পরীক্ষা আর্কাইভ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

পরীক্ষাGKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন
সিলেবাস
"পরীক্ষা – ৯ টপিক: রিভিশন পরীক্ষা [Exam – 7 & 8] ক্লাস মেন্টর: তপন ভট্টাচার্য"
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি · তারিখ অনির্ধারিত · প্রশ্ন

.
ভারতীয় উপমহাদেশে পর্তুগীজরা প্রথম কোন বন্দরে পৌঁছেছিল?
  1. গোয়া
  2. কর্ণাটক
  3. মান্দাভি
  4. কালিকট
ব্যাখ্যা

⇒ ভারতীয় উপমহাদেশে পর্তুগীজরা প্রথম "কালিকট" বন্দরে পৌঁছেছিল।

বাংলায় ইউরোপীয়দের আগমন:

- পর্তুগীজরা প্রথম ইউরোপীয় বাণিজ্যিক দল হিসেবে উপমহাদেশে আসে।
- তারা ভারতের কালিকট বন্দরে প্রথম পোঁছায়।
- ১৪৯৮ সালে পর্তুগীজ নাবিক ভাস্কো-ডা-গামা সমুদ্রপথে ভারতের পশ্চিম উপকূলে কালিকট বন্দরে পৌঁছান।
- ১৫০৯ সালে আলবুকার্ক গোয়াতে আসেন।
- আলবুকার্ক ছিলেন উপমহাদেশে পর্তুগিজ শক্তির প্রতিষ্ঠাতা।
- কলম্বাস এবং ম্যাজিলানও বিখ্যাত পর্তুগীজ নাবিক ছিলেন।
- পর্তুগীজরা দ্রুত কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ সহ বিভিন্ন অঞ্চলে কুঠি স্থাপন করে এবং ১৫৩৮ সালে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে শুল্কঘাটি স্থাপনের অনুমতি পায়।
- তারা ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি জমিদার ও বার ভূঁইয়াদের সেনাবাহিনীতে কাজ করত।
- পর্তুগীজরা অনেক সময় অত্যাচার ও লুণ্ঠন করত।
- সম্রাট বা নবাবের আইন অমান্য করে বিনা শুল্কে ব্যবসা চালাত, যা মোগল সম্রাটদের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
- তাদের অপরাধের কারণে সম্রাট শাহজাহান পর্তুগীজদের দেশ থেকে বিতাড়িত করেন।
- শাহজাহানের নির্দেশে কাসিম খান হুগলী কুঠি থেকে পর্তুগীজদের বিতাড়িত করেন।
- সর্বশেষ, বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপে পর্তুগীজদের ঘাঁটি দখল করে তাদের চিরতরে দেশ থেকে বের করে দেন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
'বড় কামতা' কোন জনপদের রাজধানী ছিল?
  1. রাঢ়
  2. মৌর্য
  3. গৌড়
  4. সমতট
ব্যাখ্যা
⇒ প্রাচীন সমতট রাজ্যের রাজধানী ছিলো- 'বড় কামতা'।

সমতট:
- সমতট ছিল পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার একটি অঞ্চল, যা বঙ্গের পাশেই অবস্থিত।
- সমতটের রাজধানী ছিল বড় কামতা ও দেবপর্বত।
- দেবপর্বত কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত।
- এই অঞ্চল গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ভারতের ত্রিপুরার একটি অংশও সমতটের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- কুমিল্লার ময়নামতিতে প্রাচীন কিছু নিদর্শন পাওয়া গেছে, যার মধ্যে শালবন বিহার অন্যতম।

অন্যদিকে, 
- গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- মৌর্য সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।
- রাঢ় অঞ্চলের রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী, NCTB।
.
কোন জনপদের কথা "ঐতরেয় আরণ্যক" গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. রাঢ়
  2. বঙ্গ
  3. গৌড়
  4. সমতট
ব্যাখ্যা
⇒ বঙ্গ জনপদের কথা "ঐতরেয় আরণ্যক" গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।

বঙ্গ জনপদ:
- বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে, যেখানে এটি একটি উপজাতি হিসেবে উল্লেখিত।
- বঙ্গ ছিল একটি প্রাচীন জনপদ।
- ভাগীরথী ও পদ্মা নদীর মধ্যবর্তী ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ অঞ্চলই ছিল বঙ্গ।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চল উল্লেখ আছে: বিক্রমপুর বঙ্গ ও নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা, ফরিদপুর ও বরিশাল ছিল নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত।
- বাংলায় মুসলিম শাসনের শুরুর দিকে 'বঙ্গ' বলতে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চল বোঝানো হতো।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন -
  1. ওবায়দুল হাসান
  2. সৈয়দ রেফাত আহমেদ
  3. আবু মোস্তফা কামাল
  4. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ছিলেন। 

⇒ বিচার বিভাগ:
- বাংলাদেশের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ স্বাধীন হয় ১ নভেম্বর ২০০৭ সালে।
- ২০০০ সালের ২৮ মে মাসে উচ্চ আদালতে প্রথমবারের মতো নিয়োগ পান নারী বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা।
- হাইকোর্টের ব্রেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি।
- প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি।
- বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির বয়সসীমা দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ হতে পরবর্তী ৫ বছর।
-  সংবিধানের প্রণয়নকালে বিচারপতিদের চাকরির বয়সসীমা ছিল ৬২ বছর।
- দেশে সাইবার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় ২৮ জানুয়ারি ২০১৩ সালে।
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম।
- বাংলাদেশের বর্তমান ২৫তম প্রধান বিচারপতি হলেন সৈয়দ রেফাত আহমেদ
 
উল্লেখ্য, 
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৪ (১) অনুচ্ছেদ অনুসারে, সুপ্রীম কোর্ট দুটি বিভাগ নিয়ে গঠিত:
১. আপীল বিভাগ
২. হাইকোর্ট বিভাগ

আপীল বিভাগের এখতিয়ার
১. আপীল শুনানি: সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগের রায়, আদেশ বা দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল শুনানির এখতিয়ার আপীল বিভাগের রয়েছে।
- বিশেষ ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ যদি সার্টিফিকেট প্রদান করে যে মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ আইন বা সংবিধান ব্যাখ্যার প্রশ্নে জড়িত, তখন আপীল করা যাবে।
২. পরোয়ানা জারি: ১০৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে, আপীল বিভাগ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আদেশ বা রিট জারি করতে পারে।
৩. পুনর্বিবেচনার ক্ষমতা: ১০৫ অনুচ্ছেদে বর্ণিত, আপীল বিভাগ তার রায় বা আদেশ পুনর্বিবেচনার এখতিয়ার রাখে।
৪. উপদেষ্টামূলক ক্ষমতা: ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি আইনি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে আপীল বিভাগের মতামত চাইতে পারেন।
৫. বিধি প্রণয়ন ক্ষমতা: সুপ্রীম কোর্ট রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে আদালতের রীতি ও পদ্ধতি নির্ধারণে বিধি প্রণয়ন করতে পারে।

হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার
১. আদি এখতিয়ার: সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৌলিক অধিকার রক্ষায় হাইকোর্ট বিভাগ রিট জারি করতে পারে।
- কোম্পানি আইন, ১৯৯৪; বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৮৬৯ ইত্যাদির অধীনে আদি এখতিয়ার প্রয়োগ করা হয়।
২. আপীল শুনানি: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮; দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর অধীনে আপীল শুনানির ক্ষমতা রাখে।
৩. পুনঃনিরীক্ষণের ক্ষমতা: অধস্তন আদালতের রায় বা আদেশ পুনঃপরীক্ষার এখতিয়ার রয়েছে।
৪. তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা: সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে, হাইকোর্ট বিভাগ অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম তদারকি করতে পারে।
৫. মামলা স্থানান্তর: সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে, হাইকোর্ট বিভাগ তার অধীনস্থ আদালত থেকে মামলা সরাসরি স্থানান্তর করতে পারে।

তথ্যসূত্র: সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট, বাংলাদেশ সংবিধান ও বিবিসি বাংলা নিউজ। [লিঙ্ক] 

.
কর্নওয়ালিসের শাসনকালে বিচার ব্যবস্থা কত ভাগে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
ব্যাখ্যা
বিচার ব্যবস্থা:
- কর্নওয়ালিসের সময় বিচার ব্যবস্থার সংস্কার করা হয়, যা ফৌজদারি ও দেওয়ানি এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়।
- ১৭৯০ খ্রিস্টাব্দে বিচার ব্যবস্থার সংস্কারের ফলে সদর নিজামত আদালত মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় স্থানান্তরিত হয়।
- বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যাকে ১২টি বিভাগে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি বিভাগে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত স্থাপন করা হয়।
- এসব আদালতে দুজন ইংরেজ বিচারক এবং আইন ব্যাখ্যার জন্য কাযি ও মুফতি নিযুক্ত করা হয়।
- লর্ড বেটিঙ্ক বিচার কার্য ও রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব প্রথমবারের মতো দেশীয়দের ওপর ন্যস্ত করেন।
- ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দে তিনি বাংলায় প্রথম জুরি ব্যবস্থা চালু করেন, এবং ভারতীয়দের জুরি সদস্য হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলায় আফগান শাসন প্রতিষ্ঠাকারী কে ছিলেন?
  1. আজম শাহ
  2. শের শাহ
  3. ইসলাম শাহ
  4. মোবারক শাহ
ব্যাখ্যা
বাংলায় আফগান শাসন:
- ১৫৩৮ সালে শেরশাহ গৌড় জয় করে বাংলায় আফগান শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- আফগানরা ৩৮ বছর বাংলায় শাসন করে, এর মধ্যে মাত্র ৯ মাস মোগল সম্রাট হুমায়ুন গৌড় অধিকার করেন।
- শেরশাহ যুদ্ধে হুমায়ুনকে পরাজিত করে দিল্লির সিংহাসনও অধিকার করেন।
- শেরশাহ ও তাঁর ছেলের সময়ে বাংলাদেশ দিল্লির একটি প্রদেশে পরিণত হয়।
- ১৫৫৬ সালে শেরশাহের ছেলে ইসলাম শাহের মৃত্যুর পর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে যায় এবং মোগল বিজয়ের আগে স্বাধীন থাকে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা শশাঙ্কের রাজধানী কোথায় ছিলো?
  1. পুন্ড্রবর্ধন
  2. কর্ণসুবর্ণ
  3. পাটালিপুত্র
  4. সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা শশাঙ্কের রাজধানী ছিলো -কর্ণসুবর্ণ।

রাজা শশাংক:

- শশাঙ্ক ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা।
- ৬০৬ সালে শশাঙ্ক গৌড়ে একটি স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- শশাঙ্কের রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- শশাঙ্কের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- কর্ণসুবর্ণ বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি।
- শশাঙ্ক শৈব ধর্মের অনুসারী ছিলেন।
- চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং শশাঙ্ককে বৌদ্ধ ধর্মের নিগ্রহকারী বা বিদ্বেষী হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কে পরিচিত?
  1. কর্নওয়ালিস
  2. ওয়াটসন
  3. রবার্ট ক্লাইভ
  4. লর্ড বেন্টিং
ব্যাখ্যা

রবার্ট ক্লাইভ:
- রবার্ট ক্লাইভ ছিলেন উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা।
- উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের ইতিহাসে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
- তরুণ বয়সে মাদ্রাজে (বর্তমান চেন্নাই) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে তিনি ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হন।
- ১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সঙ্গে এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করে এবং দ্বৈত শাসন প্রবর্তন হয়।
- রবার্ট ক্লাইভের চারিত্রিক দোষ থাকা সত্ত্বেও উপমহাদেশে ইংরেজ শক্তির প্রতিষ্ঠার জন্য তার অবদান অস্বীকার করা যায় না।
- ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্থপতি ও প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে লর্ড ক্লাইভের নাম উপমহাদেশের ইতিহাসে চিরকাল মনে থাকবে।
- প্রথম পর্যায়ে তিনি দাক্ষিণাত্যে কোম্পানিকে রক্ষা করেন।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে তিনি বাংলা জয় করেন, এবং তৃতীয় পর্যায়ে নবাব ও সম্রাটকে নিয়ন্ত্রণ করে সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত হন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
'মাৎস্যন্যায়' কোন শাসকের মৃত্যু পরবর্তী সময়ে উদ্ভূত হয়?
  1. অশোক
  2. শশাঙ্ক
  3. হর্ষবর্ধন
  4. চন্দ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা
⇒ 'মাৎস্যন্যায়' শশাঙ্কের মৃত্যু পরবর্তী সময়ে উদ্ভূত হয়।

মাৎস্যন্যায়:

- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর একশো বছর বাংলায় কোনো যোগ্য শাসক ছিল না, যার ফলে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা বিরাজমান ছিল।
- হর্ষবর্ধন ও ভাস্কর বর্মণের আক্রমণ, এবং ভূস্বামীরা একে অপরের সঙ্গে সংঘাতে মেতে ওঠে বাংলার রাজ্যকে।
- কেন্দ্রীয় শাসন শক্ত হাতে ধরার মতো কেউ ছিল না।
- এই অরাজকতাকেই ধর্ম পালের 'খালিমপুর' তাম্রশাসনে 'মাৎস্যন্যায়' বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
- 'মাৎস্যন্যায়' শব্দটি প্রথম কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে ব্যবহৃত হয়েছিল, যা বড় মাছের ছোট মাছ খেয়ে ফেলার মতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নির্দেশ করে।
- বাংলার সবল অধিপতিরা তখন ছোট রাজ্যগুলোকে গ্রাস করছিলেন।
- অষ্টম শতকের মাঝামাঝি পাল রাজাদের উত্থানের মাধ্যমে এ অরাজকতার অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী, NCTB।