।
- কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে বঙ্গরাজ ও বঙ্গসেনাদের অসীম সাহসের কথা বলা আছে।
- বর্তমান বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে বঙ্গজনপদ অবস্থিত ছিল।
- পশ্চিমে করতোয়া নদী, উত্তর-পূর্বে ব্রহ্মপুত্র প্রবাহিত হয়েছে।
- বৃহত্তর বগুড়া, পাবনা, ময়মনসিংহ জেলার পশ্চিমাঞ্চল, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালির কিয়দংশ নিয়ে বঙ্গ গঠিত হয়েছিল।
- এখানে যারা বসবাস করত তাদের 'বঙ্গ' জনগোষ্ঠী বলা হত।
- 'বঙ্গ' থেকে বাঙালি জাতির উৎপত্তি ঘটেছিল।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
.
বাংলার প্রাচীন জনপদ সমতটের অবস্থান ছিল কোন অঞ্চলে?
  1. পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা
  2. পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম বাংলা
  3. পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব বাংলা
  4. পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলা
ব্যাখ্যা
সমতট:
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার প্রাচীন জনপদের নাম সমতট।
- প্রাচীন বঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের নতুন নামের আর একটি বিশাল রাজ্য।
- মধ্যবাংলার কিছু অংশ এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ, বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চল সমতট নামে পরিচিত ছিল।
- তবে ত্রিপুরাকে সমতটের প্রধান কেন্দ্র বলা হতো।
- রাজ্য রাজভট্টের (৭ম শতকে) অন্যতম রাজধানী ছিল কর্মান্ত বা ত্রিপুরা (কুমিল্লা) জেলার ময়নামতির অদূরে বড়োকামতা।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ কত খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁও-এ স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করেন?
  1. ১৩৩৬ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৩৪২ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৩৫৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
স্বাধীন সুলতানি যুগ: 
- ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির মাধ্যমে ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হলে বাংলার ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা হয়।
- কেননা এরপর থেকে রাজা গণেশের স্বল্পকালীন শাসনামল ব্যতীত ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা মুসলিম শাসনাধীনে ছিল।
- বখতিয়ারের বাংলা বিজয়ের পর থেকে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত যেসব খলজি মালিক, তুর্কি শাসক ও বলবনী শাসকগণ বাংলা শাসন করেছেন তাদের অনেকেই পুরোপুরি স্বাধীন ছিলেন না, বরং তাঁরা দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত হতেন।
- কিন্তু দিল্লি থেকে বাংলা দূরবর্তী স্থানে হওয়ায় তাঁদের অনেকেই সুযোগ পেলেই স্বাধীনতার জন্য দিল্লির সুলতানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন।
- এজন্য বাংলাকে বুলগাকপুর বা বিদ্রোহের নগরীও বলা হত।
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁও-এ স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করেন
- তখন থেকে ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় দু'শ বছর ধরে বাংলাদেশ অবিচ্ছিন্নভাবে স্বাধীনতা ভোগ করেছিল।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
.
ভারতবর্ষে খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতকে কোন সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. গুপ্ত সাম্রাজ্য
  2. শুঙ্গ সাম্রাজ্য
  3. কুষাণ সাম্রাজ্য
  4. মৌর্য সাম্রাজ্য
ব্যাখ্যা
মৌর্যদের পরিচয় ও মৌর্য যুগ: 
- সমগ্র ভারতবর্ষের প্রাচীন ইতিহাসে খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটে যায়।
- খন্ড খন্ড ভারতবর্ষ রূপান্তরিত হয় সর্বভারতীয় সাম্রাজ্যে।
- আদি কৌম (গোত্রীয়) সমাজ রূপান্তরিত হয় সামাজ্যে।
- ঐ চতুর্থ শতাব্দীতে (খ্রিস্টপূর্ব ৩২৭অব্দে) মহান আলেকজান্ডার মেসিডোনিয়া থেকে ভারত আক্রমণ করেন।
- বর্তমান উড়িষ্যাকে তখন মগধ বলা হতো। পাটলিপুত্র এর রাজধানী ছিল।
- মগধের সম্রাট ধননন্দ ছিলেন নন্দবংশীয়। কিন্তু তিনি ছিলেন অত্যাচারী রাজা।
- তাকে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য খ্রিস্টপূর্ব ৩২১ অব্দে পরাজিত করেন।
- চন্দ্রগুপ্ত গ্রিকদের আক্রমণ শুধু প্রতিহত নয়, তাদেরকে ভারত থেকে বিতাড়িত করেন।
- তার নামানুসারে ভারতবর্ষে খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতকে যে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয় তা মৌর্য সাম্রাজ্য নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ঐতিহাসিকগণ কাকে 'বাঙালি জাতীয়তাবাদের জনক' বলে উল্লেখ করেছেন?
