পরীক্ষা আর্কাইভ

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়22 minutes
মোট প্রশ্ন৪০
সিলেবাস
রিভিশন পরীক্ষা টপিক: এই বাটনে অনুষ্ঠিত বিগত ৪ টি পরীক্ষার টপিকের উপর রিভিশন পরীক্ষা [ফুল মডেল টেস্ট ব্যতিত]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৪০ প্রশ্ন

.
হিন্দু সম্প্রদায়ের তীর্থস্থানের জন্যে বিখ্যাত কোন পাহাড়?
  1. গারো পাহাড়
  2. চন্দ্রনাথ পাহাড়
  3. চিম্বুক পাহাড়
  4. তাজিংডং
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রনাথ পাহাড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রনাথ পাহাড়
ব্যাখ্যা

- চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সনাতন ধর্মালম্বীদের তীর্থস্থান চন্দ্রনাথ পাহাড়।
- চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড বাজার থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এটি। 
- সীতাকুণ্ডের পূর্বদিকে চন্দ্রনাথ পাহাড় আর পশ্চিমে সুবিশাল সমুদ্র ।

•বাংলাদেশের পাহাড়:
- ময়নামতি পাহাড় কুমিল্লা জেলায় অবস্থিত।
- চিম্বুক পাহাড় বান্দরবান জেলায় অবস্থিত।
- ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত - গারো পাহাড়।
- চন্দ্রনাথ পাহাড় চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে অবস্থিত।
- কালাউড়া পাহাড় মৌলভীবিাজার জেলায় অবস্থিত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।

.
পৃথিবীর সর্বাধিক গভীর স্থান মারিয়ানা ট্রেঞ্চ কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
  1. দক্ষিণ মহাসাগর
  2. ভারত মহাসাগর
  3. প্রশান্ত মহাসাগর
  4. আটলান্টিক মহাসাগর
সঠিক উত্তর:
প্রশান্ত মহাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা

• প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা খাত (Mariana Trench) পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা গভীর খাত। 

 • প্রশান্ত মহাসাগর:
- পৃথিবীর বৃহত্তম ও গভীরতম মহাসাগর প্রশান্ত মহাসাগর।
- প্রশান্ত মহাসাগরের আকৃতি - ত্রিভুজের মতো।
- প্রশান্ত মহাসাগরের আয়তন - ১৬ কোটি ৮৭ লক্ষ বর্গকিলোমিটার।
- গড় গভীরতা - গড় - ৪,১৮৮ মি.; সর্বোচ্চ গভীরতা - ১০,৯২০ মি.
- এই মহাসাগরে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ প্রবাল প্রাচীর গ্রেট বেরিয়ার রিফ অবস্থিত।
- ২৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রবাল প্রাচীর অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত‌।
- আর পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগরের নাম আটলান্টিক মহাসাগর। 

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস

.
ভারতবর্ষে মুঘল রাজবংশ প্রতিষ্ঠিত হয় কত খ্রিস্টাব্দে?
  1. ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৫৩৫ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৫৪২ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা

ভারতবর্ষে মুঘল শাসন (১৫২৬-১৭০৭ খ্রিঃ)
- ১৫২৬ খ্রি. জহিরউদ্দিন মুহম্মদ বাবর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মুঘল রাজবংশ।
- মুঘল শব্দটি এসেছে 'মোঙ্গ' বা 'মোঙ্গল' শব্দ হতে।
- এই বংশের প্রতিষ্ঠাতা জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবর ছিলেন পিতার দিক থেকে চেঙ্গিস খান এবং মাতার দিক হতে তৈমুর লঙ এর বংশধর।
- মুঘল বংশ প্রাথমিকভাবে তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রন ও শক্তি নিয়ে ১৫২৬-১৭০৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ভারতবর্ষে শাসন পরিচালনা করে।
- পরবর্তীতে ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে বাংলার স্বাধীনতা হারালে পরবর্তী ১০০ বছর (১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত) মুঘল শাসকগণ নামমাত্র শাসক হিসেবে পরিণত হয়।
- গৌরব ও আধিপত্যের যুগে মুঘলরা ছিল পারস্যের সাফাভী ও তুরস্কের ওসমানীয় সাম্রাজ্যের প্রতিদ্বন্দ্বী।
- এই বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন আকবর।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর ও শাহজাহান ছিলেন শিল্পকলা, বৈদেশিক সম্পর্ক ও স্থাপত্য বিদ্যায় নৈপুণ্যের অধিকারী।
- গোঁড়া সুন্নী মতবাদ ও ধর্মীয় অনুশাসনের জন্য আওরঙ্গজেব ইতিহাসে প্রসিদ্ধ।
- ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে অবসানের আগ পর্যন্ত মুঘল বংশই ছিল ভারতের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এবং শক্তি ও সংহতির উৎস।
- এর অবসানের সাথে সাথে সেই রাজনৈতিক কেন্দ্রীয় শক্তিও বিলীন হয়ে যায়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
‘দুর্বার বাংলা’ ভাস্করটি কোথায় অবস্থিত?
  1. বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
  2. খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
  3. ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
  4. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

- দুর্বার বাংলা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য। 
- এটির অবস্থান খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে প্রশাসনিক ভবনের পূর্বপাশে। 
- ২০১৩ সালে গোপাল চন্দ্র পালের নকশায় ভাস্কর্যটির নির্মাণ করা হয়।

বাংলাদেশের কিছু গুরত্বপূর্ণ ভাস্কর্য এবং তাদের ভাস্কর:
- সাবাস বাংলাদেশ ভাস্কর্যটির ভাস্কর- নিতুন কুণ্ডু
- প্রত্যাশা ভাস্কর্যটির ভাস্কর- মৃণাল হক 
- দোয়েল চত্বর ভাস্কর্যটির ভাস্কর- আজিজুল জলিল পাশা।
- ‘সংশপ্তক’ ভাস্কর্যটির ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান।
- মুক্তিযুদ্ধের সর্বপ্রথম স্মারক ভাস্কর্য 'জাগ্রত চৌরঙ্গী' এর ভাস্কর হলেন- আব্দুর রাজ্জাক।
- অপরাজেয় বাংলা  ভাস্কর্য টির ভাস্কর হলেন- সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং প্রথম আলো।

.
পৃথিবীর প্রশস্ততম নদী কোনটি?
  1. নীল নদ
  2. আমাজন নদী 
  3. মিসিসিপি নদী
  4. ইয়াংসি নদী
সঠিক উত্তর:
আমাজন নদী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমাজন নদী 
ব্যাখ্যা

- আমাজন নদী পৃথিবীর অন্যতম প্রশস্ততম নদী।
-  আমাজন নদী বিশাল আমাজন অববাহিকার মধ্য দিয়ে ৪,০০০ মাইলেরও বেশি বিস্তৃত। শুষ্ক মৌসুমে এর গড় প্রস্থ ৪.৫ মাইল, শুধুমাত্র আমাজন নদীই প্রায় ১৮,০০০ বর্গমাইল ভূমি জুড়ে বিস্তৃত,

আমাজন নদী: 
- আমাজন নদী বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী।
- নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬,৪০০ কিলোমিটার।
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম নদী, আয়তন বা প্রবাহের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- আমাজন নদী দক্ষিণ আমেরিকার ছয়টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত: ব্রাজিল, পেরু এবং কলম্বিয়া, বলিভিয়া  , ইকুয়েডর , ভেনেজুয়েলা  ।
- নদীটি আটলান্টিক মহাসাগরে পতিত হয়।
- নদীর চারপাশের অঞ্চল, আমাজন রেইনফরেস্ট, অত্যন্ত জীববৈচিত্র্যপূর্ণ।
- নদীর তীরবর্তী বনে অনেক প্রজাতি বাস করে।
- নদীর জলাশয়ও প্রাণে সমৃদ্ধ।
- বিশ্বের পরিচিত সমস্ত প্রজাতির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আমাজন অঞ্চলে বাস করে।
- আমাজন নদীতে হাজার হাজার মাছের প্রজাতি পাওয়া যায়।
- নদীতে বিরল আমাজন নদীর ডলফিন, ওটার, ম্যানাটি এবং অ্যানাকোন্ডা পাওয়া যায়।
- এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি বিশিষ্ট সরীসৃপ প্রজাতি নদীর জলে পাওয়া যায়।

