পরীক্ষা আর্কাইভ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়22 minutes
মোট প্রশ্ন৪১
সিলেবাস
Exam - 17 Hindu Law topic: Hindu Law full & DMM, MFL, FCO, Other Laws (related to personal law)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৪১ প্রশ্ন

.
কোন উৎসটি হিন্দু ধর্মের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত?
  1. স্মৃতি
  2. শ্রুতি
  3. প্রথা
  4. নিবন্ধ
ব্যাখ্যা
• হিন্দু আইনের মূল উৎস ৪টি। যথা-

বেদ বা শ্ৰুতি
অতি প্রাচীনকালে দেবতাগণ প্রত্যক্ষভাবে যা বলেছিলেন ও তৎকালে মুনিগণ যা শুনেছিলেন এবং পরবর্তীকালে যা মুনিবর কৃষ্ণদ্বৈপায়ন কর্তৃক সংকলিত হয় তাই বেদ। ঋক বেদ, যজু বেদ, সাম বেদ ও অথর্ব বেদ এই চারটি বেদকে একত্রে শ্রুতি শাস্ত্র বলা হয়। বেদ বা শ্ৰুতি হচ্ছে হিন্দু ধর্মের মূল ভিত্তি।

স্মৃতি
প্রাচীনকালে মানুষের পালনীয় ঐশ্বরিক নির্দেশাবলি যা আর্য ঋষিগণ গুরু শিষ্য পরম্পরায় আবৃত্তি আকারে স্মরণে রেখেছিলেন, যা পরবর্তীকালে মুনিগণ গ্রন্থ আকারে সংকলিত করেন ইহাই স্মৃতি শাস্ত্ৰ বা সংহিতা নামে পরিচিত।

ব্যাখ্যা বা নিবন্ধ
ধর্মীয় অনুশাসনে বিভিন্ন স্মৃতির মধ্যে জটিলতা দেখা দিলে ব্যাখ্যার উদ্ভব হয়। আঞ্চলিক রীতিনীতির সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করে পণ্ডিতগণ নিজেদের মতামত বা ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে প্রাচীন আইনের সংশোধন করে থাকেন। ব্যাখ্যাসমূহের মধ্যে দুটি মতবাদই অনুসরণ করা হয়ে থাকে-
(১) মিতাক্ষরা মতবাদ,
(২) দায়ভাগ মতবাদ।

প্রথা
ইহা এমন রীতি যা দেশ, অঞ্চল বা মহল্লায় প্রচলিত থাকাকালে আইনের যোগ্যতা অর্জন করেছে। আদালত কর্তৃক হিন্দু প্রথাকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
(১) স্থানীয় প্রথা,
(২) শ্রেণী প্রথা,
(৩) পারিবারিক প্রথা।

• হিন্দু আইনের আধুনিক উৎসসমূহ:
(ক) আদালতের সিদ্ধান্ত বা নজির,
(খ) বিধিবদ্ধ আইন,
(গ) সুবিচার, ন্যায়পরায়ণতা।
.
কত সালে 'বিবাহিতা হিন্দু নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ আইন' প্রণীত হয়?
  1. ১৯৫৬
  2. ১৯৩৭
  3. ১৯৪৬
  4. ১৯৫৫
ব্যাখ্যা
বিবাহিতা হিন্দু নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ আইনটি ১৯৪৬ সালের।

এই আইনে বিবাহিতা হিন্দু নারী বিচ্ছেদ ছাড়াও, স্বামী হতে পৃথক থাকতে পারে। উক্ত আইনে উল্লেখিত ক্ষেত্রসমূহে স্ত্রী স্বামী হতে পৃথক থেকেও স্বামীর নিকট হতে ভরণ-পোষণের অধিকার পেতে পারে। ক্ষেত্রগুলো হলো-

⇒ স্বামী যদি দুরারোগ্য কুষ্ঠ, সিফলিস ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং এই সমস্ত ব্যাধি যদি স্ত্রীর নিকট হতে সংক্রামিত না হয়;
if he (husband) is suffering from any loathsome disease not contracted from her;

⇒ স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষঠুর আচরণ করে এবং নিষ্ঠুরতা যদি এই প্রকারের হয় যে স্বামীগৃহে তার জীবনাশংকা থাকে;
if he is gulity of such cruelty towards her as renders it unsafe or undesirable for her to live with him;

⇒ স্বামী যদি গৃহে কোন উপ-পত্নী রেখে তার সাথে বসবাস করতে থাকে;
if he keeps a concubine in the house or habitually resides with a concubine;

⇒ স্বামী যদি ধর্মান্তর হয়;
if he ceases to be a Hindu by conversion to another religion;

⇒ স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিরেকে তাকে পরিত্যাগ করে;
if he is guilty of desertion, that is to say, of abandoning her without her consent or against her wish;

⇒ স্বামী যদি পুনরায় বিবাহ করে;
if he marries again; এবং

⇒ অন্য কোন যুক্তিসঙ্গত কারণে।
for any other justifiable cause
.
পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ রহিত করে নিম্নের কোন আইন প্রণীত হয়েছে?
  1. পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ২০২৩
  2. পারিবারিক আইন, ২০২৩
  3. পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩
  4. মুসলিম পারিবারিক আইন, ২০২৩
ব্যাখ্যা
• পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ,১৯৮৫ আইন রহিত করে পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩ প্রনীত হয়। এটি ২০২৩ সনের ২৬ নং আইন।

যা কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে-

⇒ নতুন আইন অনুযায়ী- সহকারী জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ পদমর্যাদার ১(এক) জন বিচারক সমন্বয়ে পারিবারিক আদালত গঠিত হবে। ১৯৮৫ সালের আইনে শুধু সহকারী জজ এর কথা উল্লেখ ছিলো।

⇒ ১৯৮৫ সালের আইন অনুযায়ী আরজি ও জবাব সংশোধনের সুযোগ ছিলো না। নতুন আইনের ৯ ধারায় এই সুযোগ রাখা হয়েছে।

⇒ সাক্ষ্য লিপিবদ্ধকরণ সংক্রান্ত বিধান অর্থাৎ ১৩ ধারা অনেকটা স্পষ্ট করা হয়েছে। এফিডেভিটের মাধ্যমে জবানবন্দী গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

⇒ দেনমোহরের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার বা তার কম টাকার ডিক্রী হলে আপীল করা যাবে না। পূর্বে তা ৫০০০ টাকা ছিল।

⇒ নতুন আইনে সকল প্রকার পারিবারিক মামলার কোর্ট ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা, পূর্বে যা ৫০ টাকা ছিল।
.
দায়ভাগ মতবাদ নিম্নলিখিত কোন এলাকায় প্রযোজ্য?
  1. বাংলাদেশ
  2. ভারতের পশ্চিমবঙ্গ
  3. পশ্চিমবঙ্গ ব্যতীত ভারতের অন্যান্য অংশে
  4. ক এবং খ উভয়
ব্যাখ্যা
• হিন্দু আইন হিন্দুদের ধর্মীয় এবং ব্যক্তিগত আইন। এ আইন যারা জন্মসূত্রে হিন্দু, হিন্দু ধর্মে দীক্ষিত, হিন্দু পিতা মাতার অবৈধ সন্তান এবং যে ক্ষেত্রে পিতা খ্রীষ্টান এবং মাতা হিন্দু সেই ক্ষেত্রে অবৈধ সন্তান যদি মায়ের কাছে হিন্দু আচার অনুযায়ী লালিত পালিত হয়, তবে এসব ক্ষেত্রে হিন্দু আইন প্রযোজ্য।

বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে হিন্দুদের মধ্যে দু’ধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু রয়েছে। যথা-
১- দায়ভাগ পদ্ধতি এবং
২- মিতাক্ষরা পদ্ধতি।

দায়ভাগ পদ্ধতি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রচলিত আছে। ভারতের অন্যান্য প্রদেশ এবং পাকিস্তানে মিতাক্ষরা পদ্ধতি প্রযোজ্য হয়ে থাকে। যদিও বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দায়ভাগ মতবাদ প্রযোজ্য, কিন্তু যে সকল ক্ষেত্রে দায়ভাগ এবং মিতাক্ষরার মধ্যে কোন বিরোধ নেই, সেই সকল ক্ষেত্রে এই অঞ্চলেও মিতাক্ষর মতবাদ প্রয়োগ করা হয়।
.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ কাদের জন্য প্রযোজ্য?
  1. বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য
  2. বাংলাদেশের সকল হিন্দু ধর্মাবলম্বী নাগরিকের জন্য
  3. বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের বাইরে অবস্থানকারী সকল হিন্দু ধর্মাবলম্বী বাংলাদেশী নাগরিকের জন্য
  4. খ এবং গ
ব্যাখ্যা
• হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ধারা ১ এ দেয়া আছে-

(১) এই আইন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ নামে অভিহিত হইবে। 
(২) ইহা নাগরিকত্ব নির্বিশেষে বাংলাদেশে বসবাসরত সকল হিন্দু ধর্মাবলম্বীর জন্য প্রযোজ্য হইবে। 
(৩) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে ইহা কার্যকর হইবে।
.
প্রথাকে আইনের মর্যাদা দিতে হলে নিম্নলিখিত কোন বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে?
  1. প্রথাটি অবশ্যই নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু থাকতে হবে
  2. যুক্তিযুক্ত এবং সুপ্রমাণিত হতে হবে
  3. নৈতিকতা বিরোধী অথবা সাধারণ নিয়মের পরিপন্থী হবে না
  4. উল্লিখিত সকল বৈশিষ্ট্য
ব্যাখ্যা
প্রথা (Customs):

ইহা এমন একটি নিয়ম বা রীতি যাহা একটি বিশেষ পরিবারে অথবা শ্রেণীতে অথবা অঞ্চলবিশেষে বহুকাল প্রচলিত হইবার দরুন আইনের যোগ্যতা অর্জন করেছে। স্মৃতি এবং প্রথার মধ্যে বিরোধ উপস্থিত হলে আইনত প্রতিষ্ঠিত প্রথা স্মৃতির চেয়েও শক্তিশালী; হিন্দু আইনের এই নীতিগত প্রশ্নটির মীমাংসা হয় কালেক্টার, মাদুরা বনাম মুট্টুরামলিঙ্গ মামলায় প্রিভি কাউন্সিলে (12 Μ.Ι. Α. 379) তাহাতে বলা হয়- "Clear proof of usage will out weigh the written texts of the law" অর্থাৎ আইনত প্রতিষ্ঠিত প্রথা হিন্দু ধর্মশাস্ত্র অনুযায়ী লিখিত বিধান হইতেও অধিক শক্তিশালী।

