পরীক্ষা আর্কাইভ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

পরীক্ষা৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়25 minutes
মোট প্রশ্ন৩৪
সিলেবাস
"Award Mania: Season - 13” এর জন্য প্রযোজ্য -------------------------------------------- ৪৭তম বিসিএস প্রস্তুতি - সাবজেক্ট ফাইনাল ও রিভিশন [রাউন্ড ⎯ ২] বিষয়ের নাম: সাধারণ বিজ্ঞান সম্পূর্ণ [৭০ নাম্বার]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৪ প্রশ্ন

.
বস্তুর কোন ধর্মের কারণে স্থির বস্তু স্থির থাকতে চায় এবং গতিশীল বস্তু গতিশীল থাকতে চায়? 
  1. জড়তা
  2. ক্ষমতা
  3. বল
  4. শক্তি
ব্যাখ্যা
জড়তা (Inertia): 
- জড়তা বস্তুর একটি ধর্ম, যে ধর্মের কারণে স্থির বস্তু স্থির থাকতে চায় এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে গতিশীল থাকতে চায়। 
- জড়তা দুই প্রকার। 
যথা- 
১। স্থিতি জড়তা (Inertia of rest): 
- স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকতে চায়, বস্তুর এ প্রবণতা বা ধর্মকে স্থিতি জড়তা বলে। 

২। গতি জড়তা (Inertia of motion): 
- সুষম গতিশীল বস্তু চিরকাল সুষম গতিশীল থাকতে চায়, বস্তুর এ প্রবণতা বা ধর্মকে গতি জড়তা বলে। 

নিউটনের প্রথম সূত্র: 
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু স্থিরই থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে সরলপথে চলতে থাকবে। 
- নিউটনের প্রথম সূত্রটি বস্তুর জড়তা ও বলের গুণগত ধারণা দেয়। 

বল: 
- যা কোন স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় বা কোন গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে এর গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায়, তাকে বল বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
পানির ঘনত্ব 4° C তাপমাত্রায় কত?
  1. 1 kg/m3
  2. 10 kg/m3
  3. 100 kg/m3
  4. 1000 kg/m3
ব্যাখ্যা
ঘনত্ব: 
- বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। 
- গাণিতিকভাবে বলা যায়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V . 
- বস্তুর ভরকে m দ্বারা, আয়তনকে V দ্বারা এবং ঘনত্বকে ρ [গ্রীক অক্ষর রো] অথবা d অথবা D অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- ঘনত্বের একক কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার, সংক্ষেপে কিলোগ্রাম/ঘনমিটার (kg/m3)। ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক ক্ষেত্রে ঘনত্বের একক গ্রাম প্রতি ঘন সেন্টিমিটার সংক্ষেপে গ্রাম/সিসি (g/cc অথবা gcm-3) বহুল প্রচলিত। এটি S.I এককের উপগুণিতক। 
- ভরের মাত্রাকে আয়তনের মাত্রা দিয়ে ভাগ করলে ঘনত্বের মাত্রা পাওয়া যায়। 
যেমন- [ρ] = ML-3

- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়। 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পানির ঘনত্ব সব চেয়ে বেশি হয় 4° C তাপমাত্রায়। 
- 4° C থেকে তাপমাত্রা বাড়লেও পানির ঘনত্ব কমে যায়, 4° C থেকে তাপমাত্রা কমলেও পানির ঘনত্ব কমে যায়। 
- কেবল মাত্র 4° C তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়, তাই পানির ঘনত্ব 1000 kgm-3 অথবা 1 gm/cc

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
শব্দ কী? 
  1. এক ধরনের পদার্থ
  2. এক ধরনের শক্তি
  3. এক ধরনের আলো
  4. এক ধরনের তড়িৎ প্রবাহ
ব্যাখ্যা
শব্দ: 
- শব্দ এক প্রকারের শক্তি। 
- বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ সৃষ্টি হয়। 
- শব্দ সঞ্চারণের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
- জড় মাধ্যমের মধ্যে কোন বস্তুর কম্পন হলে মাধ্যমের কণাগুলো আন্দোলিত হয়ে তরঙ্গের সৃষ্টি করে। 
- এই তরঙ্গ জড় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সঞ্চারিত হয়ে কানে প্রবেশ করে। কানের মধ্যে বিভিন্ন যান্ত্রিক কৌশলের মাধ্যমে মস্তিষ্কে শব্দের অনুভূতি সৃষ্টি হয় ফলে শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। 

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ এক ধরনের তরঙ্গ এবং এর কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। 
- বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- 
১. শব্দ এক ধরনের যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 
২. কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ উৎপন্ন হয়, অর্থাৎ শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন। 
৩. শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
৪. শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতি (ঘনত্ব, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ইত্যাদি)-এর ওপর নির্ভরশীল। 
৫. শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
৬. শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন সম্ভব। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
এসিড লিটমাস কাগজে কী পরিবর্তন করে? 
  1. নীল থেকে লাল করে
  2. লাল থেকে নীল করে
  3. নীল থেকে সবুজ করে
  4. কোনো পরিবর্তন হয় না
ব্যাখ্যা
এসিড: 
- এসিড টক স্বাদ যুক্ত। 
- এসিড নীল লিটমাসকে লাল বর্ণে পরিণত করে। 
- ক্ষার ও ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে H2 গ্যাস উৎপন্ন করে। 

জৈব এসিড: 
- জৈব এসিড মূলত কার্বক্সিলিক মূলক (-COOH) অথবা সালফোনিক এসিড মূলক (-SO3H) বর্তমান থাকে এবং অম্লধর্ম প্রকাশ পায়, ওদেরকে জৈব এসিড বলে। 

অজৈব এসিড: 
- অজৈব যৌগ কিন্তু টক স্বাদ যুক্ত, নীললিটমাস লাল করে, ক্ষার বা ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে এবং ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে H2 গ্যাস উৎপন্ন করে তাকে অজৈব এসিড বলে। 

তীব্র এসিড: 
- জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণ ভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- HCl, HNO3, H2SO4 ইত্যাদি। 

দুর্বল এসিড: 
- জলীয় দ্রবণ আংশিকভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- H2CO3, H-COOH, CH3-COOH ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোনটি উভধর্মী অক্সাইড? 
  1. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
  2. জিংক অক্সাইড
  3. কার্বন মনো-অক্সাইড
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
অম্লধর্মী অক্সাইড: 
- যে সব অক্সাইড পানির সাথে যুক্ত হয়ে অম্ল বা এসিড উৎপন্ন করে তাকে অম্লধর্মী অক্সাইড বলা হয়। 
- অম্লধর্মী অক্সাইডগুলো প্রধানত অধাতব অক্সাইড। 
যেমন- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO2)। 

ক্ষারধর্মী অক্সাইড: 
- যে সব ধাতব অক্সাইড অম্লীয় অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়ায় লবণ উৎপন্ন করে অথবা এসিডের সাথে বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন করে তাকে ক্ষারধর্মী অক্সাইড বলা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম অক্সাইড (Na2O), ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO), ফেরিক অক্সাইড (Fe2O3)। 

উভধর্মী অক্সাইড: 
- যে সব ধাতব অক্সাইড অবস্থাভেদে অম্ল ও ক্ষারক উভয় রূপে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে তাকে উভধর্মী অক্সাইড বলে। 
অর্থাৎ, এই জাতীয় অক্সাইড অম্লের অম্লত্ব ও ক্ষারে ক্ষারকত্ব উভয় গুণকে বিনষ্ট করে থাকে। 
যেমন- অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড (Al2O3), জিংক অক্সাইড (ZnO), লেড মনো অক্সাইড (PbO)। 

প্রশম অক্সাইড: 
- যে সব অধাতব অক্সাইড অম্লীয় বা ক্ষারকীয় কোন ধর্মই প্রকাশ করে না তাকে প্রশম অক্সাইড বলা হয়। 
যেমন- পানি (H2O), কার্বন মনো-অক্সাইড (CO), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), নাইট্রিক অক্সাইড (NO)। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
এক গ্রাম পানির তাপমাত্রা এক ডিগ্রী সেলসিয়াস বাড়াতে বা কমাতে কতটুকু তাপের প্রয়োজন হয়? 
  1. ১.৪ জুল
  2. ২.৪ জুল
  3. ৩.২ জুল
  4. ৪.২ জুল
ব্যাখ্যা
তাপ: 
- তাপ হল বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপ শক্তির একটি রূপ, তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। 
- তাপের S.I একক জুল (J)। 
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। 
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে 1 ক্যালরি (Cal) ধরা হতো। 4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি 1 ক্যালরি তাপের সমতুল্য, তাই 1 ক্যালরি = 4.2 জুল। 