উৎস: i) world population review.
ii) ব্রিটানিকা।

.
বর্তমান কোন অঞ্চল হরিকেল জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. রাজশাহী
  2. দিনাজপুর
  3. সিলেট 
  4. বরিশাল
সঠিক উত্তর:
সিলেট 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট 
ব্যাখ্যা

হরিকেল:
- সপ্তম ও অষ্টম শতক হতে দশম ও একাদশ শতক পর্যন্ত হরিকেল নামে একটি স্বতন্ত্র জনপদ ছিলো বলে
- এ জনপদের অবস্থান ছিল বাংলার পূর্ব প্রান্তে।
- আধুনিক সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এই জনপদ বিস্তৃত ছিল।

অন্যদিকে,
বরেন্দ্র:
- বরেন্দ্রী, বরেন্দ্র বা বরেন্দ্রভূমি নামে প্রাচীন বাংলায় অপর একটি জনপদের কথা জানা যায়।
- এটিও উত্তরবঙ্গের একটি জনপদ।
- অনুমান করা হয়, পুঞ্জের একটি অংশ জুড়ে বরেন্দ্রর অবস্থান ছিল।
- বগুড়া, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলার অনেক এলাকা এবং সম্ভবত পাবনা জেলাজুড়ে বরেন্দ্র বিস্তৃত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

.
বাংলায় বারো ভূঁইয়ার অভ্যুত্থান ঘটেছিল কার শাসনামলে?
  1. সম্রাট আকবর
  2. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  3. সম্রাট শাহজাহান
  4. সম্রাট আরঙ্গজেব
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা

সম্রাট আকবর:
- তৃতীয় মোগল সম্রাট অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন আকবর।
- তখন তাঁর বয়স ছিল ১৩ বছর।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- আকবর সঙ্গীতপ্রিয় ও সঙ্গীতপিপাসু ছিলেন।
- আকবরের দরবারে জ্ঞানী, গুণী, বিদ্যান, বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের কদর ও প্রাধান্য ছিল।
- তার দরবারে ভারতীয়, ইরানী তুরানী, কাশ্মীরি গায়ক ছিলেন।
- বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আবুল ফজলের তথ্য মতে, আকবরের দরবারে ৩৬ জন গায়ক ছিলেন।
- আইন-ই-আকবরী মুঘল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খন্ড।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলে 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে।
- ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ তানসেন সম্রাট আকবরের দরবারের সবচেয়ে প্রতিভাবান বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পী ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- এটি কার্যকর হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে।
- নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।

- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।
- খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য তাঁর আদেশে প্রাচীন বর্ষপঞ্জি সংস্কার করে বাংলা সনের প্রবর্তন করা হয়।
- মোগল সম্রাট আকবর 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
সোমপুর মহাবিহার কোন সাম্রাজ্যের শাসনামলে নির্মিত হয়?
  1. মৌর্য
  2. গুপ্ত
  3. পাল 
  4. সেন
সঠিক উত্তর:
পাল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাল 
ব্যাখ্যা

সোমপুর মহাবিহার
- পাহাড়পুরের এই বৌদ্ধ বিহারটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান।
- এটি প্রতিষ্ঠিত হয় অষ্টম শতাব্দীতে পাল সাম্রাজ্যের শাসনামলে।
- ১৯৮৫ সাল থেকে এটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃত।
- পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।
- ১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

.
অবিভক্ত বাংলার কোন নেতা কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র ছিলেন?
  1. স্যার সৈয়দ আহমেদ খান
  2. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
সঠিক উত্তর:
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা

• অবিভক্ত বাংলার কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র ছিলেন- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।

শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকঃ

- তার পূর্ণ নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক। 
- ১৮৭৩ সালের ২৯ অক্টোবর বরিশাল জেলার বানরীপাড়া থানার চাখার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯০৬ সালে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্টেটের চাকরি গ্রহণ করেন।
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরের অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯২৭ সালে তিনি কৃষক-প্রজা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- ১৯৩৫-৩৬ সালে প্রথম বাঙালি মুসলমান হিসাবে কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন।
- ১৯৩৭ সালে শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক অবিভক্ত বাংলার প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হন। 
- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাঁকে উপাধি দেয় শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ বাংলার বাঘ।
- তিনি ‘ঋণ সালিশী বোর্ড’ গঠন করেন।
- ১৯৪০ সালে মহাজনী আইন পাসের মাাধ্যমে সুদের হার ও চক্রবৃদ্ধি রহিত করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় ফ্লাউড কমিশন গঠিত হয় এবং এ কমিশনের সুপারিশেই ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারী দখল ও প্রজাস্বত্ব আইন পাস হয়। 
- ১৯৫৪ সালে দেশের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৯৫৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর-অব-ল উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৫৯ সালে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান তাঁকে ‘হিলাল-ই-পাকিস্তান’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল প্রায় ৮৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজাপুর উপজেলার ওয়েবসাইট

১০.
ব্রহ্মপুত্র নদ বাংলাদেশে কোন জেলার মধ্য দিয়ে প্রবেশ করেছে?
  1. কুষ্টিয়া
  2. কুড়িগ্রাম 
  3. লালমনিরহাট
  4. গাইবান্ধা
সঠিক উত্তর:
কুড়িগ্রাম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুড়িগ্রাম 
ব্যাখ্যা

ব্রহ্মপুত্র নদ:

- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের নিকটে মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- এটি প্রথমে তিব্বতের উপর দিয়ে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- পরে আসামের ভিতর দিয়ে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- ব্রহ্মপুত্রনদ কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- দেওয়ানগঞ্জের কাছে নদটি দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়েছে।
- এরপর ময়মনসিংহ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- ভৈরববাজারের দক্ষিণে এটি মেঘনা নদীতে পতিত হয়েছে।
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী।
- বংশী ও শীতলক্ষ্যা ব্রহ্মপুত্রের প্রধান শাখানদী।
 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি। 

১১.
কোন সংখ্যার দ্বিগুণের সঙ্গে ৭ যোগ করলে ফলাফল সংখ্যাটির তিনগুণের সমান হবে?
  1. ৩ 
  2. ৫ 
  3. ৭ 
  4. ৯ 
সঠিক উত্তর:
৭ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ 
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: কোন সংখ্যার দ্বিগুণের সঙ্গে ৭ যোগ করলে ফলাফল সংখ্যাটির তিনগুণের সমান হবে?

