পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়08 minutes
মোট প্রশ্ন১১
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৬: টপিক: সমাস - দ্বন্দ্ব, কর্মধারয় ও তৎপুরুষ সমাস) [লাইভ ক্লাস - ১১ ও ১২]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ১১ প্রশ্ন

.
‘নয়নকমল’-এর যথার্থ ব্যাসবাক্য হলো-
  1. ক) নয়নের ন্যায় কমল
  2. খ) নয়ন কমলের ন্যায়
  3. গ) নয়নে কমল
  4. ঘ) নয়ন ও কমল
ব্যাখ্যা
উপমিত কর্মধারয় সমাসে প্রত্যক্ষ বা উপমেয়ের সাথে পরোক্ষ বা উপমানের তুলনা হয়।
উপমিত সমাসে সাধারণ ধর্ম বা গুণের উল্লেখ থাকে না, সাধারণ ধর্ম বা গুণ উহ্য থাকে।
যেমন : ‘পুরুষসিংহ’ সমস্তপদের পূর্বপদ পুরুষ ও পরপদ সিংহের তুলনা করা হলেও পুরুষ ও সিংহের সাধারণ ধর্ম বা গুণের উল্লেখ নেই, এখানে সাধারণ ধর্ম ‘শক্তিশালী’ বা ‘বলশালী’ যা-ই হোক না কেন তা উহ্য আছে।
সুতরাং বলা যায় যে, সাধারণ গুণের উল্লেখ না থেকে উপমেয়ের সাথে উপমানের যে সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।

উৎস : বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা ও নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ।
.
নিচের কোনটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ নয়?
  1. ক) তালতমাল
  2. খ) দোয়াত-কলম
  3. গ) চালাকচতুর
  4. ঘ) জমাখরচ
ব্যাখ্যা
চালাকচতুর কর্মধারয় সমাস।
চালাকচতুর = যে চালাম সেই চতুর।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা ও নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ।
.
‘উদ্ধত-শির’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) তৎপুরুষ
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) দ্বন্দ্ব
  4. ঘ) দ্বিগু
ব্যাখ্যা
উদ্ধত-শির = উদ্ধত যে শির। এটি কর্মধারায় সমাসের উদাহরণ। 

উৎস : বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা ও নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ।
.
নিচের কোনটি উপপদ তৎপুরুষ সমাস?
  1. ক) গুণমুগ্ধ
  2. খ) মধুকর
  3. গ) মনোমুগ্ধ
  4. ঘ) অকপট
ব্যাখ্যা
উপপদের সঙ্গে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন : জলচর = জলে চরে যা, জলদ = জল দেয় যে, জাদুকর = জাদু করে যে ইত্যাদি।

উৎস :
বাংলা একাডেমি ব্যাবহাকি ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা ও নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ।
.
নিচের কোনটি উপপদ তৎপুরুষ সমাস নয়?
  1. ক) গৃহস্থ
  2. খ) বাজিকর
  3. গ) দম্পতি
  4. ঘ) সর্বহারা
ব্যাখ্যা

দম্পতি = জায়া ও পতি।

একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসের সমস্যমান পদগুলোর কেবল একটি পদের প্রাধান্য থাকে এবং সেই পদের সাহায্যে অন্য পদের অর্থ প্রকাশ পায় তাকে একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন- জায়া ও পতি = দম্পতি, সে, তুমি ও আমি = আমরা ইত্যাদি।

অপশনের অন্যান্যগুলো তৎপুরুষ সমাস।

উৎস
: বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা ও নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ।

