পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৫
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৫: বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক - বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) প্রাচীন যুগ - প্রাচীন জনপদ বিভিন্ন রাজবংশের শাসন, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি; ii) মধ্যযুগ - মুসলিম শাসন, মুঘল, সুলতানি ও নবাবী আমলে বাংলা ও উপমহাদেশ; iii) উপমহাদেশ ইউরোপীয়দের আগমন, ইংরেজ শাসন ও ইংরেজ শাসনামলে আন্দোলন সংগ্রাম ও উপমহাদেশের ইতিহাস। ------------------ [এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আজ বা যেকোন সময় পরীক্ষা শুরু করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৫ প্রশ্ন

.
প্রাচীন পুণ্ড্র নগরীর ধ্বংসাবশেষ হচ্ছে -
  1. পাহাড়পুর
  2. মহাস্থানগড়
  3. ময়নামতি
  4. উয়ারী-বটেশ্বর
সঠিক উত্তর:
মহাস্থানগড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা
পুণ্ড্র:
- পুণ্ড্র শব্দের অর্থ আখ বা ইক্ষু।
- প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পুণ্ড্র।
- খুব সম্ভবত পুণ্ড্র বলে একটি জনগোষ্ঠী এ জনপদ গড়ে তুলেছিল।
- বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর এলাকা নিয়ে এ পুণ্ড্র জনপদটির সৃষ্টি হয়েছিল।
- রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর।
- পরবর্তীকালে এর নাম হয় মহাস্থানগড়।
- মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্র নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতেরা মনে করেন।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ নগরসভ্যতা।
- পাথরের চাকতিতে খোদাই করা লিপি এখানে পাওয়া যায়।
- লিপিটির নাম মহাস্থান ব্রাহ্মীলিপি।
- ধারণা করা হয়, বাংলাদেশে প্রাপ্ত এটিই প্রাচীনতম শিলালিপি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
বাংলার সেন শাসনের অবসান ঘটিয়ে মুসলমান শাসনের সূচনা করেন কে?
  1. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ 
  2. শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ 
  3. ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি
  4. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ 
সঠিক উত্তর:
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি
ব্যাখ্যা
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি: 
- তেরো শতকের শুরুতে তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজি বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাংশে সেন শাসনের অবসান ঘটিয়ে মুসলমান শাসনের সূচনা করেন।
- উত্তর আফগানিস্তানের গরমশির (আধুনিক দাসত-ই মার্গ) এর বাসিন্দা মুহাম্মদ বখতিয়ার ছিলেন জাতিতে তুর্কি, বংশে খলজি এবং বৃত্তিতে ভাগ্যান্বেষী সৈনিক।
- বখতিয়ার খলজির নদীয়া জয়ের সঠিক তারিখ সম্বন্ধে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে।
- তবে বর্তমানে ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দই নদীয়া জয়ের সময় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
- এরপর বখতিয়ার নদীয়া ত্যাগ করে লক্ষণাবতীর (গৌড়) দিকে অগ্রসর হন।
- তিনি লক্ষণাবতী জয় করে সেখানেই রাজধানী স্থাপন করেন।
- লক্ষণাবতীই মুসলমান আমলে লখনৌতি নামে পরিচিত হয়।
- গৌড়ের পর বখতিয়ার আরও পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বরেন্দ্র বা উত্তর বাংলায় নিজ অধিকার বিস্তার করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলাদেশের কী নাম দিয়েছিলেন?
  1. বুলগাকপুর
  2. বঙ্গদেশ
  3. বিদ্রোহী অঞ্চল
  4. ক ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
বুলগাকপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুলগাকপুর
ব্যাখ্যা
বাংলায় তুর্কি শাসনের ইতিহাস: 
- বাংলায় মুসলমান শাসন প্রতিষ্ঠার সূচনা করেন বখতিয়ার খলজি।
- এ পর্বের প্রথম পর্যায় ছিল ১২০৪ থেকে ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
- এ যুগের শাসনকর্তাদের পুরোপুরি স্বাধীন বলা যাবে না।
- তাঁদের কেউ ছিলেন বখতিয়ারের সহযোদ্ধা খলজি মালিক, আবার কেউ কেউ তুর্কি বংশের শাসক।
- শাসকদের সকলেই দিল্লির সুলতানদের অধীনে বাংলার শাসনকর্তা হয়ে এসেছিলেন।
- পরবর্তীকালে অনেক শাসনকর্তাই দিল্লির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীন হতে চেয়েছেন।
- তবে তাঁদের বিদ্রোহ শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।
- দিল্লির আক্রমণের মুখে তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।
- মুসলিম শাসনের এ যুগ ছিল বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলায় পূর্ণ।
- তাই ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলাদেশের নাম দিয়েছিলেন 'বুলগাকপুর'। এর অর্থ 'বিদ্রোহের নগরী'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
ভাস্কো-ডা-গামা কত সালে ভারতের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন?