সমাধান: 
ধরি,
সংখ্যাটি = ক

প্রশ্নমতে, 
বা, ২ক + ৭ = ক × ৩
বা, ২ক + ৭ = ৩ক
বা, ৩ক - ২ক = ৭
∴  ক = ৭

∴ সংখ্যাটি = ৭ ।

১২.
নিম্নলিখিত কোনটি অপ্রকৃত ভগ্নাংশ?
  1. 1/3
  2. 3/2
  3. 2/7
  4. 2/3
সঠিক উত্তর:
3/2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
3/2
ব্যাখ্যা

পূর্ণ সংখ্যা (Integers): 
শূন্য সহ সকল ধনাত্বক ও ঋণাত্বক অখণ্ড সংখ্যা সমূহকে পূর্ণ সংখ্যা বলা হয়। 
যেমন: .............., - 3, - 2, - 1, 0, 1, 2, 3 .......... ইত্যাদি। সাধারণত পূর্ণ সংখ্যার সেটকে Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
অর্থাৎ, Z = {.........., - 3, - 2, - 1, 0, 1, 2, 3 .......... ইত্যাদি} । 

ভগ্নাংশ সংখ্যা (Fractional Number): 
দুইটি পূর্ণ সংখ্যা p ও q যদি সহমৌলিক হয় এবং q ≠ 0, q ≠ 1 হয় তবে p/q আকারের সংখ্যাকে ভগ্নাংশ সংখ্যা বলা হয়। 
যেমন: 1/2, 2/3, 5/6,- 5/2 ইত্যাদি। 
p < q হলে ভগ্নাংশকে প্রকৃত ভগ্নাংশ এবং p > q হলে ভগ্নাংশকে অপ্রকৃত ভগ্নাংশ বলা হয়। 
যেমন: 1/3, 2/3, 2/7, ......... ইত্যাদি প্রকৃত ভগ্নাংশ এবং 3/2, 5/3, 7/2, 9/4, ............ ইত্যাদি অপ্রকৃত ভগ্নাংশ। 

মূলদ সংখ্যা (Rational Number): 
দুইটি পূর্ণ সংখ্যা p ও q এবং q ≠ 0 হলে, আকারের সকল সংখ্যাকে মূলদ সংখ্যা বলা হয়। মূলদ সংখ্যার সেটকে সাধারণত Q দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
অর্থাৎ, Q =  {p/q | p,q ∈ Z এবং q ≠ 0, p ও q সহমৌলিক} । 

অমূলদ সংখ্যা (Irrational Number): 
যে সকল সংখ্যাকে p/q আকারে প্রকাশ করা যায় না তাদেরকে অমূলদ সংখ্যা বলা হয়। অমূলদ সংখ্যার সেটকে সাধারণত Q' দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
যেমন: π, √2, √3, √(5/2) ইত্যাদি অমূলদ সংখ্যা। 

১৩.
২/৩ এবং ৫/৬ এর ল.সা.গু কত? 
  1. ১৫
  2. ২০/৩ 
  3. ১০/৩
সঠিক উত্তর:
১০/৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০/৩
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ২/৩ এবং ৫/৬ এর ল.সা.গু কত? 

সমাধান: 
আমরা জানি, 
ভগ্নাংশের ল.সা.গু = লব এর ল.সা.গু/হর এর গ.সা.গু 
লব ২ ও ৫ এর ল.সা.গু = ১০
হর ৩ ও ৬ এর গ.সা.গু = ৩

∴ ২/৩ এবং ৫/৬ এর ল.সা.গু = ১০/৩ । 

১৪.
তিনটি ক্রমিক সংখ্যার যোগফল ৩০। ক্ষুদ্রতম সংখ্যা দুইটির গুণফল কত?
  1. ৯০ 
  2. ৯৬ 
  3. ১০০ 
  4. ১২০ 
সঠিক উত্তর:
৯০ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯০ 
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: তিনটি ক্রমিক সংখ্যার যোগফল ৩০। ক্ষুদ্রতম সংখ্যা দুইটির গুণফল কত?

সমাধান: 
ধরি, 
তিনটি ক্রমিক সংখ্যা যথাক্রমে x - ১, x এবং x + ১ 

প্রশ্নমতে, 
x - ১ + x + x + ১ = ৩০
বা, ৩x = ৩০
বা, x = ৩০/৩ 
∴ x = ১০
তিনটি ক্রমিক সংখ্যা যথাক্রমে ৯, ১০ এবং ১১

∴ ক্ষুদ্রতম সংখ্যা দুইটির গুণফল = (৯ × ১০) 
= ৯০ ।

১৫.
একটি বাঁশের ১/৫ অংশ কাঁদায়, ২/৫ অংশ পানিতে এবং ৬ মিটার পানির উপরে আছে। বাঁশটির সম্পূর্ণ দৈর্ঘ্য কত?
  1. ১৮ মিটার 
  2. ১৫ মিটার 
  3. ২১ মিটার 
  4. ২৪ মিটার 
সঠিক উত্তর:
১৫ মিটার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫ মিটার 
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি বাঁশের ১/৫ অংশ কাঁদায়, ২/৫ অংশ পানিতে এবং ৬ মিটার পানির উপরে আছে। বাঁশটির সম্পূর্ণ দৈর্ঘ্য কত?

সমাধান: 
ধরি,
বাঁশটির সম্পূর্ণ দৈর্ঘ্য = x মিটার 

প্রশ্নমতে, 
x - (x/৫ + ২x/৫) = ৬ 
বা, x - (x + ২x)/৫ = ৬ 
বা, x - (৩x/৫) = ৬ 
বা (৫x - ৩x)/৫ = ৬ 
বা, ২x/৫ = ৬  
বা, ২x =  ৩০ 
বা, x = ৩০/২
∴ x = ১৫ 

∴ বাঁশটির সম্পূর্ণ দৈর্ঘ্য = ১৫ মিটার।

১৬.
দুটি সংখ্যার ল.সা.গু তাদের গ.সা.গু এর ১৬ গুণ। সংখ্যাদ্বয়ের গুণফল ১০২৪ হলে ল.সা.গু কত?
  1. ৩২ 
  2. ৬৪ 
  3. ১২৮ 
  4. ২৫৬ 
সঠিক উত্তর:
১২৮ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২৮ 
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: দুটি সংখ্যার ল.সা.গু তাদের গ.সা.গু এর ১৬ গুণ। সংখ্যাদ্বয়ের গুণফল ১০২৪ হলে ল.সা.গু কত?

সমাধান: 
ধরি,
দুটি সংখ্যার গ.সা.গু = x
দুটি সংখ্যার ল.সা.গু  = ১৬x 

আমরা জানি, 
দুটি সংখ্যার ল.সা.গু ও গ.সা.গুর গুণফল = দুটি সংখ্যার গুণফল 
∴ ১৬x × x = ১০২৪ 
⇒  ১৬x = ১০২৪ 
⇒ x = ১০২৪/১৬
⇒  x = ৬৪  
⇒ x = ৮  
∴ x = ৮

∴ ল.সা.গু = ১৬ × ৮ 
= ১২৮ ।

১৭.
১ থেকে ১৫ পর্যন্ত যে মৌলিক সংখ্যাগুলো আছে তাদের গুণফল কত? 
  1. ৩০১৩০
  2. ৩৩১০০
  3. ৩৩৩০০ 
  4. ৩০০৩০
সঠিক উত্তর:
৩০০৩০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০০৩০
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ১ থেকে ১৫ পর্যন্ত যে মৌলিক সংখ্যাগুলো আছে তাদের গুণফল কত? 

সমাধান: 
১ থেকে ১৫ পর্যন্ত সংখ্যার মধ্যে মৌলিক সংখ্যা হলো ২, ৩, ৫, ৭, ১১, ১৩ 
∴ মৌলিক সংখ্যাগুলোর গুণফল = ২ × ৩ × ৫ × ৭ × ১১ × ১৩ 
= ৬ × ৩৫ × ১৪৩  
= ২১০ × ১৪৩  
= ৩০০৩০ ।

১৮.
কোনো সংখ্যার ১/৩ অংশের সাথে ৪ যোগ করলে সংখ্যাটির ১/২ অংশ হবে। সংখ্যাটি কত? 
  1. ২৪ 
  2. ৩০ 
  3. ৩২ 
  4. ৩৬ 
সঠিক উত্তর:
২৪ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪ 
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: কোনো সংখ্যার ১/৩ অংশের সাথে ৪ যোগ করলে সংখ্যাটির ১/২ অংশ হবে। সংখ্যাটি কত? 

