পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন১২
সিলেবাস
বিষয় - বাংলা সাহিত্য টপিকসমূহ: ১. বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাগ; ২. বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ; ৩. অন্ধকার যুগ ও তাঁর সাহিত্যকর্ম; ৪. কবি সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম ও উপাধি; ৫. সাহিত্য বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা ও সাময়িকী; ৬. বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের বিভিন্ন সাহিত্য কর্মের গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ/উক্তি। [পরীক্ষাটি সকলের জন্য ফ্রি]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ১২ প্রশ্ন

.
'ঢাকা দর্পণ' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন কে?
  1. নবীনচন্দ্র সেন
  2. হরিশ্চন্দ্র মিত্র
  3. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
হরিশ্চন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরিশ্চন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'ঢাকা দর্পণ' পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন: 'হরিশ্চন্দ্র মিত্র'। 
------------------- 
• হরিশ্চন্দ্র মিত্র:
- হরিশচন্দ্র মিত্র তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, প্রবন্ধকার, সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি ১৮৩৭ সালে ঢাকায় এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৫৮ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৮৬০ সালে হরিশ্চন্দ্র ঢাকার প্রথম সংবাদপত্র মাসিক  কবিতা কুসুমাবলী প্রকাশ করেন।
- ১৮৬২ সালে তিনি ‘অবকাশরঞ্জিকা’ নামে অপর একটি মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

- ১৮৬৩ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক ঢাকা দর্পণ’ প্রকাশ করেন।
- তাঁর সম্পাদনাকৃত অন্যান্য পত্রিকার মধ্যে রয়েছে ‘কাব্য প্রকাশ’ (১৮৬৪), ‘হিন্দু হিতৈষী’ (১৮৬৫) এবং ‘হিন্দু রঞ্জিকা’ (১৮৬৮)।
- হরিশ্চন্দ্র ‘মাসিক মিত্র প্রকাশ’ (১৮৭০) নামক পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা করেন। পত্রিকাটি উনিশ শতকে ঢাকা থেকে প্রকাশিত সর্বোৎকৃষ্ট সাময়িকীসমূহের অন্যতম বলে বিবেচিত হয়।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ শুভস্য শীঘ্রং নামক একটি নাটক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
.
'হায়াৎ মামুদ' কার ছদ্মনাম?
  1. অহিদুর রেজা
  2. মােহাম্মদ মনিরুজ্জামান
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. শেখ আজিজুর রহমান
সঠিক উত্তর:
মােহাম্মদ মনিরুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মােহাম্মদ মনিরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
• মােহাম্মদ মনিরুজ্জামানের ছদ্মনাম- হায়াৎ মামুদ।
------------------ 
• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মনাম:
- কালীপ্রসন্ন সিংহ এর ছদ্মনাম - হুতোম পেঁচা ।
- শেখ আজিজুর রহমান এর ছদ্মনাম - শওকত ওসমান।
- রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম - পরশুরাম।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম- প্রিয়দর্শী, সত্যপীর।
- এস ওবায়দুল্লাহর ছদ্মনাম- আসকার ইবনে শাইখ।
- মধুসূদন মজুমদারের ছদ্মনাম- দৃষ্টিহীন।
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম লীলাময় রায়। 
- প্যারীচাঁদ মিত্র এর ছদ্মনাম- টেকচাঁদ ঠাকুর। 
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম -'কালকূট'। 
- বনফুল ছদ্মনামে লিখতেন - 'বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়'।
- 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- 'নীহারিকা দেবী'।  
- 'তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- হাবু শর্মা। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
.
বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষারীতির প্রথম মুখপত্র ছিল কোনটি?
  1. ধূমকেতু
  2. শিখা
  3. সবুজপত্র
  4. ভারতী
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বাংলা সাহিত্যের চলতি রীতির প্রচলণের অগ্রণী ভূমিকা পালন করে সবুজপত্র পত্রিকা। 
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতি এই পত্রিকা ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে। 
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়। 
- ১৯২৭ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'মার্কসবাদী' কবি বলা হয় কাকে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. বিষ্ণু দে
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• বিষ্ণু দে- কে 'মার্কসবাদী' কবি বলা হয়। 
------------- 
বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- বিষ্ণু দে মার্কসীয় তত্ত্বকে জীবনাবেগ ও শিল্পসম্মত করে রচনায় উপস্থাপনার ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেন।
 
তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
শামসুর রাহমান, বুদ্ধদেব বসুকে -নাগরিক কবি বলা হয়।
নির্মলেন্দু গুণ কে -কবিদের কবি বলা হয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
.
‘সাম্যের গান গাই, আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোন ভেদাভেদ নাই’।- কে বলেছেন?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. মাহবুব উল আলম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• ‘সাম্যের গান গাই, আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোন ভেদাভেদ নাই’।- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম। 

নারী- কবিতা,
- কাজী নজরুল ইসলাম। 
 
সাম্যের গান গাই
আমার চক্ষে পুরুষ-রমনী কোনো ভেদাভেদ নাই
বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।
 
• সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলামের রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘সাম্যবাদী’।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে ।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।
 
এ গ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ,
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী,
- নারী,
- রাজা-প্রজা,
- সাম্য,
- কুলি-মজুর।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ এবং ‘নারী’ কবিতা।
.
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম নয় কোনটি?
  1. সনাতন পাঠক
  2. নীল লোহিত
  3. অবধূত
  4. নীল উপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
অবধূত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবধূত
ব্যাখ্যা
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বেশ কয়েকটি ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন। এগুলো হলো:
- নীল লোহিত,
- নীল উপাধ্যায়,
- সনাতন পাঠক।

উল্লেখ্য,
'কালিকানন্দের' ব্যবহৃত ছদ্মনাম - অবধূত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'গণমানুষের কবি' হিসেবে পরিচিত কে?
  1. আবুল মনসুর আহমদ
  2. আবুল ফজল
  3. দিলওয়ার
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
দিলওয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিলওয়ার
ব্যাখ্যা
• কবি 'দিলওয়ার' - 'গণমানুষের কবি' হিসেবে পরিচিত।

• 'গণমানুষের কবি' হিসেবে কবি দিলওয়ার:
১৯৭৭ সালের ৭ মার্চ সিলেটে কবি দিলওয়ারকে এক নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেই সংবর্ধনায় পড়া মানপত্রের শুরুতেই উল্লেখ করা হয়, ‘গণমানুষের কবি’ দিলওয়ারকে সিলেটের মানুষ অভিনন্দন জানাচ্ছে ‘স্বদেশ, স্বজাতি ও বিশ্বমানবের মঙ্গল কামনাকে অঙ্গীকার করে’ তাঁর ‘আবাল্য কাব্যসাধনার’ জন্য। সেই থেকে ‘গণমানুষের কবি’ অভিধাটি তাঁর নামের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে যায়,

দিলওয়ার:
- ১৯৩৭ সালে সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম: দিলওয়ার খান।

দিলওয়ার রচিত কয়েকটি কবিতা গ্রন্থ:
- জিজ্ঞাসা,
- ঐকতান,
- উদ্ভিন্ন উল্লাস,
- রক্তে আমার অনাদি অস্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমত্র শেখর, প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট- ২৫ অক্টোবর, ২০১৩।
.
''আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে।'' - কথাটি কে বলেছেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. মোতাহার হোসেন চৌধুরী
  4. লুৎফুর রহমান
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ''আমার পথ" প্রবন্ধ থেকে নেয়া।
 
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের  ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
 
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ - যুগবাণী।
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।
-----------
'আমার পথ' প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘রুদ্র-মঙ্গল’ প্রবন্ধগ্রন্থের দ্বিতীয় প্রবন্ধ।
- রুদ্র-মঙ্গল গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে।
- গ্রন্থটিতে মোট ৮টি প্রবন্ধ রয়েছে।
 