  1. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  2. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  3. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  4. মুর্শিদকুলি খান
ব্যাখ্যা
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ: 
- ইলিয়াস শাহের রাজত্বকাল বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল অধ্যায়।
- একজন সামান্য শাসক থেকে একত্রিত বৃহৎ বাংলা প্রতিষ্ঠিত করে এখানে সুষ্ঠু প্রশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করে জনকল্যাণমূলক শাসন প্রতিষ্ঠিত করায় ইলিয়াস শাহ বাংলার ইতিহাসে উচ্চ স্থান অধিকার করে আছেন।
- দুইবাংলার সমগ্র সীমানাকে একত্রিত করে বাঙ্গালাহ নামটি তাঁর সময়েই প্রচলিত হয় এবং সামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহকে শাহ-ই-বাঙ্গালাহ বলা হয়।
- তাঁর রাজত্বকালে বাঙালিরা সর্বপ্রথম একটি জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- এ সময় বাংলার লোকেরা বাঙালি হিসেবে পরিচিত হয়।
- এ কারণে ঐতিহাসিকগণ তাঁকে 'বাঙালি জাতীয়তাবাদের জনক' বলে উল্লেখ করেছেন।
- বাংলার ইতিহাসের এ মহানায়ক সুদীর্ঘ ১৬ বছর রাজত্ব করার পর ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিজেকে 'পরম সৌগত' আখ্যা দিয়েছিলেন কে?
  1. গোপাল
  2. ধর্মপাল
  3. রামপাল
  4. দেবপাল
ব্যাখ্যা
পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপালের শাসন (৭৫৬-৭৮১ খ্রিস্টাব্দে): 
- বাংলার ইতিহাসে প্রথম দীর্ঘ চারশ বছরব্যাপী শাসন করেছিল পালবংশ।
- এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন গোপাল।
- তার বংশধরগণ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিলেন।
- গোপালদেবের আদিবাস বরেন্দ্রভূমিতে।
- গোপালের পিতামহ ও পিতা যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন।
- সম্ভবত সে কারণেই দেশের অরাজক অবস্থায় অতিষ্ঠ বাংলার সামন্ত জমিদার এবং প্রজাদের সমর্থনে বরেন্দ্রী ও বঙ্গের সিংহাসনে আরোহণ করতে তিনি সক্ষম হন।
- বাংলায় অরাজকতার অবসান ঘটিয়ে নতুন এক শক্তিশালী দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করাই ছিল তার অমর কীর্তি।
- এ বংশের ১৭ জন নৃপতি বাংলা শাসন করেন।
- গোপাল নিজেকে 'পরম সৌগত' আখ্যা দিয়েছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
বাংলায় সেন বংশের শাসনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন কে?
