পরীক্ষা আর্কাইভ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

পরীক্ষাশিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৬
সিলেবাস
"পরীক্ষা – ২৬ বিষয়: বাংলা ব্যাকরণ টপিক: বানান ও বাক্য সংশোধন বা শুদ্ধকরণ/প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ, লিঙ্গ পরিবর্তন। উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।)"
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৬ প্রশ্ন

.
নিচের কোন বাক্যে বহুবচনজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. সকল বালিকা প্রভাতফেরিতে গেছে।
  2. সমুদয় পক্ষীই নীড় বাঁধে।
  3. আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।
  4. যাবতীয় প্রাণী এই গ্রহের বাসিন্দা।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।
• শুদ্ধ বাক্য: আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।

• বহুবচনের অপপ্রয়োজনিত অশুদ্ধি:
বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এর ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে একবার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা ইত্যাদি যুক্ত হবে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. স্বায়ত্তশাসন
  2. স্বায়ত্তসাশন
  3. স্বায়ত্ত্বশাসন
  4. সায়ত্ত্বশাসন
ব্যাখ্যা
•  শুদ্ধ বানান: স্বায়ত্তশাসন।

• স্বায়ত্তশাসন (বিশেষ্য),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় = (স্বায়ত্ত + শাসন),
অর্থ: স্বশাসিত রাষ্ট্র।

- স্বায়ত্তশাসন হলো সংবিধান স্বীকৃত উপায়ে প্রদেশে 'স' শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- অর্থাৎ সংবিধানের আওতাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ মুক্ত থেকে প্রাদেশিক সরকার পরিচালনা করাকে স্বায়ত্তশাসন বলা হয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. ফুল গুলো আমাকে দাও।
  2. আমায় একা রেখে যেও না।
  3. সে অনেক দিন চিঠি লেখেনা।
  4. অপ্রয়োজনীয় গ্রন্থ সমূহ সরিয়ে রাখো।
ব্যাখ্যা
‘টি, টা, খানা, খানি, গুলি, গুলো, রা, এরা, গণ, বৃন্দ, সমূহ’এর প্রয়োগ:
• টি, -টা, -খানা, -খানি, -গুলি, -গুলো, -রা, - এরা, গণ, -বৃন্দ, -সমূহ এইগুলো কখনোই আলাদা বসবে না।
আবার একবচন শব্দের সঙ্গে -টি, টা, খানা, খানি, -কিংবা, -গুলি, -গুলো, -রা, -এরা, -গণ, সমূহ যোগ করে যখন বহুবচন করা হবে তখনও শব্দগুলো আলাদা বসবে না।
• আমরা ভুল করে লিখি- বই গুলো, চিঠি গুলো, গ্রন্থ সমূহ ইত্যাদি। প্রকৃতপক্ষে এগুলো সবই জোড়া লাগবে; তাই লিখতে হবে বইগুলো, চিঠিগুলো, গ্রন্থসমূহ। কিন্তু সমূহ আনন্দ, সমূহ বিপদ, সমূহ ক্ষতি, সমূহ সর্বনাশ এসব ক্ষেত্রে আলাদা হবে।

•‘না, নেই, নয়’ এর প্রয়োগ:
না, নাই, নয় এই নেতিবাচক শব্দ সবসময় পৃথক শব্দ হিসেবে বসবে। কখনো কোনো শব্দের সঙ্গে জুড়ে যাবে না। যেমন- করিনা, যাইনা, যেওনা, লেখেনা ইত্যাদি না হয়ে, হবে- করি না, যাই না, যেও না, লেখে না ইত্যাদি।

অতএব নিয়ম অনুসারে,
• শুদ্ধ বাক্য: আমায় একা রেখে যেও না।

অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
- ফুলগুলো আমাকে দাও।
- অপ্রয়োজনীয় গ্রন্থসমূহ সরিয়ে রাখো।
- সে অনেক দিন চিঠি লেখে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. অশ্রুতপুর্ব
  2. ইতপূর্বে
  3. শুশ্রূষা
  4. মরুদ্যান
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - শুশ্রূষা।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়- [শুশ্রূষা+√কৃ+ইন্+ঈ]
অর্থ: পরিচর্যা, সেবা।

অন্যান্য বানানের শুদ্ধরূপ হলো:
• শুদ্ধ বানান: অশ্রুতপূর্ব।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: পূর্বে কখনো শোনা যায়নি এমন।

শুদ্ধ বানান: ইতঃপূর্বে,
- ‘ইতঃ’ সংস্কৃত এবং ‘পূর্ব’ বাংলা শব্দ।
- অর্থ: এর আগে।

• শুদ্ধ বানান - মরূদ্যান,
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = (মরু + উদ্যান),
অর্থ: মরুভূমিতে অবস্থিত জল ও বৃক্ষদিপূর্ণ স্থান।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. সতীন
  2. এয়ো
  3. শ্রীমতী
  4. অরক্ষণীয়া
ব্যাখ্যা
• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয়- শ্রীমতি।
- মান এর যায়গায় মতি বসিয়ে প্রত্যয়যোগে পুরুষবাচক 'শ্রীমন' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ শ্রীমতী হয়েছে।

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ বলে।
যেমন: এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা, কুলটা, বিধবা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি।

নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ:
কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ বলে।
যেমন: কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
.
‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. বিশিষ্টতা
  2. স্বতন্ত্রতা
  3. সৌন্দর্যতা
  4. চঞ্চলতা
ব্যাখ্যা
• ‘সৌন্দর্যতা’ শব্দে ‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: সৌন্দর্য, সুন্দরতা।

• ‘তা’ এবং ‘ত্ব’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
অশুদ্ধরূপ - শুদ্ধরূপ:
• অধৈর্যতা - অধৈর্য, ধীরতা।
• আলস্যতা - আলস্য, অলসতা।
• স্বাতন্ত্র‌্যতা - স্বাতন্ত্র‌্য, স্বতন্ত্রতা।
• ঐক্যতা - ঐক্য, একতা।
• দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা।
• বৈশিষ্ট্যতা -বৈশিষ্ট্য, বিশিষ্টতা
• কার্পণ্যতা - কার্পন্য, কৃপণতা।
• চাঞ্চল্যতা - চাঞ্চল্য, চঞ্চলতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
নিম্নের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. মনঃক্ষুন্ন
  2. যশাকাঙ্ক্ষা
  3. প্রতিদ্বন্দ্বিতা
  4. হীনম্মন্যতা
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান: মনঃক্ষুন্ন।

• শুদ্ধ বানান: মনঃক্ষুণ্ণ (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: মানসিকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে এমন, বিষণ্ণ, হতাশ।

অন্যদিকে,
• যশাকাঙ্ক্ষা (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: যশ বা খ্যাতির প্রত্যাশা।

• হীনম্মন্যতা (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: নিজের সম্বন্ধে হীন ধারণা পোষণ।

শুদ্ধ বানান: প্রতিদ্বন্দ্বিতা (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: পরস্পরের দ্বন্দ্ব বা বিরোধ, প্রতিযোগিতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
বাগ্‌ধারার বিকৃতিজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. উলুবনে মুক্তা ছড়িয়ে লাভ নেই।
  2. কলারপাতে ভাত খাই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাই।
  3. লোকটির যেন শিং মাছের প্রাণ, এত কষ্টেও মরেনি।
  4. কাঁচা পয়সা পাও তো, তাই খরচ করতে অসুবিধা হয় না।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: লোকটির যেন শিং মাছের প্রাণ, এত কষ্টেও মরেনি।
• শুদ্ধ: লোকটির যেন কৈ মাছের প্রাণ, এত কষ্টেও মরেনি।

• বাগ্‌ধারার বিকৃতিজনিত অশুদ্ধি:

বাগ্‌ধারা ভাষার সৌন্দর্যবর্ধন, অর্থের স্পষ্টতা এবং ভাবের ব্যঞ্জনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অথচ এ বাগ্‌ধারার অপপ্রয়োগ দেখ যায়, ফলে বাগ্‌ধারার সমন্বয়ে গঠিত বাক্যটি অশুদ্ধ হিসেবে পরিগণিত হয়।

যেমন:
• অশুদ্ধ: উলুবনে সোনা ছড়িয়ে লাভ নেই।
• শুদ্ধ: উলুবনে মুক্তা ছড়িয়ে লাভ নেই।

• অশুদ্ধ: কলার পাতে ভাত খাই ঘোলের স্বাদ দুধে মেটাই।
• শুদ্ধ: কলারপাতে ভাত খাই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাই।

• অশুদ্ধ: কাঁচা টাকা পাও তো, তাই খরচ করতে অসুবিধা হয় না।
• শুদ্ধ: কাঁচা পয়সা পাও তো, তাই খরচ করতে অসুবিধা হয় না।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. নির্দ্দিষ্ট
  2. ধর্ম্মসভা
  3. পর্ব্বত
  4. কার্যালয়
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: কার্যালয়।

• বানানের নিয়ম:
রেফ এর পর তৎসম, অতৎসম শব্দে ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
যেমন:
- কার্য্যালয় হবে না, সঠিক বানান হবে কার্যালয়।
- নির্দ্দিষ্ট হবে না, সঠিক বানান নির্দিষ্ট।
- ধর্ম্মসভা বানানটি ভুল, সঠিক বানান হবে ধর্মসভা।
- তেমনি ভাবে পর্ব্বত হবে না , সঠিক বানান হবে পর্বত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।।
১০.
প্রবাদ-প্রবাচনের শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. আষাঢ়ের তর্জনগর্জন।
  2. দশচক্রে ভগবান ভূত।
  3. খালি কলসির গর্জন বেশি।
  4. ঘরের খেয়ে পরের মোষ তাড়ানো।
ব্যাখ্যা
• সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।

যেমন:
অশুদ্ধ: খালি কলসির গর্জন বেশি।
শুদ্ধ প্রয়োগ: খালি কলসির বাজনা বেশি।

অশুদ্ধ: দশচক্রে ঈশ্বর ভূত।
শুদ্ধ প্রয়োগ: দশচক্রে ভগবান ভূত।

অশুদ্ধ: ঘরের খেয়ে পরের মোষ তাড়ানো।
শুদ্ধ প্রয়োগ: ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো।