সমাধান: 
ধরি, 
সংখ্যাটি = x 

প্রশ্নমতে,
(x/৩) + ৪ = x/২
বা, (x/২) - (x/৩) = ৪
বা, (৩x - ২x)/৬ = ৪
বা, x/৬ = ৪ 
∴ x = ২৪

∴ সংখ্যাটি = ২৪ ।

১৯.
দুইটি সংখ্যার অনুপাত ৭ : ৮ এবং তাদের ল.সা.গু ৫৬০। সংখ্যা দুটি কত?
  1. ৪৯, ৫৬
  2. ৭০, ৮০
  3. ৬৩, ৭২
  4. ৫৬, ৬৪
সঠিক উত্তর:
৭০, ৮০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭০, ৮০
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: দুইটি সংখ্যার অনুপাত ৭ : ৮ এবং তাদের ল.সা.গু ৫৬০। সংখ্যা দুটি কত?

সমাধান: 
মনে করি, 
সংখ্যা দুটি ৭ক ও ৮ক 
∴ সংখ্যা দুটির ল.সা.গু = ৫৬ক 

শর্তমতে, 
৫৬ক = ৫৬০ 
বা, ক = ৫৬০/৫৬ 
∴ ক = ১০
সুতরাং ৭ক = ৭ × ১০ = ৭০ এবং ৮ক = ৮ × ১০ = ৮০ 

∴ সংখ্যা দুটি = ৭০ ও ৮০ ।

২০.
নিচের কোনটি ক্ষুদ্রতম ভগ্নাংশ? 
  1. ২/৯
  2. ৭/৩৬ 
  3. ৫/২৭ 
  4. ১১/৪৫ 
সঠিক উত্তর:
৫/২৭ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫/২৭ 
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: নিচের কোনটি ক্ষুদ্রতম ভগ্নাংশ? 

সমাধান: 
ক) ২/৯ = ০.২২২ (বৃহত্তম)
খ) ৭/৩৬ = ০.১৯৪ (বৃহত্তম) 
গ) ৫/২৭ = ০.১৮৫ (ক্ষুদ্রতম) 
ঘ) ১১/৪৫ = ০.২৪৪ (বৃহত্তম) 

∴ ক্ষুদ্রতম সংখ্যা = ৫/২৭ । 

২১.
Choose the correctly spelled word-
  1. Aquiescence
  2. Acquiesence
  3. Acquiescnce
  4. Acquiescence
সঠিক উত্তর:
Acquiescence
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Acquiescence
ব্যাখ্যা

Correct answer: Acquiescence.

• Acquiescence (noun)
- English meaning: the act of accepting or agreeing to something, often unwillingly.
- Bangla meaning: নীরব সম্মতি, মৌন বশ্যতা, বা কোনো প্রতিবাদ ছাড়াই কিছু মেনে নেওয়া।

Example sentence:
1. I was surprised by her acquiescence to the plan.
2. His acquiescence in the nuclear deal may have been a tactical concession.

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Cambridge Dictionary.

২২.
What is the meaning of the word "archaic"? 
  1. atmosphere of a particular area
  2. punishment for a crime
  3. belonging to an ancient period
  4. to destroy something completely
সঠিক উত্তর:
belonging to an ancient period
উত্তর
সঠিক উত্তর:
belonging to an ancient period
ব্যাখ্যা

Correct answer: belonging to an ancient period.

• Archaic (adjective)
- English meaning: of or belonging to an ancient period in history.
- Bangla meaning: প্রাচীন; সেকেলে।

Example sentence:
1. He has archaic ideas about women.
2. Some people like to show off by using archaic words.

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Cambridge Dictionary.

২৩.
The idiom "by and by" means-
  1. in all respects
  2. after a short period
  3. in course of talking
  4. in no way
সঠিক উত্তর:
after a short period
উত্তর
সঠিক উত্তর:
after a short period
ব্যাখ্যা

Correct answer: after a short period.

• By and by
- English meaning: after a short period.
- Bangla meaning: দেখতে দেখতে, অবিলম্বে।

Example sentence:
1. By and by, a man appeared.
2. You'll get used to it by and by.

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Cambridge Dictionary.

২৪.
The antonym of the word 'boisterous' is-
  1. Noisy
  2. Tranquil
  3. Unruly
  4. Cheerful
সঠিক উত্তর:
Tranquil
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Tranquil
ব্যাখ্যা

Correct answer: Tranquil.

Boisterous (adjective)
- Bangla Meaning: অমার্জিত; হৈচৈপূর্ণ; উল্লাসময়।
- English Meaning: marked by or expressive of exuberance and high spirits.

Tranquil (adjective)
- Bangla Meaning: শান্ত; চুপচাপ।
- English Meaning: free from disturbance or turmoil.

Other options:
ক) Noisy 
- Bangla Meaning: কোলাহলপূর্ণ; হৈচৈপূর্ণ।
- English Meaning: full of or characterized by noise or clamor.

গ) Unruly
- Bangla Meaning: উচ্ছৃঙ্খল; দুরন্ত; অবাধ্য; দুর্দান্ত; দুর্দম্য। 
- English Meaning: not readily ruled, disciplined, or managed.

ঘ) Cheerful
- Bangla Meaning: আনন্দদায়ক বা আনন্দব্যঞ্জক; মনোরম। 
- English Meaning: full of good spirits.

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Merriam-Webster Dictionary.

২৫.
What is the synonym of the word "chastise"?
  1. Reprimand
  2. Reward
  3. Organize
  4. Dangerous
সঠিক উত্তর:
Reprimand
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Reprimand
ব্যাখ্যা

Correct answer: Reprimand. 

Chastise (verb) 
- English meaning: to criticize (someone) severely or angrily, especially for personal failings.
- Bangla meaning: কঠোরভাবে শাস্তি দেওয়া।

Reprimand (noun)
- English meaning: strong official criticism of a person or their behaviour.
- Bangla meaning: কঠোর তিরস্কার করা।

Other options:
খ) Reward
- English meaning: something offered or given in return for a service performed.
- Bangla meaning: পুরস্কার।

গ) Organize
- English meaning: to put into a particular arrangement.
- Bangla meaning: সংগঠিত করা; প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

ঘ) Dangerous
- English meaning: involving potential loss or injury.
- Bangla meaning: বিপজ্জনক; বিপৎসংকুল।

Source:
1. Merriam-Webster dictionary.
2. Accessible Dictionary.
3. Cambridge Dictionary.

২৬.
She is alive _______ the needs of her students.
  1. of
  2. with
  3. to
  4. on
সঠিক উত্তর:
to
উত্তর
সঠিক উত্তর:
to
ব্যাখ্যা

Correct answer: to.
Complete sentence: She is alive to the needs of her students.
- সে তার ছাত্র-ছাত্রীদের প্রয়োজনের প্রতি সচেতন।
- এখানে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রয়োজনের প্রতি সচেতন বা অবগত অর্থে Appropriate Preposition হিসেবে Alive এর সাথে "to" বসে।

• Alive to

- English meaning: aware of (something) : able to notice (something).
- Bangla meaning: জীবিত, জীবন্ত, জিন্দা, প্রাণবন্ত বা সজ্ঞান।

• উল্লেখ্য Alive এর সাথে সচেতন বা অবগত অর্থে Appropriate Preposition হিসেবে of/ with/ on এর কোন ব্যবহার নেই।

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Merriam-Webster Dictionary.

২৭.
The house owner does not rent to a single person. Here, 'single" is a/an-
  1. Adjective of Number
  2. Adjective of Quality
  3. Adjective of Quantity
  4. Pronominal Adjective
সঠিক উত্তর:
Adjective of Number
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Adjective of Number
ব্যাখ্যা

Correct answer: Adjective of Number.
- The house owner does not rent to a single person. 
- এ বাক্যে 'Single' শব্দটি এখানে 'এক' বা 'একক' সংখ্যাকে নির্দেশ করছে।
- অর্থাৎ বাড়িওয়ালা একজন ব্যক্তিকে ভাড়া দেন না। তাই এটি Adjective of Number.