  1. ১৪৫৩ সালে 
  2. ১৪৯৮ সালে 
  3. ১৫৩৮ সালে 
  4. ১৫৭৯ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৪৯৮ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪৯৮ সালে 
ব্যাখ্যা
পর্তুগিজদের উপমহাদেশে আগমন: 
- পর্তুগিজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে এদেশে আসেন, তাঁর নাম ভাস্কো-ডা-গামা।
- ভাস্কো-ডা-গামা ১৪৯৮ সালের ২৭শে মে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন
- উপমহাদেশে তাঁর এ আগমন ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
- পর্তুগিজরা ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে এদেশে আসে কিন্তু ক্রমে তারা সাম্রাজ্য বিস্তারের দিকে মনোনিবেশ করে।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে তারা উপমহাদেশের পশ্চিম উপকূলের কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি বন্দরে কুঠি স্থাপন করতে সক্ষম হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
পারস্যের প্রখ্যাত কবি হাফিজের সঙ্গে কার পত্রালাপ হতো?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. সুলতান সিকান্দার শাহ
  4. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
ব্যাখ্যা
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ: 
- সুলতান সিকান্দার শাহের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র গিয়াসউদ্দিন 'আজম শাহ' (১৩৯৩-১৪১১ খ্রিষ্টাব্দ) উপাধি গ্রহণ করে বাংলার সিংহাসনে বসেন।
- ইলিয়াস শাহ ও সিকান্দার শাহ যুদ্ধবিগ্রহ ও স্বাধীনতা রক্ষায় নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
- কিন্তু গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের কৃতিত্ব ছিল অন্যত্র।
- তিনি তাঁর প্রজারঞ্জক ব্যক্তিত্বের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছেন।
- শিক্ষা ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের যথেষ্ট সুখ্যাতি ছিল।
- কবি-সাহিত্যিকগণকে তিনি সমাদর ও শ্রদ্ধা করতেন।
- তিনি কাব্যরসিক ছিলেন এবং বাংলার সুলতান হলেও নিজে ফার্সি ভাষায় কবিতা রচনা করতেন।
- পারস্যের প্রখ্যাত কবি হাফিজের সঙ্গে তাঁর পত্রালাপ হতো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
শশাঙ্ক কোন শতকের শেষের দিকে ক্ষমতা অধিকার করে স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. পঞ্চম শতকে
  2. ষষ্ঠ শতকে
  3. সপ্তম শতকে
  4. অষ্টম শতকে
সঠিক উত্তর:
ষষ্ঠ শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষষ্ঠ শতকে
ব্যাখ্যা
স্বাধীন গৌড় রাজ্য: 
- গুপ্ত সাম্রাজ্যের অবসানের পর ষষ্ঠ শতকে 'পরবর্তী গুপ্ত বংশ' বলে পরিচিত গুপ্ত উপাধিধারী রাজাগণ উত্তর বাংলা, পশ্চিম বাংলার উত্তরাংশ ও মগধে ক্ষমতা বিস্তার করেছিলেন।
- ষষ্ঠ শতকের মাঝামাঝি সময়ে এ ভূখণ্ডই গৌড় জনপদ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- মৌখরি ও চালুক্যরাজগণের ক্রমাগত আক্রমণের ফলে বাংলায় গুপ্তবংশীয় রাজাগণ দুর্বল হয়ে পড়ে।
- এ সুযোগে সামন্তরাজা শশাঙ্ক ষষ্ঠ শতকের শেষের দিকে ক্ষমতা অধিকার করে স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
বাংলায় হাবসি শাসনের সময়কাল কত ছিল?