.
নিচের কোনটি উপমিত কর্মধারয় সমাস?
  1. ক) চন্দ্রমুখ
  2. খ) চাঁদমুখ
  3. গ) মুখচন্দ্র
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
‘চন্দ্রমুখ’, ‘চাঁদমুখ’, ‘মুখচন্দ্র’
‘চন্দ্র’ সংস্কৃত শব্দ। এর তদ্ভব রূপ হলো ‘চাঁদ’। সুতরাং যা ‘চন্দ্রমুখ’ তা-ই ‘চাঁদমুখ’।  
মুনীর চৌধুরী ও অন্যান্য রচিত নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ’ গ্রন্থের ৬৩ পৃষ্ঠায় ‘চন্দ্রমুখ’ শব্দটিকে উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
ড. হায়াৎ মামুদ ‘উচ্চতর স্বনির্ভর বিশুদ্ধ ভাষা-শিক্ষা’ গ্রন্থের (একুশতম সংস্করণ, মে ২০১৯) ৩৩৯ পৃষ্ঠায় ‘চাঁদমুখ’ ও ‘মুখচন্দ্র’ উভয়কে উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ হিসেবে দেখিয়েছেন। 

নবম-দশম শ্রেণির জন্য বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি’ গ্রন্থে ‘চন্দ্রমুখ’ শব্দকে উপমিত কর্মধারয় সমাসে রেখেছে।

বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ’ গ্রন্থে ‘মুখচন্দ্র’ ও ‘চাঁদমুখ’ উভয়কে উপমিত কর্মধারয় হিসেবে দেখিয়েছে। কিন্তু ‘চাঁদমুখ’কে আবার রূপক কর্মধারয় সমাসেও রেখেছেন।

ড. সৌমিত্র শেখর যুক্তি দিয়ে দেখিয়েছেন যে, ‘চন্দ্রমুখ’ রূপক কর্মধারয় সমাস এবং ‘মুখচন্দ্র’ উপমিত কর্মধারয়। তিনি লিখেছেন, ‘চাঁদমুখ/চন্দ্রমুখ’ রূপক কর্মধারয় এবং ‘মুখচন্দ্র’ উপমিত কর্মধারয় সমাস। ‘চন্দ্রমুখ’-এ চন্দ্র বা চাঁদের সৌন্দর্যের (অবস্তু) সঙ্গে মুখের (বস্তু) সৌন্দর্যের অভেদ কল্পনা করা হয়েছে। চাঁদের আকারের সঙ্গে (অবশ্য চাঁদের আকার পৃথিবী থেকে কাস্তে, অর্ধবৃত্ত, গোল ইত্যাদি নানারূপ দেখা যায়) তুলনা করা হয়নি।

অন্যদিকে ‘মুখচন্দ্র’ বলতে ‘মুখ চন্দ্রের ন্যায়’ সুন্দর বোঝায়। এখানে চন্দ্র সৌন্দর্যের (বিশেষ্য) প্রতীক। গোল বা কাস্তের আকৃতি এখানে বোঝানো হচ্ছে না। অনেক গ্রন্থে ‘মুখচন্দ্র = মুখ চন্দ্রের ন্যায়’  ‘চাঁদমুখ = চাঁদের ন্যায় মুখ’ লিখে উভয়ই উপমিত কর্মধারয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে (দ্রষ্টব্য : হরলাল রায় : ‘উচ্চতর ব্যাকরণ ও ভাষা’)। কিন্তু এ দুটো তো এক হতে পারে না। এ প্রসঙ্গে জগদীশ ঘোষ রচিত ‘আধুনিক বাংলা ব্যাকরণে’ (১৯৪০) সুস্পষ্ট উল্লেখ আছে, ‘চন্দ্রমুখ’ রূপক কর্মধারয় সমাস।
(বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, পৃষ্ঠা : ৮৪, এপ্রিল, ২০১৮)

সিদ্ধান্ত : মুখচন্দ্র এলে কোনো চিন্তা ছাড়াই উপমিত কর্মধারয় দিবেন। আর চন্দ্রমুখ/চাঁদমুখ এলেও উপমিত কর্মধারয় দিবেন, যদি উপমিত না থাকে তবে রূপক দিবেন।
এককথায় চাঁদ ও মুখের তুলনা এলেই উপমিত কর্মধারয় দিবেন। 

