পরীক্ষা আর্কাইভ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

পরীক্ষা৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়34 minutes৪৮ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন৪৯
সিলেবাস
৪৪তম বি.সি.এস. সাবজেক্ট ফাইনাল - বাংলা ব্যাকরণ সম্পূর্ণ [১০০ নাম্বার]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৯ প্রশ্ন

.
"ভোগে নয়, ত্যাগেই মনুষ্যত্বের বিকাশ' বাক্যে অলগ্নক পদ কোনটি?
  1. ক) ভোগে
  2. খ) ত্যাগেই
  3. গ) মনুষ্যত্বের
  4. ঘ) বিকাশ
ব্যাখ্যা
- বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলােকে সলগ্নক পদ 
- যেসব পদে লগ্নক থাকে না সেগুলােকে অলগ্নক পদ বলে।
- ছেলেরা ক্রিকেট খেলে’- এই বাক্যের ‘ছেলেরা ও ‘খেলে সলগ্নক পদ আর ক্রিকেট অলগ্নক পদ।
অনুরূপভাবে,
"ভোগে নয়, ত্যাগেই মনুষ্যত্বের বিকাশ'
বাক্যে 'ভোগে' 'ত্যাগেই' 'মনুষ্যত্বের'  সলগ্নক পদ এবং 'নয়' 'বিকাশ' অলগ্নক পদ।  

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
.
'নাবিক' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোন সূত্রে সিদ্ধ?
  1. ক) অ/আ + অ/আ
  2. খ) অ/আ + ই/ঈ
  3. গ) ও + অন্য স্বর
  4. ঘ) ঔ + অন্য স্বর
ব্যাখ্যা
নাবিক শব্দটি স্বরসন্ধি এর উদাহরণ। 
নাবিক = নৌ + ইক;
সূত্র:  ঔ+ অন্য স্বর = আবৃ+স্বর।

অনুরূপ ভাবে, 
সূত্র: অ/আ + অ/আ = আ।
যেমন – উত্তর+অধিকার = উত্তরাধিকার, আশা+অতীত = আশাতীত

সূত্র: উ/উ + উ/ঊ = উ।
যেমন – মরু + উদ্যান = মরূদ্যান

সূত্র: ও + অন্য স্বর = অবৃ + স্বর।
যেমন – গাে+আদি = গবাদি

সূত্র: ঔ + অন্য স্বর = আবৃ + স্বর।
যেমন – নৌ + ইক = নাবিক

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
.
নিম্নের কোনটি অলুক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) পােটলা-পুটলি
  2. খ) ভালােমন্দ
  3. গ) চোখেমুখে
  4. ঘ) সাহেব-বিবি-গােলাম
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস: দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন – ‘সােনা-রুপা সমস্তপদের ব্যাসবাক্য ‘সােনা ও রুপা।

- দ্বন্দ্ব সমাসের ক্ষেত্রে সমজাতীয়, বিপরীত ও অনুরূপ শব্দের সংযােগ ঘটে।
যেমন – মা ও বাবা = মা-বাবা, স্বর্গ ও নরক = স্বর্গ-নরক, জমা ও খরচ = জমাখরচ, হাত ও পা = হাত-পা, উনিশ ও বিশ = উনিশ-বিশ, ঝড় ও বৃষ্টি = ঝড়বৃষ্টি, পােটলা ও পুটলি = পােটলা-পুটলি, তুমি ও আমি = তুমি-আমি, আসা ও যাওয়া = আসা-যাওয়া, ধীরে ও সুস্থে = ধীরেসুস্থে, ভালাে ও মন্দ = ভালােমন্দ।

- কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে। এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন – হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে, চোখে ও মুখে = চোখেমুখে, চলনে ও বলনে = চলনে-বলনে ইত্যাদি।

- সমস্যমান পদ কখনাে কখনাে দুইয়ের বেশি হতে পারে।
যেমন – সাহেব, বিবি ও গােলাম = সাহেব-বিবি-গােলাম; হাত, পা, চোখ ও কান = হাত-পা-চোখ-কান ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
.
'ঙ্গ' যুক্তবর্ণ টি কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ক) ঙ্‌ + গ
  2. খ) ঙ্‌ + ক
  3. গ) গ + ঙ্‌
  4. ঘ) ক + ঙ্‌
ব্যাখ্যা
যুক্তবর্ণ
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলােকে দেখে কখনাে সহজে চেনা যায়, কখনাে সহজে চেনা যায় না।
- এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

- স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: ক, জ্ঞ, জ্ব, ঞ, জ্ঞ, ট, ণ্ঠ, দ, দ্ব, দ্ম, ঠ, ড, ন্স, স্ট, জ, ব্দ, ফ, ল্ক,
ল্প,ষ্ঠ, স্ফ, খ, স্ট, স্ফ ইত্যাদি।

- অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: ক্ত (ক্‌ + ত), ক্স (ক্‌ + স), ক্র (ক্‌ + র), ক্ষ (ক্‌ + ষ), ক্ষ্ম (ক্‌ + ষ্‌ + ম), ক্স (ক্‌ + স),ণ, গ্ধ (গ + ধ), ঙ্ক (ঙ্‌ + ক), ঙ্গ (ঙ + গ), জ্ঞ (জ্‌ + ঞ), ঞ্চ (ঞ্‌ + চ), ঞ্ছ (ঞ + ছ), ঞ্জ (ঞ্‌ + জ) ইত্যাদি।    
   
উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)। 
.
নিম্নের কোনটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. ক) হামলা
  2. খ) সৌন্দর্য
  3. গ) পানসে
  4. ঘ) দীঘল
ব্যাখ্যা
শব্দ বা ধাতুর পরে  অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে তাকে প্রত্যয় বলে। 
- যেমন, বাঘ + আ = বাঘা, কৃ + তব্য = কর্তব্য। 
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়। তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ কে তদ্ধিতান্ত শব্দ বলে।  যেমন, বাঘ + আ = বাঘা, - এখানে 'আ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে। এবং বাঘা হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ । 
- অন্যদিকে ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে  কৃৎ প্রত্যয়।  কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ কে কৃদান্ত শব্দ বলে।

হামলা= হাম্‌ + লা (কৃৎ প্রত্যয় )
দীঘল = দীঘ + ল (তদ্ধিত প্রত্যয়) 
সৌন্দর্য = সুন্দর + য (তদ্ধিত প্রত্যয়)  
পানসে = পানি + সে  (তদ্ধিত প্রত্যয়) 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
.
বাংলা ভাষায় সংখ্যা নির্দেশক বর্ণ রয়েছে কয়টি ?
  1. ক) ৯
  2. খ) ১০
  3. গ) ১১
  4. ঘ) ১২
ব্যাখ্যা
সংখ্যাবর্ণ
বাংলা ভাষায় সংখ্যা নির্দেশের জন্য দশটি সংখ্যাবর্ণ রয়েছে। যথা: ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ০।


উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
.
ঐ এবং ঔ কোন জাতীয় বর্ণ?
  1. অর্ধস্বরধ্বনি
  2. দ্বিস্বরধ্বনির
  3. অনুনাসিক স্বরধ্বনি
  4. পূর্ণস্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
দ্বিস্বরধ্বনির
পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।
যেমন – - লাউ’ শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্‌] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
[আই]: তাই, নাই
[এই]: সেই, নেই
[আ]: যাও, দাও
[আ]: খায়, যায়
[উই]: দুই, রুই
[অ]: নয়, হয়
[ওউ]: মৌ, বউ
[ওই]: কৈ, দই
[এ]: কেউ, ঘেউ

বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে, যথা: ঐ এবং ঔ।
ঐ-এর মধ্যে দুটি ধ্বনি আছে, একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [ই]। একইভাবে ঔ-এর মধ্যে রয়েছে একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [উ]।
 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
.
'ভাব' অর্থে 'আমি' প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়েছে কোন শব্দে?
  1. ক) ঢাকাই
  2. খ) ইতরামি
  3. গ) জেঠামি
  4. ঘ) জমিদারি
ব্যাখ্যা
প্রত্যয় যোগ করলে শব্দের অর্থ অনেক সময় বদলে যায়- 

- অবজ্ঞা অর্থে: চোর→চোরা। 
- বৃহৎ অর্থে: ডিঙি → ডিঙা।
- সদৃশ  অর্থে: বাঘ→ বাঘা।
- আগত অর্থে: দখিন → দখিনা।
- আদর অর্থে: কানু → কানাই।
- জাত অর্থে: ঢাকা → ঢাকাই। 
- ভাব অর্থে: ইতর → ইতরামি।
- নিন্দা অর্থে: জেঠা → জেঠামি।
- পেশা অর্থে: ডাক্তার → ডাক্তারি।
- মালিক অর্থে: জমিদার → জমিদারি।
- উপকরণ অর্থে: মাটি → মেটে। 
- নৈপুণ্য অর্থে: না → নেয়ে।
- রোগগ্রস্থ অর্থে: বাত → বেতো।
- যুক্ত অর্থে: টাক  → টেকো।
- সংশ্লিষ্ট অর্থে: গাঁ → গেঁয়ো। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
.
নিম্নের কোন শব্দে 'শ' [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়
  1. ক) শ্রমিক
  2. খ) ষােলাে
  3. গ) শ্রদ্ধা
  4. ঘ) শসা
ব্যাখ্যা
শ, ষ, স এর উচ্চারণ:  শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়। স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়। ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।

- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক], শ্রদ্ধা [স্রোধা]।
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
- স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্নাে] ।
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌]।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১০.
নিম্নের কোন শব্দে 'দুঃ-(দুর্‌/দুস্‌)' উপসর্গটি 'অধিক' অর্থে দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে?
  1. ক) দুঃশাসন
  2. খ) দুর্মূল্য
  3. গ) দুষ্প্রাপ্য
  4. ঘ) দুর্দিন
ব্যাখ্যা
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে। ‘পরিচালক’ শব্দের ‘পরি অংশ একটি উপসর্গ।
- নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন করা উপসর্গের কাজ। 
উদাহরণ -
দুঃশাসন = দুঃ + শাসন,   'মন্দ' অর্থে দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে।
দুর্মূল্য = দুর্‌ + মূল্য,  'অধিক' অর্থে দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে।
দুষ্প্রাপ্য = দুস্‌ + প্রাপ্য   'অল্প' অর্থে দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে।
দুর্দিন = দুর্‌ + দিন 'মন্দ' অর্থে দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১১.
'বন্দ্যোপাধ্যায়' শব্দের সঠিক উচ্চারণ -
  1. ক) বোন্‌দোপাদ্‌ধ্যায়্‌
  2. খ) বন্‌দপাদ্‌ধ্যায়্‌
  3. গ) বন্‌দোপাদ্‌ধ্যায়্‌
  4. ঘ) বন্‌দোপাদ্‌ধায়্‌
ব্যাখ্যা
বন্দ্যোপাধ্যায়  [বন্‌দোপাদ্‌ধায়্‌] (বিশেষ্য):
অর্থ - পদবিশেষ (বিশেষত বাঙালি ব্রাহ্মণের)।
- [সংস্কৃত. বন্দ্য+উপাধ্যায়]

