পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন২৭
সিলেবাস
পরীক্ষা - ২৯: বিষয়: নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন (সম্পূর্ণ সিলেবাস) উৎস: অষ্টম থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বোর্ড বই, অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও যেকোনো গাইড বই। --------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ১০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৭ প্রশ্ন

.
ইউনেস্কো সুশাসনের উপাদান গুলোর কথা বলতে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের উপাদান গুলোর পাশাপাশি কোনটির উল্লেখ করেছেন?
  1. বৈধতা এবং মানবাধিকার
  2. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ
  3. আইনের শাসন এবং সাম্য
  4. সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা
সঠিক উত্তর:
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা

সুশাসন: 
- যে শাসন ব্যবস্থায় আইনের শাসন, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের অংশগ্রহণ গনতান্ত্রিক উপায়ে সুনিশ্চিত হয় তাকেই সুশাসন বলে।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক রিপোর্টে সুশাসনের চারটি উপাদানের কথা বলেছেন।
- এগুলো হল: সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, জবাদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা।
- ইউনেস্কো (UNESCO) সুশাসনের উপাদনের কথা বলতে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের উপাদানগুলোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণের কথা বলেছেন।
- ইউএনডিপি (UNDP) সুশাসনের ৫টি মূল উপদানের কথা বলেছেন।
- এগুলো হল; বৈধতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও সাম্য।
- আইডিএ (International Development Agency) সুশাসনের চারটি মূল উপাদানের কথা বলেছেন।
- এগুলো হল: জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন ও অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি, ও নাগরিকতা, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
নৈতিক অধিকার কোথায় থেকে জাগ্রত হয়?
  1. রাজনৈতিক দল থেকে
  2.  রাষ্ট্রের আইন থেকে 
  3. মানুষের বিবেক এবং ন্যায়বোধ থেকে 
  4. অর্থনৈতিক নীতি থেকে
সঠিক উত্তর:
মানুষের বিবেক এবং ন্যায়বোধ থেকে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষের বিবেক এবং ন্যায়বোধ থেকে 
ব্যাখ্যা

অধিকারের শ্রেণিবিভাগ: 
- অধিকার প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
১। নৈতিক অধিকার ও ২। আইনগত অধিকার।

• নৈতিক অধিকার:
- নৈতিক অধিকার মানুষের বিবেক এবং সামাজিক নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে আসে।
- যেমন- দুর্বলের সাহায্য লাভের অধিকার নৈতিক অধিকার।
- এটি রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণয়ন করা হয় না যার ফলে এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। তাছাড়া এ অধিকার ভঙ্গকারীকে কোনো শাস্তি দেওয়া হয় না।
- নৈতিক অধিকার বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকম হতে পারে।

• আইনগত অধিকার:
- যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে।
- আইনগত অধিকারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়।
 যেমন- ক. সামাজিক খ. রাজনৈতিক ও গ. অর্থনৈতিক অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

.
সুশাসনের ধারণা প্রথম উপস্থাপন করে-
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. আইএমএফ
  4. ইউনেস্কো
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা

• বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং
অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

• বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
- দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো ও অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

.
সমাজের মানুষের ভালো-মন্দ আচরণ বিচারের মানদণ্ড কী?
  1.  শিক্ষাগত যোগ্যতা
  2. রাজনৈতিক নেতৃত্ব
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. সুশাসন 
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• সামাজিক মূল্যবোধ: 
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
• এস সি ডডের ভাষায়: - সামাজিক মূল্যবোধ হলো ঐ সমস্তরীতি নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তি সমাজের কাছে আশা করে এবং সমাজ ব্যক্তির কাছ থেকে লাভ করে।