কোন কোন পণ্ডিত ব্যক্তি প্রথাকে শ্রুতি অথবা স্মৃতিশাস্ত্রের অবলুপ্ত অথবা বিস্মৃত অংশ বলে মনে করেন। তাদের বক্তব্য প্রথাগুলি অতি প্রাচীনকালে শ্রুতি অথবা স্মৃতিশাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তীকালে লিখিত আকারে স্মৃতি প্রণয়নকালে এইগুলি অসাবধানবশতঃ স্মৃতিশাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত হয় নাই, কিন্তু সুপ্রাচীন প্রথারূপে জনসমাজে চালু রয়েছে। প্রথা তিন প্রকার, যথা:

(১) স্থানীয় প্রথা: যে প্রথা কোন বিশেষ স্থানে বা অঞ্চলে চালু রয়েছে।

(২) শ্রেণী প্রথা: যেসব প্রথা হিন্দু সমাজের কোন বিশেষ শ্রেণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ তাহাকে শ্রেণী প্রথা বলে। হিন্দু সমাজে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক রয়েছে। যেসব প্রথা কোন একটি বিশেষ সম্প্রদায় অথবা জনগোষ্ঠির মধ্যে সীমাবদ্ধ তাহাই সেই সম্প্রদায়ের জন্য শ্রেণী প্রথা নামে অবহিত।

(৩) পারিবারিক প্রথা: যেসব প্রথা বা রীতি কোন একটি বিশেষ পরিবারে স্মরণাতীত কাল হতে চালু  আছে তা সেই পরিবারের পারিবারিক প্রথা নামে পরিচিত।

একটি প্রথাকে আইনের মর্যাদা পেতে হলে, তার মধ্যে নিম্নলিখিত উপাদানগুলি অবশ্যই থাকতে হবে-

(ক) প্রথাটি অবশ্যই সুপ্রাচীন, সুনিশ্চিত, যুক্তিযুক্ত এবং সুপ্রমাণিত হতে হবে।

(খ) ইহা নৈতিকতা বিরোধী অথবা সাধারণ নিয়মের (opposed to public policy) পরিপন্থী হলে চলবে না।

(গ) ইহা আইনসভা কর্তৃক কোন আইন দ্বারা নিষিদ্ধ ঘোষিত হইলে চলবে না। যেমন একসময়ে হিন্দুদের মধ্যে সতীদাহ প্রথা চালু ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে লর্ড বেন্টিংকের সময় রাজা রামমোহন রায় প্রমুখ মহানুভব ব্যক্তিদের উদ্যোগে আইনসভা কর্তৃক উহা নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।

(ঘ) প্রথাটিকে অবশ্য স্মরণাতীত কাল হইতে আরম্ভ হইয়া নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু থাকতে হবে।
.
দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে নারী সপিণ্ড কয়জন?
  1. ৭ জন
  2. ৪ জন
  3. ৯ জন
  4. ৫ জন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন হয়ে থাকে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ)। হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোনো মানুষ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আত্মার সদ্‌গতির জন্য শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়। শেষকৃত্যের তিনটি ধাপ আছে-
১. পিণ্ডদান;
২. পিণ্ডলেপ ও
৩. জলদান।

• মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। সপিণ্ডরাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধানতম অধিকারী। মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ— তাঁরা হলেন পুরুষ সপিণ্ড। আর নারী সপিণ্ড পাঁচজন। তাঁরা হলেন:

১. বিধবা স্ত্রী;
২. কন্যা;
৩. মাতা;
৪. পিতার মাতা ও
৫. পিতার পিতার মাতা।
.
হিন্দু আইনে দত্তক নেয়ার বিধান সাধারণত কোন কারণে প্রচলিত?
  1. ধর্মীয় কারণ
  2. পার্থিব কারণ
  3. আইনগত কারণ
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা
• অন্যের পুত্রকে হিন্দু আইনের বিধান অনুযায়ী নিজ পুত্ররূণে গ্রহণ করাকে দত্তক গ্রহণ বলা যাইতে পারে। সুপ্রাচীন রোমান আইনে দত্তক নেওয়ার বিধান প্রচলিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে হিন্দু আইন ব্যতীত অন্য কোন আইনে দত্তক নেওয়ার বিধান চালু নাই।

দত্তক গ্রহণের উদ্দেশ্য:
প্রধান দুইটি কারণে হিন্দু আইনে দত্তক নেওয়ার বিধান প্রচলিত। একটি ধর্মীয় কারণ আর অপরটি বলা যেতে পারে পার্থিব কারণ। মুনিবর বশিষ্ট সাবধান বাণী উচ্চারণ করিয়া গিয়াছেন "পুত্রহীনদের স্বর্গে কোন স্থান নাই।" একজন মৃত ব্যক্তি তার নিম্নতন তিন পুরুষ অর্থাৎ পুত্র, পৌত্র এবং প্রপৌত্র হইতে সরাসরি পিণ্ড পাওয়ার অধিকারী। যার পুত্র, পৌত্র এবং প্রপৌত্র নাই মৃত্যুর পর তার আত্মা এইভাবে পিণ্ড পাওয়ার আশা করতে পারে না। এসব বিবেচনাকে ধর্মীয় কারণ হিসাবে উল্লেখ করা যেতে পারে।

পক্ষান্তরে প্রত্যেক মানুষই নিজ বংশের ধারাবাহিকতা চালু রাখতে চায়। প্রায় সকল মানুষই চায় যে মৃত্যুর পরও তার পুত্র পৌত্রাদির মাধ্যমে তার নাম এই পৃথিবীতে আরও কিছুদিন থাকুক। এইসব বিবেচনাকে পার্থিব কারণ হিসাবে গণ্য করা যেতে পারে।
.
'Succession per capita' অর্থ কি?
  1. প্রতিনিধিত্ব মতবাদ
  2. অংশপিছু উত্তরাধিকার
  3. মাথাপিছু উত্তরাধিকার
  4. প্রতিনিধিত্ব উত্তরাধিকার
ব্যাখ্যা
• দায়ভাগ মতবাদ নিম্নোক্ত নীতিগুলিকে স্বীকৃতি দেয়ঃ

(ক) প্রতিনিধিত্ব মতবাদ (Doctrine of representation): প্রতিনিধিত্ব মতবাদ অনুসারে পুত্র, পৌত্র যার পিতা মারা গিয়েছে, তারা সকলেই পিতৃপক্ষীয় সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারীত্ব লাভ করে, কারণ পৌত্র তার পিতার এবং প্রপৌত্র তার পিতা ও পিতামহ উভয়েরই প্রতিনিধিত্ব করে।

খ) অংশপিছু উত্তরাধিকার (Sucssession per stripes): যেখানে প্রতিনিধিত্ব মতবাদ প্রয়োগ করা হয় এবংউত্তরাধিকারীগণ মৃত ব্যক্তির স্থলবর্তীরুপে অংশপ্রাপ্ত হন সেখানে এরুপে স্থলবর্তীরুপে অংশ পাওয়াকে অংশপিছু উত্তরাধিকার বলে।

(গ) মাথাপিছু উত্তরাধিকার (Succession per capita): মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে তার উত্তরাধিকারগণের সমান অংশ সম্পত্তি প্রাপ্ত হওয়াকে মাথাপিছু উত্তরাধিকার বলে।
১০.
হিন্দু আইনে 'Factum valet' নীতিটির প্রবর্তক-
  1. মনু
  2. নারদ
  3. জীমুতবাহন
  4. যাজ্ঞবল্ক্য
ব্যাখ্যা
হিন্দু আইনে ফ্যাক্টাম ভ্যালেট (Factum valet] নীতিটির প্রবর্তক হলো জীমুতবাহন।

Factum valet quod fieri non debuit অর্থ হলো উচিৎ নয় এমন কোন কাজ কেউ করে ফেললে সেটাকে অবৈধ গণ্য করা হবে না। এটা বর্তমানে দায়ভাগ এবং মিতাক্ষর উভয় মতবাদে স্বীকৃত নীতি। এই নীতির আলোকে আদালত হিন্দু আইনের কতিপয় ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করে।
যেমন অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া একটি বিয়ে অনুষ্ঠিত হলো। বিয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি বিধি মোতাবেক একটি দিক নির্দেশক পন্থা মাত্র, সম্মতি ছাড়া বিয়ে হলে সেটি অবৈধ হবে না।
১১.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ অনুসারে বিবাহ নিবন্ধন করা-
  1. বাধ্যতামূলক
  2. ঐচ্ছিক
  3. আবশ্যক
  4. ক এবং গ
ব্যাখ্যা
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ অনুসারে বিবাহ নিবন্ধন করা ঐচ্ছিক।

• হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ধারা ৩ এ দেয়া আছে-

(১) অন্য কোন আইন, প্রথা ও রীতি-নীতিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, হিন্দু বিবাহের দালিলিক প্রমাণ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে হিন্দু বিবাহ, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, নিবন্ধন করা যাইবে। 
 
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন হিন্দু বিবাহ এই আইনের অধীন নিবন্ধিত না হইলেও উহার কারণে কোন হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী সম্পন্ন বিবাহের বৈধতা ক্ষুণ্ণ হইবে না।
১২.
কোন মুসলিম পুরুষ সালিসি পরিষদের অনুমতি ব্যতীত পুনরায় বিবাহ করলে, অনধিক কত বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে?
  1. ৩ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  2. ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  3. ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  4. ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
• মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১  উত্তরাধিকার, বিবাহ রেজিস্ট্রি, বহুবিবাহ, তালাক, দেনমোহর ও ভরণপোষণ সংক্রান্ত আইন। এ অধ্যাদেশে পারিবারিক বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি সালিসী কাউন্সিল গঠনের কথা বলা হয়। স্থানীয় ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং প্রতিযোগী পক্ষগণের মধ্য থেকে একজন করে প্রাপ্তবয়স্ক প্রতিনিধি সমন্বয়ে এই কাউন্সিল গঠিত হবে। পৌর এলাকায় পৌরসভার চেয়ারম্যান এবং মিউনিসিপাল কর্পোরেশন এলাকায় কর্পোরেশনের মেয়র বা প্রশাসক সালিসী কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন।

