পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২১
সিলেবাস
বিষয় - বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ টপিক - শব্দ প্রকরণ [প্রকৃতি - প্রত্যয়; ক্রিয়ার কাল ও এর প্রয়োগ] উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।) ----------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ২১ প্রশ্ন

.
ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয় তাদের কী বলে?
  1. তদ্ধিতান্ত শব্দ
  2. কৃৎ প্রত্যয়
  3. তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. ধাতু সাধিত শব্দ
ব্যাখ্যা

কৃৎ প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ প্রত্যয় বলে। কৃৎ প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।

যেমন:
দুল্‌ + অনা = দোলনা।
কৃ + তব্য = কর্তব্য।
এখানে 'অনা', 'তব্য' হলো কৃৎ প্রত্যয় এবং 'দোলনা' ও 'কর্তব্য' হলো কৃদন্ত শব্দ।

অন্যদিকে,
তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।

যেমন,
- বাঘ + আ = বাঘা;
- দিন + ইক = দৈনিক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।

.
স্বাভাবিক বা অভ্যস্ততা বোঝালে সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়াকে কী বলে?
  1. নিত্যবৃত্ত অতীত
  2. নিত্যবৃত্ত বর্তমান
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. ঘটমান বর্তমান
ব্যাখ্যা

নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল:
- স্বাভাবিক বা অভ্যস্ততা বোঝালে সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে

নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
ক. স্থায়ী সত্য প্রকাশে : চার আর তিনে সাত হয়; সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়।
খ. ঐতিহাসিক বর্তমান : বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
গ. কাব্যের ভনিতায় : কাশীরাম দাস ভনে শুনে পুন্যবান।
ঘ. অনিশ্চয়তা প্রকাশে : কে জানে দেশে আবার সুদিন আসবে কি না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

.
যে ক্রিয়া অতীতে প্রায়ই ঘটত এমন বোঝায়, তাকে কোন কাল বলে?
  1. ঘটমান অতীত
  2. পুরাঘটিত অতীত
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত
ব্যাখ্যা

নিত্যবৃত্ত অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীতে প্রায়ই ঘটত এমন বোঝায়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে। 

যেমন:
- স্কুল ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে রোজ পড়া নিয়ে আলাপ করতাম।
- ছুটিতে প্রতি বছর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যেতাম।
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

.
ক্রিয়ামূলকে আর কী বলা হয়?
  1. সমাস
  2. প্রত্যয়
  3. ধাতু
  4. পদমূল
ব্যাখ্যা

ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
- ক্রিয়া পদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
- ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি- সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয় তখন 
- একটা ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়- 
১) ধাতু বা ক্রিয়ামূল এবং 
২) ক্রিয়া বিভক্তি।
- ক্রিয়ার মুল বা ধাতু বোঝাতে √ চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।  

• ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি।
• ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
কৃৎ-প্রত্যয় যোগ করলে কৃৎ-প্রকৃতির আদিস্বরের কী ঘটে?
  1. বর্জন হয়
  2. পরিবর্তিত হয়
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• কোনো কোনো ক্ষেত্রে কৃৎ-প্রত্যয় যোগ করলে কৃৎ-প্রকৃতির আদিস্বর পরিবর্তিত হয়। এ পরিবর্তনকে বলা হয় গুণ ও বৃদ্ধি।

গুণ:
(ক) ই, ঈ-স্থলে এ,
(খ) উ, ঊ-স্থলে ও,
(গ) ঋ-স্থলে অর্ হয়।
যেমন -
→ চিন্ + আ =চেনা (ই স্থলে এ হলো); √নী + আ = নেওয়া (ঈ স্থলে এ); √ধু + আ = ধোয়া (উ স্থলে ও); কৃ + তা = করতা > কর্তা (ঋ স্থলে অর্)।

বৃদ্ধি:
(ক) অ-স্থলে আ,
(খ) ই ও ঈ-স্থলে ঐ,
(গ) উ ও উ স্থলে ঔ,
(ঘ) ঋ-স্থলে আর্ হয়।
যেমন -
→ পচ্ + অ (ণক) = পাচক (পচ-এর অ স্থলে 'আ'); শিশু + অ (ষ্ণ)= শৈশব (ই স্থলে ঐ); যুব + অন= যৌবন (উ স্থলে ঔ); কৃ + ঘ্যণ = কার্য (ঋ স্থলে আর)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
'স্মরণীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √স্মর + অনট
  2. √স্মৃ + অনট
  3. √স্মৃ + অনীয়
  4. √স্মর + অনীয়
ব্যাখ্যা

• কৃৎ প্রত্যয়-অনীয় (অনীয়র): যোগ্য বা কর্তব্য অর্থে বিশেষণ শব্দ গঠন করে।

​যেমন:
- √দৃশ্ + অনীয় = দর্শনীয়,
- √শুচ + অনীয় = শোচনীয়,
- √স্মৃ + অনীয় = স্মরণীয়

​উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
কোনটি সাধারণ বর্তমান কালের উদাহরণ?
  1. অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।
  2. এখন বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন।
  3. আমি রোজ বিদ্যালয়ে পড়তে যাই।
  4. বাবা প্রতিদিন বাজার করতেন। 
ব্যাখ্যা

সাধারণ বর্তমান/নিত্যবৃত্ত বর্তমান: 
- যে ক্রিয়ার কাজটি বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে বা হয়, তাকে সাধারণ বর্তমান বা নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে। 

যেমন: 
- সকালে সূর্য ওঠে। 
- দুই আর দুইয়ে চার হয়। 
- আমি রোজ বিদ্যালয়ে পড়তে যাই।

অন্যদিকে,
নিত্যবৃত্ত অতীত - বাবা প্রতিদিন বাজার করতেন। 
পুরাঘটিত বর্তমান - এখন বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন। অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

.
প্রত্যয় প্রধানত কয় প্রকার?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
ব্যাখ্যা

প্রত্যয়ের শ্রেণিবিভাগ: প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা: 
১. কৃৎ প্রত্যয় ও 
২. তদ্ধিত প্রত্যয়। 

কৃৎ প্রত্যয়: 
- ধাতুর পরে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে কৃৎ প্রত্যয় বলে। 

যেমন: 
- √ধর্ + আ = ধরা, 
- √ডুব্‌ + উরী = ডুবুরী 
- √দৃশ্ + য = দৃশ্য ইত্যাদি।

তদ্ধিত প্রত্যয়: 
- শব্দের পরে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। 

যেমন: 
- বাঘ + আ = বাঘা, 
- সোনা + আলি = সোনালি, 
- সপ্তাহ + ইক = সাপ্তাহিক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

.
কোনটি সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. কর্তব্য
  2. চল
  3. কাঁদন
  4. কাঁদ
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

অ(অচ্):
√পট্ + অ = পাঠ, 
√জি + অ = জয়,
Vকৃ + তব্য = কর্তব্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বাংলা কৃৎ প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:
অ:
- √কাঁদ্ + অ = কাঁদ,
- √ধর্ + অ = ধর,
- √চল্ + অ = চল

অন> ওন:
- √নাচ্ + অন = নাচন,
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

১০.
কোনটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় নয়?
  1. ফিক
  2. নীয়
  3. ইমন
  4. পনা
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণ্য, ফিক, ইত, ইমন, ইল, ইষ্ট, ঈন, তর, তম, তা, ত্ব, নীন, নীয়, বতুপ্, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়। এখানে কতগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ দেয়া হলো।

যেমন:
- মনু + ষ্ণ = মানব,
- পরলোক + ইক = পারলৌকিক,
- সুভগ+ ষ্ণ্য = সৌভাগ্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় - পনা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১১.
'চিন্তা করো না, কালই আসছি' - এটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. ঘটমান ভবিষ্যৎ
  4. সাধারণ ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা

ঘটমান বর্তমান কাল: 
- যে কাজ শেষ হয়নি, এখনও চলছে, সে কাজ বোঝানোর জন্য ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যথা:
- হাসান বই পড়ছে। 
- নীরা গান গাইছে। 

ঘটমান বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
বক্তার প্রত্যক্ষ উক্তিতে ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়। 
যথা-
- বক্তা বললেন, "শত্রুর অত্যাচারে দেশ আজ বিপন্ন, ধন-সম্পদ লুণ্ঠিত হচ্ছে, দিকে দিকে আগুন জ্বলছে।” 

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অর্থে: 
- চিন্তা করো না, কালই আসছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১২.
কোনটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. লৌকিক
  2. দর্শন
  3. ধড়িবাজ
  4. ঘরামি
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- যে তদ্ধিত প্রত্যয় সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। 

যেমন:
- মনু + ষ্ণ = মানব;
- লোক + ষ্ণিক = লৌকিক ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় - ঘর + আমি = ঘরামি।
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় - ধড়ি + বাজ = ধড়িবাজ।
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় - √দৃশ্ + অন = দর্শন।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

১৩.
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. মাধুর্য
  2. কেষ্ট
  3. বড়াই
  4. দারোয়ান
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:

যেমন:
- মধু + ষ্ণ= মাধব, 
- মনু + ষ্ণ =মানব,
- মধুর+ ষ্ণ = মাধুর্য,
- পঞ্চভূত + ফিক = পাঞ্চভৌতিক,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- 'দারোয়ান' বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- 'বড়াই' ও 'কেষ্ট' বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৪.
কোনটি ঘটমান ভবিষ্যৎ?
  1. আমি হব সকালবেলার পাখি।
  2. সুমন হয়তো তখন দেখতে থাকবে। 
  3. তুমি হয়তো সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' পড়ে থাকবে।
  4. সম্ভবত আগামীকাল পরীক্ষার ফল বের হয়ে থাকবে।
ব্যাখ্যা