এছাড়াও,
• এম আর উইলিয়ামস:
- "মূল্যবোধ হলো মানুষের ইচ্ছার একটি মানদন্ড যার আদর্শে মানুষের আচরণ ও আইন কানুন নিয়ন্ত্রিত হয় এবং সমাজে মানুষের কাজের ভাল মন্দ বিচার করা হয়"।
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- স্থান-কাল-পাত্র ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: সমাজকল্যান ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
নিচের কোনটি অর্থনৈতিক অধিকার? 
  1. পরিবার গঠনের অধিকার
  2. জীবন রক্ষার অধিকার
  3. অবকাশ লাভের অধিকার
  4. সম্পত্তি লাভের অধিকার 
সঠিক উত্তর:
অবকাশ লাভের অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবকাশ লাভের অধিকার
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক অধিকার: 
- জীবনধারণ করা এবং জীবনকে উন্নত ও এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকারকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে। 
- যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করার অধিকার,
- ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার,
- অবকাশ লাভের অধিকার,
- শ্রমিকসংঘ গঠনের অধিকার।

সামাজিক অধিকার:

- সমাজে সুখ-শান্তিতে বসবাস করার জন্য আমরা সামাজিক অধিকার ভোগ করি।
- যেমন- জীবন রক্ষার, স্বাধীনভাবে চলাফেরার ও মত প্রকাশের, পরিবার গঠনের, শিক্ষার, আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের, সম্পত্তি লাভের ও ধর্মচর্চার অধিকার ইত্যাদি।

রাজনৈতিক অধিকার:
- নির্বাচনে ভোটাধিকার, নির্বাচিত হওয়া এবং সকল প্রকার অভাব-অভিযোগ আবেদনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়াকে রাজনৈতিক অধিকার বলে।
- এসব অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিকরা রাষ্ট্র পরিচালনায় পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

.
কিসের মাধ্যমে মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে?
  1. নীতিবোধের মাধ্যমে 
  2. সাম্যর মাধ্যমে
  3. আচার-আচরণ 
  4. সহমর্মিতার মাধ্যমে 
সঠিক উত্তর:
আচার-আচরণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আচার-আচরণ 
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধের উপাদান: 
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়,
- যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
- এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে।
- এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।
- ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
- সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ।
- আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

.
’জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা’ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে রয়েছে? 
  1. অনুচ্ছেদ- ১১
  2. অনুচ্ছেদ- ১৮
  3. অনুচ্ছেদ- ১৭
  4. অনুচ্ছেদ- ১৯
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ- ১৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ- ১৮
ব্যাখ্যা

সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগ:
- অনুচ্ছেদ - ১৮: জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা।
- (১) জনগণের পুষ্টির স্তর-উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলিয়া গণ্য করিবেন এবং বিশেষতঃ আরোগ্যের প্রয়োজন কিংবা আইনের দ্বারা নির্দিষ্ট অন্যবিধ প্রয়োজন ব্যতীত মদ্য ও অন্যান্য মাদক পানীয় এবং স্বাস্থ্যহানিকর ভেষজের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

- (২) গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

.
তথ্য অধিকার আইন কোনটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?
  1. ব্যক্তিগত সম্পত্তির সুরক্ষা
  2. জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠায়
  3. বাণিজ্যিক লেনদেনে 
  4. পরিবহন ব্যবস্থায়
সঠিক উত্তর:
জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠায়
ব্যাখ্যা

তথ্য অধিকার আইন: 
- জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে তথ্য অধিকার আইন একটি যুগান্তকারী আইন।
- তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণের জন্য জাতীয় সংসদে ৩০ মার্চ ২০০৯ তারিখে এ সংক্রান্ত একটি বিল অনুমোদন করে।
- এরপর ৫ এপ্রিল ২০০৯ তারিখে তথ্য অধিকার আইন রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভকরে।
- জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠায় তথ্য অধিকার আইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- 'তথ্য অধিকার' অর্থ কোনো কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে তথ্য প্রাপ্তির অধিকার।
- আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে কর্তৃপক্ষের নিকট হতে প্রত্যেক নাগরিকের তথ্য লাভের অধিকার থাকবে।
- কোনো নাগরিকের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথ্য সরবরাহ করতে বাধ্য থাকবে।
- তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রত্যেক কর্তৃপক্ষ যাবতীয় তথ্যের তালিকা এবং সূচি প্রস্তুত করে যাথাযথভাবে সংরক্ষণ করে রাখবে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

.
’Human Society in Ethics and Politics’ বিখ্যাত গ্রন্থটি লিখেছেন- 
  1. এরিস্টটল
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. টমাস হবস
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা

• বার্ট্রান্ড রাসেল: 
- ১৯৫০ সালে সাহিত্য ক্ষেত্রে Nobel Prize লাভ করেন।
- ১৯১৮ সালে কারাগারে লেখেন Introduction to Mathematical Philosophy.

• বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো-
- The Elements of Ethics,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Moral and others,
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.

উৎস: ব্রিটানিকা। 

১০.
"সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড"-উক্তিটি কার? 
  1. এফ ই মেরিল 
  2. এইচ এম জনসন 
  3. ক্লাইড ক্লুখোন
  4. উইলোবী
সঠিক উত্তর:
এইচ এম জনসন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এইচ এম জনসন 
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের ধারণা: 
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল। 
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই।
• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন এর মতে "সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড"।

• ক্লাইড ক্লুখোন বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।

• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল: - "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
সাম্য ও স্বাধীনতা পরস্পর সম্পূরক এবং- 
  1. পরস্পর অপরিহার্য
  2. পরস্পর বিরোধী
  3. পরস্পর নির্ভরশীল
  4. পরস্পর অসম্পর্কিত
সঠিক উত্তর:
পরস্পর নির্ভরশীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরস্পর নির্ভরশীল
ব্যাখ্যা

সাম্য ও স্বাধীনতার সম্পর্ক: 
- সাম্য ও স্বাধীনতার পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে দু'টি ধারণা রয়েছে।
- যথা- ১। সাম্য ও স্বাধীনতা পরস্পর সম্পূরক এবং ২। সাম্য ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী।

পরস্পর নির্ভরশীল:
- সাম্য ও স্বাধীনতা পরস্পর নির্ভরশীল।
- সাম্য ছাড়া স্বাধীনতার কথা যেমন কল্পনা করা যায় না, ঠিক তেমনি স্বাধীনতা ছাড়া সাম্যের কথা ভাবা যায় না।
- সুতরাং বলা যায়, একটি রাষ্ট্র যত সাম্যভিত্তিক হবে সেখানে স্বাধীনতা তত নিশ্চিত হবে।

গণতন্ত্রের ভিত্তি:
- সাম্য ও স্বাধীনতা গণতন্ত্রের ভিত্তি রূপে কাজ করে।
- জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে যেমন সাম্যের দরকার হয়, তেমনি স্বাধীনতার প্রয়োজন হয়।
- সাম্য ও স্বাধীনতা একই সঙ্গে বিরাজ না করলে গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করা সম্ভব হতো না।
- সাম্য উঁচু-নিচুর ভেদাভেদ দূর করে আর স্বাধীনতা সকলের সুযোগ-সুবিধাগুলো ভোগ করার অধিকার দান করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১২.
জাতিসংঘ দুর্নীতি বিরোধী সংস্থায় (UNCAC) বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে কত সালে? 
  1. ২০০৫ সালে
  2. ২০০৭ সালে
  3. ২০০৮ সালে
  4. ২০০৬ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৭ সালে
ব্যাখ্যা

- জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী সংস্থায় (UNCAC) বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে : ২০০৭ সালে। 

UNCAC:
- আনুষ্ঠানিক নাম: United Nations Convention Against Corruption (UNCAC).
- জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী একমাত্র বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক সংস্থা।
- UNCAC-এর লক্ষ্য: দুর্নীতি প্রতিরোধ, অপরাধীকরণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং কারিগরি সহায়তা।
- সাধারণ পরিষদে অনুমোদন: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩ সালে।
- স্বাক্ষরকাল: ৯-১১ ডিসেম্বর, ২০০৩ সালে।
- স্বাক্ষরস্থল: মেরিডা, ইউকাটান, মেক্সিকো।
- কার্যকর হওয়ার তারিখ: ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৫সালে।
- বর্তমান স্বাক্ষরকারী দেশ: ১৯২টি দেশ।
- বাংলাদেশের স্বাক্ষর: ২০০৭ সালে, এবং পরবর্তীতে অনুমোদনও দিয়েছে।

উৎস: UNCAC ওয়েবসাইট।

১৩.
রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রধানত কীসের মাধ্যমে প্রকাশ পায়?
  1. অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে 
  2. ব্যক্তিগত লাভের মাধ্যমে 
  3. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে
  4. দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার মাধ্যমে 
সঠিক উত্তর:
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার মাধ্যমে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার মাধ্যমে 
ব্যাখ্যা

- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রধানত দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

কর্তব্যের শ্রেণিবিভাগ: 

- অধিকার ভোগ করতে গিয়ে নাগরিকরা যেসব দায়িত্ব পালন করে, তাকে কর্তব্য বলে।
- নাগরিকের কর্তব্যকে দুভাগে ভাগ করা যায়। যথা-ক। নৈতিক কর্তব্য ও খ। আইনগত কর্তব্য।
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা, সংবিধান, রাষ্ট্রীয় মূলনীতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শন ইত্যাদির মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ পায়।

 অন্যভাবে বলা যায়,
- রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, সংহতি ও সমৃদ্ধি লাভের জন্য প্রয়োজনবোধে নিজের জীবন উৎসর্গ করার অর্থ হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪.
লর্ড ব্রাইস এর মতে, আইন মান্য করার কারণ- 
  1. অপরের প্রতি শ্রদ্ধা 
  2. শাস্তির ভয়
  3. নির্লিপ্ততা
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

আইন মান্য করার কারণ:
- আইনের শাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হল আইন মান্য করা।
- প্রত্যেক আইনেই কিছু নির্দেশনা এবং তা অমান্য করলে শাস্তির ব্যবস্থা থাকে।
- আইন মান্য করার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হল আইনের উপযোগিতা।
- লর্ড ব্রাইস আইন মান্য করার কারণগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেন:
- যৌক্তিকতার উপলব্ধি;
- অপরের প্রতি শ্রদ্ধা;
- নির্লিপ্ততা;
- সহানুভূতি;
- শাস্তির ভয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
সীমাহীন স্বাধীনতা সমাজে কী সৃষ্টি করে?
  1. বিশৃঙ্খলা
  2. শান্তি ও সমৃদ্ধি
  3. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  4. সামাজিক ঐক্য
সঠিক উত্তর:
বিশৃঙ্খলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশৃঙ্খলা
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতা: 
- সাধারণ অর্থে স্বাধীনতা বলতে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী যেকোনো কাজ করাকে বোঝায়।
- কিন্তু প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতা বলতে এ ধরনের অবাধ স্বাধীনতাকে বোঝায় না।
- কারণ, সীমাহীন স্বাধীনতা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
- উদাহরণস্বরূপ, কাউকে ইচ্ছামত সবকিছু করার স্বাধীনতা দিলে সমাজে অন্যদের ক্ষতি হতে পারে যা এক অশান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করবে।
- তাই পৌরনীতিতে স্বাধীনতা ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- অন্যের কাজে হস্তক্ষেপ বা বাধা সৃষ্টি না করে নিজের ইচ্ছানুযায়ী নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কাজ করাই হলো স্বাধীনতা।
- অর্থাৎ স্বাধীনতা হলো এমন সুযোগ-সুবিধা ও পরিবেশ, যেখানে কেউ কারও ক্ষতি না করে সকলেই নিজের অধিকার ভোগ করে।
- স্বাধীনতা ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়তা করে এবং অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে বাধা অপসারণ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬.
ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য কী?
  1. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  2. দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  3. স্বাস্থ্যসেবা প্রসার
  4. শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

গভর্নেন্স:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।

• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৭.
ব্যক্তি স্বাধীনতার উদাহরণ কোনটি?
  1. সম্পত্তি ভোগ করা
  2. পেশা গ্রহণ করা
  3. ভোটদান করা 
  4. ধর্মচর্চা করা
সঠিক উত্তর:
ধর্মচর্চা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মচর্চা করা
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতার বিভিন্ন রূপ: 
- স্বাধীনতা বিভিন্ন ধরনের হতে পারে।
- যেমন- ১। ব্যক্তি স্বাধীনতা, ২। সামাজিক স্বাধীনতা, ৩। রাজনৈতিক স্বাধীনতা, ৪। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও ৫। জাতীয় স্বাধীনতা।