৬ ধারায় বলা হয়-
 কোন ব্যক্তির একটি বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় সালিস পরিষদের পূর্বানুমতি ছাড়া পুনরায় বিবাহ করতে পারবে না এবং এরূপ অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ সম্পন্ন হলে তা রেজিস্ট্রি করা যাবে না। বিবাহ করতে হলে সালিস পরিষদের অনুমতির জন্য নির্ধারিত ফি দিয়ে নির্ধারিত পদ্ধতিতে চেয়ারম্যানের নিকট আবেদন করতে হবে এবং আবেদনপত্রে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণ, প্রয়োজনীয়তা এবং এ বিবাহে বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীগণের সম্মতি আছে কিনা তা উল্লেখ করতে হবে।

কোন পুরুষ সালিস পরিষদের অনুমতি ব্যতীত যদি আরও একটি বিবাহ করে, তাহলে তাকে-
(ক) অবিলম্বে তার বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীগণের সমস্ত দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করতে হবে। পরিশোধ করা না হলে তা বকেয়া রাজস্বের ন্যায় আদায় করা যাবে;
(খ) অভিযোগক্রমে দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে এক বৎসর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা দশ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা হবে
১৩.
একজন হিন্দু ব্যক্তি 'ক' তার স্ত্রী এবং দুই পুত্র রেখে মারা গেল। তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি -
  1. সমান তিন অংশে ভাগ হবে এবং এক অংশ বিধবা স্ত্রী পাবে ও বাকী অংশ দুই পুত্র তুল্যাংশে পাবে
  2. সমান দুই অংশে ভাগ হবে এবং দুই পুত্র এক অংশ করে পাবে
  3. সমান তিন অংশে ভাগ হবে এবং দুই অংশ বিধবা স্ত্রী পাবে ও বাকী এক অংশ দুই পুত্র তুল্যাংশে পাবে
  4. সমুদয় সম্পত্তি বিধবা স্ত্রী পাবে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে হিন্দুদের মধ্যে দু’ধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু রয়েছে। যথা- দায়ভাগ পদ্ধতি এবং মিতাক্ষরা পদ্ধতি। দায়ভাগ পদ্ধতি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রচলিত আছে। দায়ভাগ মতে পিন্ডদানের অধিকারী ব্যক্তি মাত্রই মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী। যারা পিন্ড দিতে পারে তারাই মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পত্তির ওয়ারিশ বলা হয়। ভারতের অন্যান্য প্রদেশ এবং পাকিস্তানে মিতাক্ষরা পদ্ধতি প্রযোজ্য হয়ে থাকে।

উত্তরাধিকারীদের অধিকারের স্বাভাবিকভাবে পুত্রই পিতার সমগ্র সম্পত্তির একক উত্তরাধিকারী হয়। পুত্র একাধিক হলে তারা সকলে মিলে পিতার সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার পায়। যে পুত্র মৃত তার পুত্র অর্থাত্‍ পৌত্র উত্তরাধিকার পায়। পুত্র, পৌত্র এবং প্রপৌত্র যেহেতু সমভাবে পিন্ড দেবার অধিকারী তাই তারা উত্তরাধিকারী হয়। কিন্তু পুত্র জীবিত থাকলে তার পুত্র অর্থাত্‍ পৌত্র পিন্ড দিতে পারে না। এবং সে কারণে পুত্রের জীবমানে পৌত্র উত্তরাধিকার পায়না। প্রপৌত্রের ক্ষেত্রেও একই কথা।

বিধবাদের কথা বলা যায় যে, আগে পুত্র, পৌত্র প্রভৃতি থাকলে বিধবা আর কোন উত্তরাধিকার পেত না। বর্তমানে অর্থাত্‍‍ ১৯৩৭ সনের সম্পত্তির উপর হিন্দু নারীর অধিকার আইন পাস হবার পর বিধবাবৃন্দ জীবন স্বত্ব উত্তরাধিকার পায়। এ আইন পাস হবার পর, বিধবা এক পুত্রের সমান অংশ জীবন স্বত্ব পায়। পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র কেউ না থাকলে মৃত স্বামীর সমস্ত সম্পত্তি তার বিধবা জীবন স্বত্বে পায়। বৈধ প্রয়োজনে বিধবার সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে। মৃতের বিধবা যেভাবে সম্পত্তি পায় মৃতের পুত্রের বিধবা বা তার পৌত্রের বিধবা বা প্রপৌত্রের বিধবা একইভাবে সম্পত্তি পায়।

অর্থাৎ 'ক' এর সম্পত্তি সমান তিন অংশে ভাগ হবে ৷ বিধবা স্ত্রী পাবে এক অংশ এবং বাকী অংশ দুই পুত্র তুল্যাংশে পাবে।
১৪.
বিবাহিতা হিন্দু নারী স্বামী হতে পৃথক থেকেও, স্বামীর নিকট হতে ভরণ-পোষণের অধিকারী-
  1. স্বামী যদি ধর্মান্তর হয়
  2. স্বামী যদি পুনরায় বিবাহ করে
  3. স্বামী যদি দুরারোগ্য কুষ্ঠ, সিফলিস ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়
  4. উল্লিখিত সকল কারণে
ব্যাখ্যা
• ১৯৪৬ সালের বিবাহিতা হিন্দু নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ আইন (The Hindu Married Women's Right to Separate Residence and Maintenance Act, 1946) অনুযায়ী, নিম্নলিখিত কারণে বিবাহিতা হিন্দু নারী স্বামী হতে পৃথক থেকেও স্বামীর নিকট হতে ভরণ-পোষণের অধিকার পেতে পারে:

- স্বামী যদি দুরারোগা কুষ্ঠ, সিফলিস ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং এই সমস্ত ব্যাধি যদি স্ত্রীর নিকট হতে সংক্রামিত না হয়;
- if he (husband) is suffering from any loathsome disease not contracted from her;

- স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষঠুর আচরণ করে এবং নিষ্ঠুরতা যদি এই প্রকারের হয় যে স্বামীগৃহে তার জীবনাশংকা থাকে;
- if he is gulity of such cruelty towards her as renders it unsafe or undesirable for her to live with him;

- স্বামী যদি গৃহে কোন উপ-পত্নী রেখে তার সাথে বসবাস করতে থাকে;
- if he keeps a concubine in the house or habitually resides with a concubine;

- স্বামী যদি ধর্মান্তর হয়;
if he ceases to be a Hindu by conversion to another religion;


- স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিরেকে তাকে পরিত্যাগ করে;
- if he is guilty of desertion, that is to say, of abandoning her without her consent or against her wish;

- স্বামী যদি পুনরায় বিবাহ করে;
- if he marries again
; এবং

- অন্য কোন যুক্তিসঙ্গত কারণে।
- for any other justifiable cause
১৫.
পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩ কাদের জন্য প্রযোজ্য?
  1. শুধুমাত্র মুসলিমদের জন্য
  2. বাংলাদেশের মুসলিম নাগরিকদের জন্য
  3. ধর্ম নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল নাগরিকদের জন্য
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
• পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ বলবৎ হওয়ার পর একটি বিতর্ক দেখা দেয়। বলা হয় যে, পারিবারিক আদালত কি মুসলমানদের জন্য একটি আদালত। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা এখানে মামলা করতে পারবে না।

সর্বপ্রথম Krishnapada Talukdar V Geetasree Talukdar 14 (1994) BLD 415 নামক মামলায় এরকম প্রশ্ন দেখা দেয়। এই মামলায় প্রশ্ন উঠে একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী মহিলা তার স্বামীর বিরুদ্ধে ভরণপোষণের জন্য পারিবারিক আদালতে মামলা করতে পারবে কিনা। এই মামলার রায়ে বলা হয়- এই আইনের বিধান শুধু মুসলিমদের জন্য প্রযোজ্য। এই সংকটটি ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত চলমান ছিল।

Pochon Rikssi Das Vs Khuku Rani Dasi and others 50 (1998) DLR(HCD) 47 মামলায় এই সংকটটি চূড়ান্ত ভাবে দূর করা হয়। তিন জন বিচারকের সমন্বয় গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ বেঞ্চ এটা বহাল রাখে যে, পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ,১৯৮৫ ধর্ম নির্বিশেষে সকল নাগরিকদের জন্য।

এই আইন রহিত করে পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩ প্রনীত হয়। তাছাড়া, এই আইনে শুধুমাত্র 'পারিবারিক' কথাটি উল্লেখ রয়েছে এবং ধারা ১ এ বলা হয়েছে-  ইহা রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশে প্রয়োগ হইবে। অর্থাৎ এই পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩ ধর্ম নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
১৬.
হিন্দু আইনে বিয়ে এক প্রকার-
  1. দেওয়ানী চুক্তি
  2. পার্থিব বন্ধন
  3. পবিত্র বন্ধন
  4. আংশিক চুক্তি
ব্যাখ্যা
হিন্দু বিয়ে একটি ধর্মীয় পবিত্র বন্ধন (Sacrament) বিধায় ইহা একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধন যা ইহলোক ও পরলোকেও স্থায়ী। মুসলিম বিয়ে একটি দেওয়ানী চুক্তি। কাজেই আইন মোতাবেক যেমন এরুপ চুক্তি করা যায়, তেমনি এর পরিসমাপ্তিও ঘটানোও যায়। হিন্দু বিয়ে এরুপ পর্যায়ভূক্ত নয়।
তাই শাস্ত্রীয় বিধান মতে কোন পক্ষই তালাকের মাধ্যমে বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে না। তবে পরবর্তীকালে বিধিবদ্ধ আইন দ্বার এর কিছু ব্যতিক্রম করা হয়েছে। ১৮৮৬ সালে ধর্মান্তরের মাধ্যমে বিয়ে বিচ্ছেদ আইন প্রবর্তিত হয়।

এই আইনে বলা হয়েছে যে, যদি কোন নারী বা পুরুষ ধর্ম ত্যাগ করে, খৃষ্টান ধর্ম গ্রহণ করে, তবে আদালত তাদের পূর্ব অুনষ্ঠিত বিয়ের বন্ধন ছিন্ন হয়েছে ঘোষণা প্রদান করতে পারেন। কলকাতা হাইকোর্ট গবর্ধন বনাম জাসোদমনি মামলায় এই মর্মে রায় প্রদান করেন যে, যদি কোন হিন্দু নারী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তখন তার উপর আর হিন্দু আইনের কোন অধিকার থাকে না। ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে তার বিয়ের বন্ধন সঙ্গে সঙ্গেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