  1. সামন্ত সেন
  2. হেমন্ত সেন
  3. বিজয় সেন
  4. বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা
সেন বংশের পরিচয়: 
- সেন বংশের পূর্বপুরুষরা কর্ণাটক থেকে বাংলার রাঢ়ভূমিতে এসে বসবাস শুরু করেন পাল যুগে।
- সামন্ত সেন সেই বংশে জন্মগ্রহণ করেন। যদিও তার বাল্য ও যৌবনকাল কেটেছিল কর্ণাটকে, সেখানে কয়েকটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে খ্যাতিও অর্জন করেছিলেন।
- কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে রাঢ়দেশে এসে আশ্রমবাসে বসবাস করেন।
- তার পুত্র হেমন্ত সেন দ্বিতীয় মহীপালের রাজত্বকালে ভ্রাতৃবিরোধ ও সামন্ত বিরোধের সুযোগ নিয়ে রাঢ় অঞ্চলে সামন্ত (জমিদার) হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- তিনি বাংলায় সেন বংশের শাসন শুরু করলেও তাঁর পুত্র বিজয় সেনই বাংলায় সেন বংশের শাসনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন।
- পাল শাসনামলের ভগ্নদশার সুযোগ নিয়ে বিজয় সেন (১০৯৭-১১৬০ খ্রি.) মহাধিরাজ উপাধি ধারণ করে বাংলায় সেন শাসনকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
পলাশির যুদ্ধ কবে সংঘটিত হয়?
  1. ১৭৫৬ সালের ২৩শে জুন
  2. ১৭৫৬ সালের ২১শে জুন
  3. ১৭৫৭ সালের ২১শে জুন
  4. ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন
ব্যাখ্যা
পলাশির যুদ্ধের ঘটনা: 
- পলাশির যুদ্ধ বাংলা তথা এ উপমহাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা।
- ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশির আমবাগানে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- ইতোমধ্যে রবার্ট ক্লাইভ তার অবস্থান সুদৃঢ় করে সন্ধি ভঙ্গের অজুহাতে সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
- নবাবের পক্ষে দেশপ্রেমিক মীর মদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিন ফ্রে প্রাণপণ যুদ্ধ করেন।
- যুদ্ধে মীর মদন নিহত হন।
- নবাবের বিজয় আসন্ন জেনে মীর জাফর ষড়যন্ত্রমূলকভাবে যুদ্ধ থামিয়ে দেয়।
- মীর জাফরের ষড়যন্ত্রে নবাব পরাজিত হন। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১২.
কোন পাল রাজা নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন?
  1. ধর্মপাল
  2. দেবপাল
  3. গোপাল
  4. মহীপাল
ব্যাখ্যা
দেবপাল (৮২১-৮৬১ খ্রিস্টাব্দ):
- ধর্মপালের মৃত্যুর পর তার পুত্র দেবপাল (৮২১ খ্রি.) ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন।
- দেবপাল ভারতবর্ষের উৎকল, হৃন, কম্বোজ, গাড়োয়াল, রাষ্ট্রকূট, প্রতিহার, প্রাগজ্যোতিষপুর এবং সমতটের রাজাদের পরাজিত করেন।
- এর ফলে সমগ্র উত্তর ভারতে তার রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
- রাজ্য বিস্তারে তার মন্ত্রী দর্ভপাণির কূটনীতি এবং মন্ত্রী কেদার মিত্র মিশ্রের বুদ্ধি বিশেষভাবে ভূমিকা রাখে।
- তবে বাংলার হরিকেল অঞ্চল তার অধীনতার বাইরে থেকে যায়।
- পরবর্তীকালে সমতটে চন্দ্রবংশের উত্থান ঘটে।
- পালরাজাদের মধ্যে দেবপাল সবচেয়ে শক্তিশালী রাজা ছিলেন।
- তবে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হিসেবে পাল রাজারা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের চেয়ে বুদ্ধিমত্তা ও কূটনীতির সাফল্যের ওপরই বেশি গুরুত্ব দিতেন।
- দেবপাল নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন, এছাড়া নালন্দায় তিনি একটি বৌদ্ধ বিহারও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
কার শাসনামল থেকে বাংলায় নবাবি শাসন চালু হয়?