• Adjective of Number: যে Adjective বাক্যে কোন Noun এর সংখ্যা ক্রম বা পর্যায় নিদের্শ করে তাকে Adjective of Number বলে।
- বাংলায় Adjective of Number-কে "সংখ্যাবাচক বিশেষণ" বলে।
- Adjective of Number তিন প্রকার:
- 1. Cardinal Number: - One, Two, Three.
- 2. Ordinal Number: - First, Second, Third.
- 3. Multiplicative Number: -Single, Double, Treble.

• Other options:
খ) Adjective of Quality
- যা কোনো Noun বা Pronoun-এর দোষ, গুণ, অবস্থা, আকার বা প্রকার প্রকাশ করে।
- Ex: Nice, Brave , Honest , Rich , Small , Hot, etc.

গ) Adjective of Quantity
- এটি কোনো বস্তুর আনুমানিক বা অনির্দিষ্ট পরিমাণ বোঝায়.
- Ex: much, little, some, etc.

ঘ) Pronominal Adjective
- Pronoun যখন Noun-এর আগে adjective হিসেবে কাজ করে
- Ex: this boy, my book, etc.

Source: A Passage to the English Language by S.M. Zakir Hussain.

২৮.
The noun of 'Complain' is-
  1. Complain
  2. Complaint
  3. Complaining 
  4. Complainingly
সঠিক উত্তর:
Complaint
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Complaint
ব্যাখ্যা

Correct answer: Complaint.

• Complain (verb)
- English Meaning: to express grief, pain, or discontent
- Bangla Meaning: (কারো কাছে কোনো বিষয়ে) অসন্তোষ; অন্যায়; দুর্ভোগ; যন্ত্রণা ইত্যাদি প্রকাশ করা; অভিযোগ করা।

• Complaint (noun)
- English meaning: expression of grief, pain, or dissatisfaction.
- Bangla meaning: অভিযোগ, নালিশ; নালিশের বা অভিযোগের কারণ।

Other options:
গ) Complaining(verb)
- English meaning: to express grief, pain, or discontent.
- Bangla meaning: অভিযোগ করা; নালিশ জানানো।

ঘ) Complainingly (adverb)
- English meaning: in a way that shows you think something is wrong or not satisfactory.
- Bangla meaning: অভিযোগের সুরে, অনুযোগ করে।

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Cambridge Dictionary.

২৯.
Neither of the pens writes smoothly. Here, "neither" is a/an-
  1. Personal pronoun
  2. Distributive Pronoun
  3. Demonstrative pronoun
  4. Relative pronoun
সঠিক উত্তর:
Distributive Pronoun
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Distributive Pronoun
ব্যাখ্যা

Correct answer: Distributive Pronoun.

• Distributive Pronoun:

- যে সকল Pronoun একই জাতীয় একাধিক বস্তু বা ব্যক্তিকে পৃথকভাবে বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয় সেগুলোকে Distributive Pronoun বলে। এদের পরে সবসময় Singular Verb বসে।
- যেমন: each, either, neither ইত্যাদি।

• Pronoun ৮ প্রকার। যেমন: 
1. Personal pronoun: (I, we, me, it),
2. Demonstrative pronoun: (this, that),
3. Interrogative pronoun: (what, who),
4. Relative pronoun: (what, who, that),
5. Indefinite pronoun: (such, one, none, some, any, all, many),
6. Distributive pronoun: (each, either, neither),
7. Reflexive pronoun: (myself, themselves),
8. Reciprocal pronoun: (each other, one another).

Source: A Passage to the English Language by S.M. Zakir Hussain.

৩০.
House prices are creeping ______ again.
  1. of
  2. in
  3. on
  4. up 
সঠিক উত্তর:
up 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
up 
ব্যাখ্যা

Correct answer: up.
Complete sentence: House prices are creeping up again.
- বাড়ির দাম আবারও ধীরে ধীরে বাড়ছে।
- এখানে ধীরে ধীরে বাড়ছে অর্থে Appropriate preposition হিসেবে Creep এর সাথে "up" বসে।

• Creep up
- English meaning: If the value or amount of something creeps up, it slowly increases.
- Bangla meaning: ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাওয়া।

• উল্লেখ্য Creep এর সাথে বৃদ্ধি পাওয়া অর্থে Appropriate Preposition হিসেবে of/ in/ on এর কোন ব্যবহার নেই।

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Cambridge Dictionary.

৩১.
মধ্যযুগের নিদর্শন ‘সেক শুভোদয়া’ কার সৃষ্টিকর্ম? 
  1. সুকুমার সেনে
  2. হলায়ূধ মিশ্র
  3. রামনিধি গুপ্ত 
  4. রামাই পণ্ডিত
সঠিক উত্তর:
হলায়ূধ মিশ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হলায়ূধ মিশ্র
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগের নিদর্শন ‘সেক শুভোদয়া’ হলায়ূধ মিশ্র-এর রচনা।
----------------------
• সেক শুভোদয়া:
- সেখশুভোদয়া বাংলা ও সংস্কৃত ভাষার মিশ্রণে রচিত একটি চম্পুকাব্য (গদ্য-পদ্য মিশ্র সাহিত্য)।
- গ্রন্থটি সংস্কৃত গদ্য ও পদ্যে লেখা হলেও ভাষা সম্পূর্ণ শুদ্ধ নয়;
- এতে অশুদ্ধ সংস্কৃত, বাংলা ছড়া, বচন ও বাগধারার ব্যবহার দেখা যায়।
- এই কারণেই ভাষাবিদ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় একে ‘Dog Sanskrit’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

- অনেকে মনে করেন, এটি গৌড়ের রাজা লক্ষ্মণ সেন-এর সভাকবি হলায়ূধ মিশ্র-এর রচনা।
- গবেষক মুহম্মদ এনামুল হক গ্রন্থটির রচনাকাল খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর প্রথম দিক বলে মত দেন।
- যদিও অন্যদের মতে এটি ষোড়শ শতকের আগে রচিত নয়।

- গ্রন্থটিতে মোট ২৫টি অধ্যায় রয়েছে এবং প্রতিটি অধ্যায়ে এক বা একাধিক কাহিনি সংযোজিত। 
- কাহিনিগুলোর কেন্দ্রীয় চরিত্র জালালুদ্দিন তাব্রিজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান (সেক)।
- তিনি রাজা লক্ষ্মণ সেনের দরবারে চমৎকার ও চিত্তাকর্ষক গল্প পরিবেশনের মাধ্যমে সবার মনে বিস্ময় সৃষ্টি করলে রাজা তাকে পুরস্কৃত করেন। 

- ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ‘কায়স্থ' পত্রিকায় গ্রন্থটির ১৩টি পরিচ্ছদ অনুবাদ সহ প্রকাশ করেন।
- ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয়।
-------------------
অন্যদিকে,
- রামাই পণ্ডিত- শুন্যপুরাণ গ্রন্থের রচয়িতা।
- রামনিধি গুপ্ত টপ্পাগানের জনক। 

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।

৩২.
ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মতে প্রাচীনযুগের ব্যপ্তি ছিল-    
  1. ৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ৯৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ৬৫০-১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ৯৫০-১২০১ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা

ড. শহীদুল্লাহর মতে বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ:
- ড. শহীদুল্লাহ ধারনা করেন, বাংলা সাহিত্য সুদীর্ঘ হাজার বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাস বহন করে।
- ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে প্রধানত তিনটি যুগে ভাগ করা হয়েছে:

• প্রাচীন যুগ (৬৫০–১২০০ খ্রিষ্টাব্দ) – 
- এই যুগে বাংলা ভাষার উদ্ভব ঘটে এবং সাহিত্য নিদর্শন হিসেবে মূলত চর্যাপদ পাওয়া যায়।

• মধ্যযুগ (১২০১–১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ) –
- তুর্কি আক্রমণের পর থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ হিসেবে গণ্য।

