পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

পরীক্ষাপ্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৫
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৬০: বিষয়: বাংলা টপিক: বাক্য প্রকরণ, বাক্য রূপান্তর, উপসর্গ, বানান ও বাক্য শুদ্ধি। উৎস: মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (উভয় সংস্করণ), বাংলা একাডেমি অভিধান, ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ বা যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৫ প্রশ্ন

.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ঘূর্ণায়মান
  2. ঘৃর্ণিত
  3. ঘূর্ণন
  4. ঘূর্ণমান
সঠিক উত্তর:
ঘৃর্ণিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘৃর্ণিত
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান: ঘৃর্ণিত।

• শুদ্ধ বানান: ঘৃণিত (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
যার অর্থ: ঘৃণা করা হয়েছে এমন, অবজ্ঞাত, অবহেলিত।

অন্যদিকে,
• শুদ্ধ বানান: ঘূর্ণায়মান (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
যার অর্থ: ঘুরছে এমন।

• শুদ্ধ বানান: ঘূর্ণন (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- সঠিক প্রকৃত-প্রত্যয় = (√ঘূর্ণ্ + অন),
যার অর্থ: অনবরত আবর্তন, চক্রগতি।

• শুদ্ধ বানান: ঘূর্ণমান (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
যার অর্থ: ঘোরানো হচ্ছে এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
নিচের কোনটি অক্রিয় বাক্য?
  1. আমার মা চাকরি করেন।
  2. তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।
  3. পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
  4. তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
সঠিক উত্তর:
তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।
ব্যাখ্যা
• অক্রিয় বাক্য- তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।

• ভবাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়। যথা:
১. সক্রিয় বাক্য।,
২. অক্রিয় বাক্য।

• সক্রিয় বাক্য:
যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে সেগুলােকে সক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন:
- আমার মা চাকরি করেন।
- পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

• অক্রিয় বাক্য:
যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলােকে অক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন:
- তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।

• তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়ােগে এগুলাে সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়।
যেমন- 'তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন’ বা ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন।'

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. বিপদগ্রস্থকে সাহায্য কর।
  2. মুমুর্ষূ রোগীকে শুশ্রুষা কর।
  3. রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য।
  4. প্রাতঃকালে লোকটি গাত্রোত্থান করে।
সঠিক উত্তর:
প্রাতঃকালে লোকটি গাত্রোত্থান করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাতঃকালে লোকটি গাত্রোত্থান করে।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: প্রাতঃকালে লোকটি গাত্রোত্থান করে।

--------------------------------------
অন্যান্য বাক্যেগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• অশুদ্ধ বাক্য: বিপদগ্রস্থকে সাহায্য কর।
• শুদ্ধ বাক্য: বিপদগ্রস্তকে সাহায্য কর।

• অশুদ্ধ বাক্য: মুমুর্ষূ রোগীকে শুশ্রুষা কর।
• শুদ্ধ বাক্য: মুমূর্ষু রোগীকে শুশ্রূষা কর।

• অশুদ্ধ বাক্য: রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য।
• শুদ্ধ বাক্য: রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
নিচের কোনটি সরল বাক্যের উদাহরণ?
  1. যাদের বুদ্ধি নেই তারাই একথা বিশ্বাস করবে।
  2. মেঘ গর্জন করে তবে ময়ূর নৃত্য করে।
  3. যেহেতু নির্বাচন হয়েছে সেহেতু গণতন্ত্র ফিরে আসবেই।
  4. শোনামাত্র তারা আনন্দে চিৎকার করে উঠল।
সঠিক উত্তর:
শোনামাত্র তারা আনন্দে চিৎকার করে উঠল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শোনামাত্র তারা আনন্দে চিৎকার করে উঠল।
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য:
বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- শোনামাত্র তারা আনন্দে চিৎকার করে উঠল।
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- তোমরা বাড়ি যাও।
- সত্যের পূজারি বলে তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।

অন্যদিকে,
- মেঘ গর্জন করে তবে ময়ূর নৃত্য করে।- এটি একটি যৌগিক বাক্য।
- যাদের বুদ্ধি নেই তারাই একথা বিশ্বাস করবে।- এটি একটি জটিল বাক্য।
- যেহেতু নির্বাচন হয়েছে সেহেতু গণতন্ত্র ফিরে আসবেই।- এটি একটি জটিল বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
‘পয়লা পয়লা কাজে নেমে সবাই ভিমরি খায়।’- বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি?
  1. পয়লা পয়লা কাজে নেমেই সবাই ভিমরি খায়।
  2. পয়লা পয়লা যারা কাজে নামে তারা সবাই ভিমরি খায়।
  3. সবাই পয়লা পয়লা কাজে নামে এবং ভিমরি খায়।
  4. সবাই পয়লা পয়লা কাজে নামে কিন্তু ভিমরি খায়।
সঠিক উত্তর:
পয়লা পয়লা যারা কাজে নামে তারা সবাই ভিমরি খায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পয়লা পয়লা যারা কাজে নামে তারা সবাই ভিমরি খায়।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
• সরল বাক্য: পয়লা পয়লা কাজে নেমে সবাই ভিমরি খায়।
• জটিল বাক্য: পয়লা পয়লা যারা কাজে নামে তারা সবাই ভিমরি খায়।

• সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
• জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

• সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
• জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. নির্মম
  2. রূপায়ণ
  3. প্রাণপ্রার্চুয্য
  4. কৃপানেত্র
সঠিক উত্তর:
প্রাণপ্রার্চুয্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাণপ্রার্চুয্য
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান: প্রাণপ্রার্চুয্য।

• শুদ্ধ বানান: প্রাণপ্রাচুর্য।
অর্থ: প্রাণশক্তির আধিক্য।

অন্যদিকে অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• শুদ্ধ বানান: নির্মম।
অর্থ: নিষ্ঠুর; হৃদয়হীন; নির্দয়।

• শুদ্ধ বানান: রূপায়ণ।
অর্থ: মূর্তি বা আকার দান, রূপদান, বাস্তবে পরিণতকরণ।

• শুদ্ধ বানান: কৃপানেত্র।
অর্থ: কৃপাদৃষ্টি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
‘কলার পাতে ভাত খাই ঘোলের স্বাদ দুধে মেটাই।’- বাক্যে কোন গুণের অভাব পরিলক্ষিত?
  1. বাহুল্য
  2. যােগ্যতা
  3. আকাঙ্ক্ষা
  4. আসত্তি
সঠিক উত্তর:
যােগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যােগ্যতা
ব্যাখ্যা
• বাগধারা ভাষার সম্পদ। বিশেষ অর্থে এসব শব্দ ব্যবহৃত হয়। বাগধারার গঠনের একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম থাকে।
এ গঠনের পরিবর্তন ঘটলে শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।

• ‘কলার পাতে ভাত খাই ঘোলের স্বাদ দুধে মেটাই।’ বাক্যে বাগ্‌ধারার অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
[অতএব, বাগ্‌ধারার ভুল প্রয়োগে বাক্যটি তার যোগ্যতা হারিয়েছে।]

• বাক্যটির শুদ্ধরূপ: কলারপাতে ভাত খাই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাই।


------------------------
• একটি সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ থাকতে হয়৷ যথা- আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, ও যোগ্যতা।

• যােগ্যতা:
বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যােগ্যতা।
যেমন:
- বর্ষাকালে জলপথে নৌকা চলে। এটি একটি যােগ্যতা সম্পন্ন বাক্য। কারণ বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মিল রয়েছে।

[কিন্তু যদি বলা হয়- “বর্ষাকালে আকাশ পথে নৌকা চলে” তবে বাক্যটি ভাব প্রকাশের যােগ্যতা হারাবে। কারণ নৌকা আকাশ পথে চলে না। সার্থক বাক্যের জন্য অর্থ সংগতি বা যােগ্যতা থাকতে হবে।]

শব্দের যোগ্যতার সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত থাকতে পারে। তবে প্রধানত সাতটি বিষয় জড়িত থাকে। যেমন:
• রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতা;
• বাহুল্য বর্জন;
• দুর্বোধ্যতা পরিহার;
• উপমা বা অলংকারের সঠিক প্রয়োগ বা ব্যবহার;
• বাগধারার সঠিক প্রয়োগ;
• গুরুচণ্ডলী দোষ পরিহার ও
• যথার্থ শব্দ প্রয়োগ।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
.
নিচের কোন শব্দে সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. দিবারাত্র
  2. নীরোগী
  3. নিরহঙ্কার
  4. অহর্নিশ
সঠিক উত্তর:
নীরোগী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীরোগী
ব্যাখ্যা
• সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে ‘নীরোগী’ শব্দে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: নীরোগ।

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্‌- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ- কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়। যেমন- নেই ধন যার= নির্ধন, নেই গুণ যার= নির্গুণ, নেই পাপ যার= নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

• কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
তৎসম উপসর্গ নয় কোনটি?
  1. অভি
  2. অপ
  3. আব
  4. উপ
সঠিক উত্তর:
আব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব
ব্যাখ্যা
• তৎসম উপসর্গ নয় ‘আব’।
• ‘আব’ খাঁটি বাংলা উপসর্গের উদাহরণ।

-----------------
• উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১০.
নিচরে কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. আজকাল বিদ্বান মেয়ের অভাব নেই।
  2. আমি সাক্ষ্য দিব না।
  3. দুর্বিষহ বানানটি অধিকাংশ ব্যক্তি ভুল করে
  4. প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই।
সঠিক উত্তর:
আজকাল বিদ্বান মেয়ের অভাব নেই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজকাল বিদ্বান মেয়ের অভাব নেই।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: আজকাল বিদ্বান মেয়ের অভাব নেই।
• শুদ্ধ বাক্য: আজকাল বিদুষী মেয়ের অভাব নেই।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ ও শুদ্ধ বাক্য হলো:
• অশুদ্ধ বাক্য: দুর্বিসহ বানানটি অধিকাংশ ব্যক্তি ভূল করে৷
• শুদ্ধ বাক্য: দুর্বিষহ বানানটি অধিকাংশ ব্যক্তি ভুল করে৷

• অশুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষী দিব না।
• শুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষ্য দিব না।

• অশুদ্ধ বাক্য: প্রতিযোগীতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই।
• শুদ্ধ বাক্য: প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই।

• অশুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাতী নষ্ট।
• শুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাঁতি নষ্ট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১.
‘এখন পরকালের কর্ম করিব, নাতো কবে করিব?’ এটি কোন বাক্যের উদাহরণ?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ডিত বাক্য
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করার নিয়ম:
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
- সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।

যেমন:
• সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
• যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।

• সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
• যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।

• সরল বাক্য: এখন পরবালের কর্ম না করিলে কবে করিব?
• যৌগিক বাক্য: এখন পরকালের কর্ম করিব, নাতো কবে করিব?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২.
সময় বোঝাতে জটিল বাক্যে যোজকের কোন জোড় ব্যবহার করা হয়?
  1. যেটুকু-সেটুকু
  2. যখন-তখন
  3. যত-তত
  4. যে-সে
সঠিক উত্তর:
যখন-তখন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যখন-তখন
ব্যাখ্যা
• সময় বোঝাতে জটিল বাক্যে যোজকের ‘যখন-তখন’ জোড় ব্যবহার হয়।
যেমন:
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

--------------------
• জটিল বাক্য:

যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১৩.
‘ছেলেটির বয়স অল্প; কিন্তু বেশ বুদ্ধিমান।’ বাক্যটির জটিলরূপ কোনটি?
  1. ছেলেটির বয়স অল্প কিন্তু বেশ বুদ্ধিমান।
  2. ছেলেটির বয়স অল্প হলেও বেশ বুদ্ধিমান।
  3. যদিও ছেলেটির বয়স অল্প তবু বেশ বুদ্ধিমান।
  4. ছেলেটির বয়স অল্প তবু বেশ বুদ্ধিমান।
সঠিক উত্তর:
যদিও ছেলেটির বয়স অল্প তবু বেশ বুদ্ধিমান।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যদিও ছেলেটির বয়স অল্প তবু বেশ বুদ্ধিমান।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেমন-তেমন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
• যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
• যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
• যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

• যৌগিক বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
যৌগিক বাক্যকে জটিল বাক্য়ে রূপান্তর করার সময় যৌগিক বাক্যের যোজক বাদ দিয়ে, এর বদলে সাপেক্ষ সর্বনাম বা সাপেক্ষ যোজক যুক্ত হয়।

• যৌগিক বাক্য: ছেলেটির বয়স অল্প কিন্তু বেশ বুদ্ধিমান।
• জটিল বাক্য: যদিও ছেলেটির বয়স অল্প, তবু বেশ বুদ্ধিমান।

• যৌগিক বাক্য: দোষ করেছ; অতএব শাস্তি পাবে।
• জটিল বাক্য: যেহেতু দোষ করেছ, সেহেতু শাস্তি পাবে।

অন্যদিকে,
• সরলরূপ: ছেলেটির বয়স অল্প হলেও বেশ বুদ্ধিমান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪.
‘পাতিশিয়াল’ শব্দে পাতি উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বড়
  2. বিশিষ্ট
  3. ক্ষুদ্র
  4. ভিন্নতা
সঠিক উত্তর:
ক্ষুদ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুদ্র
ব্যাখ্যা
• 'পতি' খাঁটি বাংলা উপসর্গের উদাহরণ।
• 'পাতি' উপসর্গটি ‘ক্ষুদ্র’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে: পাতিহাঁস, পাতিশিয়াল, পাতিলেবু ইত্যাদি শব্দে।

-----------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. স্বৈরাচারি
  2. স্বৈরাতন্ত্র
  3. স্বৈরাশাসক
  4. স্বৈরাচার
সঠিক উত্তর:
স্বৈরাচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বৈরাচার
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: স্বৈরাচার।
অর্থ: 
- নিজ ইচ্ছানুযায়ী আচরণ।
- উচ্ছৃঙ্খলতা।

অশুদ্ধ বানান গুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• শুদ্ধ বানান: স্বৈরাচারী।
অর্থ: 
- নিজ ইচ্ছানুযায়ী আচরণ কারী।
- উচ্ছৃঙ্খল।

• শুদ্ধ বানান: স্বৈরতন্ত্র।
অর্থ:
- একনায়কের ইচ্ছা অনুযায়ী শাসিত রাষ্ট্রব্যবস্থা।
- একনায়কতন্ত্র।

• শুদ্ধ বানান: স্বৈরশাসক।
অর্থ:
- একনায়কত্ব।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।