পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (সাহিত্য)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৫
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৪ টপিক অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, লোক সাহিত্য [Live Class - 7 & 8]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

বাংলাবিদ (সাহিত্য) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৫ প্রশ্ন

.
'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' কে রচনা করেছেন?
  1. শ্যামদাস সেন
  2. শুকুর মাহমুদ
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. আলাওল
ব্যাখ্যা
• নাথ সাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথ সাহিত্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে,
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
- এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে।

• শুকুর মাহমুদ:
• শুকুর মাহমুদ (১৬৬৫-১৭৩৫) মধ্যযুগের একজন সাধক কবি।
- তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম আবদুল শুকুর মাহমুদ।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
জয়নবের চৌতিশা কত শতকের সাহিত্যকর্ম?
  1. চতুর্দশ শতক
  2. পঞ্চদশ শতক
  3. ষোড়শ শতক
  4. সপ্তদশ শতক
ব্যাখ্যা
• 'জয়নবের চৌতিশা' ষোড়শ শতকের সাহিত্যিক নিদর্শন।
• যা ১৫৭০ সালের দিকে রচিত হয়েছে।

• শেখ ফয়জুল্লাহ:
- তিনি ১৬শ শতক মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ আছে।
- বিভিন্ন মতে তাঁর জন্মস্থান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত, দক্ষিণ রাঢ় এবং কুমিল্লার নাম উল্লিখিত হয়েছে।
- যে পাঁচটি গ্রন্থের জন্য তিনি খ্যাতিমান সেগুলি:
- গোরক্ষবিজয়,
- গাজীবিজয়,
- সত্যপীর (১৫৭৫),
- জয়নবের চৌতিশা এবং
- রাগনামা।
- রাগনামাকে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য মনে করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
.
বাংলা টপ্পাগান প্রবর্তন করেন কে?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. রামপ্রসাদ সেন
  3. ভক্তপ্রসাদ সেন
  4. দাশরথি রায়
ব্যাখ্যা
• বাংলা টপ্পাগানের প্রবর্তক রামনিধি গুপ্ত।

• টপ্পা গান:
- কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল।

• রামনিধি গুপ্ত:

- রামনিধি গুপ্তর ডাক নাম নিধু (বাবু)।
- তিনি বাংলা টপ্পাগানের প্রবর্তক।
- ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টপ্পা শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা:

নানান দেশের নানান ভাষা
বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা?

- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম 'গীতরত্ন' (১৮৩২)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি কোনটি?
  1. ধাঁধা
  2. ছড়া
  3. কাব্য
  4. গান
ব্যাখ্যা
• লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি - ছড়া।

• লোকসাহিত্য:
- লোকসাহিত্য মৌখিক ধারার সাহিত্য যা অতীত ঐতিহ্য ও বর্তমান অভিজ্ঞতাকে আশ্রয় করে রচিত হয়।
- লোকসাহিত্য লোকসংস্কৃতির একটি জীবন্ত ধারা; এর মধ্য দিয়ে জাতির আত্মার স্পন্দন শোনা যায়।
- লোকসাহিত্যের উপাদান মূলত গ্রামীণ এলাকার অখ্যাত সাহিত্যিকদের রচনা।
- তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে 'জনপদের হৃদয়-কলরব' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- লোকসাহিত্যকে প্রধানত লোকসঙ্গীত, গীতিকা, লোককাহিনী, লোকনাট্য, ছড়া, মন্ত্র, ধাঁধা ও প্রবাদ এই আটটি শাখায় ভাগ করা যায়।
- লোক সাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি ছড়া।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
.
নিচের কোনটি পূর্ববঙ্গ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত?
  1. দেওয়ানা ভাবনা
  2. কমলা
  3. মলুয়া
  4. ভেলুয়া
ব্যাখ্যা
• পূর্ববঙ্গ গীতিকাগুলো হলো:
- নিজাম ডাকাতের পালা,
- কাফন চোরা,
- কমল সওদাগর,
- চৌধুরীর লড়াই,
- কাঞ্চনমালা,
- আয়না বিবি,
- ভেলুয়া,
- কমলা রানির গান।