১৯৫৫ সালে ভারতের হিন্দুদের জন্য আদালতের মাধ্যমে বিয়ে বিচ্ছেদের আইন প্রবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু তা বাংলাদেশের হিন্দুদের জন্য প্রযোজ্য নয়। যে কোনও রূপ, বিবাহবিচ্ছেদ বা অন্য কোনওভাবে হিন্দু বিবাহের বিচ্ছেদ বাংলাদেশে অনুমোদিত নয়।
ধারণাটি হল স্বামী এবং স্ত্রী চিরকাল একসাথে থাকবে এবং একসাথে সমস্ত ধর্মীয় এবং পার্থিব কার্য সম্পাদন করবে। বিয়ের পর তারা একটি নিখুঁত সংযোগে পরিণত হয়, দেহ ও আত্মায় উভয়ই মিলিত হয়, যা বিচ্ছিন্ন উচিত নয়।
১৭.
সেবায়েত কোন ধরনের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ করেন?
  1. বিধবার সম্পত্তি
  2. দেবোত্তর সম্পত্তি
  3. নাবালকের সম্পত্তি
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
• মন্দির নির্মাণ করে তাতে দেবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পূজা-অর্চনার ব্যয় নির্বাহের জন্য সম্পত্তি দান করলে তা সাধারণত 'দেবোত্তর সম্পত্তি' বলে পরিচিতি পায়। আইনের দৃষ্টিতে এ রকম বিগ্রহ বা দেবতার মূর্তি একটি বৈধ আইনি সত্তা বা জুডিশিয়াল পারসন। এ রকম সম্পত্তির আইনি মালিক ওই বিগ্রহই। কারণ তার উদ্দেশে সেটি দান করা।

দেবোত্তর দুই রকমের হয়। যখন কোনো পরিবারের কোনো ব্যক্তি পারিবারিক গৃহদেবতার পূজা-অর্চনার জন্য কোনো সম্পত্তি দান করে যান, তখন তাকে 'ব্যক্তিগত বা পারিবারিক দেবোত্তর' বলা হয়। কারণ তখন বিগ্রহের সেবা ও পূজার দায়িত্ব তার বংশধরদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
অপরদিকে, সর্বসাধারণের জন্য অনুরূপ দান সম্পন্ন হলে এটি 'সর্বজনীন দেবোত্তর' সম্পত্তি হিসেবে পরিগণিত হয়। কারণ এতে কোনো একক ব্যক্তি বা পরিবারের স্বার্থ বা দায়দায়িত্ব থাকে না। সে অবস্থায় এটি সাধারণের সম্পত্তি হিসেবে পরিগণিত হয়। যেমন, রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির।

মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত দেবতার নিত্য পূজা- অর্চনার কাজে যিনি নিয়োজিত থাকেন তিনিই সেবায়েত। একজন সেবায়েত দেবতা বা বিগ্রহের যাবতীয় বিষয়ের কার্যনির্বাহীও বটে। দেবতা সম্পত্তির মালিক হলেও কার্যত সম্পত্তি পরিচালনায় সম্পূর্ণ অক্ষম। সেজন্য দেবতার পক্ষে তদীয় সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন উপযুক্ত পরিচালকের প্রয়োজন। আর সে দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে সেবায়েতের উপর।

দেবোত্তর সম্পত্তির সেবায়েত কে হবেন আর তার উত্তরাধিকার কারা হবেন, কোন নিয়মে হবেন তা সাধারণত অর্পণনামা বা উৎসর্গপত্রে লেখা থকে। সেবায়েত দেবতার বিরুদ্ধে কাজ করলে বা তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাকে প্রয়োজনে আদালত কর্তৃক অপসারণ করে অন্য সেবায়েত নিয়োগ করা যায়।
১৮.
১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন অনুযায়ী, স্বামী একাধারে কয় বছর স্ত্রীকে ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে স্ত্রী বিবাহ-বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারবে?
  1. ৪ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৭ বছর
ব্যাখ্যা
• ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-

⇒ চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
⇒ স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
⇒ স্বামী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
⇒ বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
⇒ স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;

⇒ বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;

⇒ স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;

⇒ স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-

(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়েবিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।
১৯.
স্ত্রীধন বলতে কি বোঝায়?
  1. উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া স্ত্রীর সম্পত্তি
  2. উপহার হিসেবে স্ত্রীর প্রাপ্ত সম্পত্তি
  3. স্ত্রীর নিজস্ব অর্জিত সম্পত্তি
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
স্ত্রীর স্বোপার্জিত কিংবা উপহার হিসেবে প্রাপ্ত সম্পত্তি হচ্ছে স্ত্রীধন। তারা এ ধন নিজের ইচ্ছামতো বিক্রয় অথবা দান করতে পারে। উপার্জনের উৎস অনুযায়ী স্ত্রীধন চার প্রকার। স্ত্রীধনের উত্তরাধিকারও ভিন্ন ধরনের এবং তা কন্যাদের অধিকতর উত্তরাধিকার ক্ষমতা প্রদান করে।

স্ত্রীধনের প্রকৃতি অনুযায়ী তার উত্তরাধিকারক্রম এরূপ:

ক. শুল্ক (কন্যাপণ): ভাই, মা, পিতা ও স্বামী;

খ. যৌতুক (বিবাহকালে প্রাপ্ত উপহার): অবাগ্দত্তা কন্যা, বাগ্দত্তা কন্যা, বিবাহিতা কন্যা যার পুত্র রয়েছে কিংবা পুত্রসম্ভবা, বন্ধ্যা বিবাহিতা কন্যা এবং নিঃসন্তান বিধবা কন্যা সমান অংশে; পুত্র, দৌহিত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র, সতীন পুত্র, সতীন পৌত্র, সতীন প্রপৌত্র। উপর্যুক্তদের অভাবে স্ত্রীলোকের যৌতুক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে স্বামী, ভাই, মা, বাবা;

গ. অন্বাধেয় (বিবাহোত্তরকালে পিতৃদত্ত): এক্ষেত্রে উত্তরাধিকারক্রম প্রায় যৌতুকের মতোই, তবে পার্থক্য হলো- বিবাহিতা কন্যাদের চেয়ে পুত্ররা অগ্রাধিকার পায় এবং নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত স্ত্রীলোকের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারী হয় তার ভাই, মা, পিতা, স্বামী;

ঘ. অযৌতুক (বিবাহের পূর্বে বা পরে আত্মীয়গণ কর্তৃক প্রদত্ত; বিবাহের পূর্বে পিতৃদত্ত): এ ক্ষেত্রে পুত্র এবং কুমারী কন্যারা সমান অংশীদার; বিবাহিত পুত্রবতী অথবা পুত্রসম্ভবা কন্যা, পৌত্র, দৌহিত্র, বন্ধ্যা বিবাহিতা কন্যা এবং নিঃসন্তান বিধবা কন্যা।

উপযুক্তদের অভাবে অযৌতুক স্ত্রীধনের উত্তরাধিকারীরা হলো: ভাই, মা, পিতা, স্বামী, দেবর, স্বামীর ভ্রাতুষ্পুত্র, বোনপো, স্বামীর ভাগিনেয়, নিজের ভ্রাতুষ্পুত্র, জামাতা, স্বামীর সপিন্ড, সকুল্য ও সমানোদক, পিতার জ্ঞাতি।
২০.
একজন হিন্দু ব্যক্তি সম্পত্তির কত অংশ উইল করতে পারে?
  1. এক-তৃতীয়াংশ
  2. অর্ধেক
  3. দুই-তৃতীয়াংশ
  4. নির্দিষ্ট বিধান নেই
ব্যাখ্যা
• উইল হচ্ছে নিজের অবর্তমানে কাউকে সম্পত্তি দিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা। তবে কোনো মুসলমান তাঁর দাফন-কাফনের ব্যয় ও দেনা পরিশোধের পর সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের বেশি উইল করতে পারবে না। অর্থাৎ উইলের ক্ষেত্রে পুরো সম্পত্তি দিয়ে যেতে পারবেন না। যদি এক-তৃতীয়াংশের বেশি উইল করা হয়, তাহলে সে উইল কার্যকর করা যাবে না।
তবে সম্পত্তির উইলের ক্ষেত্রে অন্য ওয়ারিশদের অনুমতি নিয়ে এর বেশিও উইল করা যাবে। দান সঙ্গে সঙ্গে হস্তান্তর করতে হয়। উইল কার্যকর হয় মৃত্যুর পর। তবে নাবালক সন্তান থাকলে দানের ক্ষেত্রে সন্তান সাবালক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হস্তান্তর করতে হবে।

একজন হিন্দু ব্যক্তিও তাঁর সম্পত্তি উইল করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই। একজন হিন্দু ব্যক্তি তাঁর সমুদয় সম্পত্তি উইল করতে পারেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে জেলা জজ আদালত থেকে উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল প্রবেট করতে হয়। প্রবেট হচ্ছে আদালতের মাধ্যমে উইলের প্রমাণ। যেকোনো হেবা বা দান লিখিত আকারে হতে হবে তা রেজিস্ট্রি করে নিতে হবে।
২১.
হিন্দু বিবাহ অনুষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আচার বা রীতি হিসাবে কোনটি বিবেচিত হয়?
  1. মালা বদল
  2. সপ্তপদী
  3. অঞ্জলি
  4. কন্যা সম্প্রদান
ব্যাখ্যা
সপ্তপদী: 
একটি হিন্দু বিবাহ অনুষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আচার বা রীতি হিসাবে বিবেচিত হয়। এটি বাঙালি সমাজে সাতপাক নামে পরিচিত। যা নব-দম্পতি যজ্ঞকুন্ডের অগ্নিকে সাক্ষী রেখে সাতপাক একসাথে প্রদিক্ষণ করার মাধ্যমে সম্পূর্ণ হয়। সপ্তম পদক্ষেপ নেওয়ার পরে দম্পতির বিবাহ অপ্রতিরোধ্য বলে বিবেচিত হয়।