• আধুনিক যুগ (১৮০১–বর্তমান) –
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত সময়কাল আধুনিক যুগ হিসেবে বিবেচিত।

• ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মতে,
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের ব্যাপ্তি ছিল ৬৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দ, সুতরাং ৫৫০ বছর।
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের ব্যাপ্তি ছিল ১২০১–১৮০০ খ্রিস্টাব্দ, সুতরাং ৫৯৯ বা ৬০০ বছর।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে,
- বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ বা বন্ধ্যা যুগ চলেছিল ১২০১–১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।
- এই প্রায় ১৫০ বছরের সময়কালকে তুর্কি আক্রমণের পরের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য সৃষ্টির অভাবের কারণে এই যুগকে অন্ধকার যুগ বলা হয়।
--------------------------
অন্যদিকে,
- সুনিতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে প্রাচীন যুগের ব্যাপ্তি ছিল ৯৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৩.
“হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী”- চর্যাপদের এই প্রবাদ বাক্যটির রচয়িতা কে?  
  1. ভুসুকুপা 
  2. সরহপা 
  3. ঢেণ্ডণ পা
  4. কাহ্নপা
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণ পা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণ পা
ব্যাখ্যা

• “হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী”:
- “হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী” চর্যাপদের ৩৩ নং পদ।
- এই পদের রচয়িতা ঢেণ্ডণ পা। 
- এটি রাগ পটমঞ্জরীতে রচিত।
- পদের অর্থ হলো: হাঁড়িতে ভাত নেই অথচ প্রতিদিন অতিথি বা প্রেমিক আসে।
- পদটি চরম দারিদ্র্য ও অভাবের সংসারে নিত্য নতুন দায়-দায়িত্ব বা মানুষের আগমনে বিপাকে পড়ার রূপক চিত্র ফুটিয়ে তোলে।
- অর্থাৎ, অভাব থাকা সত্ত্বেও অপ্রত্যাশিত চাপ ও দায়িত্বের আগমন অব্যাহত থাকে।

- ঢেণ্ডণ পা-এর আরেকটি বিখ্যাত পদ হলো- “দুহিল দুধু কী বেন্টে সামায়”।
-------------------------------------
প্রবাদ বাক্য:
- চর্যাপদ বৌদ্ধ সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম, যা নৈতিক শিক্ষা এবং জীবনমুখী বার্তা সমৃদ্ধ।
- এতে মোট ৬টি প্রবাদ বাক্য রয়েছে, যা সহজবোধ্য ভাষায় জ্ঞানগর্ভ উপদেশ প্রদান করে।
- এই প্রবাদগুলো হলো:
• আপণা মাংসে হরিণা বৈরী – নিজের লোভই নিজের ক্ষতি করে (রচয়িতা- ভুসুকুপা)। 
• দুহিল দুধু কি বেন্টে সামায় – একবার যা হয়েছে, তা ফেরানো যায় না।  
• হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন – যা স্পষ্ট, তা দেখার জন্য আলাদা প্রমাণের দরকার নেই (রচয়িতা- সরহপা)।
• হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী – অভাব থাকা সত্ত্বেও নিত্য নতুন দায়-দায়িত্ব ও মানুষের আগমন অব্যাহত থাকে
• বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ – আমার দোষ নয়, অপরের; নিজেকে নির্দোষ ধরা (রচয়িতা- সরহপা)। 
• আন চাহন্তে আন বিনধা – অন্য কিছু চাইতে গিয়ে অন্য কিছু অপ্রত্যাশিতভাবে পাওয়া বা ঘটে যাওয়া (রচয়িতা- কাহ্নপা)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৩৪.
বৈষ্ণব পদাবলি-এর আদি কবি বলা হয় কাকে? 
  1. বিদ্যাপতি
  2. গোবিন্দ দাস
  3. চণ্ডীদাস
  4. জয়দেব 
সঠিক উত্তর:
জয়দেব 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়দেব 
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সমৃদ্ধ ও শ্রেষ্ঠ সাহিত্যধারা।
- এই ধারার মূল ভিত্তি হলো রাধা–কৃষ্ণের প্রেমলীলা ও ভক্তিভাবনা।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে মোট পাঁচটি রসের প্রকাশ লক্ষ্য করা যায় — 
- শান্তরস, 
- দাস্যরস, 
- সখ্যরস, 
- বাৎসল্যরস,
- মধুররস। 
- এই রসসমূহের সমন্বয়ে বৈষ্ণব পদাবলি ভক্তি ও প্রেমের এক অনন্য সাহিত্যিক রূপ লাভ করেছে।

- বাঙালি কবি জয়দেব-কে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা আদিকবি বলা হয়।
- তাঁর রচিত গীতগোবিন্দম্-এ রাধা–কৃষ্ণের প্রেম ও ভক্তির রূপচিত্র তুলে ধরলেও এটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- যদিও এটি বাংলা নয়, তবুও আদি বৈষ্ণব পদাবলির পদকর্তা হিসেবে জয়দেবকে গণ্য করা হয়।

- পরবর্তীতে অবাঙালি কবি বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- তাঁকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদিকবি বলা হয়।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস, যার মাধ্যমে বাংলা ভাষায় এই ধারার পূর্ণ বিকাশ ঘটে।
-----------------------
উল্লেখ্য,
- পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা:
- বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকা হলো যে নারী অন্তরে স্বতঃসিদ্ধভাবে কৃষ্ণরতি ও কৃষ্ণপ্রেমে মগ্ন।
- অর্থাৎ, তার প্রেমের মূল কেন্দ্র কেবল কৃষ্ণ, এবং সে সম্পূর্ণভাবে কৃষ্ণের প্রেমে বশীভূত।
- এই ধরনের নায়িকাকে সমর্থা নায়িকা বলা হয়।
- বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি এই সমর্থা নায়িকাদের মধ্যে পড়েন, যেখানে শ্রীরাধা সর্বশ্রেষ্ঠ নায়িকা।

- বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার ৮টি অবস্থা চিত্রিত হয়েছে:
- অভিসারিকা – প্রেমিককে খুঁজতে বের হওয়া।
- বাসকসজ্জা – সুন্দর সাজগোজ করা।
- উৎকণ্ঠিতা – অপেক্ষায় আগ্রহী বা উত্তেজিত থাকা।
- বিপ্রলব্ধা – প্রেমিকের অবহেলা বা অনুপস্থিতিতে দুঃখিত হওয়া।
- খণ্ডিতা – প্রেমিকের প্রতি ক্ষোভ বা বিরক্তি প্রকাশ।
- কলহান্তরিতা – প্রেমিকের সঙ্গে ঝগড়ার পর মন খারাপ থাকা।
- প্রোষিতভর্তৃকা – প্রেমিকের আগমনে আনন্দিত ও রোমাঞ্চিত হওয়া।
- স্বাধীনভর্তৃকা – প্রেমিকের উপস্থিতিতে স্বতঃস্ফূর্ত ও আনন্দিত থাকা। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস — ড. মাহবুবুল আলম। 