অন্যদিকে,
- মলুয়া, দেওয়ানা ভাবনা ও কমলা মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'কবিরঞ্জন' উপাধিটির কার?
  1. রামপ্রসাদ সেন
  2. রামনিধি গুপ্ত
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. মালধর বসু
ব্যাখ্যা
• রামপ্রসাদ সেন:
- রামপ্রসাদ সেন বাংলা ভক্তিগীতির, বিশেষত শ্যামাসঙ্গীতের শ্রেষ্ঠ রূপকার, সাধককবি, গায়ক।
- সংসারের বিভিন্ন দুঃখ-কষ্টকে গৌরব মনে করে মায়ের উদ্দেশে তিনি গান বেঁধেছেন: 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই।'
- রামপ্রসাদ প্রচুর গান রচনা করেছিলেন যার বেশির ভাগই হারিয়ে গেছে।
- কৃষ্ণচন্দ্র তাকে 'কবিরঞ্জন' উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনি ভক্তিভাব এবং রাগ ও বাউল সুরের মিশ্রণে এক ভিন্ন সুরের সৃষ্টি করেন, যা বাংলা সঙ্গীতজগতে 'রামপ্রসাদী সুর' নামে
পরিচিত।
- রামপ্রসাদ নিজে এই সুরে কালী বা শ্যামার উদ্দেশে অনেক সঙ্গীত রচনা করেন, যা শ্যামাসঙ্গীত নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'মলুয়া' পালা কে রচনা করেছেন?
  1. দ্বিজ ঈশান
  2. মনসুর বয়াতি
  3. দ্বিজ কানাই
  4. চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা
• 'মলুয়া' পালা রচনা করেছেন চন্দ্রাবতী।

• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• গীতিকা গুলো হলো:
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা
- বিদ্যাসুন্দর
- রামায়ণ উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া
.
মর্সিয়া কাব্য বলতে বুঝায়-
  1. শোকগীতি
  2. আনন্দ গীতি
  3. লোকগীতি
  4. বিদেশগীতি
ব্যাখ্যা
• মর্সিয়া সাহিত্য:
- আরবি মর্সিয়া অর্থ শোক প্রকাশ করা।
- মর্সিয়া সাহিত্যকে শোককবিতা, শোককাব্য, শোকগীতি, শোককাহিনি নামের অভিহিত করা যায়।
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি শেখ ফয়জুল্লাহ। তাঁর গ্রন্থের নাম 'জয়নালের চৌতিশা' (১৫৭০)।
- মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ মুক্তল হোসেন।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি রাধারমণ গোপ। তাঁর গ্রন্থের নাম 'ইমামগণের কেচ্ছা', 'আফৎনামা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'কঙ্ক ও লীলা' নিচের কোন লোকসাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  2. মৈমনসিংহ গীতিকা
  3. নাথ গীতিকা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'কঙ্ক ও লীলা' মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত।

মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• গীতিকা গুলো হলো:
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ), দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা
- বিদ্যাসুন্দর
- রামায়ণ উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০.
"সময় গেলে সাধন হবে না।" চরণটির রচয়িতা কে?
  1. লালন শাহ
  2. সাবিরিদ খান
  3. শাহ আব্দুল করিম
  4. সিরাজ শাহ
ব্যাখ্যা
• 'সময় গেলে সাধন হবে না।" চরণটির রচয়িতা লালন শাহ।

• লালন ফকিরের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গান:

- খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়।
- আমি অপার হয়ে বসে আছি ও হে দয়াময়, পারে লয়ে যাও আমায়।।
- জাত গেল জাত গেল বলে একি আজব কারখানা।

• লালন শাহ:

- লালন শাহ বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা, গায়ক।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
-মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর গান মরমি ব্যঞ্জনা ও শিল্পগুণে সমৃদ্ধ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১১.
'ইমামগণের কেচ্ছা ও আফৎনামা' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. সৈয়দ হামজা
  2. শুকর মুহাম্মদ
  3. রাধারমণ গোপ
  4. ফকির গরিবুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• মর্সিয়া সাহিত্য:
- পারস্যের কবিদের দ্বারা মর্সিয়া সাহিত্যের প্রসার ঘটে।
- বাংলা সাহিত্যের মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম কবি শেখ ফয়জুল্লাহ।
- বাংলা সাহিত্যে মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম কাব্য জয়নবের চৌতিশা এটি ১৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
-  রাধারমণ গোপ মর্সিয়া সাহিত্যের হিন্দু কবি।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম 'ইমামগণের কেচ্ছা ও অফৎনামা'।
- দৌলত উজির বাহরাম খাঁ কারবালার করুণ কাহিনি নিয়ে 'জঙ্গনামা' নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাব্য লেখেন। এটি ১৭২৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১২.
'নদের চাঁদ' ও 'হুমরা বেদে' চরিত্রগুলো কোন পালায় পাওয়া যায়?
  1. মহুয়া
  2. মলুয়া
  3. দস্যু কেনারামের পালা
  4. কমলা
ব্যাখ্যা
• 'মহুয়া' পালা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
- 'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই।
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিস্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

• মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩.
'কাশিমের লড়াই' সাহিত্যকর্মটির লেখক কে?
  1. আব্দুল আলিম
  2. সেরবাজ চৌধুরী
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'কাশিমের লড়াই' সাহিত্যকর্মটির লেখক সেরবাজ চৌধুরী।

• উল্লেখযোগ্য মর্সিয়া সাহিত্য ও কবির নাম:
- জয়নবের চৌতিশা- শেখ ফয়জুল্লাহ। 
- নবীবংশ- সৈয়দ সুলতান। 
- সোনাভান- ফকির গরীবুল্লাহ। 
- জঙ্গনামা, ইমাম বিজয়- দৌলত উজির বাহরাম খাঁ। 
- কাশিমের লড়াই- সেরবাজ চৌধুরী। 
- কারবালা কাহিনি - নসরুল্লাহ খন্দকার। 
- মজুল হোসেন - মুহম্মদ খান। 
- হানিফার কাব্য - আব্দুল আলিম। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪.
'গোরক্ষবিজয়' গ্রন্থটি সম্পাদনা করেন কে?
  1. ভবানী দাস
  2. পঞ্চানন মন্ডল
  3. আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ
  4. নলিনীকান্ত ভট্টশালী
ব্যাখ্যা
• 'গোরক্ষবিজয়' কাব্যগ্রন্থ:
- নাথ সাহিত্য ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো গোরক্ষবিজয়।
- গোরক্ষবিজয় সংক্রান্ত ১৭টির মতো পুথি অবিভক্ত বাংলা থেকে সংগৃহীত হয়েছে।
- সংগ্রাহকরা হলেন:
- নলিনীকান্ত ভট্টশালী (১টি পুথি),
- আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (৮টি পুথি),
- আলি আহমদ (৭টি পুথি) এবং পঞ্চানন মন্ডল (১টি পুথি)।
- এসব পুথির অধিকাংশই খণ্ডিত।

• পুথি অনুসরণে সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন।
- নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত গ্রন্থের নাম মীনচেতন।
- আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ সম্পাদিত গ্রন্থের নাম- গোরক্ষবিজয়।
- পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত গ্রন্থের নামগোর্খবিজয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫.
'নবীবংশ' কার রচনা?
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. শাহ মুহম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ সুলতান:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর বাসস্থান ছিল চট্টগ্রামের চক্রশালা চাকলার অধীন পটিয়া গ্রাম। চট্টগ্রামের লস্করপুর তথা পরাগলপুরে কবি সাময়িকভাবে বসবাস করেন।
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।
- তিনি একাধিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর নবীবংশ, জ্ঞানপ্রদীপ, জ্ঞানচৌতিশা ও জয়কুম রাজার লড়াই উল্লেখযোগ্য।
- কবির সর্ববৃহৎ ও শ্রেষ্ঠ রচনা নবীবংশ কাব্য।
- ফারসি কাসাসুল আম্বিয়া অনুসরণে এটি রচিত।
- এতে সৃষ্টির সূচনা থেকে হযরত মুহাম্মাদ (স.) পর্যন্ত সকল নবী-রসুলের কর্ম ও ধর্মজীবনের বিস্তৃত বর্ণনা আছে।
- এছাড়া বিভিন্ন পৌরাণিক দেবদেবীকেও নবীদের ধারাভুক্ত করা হয়েছে।
- তবে ইসলামের গৌরব ও মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠা ও প্রচারই এতে প্রাধান্য পেয়েছে।
- বিষয়-বৈচিত্র্য ও বিশালতার বিচারে নবীবংশ মহাকাব্যের সমতুল্য।
- নবীবংশের দ্বিতীয় খন্ড রসুলচরিত একখানা পৃথক গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।