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১২.
উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতার উপর ভিত্তি করে স্বরধ্বনি কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
উচ্চারণের সময়ে (জিভের উচ্চতা) জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
- উচ্চ স্বরধ্বনি ই, উ]
- উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও]
- নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ]
- নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩.
বাক্যে ক্রিয়ার সঙ্গে কোন পদের সম্পর্ককে কারক বলা হয়?
  1. ক) বিশেষ্য ও অনুসর্গ
  2. খ) বিশেষ্য ও সর্বনাম
  3. গ) বিশেষণ ও সর্বনাম
  4. ঘ) বিশেষ্য ও বিশেষণ
ব্যাখ্যা
মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

কারক ছয় প্রকার :
- কর্তা কারক
- কর্ম কাবক
- করণ কারক
- অপাদান কারক
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৪.
'বাহ্য' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কী?
  1. ক) বাহ্‌ঝো
  2. খ) বাজ্‌ঝো
  3. গ) বাজ্‌জো
  4. ঘ) বাজ্‌ঝ
ব্যাখ্যা
বাহ্য  [বাজ্‌ঝো]
- [স. বহিস্‌+য]
- (বিশেষণ)
- বাইরের 
-  অসত্য;
- অপ্রকৃত;
- অপ্রধান

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৫.
'বিষাদসিন্ধু' কোন সমাস সাধিত শব্দ?
  1. ক) মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস
  2. খ) উপমান কর্মধারয় সমাস
  3. গ) উপমিত কর্মধারয় সমাস
  4. ঘ) রূপক কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
⇒ যেসকল কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লােপ পায়। এগুলাে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় নামে পরিচিত।
যেমন –
- ঘি মাখানাে ভাত = ঘিভাত
- হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি
- ঘরে আশ্রিত জামাই = ঘরজামাই
- বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা

⇒ যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস
হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন –
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

⇒ যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন –
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ
এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।

যেসকল কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয়। এগুলােকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন –
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৬.
ক্রিয়ার রূপভেদ হয় কোনটির উপর ভিত্তি করে?
  1. ক) পুরুষ ভেদে
  2. খ) কাল ভেদে
  3. গ) বচন ভেদে
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়াপদ বলে।
যেমন –
রাজীব খেলছে।
পক্ষ (পুরুষ) এবং কাল ভেদে ক্রিয়ার রূপভেদ হয়।
যেমন –

- পক্ষভেদ: আমি পড়ি, আমরা পড়ি, তুমি পড়াে, তোমরা পড়ে, সে পড়ে, তারা পড়ে।
- কালভেদ: আমি পড়ি, আমি পড়ছি, আমি পড়েছি, আমি পড়েছিলাম, আমি পড়ছিলাম, আমি পড়ব।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৭.
'ছাগল- টাগল' কোন ধরনের দ্বিত্ব এর উদাহরণ?
  1. ক) অনুকার দ্বিত্ব
  2. খ) ধনাত্মক দ্বিত্ব
  3. গ) পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  4. ঘ) বিরোধাত্মক দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারার কোন শব্দ পর পর দুইবার ব্যবহার হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে। 
শব্দদ্বিত্ব ৩ প্রকার -
- অনুকার দ্বিত্ব
- ধনাত্মক দ্বিত্ব
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব

⇒ অনুকার দ্বিত্ব: পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারায় শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় অনুকার দ্বিত্ব বলে। এত প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন: অঙ্ক-টঙ্ক; আম-টাম, কেক-টেক; ঘর-টর; গরু-টরু; ছাগল- টাগল; আড়াআড়ি, খোজাখুজি ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৮.
'কদবেল' শব্দে 'কদ্‌' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) কুৎসিত
  2. খ) সুশ্রী
  3. গ) মুখ্য
  4. ঘ) গৌণ
ব্যাখ্যা
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
‘পরিচালক’ শব্দের ‘পরি অংশ একটি উপসর্গ।
- নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন করা উপসর্গের কাজ। 
কদবেল = কদ্‌ + বেল 
- এখানে 'কদ্‌' উপসর্গটি 'গৌণ' অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৯.
Licence শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) প্রত্যয়নপত্র
  2. খ) ছাড়পত্র
  3. গ) সম্মতিপত্র
  4. ঘ) অনুমতিপত্র
ব্যাখ্যা
 Licence  কোনো কাজ করার অনুমতিপত্র; (সাধারণত নিয়ন্ত্রিত পণ্য) উৎপাদন বা বিক্রির অনুমতি; লাইসেন্স
২০.
নিচের কোন শব্দটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. ক) বড়াই
  2. খ) হাজিরা
  3. গ) পরিহার্য
  4. ঘ) নিমাই
ব্যাখ্যা
ঘ্যণ্‌ প্রত্যয় সাধিত কয়েকটি শব্দ:
(কর্ম ও ভাব বাচ্যে ঘ্যণ্‌ প্রত্যয় যুক্ত হয়)
যেমন -
√কৃ + ঘ্যণ্‌ = কার্য্য > কার্য।
√ধৃ + ঘ্যণ্‌ = ধার্য।
তেমনিভাবে, পরিহার্য, বাচ্য, ভোজ্য, যোগ্য, হাস্য।