  1. মীর জুমলা
  2. মুর্শিদকুলী খান
  3. সুজাউদ্দীন খান
  4. আলীবর্দী খান
ব্যাখ্যা
বাংলার নবাবী শাসন (১৭১৭-১৭৫৭ খ্রি.): 
- মুর্শিদকুলী খানের শাসনামল থেকে বাংলায় নবাবী শাসন চালু হয়। 
- মুর্শিদকুলী খানের শাসনামল (১৭১৭ খ্রি.) থেকে সুবা-বাংলার চরিত্রে কিছু শব্দ ও চরিত্রগত পরিবর্তন আসে।
- সুবাকে তখন 'নিজামত' (নবাবী) এবং সুবাদারকে 'নাজিম' (নবাব) বলা হতো।
- আগে মুঘলরা সুবেদার নিয়োগ করতেন।
- এই সময় (১৭১৭ খ্রি.) থেকে নবাবি প্রাপ্তির বিষয়টি বংশগতভাবে অব্যাহত থাকার নিয়ম করা হয়।
- প্রথা হিসেবে মুঘল সম্রাটদের কাছে একটি আবেদন করা হতো।
- নবাবগণ প্রদেশের স্বাধীন শাসকের মর্যাদা লাভ করেন।
- এর ফলে দিল্লির শাসন ব্যবস্থায় প্রদেশের শাসন ক্ষমতায় পারিবারিক উত্তরাধিকারদের আইনগত বৈধতা লাভ ঘটে যা সুবাদারী শাসনে ছিল না।
- মুর্শিদকুলী খানের কোনো পুত্র সন্তান ছিল না।
- নবাবী ব্যবস্থার প্রথম সুযোগ গ্রহণ করেন মুর্শিদকুলী খানের উত্তরাধিকার হিসেবে তাঁর কন্যার স্বামী।
- তাঁর কন্যা জিনাত-উন-নেসার স্বামী সুজাউদ্দীন খান (১৭২৭-১৭৩৯ খ্রি.) বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার মতো তিন প্রদেশের স্বাধীন নবাব-এর মর্যাদা নিয়ে সিংহাসনে বসেন।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
'অদ্ভূত সাগর' এর রচনা সমাপ্ত করেন কে?
  1. বিজয় সেন
  2. বল্লাল সেন
  3. লক্ষণ সেন
  4. কেশব সেন
ব্যাখ্যা
- লক্ষণ সেনের শাসনামলে শিল্প সাহিত্যের যথেষ্ট প্রসার ঘটেছিল।
- তিনি কবি-সাহিত্যিকদের যথেষ্ট মর্যাদা দিতেন।
- এক্ষেত্রে ধোয়ী, শরণ, জয়দেব, গোবর্ধন, উমাপতিধর প্রমুখ কবির নাম উল্লেখ করা যায়।
- লক্ষণ সেন নিজেও পন্ডিত ব্যক্তি ছিলেন।
- তিনি বল্লাল সেনের অসমাপ্ত বই 'অদ্ভূত সাগর' এর রচনা সমাপ্ত করেন।
- মধ্যযুগের মুসলিম ঐতিহাসিক মিনহাজ-ই-সিরাজ লক্ষণ সেনের এসব কাজের প্রশংসা করেন।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
কাকে পাল বংশের 'শেষ মুকুট' বলে অভিহিত করা হয়?
  1. দ্বিতীয় মহীপাল
  2. শূরপাল
  3. রামপাল
  4. তৃতীয় গোপাল
ব্যাখ্যা
পাল বংশের পতন: 
- দ্বিতীয় মহীপাল (১০৭৫-১০৮০ খ্রি.) উত্তর বঙ্গের বরেন্দ্র বিদ্রোহ দমন করতে গিয়ে নিহত হন।
- তার মৃত্যুর পর তার ছোট ভাই শূরপাল দু'বছর (১০৮০-১০৮২ খ্রি.) রাজত্ব করেন।
- এরপর শূরপালের ছোট ভাই অর্থাৎ মহীপালের ছোটপুত্র রামপাল (১০৮২-১১২৪ খ্রি.) রাজা হয়ে বরেন্দ্র উদ্ধারে সর্বশক্তি নিয়োগ করেন।
- প্রবল যুদ্ধের পর পিতৃভূমি বরেন্দ্রভমি উদ্ধারের পর রামপাল রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন।
- তার রাজ্যের শেষ দিকে তিনি কামরুপ ও উড়িষ্যাতেও প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন।
- কবি সন্ধ্যাকর 'রামচরিত' নামে রামপালের জীবনী গ্রন্থ রচনা করেন।
- রামপালকেই পাল বংশের 'শেষ মুকুট' বলে অভিহিত করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।