তাপমাত্রা: 
- তাপমাত্রা বা উষ্ণতা হল বস্তুর তাপীয় অবস্থা যা ঐ বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে তাপ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- তাপমাত্রার S.I একক কেলভিন। 
- তবে তাপমাত্রার কেলভিন ছাড়াও বহুল প্রচলিত সেলসিয়াস বা সেন্টিগ্রেড এবং ফারেনহাইট এই দুটি একক আছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
একটি পরমাণু ইলেকট্রন দান করলে তার জারণ সংখ্যা কেমন হয়? 
  1. শূন্য
  2. ঋণাত্মক
  3. ধনাত্মক
  4. অসীম
ব্যাখ্যা
জারণ সংখ্যা (Oxidation Number): 
- মৌলের পরমাণু ইলেকট্রন গ্রহণ বা দানের মাধ্যমে আয়নে পরিণত হয়। 
- পরমাণু এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হয় এবং বিপরীতভাবে এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- কোনো পরমাণু যত সংখ্যক ইলেকট্রন দান করে তত ধনাত্মক চার্জযুক্ত হয় এবং যত সংখ্যক ইলেকট্রন গ্রহন করে তত ঋণাত্মক চার্জযুক্ত হয়। 
- যৌগের মধ্যে কোন মৌলের জারণ সংখ্যা মৌলটির পরমাণুকে মুক্ত অবস্থা থেকে যৌগের অণুর মধ্যে যে অবস্থায় বর্তমান সে অবস্থায় পরিণত করতে কী পরিমাণ জারণ বা বিজারণ প্রয়োজন তা নির্দেশ করে। 
- এ পরিবর্তনের জন্য যদি জারণের প্রয়োজন হয় তবে জারণ সংখ্যা হবে ধনাত্মক। 
- বিজারণের প্রয়োজন হলে জারণ সংখ্যা হবে ঋণাত্মক। 
- মুক্ত অবস্থায় থাকা মৌলের অণু বা পরমাণুর জারণ সংখ্যাকে শূন্য ধরা হয়। 
যেমন- Na, K, Fe, O2, H2, N2, P4, S8, ইত্যাদি অণুতে স্ব স্ব পরমাণুর জারণ সংখ্যার মান শূন্য। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিচের কোনটি বহু শর্করার উদাহরণ? 
  1. সুক্রোজ
  2. গ্লাইকোজেন
  3. ফ্রুক্টোজ
  4. মলটোজ
ব্যাখ্যা
শর্করার গঠন: 
- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট হলো-মানবদেহের কর্মশক্তি ও তাপশক্তির প্রধান উৎস। 
- মানুষের প্রধান খাদ্য শর্করা। 
- কার্বন (C) হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O) নিয়ে শর্করার যৌগ গঠিত হয়। 
- এটি মিষ্টি স্বাদযুক্ত এবং গন্ধ ও বর্ণহীন। 

শর্করার উৎস: 
- কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা প্রাণি এবং উদ্ভিদ উভয় ধরনের উৎস থেকেই পাওয়া যায়। 
- উদ্ভিদ হতে প্রাপ্ত শর্করাগুলো হলো- চিনি, মধু, মিষ্টি ফল (আম, আঙ্গুর, কলা, কাঠাল, খেজুর ইত্যাদি), আখের রস, গুড়, খেজুরের রস, চাল, গম, ভুট্টা, আলু, কচু ইত্যাদি। 
- প্রাণি হতে প্রাপ্ত শর্করার ভালো উৎস হলো- দুধের শর্করা, প্রাণিদেহের যকৃত ও পেশিকোষের শর্করা। 

শর্করার প্রকারভেদ: 
- গঠন অনুসারে শর্করা তিন প্রকার। 
যথা: এক শর্করা (মনোস্যাকারাইড), দ্বি-শর্করা (ডাইস্যাকারাইড) ও বহু শর্করা (পলিস্যাকারাইড)। 
১। এক শর্করা: 
- এক শর্করাগুলো হলো- গ্লুকোজ, ফ্রক্টোজ ও গ্যালাক্টোজ। 
ক) গ্লুকোজ- চিনি, মিষ্টি ফল ইত্যাদি। 
খ) ফ্রুক্টোজ- মধু আঙ্গুর, বেদানা, আপেল, পাকা আম, পাকা কলা ইত্যাদি। 
গ) গ্যালাক্টোজ- দুধের শর্করা ল্যাক্টোজ ভেঙ্গে গ্যালাক্টোজ ও গ্লুকোজ পাওয়া যায়। 

২। দ্বি-শর্করা: 
- দ্বি-শর্করাগুলো হলো- সুক্রোজ, মলটোজ ও ল্যাক্টেজ। 
ক) সুক্রোজ- আখের চিনি, গুড়, খেজুর রস। 
খ) মলটোজ- চালের শর্করা (দু'টি গ্লুকোজের অণু একত্রে)। 
গ) ল্যাক্টোজ- দুধের শর্করা। 

৩। বহু শর্করা: 
- বহু শর্করাগুলো হলো- শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন ও সেলুলোজ। 
ক) শ্বেতসার- চাল, গম, আলু, কচু। 
খ) সেলুলোজ- ফল ও শাক পাতার আঁশ, আঁশযুক্ত ফল, শস্যের খোসা। 
গ) গ্লাইকোজেন- প্রাণিদেহের যকৃত ও পেশিতে পাওয়া যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ইকোলজি কী ব্যাখ্যা করে? 
  1. প্রাণির রোগবালাই
  2. জীবের আকার ও গঠন
  3. জিনগত পরিবর্তন
  4. জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক
ব্যাখ্যা
ইকোলজি: 
- ইকোলজি হলো এমনই এক বিজ্ঞান যা জৈব ও অজৈব উপাদানসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক, পারস্পরিক মিথস্ত্রিয়া ব্যাখ্যা করে। 
- জীব ও জড় পরিবেশের এই পারস্পরিক আন্তঃসম্পর্ককেই বলা হয় বাস্তুসংস্থান। 
- পরিবেশ ও জীবের এই সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য এবং মানুষ, জীব ও পরিবেশ একে অন্যের জীবনধারণের প্রতিটি স্তরে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। 

বাস্তুসংস্থানের উপাদান: 
- বাস্তুসংস্থানের উপাদান মূলত দুটি। 
যথা- 
ক. সজীব উপাদান: 
- সজীব সম্প্রদায় হলো বাস্তুসংস্থানের জীব উপাদান। 
- সজীব উপাদান আবার তিন প্রকার। 
যথা- 
১. উৎপাদক: সবুজ উদ্ভিদ পরিবেশ থেকে পানি, কার্বন ডাই-অক্সাইড, খনিজ লবণ প্রভৃতি জীব উপাদান গ্রহণ করে সৌরশক্তির মাধ্যমে নিজেদের শর্করা জাতীয় খাদ্য নিজেরা তৈরি করে। এ সবুজ উদ্ভিদই উৎপাদক। 
২. খাদক: ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক কর্তৃক তৈরি খাদ্যের উপর নির্ভরশীল জীবগোষ্ঠিকে বলে খাদক। খাদক তিন প্রকার। যথা- প্রথম স্তরের খাদক, দ্বিতীয় স্তরের খাদক এবং তৃতীয় স্তরের খাদক। 
৩. বিয়োজক: ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক ও খাদকের মৃতদেহ মাটিতে মিশে ব্যাকটেরিয়া, ক্ষুদ্র পোকামাকড় ইত্যাদির দ্বারা বিয়োজক স্তর গড়ে উঠে। পরিশেষে উৎপাদক জীবগোষ্ঠি পুনরায় বিয়োজক স্তর হতে খাদ্য গ্রহণ করে দেহে পুষ্টি জোগায়। 

খ. জড় উপাদান: 
- পরিবেশের সকল অজৈব ও জৈব উপাদান হলো বাস্তুসংস্থানের জড় উপাদান। 
- জড় উপাদান আবার তিন প্রকার। 
যথা- 
১. অজৈব উপাদান: মাটি, পানি, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, খনিজ লবণ ইত্যাদি হচ্ছে বাস্তুসংস্থানের অজৈব উপাদান। 
২. জৈব উপাদান: উদ্ভিদ ও প্রাণির মৃতদেহ হতে তৈরি হিউমাস ও ইউরিয়া হলো মাটির জৈব উপাদান। 
৩. ভৌত উপাদান: আবহাওয়া, জলবায়ু, মাটির গুণাগুণ বাস্তুসংস্থানের ভৌত উপাদান। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
আদর্শ গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি কোন উপাদানের উপর নির্ভর করে না?
  1. আয়তন
  2. তাপমাত্রা
  3. গ্যাসের পরিমাণ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
আদর্শ গ্যাস (Ideal Gas): 
- যে গ্যাসসমূহ সকল তাপমাত্রা ও চাপে বয়েলের সূত্র, চার্লসের সূত্র, অ্যাভোগাড্রোর সূত্র তথা আদর্শ গ্যাস সমীকরণ PV = nRT কে মেনে চলে তাদেরকে আদর্শ গ্যাস বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে কোনো গ্যাসই সম্পূর্ণরূপে গ্যাস সূত্রসমূহ তথা PV = nRT সমীকরণ মেনে চলে না। 
- আদর্শ গ্যাস হলো একটি কাল্পনিক গ্যাস। 
- স্থির তাপমাত্রায় আদর্শ গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি আয়তনের উপর নির্ভর করে না। 

আদর্শ গ্যাসের বৈশিষ্ট্য: 
- আদর্শ গ্যাসে নিচের উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্তমান থাকে- 
১. স্থির তাপমাত্রায় গ্যাসের চাপ ও আয়তনের গুণফল একটি ধ্রুবক, অর্থাৎ PV = K. তাই এক্ষেত্রে যদি স্থির তাপমাত্রায় চাপ বনাম PV এর লেখ অঙ্কন করা যায় তবে তা একটি সরলরেখা হবে। 
২. আদর্শ গ্যাস সকল তাপমাত্রা ও চাপে PV = nRT সমীকরণ মেনে চলে। 
৩. স্থির তাপমাত্রায় আদর্শ গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি এর আয়তনের উপর নির্ভরশীল নয়। অর্থাৎ স্থির তাপমাত্রায় আদর্শ গ্যাসের আয়তনের পরিবর্তন হলেও এদের অভ্যন্তরীণ শক্তির কোনো পরিবর্তন ঘটে না। 
৪. চাপ অপরিবর্তিত রেখে গ্যাসের তাপমাত্রা 0°C হতে -273.15°C কমালে গ্যাসের আয়তন শূন্য হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
শৈবালের দেহকোষে প্রধান রঞ্জক পদার্থ হিসেবে কোনটি থাকে? 
  1. লাইকোপিন
  2. ফ্ল্যাভোনয়েড
  3. ক্লোরোফিল
  4. ক্যারোটিন
ব্যাখ্যা
শৈবাল: 
- শৈবাল সমাঙ্গদেহী বিভাগের অন্তর্গত ক্লোরোফিল সমন্বিত এক প্রকার প্রাচীনতম নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ। 
- শৈবালের দেহ থ্যালাসের ন্যায় কিন্তু দেহকোষে ক্লোরোফিল থাকাতে এরা স্বভোজী। 
অর্থাৎ, আলোকের উপস্থিতিতে এবং পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সহায়তায় এরা নিজেরা নিজেদের দেহকোষে খাদ্য (শর্করা) প্রস্তুত করতে সক্ষম। 
- শৈবালের দেহকোষে প্রধান রঞ্জক পদার্থ সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল উপস্থিত থাকলেও অনেক সময় নানা রকম ভিন্ন রঞ্জক পদার্থ দিয়ে এরা আবৃত থাকে। ঐ সব রঞ্জক পদার্থের উপর ভিত্তি করে শৈবালের শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- শৈবালের দেহকোষে সুগঠিত ও স্বতন্ত্র নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং অন্যান্য কোষ অঙ্গাণু থাকে। 
- প্রোক্যারিয়োটিক হওয়ায় নীলাভ-সবুজ শৈবাল বর্তমানে সায়ানো ব্যাকটেরিয়া হিসেবে বিবেচিত। 
- শৈবাল তিনটি প্রক্রিয়ায় জনন কার্য সম্পন্ন করে। 
যেমন- (ক) অঙ্গজ জনন, (খ) অযৌন জনন এবং (গ) যৌন জনন। 

শৈবালের বৈশিষ্ট্য: 
- শৈবালে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো দেখা যায়- 
১। এরা সবাই অপুষ্পক। 
২। এরা স্বভোজী অর্থাৎ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজেরা নিজেদের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। 
৩। এরা প্রকৃতকোষী, এককোষী অথবা বহুকোষী হয়। এরা সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদ অর্থাৎ এদেরকে মূল, কান্ড এবং পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
৪। এদের দেহে ভাস্কুলার টিস্যু (পরিবহন টিস্যু) থাকে না। 
৫। অধিকাংশ শৈবালের জননাঙ্গ এককোষী। কোন কোন শৈবালের জননাঙ্গ বহুকোষী হয়। জননাঙ্গ বহুকোষী হলে তা বন্ধ্যা কোষের স্তর দিয়ে পরিবেষ্টিত থাকে না। 
৬। এদের রেণুথলী (স্পোরাঞ্জিয়া) সব সময় এককোষী। 
৭। এদের জাইগোট স্ত্রীজননাঙ্গে থাকা অবস্থায় কখনও বহুকোষী ভ্রূণে পরিণত হয় না। 
৮। এদের কোষ প্রাচীর সাধারণত সেলুলোজ ও পেকটিন দিয়ে গঠিত। 
৯। গ্যামিটের মিলনের পরেও এদের বহুকোষী ভ্রূণ গঠিত হয় না। 
১০। সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া এদের সঞ্চিত খাদ্য শর্করা। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
নির্দিষ্ট দূরত্বে যদি দুটি বস্তু কণার ভরের গুণফল দ্বিগুণ হয়, তাহলে আকর্ষণ বল কী হবে? 
  1. দ্বিগুণ হবে
  2. অর্ধেক হবে
  3. চারগুণ হবে
  4. অপরিবর্তিত থাকবে
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষ: 
- মানুষ লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠতে পারে না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে কারণ পৃথিবী তাদেরকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
- মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তুকণা পরস্পরকে আকর্ষণ করে, এই আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে। এই ঘটনাকে (Phenomenon) বলে মহাকর্ষ। 
- পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র ও মহাকর্ষ বল: 
- দুটি বস্তুকণার মধ্যকার এ আকর্ষণ বলের মান শুধু কণাদ্বয়ের ভর এবং এদের মধ্যকার দূরত্বের উপর নির্ভর করে, এদের প্রকৃতি কিংবা মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে না। 
- বস্তু কণাদ্বয়ের ভর বেশি হলে আকর্ষণ বলও বেশি হয় আর তাদের মধ্যে দূরত্ব বেশি হলে বল কম হয়। 
- এ আকর্ষণ সম্পর্কে নিউটনের একটি সূত্র আছে যা নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র নামে পরিচিত। 
সূত্র: "মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং এদের দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এ বল বস্তুকণাদ্বয়ের সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে"। 
ধরা যাক, m1 এবং m2 ভরের দুটি বস্তু কণা পরস্পর থেকে d দূরত্বে অবস্থিত। এদের মধ্যকার আকর্ষণ বল F হলে, মহাকর্ষ সূত্রানুসারে, 

F = G(m1m2)/d2
এখানে, G একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক, একে সর্বজনীন মহাকর্ষীয় ধ্রুবক বলে। 
অর্থাৎ, দুটি এক কিলোগ্রাম ভরের বস্তু এক মিটার দূরত্বে স্থাপন করলে এরা পরস্পরকে যে বলে আকর্ষণ করে, তার মান সংখ্যাগতভাবে G এর মানের সমান। 
- মহাকর্ষ সূত্রানুসারে দেখা যায়, নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থিত দুটি বস্তু কণাদ্বয়ের বস্তুর ভরের গুণফল দ্বিগুণ হলে বল দ্বিগুণ হবে, ভরের গুণফল তিনগুণ হলে বল তিনগুণ হবে। 
- আর নির্দিষ্ট ভরের দুটি বস্তু কণার মধ্যবর্তী দূরত্ব দ্বিগুণ করলে বল পূর্বের এক-চতুর্থাংশ হবে, দূরত্ব তিনগুণ করলে বল পূর্বের নয় ভাগের এক ভাগ হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১৩.
সালোকসংশ্লেষণ চলাকালে বায়ুমণ্ডলের কোন উপাদান পাতার ভেতর প্রবেশ করে? 
  1. নাইট্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. জলীয় বাষ্প
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ: 
- পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস হলো সূর্য। 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের সবুজ অংশ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইডকে কাজে লাগিয়ে শর্করা জাতীয় খাদ্য উৎপাদন করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে। 
- উদ্ভিদের পাতার সবুজ প্লাস্টিড সালোকসংশ্লেষণে অংশ নেয়। এ প্লাস্টিডের ভিতরে সৌরশক্তি, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বিক্রিয়া করে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ উৎপন্ন করে।
- পাতাকে সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থানরূপে কেন গণ্য করা হয়। কারণ- 
১. পাতা চ্যাপ্টা ও সম্প্রসারিত হওয়ায় বেশি পরিমাণ সূর্যরশ্মি এবং অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষিত হয়। 
২. পাতার কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা অনেক বেশি। 
৩. পাতায় অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকায় সালোকসংশ্লেষণের সময় গ্যাসীয় পদার্থের আদান প্রদান সহজে ঘটে। 

- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় আলো একটি অপরিহার্য উপাদান, আলোর প্রধান উৎস সূর্য। 
- সালোকসংশ্লেষণের সময় বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইড পত্ররন্ধ্রের ভিতর দিয়ে পাতায় প্রবেশ করে। 
- এরপর সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোফিলের সহায়তায় পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিক্রিয়া ঘটে ও গ্লুকোজ উৎপন্ন হয়। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি দুটি প্রথক পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। 
যেমন- (১) আলোক পর্যায় ও (২) আলোক নিরপেক্ষ পর্যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১৪.
ফ্লোয়েম টিস্যুর অংশ নয় কোনটি? 
  1. সীভ নল
  2. সঙ্গী কোষ
  3. ট্রাকিড
  4. ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা
ব্যাখ্যা
জটিল টিস্যু: 
- এ টিস্যুর প্রধান কাজ মাটি থেকে পানি ও অজৈব লবণ পরিবহন করে পাতায় পৌঁছানো এবং পাতায় যে খাদ্য প্রস্তুত হয় তা পরিবহন করে উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছানো। 
- এদের কাজ পরিবহন বলে এ টিস্যুকে পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। 
- জটিল টিস্যু দু'প্রকার।
যথা- ১) ফ্লোয়েম টিস্যু ও ২) জাইলেম টিস্যু। 

ফ্লোয়েম টিস্যু: 
- উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে যে খাদ্য উৎপাদন হয় তা উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে পরিবহন করাই এদের কাজ। 
- ফ্লোয়েম টিস্যু চার ধরনের কোষ দ্বারা গঠিত। 
যথা- ক) সীভ নল, খ) সঙ্গী কোষ, গ) ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ঘ) ফ্লোয়েম ফ্লাইবার বা বাস্ট তন্তু। 

জাইলেম টিস্যু: 
- এ টিস্যু পরিবহন টিস্যুগুচ্ছের অন্যতম অংশ। 
- ভাস্কুলার উদ্ভিদে জাইলেমের সাহায্যেই খাদ্য দ্রব্যের উপাদানগুলো মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পাতায় পরিবাহিত হয়। 
- উৎপত্তি ও বিকাশের ভিত্তিতে জাইলেম দু'রকম। 
যথা-প্রাথমিক জাইলেম ও সেকেন্ডারি জাইলেম। 
- ভ্রূণ থেকে উদ্ভিদ বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে যে জাইলেমের সৃষ্টি হয় তাকে প্রাথমিক জাইলেম বলা হয়। 
- উদ্ভিদের সেকেন্ডারি বৃদ্ধির সময় ক্যাম্বিয়াম থেকে যে জাইলেমের সৃষ্টি হয় তাকে সেকেন্ডারি জাইলেম বলা হয়। 
- পরিণত অবস্থায় আবৃতবীজী উদ্ভিদে জাইলেম চার রকম কোষ দ্বারা গঠিত। 
যথা- ক) ট্রাকিড, খ) ট্রাকিয়া বা ভেসেল, গ) জাইলেম প্যারেনকাইমা ও ঘ) জাইলেম তন্তু। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
নিচের কোন রোগ নির্ণয়ে এক্সরে ব্যবহৃত হয়? 
  1. চোখের ছানি
  2. নিউমোনিয়া
  3. ডায়াবেটিস
  4. ম্যালেরিয়া
ব্যাখ্যা
এক্সরে (X-ray): 
- এক্সরে হলো এক ধরনের তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ। 
- এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সাধারণ আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক কম, এই রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 10-10 m এর কাছাকাছি। 
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্সরে আবিস্কার করেন, তাই এক্সরে রঞ্জন রশ্মি নামেও পরিচিত। 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক্সরের অবদান নিম্নে দেওয়া হলো- 
১. স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙে যাওয়া হাড় ইত্যাদি এক্সরের সাহায্যে খুব সহজেই সনাক্ত করা যায়। 
২. মুখমন্ডলীর যে কোনো ধরনের রোগ নির্ণয়ে এক্সরের ব্যবহার অনেক যেমন- দাঁতের গোড়ায় ঘা এবং ক্ষয় নির্ণয়ে এক্সরে ব্যবহৃত হয়। 
৩. পেটের এক্সরের সাহায্যে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা সনাক্ত করা যায়। 
৪. এক্সরের সাহায্যে পিত্তথলি ও কিডনির পাথরকে সনাক্ত করা যায়। 
৫. বুকের এক্সরের সাহায্যে ফুসফুসের রোগ যেমন- যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি নির্ণয় করা যায়
৬. চিকিৎসার কাজেও এক্সরে ব্যবহার করা যায়, এটি ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলতে পারে। রেডিওথেরাপি প্রয়োগ করে ক্যান্সারের চিকিৎসা করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬.
ডাইনোসর কত বছর আগে বিলুপ্ত হয়েছে? 
  1. কয়েক শত বছর আগে
  2. কয়েক দশক আগে
  3. কয়েক হাজার বছর আগে
  4. কয়েক মিলিয়ন বছর আগে
ব্যাখ্যা
বিবর্তন: 
- বিবর্তন একটি জৈবিক পদ্ধতি, এর প্রকৃত অর্থ হলো ক্রমবিকাশ। 
- পৃথিবীতে বর্তমানে যত জীব রয়েছে তারা বিভিন্ন সময়ে এ ভূ-মন্ডলে আবির্ভূত হয়েছে, আবার অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণী সময়ের আবর্তে বিলুপ্ত হয়েছে। 
যেমন- ডাইনোসর আজ থেকে কয়েক মিলিয়ন বছর আগে বিলুপ্ত হয়েছে, আবার কোন কোন জীব ধীর গতিতে পরিবর্তন ঘটিয়ে এখনও টিকে আছে। 
- কয়েক লক্ষ বা হাজার বছর সময়ের ব্যাপকতায় জীব প্রজাতির পৃথিবীতে আবির্ভাব ও টিকে থাকার জন্য যে পরিবর্তন ও অভিযোজন প্রক্রিয়া তাকে জৈব বিবর্তন বলা হয়। 

- 'Evolution' পরিপদটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন হার্বার্ট স্পেন্সার। 
- তিনি বলেন ধীর অথচ ক্রমাগত ও পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কোন সত্ত্বা সরল থেকে জটিল হওয়ার ধারাবাহিক পরিবর্তনই বিবর্তন। 
- কোন প্রাণী বা উদ্ভিদ ধীরে ধীরে ধারাবাহিক রূপান্তরের মাধ্যমে একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রাণী বা উদ্ভিদ এ পরিণত হওয়াকে অভিব্যক্তি বলা হয়। 
- অভিব্যক্তির মূল কথা হলো প্রজাতিগুলো পরিবর্তনযোগ্য অর্থাৎ দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে জীবের চেহারায় পরিবর্তন ঘটে। 
- ইংরেজ প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস রবার্ট ডারউইন অভিব্যক্তির কলাকৌশল সম্পর্কিত তাঁর মতামত ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ২৮ নভেম্বর 'The Origin of Species by means of Natural Selection' নামক বইটিতে প্রকাশ করেন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
পানির বিভব শক্তি নিচে নামার সময় কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়? 
  1. গতি শক্তি
  2. তাপ শক্তি
  3. শব্দ শক্তি
  4. রাসায়নিক শক্তি
ব্যাখ্যা
শক্তির রূপান্তর: 
- মানুষ তার চাহিদা অনুসারে শক্তিকে এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তর করে ব্যবহার করছে।
- এ মহাবিশ্বে নানা ঘটনা প্রবাহ চলছে শক্তির রূপান্তর আছে বলে। 
- শক্তি একরূপ থেকে একাধিকরূপে রূপান্তর হলেও মহাবিশ্বের মোট শক্তির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।
- এক রূপের শক্তিকে রুপান্তর করে অন্য রূপের শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তখন একে শক্তির রূপান্তর বলা হয়। 

যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর: 
- হাতে হাত ঘষলে তাপ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- কলমের খালি মুখে ফুঁ দিলে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- পানি যখন ভূপৃষ্ট হতে উপরে কোন পাত্রে থাকে তখন তাতে বিভব শক্তি সঞ্চিত থাকে, নিচে প্রবাহিত হবার সময় বিভব শক্তি গতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
পেট্রোলিয়ামে শতকরা কত ভাগ কেরোসিন থাকে? 
  1. ৬ ভাগ
  2. ৫ ভাগ
  3. ১৮ ভাগ
  4. ১৩ ভাগ
ব্যাখ্যা
পেট্রোলিয়াম: 
- পেট্রোলিয়াম সাধারণত 5000 ফুট বা তার চেয়েও গভীরে শিলা স্তরের মধ্যে পাওয়া যায়। 
- পেট্রোলিয়ামের সাথে অনেক সময় প্রাকৃতিক গ্যাস থাকে, যা পেট্রোলিয়ামের উপরিভাগে চাপ প্রয়োগ করে। 
- কূপ খনন করা হলে এই প্রাকৃতিক গ্যাস পেট্রোলিয়ামকে ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগে উঠে আসতে সাহায্য করে। 
- যে পেট্রোলিয়াম খনি থেকে সরাসরি পাওয়া যায় তাকে অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) বা পেট্রোলিয়াম বলে। 
- এই অপরিশোধিত তেল অস্বচ্ছ, এতে কখনো কখনো সালফারের কিছু কিছু যৌগ থাকার কারণে দুর্গন্ধযুক্ত হয়। 
- পেট্রোলিয়াম বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ, এদের স্ফুটনাঙ্কও বিভিন্ন। 
- এই পেট্রোলিয়াম মূলত বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ এবং সরাসরি ব্যবহার উপযোগী নয়। এই অপরিশোধিত তেল আংশিক পাতন পদ্ধতিতে স্ফুটনাঙ্কের উপর ভিত্তি করে পৃথক করা হয়। 
- অপরিশোধিত তেল ব্যবহারের উপযুক্ত নয়, কিন্তু একে যদি আংশিক পাতনের সাহায্যে পৃথক করা হয় তবে এ অপরিশোধিত তেল থেকে পেট্রোল, গ্যাস, পেট্রোলিয়াম, ন্যাপথা, কেরোসিন, ডিজেল, প্যারাফিন মোম এবং পিচ প্রভৃতি অংশে বিভক্ত হয়ে যায়, যা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়। 

কেরোসিন: 
- এ অংশের স্ফুটনাঙ্ক 121°C থেকে 170°C পর্যন্ত। 
- এ অংশে যে সকল হাইড্রোকার্বন থাকে তাদের অণুতে কার্বন সংখ্যা 11 থেকে 16 পর্যন্ত। 
- পেট্রোলিয়ামে শতকরা ১৩ ভাগ কেরোসিন থাকে। 
- পেট্রোলিয়ামের এই অংশকে জেট ইঞ্জিনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯.
নিচের কোন ক্ষেত্রে অতিবেগুনি রশ্মির (UV) কালি ব্যবহার করা হয়? 
  1. পাসপোর্টে
  2. ট্রাভেলারস চেকে
  3. ক্রেডিট কার্ডে
  4. উপরোক্ত সবকটিতে
ব্যাখ্যা
জাল পাসপোর্ট/টাকা শনাক্তকরণে অতিবেগুনি রশ্মির (UV) ব্যবহার: 
- বিগত শতাব্দী ধরে প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে টাকা তৈরির নিরাপত্তা অপেক্ষাকৃত সুনিশ্চিত হওয়ার ফলে জাল নোট তৈরিকারকদের জন্য টাকা তৈরি করা ক্রমেই দুরূহ হয়ে পড়ছে। 
- জাল নোট তৈরিতে বাধা প্রদান করার একটা পদ্ধতি হচ্ছে UV ফ্লুরোসেন্ট বস্তু টাকা প্রস্তুতকারী কাগজে সংযোজন করা। 
- জাল নোট শনাক্তকারী UV মেশিনে সাধারণত টাকার কাগজের বিশেষ কালি নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যে দৃষ্টিগোচর হয়। 
- একটি জাতির প্রচলিত মুদ্রা UV নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য কৃতকার্যতার সাথে প্রয়োগ একটি দুই স্তরবিশিষ্ট পদ্ধতি। 
- প্রথম ধাপ হচ্ছে কাগজের নোটে অতিবেগুনি (ultraviolet) কালি প্রয়োগ। 
- UV ফ্লুরোসেন্ট ফসফরাসযুক্ত নোট যখন UV রশ্মিতে স্থাপন করা হয় তখন এটি বিক্রিয়া দেখায় যা সাধারণ আলোয় দেখা যায় না। 
- যখন UV রশ্মিতে অনাবৃত করা হয় তখন UV কালির পরিবর্তন সংঘটিত করে এবং বিশেষ নিরাপত্তা চিহ্নগুলো মানুষের চোখে দৃশ্যমান হয়। 
- এর অর্থ হচ্ছে সাধারণ আলোতে UV কালি দ্বারা ছাপাকৃত নিরাপত্তা নকশা প্রতীয়মান হয় না। 
- UV আলো প্রয়োগ করলে এ পরিবর্তন পরিষ্কারভাবে দৃশ্যমান হয়, যা ফ্লুরোসেন্ট আলো সৃষ্টি করে। 
উল্লেখ্য যে,
- কাগজের মুদ্রা ছাড়া এই UV রশ্মির কালি পাসপোর্ট, ক্রেডিট কার্ড, ট্রাভেলারস চেক, সোসাল সিকিউরিটি কার্ড ইত্যাদিতে ব্যবহার করে একইভাবে জাল প্রতিরোধ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০.
স্বাভাবিক কথোপকথনের ক্ষেত্রে শব্দের তীব্রতা লেভেল কত? 
  1. ৮০ ডেসিবল
  2. ৬০ ডেসিবল
  3. ৭০ ডেসিবল
  4. ৯০ ডেসিবল
ব্যাখ্যা
- স্বাভাবিক কথোপকথনের ক্ষেত্রে শব্দের তীব্রতা লেভেল- ৬০ ডেসিবল। 

শব্দের তীব্রতা: 
- শব্দের তীব্রতা হচ্ছে একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত শব্দ শক্তির পরিমাণ।
- সাধারণ ক্ষেত্রে বাতাসের মধ্যে শ্রোতার অবস্থানের সাপেক্ষে তীব্রতা পরিমাপ করা হয়।
- শব্দের তীব্রতার মূল একক Wm-2
- শব্দের তীব্রতা ও পরিমাপ আপেক্ষিক শ্রাব্যতার সর্ব নিম্ন ধাপ থেকে শুরু হয়।
- এই সর্বনিম্ন তীব্রতাকে বলা হয় প্রমিত বা প্রমাণ তীব্রতা। এর মান 10-12 Wm-2 কে বেছে নেয়া হয়েছে।
- এটি হচ্ছে 1000Hz কম্পাঙ্কের একটি শব্দ তরঙ্গের তীব্রতা যাকে শ্রাব্যতার সূচনা সীমা (threshold of audibility) হিসাবেও ধরা হয়। 


উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১.
কোন সংকর ধাতু উড়োজাহাজের কাঠামো তৈরিতে ব্যবহৃত হয়? 
  1. ইস্পাত
  2. ব্রোঞ্জ
  3. পিতল
  4. ডুরালুমিন
ব্যাখ্যা
- 'ডুরালুমিন' সংকর ধাতু উড়োজাহাজের কাঠামো তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 

সংকর ধাতু: 

- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়। 
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে। 
যেমন- বিশুদ্ধ স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরি করা হয় না কারণ বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গয়না টেকসই হয় না। স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমান রূপা মিশ্রিত করে গয়না তৈরি করা হয়। আবার লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়। মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে। 
- নিচের কতগুলো সংকর ধাতুর সংযুক্তি ও ব্যবহার উল্লেখ করা হলো- 


উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২.
শিরার প্রধান কাজ কী? 
  1. রক্তে পুষ্টি সরবরাহ করা
  2. রক্তের প্রবাহ দ্রুত করানো
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত হৃদপিণ্ডে নিয়ে আসা
  4. অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত দেহে পৌঁছে দেওয়া
ব্যাখ্যা
শিরা: 
- যে সব রক্তনালীর মাধ্যমে সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে হৃৎপিণ্ডে বহন করে নিয়ে আসে, তাদের শিরা বলে। 
- ব্যতিক্রম পালমোনারি শিরাটি ফুসফুস থেকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত হৃৎপিণ্ডে নিয়ে আসে এবং Umbilical Vein মাতৃদেহ থেকে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত ভ্রূণে নিয়ে আসে। 
- শিরার প্রাচীর ধমনির মতো ৩টি স্তরে গঠিত হলেও প্রাচীর বেশ পাতলা ও গহ্বর বড়। 
- শিরায় কপাটিকা থাকায় শিরা দিয়ে রক্ত ধীরে ধীরে একমুখে প্রবাহিত হয়। 
- ধমনি প্রান্তের কৌশিক জালিকাগুলো ক্রমশ একত্রিত হয়ে প্রথমে সূক্ষ্ম শিরা বা উপশিরা গঠন করে। 
- উপশিরাগুলো পরস্পর মিলিত হয়ে পরে শিরা গঠন করে। 
- কতগুলো শিরা মিলে মহাশিরা গঠন করে, এভাবে শিরা কৈশিক জালিকা থেকে শুরু হয় এবং হৃৎপিণ্ডে শেষ হয়। 

ধমনি: 
- যে সব রক্তনালির মাধ্যমে রক্ত হৃদপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বাহিত হয়, তাকে ধমনি বা আর্টারি (Artory) বলে। 
- ধমনির প্রাচীর পুরু এবং তিনটি স্তরে গঠিত, এদের গহ্বর (Lumen) ছোট। 
- ধমনিতে কোনো কপাটিকা থাকে না, ফলে ধমনি দিয়ে রক্ত বেগে প্রবাহিত হয়। 
- ধমনির স্পন্দন আছে। 
- ধমনি দেহের বিভিন্ন অংশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়, এদের শাখা ধমনি (Arteriol) বলে। এগুলো ক্রমশ শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে অবশেষে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম কৈশিক জালিকায় শেষ হয়। এভাবে ধমনি হৃদপিণ্ড থেকে শুরু হয়ে কৈশিক জালিকায় শেষ হয়। 
- ধমনির মাধ্যমে হৃদপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অংশ অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পরিবাহিত হয়। 
- তবে ব্যতিক্রম হলো পালমোনারি ধমনি যা কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) যুক্ত রক্ত হৃদপিণ্ড থেকে ফুসফুসে নিয়ে আসে এবং Umbilical artery CO2 যুক্ত রক্ত ভ্রূণ থেকে মাতৃদেহে নিয়ে আসে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩.
টেকটোনিক প্লেটগুলোর সংযোগস্থলে সাধারণত কী ঘটে? 
  1. তুষারপাত
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. বৃষ্টিপাত
  4. ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব: 
- প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব অনুসারে, পৃথিবীর শিলামণ্ডল কয়েকটি পৃথক প্লেটে বিভক্ত, যা গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের ওপরে ভাসমান অবস্থায় থাকে।
- এই প্লেটগুলো প্রতিবছর কয়েক সেন্টিমিটার করে সরে যায়, কখনো একে অপরের থেকে দূরে সরে, আবার কখনো পরস্পরের দিকে আসে বা পরস্পরের সঙ্গে ঘষা খায়।
- প্লেটগুলোর সংযোগস্থলেই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা বেশি ঘটে, বিশেষত যেখানে উঁচু পর্বতশ্রেণী বিদ্যমান
- প্লেটগুলোর সংঘর্ষ ও ঘর্ষণের ফলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়, যা ভূ-অভ্যন্তরের পদার্থ গলিয়ে ফেলে।
- এই গলিত পদার্থ ম্যাগমা নামে পরিচিত এবং চাপের ফলে ভূপৃষ্ঠ ভেদ করে বেরিয়ে এলে তা লাভা নামে পরিচিত হয় এবং এই প্রক্রিয়াকে আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলা হয়।
- প্লেটগুলোর সংঘর্ষের ফলে যখন পৃথিবী কেঁপে ওঠে, তখন ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
২৪.
কোন কারণে আলোর প্রতিফলনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়? 
  1. আলো খুব দুর্বল হলে
  2. প্রতিফলক তল খসখসে হলে
  3. প্রতিফলক তল মসৃণ হলে
  4. আলো লম্বাভাবে আপতিত হলে
ব্যাখ্যা
প্রতিফলন: 
- কোনো আলোক রশ্মি কোনো স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় অন্য কোনো মাধ্যম দ্বারা বাধা প্রাপ্ত হলে দুই মাধ্যমের বিভেদতল থেকে প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে। আলোর এই ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে আলোর প্রতিফলন বলে। 
- যে বিভেদ তল থেকে আলো ফিরে আসে তাকে প্রতিফলক তল বা প্রতিফলক পৃষ্ঠ বলে, আর পূর্ববর্তী মাধ্যমে ফিরে আসা আলোকে বলা হয় প্রতিফলিত আলো বা রশ্মি। 
- সাধারণত দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে যে পরিমাণ আলো এসে পড়ে সবসময় তা সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয় না। 
- পতিত আলোর কতটুকু প্রতিফলিত হবে তা দুটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। তা হলো- 
১. মাধ্যম দুটির প্রকৃতি এবং 
২. আপতিত আলো প্রতিফলক তলের উপর কত কোণে আপতিত হয় তার পরিমাণ। 

- প্রতিফলক তল যত বেশি মসৃণ হয় প্রতিফলন তত বেশি হয়, আবার অস্বচ্ছ প্রতিফলকের চেয়ে স্বচ্ছ প্রতিফলকে প্রতিফলন কম হয়। 
যেমন- সাদা তলে আলোর প্রতিফলন বেশি হয় এবং কালো রঙের তলে আলোর প্রতিফলন হয় না বললেই চলে। 
- কাচ একটি আলোক স্বচ্ছ মাধ্যম, এর উপর আলো আংশিক প্রতিফলিত হয়। আবার আলোক রশ্মি লম্বভাবে পড়লে খুব সামান্য প্রতিফলিত হয়। 
- রশ্মি যত বেশি কোণে আপতিত হয় প্রতিফলনের পরিমাণও তত বেশি হয়। 
- প্রতিফলন তলের মসৃণতা অনুযায়ী প্রতিফলনকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন- ১. নিয়মিত প্রতিফলন এবং ২. ব্যাপ্ত প্রতিফলন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫.
নিচের কোন প্রাণী স্তন্যপায়ী? 
  1. বানর
  2. কুমির
  3. সাপ
  4. ব্যাঙ
ব্যাখ্যা
মেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- এদের মেরুদণ্ড আছে এবং দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে। 
- পাখনা বা দুই জোড়া পা থাকে এবং চোখ সরল প্রকৃতির। 
- মানুষ ছাড়া সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীর লেজ থাকে, এরা ফুলকা বা ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 
- মেরুদণ্ডী প্রাণীদের বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যেমন-
১। মৎস্য শ্রেণিভুক্ত প্রাণী: 
- এরা পানিতে বাস করে ও বেশির ভাগ মাছের গায়ে আঁইশ থাকে। যেমন- ইলিশ, রুই, কৈ ইত্যাদি। আবার কতকগুলোর আঁইশ থাকে না। যেমন- মাগুর, শিং, টেংরা, বোয়াল ইত্যাদি। 
- মাছ ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। এদের পাখনা আছে, পাখনার সাহায্যে এরা সাঁতার কাঁটে। 

২। পক্ষী শ্রেণিভুক্ত প্রাণী: 
- হাঁস, মুরগি, কবুতর, দোয়েল ইত্যাদি পাখি পক্ষী শ্রেণিভুক্ত প্রাণী। 
- এদের দেহ পালক দিয়ে আবৃত থাকে, পালক পাখি চেনার একটা প্রধান বৈশিষ্ট্য। পাখি ছাড়া আর কোনো প্রাণীর পালক নেই। 
- বেশিরভাগ পাখিই আছে যারা উড়তে পারে। উট পাখি, পেঙ্গুইন এবং আরও কিছু পাখি আছে যারা উড়তে পারে না। পাখি ডিম পাড়ে। ডিম থেকে বাচ্চা হয়। 

৩। উভচর শ্রেণিভুক্ত প্রাণী: 
- ব্যাঙ উভচর শ্রেণিভুক্ত প্রাণী। এদের জীবনের কিছু সময় ডাঙায় ও কিছু সময় পানিতে বাস করে। 
- এদের ত্বকে লোম, আঁইশ বা পালক কিছুই থাকে না। দুই জোড়া পা থাকে, পায়ের আঙুলে কোনো নখ থাকে না। 
- ব্যাঙাচি অবস্থায় এরা ফুলকা ও পরিণত অবস্থায় ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 