অন্যদিকে,
বড়াই, হাজিরা ও নিমাই - শব্দগুলো তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
২১.
নিচের কোনটি জাত, আগত বা সমন্ধ অর্থে ই/ঈ প্রত্যয় যুক্ত শব্দ নয়?
  1. ক) সরকারি
  2. খ) রেশমি
  3. গ) ভাগলপুরি
  4. ঘ) মাদ্রাজি
ব্যাখ্যা
ই/ঈ প্রত্যয়ান্ত শব্দ (তদ্ধিত প্রত্যয়):
১. ভাব অর্থে - বাহাদুর - বাহাদুরি, উমেদার - উমেদারি।
২. বৃত্তি বা ব্যবসায় অর্থে - মোক্তার - মোক্তারি, ডাক্তার - ডাক্তারি, পোদ্দার - পোদ্দারি।
৩. মালিক অর্থে - জমিদার - জমিদারি, দোকান - দোকানি।
৪. জাত, আগত বা সমন্ধ অর্থে - রেশম - রেশমি, ভাগলপুর - ভাগলপুরি, মাদ্রাজ - মাদ্রাজি।
অন্যদিকে, সরকার - সরকারি = সমন্ধবাচক শব্দ

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
২২.
'বেতো' শব্দটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) উপকরণ
  2. খ) জাত
  3. গ) রোগগ্রস্থ
  4. ঘ) সংশ্লিষ্ট
ব্যাখ্যা
প্রত্যয় যোগ করলে শব্দের অর্থ অনেক সময় বদলে যায়- 

- অবজ্ঞা অর্থে: চোর→চোরা। 
- বৃহৎ অর্থে: ডিঙি → ডিঙা।
- সদৃশ  অর্থে: বাঘ→ বাঘা।
- আগত অর্থে: দখিন → দখিনা।
- আদর অর্থে: কানু → কানাই।
- জাত অর্থে: ঢাকা → ঢাকাই। 
- ভাব অর্থে: ইতর → ইতরামি।
- নিন্দা অর্থে: জেঠা → জেঠামি।
- পেশা অর্থে: ডাক্তার → ডাক্তারি।
- মালিক অর্থে: জমিদার → জমিদারি।
- উপকরণ অর্থে: মাটি → মেটে। 
- নৈপুণ্য অর্থে: না → নেয়ে।
- রোগগ্রস্থ অর্থে: বাত → বেতো।
- যুক্ত অর্থে: টাক  → টেকো।
- সংশ্লিষ্ট অর্থে: গাঁ → গেঁয়ো। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২৩.
নিম্নের কোনটি শব্দের শেষে যুক্ত হয় না?
  1. ক) প্রত্যয়
  2. খ) উপসর্গ
  3. গ) বিভক্তি
  4. ঘ) নির্দেশক
ব্যাখ্যা
উপসর্গ: যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে। ‘পরিচালক’ শব্দের ‘পরি অংশ একটি উপসর্গ।

প্রত্যয়: যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে প্রত্যয় বলে। সাংবাদিক” শব্দের ইক’ অংশ একটি প্রত্যয়।

বিভক্তি : ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বােঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলােকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। করলাম ক্রিয়াপদের লাম’ শব্দাংশ হলাে ক্রিয়া-বিভক্তি এবং কৃষকের পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলােকে নির্দেশক বলে। ‘লােকটি বা ভালােটুকু পদের টি’ বা ‘টুকু হলাে নির্দেশকের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২৪.
'ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর' বাক্যে কোন ধরনের আবেগ এর ব্যবহার ঘটেছে?
  1. ক) প্রশংসা আবেগ
  2. খ) বিস্ময় আবেগ
  3. গ) সম্বোধন আবেগ
  4. ঘ) অলংকার আবেগ
ব্যাখ্যা
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।

নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো:
⇒ সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।

⇒ প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- বাহ, চমৎকার লিখেছ।

⇒ বিরক্তি আবেগ: এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।

⇒ আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- উহ! কি বিপদে পরা গেল।

⇒ বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আরে! তুমি আবার কখন এলে?

⇒ করূণা আবেগ: এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আহা! বেচারার কত কষ্ট।

⇒ সম্বোধন আবেগ: এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।

⇒ অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- যাকগে, ওসব কথা থাক। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২৫.
'এত বৃষ্টি হল, তবুও গরম গেল না ' এখানে কোন ধরনের যোজকের ব্যবহার ঘটেছে?
  1. ক) সাধারন যোজক
  2. খ) বিকল্প যোজক
  3. গ) বিরোধ যোজক
  4. ঘ) সাপেক্ষ যোজক
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা
যোজক একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের কিংবা বাক্যের অন্তর্গত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন, বিয়োজন অথবা সংকচ ঘটায়। যেমন: এতগুলো বই আর এতগুলো খাতা ওই ব্যাগে ধরবে?

যোজক ৫ প্রকার ।
সাধারন যোজক - নীপা আর দীপা দুই বোন।
বিকল্প যোজক - তিনি হয় ট্রেনে আসবেন না হয় বাসে আসবেন।
বিরোধ যোজক - এত বৃষ্টি হল, তবুও গরম গেল না।
কারণ যোজক - যেহেতু ঠাণ্ডা লেগেছে, তাই আইসক্রিম খাচ্ছি না। 
সাপেক্ষ যোজক - যত গর্জে তত বর্ষে না।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।

লাইভ পরীক্ষার প্রশ্নে অপশন গ) তে টাইপের ভুল ছিলো, তাই উত্তর বাতিল করা হয়েছে।
২৬.
ঘােষ অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি কোনগুলো?
  1. ক) ফ, থ, ঠ, ছ, হ
  2. খ) গ, জ, ব, ড
  3. গ) জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ
  4. ঘ) চ, জ, শ, ক, গ
ব্যাখ্যা
ধ্বনির কম্পমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই। ভাগে ভাগ করা যায়: ঘােষ ও অঘােষ।

⇒ ঘােষ ব্যঞ্জন
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ।

⇒ অঘােষ ব্যঞ্জন
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ, হ।

ধ্বনি সৃষ্টিতে বায়ুর প্রবাহ অনুযায়ী বিভাজন
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।

⇒ অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন – প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ঢ, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

⇒ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন – ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ড, ঢ, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

∴ ঘােষ অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি = গ, জ, ব, ড, দ ইত্যাদি। 



উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২৭.
'নিগ্রহ' শব্দের সঠিক বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি ?
  1. ক) বিগ্রহ
  2. খ) আগ্রহ
  3. গ) অনাগ্রহ
  4. ঘ) অনুগ্রহ
ব্যাখ্যা
'নিগ্রহ' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ অনুগ্রহ 

আরও  কিছু বিপরীত শব্দের উদাহরণ-
- ঐহিক - পারত্রিক
- মহত্মা - দুরাত্মা
- নিন্দিত - প্রশংসিত
- লিপ্ত - নির্লিপ্ত
- ভূত - ভবিষ্যৎ
- ধৃষ্ট - নম্র/ বিনয়ী

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মাহমুদ।
২৮.
'তেজস্বী' শব্দটি কোন প্রত্যয় যোগে স্ত্রীবাচক শব্দে পরিবর্তিত হবে?
  1. ক) ই
  2. খ) ঈ
  3. গ) ইনী
  4. ঘ) নি
ব্যাখ্যা
নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তিত করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়। 
যেমন- 
- আ প্রত্যয়: বৃদ্ধ - বৃদ্ধা, প্রিয় - প্রিয়া
- ই প্রত্যয়: দাদা - দাদি, জেঠা - জেঠি । 
- ইনি প্রত্যয়: কাঙাল - কাঙালিনি, বাঘ - বাঘিনি।
- ইনী প্রত্যয়: বিজয় - বিজয়িনী, তেজস্বী - তেজস্বিনী।
- ঈ প্রত্যয়: নার - নারী, কিশোর - কিশোরী।
- নি প্রত্যয়: জেলে - জেলেনি, বেদে - বেদেনি।
- বতী প্রত্যয়: গুণবান - গুণবতী, পূণ্যবান - পূণ্যবতী।
- মতী প্রত্যয়: বুদ্ধিমান - বুদ্ধিমতী, শ্রীমান - শ্রীমতী ইত্যাদি ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২৯.
নিচের কোনটি বাক্যে সংকোচক অব্যয় হিসাবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ও
  2. খ) কিংবা
  3. গ) যদিও
  4. ঘ) অথচ
ব্যাখ্যা
সংযোজক অব্যয় - ও, তাই, আর ইত্যাদি।
বিয়োজক অব্যয় - কিংবা, কিন্তু, অথবা ইত্যাদি।
সংকোচক অব্যয় - অথচ, বরংচ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
৩০.
'অপদার্থ ব্যক্তিদের মিলন' অর্থ বোঝায় কোন বাগধারাটি দিয়ে?
  1. ক) হরি ঘোষের গোয়াল
  2. খ) তালকানা
  3. গ) হুকো-নাপিত বন্ধ করা
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
হরি ঘোষের গোয়াল -- বহু অপদার্থ ব্যক্তির সমাবেশ
হ য ব র ল -- বিশৃঙ্খল
হাড় হাভাতে -- হতভাগ্য
হুকো-নাপিত বন্ধ করা -- সমাজচ্যুত করা
তালকানা -- কাণ্ডজ্ঞানহীন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১.
ব্যঞ্জনসন্ধি কখন সংঘটিত হয় না ?
  1. ক) স্বরে-ব্যঞ্জনে
  2. খ) ব্যঞ্জনে-স্বরে
  3. গ) ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে
  4. ঘ) ব্যঞ্জনে-বিসর্গে
ব্যাখ্যা
পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। পৃথিবীর বহু ভাষায় পাশাপাশি শব্দের একাধিক ধ্বনি নিয়মিতভাবে সন্ধিবদ্ধ হলেও বাংলা ভাষায় তা বিরল। 
-  বাংলা ভাষায় উপসর্গ, প্রত্যয় ও সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠনের ক্ষেত্রে সন্ধির সূত্র কাজে লাগে।
সন্ধি তিন প্রকার:
- স্বরসন্ধি
- ব্যঞ্জনসন্ধি
- বিসর্গসন্ধি

 ব্যঞ্জনসন্ধি: স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৩২.
'চাঁদ' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি ?
  1. ক) শশধর
  2. খ) ভূধর
  3. গ) নিশাকর
  4. ঘ) সুধাকর
ব্যাখ্যা
'চাঁদ' শব্দের সমার্থক শব্দ - চন্দ্র, শশী, শশধর, ,শশাঙ্ক, বিধু, সোম, সিধাংশু, নিশাকর হিমাংশু, মৃগাঙক, সুধাকর ইত্যাদি। 

'পর্বত' শব্দের সমার্থক শব্দ - পাহাড়, অর্দ্রি, ভূধর, শৈল, গিরি, অচল ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৩.
'অদৃষ্টপূর্ব' এর অর্থ কী?
  1. ক) যা পূর্বে কখনো ঘটে নি
  2. খ) যা পূর্বে কখনো দেখা যায় নি
  3. গ) যা পূর্বে কখনো ভাগ্যে ছিল না
  4. ঘ) যা পূর্বে কখনো অনুধাবন লরা যায় নি
ব্যাখ্যা
যা পূর্বে কখনো দেখা যায় নি - অদৃষ্টপূর্ব 

যা কখনো দেখা যায় না - অদৃশ্য 
যা ক্রমশ বর্ধিত হচ্ছে - বর্ধিষ্ণু
যা যুক্তিসঙ্গত নয় - অযৌক্তিক 
যা সহজে লাভ করা যায় - সুলভ 
যা মৃতের মতো - মৃতবৎ
যা সারাদিন পরে থাকা হয় - আটপৌরে
যা পূর্বে ছিল এখন নেই - ভূতপূর্ব  

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪.
'অল্পতা' বোঝাতে কোন শব্দের দ্বিরুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) জ্বরজ্বর
  2. খ) লাল লাল ফুল
  3. গ) দিন দিন ভালো হওয়া
  4. ঘ) গরম গরম ভাত
ব্যাখ্যা
একই শব্দ দুবার ব্যবহার করার পর শব্দ দুটো অবিকৃত থেকে গেলে তাকে শব্দের দ্বিরুক্তি বলে। 
- একই শব্দ দুবার ব্যবহার করার ফলে বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করতে পারে- 

- অল্পতা বোঝাতে - জ্বরজ্বর , কবিকবি, হাসি হাসি মুখ ইত্যাদি। 
- বাহুল্য বোঝাতে - বস্তা বস্তা চাল, ঝুড়ি ঝুড়ি আম ইত্যাদি। 
- তাড়াতাড়ি বোঝাতে - সকাল সকাল আসবে, হাতে হাতে ফল পাওয়া ইত্যাদি। 
- ধারাবাহিকত বোঝাতে - দিন দিন ভালো হওয়া, বছর বছর পাস করা  ইত্যাদি। 
- বহুবচন বোঝাতে - লাল লাল ফুল, ছোট ছোট ঘর ইত্যাদি। 
- গুণ বোঝাতে - গরম গরম ভাত, মিষ্টি মিষ্টই কথা ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩৫.
কোন ধরনের আবেগ দ্বারা অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য্য ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) প্রশংসা আবেগ
  2. খ) আতঙ্ক আবেগ
  3. গ) বিস্ময় আবেগ
  4. ঘ) অলংকার আবেগ
ব্যাখ্যা
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।

নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো:
⇒ সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।

⇒ প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- বাহ, চমৎকার লিখেছ।

⇒ বিরক্তি আবেগ: এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।

⇒ আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- উহ! কি বিপদে পরা গেল।

⇒ বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আরে! তুমি আবার কখন এলে?

⇒ করূণা আবেগ: এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আহা! বেচারার কত কষ্ট।

⇒ সম্বোধন আবেগ: এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।

⇒ অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- যাকগে, ওসব কথা থাক। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৬.
'সে দিন দিন ভালো হয়েছে' বাক্যে 'দিন দিন ভালো হওয়া' দ্বারা কী বোঝায়?
  1. ক) বাহুল্য
  2. খ) ধারাবাহিকতা
  3. গ) বহুবচন
  4. ঘ) গুণ
ব্যাখ্যা
একই শব্দ দুবার ব্যবহার করার পর শব্দ দুটো অবিকৃত থেকে গেলে তাকে শব্দের দ্বিরুক্তি বলে। 
- একই শব্দ দুবার ব্যবহার করার ফলে বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করতে পারে- 

- অল্পতা বোঝাতে - জ্বরজ্বর , কবিকবি, হাসি হাসি মুখ ইত্যাদি। 
- বাহুল্য বোঝাতে - বস্তা বস্তা চাল, ঝুড়ি ঝুড়ি আম ইত্যাদি। 
- তাড়াতাড়ি বোঝাতে - সকাল সকাল আসবে, হাতে হাতে ফল পাওয়া ইত্যাদি। 
- ধারাবাহিকত বোঝাতে - দিন দিন ভালো হওয়া, বছর বছর পাস করা  ইত্যাদি। 
- বহুবচন বোঝাতে - লাল লাল ফুল, ছোট ছোট ঘর ইত্যাদি। 
- গুণ বোঝাতে - গরম গরম ভাত, মিষ্টি মিষ্টই কথা ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩৭.
অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) গােলাভরা
  2. খ) গরুরগাড়ি
  3. গ) অকালমৃত্যু
  4. ঘ) দুঃখপ্রাপ্ত
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস: সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ,
যেমন –
গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি
তেলে ভাজা = তেলেভাজা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩৮.
নিম্নের কোন বাক্যে ‘অহংকার’ অর্থে গরম শব্দের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) শীতকালে গরম কাপড় না হলে চলে না।
  2. খ) দু নম্বরি টাকার গরমে রহিমের পা যেনো মাটিতে পরে না।
  3. গ) তোমার গরম মেজাজ কে আমি ভয় পাই না।
  4. ঘ) সরবরাহ কম থাকলে বাজার গরম থাকে।
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় কতগুলো শব্দ ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ্য, বিশেষণ ও ক্রিয়া জাতীয় এই পদগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বিশেষ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে। যেমন: গরম শব্দটি বাক্যে ভিন্ন ভিন্ন অর্থে প্রকাশ পেতে পারে।

- উষ্ণ - এক কাপ খুব গরম চা দাও। 
- গ্রীষ্ণ - বৈশাখ জৈষ্ঠ গরমকাল। 
- চড়া - সরবরাহ কম থাকলে বাজার গরম থাকে।
- উগ্র - তোমার গরম মেজাজ কে আমি ভয় পাই না।
- অহংকার - দু নম্বরি টাকার গরমে রহিমের পা যেনো মাটিতে পরে না।
- শীত নিবারক - শীতকালে গরম কাপড় না হলে চলে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি অষ্টম শ্রেণি।
৩৯.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. ক) চাঁদ
  2. খ) বন্ধুত্ব
  3. গ) প্রশাসন
  4. ঘ) দায়িত্ব
ব্যাখ্যা
গঠনগত দিক থেকে শব্দকে ২ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা - মৌলিক শব্দ ও সাধিত শব্দ।

মৌলিক শব্দ: যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভাঙ্গা যায় না, তাদেরকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, লাল, চাঁদ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৪০.
নিম্নের কোনটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ?
  1. ক) বৃহস্পতি
  2. খ) নিরাকার
  3. গ) কথাচ্ছলে
  4. ঘ) স্বল্প
ব্যাখ্যা
বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়:

- বিসর্গ বিদ্যমান থাকে: মনঃ+কষ্ট = মনঃকষ্ট, অধঃ+পতন = অধঃপতন, বয়ঃসন্ধি = বয়ঃসন্ধি
- বিসর্গ ও হয়ে যায়; মনঃ+যােগ = মনােযােগ, তিরং+ধান = তিরােধান, তপঃ+বন = ত
- বিসর্গ র’ হয়ে যায়: নিঃ+আকার = নিরাকার, পুনঃ+মিলন = পুনর্মিলন, আশীঃ+বাদ = আশীর্বাদ
- বিসর্গ শ/ষ/ হয়: নিঃ+চয় = নিশ্চয়, দুঃ+কর = দুষ্কর, পুরঃ+কার = পুরস্কার
- কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়: নিঃ+রব = নীরব, নিঃ+রস = নীরস, নিঃ+রােগ = নীরােগ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৪১.
নিজ ভিন্ন অন্য কোনাে অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বােঝাতে কোন সর্বনাম ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) অনির্দিষ্ট
  2. খ) সকলবাচক
  3. গ) আত্মবাচক
  4. ঘ) অন্যবাচক
ব্যাখ্যা
সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ:
সর্বনামকে নিচের নয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।

⇒ অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনাে অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বােঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন- অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

⇒ ব্যক্তিবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে।
এই সর্বনাম তিন ধরনের। যথা -
- বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।
- শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তােমরা, তুই, তােরা, আপনি, আপনারা, তােমাকে, তােকে, আপনাকে ইত্যাদি।
- অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি। 

⇒ আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন – নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

⇒ নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন – নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

⇒ অনির্দিষ্ট সর্বনাম: অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন – কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

⇒ প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্যে প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়ােগ করা হয়।
যেমন – কে, কারা, কাকে, কার, কী (কী দিয়ে ভাত খায়?) ইত্যাদি।

⇒ সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন – যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

⇒ পারস্পরিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযােগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন – পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।

⇒  সকলবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বােঝাতে সকলবাচক সর্বনাম হয়।
যেমন – সবাই, সকলে, সকলকে, সবার, সমস্ত, সব ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)।
৪২.
'অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার" - বাক্যটি কোন ধরণের ভুল রয়েছে?
  1. ক) রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতা
  2. খ) দুর্বোধ্যতা
  3. গ) বাহুল্য দোষ
  4. ঘ) গুরুচণ্ডালী দোষ
ব্যাখ্যা
বাহুল্য দোষ - প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহারে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং এর ফলে বাক্য তার যোগ্যতা হারায়।
'অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার" এর শুদ্ধ রূপ = 'অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার" বা  'অন্নাভাবে প্রতি ঘরে হাহাকার"

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৩.
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগে কোন দোষ ঘটে?
  1. ক) রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতা
  2. খ) দুর্বোধ্যতা
  3. গ) বাহুল্য দোষ
  4. ঘ) গুরুচণ্ডালী দোষ
ব্যাখ্যা
গুরুচণ্ডালী দোষ - তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগে কখনো কখনো গুরুচণ্ডালী সৃষ্টি হয়।  এ দোষে দুষ্টু শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
যেমন - গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপোরা প্রভৃতির স্থলে গরুর শকট, শবপোড়া, মড়াদাহ এর ব্যবহার গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৪.
'ধৈর্য' কোন ধরনের বিশেষ্যে বাচক শব্দের উদাহরণ?
  1. ক) বস্তু বিশেষ্য
  2. খ) গুণ-বিশেষ্য
  3. গ) ক্রিয়া-বিশেষ্য
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
⇒ গুণ-বিশেষ্য : গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।


⇒ বস্তু বিশেষ্য: কোনাে দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বন্ধু বিশেষ্য বলে।
যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

⇒ ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনাে ক্রিয়া বা কাজের নাম বােঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
যেমন – পঠন, ভেজিন, শয়ন, করা, করানাে, পাঠানাে, নেওয়া ইত্যাদি।

⇒ নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন – ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা। স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা। কালনাম: সােমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান। সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৪৫.
মন্ত্রী মহোদয়ের অভিসেক হওয়ার অনুষ্ঠানে অনেক অতিথি উপস্থিত ছিলেন। - বাক্যের নিম্নলেখ বানানগুলোর -
  1. ক) দুটোই অশুদ্ধ
  2. খ) প্রথমটি শুদ্ধ, দ্বিতীয়টি অশুদ্ধ
  3. গ) প্রথমটি অশুদ্ধ, দ্বিতীয়টি শুদ্ধ
  4. ঘ) দুটোই শুদ্ধ
ব্যাখ্যা
ষ-ত্ব বিধানের নিয়মানুসারে,
ই-কারান্ত ও উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- অভিসেক > অভিষেক
- সুসুপ্ত > সুষুপ্ত
- অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ
- প্রতিসেধক > প্রতিষেধক
- অনুস্থান > অনুষ্ঠান
- বিসম > বিষম

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৬.
ভাববাচ্যের ক্রিয়াপদ সর্বদা _______ অনুসারী হয়।
  1. ক) কর্তার
  2. খ) কর্মের
  3. গ) নাম পুরুষের
  4. ঘ) মূল ক্রিয়ার
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য: যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
১. ভাববাচ্যের ক্রিয়াপদ সর্বদা নাম পুরুষের অনুসারী হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া বা তৃতীয়া বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন -
- আমার খাওয়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এ কাজ হবে না।
২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে। কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন -
- এ পথে চলা যায় না।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?
৩. মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন-
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৭.
'লাল' শব্দে 'ল' একটি -
  1. ক) উষ্ম ব্যঞ্জন
  2. খ) নাসিক্য ব্যঞ্জন
  3. গ) কম্পিত ব্যঞ্জন
  4. ঘ) পার্শ্বিক ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
⇒ উষ্ম ব্যঞ্জন
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাম্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
যেমন - সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ। 

⇒ নাসিক্য ব্যঞ্জন
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখের মধ্যে প্রথমে বাধা পায় এবং নাক ও মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়, সেসব ধ্বনিকে নাসিক্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন - মা, নতুন, হাঙর প্রভৃতি শব্দের ম, ন, ঙ নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি।

⇒ পার্শ্বিক ব্যঞ্জন
যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা দন্তমূল স্পর্শ করে এবং ফুসফুস থেকে আসা বাতাস জিভের দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তাকে পার্শ্বিক ব্যঞ্জন বলে।
যেমন - লাল শব্দে পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ কম্পিত ব্যঞ্জন
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
কর, ভার, হার প্রভৃতি শব্দের র কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৪৮.
কোনটি যোগরূঢ় শব্দের উদাহরণ নয়?
  1. ক) পঙ্কজ
  2. খ) মহাযাত্রা
  3. গ) গবেষণা
  4. ঘ) জলধি
ব্যাখ্যা
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন-
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতি বিশেষ'।
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
- সন্দেশ, প্রবীণ, তৈল, বাঁশি, গবেষণা, হস্তী রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯.
'গবাক্ষ' শব্দটি কোন সন্ধির উদাহরণ?
  1. ক) স্বরসন্ধি
  2. খ) ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. গ) নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি
  4. ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি
ব্যাখ্যা
পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। সন্ধি তিন প্রকার:
স্বরসন্ধি
ব্যঞ্জনসন্ধি
বিসর্গসন্ধি 

 স্বরসন্ধি স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

সূত্র: অ/আ+অ/আ = আ। যেমন – উত্তর+অধিকার = উত্তরাধিকার, আশা+অতীত = আশাতীত
সূত্র: ই/ঈইঈ = ঈ। যেমন – অতি+ইন্দ্রিয় = অতীন্দ্রিয়, পরি+ঈক্ষা = পরীক্ষা
সূত্র: উ/উ+উ/ঊ = উ। যেমন – মরু+উদ্যান = মরূদ্যান
সূত্র: অ/আ+ই/ঈ = এ। যেমন – শুভ+ইচ্ছা = শুভেচ্ছা
সূত্র: অ/আ+উ/ঊ = ও। যেমন – সূর্য+উদয় = সূর্যোদয়
সূত্র: অ/আ+ঋ = অর্। যেমন – মহা+ঋষি = মহর্ষি।


কিছু স্বরসন্ধি সূত্র অনুসরণ করে না, সেগুলােকে নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
- যেমন – কুল+অটা = কুলটা (সূত্র অনুসারে কুলাটা হওয়ার কথা)।
- গাে+অক্ষ = গবাক্ষ (সূত্র অনুসারে গবক্ষ হওয়ার কথা) ইত্যাদি।

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।