পরীক্ষা আর্কাইভ

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ [Archived]

পরীক্ষাউপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ [Archived]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন২৪
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৩ বিষয়: সাধারণ জ্ঞান - ১ টপিক: ১. বাংলাদেশ বিষয়াবলি ২. ভূগোল
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ [Archived]

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ [Archived] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৪ প্রশ্ন

.
ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরের কত ডিগ্রি অক্ষাংশ ‘গর্জনশীল চল্লিশা’ নামে পরিচিত?
  1. ৪০°-৪৫° উত্তর
  2. ৪০°-৪৬° উত্তর
  3. ৪০°-৪৭° দক্ষিণ
  4. ৪০°-৪৯° দক্ষিণ
ব্যাখ্যা

গর্জনশীল চল্লিশা:
- দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগের পরিমাণ বেশি।
- তাই এখানে পশ্চিমা বায়ু প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়।
- ৪০° - ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত অঞ্চলে পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ সর্বাপেক্ষা বেশি থাকে বলে এ অঞ্চলকে গর্জনশীল চল্লিশ বা গর্জনশীল চল্লিশা বলে।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

.
কোনটি পাললিক শিলা?
  1. ডলোমাইট
  2. মার্বেল
  3. কোয়ার্টজাইট
  4. গ্রানাইট
ব্যাখ্যা
পাললিক শিলা:
- পাললিক শিলা কথাটি এসেছে 'পলি' বা 'পলল' থেকে।
- পাললিক শিলা হলো এক প্রকারের শিলা যা ছোট ছোট কণা জমে বা জমা করে এবং পরবর্তীকালে পৃথিবীর পৃষ্ঠে সমুদ্রের তলে বা জলের অন্যান্য দেহের খনিজ বা জৈব কণার সিমেন্টেশন দ্বারা গঠিত হয়।
- কংগ্লোমারেট, ব্রেকসিয়া, গ্রেওয়েক, বেলেপাথর, কাদাপাথর, কোয়ার্টজ, ডলোমাইট, ক্যালসাইট, জিপসাম, কয়লা, চুনাপাথর ইত্যাদি পাললিক শিলার উদাহরণ।

⇒ পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্য:
১। পাললিক শিলা স্ফটিকাকার নয়;
২। পাললিক শিলায় জীবাশ্ম পাওয়া যায়;
৩। পাললিক শিলা স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে সৃষ্টি হয়;
৪। পাললিকা শিলা হালকা, ভঙ্গুর ও তরঙ্গ বিশিষ্ট।

অন্যদিকে -
- আগ্নেয় শিলা: গ্রানাইট।
- রূপান্তরিত শিলা: মার্বেল, কোয়ার্টজাইট।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
রাখাইনদের বসবাস কোথায়?
  1. বরিশাল
  2. দিনাজপুর
  3. শেরপুর
  4. পটুয়াখালী
ব্যাখ্যা
রাখাইন:
- রাখাইন বাংলাদেশে বসবাসরত একটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী।
- আরাকান থেকে বাংলাদেশে এসে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে বসতি স্থাপন করে। বর্তমানে রাখাইন সম্প্রদায়ের বসবাস মূলত কক্সবাজার, পটুয়াখালি ও বরগুনা জেলায়। এ ছাড়া রাঙামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায়ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কিছু রখাইন বসতি দেখা যায়। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়ও রাখাইন সম্প্রদায়ের বসতি রয়েছে।

⇒ রাখাইনরা মূলত কৃষিনির্ভর।
- রাখাইনদের রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি।
- তাদের ভাষা আঞ্চলিকভাবে ‘র‌্যামরা’ ও ‘মারৌও’ নামে পরিচিত।

⇒ রাখাইনরা রক্ষণশীল জাতি।
- তাদের রয়েছে নিজস্ব আচার-প্রথা।
⇒ রাখাইদের সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসবগুলো হচ্ছে: প্রবারণা পূর্ণিমা, মাঘী পূর্ণিমা, জলকেলি (লেই খেখু), নববর্ষ প্রভৃতি।
- রাখাইন উপজাতির বর্ষবরণ উৎসবের নাম সান্দ্রে। প্রতি বছর রাখাইন সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব 'সাংগ্রাং পোয়ে' বা 'জলকেলি উৎসব'। উদযাপন করে থাকে।

উৎস: i) ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ।
ii) বাংলাপিডিয়া।
.
‘লা-নিনা’ কোন ভাষার শব্দ এবং এর দ্বারা কী বোঝায়?
  1. মালয়েশীয় : বিপৎসংকেত
  2. স্প্যানিশ : বৃষ্টিপাত ও বন্যা
  3. লাতিন : শৈত্যপ্রবাহ
  4. গ্রিক : খরা ও ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যা
‘লা-নিনা’ স্প্যানিশ শব্দ এবং এর দ্বারা বোঝায় বৃষ্টিপাত ও বন্যা।

লা নিনা:

- লা-নিনা (La Lina) একটি স্প্যানিশ শব্দ।
- এর আক্ষরিক অর্থ হলো ছোট মেয়ে।
- ‘লা-নিনা’ শীতল প্রকৃতির জলবায়ুর একটি ধরণ।
- লা-নিনা’র সময় বেশি বৃষ্টি আর বেশি বন্যা দেখা যায় এবং তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায়।
- দীর্ঘকালীন গড় তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে বলা হয় লা-নিনা।
- লা-নিনার স্থায়ীত্ব ৩ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
- তিন থেকে পাঁচ বছর পরপর এই চক্র ফিরে আসতে পারে।
- সাধারণত এল নিনো শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লা-নিনার গঠন শুরু হয়।
- দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলের জেলেরা প্রায় ১০০ বছর আগে সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে এটির নামকরণ করে।

উৎস: i) National Oceanic and Atmospheric Administration.
ii) BBC.
.
‘মোদের গরব’ ভাস্কর্যটি কোথায় স্থাপিত হয়?
  1. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে
  2. শাহবাগে
  3. গাজীপুরের চৌরাস্তায়
  4. বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে
ব্যাখ্যা
মোদের গরব:
- মোদের গরব বাংলা একাডেমি ভবনের সামনে অবস্থিত একটি ভাস্কর্য।
- ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষা আন্দোলনের সময় বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার দাবি জানানো হয়।
- এই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহীদদের সম্মানে এই ভাস্কর্যটি তৈরী করা হয়।
- মোদের গরব ভাস্কর্যটির নকশা ও নির্মাণ করেছেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান ভাস্কর শিল্পী অখিল পাল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
বাংলাদেশের কতটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে? [জুন, ২০২৫]
  1. ১১টি
  2. ১২টি
  3. ১৩টি
  4. ১৪টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা:
- অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে।
- এর ফলে দেশের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কোনো কোনো প্রতিবেশের উৎপাদনশীলতাও কমে গিয়েছে।
- দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA/ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

⇒ এ-পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
- এলাকাগুলো হলো: সুন্দরবন, কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকত, সেন্টমাটিন দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, মারজাত বাওড়, গুলশান-বারিধারা লেক, বুড়িগঙ্গা নদী, তুরাগ নদী, বালু নদী, শীতলক্ষ্যা নদী, জাফলং-ডাউকি নদী।

উৎস: i) পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।
.
ভূ-পৃষ্ঠের যে কোনো দুটি প্রতিপাদ স্থানের সময়ের পার্থক্য কত?
  1. ৪ ঘণ্টা
  2. ৬ ঘণ্টা
  3. ৮ ঘণ্টা
  4. ১২ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
প্রতিপাদ স্থান (Antipode):
- পৃথিবী পৃষ্ঠের কোনো বিন্দুর ঠিক বিপরীত দিকের বিন্দুকে সেই স্থানের প্রতিপাদ স্থান বলে।
- যেমন ঢাকার প্রতিপাদ স্থান দক্ষিণ আমেরিকার অন্তর্গত চিলির নিকট প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- প্রতিপাদ স্থান সম্পূর্ণরূপে একে অন্যের বিপরীতে অবস্থান করে।
- প্রতিপাদ স্থান নির্ণয়ের জন্য পৃথিবী পৃষ্ঠের কোনো বিন্দু থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে একটি কল্পিত রেখা পৃথিবীর ঠিক বিপরীত দিকে টানলে ঐ কল্পিত রেখা যে বিন্দুতে পৃথিবী পৃষ্ঠের বিপরীত পাশে মিলিত হয় সেই স্থানই ঐ বিন্দুর প্রতিপাদ স্থান।
- প্রতিপাদ স্থানদ্বয়ের অক্ষাংশ এক, তবে এরা পরস্পর বিপরীত গোলার্ধে অবস্থান করে।
- প্রতিপাদ স্থান দুইটির অক্ষাংশের মান এক হলেও এদের দ্রাঘিমার পার্থক্য ১৮০°।
- ভূ-পৃষ্ঠের যে কোনো দুটি প্রতিপাদ স্থানের সময়ের পার্থক্য ১২ ঘণ্টা। 

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) প্রথম আলো।
.
কত দিনে চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে নিজ কক্ষপথে একবার ঘুরে আসে?
  1. ২১ দিনে
  2. ২৪ দিনে
  3. ২৭ দিনে
  4. ২৯ দিনে
ব্যাখ্যা
চাঁদ (Moon):
- পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব ৩,৮১,৫০০ কিলোমিটার।
- চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে নিজ কক্ষপথে ২৯ দিনে একবার আর্বতন করে।
- চাঁদের ব্যাস ৩,৪৭৫ কিলোমিটার।
- ১৯৬৯ সালের ২১ শে জুলাই সর্বপ্রথম মানুষ চাঁদে অবতরণ করেন।
- চাঁদে পানি, বায়ু, উদ্ভিদ বা প্রাণী নেই। চাঁদে বহু সমতলভূমি, পাহাড় পর্বত ও বৃহদাকার গর্তের উপরিভাগ দেখা যায়। চাঁদের সবচেয়ে বড় গহ্বরটির নাম ক্লেভিউস।
- চাঁদের আকাশ দিনে-রাতে একই রকম কালো। চাঁদের নিজস্ব আলো নেই।
- সূর্যের আলোতে চাঁদ আলোকিত হয়।
- চাঁদের যে পৃষ্ঠে সূর্যালোক পড়ে সে পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ১০০° সেলসিয়াস এর ওপরে এবং অন্ধকার পৃষ্ঠের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ১৫০° সেলসিয়াসের নীচে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
.
‘নর্থ বেঙ্গল পেপার মিলস লিমিটেড’ কোথায় অবস্থিত?
  1. আক্কেলপুর, জয়পুরহাট
  2. তানোর, রাজশাহী
  3. ঈশ্বরদী, পাবনা
  4. শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ
ব্যাখ্যা
নর্থবেঙ্গল পেপার মিল:
- পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের দিয়ার বাঘইল মৌজায় অবস্থিত নর্থবেঙ্গল পেপার মিল ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- উৎপাদন শুরু করে ১৯৬৯ সালে।
- ক্রমাগত লোকসানের জন্যে ৩০ ডিসেম্বর ২০০২ এটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
- এই পেপার মিলে কাঁচামাল হিসেবে উত্তরবঙ্গের চিনিকল সমূহ হতে প্রাপ্ত আখের ছোবড়া ব্যবহার করা হতো।
- কর্ণফুলী পেপার মিলে বাঁশ এবং
- খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলে সুন্দরবনের গেওয়া কাঠ ব্যবহৃত হয়।
- খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলও বর্তমানে বন্ধ।

উৎস: বিসিআইসি ওয়েবসাইট।
১০.
নোয়াখালী ও ফেনী নদীর নিম্নভাগ থেকে কক্সবাজার পযর্ন্ত বিস্তৃত সমভূমি কোন ধরনের সমভূমি?
  1. ব-দ্বীপ সমভূমি
  2. পলল গঠিত সমভূমি
  3. উপকূলীয় সমভূমি
  4. স্রোতজ সমভূমি
ব্যাখ্যা
সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি বাংলাদেশকে একটি উর্বর কৃষিপ্রধান দেশে পরিণত করেছে।
- পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ অসংখ্যা ছোট-বড় নদী সারা দেশে জালের ন্যায় ছড়িয়ে আছে।
- এসব নদী সমতল ভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রায় প্রতি বছর বন্যার সৃষ্টি হয়।
- এভাবে বন্যার সঙ্গে বাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে দেশের বিস্তীর্ণ প্লাবন সমভূমি সৃষ্টি হয়েছে।

⇒ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়:
• পাদদেশীয় সমভূমি: হিমালয় পর্বত হতে বাহিত পলল দ্বারা গঠিত রংপুর ও দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি।
• বন্যাপ্রবণ সমভূমি: ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও সিলেট জেলার বন্যাপ্রবণ সমভূমি।
• স্রোতজ সমভূমি: খুলনা, পটুয়াখালী এবং বরগুনা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে স্রোতজ সমভূমি। এ অঞ্চলের নদীতে প্লাবন কম হয়, তবে নিয়মিত জোয়ার-ভাটা হয়।
উপকূলীয় সমভূমি: নোয়াখালী ও ফেনী নদীর নিম্নভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত চট্টগ্রামের উপকূলীয় সমভূমি। এখানকার পতেঙ্গা সৈকত, কক্সবাজার সৈকত এবং টেকনাফ সৈকত পর্যটনের জন্য বিশেষ প্রসিদ্ধ।
• ব-দ্বীপ সমভূমি: ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা এবং ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে ব-দ্বীপ সমভূমি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
কী কারণে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল হয়?
  1. সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত হলে
  2. পরপর দুইটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে
  3. কমিশনে প্রেরিতব্য কোন তথ্য পরপর তিন বছর প্রেরণ করতে ব্যর্থ হলে
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল:
১। কোন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নিম্নোক্ত কারণে বাতিল হবে, যথা:
- দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কমিটি কর্তৃক দলকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলে কিংবা নিবন্ধন বাতিলের জন্য দলের প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক বা মহাসচিবদের সমপর্যায়ের পদাধিকারী কর্তৃক দলীয় সিদ্ধান্তের কার্যবিবরণীসহ কমিশন বরাবর আবেদন করা হলে;
- নিবন্ধিত কোন রাজনৈতিক দল সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত হলে;
- এই আইন ও বিধিমালার অধীন কমিশনে প্রেরিতব্য কোন তথ্য পরপর তিন বছর প্রেরণ করতে ব্যর্থ হলে;
- রাজনৈতিক দলটি পরপর দুইটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে;

২। কমিশন নিবন্ধন বাতিলের পূর্বে নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে শুনানীর সুযোগ প্রদান করবেন।
৩। বিলুপ্ত ঘোষিত নিবন্ধিত কোন রাজনৈতিক দলের নাম অনুযায়ী অপর কোন দলকে নিবন্ধিত করা হবে না।
৪। বিলুপ্ত ও বাতিলকৃত নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হবে।

উৎস: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
১২.
'রেমা–কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. কক্সবাজার
  2. গাজীপুর
  3. মুন্সীগঞ্জ
  4. হবিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
রেমা–কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য:
- রেমা–কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত।
- এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বণ্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং জীব ও উদ্ভিদবৈচিত্র্যে দেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ বনাঞ্চল।
- এটি মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার খুব কাছে এবং ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত সংলগ্ন।

⇒ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক পাহাড়ি বনাঞ্চল রেমা-কালেঙ্গা।
- এটি সুন্দরবনের পর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বনভূমি।
- ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্ত সংলগ্ন এ অভয়ারণ্যের একদিকে ভারতীয় সীমান্ত ও অন্য তিন দিকে বিস্তীর্ণ চা বাগান ঘেরা।
- রেমা–কালেঙ্গা অভয়ারণ্য ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে এটির আরো সম্প্রসারণ করা হয়।
- বর্তমানে এই অভয়ারণ্যের আয়তন প্রায় ১৭৯৫.৫৪ হেক্টর।
- ব্যবস্থাপনার কারণে বন বিভাগ র্কতৃক এ বনাঞ্চলকে রেমা, কালেঙ্গা, ছনবাড়ি ও রশিদপুর—চারটি বিটে ভাগ করা হয়েছে।
- বিস্তীর্ণ এ অঞ্চলটি যেহেতু প্রাকৃতিক বনাঞ্চল, এজন্য বনের দেখভালের জন্য রয়েছে ১১টি ইউনিট ও ৭টি ক্যাম্প।

⇒ বর্তমানে এই বনে ৩৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৬৭ প্রজাতির পাখি, ৭ প্রজাতির উভচর, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ ও ৬৩৮ প্রজাতির গাছপালা-লতাগুল্ম পাওয়া যায়।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
১৩.
বিখ্যাত গিরিখাত গ্রান্ড ক্যানিয়ন কোন মালভূমিতে অবস্থিত?
  1. কলোরাডো মালভূমি
  2. তিব্বত মালভূমি
  3. দাক্ষিণাত্য মালভূমি
  4. আল্পাইন মালভূমি
ব্যাখ্যা
কলোরাডো মালভূমি:
- কলোরাডো মালভূমি উত্তর আমেরিকাঞ্চলে অবস্থিত।
- এটি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের চারটি রাজ্য কলোরাডো, নিউ মেক্সিকো, ইউটা এবং অ্যারিজোনাতে বিস্তৃত।
- এই মালভূমিটি অত্যন্ত ঐতিহাসিক এবং ভূগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে বহু জাতীয় উদ্যান, যেমন গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন, আর্চস, ক্যাটেড্রাল ভ্যালি এবং মেসা ভার্ডে অবস্থিত।
- এটি পাদদেশীয় মালভূমি।
- কলোরাডো মালভূমিতে সর্বাপেক্ষা দীর্ঘ ও গভীর গিরিখাতটির নাম গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন।

⇒ গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন:
- বিখ্যাত গিরিখাত গ্রান্ড ক্যানিয়ন উত্তর আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- গ্রান্ড ক্যানিয়ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিম অ্যারিজোনার কলোরাডো উচ্চ মালভূমি অঞ্চলে অবস্থিত।
- এই গিরিখাতের মধ্য দিয়ে কলোরাডো নদী বয়ে গেছে।
- এটি এর চমৎকার আকার এবং রঙের জন্য বিখ্যাত।
- গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন মূলত অনুভূমিক স্তরযুক্ত শিলা এবং লাভা প্রবাহ নিয়ে গঠিত।
- গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে অনেক উপনদীর পাশের গিরিখাত এবং পার্শ্ববর্তী মালভূমিও রয়েছে।

উৎস: Britannica.
১৪.
সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্কে কত সালের মধ্যে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত লক্ষ্য স্থির করা হয়?
  1. ২০২৬ সাল
  2. ২০৩০ সাল
  3. ২০৩৫ সাল
  4. ২০৪০ সাল
ব্যাখ্যা
সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক:
- ১৪ মার্চ - ১৮ মার্চ ২০১৫ তারিখে জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক: ২০১৫-৩০ গৃহীত হয়।
- এই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য এবং চারটি অগ্রাধিকারের রূপরেখা স্থির করা হয়।
- দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং যথাযথ বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই এ সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য।

⇒ সাতটি লক্ষ্য:
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী দুর্যোগে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সাথে সরাসরি দুর্যোগের অর্থনৈতিক ক্ষতি হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে গুরুতর অবকাঠামোর দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুবিধাগুলির মধ্যে মৌলিক পরিষেবাগুলির ব্যাঘাতকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০২০ সালের মধ্যে জাতীয় এবং স্থানীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কৌশলসহ দেশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে এই কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য তাদের জাতীয় কর্মের পরিপূরক করার জন্য পর্যাপ্ত এবং টেকসই সহায়তার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বহু-বিপদ প্রারম্ভিক সতর্কতা ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ ঝুঁকির তথ্য এবং মূল্যায়নের প্রাপ্যতা এবং অ্যাক্সেস উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।

উৎস: UNDRR ওয়েবসাইট।
১৫.
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেট লেক (Great Lakes) বলতে কয়টি লেক বুঝানো হয়?
  1. ৩টি
  2. ৭টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
গ্রেট লেকস (Great Lakes):
- গ্রেট লেক উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত।
- এটি মিঠা পানির হ্রদ।
- এটি সেন্ট লরেন্স নদীর মাধ্যমে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত।
- গ্রেট লেকের আয়তন প্রায় ৯৪,২৫০ বর্গ মাইল (২৪৪,১০৬ বর্গ কিলোমিটার)।
- এটি কানাডা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমানায় বিস্তৃত।

⇒ যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেট লেক (Great Lakes) বলতে ৫টি লেক বুঝানো হয়।
- ৫টি লেক বা হ্রদ হলো: সুপিরিয়র, মিশিগান, হুরন, এরি এবং অন্টারিও।

উৎস: Britannica.
১৬.
বন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বাংলাদেশের বনভূমির পরিমাণ মোট আয়তনের কত শতাংশ? [জুন, ২০২৫]
  1. ১৩.৩৮%
  2. ১৫.৩৮%
  3. ১৩.৫৮%
  4. ১৫.৫৮%
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বনজ সম্পদ:
- বনভূমি থেকে যে সকল সম্পদ পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।
- যে কোনো দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের আয়তন ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কি.মি. এবং সরকার নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ প্রায় ২৩ লক্ষ হেক্টর যা দেশের মোট আয়তনের প্রায় ১৫.৫৮%।
- বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রত বনভূমির পামিাণ প্রায় ১৬ লক্ষ হেক্টর যা দেশের আয়তনের প্রায় ১০.৭৪।
- বাংলাদেশের বৃক্ষ আচ্ছাদিত ভূমির পারিমাণ দেশের মোট আয়তনের ২২.৩৭%।
- ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ুর তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন ধরনের বনাঞ্চল রয়েছে।
- যেমন: পাহাড়ী বন, প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বন, সৃজিত উপকূলীয় বন, শালবন, জলাভূমির বন ইত্যাদি।

উৎস: i) বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট। [link]
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৭.
নিম্নের কোনটি খরিফ মৌসুমের ফসল?
  1. গম
  2. মসুর ডাল
  3. বোরো ধান
  4. আউশ ধান
ব্যাখ্যা
কৃষিক্ষেত্রে মৌসুম:
- ফসল উৎপাদনের জন্য সারাবছরকে দুইটি মৌসুমে ভাগ করা যায়। যথা:

i) রবি মৌসুম:
- শীতকালীন শস্যকে বলে রবি শস্য। কার্তিক থেকে ফাল্গুন হচ্ছে রবি মৌসুম। অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে রবি শস্য বপন করা হয়। কম তাপমাত্রায় বপন করা হয়। ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে ফসল তোলা হয়।
- বোরো ধান, গম, মসুর ডাল, যব, সরিষা, পেঁয়াজ, মটরশুঁটি ইত্যাদি ফসলকে এ মৌসুমের প্রধান শস্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাজর, লাউ, শিম, টমেটো, আলু ইত্যাদিও এ মৌসুমে চাষ করা হয়।

ii) খরিফ মৌসুম:
- গ্রীষ্মকালীন শস্যকে বলে খরিফ শস্য। চৈত্র থেকে আষাঢ় এবং শ্রাবণ থেকে আশ্বিন হলো খরিফ মৌসুম। খরিফ মৌসুমকে আবার দু ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন- খরিফ-১ ও খরিফ-২ মৌসুম।

⇒ খরিফ-১ মৌসুম:
- যে মৌসুমের সময় সীমা এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত বিস্তৃত থেকে তাকে খরিপ-১ মৌসুম বা গ্রীষ্মকালীন মৌসুম বলে। এ মৌসুমে উৎপন্ন ফসলগুলোকে খরিফ-১ শস্য বলে।
- যেমন- আউশ ধান, পাট, কাউন, ভুট্টা, তিল, মিষ্টি কুমড়া, কচু ও ঝিঙ্গা ইত্যাদি ।

⇒ খরিফ-২ মৌসুম:
- যে মৌসুমের সময়সীমা জুলাই মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে তাকে খরিফ-২ মৌসুম বা বর্ষা মৌসুম বলে।
- যেমন- আমন ধান, ভুট্টা, মাষকলাই, বর্ষাকালীন সবজি ইত্যাদি ।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।
১৮.
বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় যুক্ত হবে -
  1. ১২ নভেম্বর, ২০২৬
  2. ২৪ নভেম্বর, ২০২৬
  3. ১২ ডিসেম্বর, ২০২৬
  4. ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৬
ব্যাখ্যা
LDC:
- LDC-এর পূর্ণরূপ: Least Developed Countries বা স্বল্পোন্নত দেশ।
- জাতিসংঘের মতে, এই দেশগুলো আর্থ-সামাজিক বিকাশের সর্বনিম্ন সূচক প্রদর্শন করে।
- বর্তমানে বিশ্বে ৪৪টি স্বল্পোন্নত দেশ রয়েছে, এর মধ্যে এশিয়া মহাদেশের ৮টি দেশ হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ এ তালিকা থেকে বেরিয়ে যাবে।
- এলডিসি থেকে বের হলে বাংলাদেশের কিছু বাণিজ্য ও অন্যান্য সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
- LDC থেকে মুক্ত হলে বাংলাদেশ ৩টি সুবিধা হারাবে।
- বাংলাদেশ যদি স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে যায়, তাহলে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শুল্কছাড় সুবিধা কমবে, বিদেশি ঋণের সুদের হার বাড়বে এবং দেশি শিল্পকারখানা তীব্র প্রতিযোগিতায় পড়ে অনেকগুলো বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
- কিছু দেশ ও অঞ্চলে বাংলাদেশের বাণিজ্যে শুল্কছাড় সুবিধা ২০২৯ সাল পর্যন্ত থাকবে, আর ওষুধ উৎপাদনে মেধাস্বত্বে ছাড় সুবিধা থাকবে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) UN ওয়েবসাইট। [link]
১৯.
পিনাটুবো পর্বত কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ফিলিপাইনে
  2. জাপানে
  3. জার্মানিতে
  4. ইতালিতে
ব্যাখ্যা
পিনাটুবো পর্বত:
- পিনাটুবো পর্বত (Mount Pinatubo) ফিলিপাইনের লুজন দ্বীপের পশ্চিম অংশে অবস্থিত।
- এটি একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি।
- ১৯৯১ সালে এর সর্বশেষ বড় অগ্নুৎপাত ঘটে।

উল্লেখ্য,
- পিনাটুবো পর্বতের অগ্নুৎপাতের ফলে ফিলিপাইনের আশপাশের এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এবং প্রায় ১০০,০০০ মানুষ সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল।
- এটি একটি অন্যতম প্রাকৃতিক বিপর্যয়, যা বৈশ্বিক জলবায়ুতে কিছু সময়ের জন্য ঠান্ডা প্রভাব সৃষ্টি করে।

উৎস: Britannica.
২০.
সিকিমের পাবর্ত্য অঞ্চল থেকে কোন নদীর উৎপত্তি হয়েছে?
  1. যমুনা নদী
  2. তিস্তা নদী
  3. কর্ণফুলী নদী
  4. মহানন্দা নদী
ব্যাখ্যা
তিস্তা (Teesta):
- ভারতের সিকিমের পাবর্ত্য অঞ্চলে তিস্তা নদী উৎপত্তি হয়েছে।
- এরপর অগ্রসর হয়ে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার ডিমলা দিয়ে প্রবেশ করেছে।
- তিস্তা নদীর বর্তমান দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭৭ কিলেমিটার এবং চওড়া ৩০০ থেকে ৫৫০ মিটার।
- এ নদীতে তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ করা হয়েছে।
- যা এ অঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

⇒ বিভিন্ন নদীর উৎপত্তিস্থল:
- পদ্মা নদীর উৎপত্তিস্থল: গঙ্গা নামে হিমালয় পর্বতের গাঙ্গোত্রী হিমবাহ।
- মেঘনা নদীর উৎপত্তিস্থল: আসামের লুসাই পাহাড়।
- যমুনা নদীর উৎপত্তিস্থল: ব্ৰহ্মপুত্ৰ নামে কৈলাশ শৃঙ্গের মানস সরোবর হ্রদ।
- কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তিস্থল: মিজোরামের লুসাই পাহাড়।
- করতোয়া নদীর উৎপত্তিস্থল: সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল।
- সাঙ্গু নদীর উৎপত্তিস্থল: মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমানার আরাকান পাহাড়।
- হালদা নদীর উৎপত্তিস্থল: খাগড়াছড়ির বাদানাতলী পর্বতশৃঙ্গ।
- মহানন্দা নদীর উৎপত্তিস্থল: মহালড্রীম, দার্জিলিং।

উৎস: i) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১.
পৃথিবীর বৃহত্তম রেইন ফরেস্ট কয়টি দেশ জুড়ে বিস্তৃত?
  1. ৬টি
  2. ১০টি
  3. ১১টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা
আমাজন বন:
- পৃথিবীর বৃহত্তম রেইন ফরেস্ট আমাজন।
- এই বনাঞ্চল দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত।
- এটি মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘনবর্ধন বনাঞ্চল।
- এর আয়তন প্রায় ২.৬ মিলিয়ন বর্গ মাইল।
- আমাজন নদী সহ অনেক নদী বনের পাশ দিয়ে গেছে।
- আমাজন রেইনফরেস্টে পাওয়া গেছে ১৬,০০০ প্রজাতি এবং ৩৯০ বিলিয়ন বিভিন্ন রকমের গাছ যারা প্রায় ৫৫ মিলিয়ন বছর ধরে টিকে রয়েছে।
- ইওসিন যুগে এই বনের বিকাশ ঘটেছিল।
- আমাজন বনকে বলা হয় পৃথিবীর ফুসফুস।

⇒ আমাজন বন ৯টি দেশ জুড়ে বিস্তৃত।
- ৯টি দেশ: ব্রাজিল, ইকুয়েডর, ভেনিজুয়েলা, সুরিনাম, পেরু, কলম্বিয়া, বলিভিয়া, গায়ানা এবং ফ্রেঞ্চ গায়ানা।
- এর মধ্যে আমাজন বনের ৬৪% রয়েছে ব্রাজিলে।

উৎস: World Atlas.
২২.
মেজর জেনারেল কে. এম. শফিউল্লাহ মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন?
  1. ৩ নং
  2. ৭ নং
  3. ১১ নং
  4. ১ নং
ব্যাখ্যা
মেজর জেনারেল কে. এম. শফিউল্লাহ:
- কাজী মোহাম্মদ শফিউল্লাহ বীর উত্তম যিনি কে এম শফিউল্লাহ নামেও পরিচিত।
- তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত বাংলাদেশী জেনারেল, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং সাবেক সংসদ সদস্য।

উল্লেখ্য,
- দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসাবে, তার ব্যাটালিয়ন সহ, তিনি ছিলেন প্রথম বাঙালি অফিসার যিনি ১৯ মার্চ ১৯৭১ সালে বিদ্রোহ করেন এবং ৫৭ বিডিই কমান্ডার-ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ছিলেন।
- তিনি সিলেটের তেলিয়াপাড়ায় সদর দপ্তর ৩ সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হন।
- তিনি সরাসরি সক্রিয় যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং অন্তত দুটি এই ধরনের যুদ্ধে নিশ্চিত মৃত্যু থেকে রক্ষা পান।
- সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে তিনি তিনজন ব্রিগেড কমান্ডারের একজন নিযুক্ত হন।
- তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় 'এস-ফোর্স'-এর কমান্ডার ছিলেন।
- শফিউল্লাহ ১৯৭২ সালের এপ্রিল মাসে সেনাপ্রধান হন।
- ১৯৭৫ সালের জুন মাসে তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন করেন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ।

এছাড়াও,
- ১নং সেক্টর: মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর রফিকুল ইসলাম।
- ৭নং সেক্টর: মেজর নজরুল হক, সুবেদার মেজর এ রব এবং মেজর কাজী নুরুজ্জামান।
- ১১নং সেক্টর: মেজর এম আবু তাহের।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২৩.
নিম্নের কোন অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়?
  1. কিশোরগঞ্জ
  2. সুনামগঞ্জ
  3. মৌলভীবাজার
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- বন্যা বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী বন্যাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং নগর বন্যা।

⇒ আকস্মিক বন্যা:
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমী আকস্মিক বৃষ্টিপাত বা পাহাড়ি ঢলের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয়, তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তথা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ প্রভৃতি জেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
- বোরো মৌসুমে এ ধরনের বন্যা হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) The Daily Star বাংলা।
২৪.
কোনটি মৃত আগ্নেয়গিরি?
  1. জাপানের ফুজিয়ামা
  2. পোপো আগ্নেয়গিরি
  3. ইতালির ভিসুভিয়াস
  4. উল্লিখিত সবগুলোই
ব্যাখ্যা
আগ্নেয়গিরি:
- ভূ-গর্ভস্থ তাপ ও চাপের পরিবর্তনের ফলে ভূ-অভ্যন্তরস্থ উত্তপ্ত ও গলিত বিভিন্ন পদার্থ যেমন: উষ্ণ বাষ্প, গলিত শিলা, কাঁদা, ধাতু, ভষ্ম ইত্যাদি প্রবলবেগে ভূ-ত্বকের নিচের অংশে চাপ প্রয়োগ করে। এমতাবস্থায়, ভূ-ত্বকের দুর্বল স্থান বা ফাটলসমূহের ভিতর দিয়ে উক্ত পদার্থগুলো উৎক্ষিপ্ত হয়ে বহু দুর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ভূ-পৃষ্ঠের ঐ ছিদ্র পথ বা ফাটলের চারপাশে উক্ত পদার্থগুলো জমাট বেঁধে ক্রমশ উঁচু পর্বতের ন্যায় ভূমিরূপ গঠন করে। এইরূপ পর্বতকে আগ্নেয়গিরি বলা হয়।

⇒ পৃথিবীর আগ্নেয়গিরিসমূহকে প্রধানত তিনটি ভাগে বিভক্ত করা যায়।
ক. সক্রিয় আগ্নেয়গিরি (Active Volcano),
খ. সুপ্ত আগ্নেয়গিরি (Dormant Volcano) এবং
গ. মৃত আগ্নেয়গিরি (Extinct Volcano)।

• সক্রিয় আগ্নেয়গিরি:
- সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হলো সেই সব আগ্নেয়গিরি যেখান থেকে এখনও অগ্ন্যুৎপাত হয়।
- সক্রিয় আগ্নেয়গিরি দুই ধরনের।
- যেমন- যে সকল আগ্নেয়গিরি থেকে অবিরত লাভা নির্গত হয় সেগুলো অবিরাম আগ্নেয়গিরি। যেমন: ভূ- মধ্যসাগরের লিপারী দ্বীপের স্ট্রম্বলী আগ্নেয়গিরি।
- অন্যদিকে যে সকল আগ্নেয়গিরি থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর মাঝে মাঝে অগ্ন্যুৎপাত হয়, তাকে সবিরাম আগ্নেয়গিরি বলে। যেমন: ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরি।

• সুপ্ত আগ্নেয়গিরি:
- সুপ্ত আগ্নেয়গিরি সমূহ থেকে বহু বছর অগ্ন্যুৎপাত না হলেও যে কোনো সময়ে অগ্ন্যুৎপাত হবার সম্ভাবনা থাকে। যেমন: জাপানের ফুজিয়ামা।

• মৃত আগ্নেয়গিরি:
- মৃত আগ্নেয়গিরিসমূহ থেকে পুনরায় অগ্ন্যুৎপাত হবার সম্ভাবনা থাকে না।
- যেমন: পোপো আগ্নেয়গিরি।
- মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে বৃষ্টির পানি জমে হ্রদ সৃষ্টি হলে, তাকে আগ্নেয় হ্রদ (Vent) বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।