৩৫.
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ-আধুনিক যুগের মেলবন্ধনের প্রতীক বলা হয় কাকে?
  1. ঈশ্বর চন্দ্র গুপ্তকে 
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তীকে
  3. মধূসূদন দত্তকে 
  4. ভারত চন্দ্র রায় গুণাকরকে
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বর চন্দ্র গুপ্তকে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বর চন্দ্র গুপ্তকে 
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ-আধুনিক যুগের মেলবন্ধনের প্রতীক বলা হয়- ঈশ্বর চন্দ্র গুপ্তকে। 
-----------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক।
- ১৮১২ সালে পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী কবি হিসেবে পরিচিত।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন যুগসন্ধিক্ষণের কবি (১৭৬১ – ১৮৬০)।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর নামক সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন।
- সাংবাদিকতার মাধ্যমে তিনি সমাজের অবিচার, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অত্যাচার ও অন্যায়কর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। 
- ‘সংবাদ প্রভাকর’ ছাড়াও ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যেসব পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন—
- সংবাদ রত্নাবলী,
- পাষণ্ডপীড়ন। 
-------------------------------- 
মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সন্ধিক্ষণের কবি:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সন্ধিক্ষণের কবি হিসেবে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বিশেষভাবে পরিচিত।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁকে ‘খাঁটি বাঙালি কবি’ বলে অভিহিত করেছেন।
- ১৮০১–১৮৬১- এই মধ্যবর্তী প্রায় ষাট বছর ছিল রূপান্তরের কাল। 
- এই সময় আধুনিকতার দিকে কেবল অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা চলেছে।
- এই সময়েই ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সাহিত্যিক আবির্ভাব ঘটে। 

- মধ্যযুগের শেষ প্রতিনিধি ভারতচন্দ্র রায় এবং আধুনিক যুগের প্রথম পুরুষ মাইকেল মধুসূদন দত্ত—এই দুই যুগান্তকারী ব্যক্তিত্বের মধ্যবর্তী সময়ে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অবস্থান।
- তাঁর কাব্যে মধ্যযুগের বৈশিষ্ট্য ও আধুনিক যুগের সূচনালক্ষণ একসঙ্গে বিদ্যমান থাকায় তাঁকে যথার্থভাবেই যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়।
- তাঁর রচনায় মধ্যযুগের সাহিত্যরীতি ও বিষয়বস্তু যেমন ছিল, তেমনি আধুনিক যুগের প্রভাবও ছিল স্পষ্ট।
- তিনি ছিলেন দুই যুগের মেলবন্ধনের প্রতীক।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

৩৬.
ধর্মমঙ্গল কাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি কে? 
  1. রুপরাম চক্রবর্তী 
  2. ময়ূরভট্ট
  3. মানিকরাম গাঙ্গুলি
  4. ঘনরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
ঘনরাম চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘনরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

• ধর্মমঙ্গল কাব্য:
- ধর্মমঙ্গল কাব্য হলো এমন একটি কাব্যধারা যা মূলত ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্য বা গুণগান প্রদর্শনের জন্য রচিত।
- এখানে ধর্মঠাকুরকে অনার্য দেবতা হিসেবে দেখানো হয়, অর্থাৎ সে শহরের ব্রাহ্মণ বা আর্য ধর্মের চেয়ে ভিন্ন, গ্রামীণ বা লোকমুখী দেবতা।
- একই সঙ্গে তাকে কখনও কখনও সূর্য বা বুদ্ধের প্রতীক হিসেবে কল্পনা করা হয়, যা তার অতিপ্রাকৃতিক শক্তি, জ্ঞান ও প্রভাবকে তুলে ধরে।

- ধর্মমঙ্গল কাব্যের মূল আখ্যান প্রধানত দুটি কাহিনীকে কেন্দ্র করে গঠিত।
- প্রথমটি হলো রাজা হরিশ্চন্দ্রের পৌরাণিক কাহিনী
- এবং দ্বিতীয়টি হলো লাউসেনের লৌকিক বীরগাঁথা।

- ধর্মমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রসমূহের মধ্যে আছেন-
- লাউসেন, ধর্মঠাকুর, কালু ডোম, কানড়া, ইছাই ঘোষ, ময়নামতী, রাজা হরিশ্চন্দ্র এবং মদনা ও লুইচন্দ্র। 

-  ধর্মমঙ্গল কাব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল- রাঢ় বাংলার লৌকিক দেবতা ধর্মঠাকুরের মহিমা প্রচার করা।
- কাব্যটির আখ্যান হরিশ্চন্দ্রের কাহিনীর মাধ্যমে শুরু হয়ে, লাউসেনের বীরত্ব ও ধর্মঠাকুরের কৃপায় তার বিজয় প্রদর্শনের মাধ্যমে বিকশিত হয়েছে।
- এছাড়া কাব্যটি রাঢ় অঞ্চলের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পৌরাণিক প্রেক্ষাপটকে ফুটিয়ে তোলে।
- এতে ধর্মঠাকুরের অলৌকিক কর্মকাণ্ড, লাউসেনের বীরত্ব, ধর্মঠাকুরের কৃপায় তার বিজয় এবং প্রাচীন রাঢ়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

- ধর্মমঙ্গল কাব্যের আদি বা প্রথম কবি ছিলেন ময়ূরভট্ট। 
- তিনি ‘হাকন্দপুরাণ’ রচনা করেছেন।

- তবে মধ্যযুগে এই ধারায় রূপরাম চক্রবর্তী ও ঘনরাম চক্রবর্তীকে প্রধান ও জনপ্রিয় কবি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ধর্মমঙ্গলের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি অষ্টাদশ শতাব্দীর ঘনরাম চক্রবর্তী।
- অন্যান্য কবির মধ্যে আছেন- মানিকরাম গাঙ্গুলি, রামদাস আদক, এবং সীতারাম দাস। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৩৭.
'ছুটিখানী মহাভারত' রচনা করেন কে? 
  1. শ্রীকর নন্দী
  2. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  3. কাশীরাম দাস
  4. কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
সঠিক উত্তর:
শ্রীকর নন্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকর নন্দী
ব্যাখ্যা

'ছুটিখানী মহাভারত' রচনা করেন- শ্রীকর নন্দী। 
------------------------
• মহাভারত:
- মহাভারত প্রাচীন ভারতের অন্যতম প্রধান এবং বিশ্বের দীর্ঘতম সংস্কৃত মহাকাব্য।
- এর রচয়িতা মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস।
- এর মূল কাহিনী হলো কুরু বংশের দুই ভাই পাণ্ডব ও কৌরবদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই এবং কুরুক্ষেত্রের ১৮ দিনের যুদ্ধ।
- মহাকাব্যের মূল উপজীব্য হলো ‘ধর্ম’ বা ন্যায়ের জয় এবং ‘অধর্ম’ বা অন্যায়ের পরাজয়।
- এটি ১ লক্ষেরও বেশি শ্লোকবিশিষ্ট বিশাল কাব্য এবং হিন্দুধর্মের ইতিহাস ও জ্ঞানভাণ্ডার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
- মহাভারত কেবল যুদ্ধকাহিনী নয়, বরং মানব জীবনের কর্তব্য, প্রেম, ঘৃণা, ত্যাগ ও আদর্শের জটিল আখ্যান।

- মহাভারতের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন কবীন্দ্র পরমেশ্বর। 
- তিনি পরাগলী খাঁর উৎসাহে এটি অনুবাদ করেন।
- তিনি অনুবাদকৃত গ্রন্থের নাম দেন বিজয়পান্ডবকথা অথবা ভারতপাঁচালী।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক হিসেবে পরিচিত কাশীরাম দাস।

ছুটিখানী মহাভারত:
- ছুটিখানী মহাভারত এর রচয়িতা শ্রীকর নন্দী।

- এটি ১৫১৮–১৫২০ খ্রিস্টাব্দে রচিত এবং মূলত সংস্কৃত মহাভারতের অশ্বমেধপর্বকে বিস্তৃত আকারে বাংলা ভাষায় উপস্থাপন করেছে। কবি শ্রীকর নন্দী ছুটিখান কর্তৃক নির্দেশিত রচনার মাধ্যমে অশ্বমেধযজ্ঞের অনুষ্ঠান, অর্জুনের দিগ্বিজয় যাত্রা, বিভিন্ন দেশের রাজাদের সঙ্গে যুদ্ধ এবং যুদ্ধের কলাকৌশলকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। ছুটিখানী মহাভারত একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ কাব্য, যা পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত। 