সপ্তপদী একটি প্রাচীন আচার যা বৈদিক যুগের । আগুনের পবিত্র বেদীর প্রদক্ষিণ একটি আচার যা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্নভাবে সম্পাদিত হয় । কিছু অঞ্চলে, দম্পতি সাতবার বেদির চারপাশে ঘুরে বেড়ায়। অন্যান্য অঞ্চলে, দম্পতি একটি একক প্রদক্ষিণ সম্পূর্ণ করতে সাতটি পদক্ষেপ নেয়। প্রতিটি ধাপে দম্পতি বিভিন্ন শপথও নিতে পারে, যার বিষয়বস্তু অঞ্চলভেদে ভিন্ন হয়।

এছাড়া-
মালা বদল: কন্যা ও বর মালাবদল করেন। এই রীতির অর্থ হচ্ছে দুজন একে অন্যকে জীবনসঙ্গী হিসাবে মেনে নিলেন।
সম্প্রদান: কন্যার পিতা কন্যাকে জামাতার হাতে সম্প্রদান করেন বেদমন্ত্রে। বরও জানান যে তিনি কন্যার ভরণপোষণের দায়িত্ব নিলেন।
অঞ্জলি: কন্যা ও বর খৈ অগ্নাহুতি দেন। প্রচলিত বাংলায় একে বলে খৈ পোড়া। বৈদিক যুগে মানুষ নানা ধরনের শক্তির উপাসনা করতেন। অগ্নিও তাদের মধ্যে অন্যতম।
২২.
স্বাভাবিক অভিভাবক কোন ক্ষেত্রে নাবালকের সম্পত্তির হস্তান্তর করতে পারে?
  1. আইনসঙ্গত প্রয়োজনীয় কারণে
  2. নাবালকের সম্পত্তির মঙ্গলার্থে
  3. ক ও খ
  4. কোনো ক্ষেত্রেই নয়
ব্যাখ্যা
স্বাভাবিক অভিভাবক আইনসঙ্গত প্রয়োজনীয় কারণে অথবা নাবালকের সম্পত্তির মঙ্গলার্থে নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তর অথবা দায়বদ্ধ করতে পারে। আইনসঙ্গত কারণ এবং নাবালকের সম্পত্তির মঙ্গলার্থে বলিতে কি বুঝায় তাহার বিশদ আলোচনা আছে প্রিভি কাউন্সিলে উত্থাপিত হনুমান প্রসাদ বনাম মুসাম্মত বাবুই নামক অনুসরণীয় মামলায়। যদি কোন স্বাভাবিক অথবা কার্যতঃ অভিভাবক আইনসঙ্গত প্রয়োজন অথবা নাবালকের সম্পত্তির মঙ্গলার্থ ব্যতীত নাবালকের স্বার্থের পরিপন্থী অন্য কোন কারণে নাবালকের পক্ষে তাহার সম্পত্তি হস্তান্তর করে, তবে নাবালক সাবালকয়য়ে তিন বৎসরের মধ্যে এই প্রকার হস্তান্তর রদের জন্য মামলা করতে পারে।

আদালতের নিযুক্তীয় অভিভাবক নাবালকের পক্ষে হস্তান্তর করতে হলে, আদালতের আগাম অনুমতি নিতে হয়। অনুমতি দেয়ার সময় হস্তান্তরের আইনত প্রয়োজন আছে কিনা এবং প্রস্তাবিত হস্তান্তর নাবালকের সম্পত্তির হিতার্থে হবে কিনা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করে আদালত অনুমতি দেন আর সেই কারণেই এইসব হস্তান্তর সাধারণত নাবালক সাবালক হয়ে রদ করতে পারে না। তবে আদালত হইতে যদি প্রতারণামূলকভাবে অনুমতি নেয়া হয়ে থাকে, তবে সেই ক্ষেত্রে হস্তান্তর রদের মামলা চলতে পারে।
২৩.
১৮৫৬ সালে নিম্নের কোন আইন পাশ হয়?
  1. বিবাহিতা হিন্দু নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ আইন
  2. হিন্দু বিয়ে (অসমর্থতা দূরীকরণ) আইন
  3. হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন
  4. হিন্দু বিবাহ বিচ্ছেদ আইন
ব্যাখ্যা
• উচ্চ-বর্ণের হিন্দু সমাজ দীর্ঘদিন যাবৎ বিধবাদের পুনরায় বিবাহের অনুমোদন দেয় নি। বিধবারা এমনকি যারা শৈশবে বা কৈশোরে বিধবা হয়েছিলেন তারাও বৈরাগ্য ও কঠোর ত্যাগ স্বীকার করে জীবনযাপন করবেন এমনটাই প্রত্যাশিত ছিল। তথাকথিত পরিবারের সম্মান ও পারিবারিক সম্পত্তি রক্ষা করার জন্য এরকম নিয়ম করা হয়েছিল। পণ্ডিত ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের অকালন্ত প্রচেষ্টায় ব্রিটিশ সরকার ভারতে হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন, ১৮৫৬, প্রণয়ন করে যার মাধ্যমে বিধবাদের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্য সম্পত্তির অধিকার ইত্যাদি সামাজিক রক্ষাকবচ প্রদান করা হয়।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনাধীন সময়ে তখনকার ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড ডালহৌসির সহায়তায় ভারতবর্ষের সকল বিচারব্যবস্থায় হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহ বৈধ করা হয়েছিল। ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় তৎকালীন বড়লাট লর্ড ক্যানিং আইন প্রণয়ন করে বিধবা বিবাহ কে আইনি স্বীকৃতি দেন। লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংকয়ের দ্বারা সতীদাহ বিলুপ্ত করার পর এটিই প্রথম বড় সমাজ সংস্কার আইন।
২৪.
হিন্দু আইনে উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে কন্যাদের মধ্যে অগ্রাধিকার পাবে-
  1. অবিবাহিত কন্যা
  2. পুত্রবর্তী কন্যা
  3. বিধবা কন্যা
  4. সন্তানহীন কন্যা
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে হিন্দুদের মধ্যে দু’ধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু রয়েছে। যথা- দায়ভাগ পদ্ধতি এবং মিতাক্ষরা পদ্ধতি। দায়ভাগ পদ্ধতি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রচলিত আছে। দায়ভাগ মতে পিন্ডদানের অধিকারী ব্যক্তি মাত্রই মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী। যারা পিন্ড দিতে পারে তারাই মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পত্তির ওয়ারিশ বলা হয়। ভারতের অন্যান্য প্রদেশ এবং পাকিস্তানে মিতাক্ষরা পদ্ধতি প্রযোজ্য হয়ে থাকে।

উত্তরাধিকার সম্পর্কিত কিছু সাধারণ নিয়ম-

(১) পুত্র পিতার সমগ্র সম্পত্তির একক উত্তরাধিকারী;
(২) পুত্র একাধিক হলে সমান হারে সম্পত্তি পাবে; 
(৩) পুত্র মারা গিয়ে থাকলে পৌত্র উত্তরাধিকারী হবে (পিতার অংশ পাবে);
(৪) বিধবা স্ত্রী এক পুত্রের সমান অংশ ‘জীবন স্বত্ব পাবে। (সম্পত্তিতে হিন্দু নারীদের অধিকার আইনের ৩(১) ধারা);
(৫) একাধিক বিধবা স্ত্রী থাকলে সকলে একত্রে এক পুত্রের সমান সম্পত্তি পাবে;
(৬) মৃতের বিধবা পুত্রবধূ/প্রপৌত্রবধূ থাকলে সে এক পুত্রের সমান ‘জীবন স্বত্ত্ব’ পাবে;
(৭) কন্যার পূর্বের কোন উত্তরাধিকারী না থাকলে কন্যা পিতার সম্পত্তি পাবে;
(৮) কন্যাদের মধ্যে ‘কুমারী কন্যার’ দাবি প্রথম এবং সে-ই সব সম্পত্তি পাবে;
(৯) কুমারী কন্যা না থাকলে পুত্রবর্তী কন্যা উত্তরাধিকারী হবে;
(১০) বন্ধ্যাকন্যা, বিধবা কন্যা, সন্তানহীন কন্যা এবং যে সব কন্যার শুধু কন্যা সন্তান আছে তারা উত্তরাধিকারী হবে না। তবে এরূপ কন্যাদের মধ্যে যে, কোন দত্তকপুত্র গ্রহণ করেছে সে বঞ্চিত হবে না।
২৫.
'কোন হিন্দু বিবাহ শুধুমাত্র গোত্র বা প্রবরের কারণে অবৈধ হবে না'- নিম্নলিখিত কোন আইনে এই বিধান করা হয়েছে?
  1. The Hindu Women Marriage Ceremonies Act,1856
  2. The Hindu Women Marriage Act,1856
  3. The Hindu Widow's Re- Marriage Act,1856
  4. The Hindu Marriage Disabilities Removal Act,1946
ব্যাখ্যা
১৯৪৬ সালের হিন্দু বিয়ে (অসমর্থতা দূরীকরণ) আইন (The Hindu Marriage Disabilities Removal Act, 1946) অনুযায়ী,

হিন্দুদের মধ্যে কোন বিবাহ যেটা অন্যান্যভাবে বৈধ, সেই বিবাহ গোত্র বা প্রবরের কারণে অবৈধ হবে না। এই আইন পাশ হওয়ার পর বিভিন্ন উপ- বর্ণের পাত্র-পাত্রীর মধ্যে বিয়ের ক্ষেত্রে সব বাধা দূর করা হয়।
যেমন- ভিন্ন বর্ণের কোন ছেলে এবং মেয়ে বিয়ে করলে সনাতন আইনে বিবাহ অবৈধ হলেও ১৯৪৬ সালের আইনের কারণে বিবাহটি বৈধ হবে। আবার একজন বিধবা যদি পুনরায় একই গোত্রের কোন ব্যক্তিকে বিবাহ করে, তাহলে ঐ বিবাহ অবৈধ হবে না।
২৬.
দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকারী কয় প্রকার?
  1. ৫৩ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৫ প্রকার
  4. ৮ প্রকার
ব্যাখ্যা
দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকারী ৩ প্রকার:

