পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

পরীক্ষাবার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন৩২
সিলেবাস
Exam - 21 The Evidence Act, 1872: Test-2 Topic: Section 56-100 • Facts which need not be proved • Oral evidence • Documentary evidence • Public documents • Presumption as to documents • The exclusion of oral by documentary evidence
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩২ প্রশ্ন

.
সাক্ষ্য আইনের ৮৫গ ধারা অনুসারে, আদালতের অনুমান কার্যকর হবে কখন?
  1. যখন সনদের সব তথ্য যাচাই করা হয়
  2. যখন সনদটি গ্রাহক কর্তৃক গৃহীত হয়
  3. যখন সনদটি গ্রাহক কর্তৃক প্রত্যাখ্যান করা হয়
  4. যখন আদালত স্বয়ংক্রিয়ভাবে সনদ যাচাই করে
সঠিক উত্তর:
যখন সনদটি গ্রাহক কর্তৃক গৃহীত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যখন সনদটি গ্রাহক কর্তৃক গৃহীত হয়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৮৫গ ধারা অনুযায়ী, আদালত ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদের তথ্য সঠিক বলে অনুমান করবে যখন সনদটি গ্রাহক (সাবস্ক্রাইবার) কর্তৃক গৃহীত হয়। অর্থাৎ, গ্রাহক যদি স্বেচ্ছায় সনদটি গ্রহণ করে, তাহলে আদালত ধরে নেবে যে সনদের উল্লিখিত তথ্য (গ্রাহকের যাচাইকৃত নয় এমন তথ্য ছাড়া) সঠিক, যতক্ষণ না বিপরীত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৮৫গ (Section 85C: Presumption as to Digital Signature Certificates) অনুযায়ী,
"The Court shall presume, unless contrary is proved, that the information listed in a Digital Signature Certificate is correct,
except for information specified as subscriber information which has not been verified, if the certificate was accepted by the subscriber."
অর্থাৎ—
- যদি গ্রাহক (subscriber) তার ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদটি গ্রহণ করে (accepted),
-  তাহলে আদালত বিপরীত কিছু প্রমাণ না আসা পর্যন্ত ধরে নেবে (presume করবে) যে সনদের তথ্য সঠিক,
- কিন্তু যেসব তথ্য গ্রাহকের এবং যাচাই করা হয়নি, সেগুলো বাদে।
.
সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারা অনুযায়ী আদালতের অনুমান কার্যকর হওয়ার জন্য দলিলটির বয়স কত হতে হবে?
  1. কমপক্ষে ১০ বছর
  2. কমপক্ষে ২০ বছর
  3. কমপক্ষে ৩০ বছর
  4. ৫০ বছর বা তার বেশি
সঠিক উত্তর:
কমপক্ষে ৩০ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমপক্ষে ৩০ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৯০ (Section 90: Presumption as to documents thirty years old) স্পষ্টভাবে বলে—
"Where any document, purporting or proved to be thirty years old, is produced from any custody which the Court in the particular case considers proper, the Court may presume..."
অর্থাৎ: দলিলটি কমপক্ষে ৩০ বছর পুরনো হতে হবে, এবং তা সঠিক হেফাজত (proper custody) থেকে আদালতে উপস্থাপিত হতে হবে।
→ তাহলেই আদালত অনুমান করতে পারে যে—
- দলিলের স্বাক্ষর যে ব্যক্তির নামে আছে, সেটি তাঁরই হস্তাক্ষর।
- দলিলটি যথাযথভাবে সম্পাদিত ও সত্যায়িত হয়েছে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারার বিধান ত্রিশ বৎসরের পুরাতন দলিল সম্পর্কে অনুমান:
যখন কোন দলিল ত্রিশ বৎসরের পুরাতন বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয় বা প্রমাণ করা হয় এবং তাহা সংশ্লিষ্ট মকদ্দমায় যে পক্ষের হেফাজতে থাকা সঙ্গত বলিয়া আদালত মনে করেন, সেই পক্ষের হেফাজত হইতে উহা আদালতে দাখিল করা হয়; তখন আদালত ধরিয়া লইতে পারেন যে, সেই দলিলে স্বাক্ষর এবং অন্যান্য সকল অংশ যে ব্যক্তির হস্তাক্ষ বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয়, তাহা সেই ব্যক্তিরই হস্তাক্ষর এবং যেখানে দলিলটি সম্পাদিত বা প্রত্যায়িত, সেখানে আদালত ধরিয়া লইতে পারেন যে, যে ব্যক্তির দ্বারা উহা সম্পাদিত ও সত্যায়িত বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয় সেই ব্যক্তির দ্বারা উহা যথাবিহিতরূপে সম্পাদিত ও সত্যায়িত হইয়াছে।
ব্যাখ্যা: দলিল যেস্থানে ও যে ব্যক্তির হেফাজতে থাকা স্বাভাবিক, যদি উহা সেই স্থানে এবং সেই ব্যক্তির হেফাজতে থাকে, তবে উহা উপযুক্ত হেফাজতে আছে বলিয়া বুঝাইবে। কিন্তু দলিলটি যে হেফাজতে আছে, সেখানে থাকিবার আইন সঙ্গত কারণ আছে বলিয়া যদি প্রমাণিত হয় অথবা সংশ্লিষ্ট মকদ্দমায় ঘটনাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে অনুরূপ কারণ থাকা সম্ভব বলিয়া যদি বিবেচিত হয়, তবে সেই হেফাজত অনুপযুক্ত বলিয়া গণ্য হইবে না।
এই ব্যাখ্যা ৮১ ধারার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
-------------------
⇒ The Evidence Act 1872, Section 90. Presumption as to documents thirty years old:
Where any document, purporting or proved to be thirty years old, is produced from any custody which the Court in the particular case considers proper, the Court may presume that the signature and every other part of such document, which purports to be in the handwriting of any particular person, is in that person's handwriting, and, in the case of a document executed or attested, that it was duly executed and attested by the persons by whom it purports to be executed and attested.

- Explanation.-Documents are said to be in proper custody if they are in the place in which, and under the care of the person with whom, they would naturally be; but no custody is improper if it is proved to have had a legitimate origin, or if the circumstances of the particular case are such as to render such an origin probable.
- This explanation applies also to section 81.
.
সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণের নিয়ম উল্লেখ আছে?
  1. ধারা ২২
  2. ধারা ৬১
  3. ধারা ৯০
  4. ধারা ১৫৪
সঠিক উত্তর:
ধারা ৬১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ৬১
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৬১ (Section 61 – Proof of contents of documents)-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:
“The contents of documents may be proved either by primary or by secondary evidence.”
অর্থাৎ, কোনো দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করার নিয়ম এই ধারায় বলা হয়েছে, এবং এতে উল্লেখ আছে যে —
এটি হতে পারে
- প্রাথমিক সাক্ষ্য (Primary Evidence) দ্বারা অথবা
- মাধ্যমিক সাক্ষ্য (Secondary Evidence) দ্বারা।

→ সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারা অনুযায়ী, দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করতে প্রাথমিক সাক্ষ্য অথবা মাধ্যমিক সাক্ষ্য ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রাথমিক সাক্ষ্য হচ্ছে মূল দলিল, যা সরাসরি আদালতে উপস্থাপন করা হয়। অন্যদিকে, মাধ্যমিক সাক্ষ্য তখন ব্যবহার করা হয় যখন মূল দলিল আদালতে উপস্থাপন করা সম্ভব না হয়, এবং তখন তার প্রতিলিপি বা অনুলিপি আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারা- দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ:
দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করা যেতে পারে প্রাথমিক সাক্ষ্য অথবা মাধ্যমিক সাক্ষ্য এর মাধ্যমে।

⇒ The Evidence Act, 1872- Section 61 - Proof of contents of documents:
The contents of documents may be proved either by primary or by secondary evidence.

.
According to Section 56 of the Evidence Act, which of the following statements is correct?
  1. The court can ignore judicially noticeable facts.
  2. Only documentary evidence is exempt from proof.
  3. Facts judicially noticeable by the court need not be proved.
  4. Facts that are judicially noticeable must be proved with evidence.
সঠিক উত্তর:
Facts judicially noticeable by the court need not be proved.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Facts judicially noticeable by the court need not be proved.
ব্যাখ্যা
⇒ The Evidence Act, Section 56. Fact judicially noticeable need not be proved:
- No fact of which the Court will take judicial notice need be proved.

⇒ Section 56 of the Evidence Act states that facts which are judicially noticeable by the court do not need to be proved. Judicial notice refers to facts that are widely known or universally accepted, and the court automatically recognizes them as true without requiring formal evidence to establish them.
⇒  Examples include the laws of the country, the fact that the sun rises in the east, or public holidays declared by the government.

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৫৬ ধারার বিধান অনুযায়ী- যে সকল ঘটনা আদালত কর্তৃক লক্ষণীয় তা প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই।
.
যদি সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬৫খ-এর শর্ত পূরণ করা হয়, তাইলে কম্পিউটার আউটপুট কী হিসেবে গণ্য হয়?
  1. একটি দলিল হিসেবে
  2. একটি গৌণ সাক্ষ্য হিসেবে
  3. একটি মৌখিক সাক্ষ্য হিসেবে
  4. একটি অপ্রমাণিত তথ্য হিসেবে
সঠিক উত্তর:
একটি দলিল হিসেবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি দলিল হিসেবে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৬৫খ(১) অনুসারে:
"কম্পিউটার থেকে প্রাপ্ত ডিজিটাল রেকর্ড (যেমন: প্রিন্টকৃত কপি, ইমেইল, ডিজিটাল ফাইল) একটি দলিল হিসেবে গণ্য হবে, যদি ধারা ৬৫খ-এর শর্তাবলী পূরণ করা হয়।"

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা 65B(1) অনুযায়ী, ডিজিটাল রেকর্ড সম্পর্কিত বিশেষ বিধানে বলা আছে:
"Notwithstanding anything contained in this Act, any information contained in a digital record which is printed on a paper, stored, recorded or copied in optical or magnetic media produced by a computer (hereinafter referred to as the computer output) shall be deemed to be also a document, if the conditions mentioned in this section are satisfied in relation to the information and computer in question and shall be admissible in any proceedings, without further proof or production of the original, as evidence of any contents of the original or of any fact stated therein of which direct evidence would be admissible."
অর্থাৎ, যদি ধারা 65B-এ উল্লেখিত শর্তগুলো (যেমন কম্পিউটারের নিয়মিত ব্যবহার, তথ্যের সঠিকতা ইত্যাদি) পূরণ করা হয়, তবে কম্পিউটার আউটপুট (যেমন কাগজে মুদ্রিত তথ্য, অপটিক্যাল বা ম্যাগনেটিক মিডিয়ায় সংরক্ষিত তথ্য) একটি দলিল (document) হিসেবে গণ্য হবে। এটি আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে, এবং মূল দলিল উপস্থাপনের প্রয়োজন হবে না।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬৫খ (Section 65B) অনুযায়ী,
যদি কম্পিউটারের মাধ্যমে উৎপাদিত কোনো ডিজিটাল রেকর্ড বা কম্পিউটার আউটপুট — যেমন: প্রিন্ট কপি, অপটিক্যাল ডিস্ক, বা ম্যাগনেটিক মিডিয়ায় সংরক্ষিত তথ্য — ধারা ৬৫খ-এর শর্তাবলি পূরণ করে, তাহলে তা একটি "দলিল (document)" হিসেবে গণ্য হবে এবং তা:
"মূল দলিল ছাড়াই, আদালতে সাক্ষ্যরূপে গ্রহণযোগ্য হবে।"
এতে প্রমাণের জন্য মূল তথ্য বা দলিল হাজির করার প্রয়োজন নেই — বরং কম্পিউটার আউটপুট-ই প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।
.
যদি একটি দলিল একাধিক অংশে সম্পাদিত হয়, তবে কোনটি প্রাথমিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে?
  1. শুধুমাত্র প্রথম অংশ
  2. শুধুমাত্র শেষ অংশ
  3. প্রতিটি অংশ
  4. কোনো অংশই নয়
সঠিক উত্তর:
প্রতিটি অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিটি অংশ
ব্যাখ্যা
⇒ যদি একটি দলিল একাধিক অংশে সম্পাদিত হয়, তবে প্রত্যেকটি অংশই প্রাথমিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে। এর কারণ, প্রমাণের ক্ষেত্রে প্রতিটি অংশ নিজস্বভাবে সেই দলিলের একটি মূল অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

- সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৬২ (ব্যাখ্যা ১) অনুসারে:
"যখন একটি দলিল একাধিক অংশে সম্পাদিত হয়, প্রতিটি অংশই দলিলটির প্রাথমিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে।"

- এটি সাধারণত সেইসব দলিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে একই দলিলের একাধিক কপি বিভিন্ন পক্ষের কাছে রাখার জন্য তৈরি করা হয় (যেমন: লিজ ডিড, চুক্তিপত্র)।
- প্রতিটি কপিই মূলের সমতুল্য এবং স্বতন্ত্রভাবে প্রাথমিক সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬২-এ প্রাথমিক সাক্ষ্য (primary evidence) সম্পর্কে বলা আছে:
"Primary evidence means the document itself produced for the inspection of the Court."
এরপরে "Explanation 1" এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে:
"Where a document is executed in several parts, each part is primary evidence of the document."

- অর্থাৎ, যদি একটি দলিল একাধিক অংশে সম্পাদিত (executed) হয়, তবে প্রতিটি অংশ সেই দলিলের প্রাথমিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে। এর কারণ হলো, প্রতিটি অংশই দলিলের একটি অংশ হিসেবে সমানভাবে বৈধ এবং মূল দলিলের প্রতিনিধিত্ব করে।
.
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী, সরকারি কর্তৃপক্ষের দ্বারা তৈরি মানচিত্র বা পরিকল্পনা সম্পর্কে আদালত কী অনুমান করবে?
  1. তা সঠিকভাবে তৈরি হয়েছে
  2. তা বেসরকারি সংস্থার জন্য প্রযোজ্য
  3. তা কর্তৃপক্ষের দ্বারা যাচাই করা হয়নি
  4. তা আদালতে প্রমাণ হিসেবে অগ্রহণযোগ্য
সঠিক উত্তর:
তা সঠিকভাবে তৈরি হয়েছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তা সঠিকভাবে তৈরি হয়েছে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৮৩ অনুসারে, আদালত এই মর্মে প্রাকধারণা (presumption) করবে যে সরকারি কর্তৃপক্ষ দ্বারা তৈরি মানচিত্র বা পরিকল্পনা সঠিকভাবে প্রণীত হয়েছে এবং তা নির্ভুল। তবে, কোনো মামলার জন্য বিশেষভাবে তৈরি মানচিত্র বা পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এর সঠিকতা প্রমাণ করতে হবে।

⇒ বাংলাদেশের সাক্ষ্য আইন (Evidence Act) এর ধারা ৮৩ (Section 83) অনুযায়ী:
“The Court shall presume that maps or plans purporting to be made by the authority of the Government were so made, and are accurate; but maps or plans made for the purposes of any cause must be proved to be accurate.”
- অর্থাৎ, যদি কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষের তৈরি মানচিত্র বা পরিকল্পনা আদালতে উপস্থাপন করা হয়, তাহলে আদালত ধরে নেবে যে —
- তা যথাযথভাবে তৈরি করা হয়েছে এবং তা সঠিক।
- তবে, যদি এটি কোনো মামলার উদ্দেশ্যে তৈরি মানচিত্র হয়, তখন সেটির সঠিকতা প্রমাণ করতে হবে।
.
সাক্ষ্য আইনের ৬০ ধারা অনুযায়ী, মৌখিক সাক্ষ্য কোন ধরনের হতে হবে?
  1. মৌখিক সাক্ষ্য হতে হবে প্রত্যক্ষ
  2. মৌখিক সাক্ষ্য হতে হবে পরোক্ষ
  3. মৌখিক সাক্ষ্য হতে হবে অনুমোদিত
  4. মৌখিক সাক্ষ্য হতে হবে অনুমানভিত্তিক
সঠিক উত্তর:
মৌখিক সাক্ষ্য হতে হবে প্রত্যক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌখিক সাক্ষ্য হতে হবে প্রত্যক্ষ
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬০ ধারায় বলা হয়েছে, মৌখিক সাক্ষ্য সবসময় প্রত্যক্ষ হতে হবে। এর অর্থ, যদি সাক্ষ্য কোনো ঘটনা সম্পর্কিত হয় যা দেখা, শোনা, বা অন্য কোনো অনুভূতির মাধ্যমে অনুধাবন করা সম্ভব, তাহলে সেই সাক্ষীকে অবশ্যই সেই ঘটনা নিজে দেখেছে, শুনেছে বা অন্য কোনোভাবে অনুভব করেছে এমন হতে হবে।
অন্যথায়, পরোক্ষ বা অনুমানভিত্তিক সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬০ স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে:
"Oral evidence must, in all cases whatever, be direct"
অর্থাৎ "মৌখিক সাক্ষ্য সকল ক্ষেত্রেই প্রত্যক্ষ হতে হবে"।
প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের বৈশিষ্ট্য (ধারা ৬০ অনুযায়ী):
- দেখা ঘটনার ক্ষেত্রে - যিনি দেখেছেন তিনিই সাক্ষ্য দেবেন।
- শোনা ঘটনার ক্ষেত্রে - যিনি শুনেছেন তিনিই সাক্ষ্য দেবেন।
- অন্য কোনোভাবে উপলব্ধি করা ঘটনা - যিনি উপলব্ধি করেছেন তিনিই সাক্ষ্য দেবেন।
- মতামতের ক্ষেত্রে - যিনি মতামত দিচ্ছেন তিনিই সাক্ষ্য দেবেন।
.
যদি কোনো দলিল আইন অনুযায়ী প্রত্যাক্ষীকরণ (attested) হওয়া বাধ্যতামূলক হয়, তবে সেটি প্রমাণের জন্য কী করতে হবে?
  1. দলিলের ফটোকপি দিলেই হবে
  2. দলিল উপস্থাপন করলেই চলবে
  3. সরকারি অফিসের সিল দেখালেই হবে
  4. অন্তত একজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীকে ডাকতে হবে
সঠিক উত্তর:
অন্তত একজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীকে ডাকতে হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্তত একজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীকে ডাকতে হবে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ধারা ৬৮ অনুযায়ী— যদি কোনো দলিল আইন অনুযায়ী প্রত্যাক্ষীকরণ (attestation) বাধ্যতামূলক হয় (যেমন: উইল বা অন্য কোনো দলিল যা আইনত স্বাক্ষ্যদানে প্রত্যাক্ষীকৃত হতে হয়), তবে সেই দলিল সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না যতক্ষণ না অন্তত একজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী (attesting witness) তার স্বাক্ষরের সত্যতা প্রমাণে আদালতে সাক্ষ্য দেন।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬৮ অনুযায়ী, যদি কোনো দলিল আইন অনুযায়ী প্রত্যাক্ষীকরণ (attested) হওয়া বাধ্যতামূলক হয়, তবে তার সম্পাদন (execution) প্রমাণের জন্য নির্দিষ্ট শর্ত পালন করতে হবে। ধারায় বলা আছে:
"If a document is required by law to be attested, it shall not be used as evidence until one attesting witness at least has been called for the purpose of proving its execution, if there be an attesting witness alive, and subject to the process of the Court and capable of giving evidence."
অর্থাৎ, যদি দলিলটি আইনত সত্যায়িত হওয়া প্রয়োজন হয়, তবে তা সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না যতক্ষণ না অন্তত একজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীকে (attesting witness) তার সম্পাদন প্রমাণের জন্য ডাকা হয়। তবে, এটি তখনই প্রযোজ্য যদি সেই সাক্ষী জীবিত থাকেন, আদালতের আওতাধীন হন এবং সাক্ষ্য দিতে সক্ষম হন।

তবে একটি ব্যতিক্রম:
যদি দলিলটি নিবন্ধিত হয় (Registration Act, 1908 অনুযায়ী) এবং এর স্বাক্ষরকারী ব্যক্তি সেই স্বাক্ষর অস্বীকার না করে, তাহলে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীকে ডাকার প্রয়োজন নেই।
১০.
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী কোনটি আদালতের বিচারিক দৃষ্টিগোচরে গ্রহণযোগ্য নয়?
  1. ব্যক্তিগত চুক্তির শর্তাবলী
  2. বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা
  3. আদালতের কর্মকর্তা ও তাদের পদ
  4. সরকারি গেজেটে প্রকাশিত ছুটির দিন
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত চুক্তির শর্তাবলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত চুক্তির শর্তাবলী
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৫৭ অনুযায়ী, আদালত নিম্নলিখিত তথ্যগুলো বিচারিকভাবে লক্ষণীয় (Judicially Noticeable) হিসেবে গ্রহণ করবে, অর্থাৎ এগুলোর জন্য আলাদা প্রমাণের প্রয়োজন নেই:
- বাংলাদেশের সকল আইন (ধারা ৫৭(১))
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা (ধারা ৫৭(৮))
- আদালতের কর্মকর্তা ও তাদের পদ (ধারা ৫৭(১২))
- সরকারি গেজেটে প্রকাশিত ছুটির দিন (ধারা ৫৭(৯))
কিন্তু ব্যক্তিগত চুক্তির শর্তাবলী আদালত স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণ করে না, বরং এগুলো প্রমাণ করতে হয়। তাই এটি বিচারিক দৃষ্টিগোচরে গ্রহণযোগ্য নয়।

অতএব, সঠিক উত্তর ক) ব্যক্তিগত চুক্তির শর্তাবলী।
১১.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৮৫গ অনুসারে, ডিজিটাল স্বাক্ষর সার্টিফিকেট সম্পর্কিত আদালতের অনুমান কী?
  1. সার্টিফিকেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল
  2. সব তথ্য যাচাই করতে হবে
  3. শুধুমাত্র যাচাইকৃত তথ্য সঠিক
  4. শুধুমাত্র সরকারি সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য
সঠিক উত্তর:
শুধুমাত্র যাচাইকৃত তথ্য সঠিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুধুমাত্র যাচাইকৃত তথ্য সঠিক
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৮৫গ অনুযায়ী, ডিজিটাল স্বাক্ষর সার্টিফিকেট সম্পর্কিত আদালতের অনুমান হচ্ছে—যদি স্বাক্ষর সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য হয়, তবে আদালত ধরে নেয় যে সার্টিফিকেটে উল্লেখিত তথ্য সঠিক। তবে, সাবস্ক্রাইবার তথ্য (যা যাচাই করা হয়নি) তার ব্যতিক্রম হিসাবে বিবেচিত হয়। অর্থাৎ, সার্টিফিকেটের মধ্যে যা যাচাইকৃত তথ্য আছে তা সঠিক হিসেবে গণ্য করা হবে, যদি না বিপরীত প্রমাণিত হয়।
- এই কারণে, অপশন গ) "শুধুমাত্র যাচাইকৃত তথ্য সঠিক" সঠিক উত্তর।

⇒  সাক্ষ্য আইন, ধারা ৮৫গ (Section 85C of the Evidence Act) অনুযায়ী বলা হয়েছে:
"The Court shall presume, unless contrary is proved, that the information listed in a Digital Signature Certificate is correct, except for information specified as subscriber information which has not been verified, if the certificate was accepted by the subscriber."

- অর্থাৎ, আদালত ধরে নেবে যে ডিজিটাল স্বাক্ষর সার্টিফিকেটে উল্লিখিত তথ্যসমূহ সঠিক, যদি তা ব্যবহারকারী (subscriber) গ্রহণ করে থাকে — তবে এই অনুমান যাচাইকৃত তথ্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। যেসব তথ্য গ্রাহক সম্পর্কিত এবং যাচাইকৃত নয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে আদালত এমন অনুমান করবে না।
১২.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৫৯ অনুসারে, নিম্নের কোনটি মৌখিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করা যায় না?
  1. মৌখিক চুক্তির শর্তাবলী
  2. ডকুমেন্টের বিষয়বস্তু
  3. বিশেষজ্ঞের মতামত
  4. একজন সাক্ষীর দ্বারা দেখা ঘটনা
সঠিক উত্তর:
ডকুমেন্টের বিষয়বস্তু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডকুমেন্টের বিষয়বস্তু
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৫৯ ধারা অনুযায়ী, ডকুমেন্টের বিষয়বস্তু মৌখিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করা যায় না। ডকুমেন্টের বিষয়বস্তু প্রমাণ করার জন্য সেই ডকুমেন্টের নিজস্ব প্রমাণ উপস্থাপন করতে হয়।
- এছাড়া, চুক্তির শর্তাবলী (যদি সেটা মৌখিক চুক্তি হয়) এবং বিশেষজ্ঞের মতামত বা একজন সাক্ষীর দ্বারা দেখা ঘটনা মৌখিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে প্রমাণ করা যেতে পারে।

সাক্ষ্য আইনের ধারা ৫৯ অনুযায়ী, "All facts, except the contents of documents, may be proved by oral evidence."
অর্থাৎ, সমস্ত তথ্য মৌখিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করা যেতে পারে, কিন্তু দলিল বা ডকুমেন্টের বিষয়বস্তু (contents of documents) এর ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়। ডকুমেন্টের বিষয়বস্তু প্রমাণ করতে হলে সাধারণত সেই ডকুমেন্টটি নিজেই উপস্থাপন করতে হয়, যা লিখিত সাক্ষ্যের (documentary evidence) আওতায় পড়ে।

সাক্ষ্য আইনের ধারা ৫৯ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে: "All facts, except the contents of documents, may be proved by oral evidence."
অর্থাৎ, "ডকুমেন্টের বিষয়বস্তু ছাড়া সকল সত্যতা মৌখিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করা যায়।"
১৩.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯৩ অনুযায়ী, যদি কোনো দলিলের ভাষা নিজেই অস্পষ্ট বা ত্রুটিপূর্ণ হয়, তাহলে–
  1. মৌখিক সাক্ষ্যে সংশোধন করা যাবে
  2. আদালত নিজে অর্থ নির্ধারণ করবে
  3. কেবল নোটারি স্বাক্ষর থাকলেই প্রমাণযোগ্য
  4. কোনো প্রমাণ দ্বারা অর্থ বা ঘাটতি পূরণ করা যাবে না
সঠিক উত্তর:
কোনো প্রমাণ দ্বারা অর্থ বা ঘাটতি পূরণ করা যাবে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনো প্রমাণ দ্বারা অর্থ বা ঘাটতি পূরণ করা যাবে না
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯৩ অনুযায়ী, যখন কোনো দলিলের ভাষা অস্পষ্ট বা ত্রুটিপূর্ণ হয়, তখন তার অর্থ বা ঘাটতি পূরণ করার জন্য বাহ্যিক কোনো প্রমাণ গ্রহণ করা যাবে না। অর্থাৎ, যে দলিলের ভাষা নিজেই অস্পষ্ট বা ত্রুটিপূর্ণ, সেই দলিলের অর্থ ব্যাখ্যা করার জন্য বাহ্যিক তথ্য বা প্রমাণ ব্যবহার করা অনুমোদিত নয়। দলিলের ভাষায় কোনো ঘাটতি বা অস্পষ্টতা থাকলে, তা সংশোধন করার জন্য আদালত কোনো বাহ্যিক প্রমাণ গ্রহণ করতে পারে না।
এটি দলিলের স্বতন্ত্রতা রক্ষা করে, যাতে দলিলের অন্তর্নিহিত ভাষার সাথে কোনো বাইরের তথ্যকে মিলিয়ে অর্থ নির্ধারণ না করা হয়।
 
→ অর্থাৎ ধারা ৯৩ অনুযায়ী, যখন দলিলের ভাষা নিজের মধ্যেই অস্পষ্ট বা ত্রুটিপূর্ণ হয়, তখন বাহ্যিক কোনো তথ্য দিয়ে অর্থ ব্যাখ্যা বা ঘাটতি পূরণ করা যাবে না।

⇒The Evidence Act, 1872, Section- 93. Exclusion of evidence to explain or amend ambiguous document:
- When the language used in a document is, on its face, ambiguous or defective, evidence may not be given of facts which would show its meaning or supply its defects.
Illustrations:
(a) A agrees, in writing, to sell a horse to B for Taka 1,000 or Taka 1,500. Evidence cannot be given to show which price was to be given.
(b) A deed contains blanks. Evidence cannot be given of facts which would show how they were meant to be filled.
১৪.
দলিলের বিষয়বস্তু  প্রমাণের জন্য মাধ্যমিক সাক্ষ্য কখন গ্রহণযোগ্য?
  1. সবসময় গ্রহণযোগ্য
  2. যখন দলিলের বিষয়বস্তু অপ্রাসঙ্গিক
  3. যখন আদালত বিশেষ অনুমতি না দেয়
  4. যখন মূল দলিল উপস্থাপন করা সম্ভব নয়
সঠিক উত্তর:
যখন মূল দলিল উপস্থাপন করা সম্ভব নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যখন মূল দলিল উপস্থাপন করা সম্ভব নয়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ অনুযায়ী, ধারা ৬১–৬৫-এর আলোকে দলিলের বিষয়বস্তু মূলত প্রাথমিক সাক্ষ্য (primary evidence) দ্বারা প্রমাণ করতে হয় (ধারা ৬১–৬৪)।
তবে, ধারা ৬৫ বলছে:
যখন মূল দলিল হারিয়ে যায়, নষ্ট হয়ে যায়, আদালতের অধিকারভুক্ত নয়, বা যেকোনো উপযুক্ত কারণে উপস্থাপন করা সম্ভব নয়, তখন মাধ্যমিক সাক্ষ্য (secondary evidence) গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬১ (Proof of contents of documents) এ বলা হয়েছে যে, দলিলের বিষয়বস্তু প্রাথমিক বা মাধ্যমিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে প্রমাণ করা যায়। তবে, ধারা ৬৫ (Cases in which secondary evidence relating to documents may be given) এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, মাধ্যমিক সাক্ষ্য তখনই গ্রহণযোগ্য হবে যখন মূল দলিল (প্রাথমিক সাক্ষ্য) উপস্থাপন করা সম্ভব নয়।

ধারা ৬৫-এর শর্তাবলী:
মাধ্যমিক সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য নিম্নলিখিত পরিস্থিতিগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি প্রযোজ্য হতে হবে:
→ মূল দলিল হারিয়ে গেছে বা ধ্বংস হয়ে গেছে: যদি প্রমাণিত হয় যে মূল দলিল হারিয়ে গেছে বা ধ্বংস হয়েছে।
→  মূল দলিল উপস্থাপন করা সম্ভব নয়: যদি মূল দলিল কোনো ব্যক্তির দখলে থাকে যিনি এটি দিতে অস্বীকার করেন বা এটি এমন স্থানে আছে যেখান থেকে সহজে আনা সম্ভব নয়।
→  মূল দলিলের অস্তিত্ব স্বীকৃত: যদি বিপক্ষীয় পক্ষ মূল দলিলের অস্তিত্ব বা বিষয়বস্তু স্বীকার করে।
→  অন্যান্য আইনি কারণ: যেমন, মূল দলিল যদি সরকারি রেকর্ড হয় এবং তার প্রতিলিপি দেওয়ার অনুমতি থাকে।

সুতরাং, মাধ্যমিক সাক্ষ্য শুধুমাত্র ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য, এবং এটি সাধারণত মূল দলিল উপস্থাপন করা সম্ভব না হলে প্রযোজ্য হয়।
১৫.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯২ এর কোন Proviso অনুযায়ী প্রতারণা প্রমাণ করা যায়?
  1. Proviso-1
  2. Proviso-2
  3. Proviso-3
  4. Proviso-4
সঠিক উত্তর:
Proviso-1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Proviso-1
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯২ বলছে, যখন কোনো চুক্তি, অনুদান বা সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত বিষয় লিখিত দলিল আকারে প্রমাণ করা হয়, তখন সাধারণভাবে কোনো মৌখিক চুক্তি বা বক্তব্য দ্বারা সেই দলিলের শর্তাবলী পরিবর্তন, সংযোজন বা বিয়োজন করা যাবে না।
তবে, এর কিছু ব্যতিক্রম আছে যেগুলো প্রভিসো (Provisos) আকারে ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯২ এর Proviso-1 অনুযায়ী, যেকোনো তথ্য প্রমাণ করা যেতে পারে যা কোনো দলিলকে অবৈধ করে বা যা কোনো ব্যক্তিকে সেই সম্পর্কে কোনো ডিক্রি বা আদেশ পাওয়ার অধিকার দেয়। এর মধ্যে প্রতারণা, ভয়-ভীতি প্রদর্শন, অবৈধতা, যথাযথ সম্পাদনের অভাব, চুক্তিকারী পক্ষের সক্ষমতার অভাব, বিবেচনার অভাব বা ব্যর্থতা, অথবা তথ্য বা আইনের ভুল অন্তর্ভুক্ত।

- সুতরাং, একটি দলিলের ক্ষেত্রে প্রতারণা প্রমাণ করতে হলে Proviso-1 ব্যবহার করতে হবে।

- Proviso-1
"Any fact may be proved which would invalidate any document, or which would entitle any person to any decree or order relating thereto; such as fraud, intimidation, illegality, want of due execution, want of capacity in any contracting party, want or failure of consideration, or mistake in fact or law."
- অর্থাৎ, প্রতারণা (fraud), ভয়ভীতি, বেআইনি বিষয়, বৈধতা না থাকা ইত্যাদি কোনো কারণে যদি দলিলটি অবৈধ হয়, তা প্রমাণ করা মৌখিক সাক্ষ্যে সম্ভব — এবং এই ব্যতিক্রম অনুমোদন করে Proviso-1।
১৬.
যদি মূল দলিলটি কোনো ব্যক্তির দখলে থাকে যিনি আদালতের নোটিশ সত্ত্বেও তা উপস্থাপন করেন না, তবে কী করা যেতে পারে?
  1. কোনো সাক্ষ্য গ্রহণ করা যাবে না
  2. গৌণ সাক্ষ্য গ্রহণ করা যেতে পারে
  3. মৌখিক সাক্ষ্য গ্রহণ করা যেতে পারে
  4. শুধুমাত্র প্রাথমিক সাক্ষ্য গ্রহণ করা যেতে পারে
সঠিক উত্তর:
গৌণ সাক্ষ্য গ্রহণ করা যেতে পারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৌণ সাক্ষ্য গ্রহণ করা যেতে পারে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৬৫(ক) অনুসারে:
-"যখন মূল দলিলটি এমন ব্যক্তির দখলে থাকে যিনি:
(i) যার বিরুদ্ধে দলিলটি প্রমাণ করা হচ্ছে, বা
(ii) আদালতের এখতিয়ারের বাইরে, বা
(iii) দলিলটি উপস্থাপনের জন্য আইনগতভাবে বাধ্য,
এবং ধারা ৬৬ অনুযায়ী নোটিশ দেওয়ার পরও তিনি দলিলটি উপস্থাপন করেন না, তখন গৌণ সাক্ষ্য দেওয়া যাবে।"

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৬৫(ক) অনুযায়ী, গৌণ সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত দেওয়া আছে। এর মধ্যে একটি শর্ত হলো:
"When the original is shown or appears to be in the possession or power of the person against whom the document is sought to be proved, or of any person out of reach of, or not subject to, the process of the Court, or of any person legally bound to produce it, and when, after the notice mentioned in section 66, such person does not produce it."

- অর্থাৎ, যদি মূল দলিলটি এমন কোনো ব্যক্তির দখলে থাকে যার বিরুদ্ধে দলিলটি প্রমাণ করতে হবে, অথবা যিনি আইনত এটি উপস্থাপন করতে বাধ্য, এবং ধারা 66-এ উল্লেখিত নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও তিনি তা উপস্থাপন না করেন, তবে আদালত গৌণ সাক্ষ্য (secondary evidence) গ্রহণ করতে পারে।
১৭.
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী কম্পিউটার আউটপুট গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য নিচের কোন শর্ত পূরণ করতে হবে না?
  1. কম্পিউটারটি নিয়মিত তথ্য সংরক্ষণ বা প্রক্রিয়াকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে
  2. তথ্যটি নিয়মিতভাবে কম্পিউটারে প্রবেশ করানো হয়েছে
  3. কম্পিউটারটি সবসময় সঠিকভাবে কাজ করেছে
  4. তথ্যটি মূল দলিল থেকে হাতে লেখা হয়েছে
সঠিক উত্তর:
তথ্যটি মূল দলিল থেকে হাতে লেখা হয়েছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তথ্যটি মূল দলিল থেকে হাতে লেখা হয়েছে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬৫খ(২) অনুযায়ী, কম্পিউটার আউটপুট গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। এই শর্তগুলো হলো:
(a) কম্পিউটার আউটপুটটি এমন একটি সময়ে উৎপাদিত হয়েছে যখন কম্পিউটারটি নিয়মিতভাবে তথ্য সংরক্ষণ বা প্রক্রিয়াকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।
(b) সেই সময়ে, ডিজিটাল রেকর্ডে থাকা তথ্য বা যে তথ্য থেকে এটি উদ্ভূত হয়েছে, তা নিয়মিতভাবে কম্পিউটারে প্রবেশ করানো হয়েছে।
(c) সেই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশে কম্পিউটারটি সঠিকভাবে কাজ করছিল, অথবা যদি কোনো সময়ে ত্রুটি থাকে, তবে তা রেকর্ড বা এর সঠিকতাকে প্রভাবিত করেনি।
(d) ডিজিটাল রেকর্ডে থাকা তথ্যটি সেই কার্যক্রমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কম্পিউটারে প্রবেশ করানো তথ্য থেকে উৎপন্ন বা প্রতিলিপি।

⇒ এখন প্রশ্নে দেওয়া অপশন গুলো বিশ্লেষণ করে:
ক) কম্পিউটারটি নিয়মিত তথ্য সংরক্ষণ বা প্রক্রিয়াকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।
- এটি ধারা 65B(2)(a) অনুযায়ী একটি প্রয়োজনীয় শর্ত। তাই এটি পূরণ করতে হবে।
খ) তথ্যটি নিয়মিতভাবে কম্পিউটারে প্রবেশ করানো হয়েছে।
এটি ধারা 65B(2)(b) অনুযায়ী একটি প্রয়োজনীয় শর্ত। তাই এটিও পূরণ করতে হবে।
গ) কম্পিউটারটি সবসময় সঠিকভাবে কাজ করেছে।
ধারা 65B(2)(c) অনুযায়ী, কম্পিউটারটি সাধারণত সঠিকভাবে কাজ করা উচিত, তবে এটি "সবসময়" সঠিকভাবে কাজ করার শর্ত নয়। যদি কোনো সময়ে ত্রুটি থাকে এবং তা রেকর্ডের সঠিকতাকে প্রভাবিত না করে, তবুও আউটপুট গ্রহণযোগ্য হবে। তাই এটি একটি শর্ত হলেও "সবসময়" শব্দটি কঠোরভাবে প্রযোজ্য নয়। তবে এটি ভুল উত্তর নয়, কারণ এটি আংশিকভাবে শর্তের সাথে সম্পর্কিত।

ঘ) তথ্যটি মূল দলিল থেকে হাতে লেখা হয়েছেধারা ৬৫খ-এ কম্পিউটার আউটপুটের ক্ষেত্রে "হাতে লেখা" তথ্যের কোনো উল্লেখ নেই।
বরং, তথ্যটি কম্পিউটারে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করানো এবং ডিজিটালভাবে উৎপাদিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। হাতে লেখা তথ্য কম্পিউটার আউটপুটের সংজ্ঞার বাইরে।
- তাই এটি কোনো শর্ত নয় এবং পূরণ করার প্রয়োজন নেই।

- অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬৫খ অনুযায়ী, কম্পিউটার আউটপুট গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য "তথ্যটি মূল দলিল থেকে হাতে লেখা হয়েছে" (ঘ) শর্ত পূরণ করতে হবে না। এটি ধারা ৬৫খ-এর কোনো শর্তের সাথে সম্পর্কিত নয়।

⇒ The Evidence Act, 1872- Section 65B: Admissibility of Digital Records:
(2) The conditions referred to in sub-section (1) in respect of a computer output shall be the following, namely :-
(a) the computer output containing the information was produced by the computer during the period over which the computer was used regularly to store or process information for the purposes or any activities regularly carried on over that period by the person having lawful control over the use of the computer;
(b) during the said period, information of the kind contained in the digital record or of the kind from which the information so contained is derived was regularly fed into the computer in the ordinary course of the said activities;
(c) throughout the material part of the said period, the computer was operating properly or, if not, then in respect of any period in which it was not operating properly or was out of operation during that part of the period, was not such as to affect the digital record or the accuracy of its contents; and
(d) the information contained in digital record reproduces or is derived from such information fed into the computer in the ordinary course of the said activities.
১৮.
যদি কোনো পক্ষ আদালতকে অনুরোধ করে কোনো বিষয় বিচারিকভাবে দৃষ্টিগোচর করার জন্য, তাহলে আদালত কী করতে পারে?
  1. অবশ্যই তা মানতে হবে
  2. শুধুমাত্র মৌখিক সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারে
  3. অস্বীকার করতে পারবে না
  4. প্রয়োজন মনে করলে বই বা দলিল চাইতে পারে
সঠিক উত্তর:
প্রয়োজন মনে করলে বই বা দলিল চাইতে পারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রয়োজন মনে করলে বই বা দলিল চাইতে পারে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২–এর ধারা ৫৭ অনুসারে, আদালত যখন কোনো বিষয় বিচারিকভাবে দৃষ্টিগোচর (judicial notice) করার জন্য একটি অনুরোধ গ্রহণ করে, তখন আদালত সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে সেটি গ্রহণযোগ্য কিনা। যদি আদালত মনে করে, তাহলে বিষয়টি বিচারিকভাবে দৃষ্টিগোচর করার জন্য প্রয়োজনীয় বই বা দলিল চেয়ে নিতে পারে।

ধারা ৫৭ (অন্যথা কিছু না বলা হলে) বলে যে, আদালত প্রাসঙ্গিক বই বা দলিল দেখতে পারে যদি কোনো পক্ষ আদালতকে সেই বিষয়টি বিচারিকভাবে গ্রহণের জন্য অনুরোধ করে। অর্থাৎ, আদালত যদি প্রয়োজন মনে করে তবে বই বা দলিল চাইতে পারে যা সে বিষয়ের প্রমাণ করতে সহায়ক হতে পারে।

তবে ক) অবশ্যই তা মানতে হবে বা গ) অস্বীকার করতে পারবে না এই ধরনের ধারণা সঠিক নয়, কারণ আদালত তার বিচারিক বিবেচনা অনুযায়ী বিষয়টি গ্রহণ বা অস্বীকার করতে পারে।

সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৫৭-এর শেষ অংশ অনুযায়ী:
"If the Court is called upon by any person to take judicial notice of any fact, it may refuse to do so unless and until such person produces any such book or document as it may consider necessary to enable it to do so."
অর্থাৎ, যদি কোনো পক্ষ আদালতকে কোনো বিষয় বিচারিকভাবে লক্ষণীয় (Judicial Notice) হিসেবে গ্রহণ করার অনুরোধ করে, তাহলে আদালত:
- প্রয়োজনবোধে সংশ্লিষ্ট বই বা দলিল দাখিল করার নির্দেশ দিতে পারে,
- এবং তা না দিলে অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
১৯.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬৭ক অনুযায়ী, ডিজিটাল স্বাক্ষর প্রমাণ করতে কী প্রমাণ করতে হবে?
  1. এটি কম্পিউটারে তৈরি হয়েছে
  2. এটি আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে
  3. এটি হাতে লেখা স্বাক্ষরের অনুলিপি
  4. এটি সাবস্ক্রাইবারের ডিজিটাল স্বাক্ষর
সঠিক উত্তর:
এটি সাবস্ক্রাইবারের ডিজিটাল স্বাক্ষর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এটি সাবস্ক্রাইবারের ডিজিটাল স্বাক্ষর
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ধারা ৬৭ক অনুযায়ী:
যদি কোনো ডিজিটাল রেকর্ডে কারো ডিজিটাল স্বাক্ষর থাকার দাবি করা হয়, তাহলে এই বিষয়টি প্রমাণ করতে হবে যে এটি সত্যিই উক্ত সাবস্ক্রাইবারের ডিজিটাল স্বাক্ষর।
তবে, যদি এটি একটি secure digital signature হয়, তখন আলাদাভাবে প্রমাণের প্রয়োজন নেই।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬৭ক (67A) অনুযায়ী, ডিজিটাল স্বাক্ষর প্রমাণের বিষয়ে বলা আছে:
"Except in the case of a secure digital signature, if the digital signature of any subscriber is alleged to have been affixed to a digital record, the fact that such digital signature is the digital signature of the subscriber must be proved."
অর্থাৎ, যদি কোনো ডিজিটাল রেকর্ডে কোনো সাবস্ক্রাইবারের (subscriber) ডিজিটাল স্বাক্ষর সংযুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়, তবে এটি প্রমাণ করতে হবে যে সেই ডিজিটাল স্বাক্ষরটি সত্যিই সেই সাবস্ক্রাইবারের। তবে, এটি "সুরক্ষিত ডিজিটাল স্বাক্ষর" (secure digital signature) এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
২০.
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী যদি কোনো তথ্য দেখা যায় এমন হয়, তবে মৌখিক সাক্ষ্য কার দ্বারা দেওয়া উচিত?
  1. যিনি শুনেছেন
  2. যিনি দেখেছেন
  3. যিনি অনুমান করেছেন
  4. যিনি এটি সম্পর্কে পড়েছেন
সঠিক উত্তর:
যিনি দেখেছেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যিনি দেখেছেন
ব্যাখ্যা
⇒সাক্ষ্য আইনের ৬০ ধারায় বলা হয়েছে যে, যদি কোনো ঘটনা এমন কিছু হয় যা দেখা যায়, তবে সেই তথ্যের মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই সেই ব্যক্তির দ্বারা দেওয়া উচিত যিনি সেই ঘটনা নিজে দেখেছেন।
এই নিয়মটি প্রমাণের সরাসরি এবং সঠিকতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ, যিনি ঘটনাটি দেখেছেন, তার সাক্ষ্যই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং প্রাসঙ্গিক হবে।

- সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৬০ (মৌখিক সাক্ষ্য সম্পর্কিত) অনুসারে:
"মৌখিক সাক্ষ্য সর্বদা প্রত্যক্ষ হতে হবে; অর্থাৎ - যদি কোনো ঘটনা দেখা যায় এমন হয়, তাহলে সাক্ষ্য দেবেন তিনি যিনি তা দেখেছেন..."

- সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৬০ অনুযায়ী, মৌখিক সাক্ষ্য সবসময় সরাসরি (direct) হতে হবে। এতে স্পষ্টভাবে বলা আছে:
"If it refers to a fact which could be seen, it must be the evidence of a witness who says he saw it."
অর্থাৎ, যদি কোনো তথ্য এমন হয় যা দেখা যায়, তবে মৌখিক সাক্ষ্য সেই ব্যক্তির দ্বারা দেওয়া উচিত যিনি নিজে সেই তথ্যটি দেখেছেন।
২১.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬৬ অনুযায়ী, নিচের কোন ক্ষেত্রে নোটিশ দেওয়া প্রয়োজন নেই?
  1. যখন দলিলটি নিজেই একটি নোটিশ
  2. যখন মূল দলিল আদালতে উপস্থাপন করা হয়
  3. যখন বিরোধী পক্ষ জানে যে তাকে দলিল দেখাতে হবে
  4. উপরের সবকটি
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ধারা ৬৬ অনুযায়ী, গৌণ সাক্ষ্য (secondary evidence) গ্রহণযোগ্য করার জন্য সাধারণভাবে মূল দলিল যিনি দখলে রেখেছেন, তাকে পূর্বে "notice to produce" দিতে হয়।
তবে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে যেখানে নোটিশ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না, যেমন:
১.দলিলটি নিজেই একটি নোটিশ হলে
২.মামলার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রতিপক্ষ জানে যে দলিল চাওয়া হবে
৩.দলিল যদি আদালতেই থাকে বা বিরোধী পক্ষের কাছেই থাকে
- এই তিনটি অবস্থাতেই নোটিশ না দিয়েও গৌণ সাক্ষ্য উপস্থাপন করা আইনসম্মত ও গ্রহণযোগ্য, তাই সঠিক উত্তর: ঘ) উপরের সবকটি।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬৬-এর প্রোভাইসোতে দলিল উপস্থাপনের জন্য নোটিশ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা থেকে ছয়টি নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম বা ক্ষেত্র উল্লেখ করা হয়েছে। এই ক্ষেত্রগুলোতে গৌণ সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। নিচে ছয়টি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র উল্লেখ করা হলো:
১) যখন প্রমাণ করার জন্য দলিলটি নিজেই একটি নোটিশ (When the document to be proved is itself a notice):
- যদি যে দলিলটি প্রমাণ করতে হবে তা নিজেই একটি নোটিশ হয়, তবে আলাদাভাবে নোটিশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
২) যখন মামলার প্রকৃতি থেকে বিপক্ষীয় পক্ষ জানে যে তাকে দলিলটি উপস্থাপন করতে হবে (When, from the nature of the case, the adverse party must know that he will be required to produce it):
- যদি মামলার পরিস্থিতি এমন হয় যে বিপক্ষীয় পক্ষ স্বাভাবিকভাবেই বুঝতে পারে যে তাকে দলিলটি দেখাতে হবে, তবে নোটিশের প্রয়োজন হয় না।
৩) যখন দেখা যায় বা প্রমাণিত হয় যে বিপক্ষীয় পক্ষ জালিয়াতি বা জোর করে মূল দলিলটি দখল করেছে (When it appears or is proved that the adverse party has obtained possession of the original by fraud or force):
- যদি বিপক্ষীয় পক্ষ মূল দলিলটি প্রতারণা বা জোরপূর্বক দখল করে থাকে, তবে নোটিশ দেওয়ার দরকার নেই।
৪) যখন বিপক্ষীয় পক্ষ বা তার এজেন্টের কাছে মূল দলিলটি আদালতে থাকে (When the adverse party or his agent has the original in Court):
- যদি মূল দলিলটি বিপক্ষীয় পক্ষ বা তার প্রতিনিধির কাছে আদালতে উপস্থিত থাকে, তবে নোটিশ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
৫) যখন বিপক্ষীয় পক্ষ বা তার এজেন্ট দলিলটি হারিয়ে গেছে বলে স্বীকার করে (When the adverse party or his agent has admitted the loss of the document):
- যদি বিপক্ষীয় পক্ষ বা তার প্রতিনিধি স্বীকার করে যে মূল দলিলটি হারিয়ে গেছে, তবে নোটিশের প্রয়োজনীয়তা বাদ যায়।
৬) যখন দলিলের দখলে থাকা ব্যক্তি আদালতের নাগালের বাইরে বা আদালতের প্রক্রিয়ার আওতাধীন নয় (When the person in possession of the document is out of reach of, or not subject to, the process of the Court):
- যদি যে ব্যক্তির কাছে দলিলটি আছে তিনি আদালতের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকেন বা আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় না পড়েন, তবে নোটিশ দেওয়া প্রয়োজন নেই।
২২.
দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণের জন্য কোন ধরনের সাক্ষ্য ব্যবহার করা যায়?
  1. প্রাথমিক সাক্ষ্য
  2. মাধ্যমিক সাক্ষ্য
  3. শুধুমাত্র মৌখিক সাক্ষ্য
  4. 'ক' অথবা 'খ'
সঠিক উত্তর:
'ক' অথবা 'খ'
উত্তর
সঠিক উত্তর:
'ক' অথবা 'খ'
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬১ (Section 61: Proof of contents of documents) এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:
"দলিলের বিষয়বস্তু প্রাথমিক বা মাধ্যমিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে প্রমাণ করা যেতে পারে।"
অর্থাৎ, দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণের জন্য নিম্নলিখিত দুই ধরনের সাক্ষ্য ব্যবহার করা যায়:

→ প্রাথমিক সাক্ষ্য (Primary Evidence): ধারা ৬২ অনুযায়ী, এটি হলো মূল দলিল নিজে বা তার আইনি প্রতিলিপি। এটি সর্বোত্তম প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং আদালতে প্রাধান্য পায়।
→ মাধ্যমিক সাক্ষ্য (Secondary Evidence): ধারা ৬৩-এ সংজ্ঞায়িত, এটি হলো মূল দলিলের অনুলিপি, প্রতিলিপি, বা অন্য কোনো প্রমাণ যা মূল থেকে প্রাপ্ত নয়। ধারা ৬৫-এ উল্লেখিত শর্ত (যেমন মূল দলিল হারিয়ে যাওয়া, ধ্বংস হওয়া, বা উপস্থাপন অসম্ভব হওয়া) পূরণ হলে মাধ্যমিক সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হয়।

→ দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণের জন্য প্রাথমিক সাক্ষ্য এবং মাধ্যমিক সাক্ষ্য উভয়ই ব্যবহার করা যায়।
- তাই সঠিক উত্তর হলো ঘ) 'ক' অথবা 'খ'।
২৩.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬৭ অনুযায়ী, কোনো দলিলে স্বাক্ষর বা হস্তাক্ষর প্রমাণ করতে কী প্রয়োজন?
  1. একজন সাক্ষীকে ডাকা
  2. দলিলের অনুলিপি জমা দেওয়া
  3. দলিলটি আদালতে উপস্থাপন করা
  4. স্বাক্ষর বা হস্তাক্ষরটি সেই ব্যক্তির বলে প্রমাণ করা
সঠিক উত্তর:
স্বাক্ষর বা হস্তাক্ষরটি সেই ব্যক্তির বলে প্রমাণ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাক্ষর বা হস্তাক্ষরটি সেই ব্যক্তির বলে প্রমাণ করা
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৬৭ অনুযায়ী:
যদি কোনো দলিলের ক্ষেত্রে অভিযোগ করা হয় যে সেটি কোনো ব্যক্তি স্বাক্ষর করেছেন বা নিজের হাতে লিখেছেন (পুরোপুরি বা আংশিক), তাহলে সেই অংশের স্বাক্ষর বা হস্তাক্ষর তাঁর বলে প্রমাণ করতে হবে।
অর্থাৎ, শুধু দলিল উপস্থাপন করলেই হবে না।  প্রমাণ করতে হবে যে স্বাক্ষর বা লেখাটি প্রকৃতপক্ষে ঐ ব্যক্তির।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬৭ অনুযায়ী, কোনো দলিলে স্বাক্ষর বা হস্তাক্ষর প্রমাণের জন্য নির্দিষ্ট বিধান দেওয়া আছে। ধারায় বলা হয়েছে:
"If a document is alleged to be signed or to have been written wholly or in part by any person, the signature or the handwriting of so much of the document as is alleged to be in that person’s handwriting must be proved to be in his handwriting."
- অর্থাৎ, যদি কোনো দলিলে দাবি করা হয় যে এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি স্বাক্ষর করেছেন বা লিখেছেন (পুরোটা বা আংশিকভাবে), তবে সেই স্বাক্ষর বা হস্তাক্ষর যে সত্যিই সেই ব্যক্তির তা প্রমাণ করতে হবে।
২৪.
আদালত নিম্নলিখিত কোন বিষয়ের বিচারিক দৃষ্টিগোচরে (judicial notice) গ্রহণ করবে?
  1. অপ্রকাশিত আইন
  2. ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনা
  3. মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী নাম
  4. বিদেশি ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ কাজ
সঠিক উত্তর:
মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী নাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী নাম
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২–এর ধারা ৫৭ অনুসারে, আদালত শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ই বিচারিক দৃষ্টিগোচর হিসেবে গ্রহণ করে। এগুলি সাধারণত এমন বিষয় যা সরকারি, রাষ্ট্রীয়, বা বিশেষভাবে স্বীকৃত এবং জনসাধারণের জন্য প্রাসঙ্গিক।
- সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৫৭ অনুযায়ী, আদালত বিচারিকভাবে লক্ষণীয় (Judicial Notice) হিসেবে গ্রহণ করবে, অর্থাৎ এগুলোর জন্য আলাদা প্রমাণের প্রয়োজন নেই:
- মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবীর নাম (ধারা ৫৭(১২)): আদালত নিজেই মামলার সঙ্গে জড়িত আইনজীবী, বিচারক ও আদালতের কর্মকর্তাদের নাম ও পদবী স্বীকার করে নেয়।

বিচারিক দৃষ্টিগোচর গ্রহণযোগ্য:
- মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী নাম (গ): আদালত মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবীর নাম এবং তার ভূমিকা প্রমাণ করার জন্য বিশেষভাবে দৃষ্টিগোচর নিতে পারে, কারণ এটি আদালতের প্রক্রিয়ার একটি অংশ।

অন্যদিকে, নিচের বিষয়গুলো বিচারিক দৃষ্টিগোচর হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়:
- অপ্রকাশিত আইন (ক): কোনো আইন যদি প্রকাশিত না হয়, তাহলে তা আদালতের বিচারিক দৃষ্টিগোচর হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। আদালত শুধুমাত্র প্রকাশিত আইন ও বিধি অনুসরণ করবে।
- ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনা (খ): ব্যক্তিগত ঘটনা বা তথ্য সাধারণত বিচারিক দৃষ্টিগোচর হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এগুলি আদালতে প্রমাণযোগ্য হওয়া উচিত এবং প্রকাশ্যে আদালতের বিবেচনায় আনা যায় না।
- বিদেশি ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ কাজ (ঘ): বিদেশি ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ কাজ আদালতের বিচারিক দৃষ্টিগোচর হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এই ধরনের বিষয় আন্তর্জাতিক বা রাষ্ট্রীয় বিবেচনায় পড়ে, যেগুলি সাধারণত আদালতের পরিধির বাইরে থাকে।
২৫.
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী প্রাথমিক সাক্ষ্য বলতে কী বোঝায়?
  1. দলিলের ফটোকপি
  2. দলিলের মৌখিক বিবরণ
  3. দলিলের মূল কপি আদালতে উপস্থাপন
  4. দলিলের অনুলিপি যা যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তৈরি
সঠিক উত্তর:
দলিলের মূল কপি আদালতে উপস্থাপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দলিলের মূল কপি আদালতে উপস্থাপন
ব্যাখ্যা
⇒ প্রাথমিক সাক্ষ্য (Primary Evidence) বলতে আসল বা মূল দলিল যা আদালতে উপস্থাপন করা হয়, তাকে বোঝায়।
অন্যদিকে, ফটোকপি, মৌখিক বিবরণ বা যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তৈরি অনুলিপি সবই গৌণ সাক্ষ্য (secondary evidence) হিসেবে গণ্য হয়, কারণ এগুলো মূল দলিলের পরিবর্তে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৬২ অনুসারে:
"প্রাথমিক সাক্ষ্য অর্থ আদালতের পরিদর্শনের জন্য উপস্থাপিত দলিল নিজেই।"

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬২ অনুযায়ী, প্রাথমিক সাক্ষ্য (primary evidence) এর সংজ্ঞা দেওয়া আছে:
"Primary evidence means the document itself produced for the inspection of the Court."
অর্থাৎ, প্রাথমিক সাক্ষ্য বলতে বোঝায় দলিলের মূল কপি, যা আদালতের পরিদর্শনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। এটি দলিলের সবচেয়ে প্রামাণিক রূপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
২৬.
মৌখিক সাক্ষ্য যদি কোনো বস্তুগত জিনিসের অস্তিত্ব বা অবস্থা সম্পর্কিত হয়, তবে আদালত কী করতে পারে?
  1. বিষয়টি উপেক্ষা করতে পারে
  2. শুধুমত্র লিখিত সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারে
  3. সাক্ষ্য গ্রহণ করতে অস্বীকার করতে পারে
  4. বস্তুটি পরিদর্শনের জন্য উপস্থাপনের নির্দেশ দিতে পারে
সঠিক উত্তর:
বস্তুটি পরিদর্শনের জন্য উপস্থাপনের নির্দেশ দিতে পারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বস্তুটি পরিদর্শনের জন্য উপস্থাপনের নির্দেশ দিতে পারে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬০ ধারায় বলা হয়েছে যে, যদি মৌখিক সাক্ষ্য কোনো বস্তুগত জিনিসের অস্তিত্ব বা অবস্থা সম্পর্কিত হয়, তবে আদালত সেই বস্তুটির পরিদর্শন করতে চাইলে, আদালত সেই বস্তুটি পরিদর্শনের জন্য উপস্থাপনের নির্দেশ দিতে পারে।
এই ধারার উদ্দেশ্য হল, যদি একটি বস্তু বা সামগ্রী প্রমাণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়, এবং সেই বস্তুর অবস্থা বা অস্তিত্বকে প্রমাণ করার জন্য মৌখিক সাক্ষ্য দেওয়া হয়, তবে আদালত সেই বস্তুটির বাস্তব পরিদর্শন করে দেখতে পারে যাতে প্রমাণের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা যায়।

- সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৬০-এর দ্বিতীয় প্রভিজো অনুসারে:
"যদি মৌখিক সাক্ষ্য কোনো বস্তুগত জিনিসের (ডকুমেন্ট ছাড়া) অস্তিত্ব বা অবস্থা সম্পর্কে হয়, তবে আদালত ইচ্ছা করলে সংশ্লিষ্ট বস্তুটি নিজে পরিদর্শনের জন্য উপস্থাপনের আদেশ দিতে পারে।"

- "Provided also that, if oral evidence refers to existence or condition of any material thing other than a document, the Court may, if it thinks fit, require the production of such material thing for its inspection."
অর্থাৎ, যদি মৌখিক সাক্ষ্য কোনো বস্তুগত জিনিস (দলিল ব্যতীত) এর অস্তিত্ব বা অবস্থা সম্পর্কিত হয়, তবে আদালত তার বিবেচনার ভিত্তিতে সেই বস্তুটি পরিদর্শনের জন্য উপস্থাপন করার নির্দেশ দিতে পারে। এটি আদালতের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে, তবে এই ক্ষমতা আদালতের আছে।
২৭.
বাংলাদেশে ব্যক্তিগত দলিলের সরকারি রেকর্ড কী হিসেবে গণ্য হয়?
  1. ব্যক্তিগত দলিল
  2. সরকারি দলিল
  3. অস্থায়ী দলিল
  4. গোপনীয় দলিল
সঠিক উত্তর:
সরকারি দলিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকারি দলিল
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৭৪(২) অনুসারে, বাংলাদেশে সংরক্ষিত ব্যক্তিগত দলিলের সরকারি রেকর্ড (public records of private documents) পাবলিক ডকুমেন্ট (সরকারি দলিল) হিসেবে গণ্য হয়। যদিও মূল দলিলটি ব্যক্তিগত, তবে যখন তা সরকারি রেজিস্টার বা রেকর্ডে সংরক্ষিত হয় (যেমন রেজিস্ট্রি করা দলিল, আদালতের নথিভুক্ত কাগজপত্র ইত্যাদি), তখন সেগুলো পাবলিক ডকুমেন্টের মর্যাদা পায়।

সুতরাং, সঠিক উত্তর খ) সরকারি দলিল। 

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৪ ধারার বিধান সরকারী দলিল: নিম্নলিখিত দলিলগুলো সরকারী দলিল:
(১) যে সমস্ত দলিল-
(ক) কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের,
(খ) সরকারী প্রতিষ্ঠান বা ট্রাইব্যুনালের এবং
(গ) বাংলাদেশের বা কমনওয়েলথের যে কোন স্থানের অথবা বিদেশের আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কোন অফিসারের কার্য অথবা কার্যের লিপিবদ্ধ বিবরণ।
(২) বাংলাদেশে সরকারীভাবে রক্ষিত ব্যক্তিগত দলিলের লিপিবদ্ধ বিবরণ।
---------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section-74. Public documents:
The following documents are public documents:–
(1) documents forming the acts or records of the acts-
(i) of the sovereign authority,
(ii) of official bodies and tribunals, and
(iii) of public officers, legislative, judicial and executive of any part of Bangladesh or of the Commonwealth, or of a foreign country;
(2) public records kept in Bangladesh of private documents.
২৮.
সাক্ষ্য আইনের নিয়ম অনুসারে, নিচের কোনটি সঠিক?
  1. প্রাথমিক সাক্ষ্য সর্বোত্তম প্রমাণ
  2. মাধ্যমিক সাক্ষ্য কখনই গ্রহণযোগ্য নয়
  3. মাধ্যমিক সাক্ষ্য সবসময় অগ্রাধিকার পায়
  4. দলিলের বিষয়বস্তু শুধুমাত্র মৌখিক সাক্ষ্যে প্রমাণযোগ্য
সঠিক উত্তর:
প্রাথমিক সাক্ষ্য সর্বোত্তম প্রমাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাথমিক সাক্ষ্য সর্বোত্তম প্রমাণ
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারাসমূহ (বিশেষত ৬১–৬৫) অনুযায়ী,
যদি কোনো দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করতে হয়, তা প্রধানত প্রাথমিক সাক্ষ্য (Primary Evidence) দ্বারা করতে হবে।
ধারা ৬১ বলে:
- “The contents of documents may be proved either by primary or by secondary evidence.”
কিন্তু এর পরের ধারা ৬২ স্পষ্ট করে দেয়:
- Primary Evidence অর্থাৎ মূল দলিল বা তার আসল কপি – এটিই হলো সর্বোত্তম প্রমাণ।

- সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬১ (Section 61: Proof of contents of documents) এবং সংশ্লিষ্ট ধারা ৬২ (Primary evidence) ও ধারা ৬৩-৬৫ (Secondary evidence) এর বিধান অনুযায়ী, দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণের ক্ষেত্রে প্রাথমিক সাক্ষ্য (primary evidence) এবং মাধ্যমিক সাক্ষ্য (secondary evidence) উভয়ই ব্যবহার করা যায়।
- তবে, সাক্ষ্য আইনের মূল নীতি হলো "সর্বোত্তম প্রমাণের নিয়ম" (Best Evidence Rule), যার অর্থ হলো যে কোনো ঘটনা বা দলিল প্রমাণের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও মূল উৎস থেকে প্রাপ্ত সাক্ষ্যই অগ্রাধিকার পাবে। এই ক্ষেত্রে প্রাথমিক সাক্ষ্যকে সর্বোত্তম প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

- সাক্ষ্য আইনের নিয়ম অনুসারে, প্রাথমিক সাক্ষ্য সর্বোত্তম প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এটি আদালতে প্রাধান্য পায়।
- তাই সঠিক উত্তর হলো ক) প্রাথমিক সাক্ষ্য সর্বোত্তম প্রমাণ।
২৯.
নিম্নের কোনটি সাক্ষ্য আইনের ৫৮ ধারার উদ্দেশ্য?
  1. মামলার সময় বাড়ানো
  2. সবকিছুই প্রমাণ করতে বাধ্য করা
  3. অপ্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপন এড়ানো
  4. একতরফা স্বীকারোক্তিকে অনুমান হিসেবে ধরা
সঠিক উত্তর:
অপ্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপন এড়ানো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপ্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপন এড়ানো
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ৫৮ ধারা-এর মূল উদ্দেশ্য হলো মামলার কার্যক্রম সহজ ও দ্রুততর করা। এ ধারা অনুযায়ী:
- যখন পক্ষগণ বা তাদের প্রতিনিধি কোনো ঘটনা শুনানির সময় মৌখিকভাবে বা শুনানির পূর্বে লিখিতভাবে স্বীকার করে, তখন সেই ঘটনা আলাদাভাবে প্রমাণ করার প্রয়োজন হয় না।
উদাহরণ: যদি বিবাদী মামলার শুনানিতে মৌখিকভাবে বা লিখিত জবাবে কোনো দাবি স্বীকার করে, তাহলে বাদীকে তা প্রমাণ করতে হবে না।
- এ ধারা অপ্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন এড়িয়ে মামলার প্রক্রিয়াকে সহজ করে।
- আদালতের সময় ও পক্ষগুলোর অর্থব্যয় কমাতে সাহায্য করে।
- যদিও স্বীকৃত ঘটনা সাধারণত প্রমাণের প্রয়োজন হয় না, তবুও আদালত প্রয়োজনে অতিরিক্ত প্রমাণ চাইতে পারে।

ধারা ৫৮-এর উদ্দেশ্য হলো—
"যেসব ঘটনা স্বীকৃত (admitted), সেগুলোর জন্য আলাদা করে প্রমাণ না নিয়ে, মামলার মূল বিতর্কিত বিষয়গুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।"

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৫৮ ধারার বিধান: স্বীকৃত ঘটনাসমূহ প্রমাণ করার আবশ্যকতা নেই:-
মোকদ্দমায় পক্ষগণ বা তার প্রতিনিধিগণ যদি কোন বিষয় মামলার শুনানির সময়কালে স্বীকার করতে সম্মত হয় অথবা শুনানির পূর্বে যদি তারা এটা নিজ হস্তে লিখে স্বীকার করতে সম্মত হয় অথবা উক্ত সময়ে কার্যকর কোন নিয়ম বা পক্ষগণের কোন আরজি-জবাব ইত্যাদি অনুসারে এটা পক্ষগণের দ্বারা স্বীকৃত বলে বিবেচিত হয়, তবে সে ঘটনা প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই।
তবে, নিজের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা অনুযায়ী আদালত কোন স্বীকৃত ঘটনার এবং অন্যবিধ প্রমাণ চাইতে পারেন।
--------------
⇒ The Evidence Act, 1872 Section-58. Facts admitted need not be proved:
- No fact need be proved in any proceeding which the parties thereto or their agents agree to admit at the hearing, or which, before the hearing, they agree to admit by any writing under their hands, or which by any rule or pleading in force at the time they are deemed to have admitted by their pleadings:
Provided that the Court may, in its discretion, require the facts admitted to be proved otherwise than by such admissions.
৩০.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬৫খ(২) অনুযায়ী, যদি কম্পিউটার কিছু সময়ের জন্য সঠিকভাবে কাজ না করে, তবে কী শর্তে ডিজিটাল রেকর্ড গ্রহণযোগ্য হবে?
  1. যদি কম্পিউটারটি নতুন হয়
  2. যদি মূল দলিল উপস্থাপন করা হয়
  3. যদি তথ্যটি মৌখিকভাবে প্রমাণিত হয়
  4. যদি এটি রেকর্ডের সঠিকতাকে প্রভাবিত না করে
সঠিক উত্তর:
যদি এটি রেকর্ডের সঠিকতাকে প্রভাবিত না করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যদি এটি রেকর্ডের সঠিকতাকে প্রভাবিত না করে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৬৫খ(২)(গ) অনুসারে:
"সময়ের যে কোন অংশে কম্পিউটার সঠিকভাবে কাজ না করলেও, যদি তা ডিজিটাল রেকর্ড বা এর তথ্যের নির্ভুলতাকে প্রভাবিত না করে, তাহলে ডিজিটাল রেকর্ড গ্রহণযোগ্য হবে।"

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬৫খ(২) অনুযায়ী, কম্পিউটার আউটপুট গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে ধারা ৬৫খ(২)(গ) এ স্পষ্টভাবে বলা আছে:
"Throughout the material part of the said period, the computer was operating properly or, if not, then in respect of any period in which it was not operating properly or was out of operation during that part of the period, was not such as to affect the digital record or the accuracy of its contents."

- অর্থাৎ, যদি কম্পিউটার কিছু সময়ের জন্য সঠিকভাবে কাজ না করে বা বন্ধ থাকে, তবুও ডিজিটাল রেকর্ড গ্রহণযোগ্য হবে, যদি সেই ত্রুটি বা বন্ধ থাকার সময়টি ডিজিটাল রেকর্ড বা এর বিষয়বস্তুর সঠিকতাকে প্রভাবিত না করে।
৩১.
যদি মূল দলিলটি একটি সরকারি দলিল হয়, তবে কোন ধরনের গৌণ সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য?
  1. মৌখিক বিবরণ
  2. প্রত্যয়িত অনুলিপি
  3. যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তৈরি অনুলিপি
  4. মূলের সাথে তুলনা না করা অনুলিপি
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়িত অনুলিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়িত অনুলিপি
ব্যাখ্যা
⇒ যখন মূল দলিলটি একটি সরকারি দলিল (public document) হয়, তখন প্রত্যয়িত অনুলিপি (certified copy) একটি গ্রহণযোগ্য গৌণ সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
- এটা ধারা 65 এর বিধান অনুযায়ী, যেখানে বলা হয়েছে যে, যখন কোনো দলিল একটি সরকারি দলিল হয়, তখন সেই দলিলের প্রত্যয়িত (certified) কপি আদালতে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে। সরকারি দলিলের ক্ষেত্রে অন্য কোনো ধরনের গৌণ সাক্ষ্য, যেমন মৌখিক বিবরণ, যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তৈরি কপি বা মূলের সাথে তুলনা না করা অনুলিপি গ্রহণযোগ্য নয়।

- সরকারি দলিলের ক্ষেত্রেও ফটোকপি বা যান্ত্রিক কপি যদি প্রত্যয়িত না হয়, তবে তা আইনত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা 65(e) অনুযায়ী, গৌণ সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত দেওয়া আছে। এর মধ্যে একটি শর্ত হলো:
- "When the original is a public document within the meaning of section 74."
এবং এর পরে উল্লেখ আছে:
- "In case (e) or (f), a certified copy of the document, but no other kind of secondary evidence, is admissible."

⇒ অর্থাৎ, যদি মূল দলিলটি একটি সরকারি দলিল (public document) হয়, যেমন ধারা 74-এ সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, তবে শুধুমাত্র প্রত্যয়িত অনুলিপি (certified copy) গৌণ সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য। অন্য কোনো ধরনের গৌণ সাক্ষ্য (যেমন মৌখিক বিবরণ বা অন্যান্য অনুলিপি) এই ক্ষেত্রে গ্রহণ করা যাবে না।
৩২.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৭৩খ(২) অনুযায়ী, জৈবিক নমুনা (যেমন ডিএনএ) তুলনার জন্য আদালত কী নির্দেশ দিতে পারে?
  1. মৌখিক সাক্ষ্য গ্রহণ করতে
  2. নমুনাটি আদালতে জমা দিতে
  3. নমুনার ফটোকপি জমা দিতে
  4. সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থিত হতে
সঠিক উত্তর:
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থিত হতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থিত হতে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৭৩খ(২) অনুযায়ী, যদি কোনো জৈবিক নমুনার সাথে সম্পর্কিত পরিচয়ের দাবি করা হয়, তাহলে আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিতে পারে, যাতে নমুনাটি তুলনা করা যেতে পারে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৭৩খ(২) অনুযায়ী, জৈবিক নমুনা (যেমন রক্ত, বীর্য, চুল, ডিএনএ ইত্যাদি) তুলনার বিষয়ে বলা আছে:
"If there is any claim that the sample of blood, semen, hair, DNA sample, any other biological substance, limbs or any part of limb, finger impression, palm impression, iris impression, foot impression belongs to or is created by any person, the Court may direct that person to be present in Court for the purpose of enabling the Court to make that comparison."

অর্থাৎ, যদি দাবি করা হয় যে কোনো জৈবিক নমুনা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বা তার দ্বারা সৃষ্ট, তবে আদালত সেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিতে পারে, যাতে তুলনা করা সম্ভব হয়।