পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন৩৩
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১১ বিষয়: বাংলা ব্যাকরণ সিলেবাস: সন্ধি, সমাস, প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ, পরিভাষা, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৩ প্রশ্ন

.
‘প্রতীতি’ শব্দের শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্রতি + ঈতি
  2. প্রতি + তীতি
  3. প্রতি + ইতি
  4. প্রত + তীতি
সঠিক উত্তর:
প্রতি + ইতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতি + ইতি
ব্যাখ্যা
স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
• সূত্র: ই + ই = ঈ:
- অতি + ইত = অতীত,
- অভি + ইষ্ট= অভীষ্ট,
- প্রতি + ইতি = প্রতীতি,
- অতি + ইন্দ্র = অতীন্দ্র।

• সূত্র: ই + ঈ = ঈ:
- গিরি + ঈশ = গিরীশ,
- অধি+ ঈশ্বর = অধীশ্বর,
- ক্ষিতি + ঈশ = ক্ষিতীশ,
- অভি + ঈপ্সা = অভীপ্সা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
কোনটি নিত্য সমাসের উদাহরণ?
  1. যুগান্তর
  2. গণপতি
  3. তেপান্তর
  4. লোকালয়
সঠিক উত্তর:
যুগান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুগান্তর
ব্যাখ্যা
• নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয় তাকে নিত্য সমাস বলে। অর্থাৎ যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো সর্বদা সমাসবদ্ধ থাকে এবং ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না, সে সমাসকে নিত্য সমাস বলা হয়। এ সমাসের ব্যাসবাক্যের প্রারম্ভে 'অন্য' বা 'কেবল' প্রভৃতি শব্দ বসে।
যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর;
- অন্য দেশ = দেশান্তর;
- অন্য যুগ = যুগান্তর;
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র;
- কেবল যাওয়া = যাওয়ামাত্র;
- কেবল বলা = বলামাত্র। 

অন্যদিকে,
• তে (তিন) প্রান্তরের সমাহার = তেপান্তর; এটি একটি দ্বিগু সমাস৷
• গণের পতি = গণপতি; লোকের আলয় = লোকালয়; ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
‘তাজ্জব’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. অকস্মাৎ
  2. নতুন
  3. অদ্ভুত
  4. উদ্ভব
সঠিক উত্তর:
অদ্ভুত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্ভুত
ব্যাখ্যা
• ‘তাজ্জব’ আরবি শব্দ।
অর্থ: অদ্ভুত, বিস্মিত, বিস্ময়।

• ‘অদ্ভুত’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
উদ্ভট, আজব, আজগুবি, তাজ্জব, বিস্ময়কর, আশ্চর্য, অস্বাভাবিক।

অন্যদিকে,
• ‘অকস্মাৎ’ শব্দের সমার্থক শব্দ: আকস্মিক, আচমকা, হঠাৎ, সহসা, অতর্কিত, দৈবাৎ।
• ‘উদ্ভব’ শব্দের সমার্থক শব্দ: জন্ম, উৎপত্তি, সৃষ্টি, ভূমিষ্ঠ, জনম, আবির্ভাব।
• ‘নতুন’ শব্দের সমার্থক শব্দ: নবীন, আনকোরা, আধুনিক, অধুনা, অর্বাচীন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংল অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
.
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. দূষণীয়
  2. গণনীয়
  3. অসহ্যনীয়
  4. পূজনীয়
সঠিক উত্তর:
অসহ্যনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসহ্যনীয়
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ: অসহ্যনীয়।
শুদ্ধ প্রয়োগ: অসহনীয়/অসহ্য।

• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- আবশ্যকীয় - আবশ্যক;
- অধীনস্থ - অধীন;
- করিতকর্মী - করিতকর্মা;
- গণ্যনীয় - গণনীয়;
- দোষণীয় - দূষণীয়;
- জ্ঞানমান - জ্ঞানবান;
- পুজ্যনীয় - পূজনীয়;
- ঘূর্ণীয়মান - ঘূর্ণায়মান;
- পুজ্য - পূজ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
‘সন্মার্গ’ শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সদ্ + মার্গ
  2. সৎ + মার্গ
  3. সন্ + মার্গ
  4. সম্ + মার্গ
সঠিক উত্তর:
সৎ + মার্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৎ + মার্গ
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম:
আগে ৎ, দ্‌, ধ্‌ এবং পরে ন্‌ / ম্‌ থাকলে ৎ, দ্‌ বা ধ্‌ স্থানে ন্‌ হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে ন্ন কিংবা ম এর সঙ্গে মিলে ন্ম হয়।
যেমন:
- উৎ + নতি = উন্নতি;
- ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি;
- রাধ্‌ + না = রান্না;
- তদ্ + মাত্র = তন্মাত্র;
- সৎ + মার্গ = সন্মার্গ;
- মৃৎ + ময় = মৃন্ময়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
‘প্রফুল্ল’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. বেরসিক
  2. বিমর্ষ
  3. শ্লত
  4. বিরহ
সঠিক উত্তর:
বিমর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিমর্ষ
ব্যাখ্যা
• ‘প্রফুল্ল’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - ম্লান / বিমর্ষ।

অন্যদিকে,
• রসিক - বেরসিক।
• ত্বরিত - শ্লথ।
• মিলন - বিরহ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২- সংস্করণ)।
.
উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. সামীপ্য
  2. অহিনকুল
  3. পঙ্কজ
  4. সজ্জন
সঠিক উত্তর:
পঙ্কজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঙ্কজ
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

• কৃদন্ত পদ: কৃৎ প্রত্যয় যোগে যে শব্দ তৈরি হয় তাকে কৃদন্ত পদ বলে।
যেমন: √চর্‌ > চর (বিচরণ করা অর্থে); √ধর্‌ > ধর (ধরা অর্থে)।

• উপপদ: কোন শব্দকে বিশ্লেষণ করলে যদি একটি পৃথক শব্দ, এরপর ধাতু, এরপর প্রত্যয় পাওয়া যায় (শব্দ + ধাতু + প্রত্যয়) এবং সেই প্রত্যয়টি হয় কৃৎ প্রত্যয় তাহলে প্রাপ্ত বিশিষ্ট শব্দকে উপপদ বলা হয়।
যেমন: বাস্তুহারা = বাস্তু + √হার্‌ + আ; খেচর = খ + √চর্‌ + অ।

যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর।
- জল দেয় যে = জলদ।
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।
- পকেট মারে যে = পকেটমার।

• এরূপ- সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছাড়পোকা এবং বর্ণচোরা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• অহি ও নকুল = অহিনকুল; দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ।
• সৎ যে জন = সজ্জন; কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
• কণ্ঠের সমীপে = সামীপ্য; অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
.
‘কুটিল’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. সারল্য
  2. মসৃণ
  3. কোমল
  4. সরল
সঠিক উত্তর:
সরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল
ব্যাখ্যা
• কুটিল অর্থ: বাঁকা, অসরল, জটিল।
• 'কুটিল' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - সরল।

অন্যদিকে, 
• বন্ধুর - মসৃণ
• কোমল - কর্কশ।
• সারল্য অর্থ: সরলতা, অকপটতা।

[সারল্য বিশেষ্য পদ, অন্যদিকে কুটিল ও সরল বিশেষণ পদ। সারল্য শব্দটি ‘সরলতা’ গুণকে নির্দেশ করে। যা কুটিলের শুদ্ধ বিপরীতার্থক হিসেবে অর্থ প্রকাশ করে না।]

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীতার্থক শব্দ: 
• 'তিক্ত' - মধুর।
• 'অবিরল' - বিরল।
• ‘অমৃত’ - গরল।
• 'জীবিত' - মৃত।
• 'হর্ষ' - বিষাদ।

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি অভিধান।
.
মূর্ধন্য-ণ এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ক্ষুণ্ন
  2. অঘ্রাণ
  3. ঘর্ষণ
  4. কারণ
সঠিক উত্তর:
অঘ্রাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অঘ্রাণ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: অঘ্রাণ।
• শুদ্ধ: অঘ্রান।
[অতৎসম শব্দের বানানে ণ ব্যবহার করা হবে না।]

--------------------
• নিয়ম:
বাংলা শব্দের বানানে দন্ত্য-ন এর পরিবর্তে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহার হওয়ার কিছু নিয়ম রয়েছে। সাধারণভাবে ‘র, ষ, ক্ষ’ এই তিনটি অক্ষরের পর মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয়।
• এখারে র অর্থ: র, ঋ, রেফ্, র-ফলা, ঋ-কার। উদাহরণ- কারণ, ঋণ, কর্ণ, তৃণ ইত্যাদি।
• ষ: ষণ্ড, ঘর্ষণ, বিষ্ণু, ভূষণ, দূষণ ইত্যাদি।
• ক্ষ: ক্ষণ, ক্ষীণ, ক্ষুণ্ন, ক্ষৌণি ইত্যাদি।

• মূর্ধন্য-ণ ও দন্ত্য-ন এর ব্যবহার:
- অতৎসম শব্দের বানানে ণ ব্যবহার করা হবে না।
যেমন:
অঘ্রান, ইরান, কান, কোরান, গভর্নর, গুনতি, গোনা, ঝরনা, পরান, রানি, সোনা।

উৎস: বাংলা লেখার নিয়মকানুন, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
‘বিজুরি’ শব্দের অর্থ কী?
  1. চাঁদ
  2. কিরণ
  3. বিদ্যুৎ
  4. সূর্য
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ
ব্যাখ্যা
• ‘বিদ্যুৎ’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
তড়িৎ, বিজলি, বিজুরি, ক্ষণপ্রভা, সৌদামিনী, দামিনী, চপলা।

অন্যদিকে,
• 'চাঁদ' এর সমার্থক শব্দ:
চন্দ্র, চন্দ্রমা; নিশাকর; নিশাকান্ত; শশধর; হিমাংশু; সুধাংশু; সুধাকর; ইন্দু; বিধু; শশী; সোম; মৃগাঙ্ক।

• ‘কিরণ’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
 ময়ূখ, কর, প্রভা, দীপ্তি, জ্যোতি, অংশু, রশ্মি, আলো, আলোক, বিভা প্রভৃতি।

• 'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ:
অর্ক, তপন, আদিত্য, আফতাব, দিবাকর, ভাস্কর, ভানু, মার্তণ্ড, বালার্ক, রবি, সবিতা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১.
‘সমান কর্মী যে’ ব্যাসবাক্যটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত।
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

• বহুব্রীহি সমাসে ‘সমান” শব্দের স্থানে 'স' এবং 'সহ' হয়।
যেমন:
- সমান কর্মী যে = সহকর্মী।
- সমান বর্ণ যার = সবর্ণ।
- সমান উদর যার = সহোদর ইত্যাদি।

• বহুব্রীহি সমাসে সমস্তপদে 'অক্ষি' শব্দের স্থলে 'অক্ষ' এবং 'নাভি' শব্দ বলে 'নাভ হয়।
যেমন:
- কমলের ন্যায় অক্ষি যার = কমলাক্ষ।
- পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ। 

• বহুব্রীহি সমাসে পরপদে 'জায়া' শব্দ স্থানে 'জানি' হয় এবং পূর্বপদের কিছু পরিবর্তন হয়।
যেমন:
- যুবতী জায়া যার = যুবজানি ('যুবতী' স্থলে 'যুব' ও 'জায়া' স্থলে 'জানি' হয়েছে)।

• বহুব্রীহি সমাসে পরপদের ‘চূড়া' শব্দ সমস্তপদে ‘চূড়' ও 'কর্ম' শব্দ সমস্তপদে 'কর্মা' হয়।
যেমন:
- চন্দ্ৰ চূড়ায় যার = চন্দ্রচূড়।
- বিচিত্র কর্ম যার = বিচিত্রকর্মা।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২.
‘Obscene’ শব্দের পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. অপভাষা
  2. পরভাষা
  3. উপভাষা
  4. বিভাষা
সঠিক উত্তর:
অপভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপভাষা
ব্যাখ্যা
• ‘Obscene’ এর শুদ্ধ পারিভাষিক শব্দ - অপভাষা।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু পারিভাষিক শব্দ:
• ‘Interpreter’ - দোভাষী।
• ‘Linguistics’ - ভাষাবিদ্যা।
• ‘Dialect’ - উপভাষা।
• ‘Patois’ - আঞ্চলিক ভাষা।
• ‘Foreign Language’ - বিভাষা / পরভাষা।
• ‘Dialectology' - উপভাষাতত্ত্ব।
• ‘Terminology’ - পরিভাষা, পারিভাষিক শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড) এবং প্রশাসনিক পরিভাষা; অভিগম্য অভিধান।
১৩.
সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. শব্দের আকার ছোট করা
  2. ধ্বনি-পরিবর্তনে ভূমিকা পালন
  3. ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন
  4. নতুন শব্দ গঠন
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন
ব্যাখ্যা
• সন্ধি:
- সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজ প্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন।
- তবে সন্ধির প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণের সুবিধা।

• সন্ধির অন্যান্য কতিপয় উদ্দেশ্য:
- সন্ধির মাধ্যমে ধ্বনির মিলন হয়।
- ধ্বনি-পরিবর্তনে ক্ষেত্রে সন্ধি বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
- নতুন শব্দ গঠনের জন্য সন্ধির প্রয়োজন রয়েছে।
- উচ্চারণে সহজতা আসে।
- শব্দের আকার ছোট করতেও সন্ধির প্রয়োজন পড়ে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪.
‘শিষ্ট’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. মূর্খ
  2. ধৃত
  3. অধর্ম
  4. দুষ্ট
সঠিক উত্তর:
দুষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুষ্ট
ব্যাখ্যা
• ‘শিষ্ট’ অর্থ: শান্ত; ভদ্র; বিনীত।
• ‘দুষ্ট’ অর্থ: দূষিত; খারাপ; অসৎ; অশান্ত।

সুতরাং,
• ‘শিষ্ট’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - দুষ্ট।

অন্যদিকে,
• 'ধৃত' এর বিপরীতার্থক শব্দ - মুক্ত।
• ‘ধর্ম’ এর বিপরীতার্থক শব্দ - অধর্ম।
• ‘জ্ঞানী’ এর বিপরীতার্থক শব্দ - মূর্খ।

উৎস: উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২- সংস্করণ) এবং অভিগম্য অভিধান।
১৫.
পৃথিবী’ শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ভূধর
  2. উর্বী
  3. ব্রহ্মাণ্ড
  4. ভূলোক
সঠিক উত্তর:
ভূধর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূধর
ব্যাখ্যা
• ‘পৃথিবী’ শব্দের সমার্থক শব্দ নয়- ভূধর।
- ‘ভূধর’ পর্বত শব্দের সমার্থক শব্দ।

• 'পর্বত' শব্দের সমার্থক শব্দ:

মহীধর, পাহাড়, গিরি, অচল, শৈল, ভূধর, অদ্রি, শিখরী, শৃঙ্গী, শৃঙ্গধর, মহীধ্র, ভূভৃৎ, নগ।

অন্যদিকে,
• ‘পৃথিবী’ শব্দের সমার্থক শব্দ: 
ধরা, ধরণি, ধরিত্রী, বসুন্ধরা, বসুধা, ভূ, ভূমণ্ডল, অবনি, ক্ষিতি, মহি, বসুমতী, মেদিনী, জগৎ, মর্ত্যলোক, ব্রহ্মাণ্ড, বিশ্ব, অখিল, ভুবন, ভূমি, পৃথ্বী, দুনিয়া, ভুবন, ভূলোক, উর্বী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬.
‘বিঘ্নের অভাব’ ব্যাসবাক্যটি কোন সমাস নির্দেশ করে?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
অব্যয় পদ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়। উপসর্গ একপ্রকার অব্যয়।  তাই উপসর্গযোগে গঠিত সব শব্দই অব্যয়ীভাব সমাস। এ সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয়ের নাম বা প্রকৃতির উল্লেখ করা হয় না। কেবল অব্যয়ের অর্থ সহযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়।

অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ:
- শ্রীর অভাব = বিশ্রী;
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ;
- দানের বিপরীত = প্রতিদান;
- জেলার সদৃশ = উপজেলা;
- বিঘ্নের অভাব = নির্বিঘ্ন;
- ঈষৎ নত = আনত;
- অন্য মত = মতান্তর;
- আমিষের অভাব = নিরামিষ;
- একটি লোক = লোকটি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭.
‘Matrix Sentence’ শব্দের বাংলা পরিভাষা -
  1. অধিভাষা
  2. অধীন খণ্ডবাক্য
  3. আধার বাক্য
  4. যৌগিক বাক্য
সঠিক উত্তর:
আধার বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধার বাক্য
ব্যাখ্যা
• ‘Matrix Sentence’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - আধার বাক্য।

অন্যদিকে,
• ‘Subordinate Clause' শব্দের বাংলা পরিভাষা - অধীন খণ্ডবাক্য। 
• ‘Compound Sentence’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - যৌগিক বাক্য।
• ‘Mentalanguage' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ - অধিভাষা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড) এবং অভিগম্য অভিধান।
১৮.
‘তন্মধ্যে’ কোন নিয়মে গঠিত সন্ধির উদাহণ?
  1. স্বর + ব্যঞ্জন
  2. স্বর + স্বর
  3. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
  4. ব্যঞ্জন + স্বর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

সাধারণত ব্যঞ্জনসন্ধি  তিন নিয়মে হয়: 
১. স্বর + ব্যঞ্জন;
২. ব্যঞ্জন + স্বর;
৩. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন।

• স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরধ্বনির পর ‘ছ’ থাকলে তা দ্বিত্ব হয়, অর্থাৎ ‘ছ’-র বদলে ‘চ্ছ’ হয়।
যেমন:
- পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।
- বি + ছেদ = বিচ্ছেদ।
- বি + ছিন্ন = বিচ্ছিন্ন।

• ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি:
- ক/চ/ট/ত/প+স্বর = গ/জ/ড(ড়)/দ/ব। 
যেমন:
- দিক্‌ + অন্ত = দিগন্ত;
- সৎ + উপায় = সদুপায়।

[স্বরধ্বনিগুলাে ঘােষবৎ হয়। এখানে ঘােষবৎ স্বরধ্বনির (ক, চ, ট, ত, প) প্রভাবে পূর্ববর্তী অঘােষ ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে ঘােষধ্বনিতে (গ, জ, ড, দ, ব) পরিণত হয়।]

• ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে। যেমন:
• চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র;  
• বিপদ্ + জনক = বিপজ্জনক;
• বাক্ + দান = বাগ্দান;
• তৎ + মধ্যে = তন্মধ্যে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১৯.
সমাস সাধিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. দিবারাত্র
  2. ভ্রাতাবৃন্দ
  3. নীরোগ
  4. নিরহঙ্কার
সঠিক উত্তর:
ভ্রাতাবৃন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রাতাবৃন্দ
ব্যাখ্যা
• সমাস সাধিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে ‘ভ্রাতাবৃন্দ’ শব্দে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: ভ্রাতৃবৃন্দ।

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্‌- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ- কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়।
যেমন- নেই ধন যার = নির্ধন; নেই গুণ যার = নির্গুণ; নেই পাপ যার = নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

• কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২০.
নিচের কোনটি বিসর্গ সন্ধির নিয়মে গঠিত?
  1. ধনুষ্টঙ্কার
  2. সংরক্ষণ
  3. দিগন্ত
  4. পরিচ্ছদ
সঠিক উত্তর:
ধনুষ্টঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধনুষ্টঙ্কার
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ- ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার।

অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ হলো:
- সম্ + রক্ষণ = সংরক্ষণ;
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত;
- পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।

-------------------
• বিসর্গ সন্ধি:
- বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্ ও স্-এর সাথে স্বরধ্বনির কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।
- বিসর্গ সন্ধি দুইভাবে সাধিত হয়। যথা:
১. বিসর্গ + স্বর এবং
২. বিসর্গ + ব্যঞ্জন।

• পূর্বপদের শেষে যদি অ/আা ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনির পর বিসর্গ (র-জাত) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি স্বরধ্বনি থাকে তবে সন্ধির ফলে বিসর্গ র্‌ হয়ে যায় এবং পরের স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
• ইঃ + অ = ই + র্‌:
- নিঃ + অন্ন = নিরন্ন,
- বহিঃ + অঙ্গ = বহিরঙ্গ।

• ইঃ + আ = ই + রা:
- নিঃ + আকার = নিরাকার,
- নিঃ + আশা = নিরাশা।

• উঃ + অ = উ + র:
- দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা,
- চতুঃ + অঙ্গ = চতুরঙ্গ।

• উঃ + আ = উ + রা:
- দুঃ + আত্মা = দুরাত্মা,
- দুঃ + আশা = দুরাশা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২১.
’Lease' শব্দের পারিভাষিক শব্দ-
  1. বন্ধক
  2. ইজারা
  3. জামানত
  4. আমানত
সঠিক উত্তর:
ইজারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইজারা
ব্যাখ্যা
• ’Lease' এর পারিভাষিক শব্দ - ইজারা।

অন্যদিকে,
• ‘Mortgage’ এর পারিভাষিক শব্দ - বন্ধক।
• ‘Security’ এর পারিভাষিক শব্দ - জামানত।
• ‘Deposit’ এর পারিভাষিক শব্দ - আমানত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
২২.
‘পদ্ম’ শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. কুবলয়
  2. পুলক
  3. পঙ্কজ
  4. উৎপল
সঠিক উত্তর:
পুলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুলক
ব্যাখ্যা
• ‘পদ্ম’ শব্দের সমার্থক শব্দ নয়- পুলক।
- “পুলক” শব্দের অর্থ: আনন্দ, হর্ষ।

• ‘পদ্ম’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
কমল, উৎপল, পঙ্কজ, কুমুদ, কুবলয়, শতদল, অরবিন্দ, রাজীব, নলিনী, সরোজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৩.
অশুদ্ধ বানানে লেখা হয়েছে কোনটি?
  1. স্বৈরসাশক
  2. অপেক্ষমাণ
  3. ইতঃপূর্বে
  4. শুভংকর
সঠিক উত্তর:
স্বৈরসাশক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বৈরসাশক
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান: স্বৈরসাশক।

• স্বৈরশাসক (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: একনায়ক।

অন্যদিকে,
অপেক্ষমাণ, ইতঃপূর্বে ও শুভংকর শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৪.
‘রক্তোষ্ঠ’ শব্দটি কোন সন্ধির উদাহরণ?
  1. বিসর্গ সন্ধি
  2. স্বরসন্ধি
  3. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
  4. ব্যঞ্জন সন্ধি
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সাথে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
- কতগুলো সন্ধি এই নিয়মের অনুসরণ করে হয় না। সেগুলোকে নিপাতনেসিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
যেমন:
- কুল + অটা = কুলটা (কুলাটা নয়);
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ (গবক্ষ নয়);
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ় (প্রোঢ় নয়);
- রক্ত + ওষ্ঠ = রক্তোষ্ঠ;
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড;
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৫.
‘Tribe’ শব্দের পারিভাষিক অর্থ কী?
  1. উপজাতি
  2. প্রবাসী
  3. প্রতিবেশী
  4. অভিবাসী
সঠিক উত্তর:
উপজাতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপজাতি
ব্যাখ্যা
• ‘Tribe’ শব্দের পারিভাষিক অর্থ - উপজাতি।

অন্যদিকে,
- ‘Immigrant / Migrant’  শব্দের পারিভাষিক অর্থ - অভিবাসী।
- ‘Citizen’ শব্দের পারিভাষিক অর্থ - অধিবাসী।
- ‘Emigrant’ শব্দের পারিভাষিক অর্থ - প্রবাসী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, অভিগম্য অভিধান এবং প্রশাসনিক পরিভাষা।
২৬.
‘বাচস্পতি’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বাচ্ + স্পতি
  2. বাচসঃ + পতি
  3. বাচঃ + স্পতি
  4. বাচঃ + পতি
সঠিক উত্তর:
বাচঃ + পতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাচঃ + পতি
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনি স্ত, স্থ কিংবা স্প পরে থাকলে পূর্ববর্তী বিসর্গ অবিকৃৃত থাকে অথবা লোপ পায়।
যেমন:
- নিঃ + স্তদ্ধ = নিস্তব্ধ।
- দুঃ + স্থ = দুস্থ।
- নিঃ + স্পন্দ = নিস্পন্দ।

কয়েকটি বিশেষ বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ:
- বাচঃ + পতি = বাচস্পতি।
- অহঃ + অহ = অহরহ।
- অহঃ + নিশ = অহর্নিশ।
- ভাঃ + কর = ভাস্কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৭.
‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. বিশিষ্টতা
  2. কৃপণতা
  3. স্বাতন্ত্র‌্যতা
  4. চঞ্চলতা
সঠিক উত্তর:
স্বাতন্ত্র‌্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাতন্ত্র‌্যতা
ব্যাখ্যা
• ‘স্বাতন্ত্র‌্যতা’ শব্দে ‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: স্বাতন্ত্র‌্য, স্বতন্ত্রতা।

• ‘তা’ এবং ‘ত্ব’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
অশুদ্ধরূপ - শুদ্ধরূপ:
• অধৈর্যতা - অধৈর্য, ধীরতা।
• আলস্যতা - আলস্য, অলসতা।
• স্বাতন্ত্র‌্যতা - স্বাতন্ত্র‌্য, স্বতন্ত্রতা।
• ঐক্যতা - ঐক্য, একতা।
• দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা।
• বৈশিষ্ট্যতা -বৈশিষ্ট্য, বিশিষ্টতা।
• কার্পণ্যতা - কার্পন্য, কৃপণতা।
• চাঞ্চল্যতা - চাঞ্চল্য, চঞ্চলতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৮.
‘Letter of credit’ শব্দের পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. দায়বন্ধনপত্র
  2. ঋণপত্র
  3. অনুজ্ঞাপত্র
  4. স্বত্বত্যাগপত্র
সঠিক উত্তর:
ঋণপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঋণপত্র
ব্যাখ্যা
• ‘Letter of credit’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - আকলপত্র, বরাতী চিঠি, ঋণপত্র।

অন্যদিকে,
• ‘Letter of license’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - অনুজ্ঞাপত্র।
• ‘Letter of renunciation’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - স্বত্বত্যাগপত্র।
• ‘Letter of hypothecation’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - দায়বন্ধনপত্র।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা এবং বাংলা একাডেমি, অভিগম্য অভিধান।
২৯.
'সাপ' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. মৃগেন্দ্র
  2. অহি
  3. নগজ
  4. বারণ
সঠিক উত্তর:
অহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অহি
ব্যাখ্যা
• 'সাপ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
সৰ্প, অহি, ফণী, নাগ, ভুজগ, ভুজঙ্গ, আশীবিষ, উরগ, বিষধর, পন্নগ।

অন্যান্য শব্দগুলোর প্রতিশব্দ বা সমর্থক শব্দ হলো:
• ‘সিংহ' এর সমার্থক শব্দ: পশুরাজ, কেশরী, মৃগেন্দ্র, পারীন্দ্র, মৃগরাজ।
• 'হাতি' এর সমার্থক শব্দ: গজ, দ্বিপ, দ্বিরদ, বারণ, ঐরাবত হস্তী, করী, দন্তী, দন্তাবল, নগজ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩০.
‘হরদম’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. হাল
  2. হঠাৎ
  3. স্থাবর
  4. নিয়ত
সঠিক উত্তর:
হঠাৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হঠাৎ
ব্যাখ্যা
• ‘হরদম’ শব্দের অর্থ: নিয়ত, সর্বদা, অনবরত।

• ‘হরদম’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - হঠাৎ।

অন্যদিকে,
• হাল - সাবেক।
• স্থাবর - অস্থাবর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২- সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি অভিধান।
৩১.
কোনটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. সবিনয়
  2. নীলকণ্ঠ
  3. ঘোড়াগাড়ি
  4. শূলপাণি
সঠিক উত্তর:
ঘোড়াগাড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘোড়াগাড়ি
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লােপ পায় তাকে বলা হয় ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
- ঘোড়ার গাড়ি = ঘোড়াগাড়ি:
- চায়ের বাগান = চাবাগান;
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র;
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট;
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ;
- দেশের সেবা = দেশসেবা;
- দিল্লীর ঈশ্বর = দিল্লীশ্বর;
- পাটের ক্ষেত = পাটক্ষেত;
- ছবির ঘর = ছবিঘর;
- বিড়ালের ছানা = বিড়ালছানা;
- মৃগীর শিশু = মৃগশিশু।

অন্যদিকে,
• বিনয়ের সঙ্গে বর্তমান = সবিনয়; সহার্থক বহুব্রীহি সমাস এর উদাহরণ।
• নীল কণ্ঠ যার = নীলকণ্ঠ; সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস এর উদাহরণ। 
• শূল পাণিতে যার = শূলপাণি; ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস এর উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২.
‘Superintendent’ শব্দের পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. উপরিপত্তি
  2. উচ্চ অধিকারী
  3. উপরিন্যস্ত
  4. অধীক্ষক
সঠিক উত্তর:
অধীক্ষক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধীক্ষক
ব্যাখ্যা
• ‘Superintendent’ এর বাংলা পরিভাষা - অধীক্ষক, অধীক্ষকা।

অন্যদিকে,
‘Superincumbent’ অর্থ - উপরিন্যস্ত।
‘Superior authority’ অর্থ - উচ্চ অধিকারী।
‘Superposition’ অর্থ - উপরিপত্তি, উপরিপাত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
৩৩.
'নদী' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. হিল্লোল
  2. রত্নাকর
  3. উল্লোল
  4. নির্ঝরণী
সঠিক উত্তর:
নির্ঝরণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্ঝরণী
ব্যাখ্যা
• 'নদী' শব্দের সমার্থক শব্দ:
নদ, নদনদী, তটিনী, প্রবাহিণী, তরঙ্গিনী, শৈবালিনী, স্রোতস্বিনী, স্রোতস্বতী, নির্ঝরণী, গাঙ, সরিৎ, সমুদ্রকান্তা, সমুদ্রদয়িতা, স্রোতবহা, মন্দাকিনী, স্রোতোবহ, কল্লোলিনী।
 
অন্যদিকে,
• 'সমুদ্র' শব্দের সমার্থক শব্দ:
জলধি, সাগর, সিন্ধু, সায়র, দরিয়া, অকূল, পাথার, বারিধি, রত্নাকর, নীলাম্বু, পয়োধি।

• ‘ঊর্মি’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
তরঙ্গ, ঢেউ, কল্লোল, হিল্লোল, লহর, লহরী, উল্লোল, মহোর্মি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।