উৎস:
বাংলাপিডিয়া; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৮.
মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত চন্দ্রাবতী পালা রচনা করেছেন কে?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. নয়নচাঁদ ঘোষ
  3. জয়ানন্দ 
  4. মনসুর বয়াতি 
সঠিক উত্তর:
নয়নচাঁদ ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নয়নচাঁদ ঘোষ
ব্যাখ্যা

চন্দ্রাবতী পালা:
- মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত বিখ্যাত ‘চন্দ্রাবতী’ পালা রচনা করেছেন কবি নয়নচাঁদ ঘোষ।

- এই পালায় বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী কবি চন্দ্রাবতী এবং তার প্রেমিক জয়ানন্দ-এর করুণ কাহিনী উপস্থাপন করা হয়েছে। কিশোরীবেলায় একসাথে বড় হওয়া চন্দ্রাবতী ও জয়ানন্দের বিয়ের কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে জয়ানন্দ ধর্মান্তরিত হয়ে অন্য নারীকে বিয়ে করেন। বিশ্বাসঘাতকতায় ভেঙে পড়া চন্দ্রাবতী সারাজীবন কুমারী থেকে শিবের পূজা করেন। দীর্ঘ বিরহের পর অনুতপ্ত জয়ানন্দ চন্দ্রাবতীর মন্দিরে ফিরে আসলেও চন্দ্রাবতী দেখা দেননি, এবং শেষপর্যন্ত জয়ানন্দ সেখানেই আত্মবিসর্জন দেন। নয়নচাঁদ ঘোষের এই পালায় প্রেমের প্রতি সততা, মানবিক দুঃখ ও করুণ কাহিনীর চিত্র সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।
-----------------------------
উল্লেখ্য,
ময়মনসিংহ গীতিকা:
- ময়মনসিংহ গীতিকা হলো পূর্ববঙ্গের (বর্তমান বাংলাদেশ) ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা অঞ্চলের গ্রামীণ জীবনের সাধারণ মানুষের প্রেমবিচ্ছেদ, বীরত্ব, দুঃখ ও বেদনা ভিত্তিক ১০টি বিখ্যাত লোকপালা বা লোকগীতির সংকলন।
- এটি ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়।
- এই গীতিকা সম্পাদনা করেন ড. দীনেশচন্দ্র সেন।
- এবং গীতিকার সংগ্রাহক ছিলেন চন্দ্রকুমার দে।

- ময়মনসিংহ গীতিকায় অন্তর্ভুক্ত ১০টি গীতিকা হলো:
মহুয়া, 
মলুয়া, 
চন্দ্রাবতী, 
কাজলরেখা, 
দেওয়ানা মদিনা, 
কমলা, 
দেওয়ান ভাবনা, 
দস্যু কেনারামের পালা, 
রূপবতী, 
কঙ্ক ও লীলা। 
---------------------- 
অন্যদিকে, 
- মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত জনপ্রিয় ‘দস্যু কেনারামের পালা’-র রচয়িতা ছিলেন মধ্যযুগের প্রথম বাঙালি নারী কবি চন্দ্রাবতী। 
- মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত 'দেওয়ানা মদিনা'র রচয়িতা- মনসুর বয়াতি। 

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;  
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 

৩৯.
এন্টনি ফিরিঙ্গি কী জাতীয় সাহিত্য রচনা করেছিলেন? 
  1. মর্সিয়া সাহিত্য 
  2. নাথ সাহিত্য
  3. কবিগান
  4. বৈষ্ণব পদাবলি 
সঠিক উত্তর:
কবিগান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিগান
ব্যাখ্যা

কবিওয়ালা ও কবিয়াল:
- কবিওয়ালা হলেন সেই রচয়িতা ও গায়ক যারা ১৮শ ও ১৯শ শতকে বাংলা লোকসংগীতের  ধারায় পদ রচনা করতেন এবং তা মুখে মুখে পরিবেশন করতেন।
- তারা প্রায়শই সুরারোপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে গান গাইতেন এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজনের মাধ্যমে “কবির লড়াই” প্রদর্শন করতেন।

- মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের অবক্ষয়ের যুগে একটি বিশেষ ধারা গড়ে ওঠে।
- এখানে দুটি দলের কবি মঞ্চে অবতীর্ণ হয়ে পরস্পরকে পরাস্ত করার উদ্দেশ্যে তাৎক্ষণিক ছন্দে ও কথায় প্রতিযোগিতামূলক গান রচনা করতেন।
- এই ধারার নামই ‘কবিগান’, আর এই কবিদের বলা হতো ‘কবিয়াল’।

- এই ধারায় উল্লেখযোগ্য কবিয়ালরা হলেন-
- নিতাই বৈরাগী, কেষ্ট মুনশি, গোঁজলা গুই, রাসু নৃসিংহ, ভোলা ময়রা, নীলমণি পাতনি, অ্যান্টনি ফিরিংগি এবং রামপ্রসাদ সেন।

- কবিগানের আদিপুরুষ হিসেবে পরিচিত গোঁজলা গুই-এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- বাঙালি নন এমন কবিয়ালদের মধ্যে অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি উল্লেখযোগ্য।
- তিনি জাতিতে পর্তুগিজ খ্রিষ্টান হলেও পরে এক হিন্দু বিধবাকে বিবাহ করেন এবং বাংলা কবিগানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৪০.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ  সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম কী? 
  1. The origin and development of the bengali language
  2. History of Ancient Benga
  3. Buddhist Mystic Songs
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
Buddhist Mystic Songs
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Buddhist Mystic Songs
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থ:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১৮৮৫–১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন বিশিষ্ট বাঙালি ভাষাবিদ, বহুভাষাবিদ পণ্ডিত, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- বাংলা ভাষা গবেষণায় তাঁর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সাহসী অগ্রদূতদের অন্যতম হিসেবে পরিচিত।
- তিনি চর্যাপদ বিষয়ক বিখ্যাত গ্রন্থ Buddhist Mystic Songs সম্পাদনা ও অনুবাদ করেন। 
- এটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে তিনি চর্যাপদের অনুবাদ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে চর্যাপদ মূলত বাংলা ভাষায় রচিত।
- এছাড়াও চর্যাপদ নিয়ে তিনি আরও নানা গবেষণামূলক কাজ করেন।
------------------------------------
উল্লেখ্য,
- চর্যাপদ হলো প্রাচীন বৌদ্ধ সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকলন।
- এটি মূলত ৬৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত পদ, গান বা গীতিকবিতার সংকলন। 
- চর্যাপদ  সহজিয়া বৌদ্ধ সাধনাসংগীত হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
- চর্যাপদের ভাষা ‘সন্ধ্যা ভাষা’, অর্থাৎ রূপক ও সংকেতধর্মী।
- এতে ধর্মীয় ভাবধারা, লৌকিক জীবনের সরল চিত্র এবং নৈতিক শিক্ষা ফুটে ওঠে। 

- চর্যাপদ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ গবেষক ও প্রকাশনা:
• আনোয়ার পাশা ও মুহম্মদ আবদুল হাই ছিলেন যৌথভাবে প্রাচীনযুগের চর্যাপদ বিষয়ক চর্যাগীতিকা নামক সাহিত্যকর্ম সম্পাদনা ও প্রকাশ করেছেন।
• মনীন্দ্রমোহন বসু – চর্যাপদের প্রথম সংস্করণ প্রকাশ করে।
• আনোয়ার পাশা ও মুহম্মদ আবদুল হাই – “চর্যাগীতিকা” যৌথভাবে সম্পাদনা।
• সৈয়দ মুহম্মদ শাহেদ – “নতুন চর্যাপদ” প্রকাশ।
•“বাঙালীর ইতিহাস (আদি পর্ব)” – ড. নীহাররঞ্জন রায়। 
• “History of Ancient Bengal” – রমেশচন্দ্র মজুমদার।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস – মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ।