পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৫০
সিলেবাস
বিষয় - বাংলা সাহিত্য টপিকসমূহ: ১. মধ্য-যুগের সাহিত্য ধারা; ২. মধ্যযুগের প্রধান প্রধান লেখক ও তাঁদের সাহিত্য কর্ম; ৩. বাংলা গদ্যের উৎপত্তি ও বিকাশ; ৪. বাংলা নাটকের উৎপত্তি ও বিকাশ; ৫. বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের বিভিন্ন সাহিত্য কর্মের চরিত্র। উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], যেকোনো একজন ভালো একাডেমিক লেখকের বই; বাংলাপিডিয়া; বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] ------------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ৫০ প্রশ্ন

.
কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে রঙ্গালয় স্থাপন করেন কে?
  1. প্রসন্নকুমার ঠাকুর
  2. হেরাসিম লেবেডফ
  3. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  4. হরচন্দ্র ঘোষ 
ব্যাখ্যা

বাংলা নাটকের বিকাশ:
- আঠারো শতকের শেষদিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়। কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।

- বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে। হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন। তিনি 'The Disguise' এবং 'Love is the best Doctor' নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান। এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।

- ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।
- বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

.
'সুরবালা' কোন উপন্যাসের চরিত্র? 
  1. গৃহদাহ
  2. চতুরঙ্গ
  3. চরিত্রহীন
  4. দেনা পাওনা
ব্যাখ্যা

• 'চরিত্রহীন' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে। প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত। উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন। গল্পটিতে চারটি নারী চরিত্র রয়েছে।

- প্রধান দুটি নারী চরিত্রের নাম সাবিত্রী ও কিরণময়ী। ছোট দুটি নারী চরিত্রের নাম সুরবালা ও সরোজিনী। সাবেক দুই চরিত্রহে (চরিত্রহীন) হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় যে উপন্যাসের চারটি চরিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

- সাবিত্রী চরিত্রটি বিশুদ্ধ, সে তার ভালবাসার মানুষ সতীশ-এর প্রতি অনুগত। সুরবালা উপেন্দ্রনাথের স্ত্রী। তিনি বয়সে তরুণ, ধর্মীয় গ্রন্থগুলিতে অন্ধবিশ্বাসের কারণে তার চরিত্রও চিত্তাকর্ষক। সরোজিনী পাশ্চাত্য শৈলীতে শিক্ষিত এবং চিন্তা-ভাবনায় অগ্রসর কিন্তু পারিবারিক পরিস্থিতিত এবং একটি জাদরেল মা দ্বারা তার জীবনযাপন অবরুদ্ধ। সরোজিনী শেষতক সতীশকে বিয়ে করেন। উপন্যাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র কিরণময়ী। তরুণ এবং অত্যন্ত সুন্দরী, বুদ্ধিমতী। তবে তার আবেগ ও আকাঙ্ক্ষাগুলি সর্বদা বিবাহিত বিষয়গুলির তুলনায় স্বামীকে শিক্ষাদান করার জন্য এবং স্বামী ও শাশুড়ীর দ্বারা সর্বদা দমিত হয়। 

অন্যদিকে, 
• 'গৃহদাহ' উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'চতুরঙ্গ' উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো- জ্যাঠামশায়, শচীশ, দামিনী, শ্রীবিলাস।৷

• 'দেনা পাওনা' উপন্যাসটি রচনা করেছেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে। কাহিনির নায়ক, জীবনানন্দ। এই নাটক 'ষোড়শী' নামে নাট্যায়িত হয়।

-------------------
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- দেবদাস,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী ইত্যাদি।

উৎস: "চরিত্রহীন" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি কে?
  1. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  2. শ্রীকর নন্দী
  3. কাশীরাম দাস
  4. কৃত্তিবাস ওঝা
ব্যাখ্যা

• কবীন্দ্র পরমেশ্বর:
- 'পরাগলী মহাভারত' খ্যাত গ্রন্থের লেখক কবীন্দ্র পরমেশ্বর। তিনি মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি।
- নবাব হুসেন শাহ্‌ (১৪৯৩-১৫১৮) চট্টগ্রাম শাসনের জন্য পরাগল খাঁ নামক এক লস্কর নিযুক্ত করেন।
- যুদ্ধপ্রিয় 'পরাগল খাঁ' মহাভারতের যুদ্ধকাহিনি শুনে গ্রন্থটি অনুবাদের জন্য পরমেশ্বর দাসকে নির্দেশ দেন।
- তাই কবীন্দ্র পরমেশ্বর এর অনুবাদকৃত মহাভারতকে 'পরাগলী মহাভারত' বলা হয়।
- কবীন্দ্র তাঁর রচিত মহাভারতের নাম দিয়েছেন ‘ভারত পাঁচালী’।

অন্যদিকে, 
- শ্রীকর নন্দীর মহাভারতকে বলা হয় 'ছুটিখানি মহাভারত'।
- 'মহাভারত' এর শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কাশীরাম দাস। তার কাব্যের নাম 'ভারত পাঁচালী। 
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক ও বাংলা রামায়ণের আদি কবি “কৃত্তিবাস ওঝা"।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

.
সেক্সপীয়রের 'মার্চেন্ট অব ভেনিস' অবলম্বনে হরচন্দ্র ঘোষের অনুবাদ নাটক কোনটি?
  1. অভিজ্ঞান শকুন্তলা
  2. কংসবধ 
  3. বেণীসংহার
  4. ভানুমতী চিত্তবিলাস
ব্যাখ্যা

• অনুবাদ নাটক বাংলা নাটকের বিকাশের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল। এই ক্ষেত্রে হরচন্দ্র ঘোষের অনুবাদ নাটকের কথা উল্লেখযোগ্য।
- তাঁর 'ভানুমতী চিত্তবিলাস' (১৮৫২) যথাক্রমে সেক্সপীয়রের 'মার্চেন্ট অব ভেনিস' এর ভাবানুবাদ এবং 'চারুমুখ চিত্তহারা' (১৮৬৪) যথাক্রমে 'রোমিও জুলিয়েটে'র ভাবানুবাদ।

অন্যদিকে, 
• অভিজ্ঞান শকুন্তলা, বেণীসংহার ও কংসবধ রামনারায়ণ তর্করত্ন রচিত নাটক।   

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

.
'ঠকচাচা' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. লালসালু 
  2. পদ্মা নদীর মাঝি 
  3. আলালের ঘরের দুলাল
  4. কপালকুণ্ডলা 
ব্যাখ্যা

• 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- 'আলালের ঘরের দুলাল' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস এবং প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়। পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিঞা বা ঠকচাচা।
- 'ঠকচাচা' চরিত্রটি ধূর্ততা, বৈষয়িক বুদ্ধি, ও প্রাণময়তা নিয়ে এ গ্রন্থের সর্বাপেক্ষা জীবন্ত চরিত্র।
- উপন্যাসটি 'The Spoiled Child' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।

এছাড়াও অন্যান্য চরিত্রগুলো হচ্ছে-
- বাবুরাম,
- বাবুরামের পুত্র মতিলাল,
- ধূর্ত উকিল বটলর,
- অর্থলোভী বাঞ্ছারাম,
- তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

.
কত সালে কলকাতার বেঙ্গলি থিয়েটার-এ প্রথম বাংলা নাটক 'কাল্পনিক সংবদল' মঞ্চস্থ হয়?
  1.  ১৭৮৫ সালে
  2.  ১৭৯৫ সালে
  3.  ১৭৯৭ সালে
  4.  ১৭৯১ সালে
ব্যাখ্যা

• নাটকের উৎপত্তি:
- ১৭৯৫ সালের ২৭ নভেম্বর কলকাতার বেঙ্গলি থিয়েটার-এ মঞ্চস্থ হয় প্রথম বাংলা নাটক “কাল্পনিক সংবদল'।
- এটি কোন মৌলিক নাটক নয়, অনুবাদ নাটক। রুশদেশীয় যুবক গেরাসিম স্তেপানভিচ্‌ লেবেদেফ ইংরেজি নাটক "দ্য ডিসগাইজ' বাংলায় রূপান্তর করে লেখেন “কাল্পনিক সংবদল'।
- এ সময় লেবেদেফ “লাভ ইজ দ্য বেস্ট ডক্টর' নামে আরও একটি কৌতুক নাটক অনুবাদ করেন। এ নাটকটিও কলকাতার বেঙ্গলি থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়। নাটকদ্বয় বাংলায় রূপান্তর করতে গিয়ে লেবেদেফ পণ্ডিত গোলকনাথ দাসের সহায়তা গ্রহণ করেছিলেন। 
- ১৭৯৫ সালে রুশীয় যুবক লেবেদেফের এই সাহসী উদ্যমের পর ধীরে ধীরে বাংলা নাটক বিকশিত হতে আরম্ভ করে।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথমপত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
সুশৃঙ্খল গদ্যের পথিকৃৎরূপে বিদেশীর ব্যবহারের ও শিক্ষার উপযোগী করে রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. লিপিমালা 
  2. কথোপকথন
  3. ইতিহাসমালা
  4. হিতোপদেশ 
ব্যাখ্যা

• 'কথোপকথন' গ্রন্থ:
- উইলিয়াম কেরি সুশৃঙ্খল গদ্যের পথিকৃৎরূপে বিদেশীর ব্যবহারের ও শিক্ষার উপযোগী করে ১৮০১ সালে 'কথোপকথন' গ্রন্থটি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশ করেন।

- গ্রন্থে গৃহীত কথোপকথনগুলো সে আমলের কলকাতা- শ্রীরামপুর অঞ্চলের সকল স্তরের স্ত্রীপুরুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, সামাজিক রীতিনীতি, ধর্ম ও আচারব্যবহার নিয়ে রচিত।

- এই গ্রন্থে চাকর ভাড়াকরণ, সাহেবের হুকুম, সাহেব ও মুনশীর পরামর্শ, ভোজনের কথা, যাত্রা, পরিচয়, ভূমির কথা, মহাজন, আসামি, বাগান করার হুকুম, ভদ্রলোকে ভদ্রলোকে কথাবার্তা, প্রাচীনে প্রাচীনে কথাবার্তা, সুপারিশ, মজুরের কথাবার্তা, খাতক মহাজনি, ঘটকালি, হাটের বিষয়, স্ত্রীলোকের হাট করা, জেলেদের কথাবার্তা, ভিক্ষুকের কথা, কাজের চেষ্টার কথা, কোন্দল বা ঝগড়া, স্ত্রীলোকে স্ত্রীলোকে কথাবার্তা, 'মাইয়া কন্দল', জমিদার রায়তের কথা ইত্যাদি বিষয়াবলম্বনে কথোপকথন রচিত হয়েছে।

- উইলিয়াম কেরি সহজ ও বাস্তব ভঙ্গিতে বক্তব্য পরিবেশন করেছেন। গ্রন্থের কোথাও অবিমিশ্র সাধু আবার কোথাও কথ্য ভাষাশ্রিত রচনারীতি স্থান পেয়েছে।

- বাংলা ভাষার কথ্যরীতির প্রথম নিদর্শন এই গ্রন্থে বিধৃত। সে যুগের সামাজিক ও ব্যবহারিক রীতিনীতির বিশেষ পরিচয় হিসেবেও এগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কথোপকথন গ্রন্থটি ছিল দ্বিভাষিক– এক পৃষ্ঠায় বাংলা, অপর পৃষ্ঠায় ইংরেজি।

অন্যদিকে, 
---------------------
• রামরাম বসু কর্তৃক রচিত লিপিমালা প্রথম বাংলা পত্র সাহিত্য।
• 'ইতিহাসমালা' (১৮১২) উইলিয়াম কেরি সঙ্কলিত বিভিন্ন বিষয়ের ১৫০টি গল্পের সংগ্রহ। 
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের 'হিতোপদেশ' গ্রন্থটে সংস্কৃত 'পঞ্চতন্ত্র' থেকে অনূদিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

.
বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র 'ইন্দ্রনাথ' এর স্রষ্টা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম 
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র- 'ইন্দ্রনাথ'। 
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস। 
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়। প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭)' শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশিত হয়। লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রী শ্রীকান্ত শর্মা'। 
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়। 

এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- 
• শ্রীকান্ত,
• ইন্দ্রনাথ,
• রাজলক্ষ্মী,
• কমললতা, 
• অন্নদিদি প্রমুখ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

.
মালাধর বসু ছিলেন- 
  1. রামায়ণের বাংলা অনুবাদক
  2. ভগবতের বাংলা অনুবাদক
  3. মহাভারতের বাংলা অনুবাদক
  4. মনসামঙ্গল কাব্যের কবি 
ব্যাখ্যা

• মালাধর বসু:
- মালাধর বসু বর্ধমান জেলার কুলীন গ্রামে সম্ভবত পনের শতকের তৃতীয় বা চতুর্থ দশকে জন্মগ্রহণ করেন।
- মালাধর বসু (১৫শ-১৬শ শতক) ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
- তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ।
- মালাধরের একমাত্র কাব্য শ্রীকৃষ্ণবিজয়ের রচনাকাল ১৩৯৫-১৪০২ শকাব্দ (১৪৭৩-১৪৮০ খ্রি)।
- চৈতন্যদেবের (১৪৮৬-১৫৩৩) সন্ন্যাস গ্রহণের পূর্বে ভাগবতকে প্রথম বাংলায় প্রচার ও জনপ্রিয় করে তোলার কৃতিত্ব মালাধর বসুর।
- তিনি গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০.
নিচের কোনটি মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত দার্শনিক নিবন্ধ?
  1. প্রবোধচন্দ্রিকা
  2. হিতোপদেশ
  3. বত্রিশ সিংহাসন
  4. রাজাবলি
ব্যাখ্যা

• 'প্রবোধচন্দ্রিকা' গ্রন্থ:
- 'প্রবোধচন্দ্রিকা' ১৮১৩ সালে রচিত হলেও প্রকাশিত হয়েছিল মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর ১৮৩৩ সালে।
- গ্রন্থটি মূলত দার্শনিক নিবন্ধ। সংস্কৃত বিদ্যাভাণ্ডারের পরিচয় দেওয়ার জন্যই গ্রন্থটি রচিত।
- এতে কথ্য সাধু ও সংস্কৃত রীতির ভাষা অনুসৃত হয়েছে। মৃত্যুঞ্জয়ের গদ্যে সংস্কৃতরীতির প্রয়োগ দোষত্রুটি থাকলেও বিষয়বস্তু ও রচনাপদ্ধতিতে একটা সুষম রূপ ফুটে উঠেছিল।

----------------------------
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক। উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পণ্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পণ্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।
- মৃত্যুঞ্জয়ের কৃতিত্ব সম্পর্কে প্রমথ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন- ‘তিনি একদিকে যেমন সাধু ভাষার আদি লেখক, অপরদিকে তিনি তেমনি চলিত ভাষারও আদর্শ লেখক।’

• তাঁর  রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২),
- রাজাবলি (১৮০৮),
- হিতোপদেশ (১৮০৮),
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

১১.
বালক 'অমল' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন নাটকের নায়ক চরিত্র?
  1. রক্তকরবী
  2. অচলায়তন
  3. তাসের দেশ
  4. ডাকঘর
ব্যাখ্যা

• 'ডাকঘর' নাটক':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ডাকঘর' (১৯১২) রূপক সাংকেতিক নাটক।
- বালক 'অমল' এই নাটকের নায়ক।
- রবীন্দ্রনাথ নিজে লিখেছেন- "এর মধ্যে গল্প নেই, এর গদ্য লিরিক।"

'ডাকঘর' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অমল,
- সুধা,
- ঠাকুর্দা প্রমুখ।

--------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত রূপক-সাংকেতিক নাটক:
- শারদোৎসব,
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- ফাল্গুনী,
- মুক্তধারা,
- রক্তকরবী,
- কালের যাত্রা,
- তাসের দেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১২.
নিচের কোনটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম গল্পসংগ্রহ? 
  1. ইতিহাসমালা
  2. হিতোপদেশ
  3. পঞ্চতন্ত্র
  4. বেদান্তচন্দ্রিকা
ব্যাখ্যা

• 'ইতিহাসমালা' গ্রন্থ:
- প্রায় দেড়'শ ইতিহাসাশ্রিত গল্প অবলম্বনে ১৮১২ সালে 'ইতিহাসমালা' নামক অন্য একটি গ্রন্থ উইলিয়াম কেরি প্রকাশ করেন। এ দেশের সাহিত্যের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি প্রথম গল্পসংগ্রহ হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ স্থান পাওয়ার যোগ্য।

- সংগৃহীত গল্পগুলোর অধিকাংশই ব্যঙ্গপ্রধান। এতে প্রাচ্য-পাশ্চাত্য উভয় উৎস থেকে গল্প সংগৃহীত হয়েছিল।

অন্যদিকে, 
--------------------
- হিতোপদেশ', ‘পঞ্চতন্ত্র' প্রভৃতি প্রাচীন সংস্কৃত গ্রন্থের গল্প থেকে শুরু করে অপেক্ষাকৃত আধুনিক ধনপতি- খুল্লনা-লহনা, রূপ সনাতন গোস্বামির কথা এতে স্থান পেয়েছে। অনুবাদে যে যথেষ্ট পরিমাণ প্রাঞ্জলতা সঞ্চারিত হতে পারে ইতিহাসমালা তার বিশিষ্ট নিদর্শন। সুষম ও প্রাঞ্জল রচনারীতির জন্য ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত সমস্ত গ্রন্থের মধ্যে তা শ্রেষ্ঠস্থানের অধিকারী। এই গ্রন্থের ভাষা ছিল ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রাথমিক যুগের ভাষা অপেক্ষা অনেক উন্নত এবং গদ্য রচনার একটা স্টাইলও এতে পরিলক্ষিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

১৩.
মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের কয়টি ভাষায় মুদ্রিত হয়েছে?
  1. ২৩টি 
  2. ২৪টি 
  3. ২২টি 
  4. ২১টি  
ব্যাখ্যা

• মৈমনসিংহ গীতিকা: 
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
-  মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে:
 যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন 
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
ব্যাখ্যা

• গদ্য রচনায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- পাঠ্যপুস্তক ও তর্ক-বিতর্কের বাহন হিসেবে প্রচলিত যে গদ্য বিদ্যাসাগরের চর্চায় শিল্প মাধ্যমের স্তরে উন্নীত হয়েছিল, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর (১৮৩৮-৯৪) সাধনায় সে গদ্য শিল্পিত উপন্যাসের ধারক হয়ে উঠল। উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বঙ্কিমচন্দ্র রচিত গদ্যে, যুগপৎভাবে উপন্যাস ও অন্যান্য গদ্যরচনায় বাংলা গদ্যের গভীরতা, ব্যাপ্তি ও ঐশ্বর্য সুপ্রমাণিত হল।

- বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'র রচয়িতা হিসেবে বঙ্কিম গদ্যচর্চার নতুন যে পথসন্ধান দিলেন, তাকে অনুসরণ করেই সৃষ্টিশীল গদ্যসাহিত্য উত্তরকালে বিকশিত হয়েছে। 

বঙ্কিমচন্দ্র রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ হচ্ছে (উপন্যাস):
- দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫),
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬),
- বিষবৃক্ষ (১৮৭৩),
- কৃষ্ণকান্তের উইল (১৮৭৮),
- রাজসিংহ (১৮৮২),
- আনন্দমঠ ((১৮৮৪)। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথমপত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য ‘চন্দ্রাবতী'র রচয়িতা কে?
  1. বড়ু চণ্ডীদাস
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. কোরেশী মাগন ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• চন্দ্রাবতী' কাব্য:
- ‘চন্দ্রাবতী' কাব্যের একমাত্র রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।
- এর একটি খণ্ডিত পুথি পাওয়া গেছে। এটি লোককাহিনি আশ্রিত রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য।
- কাব্যের রচনাকাল নিয়ে সংশয় আছে। তবে মাগন আরাকান রাজ্যের মন্ত্রী ও আলাওলের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তাই কাব্যটি সতের শতকের।
- ‘চন্দ্রাবতী' কাব্যের প্রাচীন উৎস জানা যায় না।মনে হয় এটা কবির স্বাধীন কল্পনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬.
'লাইলী মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ- 
  1. তুরস্ক
  2. ইরান 
  3. ভারত 
  4. আরব
ব্যাখ্যা

'লায়লী মজনু' কাব্য:
- 'লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান।
- 'লায়লী মজনু' কাব্যের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে। যেমন আহমদ শরীফের মতে (১৫৪৩-১৫৫৩) সালে রচিত এবং শহীদুল্লাহর মতে
১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- এটি পারস্য তথা ইরানি কবি জামির 'লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ।
- 'লাইলী মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ-ইরান।
- আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে এই কাব্যে।
- এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭.
নিচের কোনটি পৌরাণিক নাটক?
  1. হরিশচন্দ্র
  2. সাজাহান
  3. রূপান্তর
  4. শ্রীমধুসূদন
ব্যাখ্যা

• বিভিন্ন মাপকাঠির আলোকে নাটককে নানাভাবে শ্রেণীবদ্ধ করা যায়। বিষয় অনুসারে আমরা নাটককে প্রধান চারটি ভাগে বিভক্ত করতে পারি। এই বিভাগগুলো নিম্নরূপ—
১. পৌরাণিক নাটক, 
২. ঐতিহাসিক নাটক, 
৩. সামাজিক নাটক, 
৪. চরিতমূলক নাটক। 

• পৌরাণিক নাটক:
পৌরাণিক কোন কাহিনী বা চরিত্রকে কেন্দ্র করে যখন কোন নাটক রচিত হয়, তখন তাকে পৌরাণিক নাটক বলে। রামায়ন, মহাভারত, ভাগবত পুরাণ বা অন্য কোন ধর্মমূলক কাহিনী অবলম্বনে পৌরাণিক নাটক লিখিত হয়। পৌরাণিক কোন কাহিনী বা চরিত্রকে সমকালীন জীবন ও চিন্তার সঙ্গে একাত্ম করার মধ্যেই এ ধরনের নাটকের সার্থকতা নিহিত। Byron এর The Four P'S গিরিশচন্দ্রের ‘জনা’, অমৃতলালের ‘হরিশচন্দ্র', দ্বিজেন্দ্রলালের ‘সীতা, মম্মথ রায়ের 'কারাগার ইত্যাদি পৌরাণিক নাটকের উদাহরণ।

• ঐতিহাসিক নাটক:
অতীতের কোন ঘটনা বা ইতিহাসের কোন চরিত্র অবলম্বনে যখন নাটক লিখিত হয়, তাকে ঐতিহাসিক নাটক বলে। এ ধরনের নাটকে নাট্যকারকে ঐতিহাসিক সত্য অক্ষুণ্ণ রাখতে হয়, তবে নাটকের প্রয়োজনে তিনি একাধিক কল্পিত চরিত্র বা ঘটনার অবতারণা করতে পারেন। ঐতিহাসিক ঘটনাকে বর্তমানের মানবভাগ্যের সঙ্গে একাত্মকরে নেওয়ার মধ্যেই এ জাতীয় নাটকের সার্থকতা নিহিত। শেক্সপীয়রের Henry IV দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘সাজাহান’, শচীন সেনগুপ্তের 'সিরাজউদ্দৌলা', সিকান্দার আবু জাফরের ‘সিরাজ-উ-দ্দৌলা' প্রভৃতি ঐতিহাসিক নাটকের উদাহরণ।

• সামাজিক নাটক: 
সমাজের কোন সমস্যা নিয়ে রচিত নাটককে সামাজিক নাটক বলা হয়। সামাজিক নাটকে সমাজের মৌল প্রবণতা এবং নানা অনুষদের প্রতি নাট্যকারকে সতর্ক থাকতে হয়। এ ধরনের নাটকে সমাজের দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও বিরোধ দেখা দেয়- পরিণতিতে অশুভ পতন দেখানো হয়। বার্নার্ড শ'র Heart-break House দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ, নুরুল মোমেনের ‘রূপান্তর' প্রভৃতি সামাজিক নাটকের উদাহরণ।

• চরিতমূলক নাটক:
বিশেষ কোন ব্যক্তিত্বের চরিত্রকে কেন্দ্র করে লেখা হয় চরিতমূলক নাটক। চরিত্রমূলক নাটকে যে ব্যক্তিত্বের জীবন নিয়ে নাটক লেখা হয়, নাট্যকার তার জীবনের বাস্তব ঘটনার সঙ্গে কিছু কল্পনারও আশ্রয় নিয়ে থাকেন। তবে এ ব্যাপারে নাট্যকারকে খুবই সচেতন থাকতে হয়, যেন কল্পনার অংশটুকু বিশেষ ব্যক্তিত্বকে বিবর্ণ না করে। বনফুলের ‘শ্রীমধুসূদন' ও 'বিদ্যাসাগর’, মহেন্দ্র গুপ্তের ‘মাইকেল' প্রভৃতি চরিতমূলক নাটকের উদাহরণ।

উল্লেখ্য, 
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড মাহাবুবুল আলম এর বই অনুসারে নাটক বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে তিন ভাগে বিভক্ত। যথা- ১. পৌরাণিক নাটক, ২. ঐতিহাসিক নাটক,  ৩. সামাজিক নাটক। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথমপত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
কালীপ্রসন্ন সিংহের সৃষ্ট বিখ্যাত চরিত্র কোনটি?
  1. তাহেরা বিবি 
  2. হাসনাবানু 
  3. নাজমা 
  4. দনুবানু
ব্যাখ্যা

• হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গোড়াপত্তনকালীন পর্যায়ে রচিত একটি গদ্য উপাখ্যান। কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা। গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- যা তিনি 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে লিখেছেন।
- এটি মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা।
- বিখ্যাত চরিত্র: দনুবানু।

কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ হলো:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা,
- সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ।

-------------------
কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে কালীপ্রসন্ন সিংহ পরিচিত।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার জোড়াসাকোয় ১৮৪০ সালে।
- 'হুতোমী বাংলা' ভাষা রীতি অনুসরণ করে তিনি সাহিত্য রচনা করেন।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং  বাংলাপিডিয়া।

১৯.
মধ্যযুগের সাহিত্য ধারাগুলোর মধ্যে কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. অনুবাদ সাহিত্য
  2. নাথ সাহিত্য
  3. লোক সাহিত্য
  4. বৈষ্ণব সাহিত্য
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য- ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা- বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- ‘কানু ছাড়া গীত নাই’ উক্তিটি মধ্যযুগে সত্য ছিল।
- মধ্যুযুগের সাহিত্য ধারাগুলোর মধ্যে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২০.
‘বেদান্তগ্রন্থ’ এর রচিয়তা কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. রামমোহন রায়
  3. রামরাম বসু
  4. গোলকনাথ শর্মা
ব্যাখ্যা

• 'বেদান্তগ্রন্থ': 
- ‘বেদান্তগ্রন্থ’ (১৮১৫) রামমোহন রায় কর্তৃক ব্রহ্মসূত্রের অনুবাদ ও টীকা। বাংলাগদ্যের ইতিহাসে গ্রন্থটির ঐতিহাসিক মূল্য অসামান্য।
- পৌত্তলিকতা যে হিন্দু ধর্মের মুখ্য ব্যাপার নয়, ব্রহ্মই একমাত্র তত্ত্ব ও উপাস্য তা প্রমাণের উদ্দেশ্যেই এই গ্রন্থ তিনি রচনা করেন।
- এই গ্রন্থ অবলম্বন করে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে প্রবল বাকবিতর্ক হয়।

----------------------
• রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন।
- তিনি প্রায় ৩০টি গ্রন্থ রচনা করেন।

অন্যদিকে, 
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার এর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: প্রবোধচন্দ্রিকা, বেদান্তচন্দ্রিকা ইত্যাদি।
• রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ- লিপিমালা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

২১.
'যেসব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী, সেসব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।'-পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন কবির রচনা?
  1. চণ্ডীদাস 
  2. আলাওল 
  3. আবদুল হাকিম
  4. ভারতচন্দ্র রায় 
ব্যাখ্যা

• 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা আবদুল হাকিম।
- নূরনামা ফারসি নীতিকাব্য নূরনামাহ্ অবলম্বনে রচিত।
- 'যেসব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী, সেসব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।'- বাংলা ভাষার প্রতি এরূপ শ্রদ্ধাপূর্ণ বক্তব্যের জন্য কবির নূরনামা কাব্য বিশেষভাবে প্রশংসিত।

------------------------
• আবদুল হাকিম:
- তিনি সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি ছিলেন।
- তিনি ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে সন্দ্বীপের সুধারামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মধ্যযুগে মুসলমানগণ বাংলাকে নিজেদের ভাষা মনে না করে পারসি-আরবি-উর্দুকে আপন ভাষা মনে করতো। এই পরভাষাশ্রীতিকে  আঘাত করার জন্য আবদুল হাকিম 'নূরনামা' কাব্যে তিনি প্রবাদতুল্য পঙ্‌ক্তি দুটো লিখেন।

আবদুল হাকিমের ৫টি কাব্য পাওয়া গেছে। সেগুলো হলো:
• ইউসুফ জোলেখা,
• নূরনামা,
• দুররে মজলিশ,
• লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
• হানিফার লড়াই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২২.
‘রূপাই’ কোন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  2. নক্সী কাঁথার মাঠ
  3. রাখালী
  4. ধানক্ষেত
ব্যাখ্যা

• ‘রূপাই’ চরিত্রের স্রষ্টা জসীমউদ্‌দীন। ‘রূপাই’ জসীমউদ্‌দীন রচিত 'নক্সীকাঁথার মাঠ' কাহিনি কাব্যের অন্তর্ভুক্ত একটি চরিত্র।

----------------------
• নক্সী কাঁথার মাঠ:
- 'নক্সীকাঁথার মাঠ' (১৯২৯) জসীমউদ্‌দীন রচিত কাহিনি কাব্য বা গাথা কাব্য।
- এই গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা।
- দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি; জসীমউদ্‌দীন তাকে অবলম্বন করেছেন।
- গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।

-----------------
• জসীমউদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানক্ষেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২৩.
'নবনাটক' নাট্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্রে
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  4. মনোমোহন বসু 
ব্যাখ্যা

• 'নবনাটক':
- সমকালীন সামাজিক দুর্নীতির প্রতি কটাক্ষপাত করে যে সমস্ত নাটক সে সময়ে রচিত হয়েছিল তাদের মধ্যে রামনারায়ণ তর্করত্নের 'নবনাটক' (১৮৬৬) শ্রেষ্ঠ। তাঁর সমস্ত নাটকের মধ্যে একেই পূর্ণ নাট্যমর্যাদা দেওয়া যেতে পারে।

- ‘বহুবিবাহ প্রভৃতি কুপ্রথা বিষয়ক 'নবনাটক' এই নামকরণের মাধ্যমেই নাটকটির পরিচয় ফুটে উঠেছে। এই নাটকটিও পুরস্কার প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে পর-নির্দেশিত বিষয়ে রচিত। জোড়াসাঁকো নাট্যশালার পক্ষ থেকে গণেন্দ্রনাথ ঠাকুর এ পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন।

- রামনারায়ণ এই নাটক রচনায় বিশেষ কৃতিত্ব প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। অবশ্য 'নবনাটক’ প্রকাশের আগেই মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও দীনবন্ধু মিত্রের নাটক প্রকাশিত হয়েছিল। রামনারায়ণ তাঁদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। নাটকের ভাষা-বিন্যাস ও পরিণতিতে দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণের' প্রভাব লক্ষ করা চলে। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

২৪.
বিধবা 'কুন্দনন্দিনী' কোন উপন্যাসের প্রধান চরিত্র?
  1. কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. দুর্গেশনন্দিনী
  3. মৃণালিনী
  4. বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা

• 'বিষবৃক্ষ' উপন্যাস:
- 'বিষবৃক্ষ' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। এটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এতে বিধবা বিবাহ, পুরুষের একাধিক বিবাহ, নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- বাল্য বিধবা কুন্দনন্দিনী এ উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র।
- চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস এবং চরিত্রসমূহ:
- 'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাসের চরিত্র: রোহিনী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর। 
- 'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাসের চরিত্র: আয়েশা, তিলোত্তমা। 
- 'মৃণালিনী' উপন্যাসের চরিত্র: হেমচন্দ্র, মৃনালিনী, পশুপতি, মনোরমা।
- 'রাজসিংহ' উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: ঔরঙ্গজেব, রাজসিংহ, জেবউনিসা, উদিপুরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

২৫.
শ্রীজীব গোস্বামী বৈষ্ণব পদাবলীর কোন কবি কে ‘কবিরাজ’ উপাধি প্রদান করেন?
  1. বিদ্যপতি 
  2. গোবিন্দদাস
  3. চণ্ডীদাস 
  4. জয়দেব 
ব্যাখ্যা

• গোবিন্দদাস:
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৬.
মর্সিয়া সাহিত্যে হিন্দু কবি হলেন- 
  1. ভবানী দাস
  2. দুর্লভ মল্লিক 
  3. রাধারমণ গোপ
  4. শ্যামাদাস সেন
ব্যাখ্যা

• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনী নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি হলেন - শেখ ফয়জুল্লাহ। তার রচিত গ্রন্থের নাম জয়নবের চৌতিশা এটি ১৫৭০ সালে প্রকাশিত হয়। 
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন- রাধারমণ গোপ। 
- রাধারমণ গোপ রচিত গ্রন্থ হলো: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৭.
কোন নাটক রচনার মাধ্যমে রামনারায়ণ তর্করত্ন ‘নাটুকে রামনারায়ণ’ নামে পরিচিতি লাভ করেন?
  1. কুলীনকুলসর্বস্ব
  2. মালতীমাধব
  3. রত্নাবলী
  4. অভিজ্ঞান শকুন্তলা
ব্যাখ্যা

• রামনারায়ণ তর্করত্ন ও 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক:
- বাংলা নাটকের ইতিহাসে অস্থিরচিত্ততা কাটিয়ে উল্লেখযোগ্য নাটক সৃষ্টি হয় রামনারায়ণ তর্করত্নের (১৮২২-৮৬) হাতে। নাট্যকার হিসেবে তাঁর প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক 'কুলীনকুলসর্বস্বের' (১৮৫৪) অভিনয় সাফল্য। 

- এই নাটকটি নাট্যকর্মের বিবিধ বৈশিষ্ট্যের পরিপূর্ণ অনুসারী না হলেও তা তৎকালীন বাংলা নাটকের মধ্যে বৈচিত্র্যের পরিচায়ক বলে যথেষ্ট খ্যাতিলাভ করেছিল। 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নামে নাটক রচনার জন্য পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে রংপুরের কুত্তী পরগনার জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী যে প্রতিযোগিতা আহ্বান করেছিলেন তাতে বিজয়ী হয়ে রামনারায়ণ সে পুরস্কার লাভ করেন।

- এতে দেখা যায় রামনারায়ণের নাটক রচনা স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না এবং নাটকের বিষয় ও নাম পর-নির্দেশিত ছিল। তবে নাটকটির বিষয়ের প্রতি সমগ্র জাতির কৌতূহলই রামনারায়ণকে জনপ্রিয়তা দান করেছিল। এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি 'নাটুকে রামনারায়ণ' নামে খ্যাতি লাভ করেছিলেন।

- কৌলিন্য প্রথার দোষ নির্দেশক এই নাটকটিতে মূলকাহিনির শিথিলতা পরিলক্ষিত হয়। তাতে কতকগুলো কৌতুকপূর্ণ দৃশ্য সংযোজিত হয়েছে মাত্র। একান্ত বাস্তব সামাজিক জীবনের ঘটনা অবলম্বন করাতেই এই নাটকটির বৈশিষ্ট্য প্রকাশমান। 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটকে যে কৌতুকরস স্থান পেয়েছে তা কোথাও করুণ, আবার কোথাও প্রহসনধর্মী। নাটকটির অন্য একটি বৈশিষ্ট্য এর টাইপ চরিত্রের প্রাধান্য। অনৃতাচার্য, অধর্মরুচি, বিবাহবণিক, উদারপরায়ণ, বিবাহবাতুল, অভব্যচন্দ্র এই সব নাম একদিকে যেমন ব্যঙ্গরসাত্মক, অন্যদিকে তাৎপর্যবাহী। হাস্যরসের আধিক্যের জন্য কোন কোন চরিত্র অবাস্তবতায় পরিপূর্ণ। 

অন্যদিকে, 
------------------------
সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন, এগুলো হলো-
- বেণীসংহার (১৮৫৬),
- রত্নাবলী (১৮৫৮),
- অভিজ্ঞান শকুন্তলা (১৮৬০) ও
- মালতীমাধব (১৮৬৭)- এই চারটি নাটক সংস্কৃত থেকে অনূদিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

২৮.
কার নির্দেশে কৃত্তিবাস ওঝা রামায়ণের বাংলা অনুবাদ করেন?
  1. রাজা গণেশ
  2. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. রাজা লক্ষ্মণ সেন
  4. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা

• রামায়ণ:
- রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য। সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন বাল্মীকি
- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন - কৃত্তিবাস ওঝা।
- গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস বাংলায় 'রামায়ণ' অনুবাদ করেন।

কৃত্তিবাস ওঝা:
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঞ্চালী'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- কৃত্তিবাসী রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৯.
নাগেন্দ্রনাথ বসু কত বঙ্গাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে 'শূন্যপুরাণ' প্রকাশ করেন?
  1. ১৩২৩ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩১৬ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩১৪ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩১২ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা

• শূণ্যপুরাণ:
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। 
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়। গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩০.
নিচের কোনটি বিয়োগান্তক নাটক?
  1. সপ্তমীতে বিসর্জন
  2. সভ্যতার পাণ্ডা
  3. কীর্তিবিলাস
  4. বেল্লিক বাজার
ব্যাখ্যা

• 'কীর্তিবিলাস' নাটক:
- 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এর রচয়িতা যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত। এটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়।
- সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে 'কীর্তিবিলাস' নাটকটি রচিত। বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ এর বৈশিষ্ট্য।
- পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে। কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

অন্যদিকে, 
• গিরিশ ঘোষের প্রহসনগুলোর মধ্যে- 'সপ্তমীতে বিসর্জন', 'বেল্লিক বাজার', ‘বড়দিনের বকশিস’, ‘সভ্যতার পাণ্ডা' প্রভৃতির উল্লেখযোগ্য। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৩১.
সত্যজিৎ রায় সৃষ্ট জনপ্রিয় কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্র কোনটি?
  1. ব্যোমকেশ বক্সী
  2. ফেলুদা
  3. টেনিদা
  4. ঘনাদা
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্র 'ফেলুদা' এর স্রষ্টা সত্যজিৎ রায়।

• ফেলুদা সিরিজ:
- ১৯৬৫ সালের ডিসেম্বর মাসের সন্দেশ পত্রিকায় ফেলুদা সিরিজের প্রথম গল্প ফেলুদার গোয়েন্দাগিরির প্রথমভাগ প্রকাশিত হয় যা পরের আরো দুইটি সংখ্যার মাধ্যমে শেষ হয়। ১৯৬৫ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত এই সিরিজের মোট ৩৫টি সম্পূর্ণ ও চারটি অসম্পূর্ণ গল্প ও উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে।

- ফেলুদার প্রধান সহকারী তার খুড়তুতো ভাই তপেশরঞ্জন মিত্র ওরফে তোপসে ও লেখক লালমোহন গাঙ্গুলি (ছদ্মনাম জটায়ু)।
- ফেলুদার চরিত্র নির্মাণে সত্যজিৎ রায় তার ছোটবেলায় পড়া শার্লক হোমস এর গোয়েন্দা গল্পের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।

- তাই ফেলুদার চরিত্রের সাথে অনেক জায়গায় আমরা হোমসের আর ফেলুদার ভাই ও সহকারী তোপসের সাথে হোমসের সহকারী ওয়াটসনের মিল পাওয়া যায়। নিজের লেখা অধিকাংশ গল্পের বইয়ের মতই ফেলুদার বইতেও সত্যজিৎ রায় নিজেই প্রচ্ছদ ও অলংকরণ করতেন।

অন্যদিকে,
- শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসিদ্ধতম সৃষ্টি হলো গোয়েন্দা চরিত্র সত্যান্বেষী- ব্যোমকেশ বক্সী।
- 'টেনিদা' নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের এক অমর সৃষ্টি।
- প্রেমেন্দ্র মিত্রের "মশা" একটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিমুলক ছোটগল্প যা তাঁর জনপ্রিয় চরিত্র ঘনাদার সঙ্গে জড়িত।

উৎস: 'ফেলুদা সিরিজ' এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৩২.
বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা কয়টি?
  1. ৮টি 
  2. ৭টি 
  3. ৬টি 
  4. ৫টি 
ব্যাখ্যা

• বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা:
- যে নায়িকার অন্তরে স্বতঃসিদ্ধ কৃষ্ণরতি থাকে এবং যার রতির মূলে থাকে একমাত্র কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি, যিনি কৃষ্ণপ্রেমে বশীভূত, তাকে সমর্থা নায়িকা বলা হয়।
- বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি এরা সকলেই সমর্থা নায়িকা। এঁদের মধ্যে 'শ্রীরাধা' সর্বশ্রেষ্ঠ নায়িকা হিসেবে বিবেচিত।

পদাবলিতে নায়িকার ৮টি অবস্থা।
যথা:
- অভিসারিকা,
- বাসকসজ্জা,
- উৎকণ্ঠিতা,
- বিপ্রলব্ধা,
- খণ্ডিতা,
- কলহান্তরিতা,
- প্রোষিতভর্তৃকা এবং
- স্বাধীনভর্তৃকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৩.
শাহ মুহম্মদ সগীর কত শতকের কবি ছিলেন 
  1. ১৮ শতকের
  2. ১৭ শতকের
  3. ১৬ শতকের
  4. ১৫ শতকের
ব্যাখ্যা

• শাহ মুহম্মদ সগীর:
- শাহ মুহম্মদ সগীর মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতনামা কবি।
- আনুমানিক ১৪-এর শেষে থকে ১৫ শতকের মধ্যে তাঁর জন্ম।
- তিনি গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সভাকবি ছিলেন।
- তাঁর রচিত  ইউসুফ-জুলেখা কাব্যে গৌড় সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের (১৩৮৯-১৪১০) স্তুতি আছে।
- তিনি সম্ভবত সুলতানের সভাকবি ছিলেন এবং তাঁরই নির্দেশে এ কাব্য রচনা করেন।
- এ থেকে তাঁর আবির্ভাব কাল চৌদ্দ শতকের শেষভাগ থেকে পঞ্চদশ শতকের প্রথমভাগ বলে অনুমান করা হয়। 
- মুহম্মদ সগীরই প্রথম বাংলা ভাষার মাধ্যমে আরবি-ফারসি সাহিত্যের বিষয় এদেশের পাঠকের কাছে তুলে ধরেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৪.
মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক কোনটি?
  1. পদ্মাবতী 
  2. চন্দ্রাবতী 
  3. বসন্তকুমারী
  4. রত্মাবতী
ব্যাখ্যা

• 'বসন্তকুমারী নাটক':
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে 'বসন্তকুমারী নাটক' (১৮৭৩) উল্লেখযোগ্য। এই নাটকটিকে মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক হিসেবে নির্দেশ করা যায়।

- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র, পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের মৃত্যু-এই কাহিনি অবলম্বনে 'বসন্তকুমারী' নাটক রচিত।

- নাটকটির অপর নাম 'বৃদ্ধস্য তরুণী ভার্যা'- কাহিনির তাৎপর্য প্রকাশক। মানুষের দেহাশ্রিত কামনাবাসনার যে বিচিত্র অভিব্যক্তি আধুনিক বাংলা সাহিত্যে রূপ পরিগ্রহ করেছে 'বসন্তকুমারী' নাটকে তা প্রকাশের মাধ্যমে মীর মশাররফ হোসেন মুসলমান সাহিত্যিকগণের মধ্যে পথিকৃৎ হয়ে রয়েছেন।

- কাহিনি গ্রন্থনের সুসংবদ্ধতা, সংলাপের বিচিত্র চাতুরী এবং সর্বাঙ্গীন প্রাণবন্ত ভাবপরিমণ্ডল এই সমস্ত বৈশিষ্ট্যের জন্য নাটকটির স্বাতন্ত্র্য বিবেচ্য।

অন্যদিকে, 
• মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত প্রণয়কাব্য 'পদ্মাবতী'-র রচয়িতা হলেন মহাকবি আলাওল।
• 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।
• মীর মশাররফ হোসেন রচিত 'রত্মাবতী' গদ্যগ্রন্থ/উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৩৫.
নিচের কোন সাহিত্যিকের রচনায় 'জয়গুন' কেন্দ্রীয় চরিত্রের দেখা পাওয়া যায়?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় 
  2. আবু ইসহাক 
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ 
  4. জহির রায়হান 
ব্যাখ্যা

• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।
 
--------------------
• কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল,

গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৬.
'নষ্টনীড়' ছোটগল্পের চরিত্র কোনটি?
  1. চারুলতা
  2. চন্দরা
  3. সুরবালা
  4. রতন
ব্যাখ্যা

•''নষ্টনীড়' ছোটগল্প:
- 'নষ্টনীড়' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত একটি ছোটগল্প।
- 'চারুলতা' এই ছোটগল্পের চরিত্র।

---------------------------
অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আরো কিছু ছোটগল্পের চরিত্র:
- 'দেনাপাওনা' গল্পের নায়িকা- নিরূপমার।
- সমাপ্তি ছোটগল্পের চরিত্র- 'মৃন্ময়ী'।
- 'পোস্টমাস্টার' গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।
- 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
- 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৭.
চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবি কে?
  1. ঘনরাম চক্রবর্তী
  2. মানিক দত্ত
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. দ্বিজমাধব
ব্যাখ্যা

'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল' চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- এই কাব্যের প্রথম / আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। এবং এই কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
 
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক কোনটি?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. কৃষ্ণকুমারী 
  3. নীলদর্পণ
  4. শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও নাটক:
- বাংলা সাহিত্যে মাইকেল মধুসূদন দত্ত  (১৮২৪-৭৩) সগৌরব আবির্ভাব ঘটেছিল নাট্যরচনার সূত্র ধরে। নাটকের দীনহীন অবস্থা প্রত্যক্ষ করে তিনি নাটক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন এবং পরবর্তী পর্যায়ে তাঁর বিশ্বয়কর প্রতিভা বৈচিত্র্যমুখী হয়ে ওঠে।

- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাট্যকার হিসেবে মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্থান সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর প্রথম সার্থক নাটক 'শর্মিষ্ঠা' (১৮৫৯) বাংলা নাটকে প্রাণসঞ্চার করতে সক্ষম হয়। এই নাটকের পূর্বেকার বাংলা নাটকে কৌতুকরসের বাহুল্য, রচনার গুরুভার ইত্যাদি ত্রুটি বিদ্যমান ছিল। মধুসূদন পূর্ববর্তী প্রভাব কাটিয়ে বাংলা নাটককে উদ্দেশ্যহীন গতি থেকে মুক্তি দিয়ে কাহিনিবিন্যাস, ঘটনার সংস্থাপনা এবং কৌতুক-রসের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে এক নতুন জীবনদান করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

- সংস্কৃত আলঙ্কারিকদের বিধিনিষেধ থেকে মুক্তি, কাহিনিতে নিরবচ্ছিন্ন গতি, নাট্যরীতিতে পাশ্চাত্য আদর্শ গ্রহণ ইত্যাদির ফলে বাংলা নাটক তাঁর হাতেই ভাবীকালের পথের সন্ধান পেয়ে সার্থকতর সৃষ্টির পর্যায়ে উন্নীত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৩৯.
'নবকুমার' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. কপালকুণ্ডলা
  3. বিষবৃক্ষ
  4. মৃণালিনী 
ব্যাখ্যা

• 'নবকুমার' হচ্ছে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের চরিত্র।

• 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস:
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনী গড়ে উঠেছে।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।
- উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।

-------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস এবং চরিত্র সমূহ:
- কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসের চরিত্র: রোহিনী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর। 
- দুর্গেশনন্দিনী - চরিত্র- আয়েশা, তিলোত্তমা।  
- কপালকুণ্ডলা - চরিত্র- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক। 
- মৃণালিনী - চরিত্র- হেমচন্দ্র, মৃনালিনী, পশুপতি, মনোরমা।
- বিষবৃক্ষ - চরিত্র- কুন্দনন্দিনী,নগেন্দ্রনাথ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪০.
সংস্কৃত 'পঞ্চতন্ত্র' থেকে অনূদিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. তোতা ইতিহাস
  2. রাজাবলি 
  3. হিতোপদেশ
  4. লিপিমালা
ব্যাখ্যা

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- উইলিয়াম কেরির অধীনস্থ প্রধান পণ্ডিত মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (১৭৬২-১৮১৯) বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২), রাজাবলি (১৮০৮), হিতোপদেশ (১৮০৮), বেদান্তচন্দ্রিকা (১৮১৭) ও প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)-এই পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।

- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার শুধু অধ্যাপক পণ্ডিতই ছিলেন না, তিনি সে যুগের বহু জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তাঁর শাস্ত্রজ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের খ্যাতি সে আমলে প্রবাদ বাক্যের মত ছড়িয়ে পড়েছিল। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ লেখক মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।

- তিনি ছিলেন ভাষাবিদ ও ভাষাশিল্পী। প্রয়োজনানুসারী ভাষারীতির প্রবর্তনে তিনি যুগোপযোগী সার্থকতা অর্জন করেছিলেন। তাঁর বাক্যগঠনে ত্রুটি থাকলেও বাক্যের প্রাঞ্জলতা ও গাল্পিক কৌতূহল অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

- সংস্কৃত 'পঞ্চতন্ত্র' থেকে অনূদিত 'হিতোপদেশ' গ্রন্থের ভাষা সংস্কৃতানুগ। কিংবদন্তি ও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে রচিত 'রাজাবলি' গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠু রূপ নিয়েছে। আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

- 'বেদান্তচন্দ্রিকা' গ্রন্থের নামপত্রে মৃত্যুঞ্জয়ের নামোল্লেখ না থাকলেও তা তাঁর নিজের রচনা বলে অনুমিত। এর মধ্যে বহু সংস্কৃত গ্রন্থের এবং বেদান্ত সূত্র-ভাষ্যাদির অংশবিশেষ অনূদিত হওয়ায় তাকে স্বাধীন রচনা বলে মনে করা যায় না। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৪১.
'হোসেন মিয়া' কোন ঔপন্যাসিকের সৃষ্ট চরিত্র?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. জহির রায়হান 
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৪২.
বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. বৃদ্ধাবন দাস 
  2. লোচন দাস
  3. কৃষ্ণদাস 
  4. গোবিন্দদাস 
ব্যাখ্যা

• শ্রীচৈতন্যদেব ও জীবনীসাহিত্য:
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত। তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'৷
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৩.
দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম নাটকের অনুবাদ প্রকাশকের দায়ে কাকে রাজদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছিলো?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত 
  2. রেভারেন্ড জেমস লং
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. হ্যারিয়েট বিচার স্টো
ব্যাখ্যা

• 'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম নাটক বেনামীতে মুদ্রিত 'নীলদর্পণ' (১৮৬০)। এদেশে নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের চিত্র এতে অঙ্কিত হয়েছে।

- নাটকটিতে নাট্যকারের প্রত্যক্ষ স্বজাতি-প্রেম এবং বিদেশী শাসকের প্রজাপীড়নের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। নাটকটির নাম ছিল 'নীলদর্পণম নাটকম' এবং বিজ্ঞপ্তিটি ছিল: ‘নীলকর-বিষধর-দংশনকাতর-প্রজা নিকর-ক্ষেমঙ্করেণ কেনাচৎ পথিকেনাভি প্রণীতম।' নাটকে নাট্যকারের নাম ছিল না।

- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালে A Native ছদ্মনামে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে “নীলদর্পণ” নাটকটি অনুবাদ করেন। এবং অনুবাদের প্রকাশক হিসেবে নাম থাকায় পাদ্রী রেভারেন্ড জেমস লং রাজদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন।

- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর “নীলদর্পন” নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় “নীলদর্পন” নাটকটিকে uncle toms cabin এর সাথে তুলনা করেছেন।

- নীলকরেরা কি ধরনের অত্যাচার করত সে সম্পর্কে যোগেশচন্দ্র বাগল লিখেছেন, 'নীলকর কর্তৃক টাকা দাদন দিয়ে উৎকৃষ্ট জমিতে নীল চাষে চাষীকে প্ররোচনা, আশানুরূপ ফসল না হলে পর বছর নীল উৎপাদনে তাকে বাধ্য করান, নীল চাষের জন্য দশ বছরের চুক্তি, পুরুষানুক্রমে নীলকরের আজ্ঞাবহ প্ৰজায় পরিণতি, নীলকরদের জমিদারী তালুকদারী ক্রয়, প্রজাবৃন্দদের দ্বারা বেগার খাটান, চুক্তি ভঙ্গকারী চাষিদের নীলকুঠিতে কয়েদ করে রাখা ইত্যাদি অত্যাচার ও নিপীড়নের চিত্র ফুটে উঠেছে।
 - বাস্তব চিত্র রূপায়ণের ফলে সে আমলে নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রবল আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম। 

৪৪.
'মদনিকা' ও 'ভীম-সিংহ' কোন নাটকের চরিত্র?
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. শর্মিষ্ঠা
  3. পদ্মাবতী
  4. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
ব্যাখ্যা

'কৃষ্ণকুমারী' নাটক:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থথেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো: কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, ভীম-সিংহ, জগৎসিংহ, ধনদাস প্রমুখ।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী।

