পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন
সিলেবাস
বিষয় - বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ টপিকসমূহ: ১. পদ-প্রকরণ [পদ ও এর শ্রেণিবিভাগ] ২. বাক্য প্রকরণ [বাক্য ও বাক্যের প্রকারভেদ; বাক্য ও উক্তির পরিবর্তন; কারক ও বিভক্তি; বাচ্য ও বাচ্যের পরিবর্তন।] উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · প্রশ্ন

.
নিচের কোনটি ক্রিয়া-বিশেষ্য?
  1. জনতা
  2. সরলতা
  3. দয়া
  4. করা
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য:
- যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে।
- যেমন: নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।  

♠ বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার: 
১. নাম-বিশেষ্য:
• হাবিব, সজল, বাংলাদেশ, পদ্মা, বৈশাখ ইত্যাদি।
২. জাতি-বিশেষ্য:
• মানুষ, গরু, ফুল, নদী ইত্যাদি।
৩. বস্তু-বিশেষ্য:
• ইট, লবণ, আকাশ ইত্যাদি।
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য:
• জনতা, পরিবার, বাহিনী ইত্যাদি।
৫. গুণ-বিশেষ্য:
• সরলতা, দয়া, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য:
• ক্রিয়া বা কাজের নাম বুঝায়।
• পঠন, ভোজন,শয়ন, করা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।  
.
নিচের কোনটি অবস্থাবাচক বিশেষণ? 
  1. ঠান্ডা 
  2. তরল
  3. বেশ
  4. খুব 
ব্যাখ্যা
বিশেষণ:
• যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
• যেমন - সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা। 

♣ বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ: 
১. বর্ণবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা।
২. গুণবাচক: চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি। 
৩. অবস্থাবাচক: চলন্ত গাড়ি, তরল পদার্থ।  
৪. ক্রমবাচক: এক টাকা, আট দিন।
৫. পূরণবাচক: তৃতীয়, ৩৪তম।
৬. পরিমাণবাচক: আধা কেজি, অনেক।
৭. উপাদানবাচক: বেলে, পাথুরে।
৮. প্রশ্নবাচক: কেমন, কতক্ষণ।
৯. নির্দিষ্টবাচক: এই, সেই।
১০. ভাববাচক: খুব, বেশ।
১১. বিধেয় বিশেষণ: লোকটা পাগল, পানি ঘোলা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
.
যেকোনো সাধারণ বাক্যের প্রধান কয়টি অংশ থাকে?
ব্যাখ্যা
বাক্য:
• এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে। 
• বাক্যের মাধ্যমে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়। যেমন - সজল ও লতা বই পড়ে। 

⇒ সাধারণ বাক্যের প্রধান তিনটি অংশ: 
• কর্তা: বাক্যের ক্রিয়াকে চালায়; 
• কর্ম: যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয়; 
• ক্রিয়া: যে অংশ দিয়ে কোন কিছু করা, ঘটা বা হওয়া বোঝায়। 

⇒ প্রতিটি বাক্যকে দুই অংশে ভাগ করা যায়:
• উদ্দেশ্য: যে অংশে করো সম্পর্কে বলা হয়;  
• বিধেয়: যে অংশে উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু বলা হয়। 

⇒ গঠনগত দিক দিয়ে বাক্য তিন প্রকার: 
১. সরল,
২. জটিল,
৩. যৌগিক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
‘ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে’ - এখানে 'করলে' কোন ধরনের ক্রিয়া?  
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. সমাপিকা ক্রিয়া
  3. অসমাপিকা ক্রিয়া
  4. সরল ক্রিয়া 
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া:
- বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে। যেমন - 
• রাজীব খেলছে,
• বৃষ্টি হতে পারে।  
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়। যেমন - পড়্‌ + ই = পড়ি।

⇒ ভাব প্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া ২ প্রকার: 
১. সমাপিকা ক্রিয়া:   
• ভাব সম্পূর্ণ হয়। 
• যেমন - ভালো করে পড়াশোনা করবে।   
২. অসমাপিকা ক্রিয়া:
• ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না। 
• যেমন - ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে।  