৪। সরীসৃপ শ্রেণিভুক্ত প্রাণী: 
- টিকটিকি, কুমির, সাপ, গিরগিটি ইত্যাদি সরীসৃপ শ্রেণিভুক্ত প্রাণী। 
- এরা বুকে ভর দিয়ে চলে, আঙুলে নখ থাকে, ডিম পাড়ে, ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। 
- ফুসফসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 

৫। স্তন্যপায়ী শ্রেণিভুক্ত প্রাণী: 
- বানর, ইঁদুর, কুকুর, বিড়াল, গরু, ছাগল ইত্যাদি স্তন্যপায়ী শ্রেণিভুক্ত প্রাণী। মানুষও এই দলের অন্তর্ভুক্ত। 
- এদের দেহে লোম থাকে, বাচ্চা মায়ের দুধ খেয়ে বড়ো হয়, মায়েরা বাচ্চা প্রসব করে। 
- মস্তিষ্ক ও দেহের গঠন বেশ উন্নত। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
২৬.
'প্রণকালচার' শব্দটি দ্বারা কী বুঝায়?
  1. রেশম চাষ
  2. চিংড়ি চাষ
  3. মৎস্য চাষ
  4. সামুদ্রিক মৎস্য চাষ
ব্যাখ্যা
- 'প্রণকালচার' শব্দটি দ্বারা চিংড়ি চাষ বুঝায়। 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু আধুনিক চাষ পদ্ধতি: 
- মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় পিসিকালচার। 
- সামুদ্রিক মৎস্য পালন বিদ্যাকে বলা হয় মেরিকালচার। 
- রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় সেরিকালচার। 
- মৌমাছির পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এপিকালচার। 
- উদ্যান বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় হর্টিকালচার। 
- পাখি পালন বিদ্যাকে বলা হয় এভিকালচার। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
২৭.
১ গ্রাম ফ্যাট থেকে প্রায় কত কিলোক্যালরি শক্তি উৎপন্ন হয়? 
  1. ৪ কিলোক্যালরি
  2. ৬ কিলোক্যালরি
  3. ৯ কিলোক্যালরি
  4. ১২ কিলোক্যালরি
ব্যাখ্যা
খাদ্যের কাজ: 
- মানবদেহের বেঁচে থাকার জন্য খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই, খাদ্য দেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য কাজ করে থাকে। 
যেমন- 
১। দেহের গঠন, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ: 
- মাতৃগর্ভে ভ্রূণ সৃষ্টির পর হতে ২০/২৫ বছর বয়স পর্যন্ত দেহ গঠন ও বৃদ্ধিসাধন প্রক্রিয়া চলতে থাকে। 
- এছাড়া কায়িক শ্রম, রোগ-বালাই, ইত্যাদিতে দেহ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। 
- খাদ্য মানব দেহে এসব গঠন, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ করে থাকে। 
যেমন- দেহের পেশি গঠনে প্রোটিন ও অস্থি বা হাড় গঠনে ক্যালসিয়াম কাজ করে। 

২। তাপ ও শক্তি উৎপাদন: 
- দেহের স্বাভাবিক উষ্ণতা বজায় রাখা ও অভ্যন্তরীণ কাজ সম্পাদন করে দেহকে সচল রাখার জন্য খাদ্য তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে। 
- দেহে তাপ ও শক্তি উৎপন্ন হয় বলেই দেহ সচল ও সক্রিয় থাকে। 
- স্নেহ জাতীয় খাদ্য হতে দেহে সর্বাধিক তাপ ও শক্তি উৎপন্ন হয়। 
- শর্করা জাতীয় খাদ্য হতে উৎপন্ন শক্তিও দেহে অতি প্রয়োজনীয়। 
যেমন- ১ গ্রাম শর্করা হতে ৪ কিলোক্যালরি (প্রায়), ১ গ্রাম প্রোটিন হতে ৪ কিলোক্যালরি (প্রায়) এবং ১ গ্রাম ফ্যাট হতে ৯ কিলোক্যালরি (প্রায়) শক্তি পাওয়া যায়। 

৩। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি: 
- খাদ্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে দেহকে জীবাণু ও রোগের আক্রমণ হতে রক্ষা করে। 
- প্রধানত ভিটামিন ও খনিজ লবণ জাতীয় খাদ্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে দেহকে সুস্থ রাখে। 

৪। দেহের অভ্যন্তরীণ কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ: 
- মানবদেহে প্রতিনিয়ত অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক কর্মক্রিয়া চলতে থাকে। 
- হৃৎপিণ্ড (Heart), ফুসফুস (Lung), পাকস্থলী (Stomatch), মস্তিষ্ক (Brain), বৃক্ক (Kidney), যকৃত (Liver) ইত্যাদি সবসময় সক্রিয় অবস্থায় থাকে। 
- এনজাইম ও হরমোনসমূহ শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈব রাসায়নিক কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে। 
- এছাড়া বিপাক, পরিপাক, শোষণ ইত্যাদি কাজ সংঘটিত হয়। 
- এসব কাজে প্রোটিন, খনিজ লবণ, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, পানি ইত্যাদি বিশেষভাবে ভূমিকা রাখে। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮.
কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রথম প্রস্তাব করেন কে এবং কখন? 
  1. ম্যাক্স প্লাঙ্ক, ১৯০০
  2. বোর, ১৯১৩
  3. নিউটন, ১৬৮৭
  4. আইনস্টাইন, ১৯০৫
ব্যাখ্যা
কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন। 
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়। 
- প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে। 
- এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
- প্লাঙ্কের মতে কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ গুচ্ছ বান্ডিল বা প্যাকেট আকারে সংঘটিত হয়। 
- কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দীর্ঘ দিনের রহস্যময় আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন। 
- এতে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯.
পলিমারের ক্ষুদ্র অংশকে কী বলা হয়? 
  1. মনোস্যাকারাইড
  2. মনোমার
  3. ডাইমার
  4. ট্রাইমার
ব্যাখ্যা
পলিমার: 
- গ্রিক শব্দ 'পলি' (poly) অর্থ বহু বা অনেক এবং 'মেরোস' (meros) অর্থ একক বা অংশ। এ দুটি শব্দ থেকেই পলিমার শব্দের উৎপত্তি। 
- প্রকৃতঅর্থে পলিমার বলতে বোঝায় বহু অংশযুক্ত উচ্চ আণবিক ভর সম্পন্ন বৃহদাকার অণু। এক কথায় বহু সংখ্যক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ পর পর যুক্ত হয়ে পলিমার অণু গঠন করে থাকে। 
- পলিমারের প্রত্যেকটি ক্ষুদ্র অংশকে মনোমার বলা হয়। 
যেমন- ইথিলিনের পলিমার পলিইথিলিন। প্রোপিনের পলিমার পলি প্রোপিন। 
- পলিমার সাধারণত দুই প্রকার। 
যথা- 
ক) প্রাকৃতিক পলিমার: 
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে প্রাপ্ত পলিমার এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, সেলুলোজ ইত্যাদি। 

খ) কৃত্রিম পলিমার: 
- পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত পলিমার সমূহ এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- পলিইথিলিন, পলিস্ট্যারিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), নাইলন, টেফলন, টেরিলিন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০.
সরল ছন্দিত গতিতে ত্বরণের মান কিসের সমানুপাতিক? 
  1. গতির
  2. সরণের
  3. বস্তুর ভরের
  4. সময়ের
ব্যাখ্যা
সরল ছন্দিত গতি: 
- যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন বস্তু বা কণার গতি সরল রৈখিক হয় এবং এর ত্বরণ সাম্য অবস্থান থেকে এর সরণের সমানুপাতিক হয় এবং এর দিক সব সময় সাম্য অবস্থান অভিমুখী হয়, তা হলে বস্তু কণার ঐ গতিকে সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন বলে। 
- কোন স্প্রিং এর এক প্রান্ত দৃঢ় কোন অবস্থানে বেঁধে অন্য প্রান্তে একটি ভারী বস্তু ঝুলিয়ে টেনে ছেড়ে দিলে তার উপর-নিচে গতি, তারের বাদ্যযন্ত্র- যেমন গিটারের তার টেনে ছেড়ে দিলে তার গতি, পেন্ডুলামের গতি, ইঞ্জিনের মধ্যে পিস্টনের গতি ইত্যাদি সরল ছন্দিত গতির উদাহরণ। 

সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য: 
১. এটি পর্যাবৃত্ত গতি। 
২. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি। 
৩. এটি সরল রৈখিক গতি। 
৪. যে কোন সময় ত্বরণের মান সাম্যাবস্থান থেকে সরণের মানের সমানুপাতিক। 
৫. ত্বরণ সর্বদা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু অভিমুখী। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১.
ট্রান্সফরমারের কাজ কী? 
  1. তাপ শক্তি উৎপাদন করা 
  2. বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা
  3. বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা
  4. উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করা
ব্যাখ্যা
ট্রান্সফরমার (Transformer): 
- এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র, এটি পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে। 
- এখানে মূলত দুটি কুণ্ডলী থাকে। 
- কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়। 
- একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ। 
- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। 
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 

- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়। 
যথা- স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার। 
- একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের এক বাহুতে অন্তরিত তামার তার পেঁচিয়ে মুখ্য কুণ্ডলী এবং অপর বাহুতে একইভাবে অন্তরিত তামার তার পেঁচিয়ে গৌণ কুণ্ডলী তৈরি করা হয়।
- মুখ্য কুণ্ডলীতে পরিবর্তি তড়িচ্চালক শক্তি প্রয়োগ করলে কোরে চৌম্বক বলরেখার সৃষ্টি হয়। 
- যেহেতু কোরটি আয়তাকার সেহেতু চৌম্বক বলরেখাগুলো বদ্ধ হয় এবং যে পরিমাণ বলরেখা মুখ্য কুণ্ডলীর বাহুতে সৃষ্টি হয় সেই পরিমাণ বলরেখার গৌণ কুণ্ডলীর কোরের বাহু অতিক্রম করে। 
- ফলে পরিবর্তিত প্রবাহের কারণে মুখ্য কুণ্ডলীতে যে পরিমাণ বলরেখার পরিবর্তন ঘটে ঠিক সেই পরিমাণ বলরেখার পরিবর্তন গৌণ কুণ্ডলীতেও ঘটে। 
- স্টেপ আপ ট্রন্সফরমারে মুখ্য কুণ্ডলীর পাক সংখ্যার চেয়ে গৌণ কুণ্ডলীর পাক সংখ্যা বেশি থাকে। 
- অপরদিকে স্টেপ ডাউন ট্রন্সফরমারে মুখ্য কুণ্ডলীর পাক সংখ্যার চেয়ে গৌণ কুণ্ডলীর পাক সংখ্যা কম থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২.
উদ্ভিদের জন্য নিচের কোনটি বেশি পরিমাণে প্রয়োজন? 
  1. দস্তা (Zn)
  2. নাইট্রোজেন (N)
  3. লৌহ (Fe)
  4. বোরন (B)
ব্যাখ্যা
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দু'ভাবে ভাগ করা হয়েছে।
যথা- 
(ক) ম্যাক্রো উপাদান (Macro nutrient): 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
- এরূপ উদ্ভিদের উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (০) ও সালফার (S)। 

(খ) মাইক্রো উপাদান (Micro nutrient): 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ উদ্ভিদের উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (C) ও ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩.
কোন রাজ্যের জীবগুলোর কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না? 
  1. মনেরা
  2. প্রোটিস্টা
  3. প্লান্টি
  4. ফানজাই
ব্যাখ্যা
জীবের শ্রেণিকরণ: 
- বিজ্ঞানীগণ পৃথিবীর সমস্ত জীবকে তাদের বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবদ্ধকরণের চেষ্টা করেছেন। 
- ১৯৬৯ খ্রি. বিজ্ঞানী হুইটেকার পঞ্চরাজ্য শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তন করেন। 
- ১৯৭৪ খ্রি. বিজ্ঞানী মাগিউলিস (Margulis) উক্ত শ্রেণিবিন্যাসকে পুনর্বিন্যাস করে জীবজগতের আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তন করেন। 
- আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসটি নিম্নরূপ পাঁচটি রাজ্যে ভাগ করেছেন- 
যেমন-
রাজ্য-১: মনেরা: 
- এ রাজ্যের অধীনে বিন্যস্ত জীবের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- জীবটি এককোষী এবং এর কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না; এরা খুবই ক্ষুদ্র এবং অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া এদের দেখা যায় না। 
উদাহরণ: ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, স্পাইরোগাইরা ইত্যাদি। 

রাজ্য-২: প্রোটিস্টা: 
- এর অধীনে ঐ সকল জীবকে বিন্যস্ত করা হয়, যাদের কোষ সুগঠিত নিউক্লিয়াসযুক্ত, এরা এককোষী বা বহুকোষী ক্লোরোফিল যুক্ত একক বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে। 
উদাহরণ: ইউগ্লেনা, অ্যামিবা ইত্যাদি। 

রাজ্য-৩: ফানজাই বা ছত্রাক: 
- এদের দেহে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে। এরা সাধারণত এককোষী বা বহুকোষী হয়। দেহে ক্লোরোফিল নেই, তাই এরা পরভোজী। 
উদাহরণ- ইস্ট, পেনিসিলিয়াম, মাশরুম ইত্যাদি। 

রাজ্য- ৪: প্লান্টি (উদ্ভিদজগৎ): 
- অধিকাংশ উদ্ভিদ নিজেই নিজের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। এদের দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত। এদের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ দ্বারা নির্মিত। এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও কোষ গহ্বর বিদ্যমান। উদ্ভিদে সবুজ কণিকা বা ক্লোরোফিল থাকে, তাই এরা খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। 
উদাহরণ: আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি। 

রাজ্য-৫: এ্যানিমেলিয়া (প্রাণিজগৎ): 
- এসব জীবের কোষে সেলুলোজ নির্মিত কোষপ্রাচীর থাকে না। সাধারণত এ কোষগুলোতে প্লাস্টিডও থাকে না। তাই খাদ্যের জন্য এরা উদ্ভিদের উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। 
উদাহরণ- মাছ, পাখি, গরু, মানুষ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৩৪.
বাংলাদেশের জলবায়ু কেমন?
  1. আর্দ্র ও শীতল
  2. শুষ্ক ও শীতল
  3. উষ্ণ ও আর্দ্র
  4. আর্দ্র ও শুষ্ক
ব্যাখ্যা
আবহাওয়া: 
- আবহাওয়া বলতে স্বল্প সময়ের জন্য কোনো নির্দিষ্ট স্থানের বায়ুমণ্ডলের অবস্থাকে বোঝায়। 
- বায়ুর তাপমাত্রা, চাপ, বায়ু কোন দিক থেকে কত জোরে প্রবাহিত হচ্ছে, বায়ুর আর্দ্রতা বা বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ, মেঘ, কুয়াশা ও বৃষ্টিপাত- এই অবস্থাগুলোকে একত্রে আবহাওয়া বলা হয়। 
যেমন- কোনো দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে বোঝা যায় আবহাওয়া বেশ গরম, আবার কোনো দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে বোঝা যায় আবহাওয়া বেশ ঠান্ডা। আবার আকাশ মেঘলা অথবা কুয়াশাচ্ছন্ন- এরকম অবস্থাও স্বল্প সময়ের আবহাওয়া নির্দেশ করে। 

জলবায়ু: 
- জলবায়ু সহসা বদলায় না, জলবায়ু হলো কোনো স্থানের অনেক বছরের আবহাওয়ার একটি সামগ্রিক বা গড় ফল। 
যেমন- বাংলাদেশের জলবায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র- থেকে বোঝা যায় বাংলাদেশে বেশ গরম পড়ে এবং বায়ু ভেজা বা আর্দ্র থাকে। আবার রাশিয়ার জলবায়ু শীতপ্রধান; এ থেকে বুঝা যায় রাশিয়ায় সাধারণত খুব শীত পড়ে। 

আবহাওয়া ও জলবায়ুর পার্থক্য: 
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান মূলত একই। 
- বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা, বায়ুচাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা (জলীয় বাষ্পের আপেক্ষিক পরিমাণ), বৃষ্টিপাত সবগুলোই আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান। 
- উপাদানসমূহ একই হলে আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে- 
১। কোনো স্থানের বায়ুমণ্ডলের স্বল্পকালীন অবস্থাই আবহাওয়া, আর কোনো স্থানের অনেক বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থাই জলবায়ু। 
২। কোনো স্থানের আবহাওয়া অল্প সময়ের মধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে। কিন্তু কোনো স্থানের জলবায়ু সহসা পরিবর্তন হয় না, পরিবর্তন হতে অনেক বছর লেগে যায়। 
৩। কাছাকাছি অঞ্চলের আবহাওয়া একই সময়ে ভিন্ন হতে পারে। 
যেমন- কোনো নির্দিষ্ট দিনে ফরিদপুরে বৃষ্টি হতে পারে কিন্তু বরিশালে বৃষ্টি নাও হতে পারে। 
- কিন্তু কাছাকাছি অঞ্চলের জলবায়ু সাধারণত একই রকম। 
যেমন- বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু একই রকম। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।