পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

পরীক্ষাপ্রাইমারি ডেইলি কুইজতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১১
সিলেবাস
বিষয়: সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ বিষয়াবলি) টপিক: বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূপ্রকৃতি (পাহাড়, নদী, সাগর ইত্যাদি), জলবায়ু ও পরিবেশ। উৎস: বাংলাপিডিয়া, জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ · তারিখ অনির্ধারিত · ১১ প্রশ্ন

.
'কপোতাক্ষ' কোন নদীর শাখানদী?
  1. যমুনা নদী
  2. গড়াই নদী
  3. ভৈরব নদী
  4. মেঘনা নদী
ব্যাখ্যা

• ভৈরব নদী:
 - ভৈরব অর্থ ভয়াবহ। একসময় গঙ্গা ও পদ্মা নদীর মূল প্রবাহ এই নদকে প্রমত্তা রূপ দিয়েছিল।
- সেই থেকেই নামটির উৎপত্তি।
- খুলনা ও যশোর শহর এই নদীর তীরে অবস্থিত।
- ভৈরব নদী যশোর-খুলনা এলাকার দীর্ঘতম নদী। 
- মালদহের যেস্থানে শ্রুতকীর্তি গঙ্গায় পড়েছে, তারই অপর পাড়ে ভৈরবের উৎপত্তি।
- ভৈরব নদের দৈর্ঘ্য ২৫০ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৬০ মিটার এবং এর প্রকৃতি সর্পিলাকার।

- চলার পথে ভৈরব বহু নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। 
- নদীটির উল্লেখযোগ্য দুটি শাখা হচ্ছে ইছামতি ও কপোতাক্ষ।
- কালিগংগার পর বৈখালী পর্যন্ত কালিন্দী নদী নামে পরিচিত। 
- তারপর মোহনার নিকট এই নদী রায়মংগল নামে পরিচিত। 
- পূর্বে রায়মংগল এবং পশ্চিমে হাড়িয়াভাংগা মোহনা দিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়েছে। 

- এই নদের তীরে খুলনা, যশোর শহর ছাড়াও রয়েছে মুজিবনগর, মেহেরপুর, গাড়াবাড়িয়া, চুয়াডাঙা, বড়বাজার, কোটচাঁদপুর, চৌগাছা, দৌলতপুর ও বাগেরহাট। 
- সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে নদটি পবিত্র। 

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও কালের কণ্ঠ।  (Link1) (Link2) (Link3)

.
নিচের কোন পাহাড় টারশিয়ারি যুগের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. তাজিং ডং
  2. কেওক্রাডং
  3. লালমাই
  4. ছাতক 
ব্যাখ্যা

- লালমাই পাহাড় প্লাইস্টোসিনকালের অন্তর্গত পাহাড়।
- অন্যদিকে তাজিং ডং, কেওক্রাডং ও ছাতক পাহাড় টারশিয়ারী যুগের পাহাড়।

• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:

- আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
- বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়, লালমাই পাহাড় এই ভূমিরূপের অন্তর্গত।

• লালমাই পাহাড়: 
- এটি প্লাইস্টোসিনকালে বা প্রায় ২৫ হাজার বছর আগে গঠিত একটি ভূমিরূপ।
- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত।
- এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার।
- গড় উচ্চতা ২১ মিটার। 
- এ পাহাড়ের মাটি লাল এবং নুড়ি, বালি ইত্যাদি দ্বারা গঠিত।

তথ্যসূত্র: ভুগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
'কেওক্রাডং' পর্বত কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. রাঙামাটি
  2. বান্দরবান 
  3. খাগড়াছড়ি
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ের শ্রেণিবিভাগ:
বাংলাদেশে টারশিয়ারি যুগের পাহাড় দুটি ভাগে বিভক্ত -
১। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ
২️। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ

• দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ
- অবস্থান: রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম জেলা
- গড় উচ্চতা: প্রায় ৬১০ মিটার
- পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ক্রমে উচ্চতা বৃদ্ধি পায়
- উদাহরণ: কেওক্রাডং পর্বত, তাজিং ডং (বিজয়): বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।

• কেওক্রাডং পর্বত : 
- কেওক্রাডং বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় অবস্থিত।
- বান্দরবানের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত।
- কেওক্রাডং শব্দটি মারমা ভাষা থেকে এসেছে।
- মারমা ভাষায় কেও মানে 'পাথর', কাড়া মানে 'পাহাড়' আর এবং ডং মানে 'সবচেয়ে উঁচু'।
- অর্থাৎ কেওক্রাডং মানে সবচেয়ে উঁচু পাথরের পাহাড়।
- উচ্চতা: ১,২৩০ মিটার ( ভূগোল ১ম পত্র)
- অধুনা রাশিয়া কর্তৃক পরিচালিত এসআরটিএম উপাত্ত এবং জিপিএস গণনা থেকে দেখা গেছে এর উচ্চতা ৯৭৪ মিটার (৩,১৯৬ ফুট)।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।

.
'টিপাইমুখ বাঁধ' বাংলাদেশের কোন নদীর উজানে নির্মিত?
  1. পদ্মা
  2. যমুনা
  3. বরাক
  4. কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা

• টিপাইমুখ বাঁধ:
- নদীর পানির স্তর উত্তোলন বা নৌচলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় নাব্য রক্ষার জন্য অথবা সেচ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য নদীর উপর নির্মিত প্রতিবন্ধককে বাধ বলে। 
- ১৯৫৪ সালে ভারতের Central Water Commission (CWC) একটি বহুমুখী জলাধারের জন্য সমীক্ষার কাজ হাতে নেয়।
- বাঁধ তৈরীর জন্য মাইনাধর, ভুবনধর ও নারাইনধর নামক আরো তিনটি প্রস্তাবিত স্থান প্রকৌশলগত কারনে বাতিল হয়ে যাওয়ায় ১৯৭৪ সালে টিপাইমুখ বাঁধের চুড়ান্ত স্থান হিসেবে নির্ধারিত যা কিনা তুইভাই নদী ও বরাক নদীর সঙ্গমস্থল থেকে ৫০০ মিটার ভাটিতে এবং বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ২০০ কিমি উজানে।
- টিপাইমুখ বাঁধ ভারতের মণিপুর রাজ্যে অবস্থিত। 
- এটি বাংলাদেশের বরাক নদের উজানে নির্মিত।
- টিপাইমুখ নামের গ্রামে বরাক এবং টুইভাই নদীর মিলনস্থল। 
- এ বাধের উচ্চতা ১৬২.৮ মিটার। 
- বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বাধ: 
• তিস্তা বাঁধ লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলাধীন দুয়ানি নামক স্থানে তিস্তা নদীর উপর নির্মিত। 
• বুড়ি তিস্তা বাঁধ  নীলফামারি জেলার ডিমলা এবং জলঢাকা উপজেলায় বুড়ি তিস্তা নদীর উপর নির্মিত বাঁধ।
• টাঙ্গন বাঁধ  টাঙ্গন নদীর উপর নির্মিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বিডি নিউজ ২৪। Link

.
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উচ্চতার পাহাড় চূড়া কোনটি?
  1. গারো পাহাড়
  2. জৈয়ন্তিকা পাহাড় 
  3. কালা পাহাড়
  4. চন্দ্রনাথ পাহাড়
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের পাহাড়:
- বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু এবং বৃহত্তম পাহাড় ময়মনসিংহের গারো পাহাড়।
- গারো পাহাড় বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত, পূর্ব-পশ্চিম বরাবর বিস্তৃত একটি পর্বতশ্রেণী।
- গারো পাহাড় মূলত পূর্ব গারো পাহাড়, পশ্চিম গারো পাহাড় এবং দক্ষিণ গারো পাহার এই তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত।
- এর ভৌগোলিক অবস্থান ৮৯°৫০´ পূর্ব হতে ৯০°৫০´ পূর্ব অক্ষাংশ এবং ২৮°০৮´ উত্তর হতে ২৬°০১´ উত্তর  দ্রাঘিমাংশে এর আয়তন প্রায় ৮১৬৭ বর্গ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ জেলাসমূহ গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এবং এই অঞ্চলসমূহ এই পাহাড়ের পাদদেশীয় পালিজ সমৃদ্ধ।

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হচ্ছে তাজিংডং।
- এটি বিজয় নামেও পরিচিত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ নবম দশম শ্রেণি।

.
বাংলাদেশের সবচেয়ে শীতল মাস কোনটি?
  1. জানুয়ারি 
  2. ফেব্রুয়ারি
  3. নভেম্বর
  4. ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের শীতকাল:
- সাধারণত এ দেশে নভেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি মাস (কার্তিক - ফাল্গুন) পর্যন্ত সময়কে শীতকাল বলে।
- সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের পর তাপমাত্রা কমতে থাকে।
- জানুয়ারি মাসে দেশে তাপমাত্রা সর্বনিম্ন থাকে।

» তাপমাত্রা:
আমাদের দেশে শীতকালে তাপমাত্রা সবচেয়ে কম থাকে।
- এ সময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯° সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১° সেলসিয়াস থাকে।
- জানুয়ারি শীতলতম মাস। এই মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭° সেলসিয়াস।

» বায়ু প্রবাহ:
উত্তর-পূর্ব দিক থেকে আগত শীতল মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে শীতকালের বাতাসের আদ্রতা অত্যন্ত কম থাকে।
- এ সময় বাতাসের সর্বনিম্ন আদ্রতা - ৩৬ ভাগ।

» বৃষ্টিপাত:
শীতকালে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে।
- তবে উত্তর - পূর্ব মৌসুমি বায়ু এ সময় বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং এর ফলে কিছু কিছু অঞ্চল বিশেষত পাহাড়ি এলাকায় অল্প বৃষ্টিপাত হয়।
-  এর পরিমাণ ১০ সেন্টিমিটারের অধিক নয়।


তথ্যসূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ বই।

.
'গড়াই নদী' কোন নদীর প্রধান শাখানদী?
  1. যমুনা নদী
  2. মেঘনা নদী
  3. পদ্মা নদী 
  4. তিস্তা নদী
ব্যাখ্যা

• গড়াই নদী: 
- এটি গঙ্গা তথা পদ্মার একটি প্রধান শাখানদী ।  
- কুষ্টিয়ার তালবাড়িয়া নাম স্থানে এর উৎপত্তি।
- গড়াই নদীটি কুষ্টিয়া জেলার হতাশহরিপুর ইউনিয়নে প্রবহমান পদ্মা নদী হতে উৎপত্তি লাভ করে মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার নাকোল ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে মধুমতি নদীতে পতিত হয়েছে। 
- কুষ্টিয়া জেলার উত্তরে হার্ডিঞ্জ সেতুর ১৯ কিলোমিটার ভাটিতে তালবাড়িয়া নামক স্থানে গড়াই নদী পদ্মা থেকে উৎপন্ন হয়েছে। 
- এই নদীটি কুষ্টিয়া জেলার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গণেশপুর নামক স্থানে ঝিনাইদহ জেলায় প্রবেশ করেছে।
- গড়াই নদী ভাঙন প্রবণ। এর প্রবল ভাঙনের ফলে কুষ্টিয়ার বিখ্যাত রেন-উইক কারখানা,  গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প অফিস এবং কুষ্টিয়া শহরের বাণিজ্যিক এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ।

.
মিজোরামের লুসাই পাহাড় থেকে নিচের কোন নদীর উৎপত্তি হয়?
  1. তিস্তা
  2. কর্ণফুলী 
  3. পদ্মা
  4. যমুনা
ব্যাখ্যা

• কর্ণফুলী নদী:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর মধ্যে অন্যতম কর্ণফুলী।
- মিজোরামের লুসাই পাহাড়ের লংলেহ কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তিস্থল।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে খরস্রোতা নদী কর্ণফুলী।
- পাহাড়ি এ নদী চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পতেঙ্গার কাছে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- কর্ণফুলী নদীর প্রধান উপনদী হালদা, কাসালং, বোয়ালখালি, চেঙ্গী, শিলক, রাঙখিয়াং ইত্যাদি।
- অর্থাৎ হালদা ও বোয়ালখালি কর্ণফুলী নদীর উপনদী।
- রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই নামক স্থানে বাঁধ দিয়ে দেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
- এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।
- দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরটি এই নদীর তীরে চট্টগ্রামে অবস্থিত। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
বাংলাদেশে কোন সময়ের মধ্যে কালবৈশাখী ঝড়ের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়?
  1. জানুয়ারি - ফেব্রুয়ারি
  2. ফেব্রুয়ারি - মার্চ
  3. এপ্রিল -  মে 
  4. জুন - জুলাই
ব্যাখ্যা

• কালবৈশাখী:
- বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে কালবৈশাখী ঝড় সুপরিচিত। 
- কালবৈশাখী ঝড় বায়ুপ্রবাহ ও ভারী বৃষ্টিপাতের সাথে সংঘটিত হয়।
- মধ্য এপ্রিল থেকে মধ্য মে মাসের মধ্যে কালবৈশাখী ঝড় তীব্র রূপ ধারণ করে।
- মূলত আর্দ্র ও শুষ্ক বায়ুপুঞ্জ পরস্পর মুখোমুখি হলে এইরূপ কালবৈশাখী ঝড়ের সৃষ্টি হয়।
- মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত বাংলাদেশের তাপমাত্রা পূর্ববর্তী মাসগুলির (শীতকালের মাসগুলি) তুলনায় দ্রুত বাড়তে থাকে।  
- এপ্রিল মাসের মাঝামাঝিতে সারা দেশে বিশেষ করে দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশে দৈনিক তাপমাত্রা সর্বোচ্চ পরিমাণে বৃদ্ধি পায়।
- অস্থিতিশীল বায়ুমন্ডল আর দ্রুত পরিচলন ক্রিয়া কালবৈশাখীর উৎপত্তি ও বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক।
- কালবৈশাখীর গতি প্রতি ঘণ্টায় ৪০ হতে ৮০ কিলোমিটার। 
- অনেক সময় এ ঝড়ের গতি ঘণ্টায় ১২৮ কিলোমিটারেরও বেশি হয়ে থাকে।  
- কালবৈশাখী সাধারণত বাংলাদেশের মধ্যভাগে বিশেষ করে ঢাকা, পাবনা, ফরিদপুর এলাকায় আঘাত হানে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
'ছাতক পাহাড়' কোথায় অবস্থিত?
  1. সুনামগঞ্জ 
  2. সিলেট
  3. ময়মনসিংহ
  4. মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ
- অবস্থান: সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলা
-  উচ্চতা: সাধারণত ৬০-৯০ মিটার, তবে কিছু স্থানে ২৪৪ মিটার পর্যন্ত
- সিলেটের জেলার পাহাড়িয়া অঞ্চল শহরের উত্তর-পূর্ব দিকে ১৮৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- স্থানীয় নাম: টিলা (উচ্চতা ৩০-৯০ মিটার)
- উদাহরণ: ছাতক পাহাড়, সুনামগঞ্জ।
- ছাতক পাহাড়  ৪০ বর্গকিমি এলাকা জুড়ে অবস্থিত।
- এ টিলাগুলো মূলত খাসিয়া, জয়ন্তিয়া, গারো ও লুসাই পাহাড়ের বিচ্ছিন্ন অংশবিশেষ।
- এদের ঢাল খাড়া ও উপরিভাগ অসমান।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
শীতল ও উষ্ণ বায়ুর মুখোমুখিতে কোন ধরনের বৃষ্টিপাত ঘটে থাকে?
  1. পরিচলন বৃষ্টি 
  2. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত 
  3. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত
  4. সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা

• বৃষ্টিপাতের প্রকারভেদ: 
- মোট ৪টি উপায়ে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু উর্ধ্বাকাশে উত্থিত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায় বলে বৃষ্টিপাত প্রধানত ৪টি ভাগে বিভক্ত।
- এই ৪টি প্রকারভেদ হলো:
১. পরিচলন বৃষ্টিপাত
২. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত
৩. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত এবং
৪. সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত।

• সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত:
- শীতল ও উষ্ণ বায়ুপুঞ্জ যখন মুখোমুখি হয় তখন শীতল বায়ুর সংস্পর্শে উষ্ণ বায়ুর তাপমাত্রা হ্রাস পায় এবং শিশিরাঙ্কে পৌঁছায়।
- আরও ঘনীভূত হয়ে বায়ুপুঞ্জের সংযোগস্থলে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- এই প্রকার বৃষ্টি নাতিশীতোষ্ণ বৃষ্টিপাত নামে পরিচিত।
- এই ধরনের বৃষ্টি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে দেখা যায়।

তথ্যসূত্র: ভুগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।