  1. ১৪৮৭-১৪৯৩ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৪৪৭-১৪৫৩ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৫৮৭-১৫৯৩ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৫৪৭-১৫৫৩ খ্রিষ্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
১৪৮৭-১৪৯৩ খ্রিষ্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪৮৭-১৪৯৩ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
হাবসি শাসন: 
- হাবসি নেতা সুলতান শাহজাদা 'বরবক শাহ' উপাধি নিয়ে প্রথম বাংলার ক্ষমতায় বসেন।
- বাংলায় হাবসি শাসন মাত্র ছয় বছর (১৪৮৭-১৪৯৩ খ্রিষ্টাব্দ) স্থায়ী ছিল।
- এ সময় বাংলা অঞ্চলের ইতিহাস ছিল অন্যায়, অবিচার, বিদ্রোহ, ষড়যন্ত্র আর হতাশায় পরিপূর্ণ।
- এ সময়ে চারজন হাবসি সুলতানের মধ্যে সবাইকে হত্যা করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
শশাঙ্কের মৃত্যুর পর অরাজকতার সময়কালকে কার তাম্রশাসনে 'মাৎস্যন্যায়' বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে?
  1. গোপাল
  2. রামপাল
  3. ধর্মপাল
  4. মহীপাল
সঠিক উত্তর:
ধর্মপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মপাল
ব্যাখ্যা
মাৎস্যন্যায়: 
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর এক'শ বছর বাংলায় কোনো যোগ্য শাসক ছিলেন না।
- ফলে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা বিরাজমান ছিল।
- একদিকে হর্ষবর্ধন ও ভাস্কর বর্মণের আক্রমণ অন্যদিকে ভূস্বামীরা প্রত্যেকেই বাংলার রাজা হওয়ার কল্পনায় একে অন্যের সাথে সংঘাতে মেতে ওঠে।
- কেন্দ্রীয় শাসন শক্ত হাতে ধরার মতো তখন কেউ ছিল না।
- এ অরাজকতার সময়কালকে ধর্মপালের 'খালিমপুর' তাম্রশাসনে 'মাৎস্যন্যায়' বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
- পুকুরে বড় মাছ ছোট মাছকে ধরে গিলে ফেলার মতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে বলে 'মাৎস্যন্যায়'।
- শব্দটি প্রথম কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে ব্যবহৃত হয়েছিল।
- বাংলার সবল অধিপতিরা 'মাৎস্যন্যায়'-এর মতো ছোট রাজ্যগুলোকে গ্রাস করছিলেন।
- অষ্টম শতকের মাঝামাঝি এ অরাজকতার অবসান ঘটে পাল রাজাদের উত্থানের মধ্য দিয়ে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
হাজী শরীয়তউল্লাহর 'ফরায়েজি আন্দোলন' কোন ধরনের আন্দোলন ছিল?
  1. রাজনৈতিক আন্দোলন 
  2. অর্থনৈতিক আন্দোলন 
  3. ধর্মীয় আন্দোলন 
  4. সাংস্কৃতিক আন্দোলন 
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয় আন্দোলন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয় আন্দোলন 
ব্যাখ্যা
ফরায়েজি আন্দোলন: 
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহ বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলার শাসশাইল গ্রামে ১৭৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন।
- সেখানে তিনি ইসলাম ধর্মের ওপর লেখাপড়া করে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
- দেশে ফিরে তিনি বুঝতে পারেন যে, বাংলার মুসলমানরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।
- তাদের মধ্যে অনৈসলামিক রীতিনীতি, কুসংস্কার, অনাচার প্রবেশ করেছে।
- ইসলাম ধর্মকে কুসংস্কার আর অনাচারমুক্ত করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন।
- এই প্রতিজ্ঞার বশবর্তী হয়ে উনিশ শতকের প্রথমার্ধে তিনি এক ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- হাজী শরীয়তউল্লাহর এই ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের নামই 'ফরায়েজি আন্দোলন'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১০.
তিতুমিরের ওয়াহাবি আন্দোলন কার ভাবধারায় অনুপ্রাণিত ছিল?
  1. সৈয়দ আহমদ শহীদ
  2. সৈয়দ আহমদ খান
  3. সৈয়দ আমির আলি
  4. নওয়াব আবদুল লতিফ
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আহমদ শহীদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আহমদ শহীদ
ব্যাখ্যা
তিতুমিরের সংগ্রাম: 
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমির চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- উনিশ শতকে ভারতবর্ষে মুসলমান সমাজে এক ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল।
- বাংলায় তার দুইটি ধারা প্রবহমান ছিল।
- যার একটি ওয়াহাবি বা মুহাম্মদিয়া আন্দোলন, অপরটি ফরায়েজি আন্দোলন নামে খ্যাত।
- উভয় আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ধর্মীয় কুসংস্কার দূর করে মুসলিম সমাজ সংস্কার করা।
- ওয়াহাবিরা তিতুমিরের নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিল।
- তিতুমিরের নেতৃত্বে পরিচালিত তারিখ-ই-মুহাম্মদিয়া বা ওয়াহাবি আন্দোলন ছিল উত্তর ভারতের সৈয়দ আহমদ শহীদের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১১.
কোন সময়ে ভারতে গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ৩২০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ৩২১ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ৩২২ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ৩২৪ খ্রিষ্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
৩২০ খ্রিষ্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩২০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
গুপ্ত সাম্রাজ্য: 
- ভারতে সাম্রাজ্যবাদী গুপ্তদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় ৩২০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তখন বাংলায় কিছু স্বাধীন রাজ্যের উত্থান ঘটে।
- এগুলোর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার সমতট রাজ্য ও পশ্চিম বাংলার পুষ্করণ রাজ্য উল্লেখযোগ্য।
- গুপ্ত সম্রাট প্রথম চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালেই বাংলার উত্তরাংশের কিছু অংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধিকারে আসে।
- সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকালে সমগ্র বাংলা অধিকৃত হলেও সমতট একটি করদ রাজ্য ছিল।
- সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকাল থেকে ছয় শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলার উত্তরাংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনস্থ একটি 'প্রদেশ' বা 'ভুক্তি' হিসেবে পরিগণিত হতো।
- মৌর্যদের মতো গুপ্তদের রাজধানী ছিল মহাস্থানগড়ের পুণ্ড্রনগর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১২.
মুর্শিদ কুলি খান প্রবর্তিত ভূমি বন্দোবস্ত ব্যবস্থাটি কী নামে পরিচিত?
  1. মনসবদারি প্রথা
  2. মালজামিনি প্রথা
  3. কবুলিয়ত প্রথা
  4. পাট্টা প্রথা
সঠিক উত্তর:
মালজামিনি প্রথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালজামিনি প্রথা
ব্যাখ্যা
মুর্শিদ কুলি খান: 
- মুর্শিদ কুলি খান দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়-বাণিজ্যে প্রসারের গুরুত্ব বিশেষভাবে উপলব্ধি করেছিলেন।
- ১৭২২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বাংলায় একটি নতুন ভূমি বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- তার প্রবর্তিত এ ব্যবস্থাটি 'মালজামিনি' প্রথা নামে পরিচিত।
- জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে ইংরেজ, ফরাসি ও পারসিক ব্যবসায়ীদের তিনি উৎসাহ প্রদান করতেন।
- ব্যবসায়ীরা যাতে নির্দিষ্ট হারে প্রচলিত কর প্রদান করে এবং তাদের প্রতি যাতে কোনো অবিচার করানা হয়, সেদিকে দৃষ্টি রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতার কারণেই বাংলার ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয়েছিল।
- কলকাতা, চুঁচুড়া ও চন্দননগর বিভিন্ন বিদেশি বণিকদের ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।
- ১৭২৭ খ্রিষ্টাব্দে মুর্শিদ কুলি খান মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য, 
- ভূমি ব্যবস্থাপনায় 'কবুলিয়ত' ও 'পাট্টা' প্রথা প্রচলন করেন শেরশাহ।
- মনসবদারি প্রথা প্রচলন করেন সম্রাট আকবর। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৩.
'চিটাগাং রিপাবলিকান আর্মি' গঠন করেন কে?