• ব্যক্তি স্বাধীনতা:
- ব্যক্তি স্বাধীনতা বলতে এমন স্বাধীনতাকে বোঝার, যে স্বাধীনতা ভোগ করলে অন্যের কোনো ক্ষতি হয় না।
- যেমন- ধর্মচর্চা করা ও পারিবারিক গোপনীয়তা রক্ষা করা। এ ধরনের স্বাধীনতা ব্যক্তির একান্ত নিজস্ব বিষয়। 

• সামাজিক স্বাধীনতা: 
- জীবন রক্ষা, সম্পত্তি ভোগ ও বৈধ পেশা গ্রহণ করা সামাজিক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত।
- এ ধরনের স্বাধীনতা ভোগের মাধ্যমে নাগরিক জীবন বিকশিত হয়।
- সমাজে বসবাসকারী মানুষের অধিকার রক্ষার জন্যই সামাজিক স্বাধীনতা প্রয়োজন।
- এই স্বাধীনতা এমনভাবে ভোগ করতে হয় যেন অন্যের অনুরূপ স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ না হয়।

 • রাজনৈতিক স্বাধীনতা: 
- ভোটদান, নির্বাচিত হওয়া, বিদেশে অবস্থানকালীন নিরাপত্তা লাভ ইত্যাদি নাগরিকের রাজনৈতিক স্বাধীনতা।
- এসব স্বাধীনতার মাধ্যমে ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় শাসনকাজে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে।
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

• অর্থনৈতিক স্বাধীনতা: 
- যোগ্যতা অনুযায়ী পেশা গ্রহণ এবং উপযুক্ত পারিশ্রমিক লাভ করাকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলা হয়।
- মূলত আর্থিক সুবিধা প্রাপ্তির জন্য নাগরিকরা অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ভোগ করে।
- এই স্বাধীনতা না থাকলে অন্যান্য স্বাধীনতা ভোগ করা যায় না।
- সমাজের অন্য শ্রেণির শোষণ থেকে মুক্ত থাকার জন্য অর্থনৈতিক স্বাধীনতা প্রয়োজন।

জাতীয় স্বাধীনতা:
- বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র এবং অন্য রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত।
- বাংলাদেশের এই অবস্থানকে জাতীয় স্বাধীনতা বা রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা বলে।
- এই স্বাধীনতার ফলে একটি রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের কর্তৃত্বমুক্ত থাকে। প্রত্যেক স্বাধীন রাষ্ট্র জাতীয় স্বাধীনতা ভোগ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮.
'জাতিসংঘ মানবউন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৫' এর বাংলাদেশের অবস্থান কত? [ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. ১৩১ তম
  2. ১২৯তম
  3. ১৩০ তম
  4. ১২৮ তম
সঠিক উত্তর:
১৩০ তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩০ তম
ব্যাখ্যা

'মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৫':
- ইউএনডিপি (UNDP) 'মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৫' এ বাংলাদেশের অবস্থান ১৩০ তম।

এছাড়াও,
- মানব উন্নয়ন সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অবস্থান:
- শ্রীলঙ্কার অবস্থান ৮৯ তম।
- ভারতের অবস্থান ১৩০ তম। (বাংলাদেশের এবং ভারতের অবস্থান সমান।)
-পাকিস্তানের অবস্থান ১৬৮ তম।
- নেপালের অবস্থান ১৪৫ তম।
- ভূটানের অবস্থান ১২৫ তম।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

১৯.
সামাজিক সাম্যের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণিকে কী দেওয়া যাবে না?
  1. সমান সুযোগ
  2. বিশেষ সুযোগ-সুবিধা
  3. অর্থনৈতিক সাহায্য
  4. আইনগত সুরক্ষা
সঠিক উত্তর:
বিশেষ সুযোগ-সুবিধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ সুযোগ-সুবিধা
ব্যাখ্যা

সাম্যের বিভিন্ন রূপ: 
- মানুষের বিভিন্নমুখী বিকাশ সাধনের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন।
- নাগরিক জীবনে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগের জন্য সাম্যকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়।
- যেমন- ১। সামাজিক সাম্য, ২। রাজনৈতিক সাম্য, ৩। অর্থনৈতিক সাম্য, ৪। আইনগত সাম্য, ৫। স্বাভাবিক সাম্য ও ৬। ব্যক্তিগত সাম্য।

১. সামাজিক সাম্য:
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ-পেশা নির্বিশেষে সমাজের সকল সদস্যের সমানভাবে সামাজিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করাকে সামাজিক সাম্য বলে।
- এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণিকে কোনো বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যাবে না।

২. রাজনৈতিক সাম্য:
- রাষ্ট্রীয় কাজে সকলের অংশগ্রহণের সুযোগ-সুবিধা থাকাকে রাজনৈতিক সাম্য বলে।
- নাগরিকরা রাজনৈতিক সাম্যের কারণে মতামত প্রকাশ, নির্বাচিত হওয়া এবং ভোট দেওয়ার অধিকার ভোগ করে।

৩. অর্থনৈতিক সাম্য: 
- যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেকের কাজ করার ও ন্যায্য মজুরি পাওয়ার সুযোগকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে।
- বেকারত্ব থেকে মুক্তি, বৈধ পেশা গ্রহণ ইত্যাদি অর্থনৈতিক সাম্যের অন্তর্ভুক্ত।

৪. আইনগত সাম্য:
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে আইনের দৃষ্টিতে সমান মনে করা এবং বিনা অপরাধে গ্রেফতার ও বিনা বিচারে আটক না করার ব্যবস্থাকে আইনগত সাম্য বলে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২০.
'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' এর প্রবর্তক বলা হয়- 
  1. ই .বি. টেইলর 
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল 
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. ফ্রান্জ বোয়াস
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক - ইমানুয়েল কান্ট।
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা:- সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১.
রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচেনা করা হয় কোনটি? 
  1. বিশ্ববিদ্যালয়
  2. রাজনৈতিক দল
  3. গণমাধ্যম
  4. আইন
সঠিক উত্তর:
গণমাধ্যম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণমাধ্যম
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও গণমাধ্যম:
- গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে ধরা হয়।
- বর্তমানে 'সুশাসন' ও 'গণমাধ্যম' এ দুটি বিষয় পরস্পর গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
-গণমাধ্যমে একমাত্র ব্যবস্থা যা সুশাসনের নিয়ামকগুলোকে জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে সুসংহত করতে পারে।
- শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যমে অনুপস্থিতি সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম আর স্বাধীন বিচার বিভাগ ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও আইনের শাসনকে কেউ কেউ বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে থাকে যা  গনমাধ্যমের জোরালো ভূমিকার মাধ্যমে তা প্রতিহত করা যায়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন; প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২২.
’সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা’ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ-২৭
  2. অনুচ্ছেদ-২৯
  3. অনুচ্ছেদ-৩২
  4. অনুচ্ছেদ-৩৪
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ-২৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ-২৯
ব্যাখ্যা

সংবিধান: অনুচ্ছেদ-২৯: ’সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা’।
- অনুচ্ছেদ ২৯ (১) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে।
- অনুচ্ছেদ ২৯(২) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের অযোগ্য হইবেন না কিংবা সেই ক্ষেত্রে তাঁহার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাবে না।

 এছাড়াও,
- সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে, "সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী"।
- সংবিধানের ৩২ নং অনুচ্ছেদ বর্ণিত আছে, জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার রক্ষণ।
- সংবিধানের ৩৪ নং অনুচ্ছেদ বর্ণিত আছে, জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ"।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

২৩.
’সত্যের সন্ধান’ গ্রন্থটি কার লেখা? 
  1. জিসি দেব
  2. আরজ আলী মাতুববর 
  3. জহির রায়হান 
  4. বদরুদ্দিন উমর
সঠিক উত্তর:
আরজ আলী মাতুববর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরজ আলী মাতুববর 
ব্যাখ্যা

আরজ আলী মাতুববর:
- আনুষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষাবিহীন স্বশিক্ষিত একজন মননশীল লেখক ও যুক্তিবাদী দার্শনিক ছিলেন আরজ আলী মাতুববর।
- তিনি লড়াই করেছেন ধর্মীয় গোঁড়ামি ও অন্ধ কুসংস্কারের বিরুদ্ধে এবং সহজ-সরল ভাষায় প্রকাশ করেছেন জগৎ ও জীবন সম্পর্কে তাঁর অভিমত।
- ধর্মের সমালোচক হলেও তিনি যথার্থ ধর্মের বিরোধী ছিলেন না। তাঁর লড়াই ধর্মের বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল ধর্মের নামে প্রচলিত ধর্মান্ধতা ও ধর্মতন্ত্রের বিরুদ্ধে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
- সত্যের সন্ধান (১৯৭৩),
- সৃষ্টিরহস্য (১৯৭৭),
- অনুমান (১৯৮৩) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- জিসি দেবের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা মোট নয়টি। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আইডিয়ালিজম অ্যান্ড প্রগ্রেস (১৯৫২),
- আইডিয়ালিজম: এ নিউ ডিফেন্স অ্যান্ড এ নিউ এ্যাপলিকেশন (১৯৫৮),
- আমার জীবনদর্শন (১৩৬৭),
- এ্যাসপিরেশন অব দি কমন ম্যান (১৯৬৩),

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা নিউজ ২৪।

২৪.
অ্যারিস্টটল তাঁর নিকোমেকীয়ান এথিক্স-এ সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে কোন নীতির উপর জোর দেন?
  1. চরমপন্থা অবলম্বন
  2. জীবনে মধ্যপথ অবলম্বন
  3. আত্মার বিভাজন অবলম্বন
  4. জ্ঞান অর্জন অবলম্বন
সঠিক উত্তর:
জীবনে মধ্যপথ অবলম্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনে মধ্যপথ অবলম্বন
ব্যাখ্যা

নীতিবিদ্যা: 
- প্লেটো ৪টি প্রধান সদ্গুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদ্‌গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।
• অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স্' এ সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
- এটা স্পষ্ট যে, এই নীতি গ্রহণ করলে মানুষের মধ্যে যে সদ্গুণের সৃষ্টি হয় তা মানুষ ছাড়াও অন্যান্য সকল কিছুর বেলায়ই সকল কাজকর্মে একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।

উৎস: এসএসএইচএল, নীতিবিদ্যা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫.
’Critique of Practical Reason’ গ্রন্থটি লিখছেন- 
  1. টমাস হবস
  2. এরিস্টটল
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. ব্রনিস্ল ম্যালিনস্কি
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা

• ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- সততার জন্য সদিচ্ছা'র কথা বলেছেন ইমানুয়েল কান্ট।
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।

• ইমানুয়েল কান্ট গুরুত্বপূর্ণ কিছু বই: 
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

উৎস: ¡) পৌরনীতি ও সুশাসন এইচ এসসি প্রথম পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ¡¡) ব্রিটানিকা।

২৬.
মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস- 
  1. সমাজ
  2. রাষ্ট্র 
  3. পরিবার
  4. আদালত
সঠিক উত্তর:
পরিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবার
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।

- পরিবার থেকেই শিশুর মূল্যবোধ শিক্ষা ও সামাজিকীকরণের সূত্রপাত হয়।
- মূল্যবোধের প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় বা শিক্ষালয়।
- এছাড়া সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা, ধর্ম, আদর্শ ইত্যাদি মূল্যবোধের অন্যতম - উপাদান হিসেবে বিবেচিত।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২৭.
”যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না” - কার অভিমত?
  1. এরিস্টটল
  2. প্লেটো
  3. জন লক
  4. মার্টিন লুথার কিং
সঠিক উত্তর:
জন লক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন লক
ব্যাখ্যা

- রাষ্ট্রদার্শনিক জন লকের অভিমত, "যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।

আইন:
- আইন বলতে কতিপয় নির্দিষ্ট অপরিবর্তনীয় নিয়মাবলীর সমষ্টিকে বুঝায়।
- যে সকল বিধিনিষেধ রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত ও যেগুলো ভঙ্গ করলে শাস্তি ভোগ করতে হয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞানুযায়ী সেগুলোকেই আইন বলে।
- আইন স্বাধীনতার শর্ত ও রক্ষক।
- আইন আছে বলেই স্বাধীনতা ভোগ করা সম্ভব হয়।
- আইনবিহীন সমাজে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর।
- রাষ্ট্রদার্শনিক জন লকের মতে, "যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।