‘আমার পথ’ প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
‘আমার এই যাত্রা হল শুরু ওগো কর্ণধার, তোমারে করি নমস্কার ।
মাভৈঃ বাণীর ভরসা নিয়ে' ‘জয় প্রলয়ঙ্কর' বলে ‘ধূমকেতু’কে রথ করে আমার আজ নতুন পথে যাত্রা শুরু হল। আমার কর্ণধার আমি। আমায় পথ দেখাবে আমার সত্য। আমার যাত্রা শুরুর আগে আমি সালাম জানাচ্ছি—নমস্কার করছি আমার সত্যকে। যে-পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে পথ ছাড়া আর কোনো পথই আমার বিপথ নয়! রাজভয়— লোকভয় কোনো ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যাবে না। আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না । যার ভিতরে ভয়, সে-ই বাইরে ভয় পায়।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং কাজী নজরুল রচিত 'আমার পথ' প্রবন্ধ।
.
নিম্নোক্ত কে প্রাচীন যুগের কবি ছিলেন না?
  1. মহীধরপা
  2. তাড়কপা
  3. তুলসীপা
  4. শান্তিপা
সঠিক উত্তর:
তুলসীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুলসীপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন- তুলসীপা।
 
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)।
- এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
 
• চর্যাপদের কবিগণ:
 চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
 
এরা হলেন-
- কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেগুণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডুরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা। 

অপশনের কবিগণের পদ: 
• মহীধরপা - ১৬,
• তাড়কপা - ৩৭,
• শান্তিপা - ১৬/২৬। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১০.
''অন্ধ ভূমিগর্ভ হতে শুনেছিলে সূর্যের আহ্বান প্রাণের প্রথম জাগরণে, তুমি বৃক্ষ, আদিপ্রাণ'' - কবিতাংশটুকুর কবি কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সিকানদার আবু জাফর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ''অন্ধ ভূমিগর্ভ হতে শুনেছিলে সূর্যের আহ্বান
প্রাণের প্রথম জাগরণে, তুমি বৃক্ষ, আদিপ্রাণ'' - কবিতাংশটুকুর কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

- কবিতাংশটুকু কবির 'বৃক্ষবন্দনা'- কবিতার অন্তর্গত।
- 'বৃক্ষবন্দনা'- কবিতাটি 'বনবাণী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- ‘উদ্ভিদের প্রাণ আছে’ জগদীশ চন্দ্র বসুর এই তত্ত্বেরই কাব্যরূপ বলা হয়ে থাকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বৃক্ষবন্দনা’ কবিতাটি।
- ১৩৩৩ বঙ্গাব্দে ‘বনবাণী’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত এই কবিতাটি লেখা হয়েছিল।

বৃক্ষবন্দনা- কবিতা,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

অন্ধ ভূমিগর্ভ হতে শুনেছিলে সূর্যের আহ্বান
প্রাণের প্রথম জাগরণে, তুমি বৃক্ষ, আদিপ্রাণ,
ঊর্ধ্বশীর্ষে উচ্চারিলে আলোকের প্রথম বন্দনা
ছন্দোহীন পাষাণের বক্ষ-'পরে; আনিলে বেদনা
নিঃসাড় নিষ্ঠুর মরুস্থলে।
সেদিন অম্বর-মাঝে
শ্যামে নীলে মিশ্রমন্ত্রে স্বর্গলোকে জ্যোতিষ্কসমাজে
মর্তের মাহাত্ম্যগান করিলে ঘোষণা।

উৎস: 'বৃক্ষবন্দনা'- কবিতা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

১১.
চর্যাপদের নিচের কোন পদকর্তার কোনো পদ পাওয়া যায়নি?
  1. কৃষ্ণবজ্রপা
  2. লাড়ীডোম্বীপা
  3. জয়নন্দীপা
  4. বীণাপা
সঠিক উত্তর:
লাড়ীডোম্বীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাড়ীডোম্বীপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের লাড়ীডোম্বীপার কোনো পদ পাওয়া যায়নি।

• চর্যাপদের কিছু প্রধান কবির নাম:
- কাহ্নপা, ভুসুকুপা, কুক্কুরীপা, সরহপা, লুইপা, শবরপা, শান্তিপা, ভাদেপা, ধর্মপা, মহীধরপা, ঢেণ্ডণপা, ডোম্বীপা, কম্বলাম্বরপা, গুণ্ডরীপা।
- লাড়ীডোম্বীপার কোন পদ পাওয়া যায় নি।

• চর্যাপদ: 
 বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদের ৫১ টি পদের মধ্যে সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়। 
- চর্যাপদের প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।পদটির রচয়িতা ছিলেন ভুসুকুপা। 
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪, ২৫ এবং ৪৮ নং পদ খুজে পাওয়া যায়নি। 
- চর্যাপদের ২৪ নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫ নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮ নং(কুক্কুরীপা রচিত) পদ।

• চর্যাপদে কবির সংখ্যা:
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে ২৩জন কবির নাম আছে।
- সুকুমার সেন 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (১ম খণ্ড) গ্রন্থে ২৪ জন কবির কথা বলেছেন।
- রাহুল সাংকৃত্যায়ন নেপাল-তিব্বতে প্রাপ্ত তালপাতার পুথিতে আরো কয়েকজন নতুন কবির চর্যাগীতি পেয়ে 'দোহা-কোশ' (১৯৫৭) গ্রন্থে সংযোজন করেছেন।
- সে বিচারে এক কথায় বলা চলে, চর্যাপদের কবির সংখ্যা ২৩, মতান্তরে ২৪।
- কিছু প্রধান কবির নাম: কাহ্নপা, ভুসুকুপা, কুক্কুরীপা, সরহপা, লুইপা, শবরপা, শান্তিপা।
 
অপশনগুলোর মধ্যে -
• জয়নন্দীপা- ৪৬ নম্বর পদের রচয়িতা। 
• বীণাপা- ১৭ নম্বর পদ রচয়িতা। 
• কাহ্নপা- 'কৃষ্ণবজ্রপাদ' নামে লিখতেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, চর্যাগীতিকা- মুহম্মদ আবদুল হাই।
১২.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যে কোন সময়কে 'বৈষ্ণবসাহিত্য যুগ' বলা হয়?
  1. ১৩০০-১৫০০
  2. ১২০১-১৫০০
  3. ১৫০০-১৭০০
  4. ১৭০০-১৮০০
সঠিক উত্তর:
১৫০০-১৭০০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫০০-১৭০০
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ:
বাংলার শ্রেষ্ঠ ভাষাতাত্ত্বিক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে -
• প্রাচীন যুগ (৯৫০ - ১২০০),

• মধ্যযুগ: 
প্রাচীন বা মুসলমানপূর্ব যুগ (৯৫০-১২০০),
তুর্কি বিজয়ের যুগ (১২০০-১৩০০),
আদি মধ্যযুগ বা প্রাকচৈতন্য যুগ (১৩০০-১৫০০),
অন্ত্য মধ্যযুগ (১৫০০-১৮০০), চৈতন্য যুগ বা বৈষ্ণবসাহিত্য যুগ (১৫০০-১৭০০) ও নবাবি আমল (১৭০০-১৮০০),

• আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।

• 'চৈতন্য যুগ' সম্পর্কিত বিশেষ তথ্য:
- বাংলা সাহিত্যে (১৫০০ থেকে ১৭০০) পর্যন্ত সময়কে চৈতন্য যুগ বলে।
- শ্রীচৈতন্যদেব ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য সংক্ষেপে ‘চৈতন্য’ নামে পরিচিত।
- শ্রীচৈতন্যদেব তাঁর জীবিতকালেই ভক্তদের ভগমানের অবতার বলে গৃহীত হয়েছিল।
- চৈতন্যদেব প্রথম জীবনী সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- চৈতন্যের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী।
- প্রবোধানন্দ সরস্বতী ‘শ্রীচৈতন্যচন্দ্রামৃত’ নামক কাব্য রচনা করেছিলেন।
- চৈতন্যদেবের জীবনী গ্রন্থকে ‘কচড়া’ নামে অভিহিত করা হয়েছে, যার অর্থ ব্যাপক।

 উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।