ক- সপিণ্ড,
খ- সকুল্য ও
গ- সমানোদক।

সপিণ্ড:
যে সকল ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির আত্নার কল্যাণের জন্য পিণ্ডদান করেন এবং মৃত ব্যক্তি জীবিত থাকলে যাদের মৃত্যুতে তিনি পিণ্ডদানের যোগ্য ছিলেন তারা সবাই পরস্পরের সপিণ্ড। পুরুষ সপিণ্ডর সংখ্যা ৪৮জন এবং মহিলা সপিণ্ডর সংখ্যা ৫ জন মিলে সর্বমোট ৫৩ জন সপিণ্ড হবে।

সকুল্য:
প্রপিতামহের উর্ধ্বতন ৩ পুরুষ সকুল্য নামে পরিচিত। সপিণ্ড-র ৫৩ জনের কেউ বিদ্যমান না থাকলে সকুল্যগন সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করে। সকুল্যেও মোট সংখ্যা ৩৩ জন সকলেই পুরুষ।

সমানোদক:
সকুল্যের উর্ধ্বতন ৭ পুরুষকে সমানোদক বলে। সপিণ্ড ও সকুল্যের কেউ বিদ্যমান না থাকলে সমানোদকগন উত্তরাধিকার লাভ করে। সমানোদকদের সংখ্যা ১৪৭ জন। এরা সকলেই পুরুষ।
২৭.
নিম্নের কোন আইনে 'Doctrine of Representation' এর বিধান রয়েছে?
  1. পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩
  2. পারিবারিক আদালত বিধিমালা,২০২৩
  3. মুসলিম পরিবারিক আইন অধ্যাদেশ,১৯৬১
  4. মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন,১৯৩৯
ব্যাখ্যা
• মুসলিম পরিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ উত্তরাধিকার, বিবাহ রেজিস্ট্রি, বহুবিবাহ, তালাক, দেনমোহর ও ভরণপোষণ সংক্রান্ত আইন।

এ আইনের ৪নং ধারায় উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী সংশোধন আনা হয়। মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে লা-ওয়ারিশ প্রথাকে বাতিল করা হয়। এ আইনে বলা হয়-
উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টিত হওয়ার পূর্বে মৃত ব্যক্তির কোন পুত্র বা কন্যার মৃত্যু হলে, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টিত হওয়ার সময় ঐ পুত্র বা কন্যার সন্তানাদি যদি জীবিত থাকে, তাহলে ঐ মৃত পুত্র বা কন্যা বণ্টনের সময় জীবিত থাকলে সে যে অংশ পেতো, তার সন্তানাদি সমষ্টিগতভাবে অনুরূপ অংশ পাবে।
যা 'Doctrine of Representation' নীতি নামে পরিচিত।

Section 4: Succession
In the event of the death of any son or daughter of the propositus before the opening of succession, the children of such son or daughter, if any, living at the time the succession opens, shall per stirpes receive a share equivalent to the share which such son or daughter, as the case may be, would have received if alive.
২৮.
দানের ক্ষেত্রে নিম্নের কোন বিধান সঠিক নয়?
  1. স্থাবর অথবা অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি দান করা যেতে পারে।
  2. শুধু অস্থাবর সম্পত্তি দান করা যেতে পারে।
  3. গ্রহীতা নাবালক হলে, তার অভিভাবক তার পক্ষে দান গ্রহণ করতে পারবে।
  4. দানের সময় দানকৃত সম্পত্তির অস্তিত্ব থাকতে হবে।
ব্যাখ্যা
• একজন নিজস্ব সম্পত্তিতে তার স্বত্ব দখল যদি বিনা পণে অন্যের বরাবরে পরিত্যাগ করে এবং শেষোক্ত ব্যক্তি যদি তা গ্রহণ করে, তবে ঐ সম্পত্তিতে দাতার স্বত্ব লোপ পায় এবং গ্রহীতার স্বত্ব অর্জিত হয়। এইভাবে স্বত্ব দখলের হস্তান্তরকে দান বলা হয়।

দানের উপাদান (essentials):

(ক) দান কার্যে একজন দাতা থাকতে হবে এবং তাকে দানকৃত সম্পত্তির মালিক হতে হবে। যেহেতু দান এক প্রকার হস্তান্তর সেই হেতু যে দান করবে তার সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষমতা থাকতে হবে। চুক্তি আইন অনুযায়ী কোন নাবালক বা অপ্রকৃতস্থ ব্যক্তি আইনতঃ কোন চুক্তি করতে এবং তদনুযায়ী সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে না। অতএব এই প্রকার ব্যক্তি কোন দানও করতে পারবে না।

(খ) দান কার্যে একজন গ্রহীতা থাকতে হবে। গ্রহীতা নাবালক হলে, তার অভিভাবক তার পক্ষে দান গ্রহণ করতে পারবে। দান গ্রহণের পূর্বে দাতার মৃত্যু হলে দান বাতিল গণ্য হবে।

(গ) স্থাবর অথবা অস্থাবর এই উভয় প্রকার সম্পত্তি দান করা যেতে পারে কিন্তু দানের সময় দানকৃত সম্পত্তির অস্তিত্ব এবং এতে দাতার মালিকানা অবশ্যই থাকতে হবে। দানের সময় যে সম্পত্তির অস্তিত্ব থাকে না বা দাতা ভবিষ্যতে মালিক হতে পারে এই রকম সম্পত্তি দান করা যাবে না।

(ঘ) দান পণ বিহীন হতে হবে। অবৈধ বা কেউকে প্রতারণার উদ্দেশ্যে দান পণ বিহীন হইলেও বে-আইনী হবে।
২৯.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ অনুসারে কখন বিয়ে নিবন্ধন করা যাবে না?
  1. বিবাহের পক্ষগণ যদি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়
  2. বর ও কনে উভয়ের বয়স ১৮ বছরের কম হলে
  3. বর ও কনের বয়স যথাক্রমে ২১ ও ১৮ বছরের কম হলে
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• ধারা ৫- হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ

অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ২১ (একুশ) বৎসরের কম বয়স্ক কোন হিন্দু পুরুষ বা ১৮ (আঠার) বৎসরের কম বয়স্ক কোন হিন্দু নারী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইলে উহা এই আইনের অধীন নিবন্ধনযোগ্য হইবে না।
৩০.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর অধীন সালিশী কাউন্সিল কোন মর্মে সার্টিফিকেট ইস্যু করতে পারে?
  1. তালাকের ক্ষেত্রে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে দেনমোহরের টাকার অংক নির্দিষ্ট করে
  2. স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে ভরণপোষণ বাবদ প্রদানের নিমিত্ত টাকার অংক নির্দিষ্ট করে
  3. বহুবিবাহের ক্ষেত্রে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণের টাকার অংক নির্দিষ্ট করে
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
ধারা ৯- ভরণপোষণ

১) যেক্ষেত্রে কোন স্বামী তাহার স্ত্রীকে পর্যাপ্তভাবে ভরণপোষণ দিতে অসমর্থ হয় অথবা একাধিক স্ত্রী থাকিলে  তাহাদিগকে সমভাবে ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে স্ত্রী বা স্ত্রীগণের সকলে অথবা স্ত্রীগণের যে কোন জন অপর কোন আইনসঙ্গত প্রতিকার প্রার্থনা ব্যতীতও চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করিতে পারে। চেয়ারম্যান একটি সালিশী কাউন্সিল গঠন করিবেন ও উক্ত কাউন্সিল স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে ভরণপোষণ বাবদ প্রদানের নিমিত্ত টাকার অংক নির্দিষ্ট করিয়া সার্টিফিকেট ইস্যু করিতে পারিবেন।

২) একজন স্বামী অথবা স্ত্রী নির্ধারিত পন্থায় নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে নির্ধারিত ফিস প্রদানপূর্বক উক্ত সার্টিফিকেট পুর্নবিবেচনার নিমিত্ত সহকারী জজের নিকট আবেদন পেশ করিতে পারেন। তাঁহার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে এবং কোন আদালতে এই সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা যাইবে না।

৩) ১নং অথবা ২নং উপধারা অনুযায়ী দেয় কোন টাকা যথাসময়ে পরিশোধ না করিলে বকেয়া ভূমিরাজস্বরুপ আদায়যোগ্য হইবে।

Section 9- Maintenance
(1) If any husband fails to maintain his wife adequately, or where there are more wives than one, fails to maintain them equitably, the wife, or all or any of the wives, may in addition to seeking, any other legal remedy available apply to the Chairman who shall constitute an Arbitration Council to determine the matter, and the Arbitration Council may issue a certificate specifying the amount which shall be paid as maintenance by the husband. 
 
(2) A husband or wife may, in the prescribed manner, within the prescribed period, and on payment of the prescribed fee, prefer an application for revision of the certificate to the Assistant Judge concerned and his decision shall be final and shall not be called in question in any Court. 
 
(3) Any amount payable under sub-section (1) or (2), if not paid in due time, shall be recoverable as arrears of land revenue.
৩১.
'Doctrine of Survivorship' কোন মতবাদে প্রযোজ্য?
  1. দায়ভাগ মতবাদে
  2. মিতাক্ষরা মতবাদে
  3. ক ও খ উভয় মতবাদে
  4. কোনো মতবাদেই নয়
ব্যাখ্যা
• দায়ভাগ উত্তরাধিকাররূপে সম্পত্তি প্রাপ্তির শুধু একটাই নিয়ম স্বীকার করে আর তা হলো উত্তরাধিকার সূত্র। যেমন, 'ক' এবং 'খ' দুই ভাই এবং তাহারা এজমালী পরিবারভুক্ত। অতএব তাদের পারিবারিক সম্পত্তিতে 'ক' এর আট আনা অংশ এবং 'খ' এর বাকী আট আনা অংশ। তদবস্থায় বাংলাদেশে 'ক' একটি পুত্র সন্তান রেখে মারা গেলে তার আট আনা অংশ তার পুত্র উত্তরাধিকার সূত্রে পাবে। ভাই 'খ' 'ক' এর ত্যাজ্যবিত্তের কোন অংশ পাইবে না। পিতার মৃত্যুতে এইভাবে পুত্রের সম্পত্তি পাওয়াকে বলা যায় উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি পাওয়া। একে বলে 'Doctrine of successionship'