অশুদ্ধ: আষাঢ়ের তর্জনগর্জন।
শুদ্ধ বাক্য: অসারের তর্জনগর্জন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য।
  2. মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
  3. তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
  4. পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য।
• শুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য/দুর্নিবার।

------------------------
• বাক্যে যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করায় বাক্য গঠনে ভুল হয়। 
যেমন-
• অশুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
• শুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।

• অশুদ্ধ: তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
• শুদ্ধ: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।

• অশুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
• শুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২.
নিচের কোন বাক্যে বহুবচনজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. গরুগুলো মাঠে চরে বেড়াচ্ছে।
  2. প্রতিটি গ্রামে গ্রামে এ খবর দিয়ে দাও।
  3. আমাদের কলেজের সব ছাত্রই আজ উপস্থিত।
  4. ভাইসব মনোযোগ দিয়ে শুনুন।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্য: প্রতিটি গ্রামে গ্রামে এ খবর দিয়ে দাও।
• শুদ্ধ বাক্য: প্রতিটি গ্রামে এ খবর দিয়ে দাও।

অপশনের অন্যান্য বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• আমাদের কলেজের সব ছাত্রই আজ উপস্থিত।
• গরুগুলো মাঠে চরে বেড়াচ্ছে।
• ভাইসব মনোযোগ দিয়ে শুনুন।

-----------------------------
• বহুবচনের অপপ্রয়োজনিত অশুদ্ধি:
বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এর ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে একবার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা ইত্যাদি যুক্ত হবে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. শুভঙ্কর
  2. কঙ্কাল
  3. লঙ্ঘন
  4. শৃঙ্খলা
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: শুভঙ্কর।
• শুদ্ধরূপ: শুভংকর।

• বানানের নিয়ম:
- সন্ধির ক্ষেত্রে ক, খ, গ, ঘ পরে থাকলে পূর্ব পদের অন্তস্থিত ম্ স্থানে অনুস্বার (ং) হবে।
যেমন:
- অহম্ + কার = অহংকার।

• এরূপ- ভয়ংকর, সংগীত, শুভংকর, হৃদয়ংগম, সংঘটন।

- সন্ধিবদ্ধ না হলে ‘ঙ’ স্থানে ‘ং’ হবে না।
যেমন:
অঙ্ক, অঙ্গ, আকাঙ্ক্ষা, আতঙ্ক, কঙ্কাল, গঙ্গা, বঙ্কিম, বঙ্গ, লঙ্ঘন, শঙ্কা, শৃঙ্খলা, সঙ্গে, সঙ্গী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪.
সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগের উদাহরণ কোনটি?
  1. সুস্বাগত
  2. শ্রেষ্ঠতম
  3. সুবুদ্ধিমান
  4. আয়ত্তাধীন
ব্যাখ্যা
• 'সুবুদ্ধিমান', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ। 
এর শুদ্ধরূপ: সুবুদ্ধি, বুদ্ধিমান। 

অন্যদিকে,
• 'শ্রেষ্ঠতম' -তম প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: শ্রেষ্ঠ, সর্বশ্রেষ্ঠ। 

• 'সুস্বাগত', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: স্বাগত।
 
• 'আয়ত্তাধীন', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: আয়ত্ত / অধীন। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫.
‘ইনি’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ-
  1. বেদে - বেদেনি
  2. জেলে - জেলেনি
  3. বাঘ - বাঘিনি
  4. ধোপা - ধোপানি
ব্যাখ্যা
• নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়।
যেমন-

‘ইনি’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• কাঙাল - কাঙালিনি;
• বাঘ - বাঘিনি।

‘ই’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• দাদা - দাদি;

‘আ’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• প্রিয় - প্রিয়া;
• কনিষ্ঠ - কনিষ্ঠা।

‘ইনী’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• বিজয়ী - বিজয়িনী;
• যোগী - যোগিনী;
• তেজস্বী - তেজস্বিনী।

‘নি’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• জেলে - জেলেনি;
• বেদে - বেদেনি;
• ধোপা - ধোপানি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১৬.
বাহুল্য প্রয়োগজনিত অশুদ্ধি রয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।
  2. অপমানিত হবার ভয় নেই।
  3. তার সৌজন্যে মুগ্ধ হয়েছি।
  4. বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ। 
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণের কিংবা বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল:
বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তন করে এ ধরনের ভুল করা হয়। যেমন : আবশ্যক শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বদলে -ঈয় প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয়। 

অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো- 
• অশুদ্ধ : অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
• শুদ্ধ বাক্য: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।

• অশুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ। 
• শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।

• অশুদ্ধ: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দিহান।
• শুদ্ধ বাক্য: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।

অন্যদিকে,
অপশনে প্রদত্ত অন্যান্য শুদ্ধবাক্য-
- অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।
- অপমানিত হবার ভয় নেই।
- তার সৌজন্যে মুগ্ধ হয়েছি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।