  1. বাঘা যতীন
  2. মাস্টারদা সূর্য সেন
  3. প্রফুল্ল চাকী
  4. ক্ষুদিরাম বসু
সঠিক উত্তর:
মাস্টারদা সূর্য সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাস্টারদা সূর্য সেন
ব্যাখ্যা
চট্টগ্রাম বিপ্লবী বাহিনী বা চিটাগাং রিপাবলিকান আর্মি: 
- চট্টগ্রামের মাস্টারদা (আসল নাম সূর্য সেন) কলেজজীবনে বিপ্লবীদের সংস্পর্শে আসেন।
- স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর তিনি উমাতারা উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।
- এর মধ্যেই তিনি মাস্টারদা নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন এবং এ সময় তিনি অম্বিকা চক্রবর্তী, অনুরূপ সেন, নগেন সেনের সহায়তায় একটি বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তোলেন।
- তাঁর সংগঠন এবং তিনি নিজে একের পর এক বিপ্লবী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বারবার গ্রেফতার হলেও প্রমাণের অভাবে মুক্তি পেয়ে যান।
- চট্টগ্রামকে ব্রিটিশ শাসনমুক্ত করার জন্য মাস্টারদা সূর্য সেন গঠন করেন চট্টগ্রাম বিপ্লবী বাহিনী।
- পরে এই আত্মঘাতী বাহিনীর নাম হয় 'চিটাগাং রিপাবলিকান আর্মি'।
- এই বাহিনী একের পর এক সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করতে থাকে।
- শেষ পর্যন্ত সরকারি অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করে।
- 'স্বাধীন চিটাগাং সরকার'-এর ঘোষণা দেওয়া হয় এবং একই সঙ্গে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৪.
ভারতের প্রথম সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ছিল কারা?
  1. গুপ্তরা 
  2. পালরা 
  3. মৌর্যরা
  4. সেনরা 
সঠিক উত্তর:
মৌর্যরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌর্যরা
ব্যাখ্যা
মৌর্য সাম্রাজ্য: 
- আলেকজান্ডারের ভারত প্রত্যাগমনের মাত্র দুই বছর পর ৩২১ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ভারতের এক বিশাল অঞ্চলের ওপর মৌর্য বংশের শাসন চালু করেন।
- বাংলার উত্তরাংশে মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (২৬৯-২৩২ খ্রিষ্টপূর্ব)।
- বাংলা তখন মৌর্যদের একটি প্রদেশে পরিণত হয়েছিল।
- প্রাচীন পুণ্ড্রনগর ছিল এ প্রদেশের রাজধানী।
- উত্তর বঙ্গ ছাড়াও মৌর্য শাসন কর্ণসুবর্ণ (মুর্শিদাবাদ), তাম্রলিপ্তি (বর্তমান পশ্চিম বঙ্গের তমলুক জেলা) ও সমতট (দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা) অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- মৌর্যরা ছিল ভারতের প্রথম সাম্রাজ্যবাদী শক্তি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৫.
সুবাদার ইসলাম খান কত সালে বারোভূঁইয়াদের পরাজিত করে সমগ্র বাংলায় সুবাদারি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ১৬০৮ সালে
  2. ১৬০৯ সালে
  3. ১৬১০ সালে
  4. ১৬১২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৬১০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬১০ সালে
ব্যাখ্যা
সুবাদারি শাসনামল: 
- সুবাদার ইসলাম খান ১৬১০ সালে বারোভূঁইয়াদের পরাজিত করে সমগ্র বাংলায় সুবাদারি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন
- ১৬১৩ সালে তাঁর মৃত্যুর পর বেশ কয়েকজন সুবাদার বাংলার ক্ষমতা গ্রহণ করেন।
- তবে ১৬৬০ সালে সুবাদার মীর জুমলা ক্ষমতা গ্রহণ করার পূর্ব পর্যন্ত কোনো সুবাদারই তেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেননি।
- তাঁদের মধ্যে ইসলাম খান চিশতি (১৬১৭-১৬২৪ সাল) এবং দিল্লির সম্রাজ্ঞী নুরজাহানের ভাই ইব্রাহিম খান ফতেহ জঙ্গ (১৬১৭-১৬২৪ সাল) বাংলার সুবাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। - অতঃপর খুব অল্প সময়ের জন্য সুবাদার নিযুক্ত হন দারার খান, মহব্বত খান, মুকাররম খান এবং ফিতাই খান।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।