পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন১৪
সিলেবাস
"Award Mania: Season - 13” এর জন্য প্রযোজ্য -------------------------------------------- বিষয়: বাংলাদেশ বিষয়াবলি সিলেবাস: বাংলাদেশের ইতিহাস (প্রাচীনকাল থেকে মুক্তিযুদ্ধ + সমসাময়িক পর্যন্ত) উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির সংশ্লিষ্ট বোর্ড বই, বিভিন্ন জাতীয় সমীক্ষা, বাংলাপিডিয়া, সংশ্লিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইট ও যেকোনো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৪ প্রশ্ন

.
প্রাচীন বাংলার গৌড় রাজ্য বর্তমানে অবস্থান কোথায়?
  1. কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ
  2. পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ
  3. ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা
  4. চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
গৌড়:
- ষষ্ঠ শতকে বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অংশে গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান।
- বাংলায় তুর্কি বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
পলাশির যুদ্ধ কোথায় সংঘটিত হয়?
  1. মুর্শিদাবাদ
  2. নদীয়া
  3. ভাগীরথী নদীর তীরে
  4. হুগলির তীরে
ব্যাখ্যা
পলাশির যুদ্ধ: 
- পলাশির যুদ্ধ ১৭৫৭সালের ২৩শে জুন।
- ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশির আমবাগানে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

- রবার্ট ক্লাইভ তার অবস্থান সুদৃঢ় করে সন্ধি ভঙ্গের অজুহাতে সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
- নবাবের পক্ষে দেশপ্রেমিক মীর মদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিন ফ্রে প্রাণপণ যুদ্ধ করেন।
- যুদ্ধে মীর মদন নিহত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
তিতুমীরের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার জন্য ইংরেজ সরকার কাকে নেতৃত্ব দেয়?
  1. ক্যাপ্টেন নিকোলসন
  2. মেজর স্কট
  3. ক্যাপ্টেন ক্লাইভ
  4. লর্ড কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা
তিতুমীর: 
- ইংরেজ জমিদার, নীলকরদের দ্বারা নির্যাতিত কৃষকরা দলে দলে তিতুমিরের বাহিনীতে যোগ দেয়।
- ধর্ম সংস্কারের আন্দোলন একটি ব্যাপক কৃষক আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ১৮৩১ সালে তিতুমিরের বিরুদ্ধে ইংরেজ সরকার এক বিশাল সেনাবাহিনী প্রেরণ করে।
- মেজর স্কটের নেতৃত্বে এই বাহিনী তিতুমীরের নারিকেলবাড়িয়া বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে।
- ইংরেজদের কামান-বন্দুকের সামনে বীরের মতো লড়াই করে পরাজিত হয় তিতুমিরের বাহিনী।
- তিনি যুদ্ধে নিহত হন।

উল্লেখ্য, 
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমির চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- উনিশ শতকে ভারতবর্ষে মুসলমান সমাজে এক ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল।
- বাংলায় তার দুইটি ধারা প্রবহমান ছিল।
- যার একটি ওয়াহাবি বা মুহাম্মদিয়া আন্দোলন, অপরটি ফরায়েজি আন্দোলন নামে খ্যাত।
- বাংলার ওয়াহাবিরা তিতুমিরের নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিল।
- তিতুমিরের নেতৃত্বে পরিচালিত তারিখ-ই-মুহাম্মদিয়া বা ওয়াহাবি আন্দোলন ছিল উত্তর ভারতের সৈয়দ আহমদ শহীদের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহের উপাধি ছিল-
  1. 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ'
  2. 'শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান'
  3. সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের নামের উৎপত্তি: 
- সংবিধান অনুযায়ী নাম হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ।
- মহাভারত এবং গ্রিক ঐতিহাসিক টলেমির লেখায় 'বাংলা' নামের উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ১৩৪২ খ্রিষ্টাব্দে শামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ সর্বপ্রথম বাংলার তিনটি প্রধান কেন্দ্র একত্র করেন।
- লখনৌতি বা লক্ষণাবতী (গৌড়), সাতগাঁও (রাঢ়) ও সোনারগাঁ (বঙ্গ)-কে একত্র করে স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- এর স্বাধীনতা ২০০ বছর স্থায়ী হয়েছিল।
- ইলিয়াস শাহের উপাধি ছিল 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ', 'শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান', 'সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ'।
- আর তখন থেকে সমগ্র বাংলা অঞ্চল 'বাঙ্গালাহ' নামে পরিচিতি লাভ করে।

উল্লেখ্য,
- মুঘল আমলে সম্রাট আকবরের সময় থেকে বাংলার পরিচয় হয় 'সুবাহ বাংলা' নামে।
- পর্তুগিজরা 'বেঙ্গালা' নামে অভিহিত করেছে এই অঞ্চলকে এবং ইংরেজরা বলত 'বেঙ্গল'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
মুক্তিযুদ্ধে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠিত হয় কবে?
  1. ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর
  2. ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর
  3. ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর
  4. ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়: 
- বাংলাদেশ হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের মধ্যে প্রথম দেশ, যে দেশ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে।
- ১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে 'যৌথ কমান্ড' গঠন হয়।
- পাকিস্তান ৩রা ডিসেম্বর ভারত আক্রমণ করলে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।
- ৬-১৬ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে ভারতের সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীও পাকিস্তানি বাহিনীর - বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি।
.
কার প্রচেষ্টায় সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত হয়?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. দ্বারকানাথ ঠাকুর
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. সৈয়দ আমীর আলী
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায়: 
- বাংলার নবজাগরণের স্রষ্টা ছিলেন রাজা রামমোহন রায়।
- ১৭৭৪ সালে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- অসাধারণ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন রাজা রামমোহন রায়।
- ১৮২৯ সালে রামমোহন রায়ের প্রচেষ্টায়, সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত হয়। 
- বিশেষ করে ইংরেজি, বাংলা, আরবি, ফারসি, উর্দু, ল্যাটিন ও গ্রিক ভাষায় তিনি অসামান্য দক্ষতা অর্জন করেন।
- তিনি বেদান্তসূত্র ও বেদান্তসারসহ উপনিষদের অনুবাদ প্রকাশ-করেন।
- তাছাড়া তিনি সম্বাদ কৌমুদী, মিরাতুল আখবার ও ব্রাহ্মণিকাল ম্যাগাজিন নামে তিনটি পত্রিকার প্রকাশকও ছিলেন।

উল্লেখ্যে,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রচেষ্টায় বিধবা বিবাহ প্রথা  চালু হয়।
- দ্বারকানাথ ঠাকুর ছিলেন রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাদা।
- সৈয়দ আমীর আলীর সবচেয়ে বিখ্যাত বই হল "দ্য স্পিরিট অফ ইসলাম"।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি।
.
লাহোর প্রস্তাব পেশ করেন কে?
  1. এ.কে. ফজলুল হক
  2. মাওলানা শওকত আলী
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
• লাহোর প্রস্তাব:
- লাহোর প্রস্তাব পেশ করেন এ.কে. ফজলুল হক।
- ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী প্রদেশে স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হয়।
- এর ফলশ্রুতিতে ১৯৩৭ সালে প্রদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- উক্ত প্রাদেশিক নির্বাচনে অধিকাংশ প্রদেশে কংগ্রেস জয়লাভ করে।
- এমনকি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশেও কংগ্রেস জয়লাভ করে।
- মুসলিম লীগের পরাজয় মুসলিম নেতৃবৃন্দকে শংকিত করে তোলে।
- এমন এক বাস্তবতাতে, ১৯৪০ সালে মুসলিম লীগের সাধারণ অধিবেশন আহবান করা হয়।
- মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কংগ্রেস ও জাতীয়তাবাদী মনোভাব সম্পন্ন মুসলিম নেতাদের তীব্র সমালোচনার কারণে তিনি ধর্মভিত্তিক জাতির ধারণাকে সামনে তুলে ধরে।

উল্লেখ্য, 
- হিন্দু-মুসলিমদের দুটি জাতি হিসাবে দাবী করেন।
- জিন্নাহর সাম্প্রদায়িক দ্বিজাতি তত্ত্ব এবং মুসলিমদের জন্য স্বতন্ত্র আবাসভূমির দাবী।
- এক পর্যায়ে লাহোরে অনুষ্ঠিত উপরোক্ত অধিবেশনের মূল সুর হয়ে ওঠে।
- এই পরিপ্রেক্ষিতে, ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক একটি প্রস্তাব পেশ করেন।
- জিন্নাহর সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি সভায় গৃহীত হয়।
- এই প্রস্তাবই ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব নামে পরিচিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
উপমহাদেশে সর্বশেষে আগত ইউরোপীয় বণিক কারা?
  1. ডাচরা
  2. দিনেমার
  3. ফরাসিরা
  4. ইংরেজরা
ব্যাখ্যা
• ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি: 
- উপমহাদেশে সর্বশেষে আগত ইউরোপীয় বণিকদের কোম্পানি হচ্ছে ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
- ১৬৬৪ সালে এই বাণিজ্যিক কোম্পানি গঠিত হয়।
- ১৬৬৮ সালে কোম্পানি সর্বপ্রথম সুরাট এবং পরের বছর মসলিপট্টমে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৬৭৩ সালে পন্ডিচেরিতে ফরাসি উপনিবেশ গড়ে ওঠে।
- ১৬৭৪ সালের পর থেকে তারা তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাংলায় সম্প্রসারিত করে।
- কোম্পানি বাংলার সুবাদার শায়েস্তা খানের কাছ থেকে গঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত চন্দননগর নামক স্থানটি কিনে নেয়।
- ১৬৯০ থেকে ১৬৯২ সালের মধ্যে চন্দননগর একটি শক্তিশালী সুরক্ষিত ফরাসি বাণিজ্য কুঠিতে পরিণত হয়।
- ১৬৯৬ সালে কোম্পানি এখানে একটি শক্তিশালী দুর্গ স্থাপন করতে সক্ষম হয়।

উল্লেখ্য,
- সর্বপ্রথম এদেশে পর্তুগিজ বনিকরা বানিজ্য করার জন্য আসে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
বঙ্গভঙ্গের ফলে নতুন প্রদেশ সৃষ্টি হয়-
  1. পূর্ববঙ্গ ও ত্রিপুরা
  2. ত্রিপুরা ও আসাম
  3. পূর্ববঙ্গ ও আসাম
  4. পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গ
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ:
- বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত ছিল বাংলা প্রদেশ বা বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি।
- এটি ছিল ব্রিটিশ ভারতের বৃহত্তম প্রদেশ।
- ব্রিটিশ সরকার শাসনকাজে সুবিধার জন্য বাংলা প্রদেশকে বিভক্তিকরণের কথা চিন্তা করতে থাকে।
- এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন স্যার বাম্পফিল্ড ফুলার এবং স্যার এন্ড্রু ফ্রেজার।
- তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতে বড়লাট লর্ড কার্জন ও বাংলা বিভক্তিকরণের বিষয়ে আলোচনা করেন।
- অতপর ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গ সম্পন্ন হয়।
- ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও আসামকে নিয়ে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে একটি নতুন প্রদেশ সৃষ্টি হয়।
- এর রাজধানী হয় ঢাকা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
’আদিনা মসজিদ‘ নির্মাণ করেন কে?
  1. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  3. সিকান্দার শাহ
  4. সুলতান ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগ: 
- মধ্যযুগে বাংলার সুলতানদের রাজধানী প্রথমে ছিল গৌড়,
- পরে পান্ডুয়া এবং এরপর আবার গৌড়।
- কাজেই এ দুই শহরেই মুসলিম ঐতিহ্যের স্থাপত্য নিদর্শন গড়ে উঠেছিল।
- ১৩৬৯ সালে সুলতান সিকান্দার শাহ 'আদিনা মসজিদ' নির্মাণ করেন।
- এ মসজিদের উত্তর পাশে সিকান্দার শাহের কবর নির্মিত হয়েছিল।

উল্লেখ্য, 
- 'পাঁচ পীরের দরগাহ' সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সমাধি স্থাপত্যকলার একটি সুন্দর নিদর্শন।
- বারদুয়ারী মসজিদ নির্মাণ শুরু করেন হোসেন শাহ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
১১.
সমুদ্রপথে প্রথম উপমহাদেশে আগত পর্তুগিজ নাবিক কে ছিলেন?
  1. বার্তোলোমিউ ডায়াজ
  2. ভাস্কো দা গামা
  3. আলবুকার্ক
  4. কলম্বাস
ব্যাখ্যা
পর্তুগিজ: 
- পর্তুগিজদের মধ্যে প্রথম সমুদ্রপথে এদেশে আসেন, ভাস্কো-ডা-গামা।

- তিনি ১৪৯৮ সালের ২৭শে মে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন।

উল্লেখ্য,
- সপ্তম শতক থেকে এ অঞ্চলের সঙ্গে আরব বণিকদের ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল একচেটিয়া।
- তারা বাণিজ্য করত মূলত সমুদ্রপথে।
- ১৪৫৩ সালে কনস্টান্টিনোপল তুর্কিরা দখল করে নেয়।
- ফলে ভারতীয় উপমহাদেশের সাথে জলপথে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১২.
'সিপাহী বিদ্রোহ' সংঘটিত হয়েছিল কার সময়ে?
  1. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  2. লর্ড ক্যানিং
  3. লর্ড কর্ণওয়ালিশ
  4. লর্ড মেয়ো
ব্যাখ্যা
লর্ড ক্যানিং:
- লর্ড ক্যানিং ১৮৫৬ থেকে ১৮৬২ সাল পর্যন্ত ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল।
- বিখ্যাত রাজনীতিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব জর্জ ক্যানিংয়ের তৃতীয় পুত্র চার্লস জন ক্যানিং।
- তাঁর সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লব-এর শুরু।
- লর্ড ক্যানিং  সিপাহী বিদ্রোহ দমন করেন।
- এবং এ ঘটনার পর ১৮৫৮ সালে পার্লামেন্টারি আইন পাস হয়।
- রানী প্রকাশ্য ঘোষণা দ্বারা ভারতের শাসনভার নিজ হাতে গ্রহণ করেন।
- লর্ড ক্যানিং 'ক্ষমাশীল ক্যানিং' এর উপাধি পান।

উল্লেখ্য,
- লর্ড কার্জন: লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন।
- লর্ড কর্ণওয়ালিশ: চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রশাসনিক ও বিচার ব্যবস্থার রূপকার।
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন: ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট কতটি আসনে জয় লাভ করে?
  1. ২০৯টি
  2. ২০৫টি
  3. ১৭৫টি
  4. ২২৩টি
ব্যাখ্যা
নির্বাচনের ফলাফল: 
- ১৯৫৪ সালের ৮ই মার্চের নির্বাচন ছিল পূর্ব বাংলায় প্রথম অবাধ ও সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে সাধারণ নির্বাচন।
- নির্বাচনে শতকরা ৩৭.১৯ ভাগ ভোটার ভোট দেয়।
- ২রা এপ্রিল সরকারিভাবে নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয়।
- মোট ৩০৯টি আসন
- যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।

- ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন।
- এ নির্বাচনের মাধ্যমে মুসলিম লীগ ও অবাঙালি নেতৃত্বের প্রতি বাঙালির মনে ব্যাপক অনাস্থা জন্মায়। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪.
বাংলাদেশকে 'বুলগাকপুর' নামে অভিহিত করেন কে?
  1. ইবনে বতুতা
  2. জিয়াউদ্দিন বারানী
  3. আবুল ফজল
  4. তানসেন
ব্যাখ্যা
বাংলায় তুর্কি শাসন: 
- বাংলায় মুসলমান শাসন প্রতিষ্ঠার সূচনা করেন বখতিয়ার খলজি।
- এ পর্বের প্রথম পর্যায় ছিল ১২০৪ থেকে ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
- এ যুগের শাসনকর্তাদের পুরোপুরি স্বাধীন বলা যাবে না।
- তাঁদের কেউ ছিলেন বখতিয়ারের সহযোদ্ধা খলজি মালিক,
- আবার কেউ কেউ তুর্কি বংশের শাসক।
- শাসকদের সকলেই দিল্লির সুলতানদের অধীনে বাংলার শাসনকর্তা হয়ে এসেছিলেন।
- পরবর্তীকালে অনেক শাসনকর্তাই দিল্লির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীন হতে চেয়েছেন।
- মুসলিম শাসনের এ যুগ ছিল বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলায় পূর্ণ।
- তাই ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলাদেশের নাম দিয়েছিলেন 'বুলগাকপুর'।
- এর অর্থ 'বিদ্রোহের নগরী'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।