⇒ গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া ৫ প্রকার:
১. সরল ক্রিয়া:
• সে লিখছে; ছেলেরা মাঠে খেলছে। 
২. প্রযোজক ক্রিয়া:
• তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন, রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
৩. নামক্রিয়া:
• চমকানো, চমকায়, কমা, ছটফটানো (আ বা আনো প্রত্যয় যোগে)। 
৪. সংযোগ ক্রিয়া:
• গান করা, গরম করা, সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা, মরচে ধরা, ক্যাচ ধরা।
৫. যৌগিক ক্রিয়া:
• সমাপিকা ক্রিয়ার সাথে অসমাপিকা ক্রিয়া যক্ত হয়। 
- যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
.
‘তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ’ বাক্যটিকে সরল বাক্য়ে রূপান্তর কর?
  1. তুমি চেষ্টা করোনি, অথচ ব্যর্থ হয়েছ। 
  2. যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ। 
  3. তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
  4. তুমি চেষ্টা করোনি, ফলে ব্যর্থ হয়েছ।  
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
• পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে। 
• তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
• আমরা তিন ভাইবোন ( ক্রিয়া অনুপস্থিত)।

যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক ব্যবহৃত হয়।
- কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে। 
• হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
• অন্ধকার হয়ে এসেছে - বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।  


⇒ যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; আর সরল বাক্যে একটি।
- তাই যৌগিক থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময় মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়। 

• যৌগিক বাক্য: সে এখানে এল এবং সব কথা খুলে বলল। 
• সরল বাক্য: সে এখানে এসে সব কথা খুলে বলল। 
 
• যৌগিক বাক্য: তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ। 
• সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
.
‘রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো’ - এই বাক্যে 'ব্যাকরণে' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক 
  2. অধিকরণ কারক
  3. সম্বন্ধ কারক 
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
কারক:
- কারক শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘যে ক্রিয়া সম্পন্ন করে’। 
- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ, √কৃ + অক(ণক)।
- মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে। 

⇒ কারক ছয় প্রকার: 
১. কর্তা কারক, 
২. কর্ম কারক, 
৩. করণ কারক, 
৪. অপাদান কারক, 
৫. অধিকরণ কারক ও 
৬. সম্বন্ধ কারক। 

অধিকরণ কারক: 
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘এ’, ‘য়’, ‘-য়ে’, ‘-তে’ ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
- যেমন:  
• বাবা বাড়িতে আছেন। 
• বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে। 
• রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।  
তিলে তৈল আছে। 
• শফিল অঙ্কে ভালো, কিন্তু ইতিহাসে কাঁচা।  
বনে বাঘ আছে।
• শিশুরা বিদ্যালয়ে পড়ে। 
• বাবা পুকুর পাড়ে বসে আছেন।   

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।      
.
‘ধনে ধনে ঘর ভরেছে’ - এই বাক্যে 'ধনে ধনে' কোন কারক? 
  1. কর্ম কারক 
  2. কর্তা কারক 
  3. সম্বন্ধ কারক 
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
⇒ করণ কারক:  
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
- যেমন: 
ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
• চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।  
ধনে ধনে ঘর ভরেছে।
চেষ্টায় সব হয়। 
• এ কাগজে ভালো লেখা হবে না।
• দস্যুদল গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে।     

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে বলে-
  1. কর্তাবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. কর্মবাচ্য
  4. সম্বন্ধ পদ
ব্যাখ্যা
• কর্তাবাচ্য
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে।
- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।

যেমন -
- ঝরনা ছবি আঁকে।
- আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।

• কর্মবাচ্য
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।

যেমন -
- পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
- চিঠিটা পড়া হয়েছে।

• ভাববাচ্য
- যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।

যেমন -
- আমার যাওয়া হলাে না।
- কোথা থেকে আসা হলাে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২০ সংস্করণ)।
.
'যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।'– বাক্যটির সঠিক যৌগিক বাক্য কোনটি?
  1. বিপদ তথাপি দুঃখ এক সময়ে আসে।
  2. বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।
  3. বিপদ আসলে দুঃখও আসে।
  4. যখন বিপদ আসে, সাথে দুঃখো আসে।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্য: 
- জটিল বাক্যের সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজক বাদ দিয়ে যৌগিক বাক্য তৈরি করতে হয়।
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়া থাকে।

যেমন -
- জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে
- যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।
- জটিল বাক্য: যদি নিয়মিত সাঁতার কাটো, তবে স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।
- যৌগিক বাক্য: নিয়মিত সাঁতার কাটো, স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।