• 'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' - মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৫.
বাংলা গদ্যকে পাঠ্যপুস্তকের গণ্ডি থেকে মুক্ত করার কৃতিত্ব কার?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 
  2. প্রমথ চৌধুরী 
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• রাজা রামমোহন রায়:
বাংলা গদ্যকে পাঠ্যপুস্তকের গণ্ডি থেকে মুক্ত করার কৃতিত্ব যুগপুরুষ রাজা রামমোহন রায়-এর (১৭৭৪-১৮৩৩)। উনিশ শতকের নবজাগরণের অগ্রনায়ক ছিলেন তিনি। তাঁর উদ্যোগ ও চর্চায় বাংলা গদ্য এ সংস্কার আন্দোলনেরমাধ্যম হয়ে ওঠে ৷ সমাজ ও ধর্ম বিষয়ে প্রাণবন্ত তর্ক বিতর্কের লিখিত গদ্যরূপ বিভিন্ন পত্রিকায় ও পুস্তিকায় প্রকাশিত হয়। এ ভাবেই বাংলা গদ্য বিকাশধারার পথ খুঁজে পায়। আলোচনা “বিতর্ক ও মীমাংসা' এবং ধর্মতত্ত্বের বাহন হিসেবে বাংলা গদ্যের অমিত সম্ভাবনাকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রামমোহন রায়।

 রামমোহন রায় রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হল:
- 'বেদান্ত গ্রন্থ' (১৮১৫),
- 'বেদান্ত সার' (১৮১৫), 
- 'গোস্বামীর সহিত বিচার' (১৮১৮), 
- সহমরণ বিষয়ক, 
- প্রবর্তক নির্বর্তক সম্বাদ। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক সাহিত্য প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪৬.
'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।'- বিখ্যাত উক্তিটি কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল 
  3. চণ্ডীমঙ্গল 
  4. ধর্মমঙ্গল 
ব্যাখ্যা

'প্রণমিয়া পাটুনী কহিছে জোড় হাতে
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।।'

- আলোচ্য পঙক্তিটি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত অন্নদামঙ্গল কাব্যের 'আমার সন্তান' কবিতার অন্তর্গত।
- এখানে লেখক 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'- কথাটি ঈশ্বরী পাটনীর মুখ দিয়ে বলিয়েছেন।

-----------------------
"অন্নদামঙ্গল" কাব্য:

- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
-সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৭.
ভাষার প্রথম মৌলিক নাটক 'ভদ্রার্জুন' কত সালে রচিত হয়?
  1.  ১৭৫২ সালে 
  2.  ১৮৫২ সালে 
  3.  ১৮৫৪ সালে 
  4.  ১৮৫৫ সালে 
ব্যাখ্যা

• 'ভদ্রার্জুন' নাটক:
- ১৮৫২ সালে রচিত তারাচাঁদ শিকদারের 'ভদ্রার্জুন' কেই বাংলা ভাষার প্রথম মৌলিক নাটক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
- ‘ভদ্রার্জুন' ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।
- ‘ভদ্রার্জুন' নাটকের কাহিনি অর্জুন কর্তৃক সুভদ্রাহরণ। মহাভারত থেকে কাহিনি সংগ্রহ করা হলেও বাঙালি সমাজের বাস্তব পরিবেশ এতে অঙ্কিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৪৮.
'বাঁধন-হারা' উপন্যাসের নায়ক চরিত্র কোনটি?
  1. রবিউল
  2. মাহাবুব
  3. জাহাঙ্গীর
  4. নুরুল হুদা
ব্যাখ্যা

• 'বাঁধন-হারা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস। এতে ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি মুসলিম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার সময় নজরুল এর দুটি নাম ঠিক করেন ‘বাধন-হারা ও 'তাহমিনা'। পরে ‘বাধন-হারা' নামেই গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা। অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে - রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৯.
'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' কাব্যের রচয়িতা কে? 
  1. রামনিধি গুপ্ত 
  2. শুকুর মাহমুদ 
  3. ভীমসেন রায়
  4. শ্যামাদাস সেন
ব্যাখ্যা

• নাথ সাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথ সাহিত্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে,
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
- এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে ।

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য হলো:
- 'গোরাক্ষ বিজয়' এর রচয়িতা শেখ ফয়জুল্লাহ। 
- 'গোপীচন্দ্রের সন্যাস' এর রচয়িতা শুকুর মাহমুদ। 
- 'মীনচেতন' এর রচয়িতা শ্যামাদাস সেন।
- 'ময়নামতির গান' এর রচয়িতা ভবানী দাস।
- 'গোর্খবিজয়' এর রচয়িতা ভীমসেন রায়।

---------------------------
• শুকুর মাহমুদ (১৬৬৫-১৭৩৫) মধ্যযুগের একজন সাধক কবি।
- তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম আবদুল শুকুর মাহমুদ।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম - গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫০.
বাংলা গদ্যকে সাহিত্যের বাহনের মর্যাদায় উন্নীত করেছেন কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. হরপ্রসাদ রায় 
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. চণ্ডীচরণ মুনশী
ব্যাখ্যা

• বাংলা গদ্য ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান:
- বাংলা গদ্যকে সাহিত্যের বাহনের মর্যাদায় উন্নীত করলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর(১৮২০-৯১)। ভাব ও বিষয় অনুসারে বাক্যবিন্যাস এবং ইংরেজি ভাষার আদলে বিভিন্ন বিরাম-চিহ্নের ব্যবহার করে বাংলা গদ্যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার কৃতিত্বও তাঁর৷

- বাংলা গদ্যের অবয়ব-নির্মাণে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেছিলেন। গদ্যের অনুশীলন পর্যায়ে বিদ্যাসাগর সুশৃঙ্খলতা, পরিমিতিবোধ ও ধ্বনিপ্রবাহে অবিচ্ছিন্নতা সঞ্চার করে বাংলা গদ্যরীতিকে উৎকর্ষের এক উচ্চতর পরিসীমায় উন্নীত করেন। সেজন্য বাংলা গদ্যশেলার উদ্ভবের পয়তাল্লিশ বৎসর পরে লেখ ধারণ করা সত্ত্বেও তাঁকে 'বাংলা গদ্যের জনক' বলা হয়ে থাকে। বস্তুতপক্ষে, বিদ্যাসাগরের সৃষ্ট গদ্যরীতির প্রভাবেই পরবর্তী পর্যায়ে বাংলা গদ্যের পরিণত রূপের সৃষ্টি হয়।

- মাইকেল মধুসূদনের মতে, 'প্রাচীন ঋষির জ্ঞান ও প্রতিভা, ইংরেজের কর্মশক্তি এবং বাঙালি মায়ের হৃদয় দিয়ে তাঁর ব্যক্তিত্ব গঠিত।' 
- রবীন্দ্রনাথ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে অভিহিত করেছেন বাংলা গদ্যের প্রথম শিল্পী অভিধায়। তবে বিদ্যাসাগর সৃষ্টিশীল সাহিত্যিক ছিলেন না। তিনি প্রধানত অনুবাদক, পাঠ্যগ্রন্থ প্রণেতা এবং শিক্ষা-সমাজ সাহিত্য বিষয়ের প্রবন্ধকার।

তাঁর অনুদিত ও রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হচ্ছে: 
- বেতাল পঞ্চবিংশতি (১৮৪৭), 
- শকুন্তলা (১৮৫৪),
- সীতার বনবাস (১৮৬০),
- ভ্রান্তিবিলাস (১৮৬৯),
- বাঙ্গালার ইতিহাস (১৮৪৮),
- জীবনচরিত(১৮৪৯),
- সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্য শান্ত্রবিষয়ক প্রস্তাব (১৮৫৩),
- বিদ্যাসাগর চরিত (১৮৯১) ইত্যাদি।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথমপত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।