উৎস : বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা ও নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ।
.
‘কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে’ এটি কোন ধরনের সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) সমার্থক দ্বন্দ্ব
  2. খ) বহুপদী দ্বন্দ্ব
  3. গ) বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
  4. ঘ) অলুক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন : দুধে-ভাতে = দুধে ও ভাতে, হাতে-কলমে = হাতে ও কলমে, ধীরেসুস্থে = ধীরে ও সুস্থে ইত্যাদি। 

উৎস : বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা ও নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ।
.
‘ঘোড়ার ডিম’ কোন সমাস?
  1. ক) অলুক বহুব্রীহি
  2. খ) অলুক তৎপুরুষ
  3. গ) অলুক ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  4. ঘ) অলুক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
পূর্বপদের বিভক্তি ব্যাসবাক্যে লোপ না পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
অলুক তৃতীয়া, অলুক চতুর্থী, অলুক পঞ্চম নাম পাওয়া গেলেও অলুক তৎপুরুষ সমাস প্রধানত দুই প্রকার।
যথা : অলুক ষষ্ঠী তৎপুরুষ, অলুক সপ্তমী তৎপুরুষ।
যেমন :
অলুক ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ
সমস্তপদ                           ব্যাসবাক্য
গরুর গাড়ি                      গরুর গাড়ি
চিনির কল                       চিনির কল
ঘোড়ার ডিম                     ঘোড়ার ডিম
কলের গান                      কলের গান
কলুর বলদ                      কলুর বলদ
হাতের পাঁচ                       হাতের পাঁচ
সোনার তরী                    সোনার তরী
খবরের কাগজ                 খবরের কাগজ

উৎস : বাংলা একাডেমি ব্যাবহাকি ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা ও নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ।
.
‘ভোটাধিকার’ কোন সমাস?
  1. ক) বহুব্রীহি
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) দ্বিগু
  4. ঘ) নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
ভোটাধিকার = ভোটের অধিকার। এটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। 

উৎস : বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা ও নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ।
১০.
‘ইত্যাদি’ শব্দটি কোন সমাস দ্বারা নিষ্পন্ন?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) দ্বন্দ্ব
  4. ঘ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
ইত্যাদি = ইতি হতে আদি। এটি পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস। 

উৎস : বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা ও নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ।
১১.
‘দেহপিঞ্জর’ শব্দটি কোন সমাস দ্বারা গঠিত?
  1. ক) রূপক কর্মধারয়
  2. খ) উপমিত কর্মধারয়
  3. গ) উপমান কর্মধারয়
  4. ঘ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
রূপক কর্মধারয় সমাসে প্রত্যেকটির উদাহরণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, পূর্বপদ ও পরপদ বিশেষ্য। পূর্বপদ অদৃশ্যমান, কিন্তু পরপর দৃশ্যমান।
পূর্বপদ ও পরপদে কোনো গুণের উল্লেখ নেই। সবচেয়ে বড়ো কথা পূর্বপদ ও পরপদের সম্পর্কটি কল্পনায় আছে।
কারণ, বাস্তবে এমন কোনো বিষাদের কোনো সিন্ধু (সাগর) নেই,  মনের কোনো মাঝি নেই। এভাবে প্রত্যেকটা সম্পর্ক কল্পনাপ্রসূত, কিন্তু দুটোকে অভিন্ন দেখা হয়েছে।
রূপকের আরো উদাহরণ : ক্ষুধানল, শোকানল, সুখসাগর, যৌবনবন, পরানপাখি, চিত্তচকোর, কালচক্র, কালসর্প, মনবিহঙ্গ, প্রাণবায়ু।
ব্যতিক্রম : রূপক কর্মধারয় সমাসে কিছু উদাহরণে পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ইকে স্পর্শ করা যায়। যেমন : দেহঘড়ি, দেহপিঞ্জর, কায়াতরু, দেহকায়া।  

উৎস : বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা ও নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ।