ব্যাখ্যা
• 'বলা হয়েছে যা' এর এক কথায় প্রকাশ- উক্ত।
অন্যদিকে,
- 'বলবার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- বিবক্ষা।
- 'ভোজন করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- বুভুক্ষা।
- 'বমন করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- বিবমিষা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস।
৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৭ প্রশ্ন
• 'বলা হয়েছে যা' এর এক কথায় প্রকাশ- উক্ত।
অন্যদিকে,
- 'বলবার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- বিবক্ষা।
- 'ভোজন করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- বুভুক্ষা।
- 'বমন করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ- বিবমিষা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস।
• শুদ্ধ বানান: চিকীর্ষা।
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- করার ইচ্ছা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'নয়-ছয়' বাগ্ধারা অর্থ - অপচয়/বিশৃঙ্খল অবস্থা।
অন্যদিকে,
• 'নকড়া ছকড়া করা' অর্থ- তুচ্ছ জ্ঞান করা।
• 'খতিয়ে দেখা' অর্থ- বিবেচনা করা।
• 'নাক সিটকানো' অর্থ- অবজ্ঞা করা।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'তদানীং' এর বিপরীতার্থক শব্দ- ইদানীং।
অন্যদিকে,
• ইহকালীন - পরকালীন।
উল্লেখ্য,
• 'তৎপূর্বে' অর্থ- তার আগে। 'তৎপূর্বে' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ হলো- 'অনন্তর' বা 'তার পরে'।
• 'ঐদানীং' শব্দের বানানটি অশুদ্ধ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'Manual' শব্দের বাংলা পরিভাষা - সারগ্রন্থ।
অন্যদিকে,
• 'Memorandum' শব্দের বাংলা পরিভাষা - স্মারকলিপি।
• 'Booklet' শব্দের বাংলা পরিভাষা - পুস্তিকা
• 'Manifesto' শব্দের বাংলা পরিভাষা - ইশতেহার।
উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
• 'ময়ূরের ডাক' এক কথায় বলে - কেকা।
অন্যদিকে,
- 'পাখির ডাক' এর এক কথায় প্রকাশ - কূজন।
- 'অলঙ্কারের ধ্বনি' এর এক কথায় প্রকাশ - শিঞ্জন।
- 'ঘোড়ার ডাক' এর এক কথায় প্রকাশ- হ্রেষা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• 'দীপ' শব্দের অর্থ - প্রদীপ।
• 'দ্বীপ' শব্দের অর্থ - জলবেষ্টিত ভূখণ্ড।
অন্যদিকে,
'দৃপ্ত' - বলিষ্ঠ।
'দীপ্ত' - উজ্জ্বল।
দূতী - নারী সংবাদবাহক।
দ্যুতি - আলো।
ধুম - প্রাচুর্য।
ধূম - ধোঁয়া।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'চাঁদ' এর সমার্থক শব্দ নয়- বৈভব।
• বৈভব (বিশেষ্য পদ)।
অর্থ- ঐশ্বর্য; ধন; সম্পদ।
• 'চাঁদ' এর সমার্থক শব্দ:
চন্দ্র, শশী, শশাঙ্ক, সুধাকর, ইন্দু, সোম, শশধর, বিধু, নিশাকর, সুধাংশু, সিতাংশু, হিমাংশু, মৃগাঙ্ক।
অন্যদিকে,
'ধন' এর সমার্থক শব্দ:
বিত্ত, অর্থ, সম্পদ, বিভব, বৈভব, বিভূতি, নিধি, ঐশ্বর্য, বিত্ত।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• 'ঋজু' এর বিপরীতার্থক শব্দ - কুটিল/জটিল/বক্র।
অন্যদিকে,
• 'গরল' - অমৃত।
• 'হর্ষ' - বিষাদ।
• 'সংযত' - অসংযত।
উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'বিড়াল তপস্বী' বাগ্ধারার অর্থ- ভণ্ড।
উল্লেখ্য,
• 'বক ধার্মিক', 'বর্ণচোরা' বাগ্ধারার অর্থও- ভণ্ড।
অন্যদিকে,
• 'খয়ের খাঁ' অর্থ- তোষামোদকারী।
• 'ডাকাবুকো' অর্থ- নির্ভীক।
• 'চিনির বলদ' অর্থ- ভারবাহী কিন্তু ফলতোগী নয়।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• হাইফেন বা সংযোগ চিহ্ন (-):
হাইফেন সবসময় দুই ততোধিক শব্দের মধ্যে বসে। বাংলা লেখার সময় এর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
এর ব্যবহার ক্ষেত্র হলো-
- সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেখানোর জন্য হাইফেন ব্যবহৃত হয়। যেমন হাট-বাজার, সাত-পাঁচ।
- একই শব্দ পরপর দুবার বসলে তাদের মাঝে হাইফেন বসে। যেমন চলতে-চলতে কোথায় চলে যায়। যেতে-যেতে হয়রান হয়ে পড়েছি।
- দিক বা স্থান বা সময় নির্দেশের ক্ষেত্রে অনেক সময় হাইফেন বসে। যেমন: উত্তর-পশ্চিম কোণে মেঘ জমেছে।
- কোনো কোনো উপসর্গের পরে হাইফেন বসে। যেমন: অ-তৎসম, কু-অভ্যাস, বে-আঙ্কেল।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
আবশ্যকীয় - আবশ্যক;
একত্রিত - একত্র;
অধীনস্থ - অধীন;
করিতকর্মী - করিতকর্মা;
গণ্যনীয় - গণনীয়;
জ্ঞানমান - জ্ঞানবান;
ঘূর্ণীয়মান - ঘূর্ণায়মান;
পুজ্য - পূজ্য।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'রাত্রির প্রথম ভাগ' এর এক কথায় প্রকাশ - পূর্বরাত্র।
অন্যদিকে,
• রাত্রির তিনভাগ একত্রে- ত্রিযামা।
• রাত্রিকালীন যুদ্ধ- সৌপ্তিক।
• রাত্রির শেষ ভাগ- পররাত্র।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• 'Affidavit' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ - হলফনামা।
অন্যদিকে,
• 'Covenant' এর বাংলা পরিভাষা- চুক্তিপত্র।
• 'Attest' অর্থ - সত্যায়িত/প্রত্যায়িত করা।
• 'Circular' অর্থ - পরিপত্র।
উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা এবং অভিগম্য অভিধান।
উল্লেখযোগ্য কয়েকটি শব্দজোড়ের অর্থ হলো:
শ্রবণ - কান।
স্রবণ - ক্ষরণ।
শ্বশ্রু - শাশুড়ি।
শ্মশ্রু - দাড়ি।
সর্গ - অধ্যায়।
স্বর্গ- বেহেশত।
সমর্থ - বলবান।
সামর্থ্য যোগ্যতা।
সম্প্রতি - আজকাল।
সম্প্রীতি - সম্ভাব।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
• শুদ্ধ বানান: নির্দ্বিধচিত্ত।
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
দ্বিধাহীন চিত্ত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'কূপমণ্ডুক' বাগ্ধারা অর্থ- সীমাবন্ধ জ্ঞান।
অন্যদিকে,
• 'বর্ণচোরা' অর্থ - ভণ্ড।
• 'তালকানা' অর্থ- কাণ্ডজ্ঞানহীন।
• 'চশমখোর' অর্থ- নির্লজ্জ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
কোলন (:) এর ব্যবহার:
- একটি অপূর্ণ বাক্যের পরে আর একটি বাক্যের অবতারণা করতে গেলে কোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন: সভায় সাব্যস্ত হলো: এক মাস পরে নতুন সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
- কোনো বিবৃতিকে সম্পূর্ণ করতে দৃষ্টান্ত দিতে হলে কোলন ব্যবহার করতে হয়। যেমন: পদ পাঁচ প্রকার: বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয়, ক্রিয়া।
- নাটকের চরিত্রের পরে ও সংলাপের আগে কোলন বসে। যেমন- সিরাজ: আমার দুর্ভাগ্য যে আপনাকে আমার অপমান করতে হয়েছে।
- আবেদন পত্রে ভুক্তি, উপভুক্তির পরে কোলন বসে। যেমন- নাম: পিতার নাম: ঠিকানা: শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্বাক্ষর: তারিখ:।
- সময়কে সংখ্যায় নির্দেশ করতে: ১২:৩০, ২:১৫।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
'কিরণ' এর সমার্থক শব্দ:
- রশ্মি,
- শিখা,
- আলোকচ্ছটা,
- কর,
- প্রভা,
- দীপ্তি,
- জ্যোতি,
- অংশু ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• পুনরুক্তি বা বাহুল্যজনিত ভুল-
অশুদ্ধ: তৎকালীন সময়ের রাজা নসিবুল্লা অদ্যপিও নিরুদ্দেশ।
শুদ্ধ: তৎকালীন রাজা নসিবুল্লা অদ্যাপি নিরুদ্দেশ।
অন্যদিকে,
---------------
• তোমার মতো এমন হীনচরিত্র লোক আমার প্রয়োজন নেই।
• শুধু এই কটা টাকা দিলে?
• ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়।
[উপড়ে উল্লেখিত বাক্যগুলো শুদ্ধ।]
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'পর্বত' এর সমার্থক শব্দ:
- পাহাড়,
- অদ্রি,
- ভূধর,
- গিরি,
- শৈল,
- অচল ইত্যাদি।
'পাথর' এর সমার্থক শব্দ:
- পাষাণ,
- প্রস্তুর,
- শিলা,
- উপল,
- অশ্ম,
- শঙ্কর ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'উড়নপেকে' বাগ্ধারাটির অর্থ - অপব্যয়ী।
অন্যদিকে,
• 'গোঁফ খেজুরে' অর্থ- অত্যন্ত অলস।
• 'ধামাধরা' অর্থ- তোষামুদে/চাটুকারিতা।
• 'রুই-কাতলা' অর্থ- প্রতিপত্তিশালী লোকজন।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'Executive' শব্দের বাংলা পরিভাষা - নির্বাহী।
অন্যদিকে,
• 'High Official' অর্থ - ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
• 'Associate' অর্থ - সহযোগী।
• 'Manager' অর্থ - ব্যবস্থাপক।
উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা এবং অভিগম্য অভিধান।
• অশুদ্ধ বাক্য: একের বোঝা, দশের লাঠি।
[প্রদত্ত বাক্যে প্রবাদের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।]
শুদ্ধ: দশের লাঠি, একের বোঝা।
অন্যদিকে,
---------------
• শুদ্ধ: আপনি সপরিবার আমন্ত্রিত।
• শুদ্ধ: শকুনের দোয়ায় গরু মরে না।
• শুদ্ধ: সকল ছাত্র উপস্থিত আছে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• দাঁড়ি বা পূর্ণছেদ:
বাংলা ভাষায় দাঁড়ি একটি বহুল ব্যবহৃত যতিচিহ্ন। বাক্যের মধ্যে বক্তব্য সমাপ্ত হলে অথবা অর্থ সম্পূর্ণ হলে দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ বসে।
এর প্রয়োগ ক্ষেত্র হচ্ছে-
• অনুজ্ঞাসূচক বাক্যের শেষে দাঁড়ি বসে। যেমন- কাল একবার এসো।
• নির্দেশাত্মক বাক্যের শেষে দাঁড়ি বসে। যেমন- সব সময় সত্য কথা বলবে।
• পরোক্ষ প্রশ্নের শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্নের বদলে দাঁড়ি ব্যবহার হয়। যেমন-সীমা জানতে চাইল রীমা কবে আসবে।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• 'মেঘ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
জলদ, জলধর, নীরদ, বারিদ, ঘন, জীমূত, অভ্র, অম্বুবাহ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
প্রধানমন্ত্রী:
- বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- এ ব্যবস্থায় দেশের সরকার প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী।
- প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের নির্বাহী কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এছাড়াও,
- যে সংসদ-সদস্য জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতীয়মান তাঁকে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দান করেন।
- সংবিধান মোতাবেক প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি স্বীয় পদে বহাল থাকবেন।
- তবে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন হারালে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয় কিংবা সংসদ ভেঙে দেবার জন্য রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে পরামর্শ দান করতে হয়।
- প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে তাঁর মন্ত্রিসভাও ভেঙে যায়।
- তাই প্রধানমন্ত্রীকে সরকারের স্তম্ভ বলা হয়।
- তিনি একইসাথে সংসদের নেতা ও সরকারপ্রধান।
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
বাংলাদেশের আইনসভা:
- সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে আইনসভা অন্যতম।
- বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ।
- এটি এক কক্ষবিশিষ্ট। জাতীয় সংসদের মোট সদস্যসংখ্যা ৩৫০।
- এর মধ্যে ৩০০ জন সদস্য জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন ।
- এবং অবশিষ্ট ৫০টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত।
- বাংলাদেশকে মোট ৩০০টি নির্বাচনী এলাকায় ভাগ করা হয়েছে।
- এ সকল নির্বাচনী এলাকা থেকে নাগরিকদের প্রত্যক্ষ ভোটে একজন করে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন।
- নির্বাচনে বিভিন্ন দলের প্রাপ্ত আসন সংখ্যার আনুপাতিক হারে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্যরা সাধারণ আসনে নির্বাচিত সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন।
- তবে মহিলা সদস্যগণ ইচ্ছা করলে ৩০০ আসনের যে কোনোটিতে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমেও নির্বাচিত হতে পারেন।
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, ৬৫ পৃষ্ঠা।
• রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য:
- রাজনৈতিক দলের প্রধান প্রধান উদ্দেশ্য হলো-
১. রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করে আদর্শগতভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কর্মসূচি ও নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করা;
২. রাষ্ট্রের উন্নয়নমূলক কিছু নীতিমালা ও পরিকল্পনা জনগণের নিকট পেশ করে জনসমর্থন সৃষ্টিকরা;
৩. দলীয় নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নতি ও সমৃদ্ধি অর্জন করা এবং জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখা;
৪. বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের শাসনভার গ্রহণ ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
গঠনমূলক বিরোধিতা:
- রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল সরকার গঠন করে
- দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আইনসভায় বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
- সরকারের কোনো কার্যক্রম ভুল হলে বিরোধী দলের প্রধান কাজ হচ্ছে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া।
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
প্রশাসনিক কাঠামো:
- বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো এর দুটি প্রধান স্তর আছে।
- প্রথম স্তরটি হলো কেন্দ্রীয় প্রশাসন (সচিবালয়)।
- দেশের সব ধরনের প্রশাসনিক নীতি ও সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গ্রহণ করা হয়।
- আর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্ত মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে সারা দেশে বাস্তবায়িত হয়।
• বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের দ্বিতীয় স্তরটি হলো মাঠ প্রশাসন।
- মাঠ প্রশাসনের প্রথম ধাপ হলো বিভাগীয় প্রশাসন।
- দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে জেলা প্রশাসন।
- জেলার পর আছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসন একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত।
- মাঠ প্রশাসন মূলত কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।
উল্লেখ্য,
- কয়েকটি মন্ত্রণালয় নিয়ে কেন্দ্রীয় প্রশাসন বা সচিবালয় গঠিত।
- প্রতি মন্ত্রণালয়ের সাথে সংযুক্ত আছে বিভিন্ন বিভাগ বা অধিদপ্তর।
- অধিদপ্তরের/দপ্তরের প্রধান হলেন মহাপরিচালক/পরিচালক।
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, ৬২ পৃষ্ঠা।
- ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ করা হয়।
বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ:
- মূলত বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার জন্য ১৯৯৪ সালে একটি রিট মামলা করেছিলেন জেলা জজ ও জুডিশিয়াল এসোসিয়েশনের তৎকালীন মহাসচিব মাসদার হোসেন।
- সেই মামলাটি 'মাসদার হোসন মামলা' নামে পরিচিত, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে যার চূড়ান্ত রায় হয়েছিল ১৯৯৯ সালে।
- রায়ের আট বছর পর ১লা নভেম্বর, ২০০৭ সাল মূল নির্দেশনাটি বাস্তবায়ন করে বিচার বিভাগকে আলাদা করা হয়েছিল।
- নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ সংবিধানের ২২ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।
উৎস: বিবিসি বাংলা ও বাংলাপিডিয়া।
উপজেলা পরিষদ গঠন:
- একজন চেয়ারম্যান,
- দুজন ভাইস চেয়ারম্যান (এদের মধ্যে একজন হবেন মহিলা) ।
- এবং উপজেলার আওতাধীন ইউনিয়ন পরিষদসমূহের চেয়ারম্যানবৃন্দ,
- পৌরসভার (যদি থাকে) মেয়র এবং তিনজন মহিলা সদস্যের সমন্বয়ে উপজেলা পরিষদ গঠিত হয়।
- ২০০৯ সালের উপজেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী সংসদ সদস্যদেরকে পরিষদের পরামর্শকের ভূমিকা প্রদান করা হয়েছে।
- চেয়ারম্যান উপজেলার ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন।
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, ৮২ পৃষ্ঠা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি, ১৯৯৭:
- পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি, ১৯৯৭ বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি।
- ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- পাহাড়ি জনগণের দাবি মেনে নিতে সরকারের ব্যর্থতার ফলে তাদের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার লারমার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ওঠে।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
• ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি:
- ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) বাংলাদেশের একটি বামপন্থী রাজনৈতিক দল।
- মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ১৯৫৭ সালের জুলাই মাসে এই দলটি গঠিত হয়।
- ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের কাগমারিতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে আওয়ামী লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং আওয়ামী লীগ নেতা ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মধ্যে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে মতবিরোধ দেখা দেয়।
- এ প্রশ্নে দলের ডানপন্থী নেতা-কর্মীরা সোহরাওয়ার্দীর পক্ষাবলম্বন করেন এবং বামপন্থী অংশ মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে স্বাধীন ও জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি এবং পূর্ব-পাকিস্তানের সর্বাধিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলেন।
- আওয়ামী লীগের বামপন্থী অংশের উদ্যোগে ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে ২৪-২৫ জুলাই গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- এ সম্মেলনে পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠিত হয়।
- ন্যাপের সভাপতি নির্বাচিত হন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সম্পাদক নির্বাচিত হন পশ্চিম পাকিস্তানের মাহমুদুল হক ওসমানী।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
- অভ্যন্তরীণ গোলযোগের কারণে দেশের নিরাপত্তা বা শান্তি বিনষ্ট হওয়ার উপক্রম হলে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।
রাষ্ট্রপতি:
- রাষ্ট্রপতি হলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান।
- রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটে নির্বাচিত হন।
- তাঁর কার্যকাল পাঁচ বছর।
- রাষ্ট্রপতি পুনঃনির্বাচিত হতে পারেন। তবে একাদিক্রমে হউকবা না হউক কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারেন না।
- সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর কোনো অভিযোগে জাতীয় সংসদ অভিশংসনের (অপসারণ পদ্ধতি) মাধ্যমে তাঁকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অপসারণ করতে পারে।
- যুদ্ধ বা অন্য দেশ কর্তৃক আক্রান্ত হলে বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের কারণে দেশের নিরাপত্তা বা শান্তি বিনষ্ট হওয়ার উপক্রম হলে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।
- তবে এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি প্রয়োজন হয়।
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, ৫৭ পৃষ্ঠা।
সচিবালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো:
- মন্ত্রী
↓
- সচিব
↓
- অতিরিক্ত সচিব
↓
- যুগ্ম সচিব
↓
- উপসচিব
↓
- সিনিয়র সহকারী সচিব
↓
- সহকারী সচিব
↓
- প্রশাসনিক কর্মকর্তা
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, ৬৩পৃষ্ঠা।
National Citizen Party (NCP):
- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) হলো বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল।
- এটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে গঠিত হয়েছে।
- ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
- নাহিদ ইসলামকে দলটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
- এটি দেশের প্রথম রাজনৈতিক দল, যা সম্পূর্ণভাবে ছাত্র নেতৃত্বের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে।
- দলটির সৃষ্টি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের একটি সফল পরিণতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
উৎস: NCP ওয়েবসাইট।
স্থানীয় সরকার কাঠামো:
- বাংলাদেশে বর্তমানে তিন স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো লক্ষ করা যায়।
- যথা- ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ।
- এছাড়া শহরগুলোতে পৌরসভা, বড় শহরে সিটি কর্পোরেশন,
- পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলায় তিনটি (খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি) স্থানীয় জেলা পরিষদ রয়েছে।
- উল্লিখিত তিন স্তরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদকেই নিচের দিকে সবচেয়ে কার্যকর ইউনিট বলে মনে করা হয়ে থাকে।
- গ্রাম বা এর নিকটবর্তী হচ্ছে ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদ।
- শহর এলাকায় রয়েছে পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশন।
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, ৮০ পৃষ্ঠা।
- ১০ শতাংশ সংসদ সদস্যের বাইরে থেকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ দেয়া যায়।
মন্ত্রিপরিষদ:
- সরকার পরিচালনার জন্য দেশে একটি মন্ত্রিপরিষদ আছে।
- প্রধানমন্ত্রী এর নেতা।
- তিনি যেরূপ সংখ্যক প্রয়োজন মনে করেন, সেরূপ সংখ্যক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীকে নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন।
- মন্ত্রিপরিষদের মন্ত্রীগণ সাধারণত সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে নিযুক্ত হন।
- নির্বাচিত সদস্য সংসদ সদস্যদের বাইরে থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে পরিচিত।
- বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যের বাইরে থেকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ দেয়া যায় এক-দশমাংশ।
- অর্থাৎ ১০ শতাংশ সংসদ সদস্যের বাইরে থেকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ দেয়া যায়।
- প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করেন।
- মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকেন।
- প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে বা কোনো কারণে সংসদ ভেঙে গেলে মন্ত্রিসভাও ভেঙে যায়।
- প্রধানমন্ত্রী তাঁর কাজের সুবিধার্থে মন্ত্রিসভার যেকোনো মন্ত্রীর দপ্তর পরিবর্তন কিংবা অপসারণ করতে পারেন।
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, ৬০ পৃষ্ঠা।
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার - নির্দলীয় ও অস্থায়ী সরকার।
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি অস্থায়ী ও বিশেষধরণের সরকার পদ্ধতি।
- বিশেষ রাজনৈতিক সংকটজনক পরিস্থিতি ছাড়া এ ধরণের সরকার ব্যবস্থা পরিলক্ষিত হয় না।
- এই সরকারের মূল দায়িত্ব ও উদ্দেশ্য হলো একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পরিচালনা করে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করা।
উৎস: এইচ.এস.সি প্রোগ্রাম, ইতিহাস ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।
সুপ্রীম কোর্ট:
- বিচারবিভাগের সর্বোচ্চ আদালতের নাম সুপ্রীমকোর্ট।
- এর রয়েছে দুটি বিভাগ, যথা: আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ।
- সুপ্রিম কোর্টের একজন প্রধানবিচারপতি রয়েছেন, যাকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি বলা হয়।
- রাষ্ট্রপতি তাঁকে নিযুক্ত করেন। প্রত্যেক বিভাগের জন্য যতজন বিচারক প্রয়োজন ততজন বিচারককে নিয়ে সুপ্রীমকোর্ট গঠিত।
- প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি সুপ্রীমকোর্টের দুই বিভাগের বিচারপতিদের নিয়োগ দেন।
- সুপ্রীম কোর্টে কমপক্ষে ১০ বছর অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে অথবা বাংলাদেশে বিচার বিভাগীয় পদে ১০ বছর বিচারক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
- সুপ্রিমকোর্টের বিচারকগণ ৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে কর্মরত থাকতে পারেন।
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, ৬৭ পৃষ্ঠা।
- বিচারপতি হাবিবুর রহমান প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ, সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন:
- সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গৃহিত হয়।
- অতঃপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিকট ক্ষমতা অর্পণ করে বিএনপি সরকার পদত্যাগ করে।
- প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি হাবিবুর রহমান নির্দলীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেন।
- তিনি ১৯৯৬ সালের ১২ জুন জাতীয় সংসদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন।
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সার্ক ফোরাম, কমনওয়েলথসহ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানায়।
- অবশেষে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা মধ্য দিয়ে ১২ জুন (১৯৯৬) সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
উৎস: এইচ.এস.সি প্রোগ্রাম, ইতিহাস ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।
- প্রধানমন্ত্রী সংসদের কাছে জবাবদিহি করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কাজ:
- সংবিধান অনুযায়ী দেশের সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শাসনকার্য পরিচালনা করেন।
- প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকেন।
- প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভার সদস্য, সাংবিধানিক পদে রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিদেশে রাষ্ট্রদূত ইত্যাদি নিয়োগ দেন।
- প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের প্রধান।
- তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা নির্ধারণ করেন ও মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেন।
- প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের একজন সদস্য ও সংসদ নেতা।
এছাড়াও,
- জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত বা ভেঙে দিতে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারেন।
- সংসদে আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কোনো সরকারি বিল উত্থাপনের পূর্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।
- যদি প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিপরিষদ উক্ত প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন তবেই তা সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা যায়।
- এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ও পরামর্শে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের (জাতীয়) বাজেট প্রণয়ন ও সংসদে উপস্থাপন করেন।
- প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদিত হতে পারে না।
- আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন।
- দেশের জরুরি অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত ছাড়া যেকোনো নির্দেশ দিতে পারেন।
- তবে প্রধানমন্ত্রী সংসদের কাছে জবাবদিহি করবেন।
- সংসদ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনাস্থা ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে জবাবদিহি চালু রাখতে পারে।
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, ৫৯ পৃষ্ঠা।
বিভাগীয় প্রশাসন:
- বাংলাদেশে আটটি বিভাগ আছে।
- প্রতিটি বিভাগের প্রশাসনিক প্রধান হলেন একজন বিভাগীয় কমিশনার।
- কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বিভাগের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি তাঁর কাজের জন্য কেন্দ্রের নিকট দায়ী থাকেন।
- বিভাগীয় কমিশনার জেলা প্রশাসকদের কাজ তদারক করেন।
- বিভাগের উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন ও তত্ত্বাবধান করেন।
- ভূমি রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা করেন ও খাসজমির তদারক করেন।
- বিভাগের ক্রীড়া উন্নয়ন, শিল্পকলা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির উন্নয়নে কাজ করেন।
- জনকল্যাণ ও সেবামূলক কাজ পরিচালনা করেন।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন।
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, ৬৪ পৃষ্ঠা।
গণতন্ত্রের বিকাশে রাজনৈতিক দল:
- গণতন্ত্র মানেই হচ্ছে রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি।
- গণতন্ত্রের সফলতার জন্য রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব অপরিসীম।
- কেননা রাজনৈতিক দলই জনগণের মতামতকে সুসংগঠিত করে এবং জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটায়
- রাজনৈতিক দল এর সদস্য ও নেতাদেরকে গণতান্ত্রিক আচার-আচরণে অভ্যস্ত হতে শেখায়।
- জনগণের স্বার্থবিরোধী সরকারকে অপসারণ করে রাজনৈতিক দল গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করে।
- এমন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন পৃথিবী বিভিন্ন দেশে দেখা যায়।
- গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নির্দিষ্ট সময় অন্তর ক্ষমতার পরিবর্তন হয়।
- সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সরকার গঠন করা হয়। রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ছাড়া এ নির্বাচন সম্ভব নয়।
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
• রাজনৈতিক দল:
- আধুনিক রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
- রাজনৈতিক দল ব্যতীত গণতান্ত্রিত্রক রাষ্ট্রের কথা কল্পনা করা যায় না।
- আধুনিক গণতন্ত্র হলো প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।
- আর প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো রাজনৈতিক দল।
- রাজনৈতিক দলকে কেন্দ্র করেই জনমত গঠন, দলীয় আদর্শের প্রচার, সমর্থকগোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক সচেতন নাগরিক সমাজ গড়ে ওঠে।
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।