পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন১৬
সিলেবাস
বাংলা সাহিত্য: টপিকসমূহ: ১. বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাগ; ২. বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ; ৩. অন্ধকার যুগ ও তাঁর সাহিত্যকর্ম; ৪. কবি সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম ও উপাধি; ৫. সাহিত্য বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা ও সাময়িকী; ৬. বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের বিভিন্ন সাহিত্য কর্মের গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ/উক্তি। উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], যেকোনো একজন ভালো একাডেমিক লেখকের বই; বাংলাপিডিয়া; বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ১৬ প্রশ্ন

.
হাসন রাজার উপাধি ছিল-
  1. ক) চারণ কবি
  2. খ) মরমি কবি
  3. গ) কবি কঙ্কণ
  4. ঘ) লৌকিক কবি
সঠিক উত্তর:
খ) মরমি কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মরমি কবি
ব্যাখ্যা
• হাসন রাজা এর প্রকৃত নাম অহিদুর রেজা।
- তাঁর উপাধি মরমি কবি।
- তিনি সিলেট জেলার সুনামগঞ্জে লক্ষ্মণশ্রী গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতৃকুল ও মাতৃকুল উভয়ই ছিল অযোধ্যাবাসী এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বী।
- পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তাঁরা সুনামগঞ্জ আসেন এবং সেখানেই স্থায়িভাবে বসবাস শুরু করেন।

• তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত গান হলো
- 'লোকে বলে বলেরে, ঘর বাড়ি ভালা নায় আমার'
- 'মাটির পিঞ্জিরার মাঝে বন্দী হইয়ারে',
- 'আঁখি মুঞ্জিয়া দেখ রূপরে',
- 'সোনা বন্ধে আমারে দেওয়ানা বানাইল',
- 'মরণ কথা স্মরণ হইল না হাছন রাজা তোর',
- 'আমি যাইমুরে যাইমুরে আল্লার সঙ্গে',
- 'কানাই তুমি খেইর খেলাও কেনে',
- 'একদিন তোর হইব রে মরন রে হাসন রাজা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
খনা ছিলেন-
  1. ক) কৃষানী
  2. খ) কৃষকের কন্যা
  3. গ) সিংহলের রাজকন্যা
  4. ঘ) সিংহলের বিখ্যাত চিকিৎসক
সঠিক উত্তর:
গ) সিংহলের রাজকন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সিংহলের রাজকন্যা
ব্যাখ্যা
ডাক ও খনার ব্যক্তি পরিচয় সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় নি।
- খনা ছিলেন জ্যোতির্বিদ। 
- তাঁর সম্পর্কে প্রচলিত গল্পে বলা হয়েছে - খনা ছিলেন সিংহলের রাজকন্যা। 
- মহারাজ বিক্রমাদিত্যর রাজসভার নবরত্নের অন্যতম ছিলেন জ্যোতির্বিদ বরাহ। 
- বরাহের সিংহল প্রবাসী পুত্র রাজকন্যা খনা কে বিয়ে করে উজ্জয়িনীতে নিয়ে আসেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
.
'প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়' কোন সাহিত্যিকের প্রকৃত নাম?
  1. ক) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, এর জন্ম ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।  

তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক (১৯৩৭), সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ (১৯৪৩), হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প (১৯৪৬),
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলাপিডিয়া।
.
কোন কবি ‘গুণরাজ খান’ উপাধি লাভ করেছিলেন?
  1. ক) মালাধর বসু
  2. খ) ভারতচন্দ্র রায়
  3. গ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. ঘ) কানাহরি দত্ত
সঠিক উত্তর:
ক) মালাধর বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মালাধর বসু
ব্যাখ্যা
• মালাধর বসু ‘গুণরাজ খান’ উপাধি লাভ করেছিলেন।