ঘটমান ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়ার কাজ ভবিষ্যতে শুরু হয়ে চলতে থাকবে, তার কালকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে। 

যেমন: 
- সুমন হয়তো তখন দেখতে থাকবে। 
- মনীষা দৌড়াতে থাকবে। 
- আমিনা কথা বলতে থাকবে।

অন্যদিকে,
পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ - সম্ভবত আগামীকাল পরীক্ষার ফল বের হয়ে থাকবে।
সাধারণ ভবিষ্যৎ - আমি হব সকালবেলার পাখি। তুমি হয়তো সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' পড়ে থাকবে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১৫.
যে ক্রিয়া কিছু আগে শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফল এখনো রয়েছে, তাকে কী বলে?
  1. ঘটমান বর্তমান
  2. পুরাঘটিত অতীত
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত বর্তমান: 
- যে ক্রিয়া কিছু আগে শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফল এখনো রয়েছে, তাকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে। 

যেমন: 
- এখন বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন। 
- এবার মা খেতে ডেকেছেন। 
- অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১৬.
তদ্ধিত প্রত্যয় কত প্রকার?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
ব্যাখ্যা

তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার। 

যথা:
ক. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়;
খ. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় ও
গ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- যে তদ্ধিত প্রত্যয় সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। 
যেমন: মনু + ষ্ণ = মানব; লোক + ষ্ণিক = লৌকিক ইত্যাদি। 

বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়: 
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় ব্যতীত বাকি প্রত্যয়গুলোকে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। 
যেমন: বাঘ + আ = বাঘা; ঘর + আমি = ঘরামি ইত্যাদি। 

বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়: 
- শব্দের শেষে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাদের বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। 
যেমন: ডাক্তার + খানা = ডাক্তারখানা, ধড়ি + বাজ = ধড়িবাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

১৭.
কোনটি বর্তমান কালের অনুজ্ঞা?
  1. সব সময় সত্যি বলবে।
  2. অসুস্থ হলে ওষুধ খাবে।
  3. বড় হও, বুঝতে পারবে।
  4. আদেশ করুন জাহাপনা।
ব্যাখ্যা

অনুজ্ঞা:
- আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালের মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয়, তাকে অনুজ্ঞা বলে।

যেমন:
বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:
- তোমরা কাজ করো।
- রোহান লিখুক।
- আদেশ করুন জাহাপনা।

ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা:
- সব সময় সত্যি বলবে।
- বড় হও, বুঝতে পারবে।
- অসুস্থ হলে ওষুধ খাবে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১৮.
'√নাচ্ + অন = নাচন' - এটি কোন প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. বিদেশি কৃৎ প্রত্যয়
  3. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
  4. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

বাংলা কৃৎ প্রত্যয়: 
- সংস্কৃত বা তৎসম ধাতু বিবর্জিত বাংলা ধাতুর সঙ্গে প্রাকৃত ভাষা থেকে আগত যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে। 

যেমন: 
√নাচ্ + অন = নাচন,
√ডুব্‌ + অন্ত = ডুবন্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১৯.
'বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক খুব ভালো ব্যাট করলেন।' - বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত অতীত
  2. পুরাঘটিত বর্তমান
  3. সাধারণ অতীত
  4. ঘটমান অতীত
ব্যাখ্যা

সাধারণ অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীত কালে সাধারণভাবে সংঘটিত হয়েছে, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।

যেমন:
- তিনি খুলনা থেকে এলেন।
- বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক খুব ভালো ব্যাট করলেন।
- আমি খেলা দেখে এলাম।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

২০.
'বাঁধন' - শব্দটি কোন প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ?
  1. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  2. তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

বাংলা কৃৎ প্রত্যয় (অন):
- ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে 'অন' প্রত্যয়ের ব্যবহার হয়।

যেমন:-
- √ নাচ্ + অন = নাচন,
- √ বাঁধ + অন = বাঁধন,
- √ চল্ + অন = চলন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা , ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২১.
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ -
  1. মাধব
  2. দ্বৈপায়ন
  3. কানাই
  4. নারায়ণ
ব্যাখ্যা

বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

যেমন:
আই:
নিম + আই = নিমাই, 
কানু + আই = কানাই
বোন + আই = বোনাই।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:
আয়ন (ষ্ণায়ন, ফক্):
- নর + আয়ন = নারায়ণ,
- দ্বীপ + আয়ন = দ্বৈপায়ন,
- রাম + আয়ন = রামায়ণ।

অ (ষ্ণ, অণু):
- মনু + অ = মানব,
- দনু + অ = দানব,
- মধু + অ = মাধব

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।