অপরপক্ষে মিতাক্ষরা সম্পত্তি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দুইটি নিয়ম মেনে চলে। যেমন মিতাক্ষরা শাসিত অঞ্চলে 'ক' এবং 'খ' দুই ভাই এবং তাহারা যৌথ পরিবারভুক্ত। তাদের পূর্বপুরুষের নিকট হতে প্রাপ্ত সম্পত্তি আছে ২০ বিঘা। পরে 'ক' ওকালতি করে নিজ নামে আরও ৩০ বিঘা জমি অর্জন করে এক পুত্র রেখে মারা গেলেন। এই অবস্থায় 'ক' এর স্বোপার্জিত ৩০ বিঘা জমি তার পুত্র উত্তরাধিকার সূত্রে পাবে আর পূর্ব পুরুষাগত ২০ বিঘা জমিতে 'ক' এর অংশ যৌথ পরিবারের উত্তরজীবী (Surviving members) 'ক' এর পুত্র এবং ভাই 'খ' এর উপর সমান অংশে বর্তাইবে। এই নিয়মকেই বলা হয় উত্তরজীবী সূত্রে সম্পত্তি পাওয়া বা Doctrine of Survivorship
৩২.
হিন্দু বিধবার সম্পত্তির [Widow's Property] ক্ষেত্রে নিম্নের কোন বিধান সঠিক নয়?
  1. শুধুমাত্র জীবন-স্বত্ব অর্জন [Life Interest] করে
  2. সাধারণত চূড়ান্তভাবে হস্তান্তর করতে পারে না
  3. একচ্ছত্র মালিকানা থাকে
  4. কিছু ক্ষেত্রে চূড়ান্তভাবে হস্তান্তর করতে পারে
ব্যাখ্যা
বিধবার সম্পত্তি: [Widow's Property]

কোন হিন্দু স্ত্রী উত্তরাধিকারসূত্রে তার স্বামীর নিকট হতে যে সম্পত্তি অর্জন করে তা বিধবার সম্পত্তি নামে পরিচিত। স্ত্রীধন এবং বিধবার সম্পত্তি এক না। স্ত্রীধনের সাথে বিধবার সম্পত্তির পার্থক্য হলো এই যে বিধবার সম্পত্তি বলতে শুধুমাত্র উত্তরাধিকারসূত্রে কোন নারী যে সম্পত্তি স্বামীর নিকট থেকে পেয়ে থাকে কিন্তু উত্তরাধিকার সম্পত্তি স্ত্রীধনের অন্তর্ভুক্ত না। স্ত্রীধনের উপর মহিলার একচ্ছত্র মালিকানা থাকে এবং সে যেমন প্রয়োজন তেমনভাবে হস্তান্তর করতে পারে। কিন্তু বিধবার সম্পত্তির ক্ষেত্রে নারী শুধুমাত্র সীমিত স্বার্থ অর্জন [Limited Interest] করে বা শুধুমাত্র জীবন-স্বত্ব অর্জন [Life Interest] করে।

অর্থাৎ এমন সম্পত্তির উপর মহিলার কোন একচ্ছত্র মালিকানা থাকে না এবং তিনি এমন সম্পত্তি ইচ্ছানুসারে হস্তান্তর করতে পারে না। বিধবার সম্পত্তি কোন হিন্দু নারী চূড়ান্তভাবে হস্তান্তর করার অধিকারী না হলেও নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে সে চূড়ান্তভাবে হস্তান্তর করতে পারে-

১) ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে;
২) আইনগত প্রয়োজনে;
৩) সম্পত্তির হিতার্থে বা মঙ্গলে।
৩৩.
কোন বিবাহিতা মুসলমান নারী ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করলে অথবা ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মে দীক্ষা গ্রহন করলে-
  1. তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটবে
  2. ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের অধীন মামলা করতে পারবে না
  3. ক ও খ উভয়
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন ধারা ৪ এ বিবাহিতা মুসলমান নারী ধর্মান্তরের ফল দেয়া হয়েছে।

বলা হয়েছে-
কোন বিবাহিতা মুসলমান নারী ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করলে অথবা ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মে দীক্ষা গ্রহন করলে উক্ত কারনে তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটবে না। তবে, অবশ্য এই জাতীয় ধর্ম ত্যাগ বা অন্য ধর্ম গ্রহণের পর সেই নারী ২ ধারায় বর্ণিত অন্য কোন কারনে তার বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ডিক্রি গ্রহণের অধিকারিণী হইবেন।
তাছাড়া, অত্র ধারার ব্যবস্থাবলী ঐ নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, যে কোন ধর্ম হইতে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছিল এবং বর্তমানে স্বীয় পুরাতন ধর্মে পুনরায় দীক্ষা গ্রহণ করেছে।

Section 4: Effect of conversion to another faith
The renunciation of Islam by a married Muslim woman or her conversion to a faith other than Islam shall not by itself operate to dissolve her marriage: Provided that after such renunciation, or conversion, the woman shall be entitled to obtain a decree for the dissolution of her marriage on any of the grounds mentioned in section 2: 
Provided further that the provisions of this section shall not apply to a woman converted to Islam from some other faith who re-embraces her former faith.
৩৪.
হিন্দু আইনে অজাত ব্যক্তি বরাবর-
  1. সরাসরি দান করা যায়
  2. শর্ত সাপেক্ষে দান করা যায়
  3. কোনো শর্তেই দান করা যায় না
  4. দান স্বত্ব ছাড়া দিতে হবে
ব্যাখ্যা
• একজন নিজস্ব সম্পত্তিতে তার স্বত্ব দখল যদি বিনা পণে অন্যের বরাবরে পরিত্যাগ করে এবং শেষোক্ত ব্যক্তি যদি তা গ্রহণ করে, তবে ঐ সম্পত্তিতে দাতার স্বত্ব লোপ পায় এবং গ্রহীতার স্বত্ব অর্জিত হয়। এইভাবে স্বত্ব দখলের হস্তান্তরকে দান বলা হয়।

দানের উপাদান (essentials):

(ক) দান কার্যে একজন দাতা থাকতে হবে এবং তাকে দানকৃত সম্পত্তির মালিক হতে হবে। যেহেতু দান এক প্রকার হস্তান্তর সেই হেতু যে দান করবে তার সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষমতা থাকতে হবে। চুক্তি আইন অনুযায়ী কোন নাবালক বা অপ্রকৃতস্থ ব্যক্তি আইনতঃ কোন চুক্তি করতে এবং তদনুযায়ী সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে না। অতএব এই প্রকার ব্যক্তি কোন দানও করতে পারবে না।

(খ) দান কার্যে একজন গ্রহীতা থাকতে হবে। গ্রহীতা নাবালক হলে, তার অভিভাবক তার পক্ষে দান গ্রহণ করতে পারবে। দান গ্রহণের পূর্বে দাতার মৃত্যু হলে দান বাতিল গণ্য হবে।

(গ) স্থাবর অথবা অস্থাবর এই উভয় প্রকার সম্পত্তি দান করা যেতে পারে কিন্তু দানের সময় দানকৃত সম্পত্তির অস্তিত্ব এবং এতে দাতার মালিকানা অবশ্যই থাকতে হবে। (দানের সময় যে সম্পত্তির অস্তিত্ব থাকে না বা দাতা ভবিষ্যতে মালিক হইতে পারে এই রকম সম্পত্তি দান করা যাবে না।)

(ঘ) দান পণ বিহীন হতে হবে। অবৈধ বা কেউকে প্রতারণার উদ্দেশ্যে দান পণ বিহীন হলেও বে-আইনী হবে।

• পূর্বে অজাত ব্যক্তির বরাবরে হিন্দু আইন অনুযায়ী কোন দান করা যেতো না, কিন্তু ১৯১৬ সনের Hindu Disposition of Property Act পাশ হওয়ার পর হতে কতিপয় শর্ত সাপেক্ষে অজাত ব্যক্তির বরাবরে দান করা যায়। অজাত ব্যক্তির বরাবরে সরাসরি কোন দান করা যায় না। এইরূপ ব্যক্তির বরাবরে দান করতে হলে দানের সময় জীবিত এক বা একাধিক ব্যক্তির বরাবরে জীবনস্বত্ব অথবা অন্য কোন প্রকার সীমিত স্বত্ব সৃষ্টি করে তাদের মাধ্যমে কোন নির্দিষ্ট অজাত ব্যক্তির বরাবরে দান করা চলে।

তবে, অজাত ব্যক্তিকে সম্পূর্ণ স্বত্ব দিতে হবে এবং এমন কোন শর্ত আরোপ করা যাবে না যাতে অজাত ব্যক্তির নাবালক অবস্থা অর্থাৎ ১৮ বৎসর অতিবাহিত হওয়ার পর তার উপর দানকৃত সম্পত্তি বর্তিবে। এই শর্তগুলি হস্তান্তর আইনের ১৩, ১৪, ১৬ ও ২০ ধারা অনুযায়ী এবং হস্তান্তর আইনের এই ধারাগুলি ১৯২৯ সনের হস্তান্তর আইনের একটি সংশোধনীর পর হতে হিন্দু আইনেও প্রযোজ্য হবে।
৩৫.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর কত ধারায় বিচারের স্থান সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ধারা ১০
  2. ধারা ১১
  3. ধারা ১১ক
  4. ধারা ১৯
ব্যাখ্যা
ধারা ১১ক- বিচারের স্থান
সাময়িকভাবে বলবৎ অন্য কোন আইনে কোন কিছু থাকা সত্ত্বেও এই অধ্যাদেশের অধীনে সংঘটিত কোন অপরাধ ঐ আদালত কর্তৃকই বিচার্য হইবে যাহার স্থানীয় এখতিয়ারের মধ্যে-
ক) অপরাধটি সংঘটিত হইয়াছিল,
খ) অভিযোগকারী বা আসামী বাস করে বা সর্বশেষ বাস করিয়াছিল।

Section 11A- Place of trial
Notwithstanding anything contained in any other law for the time being in force, an offence under this Ordinance shall be tried by a Court within the local limits of whose jurisdiction- 
(a) the offence was committed; or 
(b) the complainant or the accused resides or last resided.
৩৬.
নিম্নের কোনটি হিন্দু আইনের আধুনিক উৎস হিসেবে বিবেচিত?
  1. স্মৃতি
  2. ব্যাখ্যা বা নিবন্ধ
  3. প্রথা
  4. আদালতের সিদ্ধান্ত বা নজির
ব্যাখ্যা
হিন্দু আইনের মূল উৎস ৪টি। যথা-

(ক) বেদ বা শ্ৰুতিঃ অতি প্রাচীনকালে দেবতাগণ প্রত্যক্ষভাবে যা বলেছিলেন ও তৎকালে মুনিগণ যা শুনেছিলেন এবং পরবর্তীকালে যা মুনিবর কৃষ্ণদ্বৈপায়ন কর্তৃক সংকলিত হয় তাই বেদ। ঋক বেদ, যজু বেদ, সাম বেদ ও অথর্ব বেদ এই চারটি বেদকে একত্রে শ্রুতি শাস্ত্র বলা হয়। বেদ হচ্ছে হিন্দু ধর্মের মূল ভিত্তি।

(খ) স্মৃতিঃ প্রাচীনকালে মানুষের পালনীয় ঐশ্বরিক নির্দেশাবলি যা আর্য ঋষিগণ গুরু শিষ্য পরম্পরায় আবৃত্তি আকারে স্মরণে রেখেছিলেন, যা পরবর্তীকালে মুনিগণ গ্রন্থ আকারে সংকলিত করেন ইহাই স্মৃতি শাস্ত্ৰ বা সংহিতা নামে পরিচিত।

(গ) ব্যাখ্যা বা নিবন্ধঃ ধর্মীয় অনুশাসনে বিভিন্ন স্মৃতির মধ্যে জটিলতা দেখা দিলে ব্যাখ্যার উদ্ভব হয়। আঞ্চলিক রীতিনীতির সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করে পণ্ডিতগণ নিজেদের মতামত বা ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে প্রাচীন আইনের সংশোধন করে থাকেন। ব্যাখ্যাসমূহের মধ্যে দুটি মতবাদই অনুসরণ করা হয়ে থাকে-
(১) মিতক্ষরা মতবাদ,
(২) দায়ভাগ মতবাদ।

(ঘ) প্রথাঃ ইহা এমন রীতি যা দেশ, অঞ্চল বা মহল্লায় প্রচলিত থাকাকালে আইনের যোগ্যতা অর্জন করেছে। আদালত কর্তৃক হিন্দু প্রথাকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
(১) স্থানীয় প্রথা
(২) শ্রেণী প্রথা
(৩) পারিবারিক প্রথা।

হিন্দু আইনের আধুনিক উৎসসমূহ:

(ক) আদালতের সিদ্ধান্ত বা নজির,
(খ) বিধিবদ্ধ আইন,
(গ) সুবিচার, ন্যায়পরায়ণতা।
৩৭.
উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে দায়ভাগ মতবাদ কোন নীতিকে স্বীকৃতি দেয়?
  1. প্রতিনিধিত্ব মতবাদ
  2. অংশপিছু উত্তরাধিকার
  3. মাথাপিছু উত্তরাধিকার
  4. উল্লিখিত সবগুলোকে
ব্যাখ্যা
• দায়ভাগ মতবাদ নিম্নোক্ত নীতিগুলিকে স্বীকৃতি দেয়ঃ

(ক) প্রতিনিধিত্ব মতবাদ (Doctrine of representation):
প্রতিনিধিত্ব মতবাদ অনুসারে পুত্র, পৌত্র যার পিতা মারা গিয়েছে, তারা সকলেই পিতৃপক্ষীয় সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারীত্ব লাভ করে, কারণ পৌত্র তার পিতার এবং প্রপৌত্র তার পিতা ও পিতামহ উভয়েরই প্রতিনিধিত্ব করে।

(খ) অংশপিছু উত্তরাধিকার (Sucssession per stripes):
যেখানে প্রতিনিধিত্ব মতবাদ প্রয়োগ করা হয় এবং উত্তরাধিকারীগণ মৃত ব্যক্তির স্থলবর্তীরুপে অংশ প্রাপ্ত হন সেখানে এরুপে স্থলবর্তীরুপে অংশ পাওয়াকে অংশপিছু উত্তরাধিকার বলে।

(গ) মাথাপিছু উত্তরাধিকার (Succession per capita):
মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে তার উত্তরাধিকারগণের সমান অংশ সম্পত্তি প্রাপ্ত হওয়াকে মাথাপিছু উত্তরাধিকার বলে।
৩৮.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ এর অধীন আরজি দাখিল করার তারিখে স্বামী জীবিত না থাকলে, মামলার-
  1. গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না।
  2. নোটিশ জারি করতে হবে না।
  3. কার্যক্রমে উত্তরাধীকারীর বক্তব্য পেশ করার অধিকার থাকবে না।
  4. স্বামীর কোন চাচা বা ভাই থাকলে, উত্তরাধিকারী না হলেও মামলায় পক্ষভুক্ত হবে।
ব্যাখ্যা
ধারা ৩- নিরুদ্দেশ স্বামীর উত্তরাধীকারদের উপর নোটিশ প্রদান

২নং ধারার ১নং উপ ধারার প্রয়োগযোগ্য মামলায়-
(ক) আরজি দাখিল করিবার তারিখে স্বামীর মৃত্যু ঘটলে তবে মুসলিম আইন অনুসারে যারা তার উত্তরাধীকারী হতো তাদের নাম, ঠিকানা, আরজিতে লিপিবদ্ধ করতে হবে;
খ) ঐরূপ ব্যক্তিগণের উপর মামলার নোটিশ জারি করতে হবে; এবং
গ) উক্ত মামলার শুনানিতে তাদের বক্তব্য পেশ করার অধিকার থাকবে।
তবে শর্ত থাকে যে, যদি স্বামীর কোন চাচা এবং ভাই থাকে তবে সে অথবা তার উত্তরাধিকারী না হলেও মামলায় পক্ষভুক্ত হবে।

Section 3- Notice to be served on heirs of the husband when the husband’s whereabouts are not known

In a suit to which clause (i) of section 2 applies- 
(a) the names and address of the persons who would have been the heirs of the husband under Muslim law if he had died on the date of the filing of the plaint shall be stated in the plaint, 
(b) notice of the suit shall be served on such persons, and
(c) such person shall have the right to be heard in the suit: 
 Provided that paternal uncle and brother of the husband, if any, shall be cited as party even if he or they are not heirs.
৩৯.
সাধারনত কোন ধরনের হিন্দু ব্যক্তিদের উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়ে থাকে?
  1. হত্যাকারী
  2. অসতী বিবাহিত স্ত্রীলোক
  3. সন্ন্যাসী
  4. উল্লিখিত সকল ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
• হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুসারে কিছু লোককে উত্তরাধিকার হিসেবে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়ে থাকে-

প্রথমত, ধর্মচ্যুত হলেও অর্থাৎ কেউ হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করলে, তাকে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুসারে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হবে।

দ্বিতীয়ত, অসতী স্ত্রী অর্থাৎ যদি কোন বিবাহিত স্ত্রীলোক অসতী হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীলোকটি উত্তরাধিকার সূত্রে কোন সম্পত্তি পাবে না।

তৃতীয়ত, যার কাছ থেকে সম্পত্তি পাবে তাকেই যদি হত্যা করা হয় সেক্ষেত্রে তার কাছ থেকে উত্তরাধিকার হিসেবে কোন সম্পত্তি পাবে না।

চতুর্থত, প্রতিবন্ধীদেরকে সাধারণত সম্পত্তি দেওয়া হয় না। যেমন, অন্ধ, বধির, মূক, পুরুষত্বহীন, অঙ্গহীন, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, দুরারোগ্য ব্যক্তিদেরকে উত্তরাধিকার হিসেবে সম্পত্তি দেয়া হয় না, কেননা তাদেরকে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুসারে উত্তরাধিকার হিসেবে গণ্য করা হয় না। যার ফলে তারা উত্তরাধিকার হিসেবে কোন সম্পত্তি পায় না।

পঞ্চমত, সন্ন্যাসীরা যেহেতু সংসার ছাড়া হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে সন্ন্যাসীদেরকেও হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুসারে সম্পত্তি দেওয়া হয় না।
৪০.
পারিবারিক আদালত অবমাননার ক্ষেত্রে অনধিক কত টাকা র্অথদণ্ড দেয়া যাবে?
  1. ২০০ টাকা
  2. ১০০ টাকা
  3. ৩০০ টাকা
  4. ৫০০ টাকা
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩

ধারা ২৩- পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননা

(১) যদি কোনো ব্যক্তি আইনসংগত কারণ ব্যতিরেকে-
(ক) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেন, বা
(খ) পরিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের কার্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, বা
(গ) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত কর্তৃক জিজ্ঞাসিত কোনো প্রশ্নের উত্তর প্রদানে বাধ্য থাকা সত্ত্বেও, উত্তর প্রদানের অস্বীকার করেন, বা
(ঘ) সত্য কথা বলিবার জন্য শপথ গ্রহণ করিতে অথবা পারিবারিক আদালতে বা পারিবারিক আপিল আদালতে তৎকর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষরদান করিতে অস্বীকার করেন,
তাহা হইলে তিনি পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননা করিয়াছেন মর্মে গণ্য হইবেন।

(২) উপধারা (১) এর অধীন কৃত অপরাধের ক্ষেত্রে, পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত উক্তরূপ অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার করিতে পারিবে এবং তাহাকে অনধিক ২০০ (দুইশত) টাকা র্অথদণ্ডে দণ্ডিত করিতে পারিবে।
৪১.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক তার দায়িত্ব পালনে কোন অসদাচরণের জন্য দায়ী হলে, তার নিয়োগ অনধিক কত বছরের জন্য স্থগিত বা বাতিল করা যায়?
  1. তিন বছরের
  2. দুই বছরের
  3. চার বছরের
  4. পাঁচ বছরের
ব্যাখ্যা
• হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২

ধারা ১৪- নিয়োগ স্থগিত বা বাতিলকরণ


সরকারের নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে এই মর্মে প্রতীয়মান হয় যে, কোন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক তাহার দায়িত্ব পালনে কোন অসদাচরণের জন্য দায়ী অথবা তাহার কর্তব্য পালনে অসমর্থ বা শারীরিকভাবে অক্ষম, তাহা হইলে, সরকার লিখিত আদেশ দ্বারা, তাহার নিয়োগ অনধিক দুই বৎসরের জন্য স্থগিত বা বাতিল করিতে পারিবে: 
তবে শর্ত থাকে, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধককে যথাযথ কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান না করিয়া অনুরুপ কোন আদেশ প্রদান করা যাইবে না।