• মালাধর বসু ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
- তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ।
- মালাধরের একমাত্র কাব্য শ্রীকৃষ্ণবিজয়ের রচনাকাল ১৩৯৫-১৪০২ শকাব্দ (১৪৭৩-১৪৮০ খ্রি)।
- চৈতন্যদেবের (১৪৮৬-১৫৩৩) সন্ন্যাস গ্রহণের পূর্বে ভাগবতকে প্রথম বাংলায় প্রচার ও জনপ্রিয় করে তোলার কৃতিত্ব মালাধর বসুর।
- মালাধর বসু বর্ধমান জেলার কাটোয়ার নিকটবর্তী কুলীন গ্রামে সম্ভবত পনের শতকের প্রথমার্ধে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
.
"পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি" বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কোন কবিতায় পাওয়া যায়?
  1. ক) আঠারো বছর বয়স
  2. খ) সাম্যবাদী
  3. গ) বিদ্রোহী
  4. ঘ) হে মহাজীবন
সঠিক উত্তর:
ঘ) হে মহাজীবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হে মহাজীবন
ব্যাখ্যা
• আলোচ্য পঙক্তিটি কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের 'হে মহাজীবন' কবিতার অন্তর্গত। 
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

হে মহাজীবন
(ছাড়পত্র) - সুকান্ত ভট্টাচার্য

হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য-ঝঙ্কার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!
প্রয়োজন নেই, কবিতার স্নিগ্ধতা-
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী-গদ্যময়ঃ
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হল:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: ছাড়পত্র, সুকান্ত ভট্টাচার্য।
.
'এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়' পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সমর সেন
  2. খ) হেলাল হাফিজ
  3. গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. ঘ) রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
খ) হেলাল হাফিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হেলাল হাফিজ
ব্যাখ্যা
• আলোচ্য পঙক্তিটি হেলাল হাফিজ এর ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ কাব্যগ্রন্থের 'নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়' কবিতার অন্তর্গত- 
কবিতাটি নিম্নরূপ - 
"এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
মিছিলের সব হাত/কণ্ঠ/পা এক নয়।" 

- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ২০টিরও বেশি সংস্করণ হয়েছে। যা এর আগে বাংলাদেশের কোনো কবিতার বইয়ের বেলায় ঘটেনি।

• তাঁর কাব্যগ্রন্থসমূহ-
- যে জলে আগুন জ্বলে (১৯৮৬)
- কবিতা ৭১ (বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায়, একুশে বইমেলা ২০১২)
- বেদনাকে বলেছি কেঁদোনা (২০১৯)

উৎস: যে জলে আগুন জ্বলে, হেলাল হাফিজ।
.
সাহিত্য রচনা না করেও কার নামে একটি যুগের সৃষ্টি হয়েছে?
  1. ক) চণ্ডীদাস
  2. খ) আলাওল
  3. গ) বিদ্যাপতি
  4. ঘ) শ্রীচৈতন্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) শ্রীচৈতন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শ্রীচৈতন্য
ব্যাখ্যা
শ্রীচৈতন্যেদেব বাংলা সাহিত্যে একটি পঙক্তি না লিখেও তাঁর নামে একটি যুগের সৃষ্টি হয়েছে।  
- শ্রীচৈতন্যের প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। 
- শ্রীচৈতন্যের ডাকনাম নিমাই।  
- শ্রীচৈতন্যেদেবের  জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলা জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়।  
- শ্রীচৈতন্যেদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
‘আঁপণা মাংসে হরিণা বৈরী’ প্রবাদটির রচয়িতা কে?
  1. ক) শবরপা
  2. খ) কুক্কুরী পা
  3. গ) কাহ্নপা
  4. ঘ) ভুসুকু পা
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভুসুকু পা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভুসুকু পা
ব্যাখ্যা
‘আঁপণা মাংসে হরিণা বৈরী’- ভুসুকু পা রচিত চর্যাপদের ৬নং পদ।

চর্যাগীতি রচনার সংখ্যাধিক্যে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকু পা।
- তাঁর রচিত আটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে রচিত। 
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকু নামটিকে ছদ্মনাম বলে মনে করা হয়।
- তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।

তাঁর রচিত চর্যাপদের নমুনা-
"কাহৈরি ঘিনি মেলি অচ্ছহু কীস।
বেটিল ডাক পড়অ চৌদীস।।
আপণা মাংসে হরিণা বৈরী।
খনহ ন ছাড়অ ভুসুকু আহেরী।।" 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
.
মীর মশাররফ হােসেন সাহিত্য রচনা করেছেন কোন ছদ্মনামে ?
  1. ক) কমলাকান্ত
  2. খ) উদাসীন পথিক
  3. গ) পরশুরাম
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
খ) উদাসীন পথিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উদাসীন পথিক
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন যেসকল ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন- 
- গৌড়তটবাসী মশা 
- গাজী মিয়াঁ এবং
- উদাসীন পথিক।

• 'উদাসীন পথিক' ছদ্মনামে মশাররফ হোসেন তাঁর ব্যক্তিজীবনের পটভূমিতে রচনা করেছেন 'উদাসীন পথিকের মনের কথা' (১৮৯০)। 
- গ্রন্থটি লেখকের আত্মজীবন নির্ভর কতিপয় বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনা মিশেল উপন্যাসসূলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা। 

• 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে মশাররফ হোসেন তাঁর কর্মজীবন নির্ভর আত্মজীবনী মূলক রচনা 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী'।
- এতে লেখক নিজেকে ভেড়াকান্ত নামে উল্লেখ করেন। 
- এতে বঙ্কিমের 'কমলাকান্তের দপ্তর' -এর প্রভাব পাওয়া যায়। 

অন্যদিকে, 
কমলাকান্ত - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
পরশুরাম - রাজশেখর বসু এর ছদ্মনাম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০.
চর্যাপদের মোট পদসংখ্যা কতটি?
  1. ক) সাড়ে ৪৬
  2. খ) সাড়ে ৪৭
  3. গ) ৫০
  4. ঘ) ৫১
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৫১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৫১
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদের মোট পদসংখ্যা ৫১ টি। 
- চর্যাপদের ৫১ টি পদের মধ্যে সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়। 

- চর্যাপদের মোট ৩ টি পদ পাওয়া যায়নি এবং ১ টি পদ খন্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।
- কাহ্নপার ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি।
- তন্ত্রীপার ২৫ নং পদটি পাওয়া যায়নি।
- কুক্কুরীপার ৪৮ নং পদটি পাওয়া যায়নি।

- ভুসুকুপার ২৩ নং পদটি খন্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখ
১১.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালর রাজদরবারের গ্রন্থশালা থেকে কতটি পুঁথি আবিষ্কার করেন?
  1. ক) ১
  2. খ) ২
  3. গ) ৩
  4. ঘ) ৪
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে নেপালে যান মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
- নেপালর রাজদরবারের গ্রন্থশালায় তিনি আবিষ্কার করেন ৪টি পুঁথি।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' গ্রন্থে চারটি পুঁথি সংকলিত হয়েছে।
সেগুলো হলো- 
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
- সরোজবজ্রের দোহাকোষ
- কাহ্ন পাদের দোহাকোষ 
- ডাকার্ণব 

এগুলোর মধ্যে চর্যাচর্যবিনিশ্চয় পুঁথিটি বাংলা, অন্য তিনটি বাংলা নয়, অপভ্রংশে রচিত। 
তবে চর্যাপদের মতই সেগুলোর সংস্কৃত টিকা সংযোজিত আছে। 
চারটি গ্রন্থ একত্রে ১৯১৬ সালে "হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা" নামে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১২.
"অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।" বিখ্যাত পঙক্তিটি কোন কবিতার অংশ?
  1. ক) নারী
  2. খ) মানুষ
  3. গ) বিদ্রোহী
  4. ঘ) সাম্যবাদী
সঠিক উত্তর:
ক) নারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নারী
ব্যাখ্যা
"অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।" পঙক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের 'নারী' কবিতার অন্তর্গত।
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

নারী
কাজী নজরুল ইসলাম

" সাম্যের গান গাই-
আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই!
বিশ্বে যা-কিছু মহান্‌ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর,
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।"

‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে।
গ্রন্থটিতে মোট কবিতা রয়েছে ১১টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩.
চর্যাপদের ভাষাকে কী বলা হয়?
  1. ক) ব্রজবুলি
  2. খ) মৈথিলী
  3. গ) আলালী ভাষা
  4. ঘ) সন্ধ্যা ভাষা
সঠিক উত্তর:
ঘ) সন্ধ্যা ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সন্ধ্যা ভাষা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের ভাষাকে কেউ কেউ সন্ধ্যাভাষা বা সন্ধাভাষা বলেছেন। 
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এ সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'আলো-আঁধারি ভাষা, কতক আল কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। যাঁহারা সাধন-ভজন করেন, তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন, আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই।' -এ কারণে চর্যার ভাষা সন্ধ্যাভাষা। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১৪.
"অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই" - উক্তিটি কোন রচনার অংশ?
  1. ক) সমাপ্তি
  2. খ) শ্রীকান্ত
  3. গ) দুই বোন
  4. ঘ) হৈমন্তী
সঠিক উত্তর:
ঘ) হৈমন্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হৈমন্তী
ব্যাখ্যা
"অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই" - উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'হৈমন্তী' নামক ছোটগল্পের অংশ। 
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্প টি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম। 
উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ। 

গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি- 
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন। 
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ। ইত্যাদি। 

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১৫.
কোন বাংলা সাহিত্যিক 'টিমোথি পেনপোয়েম' ছদ্মনামে লিখতেন?
  1. ক) সতীনাথ ভাদুড়ী
  2. খ) সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  3. গ) মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্তের ছদ্মনাম টিমোথি পেনপোয়েম।
- মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর জন্ম ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে ।
- ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়।
- তার সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত মেঘনাদবধ কাব্য নামক মহাকাব্য।
 
• তাঁর রচিত নাটক ও প্রহসন
- শর্মিষ্ঠা নাটক
- একেই কি বলে সভ্যতা?
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ 
- পদ্মাবতী নাটক
- কৃষ্ণকুমারী নাটক
- মায়া-কানন 

• তাঁর রচিত কাব্য
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
- মেঘনাদবধ কাব্য
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য 
- বীরাঙ্গনা কাব্য 
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬.
তুর্কি বিজয়ের ফলে বাংলা সাহিত্যে কোন যুগের আবির্ভাব ঘটে?
  1. ক) অবক্ষয় যুগ
  2. খ) অন্ধকার যুগ
  3. গ) চৈতন্য যুগ
  4. ঘ) আধুনিক যুগ
সঠিক উত্তর:
খ) অন্ধকার যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অন্ধকার যুগ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০০ - ১৮০০ সাল পর্যন্ত মধ্যযুগ বলে চিহ্নিত। 
- এর মধ্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। 
- বাংলাদেশে তুর্কি বিজয়ের মাধ্যমে মুসলমান শাসনামলের সুত্রপাতের পরিপ্রেক্ষিতে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য সাহিত্য সৃষ্টি হয় নি অনুমান করে এ রকম সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। প্রকৃত কারণ অজ্ঞাত হলেও এটাই বর্তমানে সর্বজন স্বীকৃত মত।
- ১২০৪ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি বাংলার সেন বংশের শাসক অশীতিপর বৃদ্ধ লক্ষ্মণ সেনের রাজধানী নদীয়া বিনা বাধায় জয় করে এদেশে মুসলমান শাসনের সূত্রপাত করেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।