পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়36 minutes
মোট প্রশ্ন৪৯
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৬: বিষয় - গাণিতিক যুক্তি টপিক - পাটিগণিত [i) বাস্তব সংখ্যা, ভগ্নাংশ, ল.সা.গু ও গ.সা.গু, শতকরা, ii) সরল ও যৌগিক মুনাফা, লাভ-ক্ষতি, অংশীদারী হিসাব, অনুপাত ও সমানুপাত] এবং বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক - বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) প্রাচীন যুগ - প্রাচীন জনপদ বিভিন্ন রাজবংশের শাসন, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি; ii) মধ্যযুগ - মুসলিম শাসন, মুঘল, সুলতানি ও নবাবী আমলে বাংলা ও উপমহাদেশ; iii) উপমহাদেশ ইউরোপীয়দের আগমন, ইংরেজ শাসন ও ইংরেজ শাসনামলে আন্দোলন সংগ্রাম ও উপমহাদেশের ইতিহাস।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৯ প্রশ্ন

.
m একটি জোড় সংখ্যা এবং n একটি বিজোড় সংখ্যা হলে, নিচের কোনটি সর্বদা একটি জোড় সংখ্যা হবে?
  1. (m × n) + 1
  2. mn - 1
  3. m × (n + 1)
  4. n2 + 2
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: m একটি জোড় সংখ্যা এবং n একটি বিজোড় সংখ্যা হলে, নিচের কোনটি সর্বদা একটি জোড় সংখ্যা হবে?

সমাধান:
মনে করি, m = 2 (জোড়) এবং n = 3 (বিজোড়)।

অপশন ক) (m × n) + 1 = (2 × 3) + 1 = 6 + 1 = 7 ⇒ বিজোড়
অপশন খ) mn - 1 = 23 - 1 = 8 - 1 = 7 ⇒ বিজোড়
অপশন গ) m × (n + 1) = 2 × (3 + 1) = 2 × 4 = 8 ⇒ জোড়
অপশন ঘ) n2 + 2 = 32 + 2 = 9 + 2 = 11 ⇒ বিজোড়

দেখা যাচ্ছে, শুধুমাত্র 'গ' অপশনটি সর্বদা জোড় সংখ্যা প্রদান করে।
∴ সঠিক উত্তর: গ) m × (n + 1)

.
যদি একটি সংখ্যার ২০% হয় ৩০, তাহলে ঐ সংখ্যার ৪৮% কত হবে?
  1. ৬০
  2. ৭২
  3. ৮৪
  4. ৯০
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: যদি একটি সংখ্যার ২০% হয় ৩০, তাহলে ঐ সংখ্যার ৪৮% কত হবে?

সমাধান:
ধরি, সংখ্যাটি = x

প্রশ্নমতে,
x এর ২০% = ৩০
⇒ x × (২০/১০০) = ৩০
⇒ x × (১/৫) = ৩০
∴ x = ১৫০

আবার,
x এর ৪৮%
= ১৫০ × (৪৮/১০০)
= (১৫০ × ৪৮)/১০০
= ৭২০০/১০০
= ৭২

.
১২.৫% সরল সুদে কোনো মূলধন কত বছরে সুদে-আসলে তিনগুণ হবে?
  1. ১০ বছর
  2. ১৬ বছর
  3. ২০ বছর
  4. ২৫ বছর
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ১২.৫% সরল সুদে কোনো মূলধন কত বছরে সুদে-আসলে তিনগুণ হবে?

সমাধান:
ধরি, মূলধন = P টাকা
সুদের হার, r = ১২.৫%
সময় = n বছর

সুদে-আসলে ৩ গুণ হলে, সুদ-আসল = ৩P
∴ সুদ, I = ৩P - P = ২P টাকা

আমরা জানি,
I = (P × n × r)/১০০
⇒ ২P = (P × n × ১২.৫)/১০০
⇒ ২ = (n × ১২.৫)/১০০
⇒ ২ × ১০০ = ১২.৫n
⇒ ২০০ = ১২.৫n
⇒ n = ২০০/১২.৫
∴ n = ১৬ বছর

সুতরাং, ১৬ বছরে মূলধন সুদে-আসলে তিনগুণ হবে।

.
৩/১০ এবং ৯/২০ এর ল.সা.গু কত?
  1. ৯/১০
  2. ৩/২০
  3. ৩/১৬
  4. ১২/২৫
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ৩/১০ এবং ৯/২০ এর ল.সা.গু কত?

সমাধান:
আমরা জানি,
ভগ্নাংশের ল.সা.গু = লবগুলোর ল.সা.গু/হরগুলোর গ.সা.গু

লব (৩, ৯)-এর ল.সা.গু নির্ণয়:
৩ = ৩ × ১
৯ = ৩ × ৩
∴ লবগুলোর ল.সা.গু = ৩ × ৩ = ৯

হর (১০, ২০)-এর গ.সা.গু নির্ণয়:
১০ = ২ × ৫
২০ = ২ × ২ × ৫
∴ হরগুলোর গ.সা.গু = ২ × ৫ = ১০

∴ ৩/১০ এবং ৯/২০ এর ল.সা.গু = ৯/১০

.
একটি বাঁশের ০.১২৫ অংশ কাদায়, ৩/৭ অংশ পানিতে এবং অবশিষ্ট ২৫ মিটার পানির উপরে আছে। বাঁশটির দৈর্ঘ্য কত?
  1. ৩৬ মিটার
  2. ৫৬ মিটার
  3. ৭২ মিটার
  4. ৬০ মিটার
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি বাঁশের ০.১২৫ অংশ কাদায়, ৩/৭ অংশ পানিতে এবং অবশিষ্ট ২৫ মিটার পানির উপরে আছে। বাঁশটির দৈর্ঘ্য কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
কাদায় আছে = ০.১২৫ অংশ = ১২৫/১০০০ অংশ = ১/৮ অংশ।
পানিতে আছে = ৩/৭ অংশ।

ধরি,
সম্পূর্ণ বাঁশটির দৈর্ঘ্য = ক মিটার

প্রশ্নমতে,
ক - (ক/৮) - (৩ক/৭) = ২৫
⇒ (৫৬ক - ৭ক - ২৪ক)/৫৬ = ২৫
⇒ ২৫ক/৫৬ = ২৫
⇒ ২৫ক = ২৫ × ৫৬
⇒ ক = (২৫ × ৫৬)/২৫
∴ ক = ৫৬

সুতরাং সম্পূর্ণ বাঁশের দৈর্ঘ্য = ৫৬ মিটার।

.
যদি x : y = 4 : 3, y : z = 5 : 4 এবং x = 200 হয়, তবে z এর মান কত?
  1. 120
  2. 150
  3. 90
  4. 160
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: যদি x : y = 4 : 3, y : z = 5 : 4 এবং x = 200 হয়, তবে z এর মান কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে:
x : y = 4 : 3,  y : z = 5 : 4 এবং x = 200

এখন,
x : y = 4 : 3 
⇒ x/y = 4/3
⇒ 200/y = 4/3 [x = 200]
⇒ y = 200 × (3/4)
∴ y = 150

আবার,
y : z = 5 : 4
⇒ y/z = 5/4
⇒ 150/z = 5/4
⇒ z = 150 × (4/5)
∴ z = 120

.
১০ টাকায় ১২ টি কলা বিক্রয় করলে ২০% ক্ষতি হয়। ২৪ টি কলার ক্রয়মূল্য কত? 
  1. ২০ টাকা
  2. ২৫ টাকা
  3. ৩৩.৩৩ টাকা
  4. ৩০ টাকা
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ১০ টাকায় ১২ টি কলা বিক্রয় করলে ২০% ক্ষতি হয়। ২৪ টি কলার ক্রয়মূল্য কত?

সমাধান:
২০% ক্ষতিতে বিক্রয়মূল্য = (১০০ - ২০) টাকা = ৮০ টাকা

বিক্রয়মূল্য ৮০ টাকা হলে ক্রয়মূল্য = ১০০ টাকা
∴ বিক্রয়মূল্য ১ টাকা হলে ক্রয়মূল্য = ১০০/৮০ টাকা
∴ বিক্রয়মূল্য ১০ টাকা হলে ক্রয়মূল্য = (১০০ × ১০)/৮০ টাকা = ২৫/২ টাকা

এখন,
১২ টি কলার ক্রয়মূল্য = ২৫/২ টাকা
∴ ১ টি কলার ক্রয়মূল্য = ২৫/(২ × ১২) টাকা
∴ ২৪ টি কলার ক্রয়মূল্য = (২৪ × ২৫)/(২ × ১২) টাকা = ২৫ টাকা

∴ ২৪ টি কলার ক্রয়মূল্য ২৫ টাকা।

.
কামাল একটি সঞ্চয় স্কিমে ৯ মাসে ৪৫০ টাকা মুনাফা পেল। সরল মুনাফার হার ৬% হলে, কামাল ওই স্কিমে কত টাকা জমা রেখেছিল?
  1. ৯০০০ টাকা
  2. ১০০০০ টাকা
  3. ৮৫০০ টাকা
  4. ১২০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: কামাল একটি সঞ্চয় স্কিমে ৯ মাসে ৪৫০ টাকা মুনাফা পেল। সরল মুনাফার হার ৬% হলে, কামাল ওই স্কিমে কত টাকা জমা রেখেছিল?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
মুনাফা, I = ৪৫০ টাকা
সময়, n = ৯ মাস = ৯/১২ বছর = ৩/৪ বছর
মুনাফার হার, r = ৬%

আমরা জানি,
I = (P × r × n)/১০০
⇒ ৪৫০ = {P × ৬ × (৩/৪)}/১০০
⇒ ৪৫০ × ১০০ = P × (১৮/৪)
⇒ P = (৪৫০ × ১০০ × ৪)/১৮  
∴ P = ১০০০০

অর্থাৎ, কামাল ১০০০০ টাকা জমা রেখেছিল।

.
  1. ২/৩
  2. ৩/৪
  3. ৭/৮
  4. ৩/১০
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন:

সমাধান:

১০.
চারটি ঘণ্টা যথাক্রমে ৬ মিনিট, ৯ মিনিট, ১২ মিনিট ও ১৫ মিনিট পরপর বাজে। যদি দুপুর ১২ : ৪০ টায় ঘণ্টাগুলো একবার একত্রে বাজে, তাহলে ঘণ্টাগুলো পুনরায় কখন একত্রে বাজবে?
  1. ১ : ৫০ টায়
  2. ২ : ৩০ টায়
  3. ৩ : ৪০ টায়
  4. ৪ : ২০ টায় 
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: চারটি ঘণ্টা যথাক্রমে ৬ মিনিট, ৯ মিনিট, ১২ মিনিট ও ১৫ মিনিট পরপর বাজে। যদি দুপুর ১২ : ৪০ টায় ঘণ্টাগুলো একবার একত্রে বাজে, তাহলে ঘণ্টাগুলো পুনরায় কখন একত্রে বাজবে?

সমাধান:
ঘণ্টাগুলো একবার একত্রে বাজার পর ৬, ৯, ১২, ১৫ এর ল.সা.গু সমান সময়ের পর আবার একত্রে বাজবে।

সংখ্যাগুলোর মৌলিক উৎপাদক:
৬ = ২ × ৩
৯ = ৩ × ৩
১২ = ২ × ২ × ৩
১৫ = ৫ × ৩

∴ ল.সা.গু = ২ × ২ × ৩ × ৩ × ৫
= ১৮০ মিনিট = ৩ ঘণ্টা

সুতরাং, ঘণ্টাগুলো পুনরায় একত্রে বাজবে = ১২ : ৪০ + ৩ ঘণ্টা = ৩ : ৪০ টায়

১১.
যদি চিনির মূল্য ২৫% হ্রাস পায় তবে চিনির ব্যবহার শতকরা কত বাড়ালে চিনি বাবদ ব্যয় সমান থাকবে?
  1. ৩০.৭৫%
  2. ৩৩.৩৩%
  3. ৩৭.৫০%
  4. ৪০%
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: যদি চিনির মূল্য ২৫% হ্রাস পায় তবে চিনির ব্যবহার শতকরা কত বাড়ালে চিনি বাবদ ব্যয় সমান থাকবে?

সমাধান:
২৫% হ্রাসে, চিনির বর্তমান মূল্য = (১০০ - ২৫) = ৭৫ টাকা
পূর্বের ১০০ টাকার চিনি এখন পাওয়া যায় ৭৫ টাকায়। অর্থাৎ, ব্যয় অপরিবর্তিত রাখতে হলে ৭৫ টাকায় ব্যবহার বাড়াতে হবে ২৫ টাকার।

৭৫ টাকায় ব্যবহার বাড়াতে হবে = ২৫ টাকা
১ টাকায় ব্যবহার বাড়াতে হবে = ২৫/৭৫ টাকা
∴ ১০০ টাকায় ব্যবহার বাড়াতে হবে (২৫ × ১০০)/৭৫ টাকা
= ১০০/৩ = ৩৩.৩৩ টাকা

∴ চিনির ব্যবহার ৩৩.৩৩% বাড়াতে হবে।

১২.
৮, ১০ ও ১৬ এর চতুর্থ সমানুপাতিক কত?
  1. ২০
  2. ১৮
  3. ২৪
  4. ৩২
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ৮, ১০ ও ১৬ এর চতুর্থ সমানুপাতিক কত?

সমাধান:
আমরা জানি,
সমানুপাতিকের ক্ষেত্রে,
প্রথম রাশি : দ্বিতীয় রাশি = তৃতীয় রাশি : চতুর্থ রাশি
বা, প্রথম রাশি × চতুর্থ রাশি = দ্বিতীয় রাশি × তৃতীয় রাশি

এখানে, প্রথম রাশি = ৮, দ্বিতীয় রাশি = ১০ এবং তৃতীয় রাশি = ১৬

সূত্রমতে,
৮ × চতুর্থ রাশি = ১০ × ১৬
⇒ ৮ × চতুর্থ রাশি = ১৬০
⇒ চতুর্থ রাশি = ১৬০/৮
∴ চতুর্থ রাশি = ২০

অর্থাৎ, চতুর্থ সমানুপাতিক সংখ্যাটি ২০

১৩.
কোনো আসল ৫ বছরে মুনাফা-আসলে ৫২৫০ টাকা হয়। মুনাফা, আসলের ৩/৪ অংশ হলে সরল মুনাফার হার কত?
  1. ১০%
  2. ১২.৫%
  3. ১৫%
  4. ২০%
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: কোনো আসল ৫ বছরে মুনাফা-আসলে ৫২৫০ টাকা হয়। মুনাফা, আসলের ৩/৪ অংশ হলে সরল মুনাফার হার কত?

সমাধান:
মনে করি, আসল = ক টাকা
শর্তমতে, মুনাফা = ক এর ৩/৪ অংশ = ৩ক/৪ টাকা

আমরা জানি, আসল + মুনাফা = মুনাফা - আসল
⇒ ক + ৩ক/৪ = ৫২৫০
⇒ (৪ক + ৩ক)/৪ = ৫২৫০
⇒ ৭ক/৪ = ৫২৫০
⇒ ৭ক = ৫২৫০ × ৪
⇒ ৭ক = ২১০০০
⇒ ক = ২১০০০/৭
∴ ক = ৩০০০

সুতরাং, আসল (P) = ৩০০০ টাকা
মুনাফা (I) = ৩০০০ এর ৩/৪ অংশ = ২২৫০ টাকা
সময় (n) = ৫ বছর

আমরা জানি,
মুনাফার হার, r = (I × ১০০)/(P × n)
⇒ r = (২২৫০ × ১০০)/(৩০০০ × ৫)
⇒ r = ২২৫০০০/১৫০০০
∴ r = ১৫%

∴ নির্ণেয় সরল মুনাফার হার = ১৫%

১৪.
ক, খ ও গ ৪০০ টাকা নিয়ে একটি ব্যবসা শুরু করল। ক ও খ এর মূলধন সমান কিন্তু গ এর মূলধন ৪০ টাকা বেশি। মোট ১১০ টাকা লাভ হলে, গ কত টাকা লাভ পাবে?
  1. ৪৪ টাকা
  2. ৫৬ টাকা
  3. ৬৪ টাকা
  4. ৩৬ টাকা
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ক, খ ও গ ৪০০ টাকা নিয়ে একটি ব্যবসা শুরু করল। ক ও খ এর মূলধন সমান কিন্তু গ এর মূলধন ৪০ টাকা বেশি। মোট ১১০ টাকা লাভ হলে, গ কত টাকা লাভ পাবে?

সমাধান:
ধরি, ক ও খ এর প্রত্যেকের মূলধন x টাকা।
∴ গ এর মূলধন = (x + ৪০) টাকা

প্রশ্নমতে,
x + x + (x + ৪০) = ৪০০
⇒ ৩x + ৪০ = ৪০০
⇒ ৩x = ৪০০ - ৪০
⇒ ৩x = ৩৬০
⇒ x = ৩৬০/৩
⇒ x = ১২০

∴ ক ও খ এর প্রত্যেকের মূলধন = ১২০ টাকা
∴ গ এর মূলধন = (১২০ + ৪০) টাকা = ১৬০ টাকা

ক : খ : গ = ১২০ : ১২০ : ১৬০ = ১২ : ১২ : ১৬
= ৩ : ৩ : ৪

অনুপাতের রাশিগুলোর সমষ্টি = ৩ + ৩ + ৪ = ১০

∴ গ পাবে = ১১০ এর (৪/১০) টাকা
= (১১ × ৪) টাকা
= ৪৪ টাকা

১৫.
কোন ভগ্নাংশটি ৫/৮ থেকে বড়?
  1. ৩/৫
  2. ৭/১১
  3. ৪/৭
  4. ৯/১৬
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: কোন ভগ্নাংশটি ৫/৮ থেকে বড়?

সমাধান:
প্রদত্ত ভগ্নাংশ ৫/৮ = ০.৬২৫

এখন অপশনগুলো দেখি:
ক) ৩/৫ = ০.৬
খ) ৭/১১ ≈ ০.৬৩৬
গ) ৪/৭ ≈ ০.৫৭১
ঘ) ৯/১৬ = ০.৫৬২৫

এখানে ০.৬৩৬ সংখ্যাটি ০.৬২৫ এর চেয়ে বড়।

∴ ৭/১১ ভগ্নাংশটি ৫/৮ থেকে বড়।

১৬.
একটি ঘড়ি ২০% ক্ষতিতে বিক্রি করা হলো। বিক্রয়মূল্য ৮০ টাকা বেশি হলে ৫% লাভ হত। ঘড়িটির ক্রয়মূল্য কত টাকা? 
  1. ৩২০ টাকা
  2. ৩৬০ টাকা
  3. ৪০০ টাকা
  4. ২৮০ টাকা
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি ঘড়ি ২০% ক্ষতিতে বিক্রি করা হলো। বিক্রয়মূল্য ৮০ টাকা বেশি হলে ৫% লাভ হত। ঘড়িটির ক্রয়মূল্য কত টাকা? 

সমাধান:
ধরি, ঘড়িটির ক্রয়মূল্য = ১০০ টাকা

২০% ক্ষতিতে, বিক্রয়মূল্য = ১০০ - ২০ = ৮০ টাকা
৫% লাভে, বিক্রয়মূল্য = ১০০ + ৫ = ১০৫ টাকা

∴ বিক্রয়মূল্য বেশি = ১০৫ - ৮০ = ২৫ টাকা

বিক্রয়মূল্য ২৫ টাকা বেশি হলে ক্রয়মূল্য = ১০০ টাকা
বিক্রয়মূল্য ১ টাকা বেশি হলে ক্রয়মূল্য = ১০০/২৫ টাকা
বিক্রয়মূল্য ৮০ টাকা বেশি হলে ক্রয়মূল্য = (১০০ × ৮০)/২৫ টাকা
= ৪ × ৮০ টাকা
= ৩২০ টাকা

সুতরাং, ঘড়িটির ক্রয়মূল্য ৩২০ টাকা।

১৭.
দুটি ক্রমিক স্বাভাবিক সংখ্যার বর্গের অন্তর 121 হলে, বড় সংখ্যাটি কত?
  1. 67
  2. 55
  3. 61
  4. 63
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: দুটি ক্রমিক স্বাভাবিক সংখ্যার বর্গের অন্তর 121 হলে, বড় সংখ্যাটি কত?

সমাধান:
ধরি, ছোট সংখ্যাটি = x
বড় সংখ্যাটি = x + 1

প্রশ্নমতে,
(x + 1)2 - x2 = 121
⇒ x2 + 2x + 1 - x2 = 121
⇒ 2x + 1 = 121
⇒ 2x = 121 - 1
⇒ 2x = 120
⇒ x = 120/2
∴ x = 60

∴ বড় সংখ্যাটি = 60 + 1 = 61

১৮.
পাঁচ অংকের ক্ষুদ্রতম সংখ্যার সাথে কোন ক্ষুদ্রতম সংখ্যা যোগ করলে যোগফল ১০, ১৫ এবং ২০ দ্বারা নিঃশেষে বিভাজ্য হবে?
  1. ২০
  2. ৪০
  3. ৬০
  4. ১২
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: পাঁচ অংকের ক্ষুদ্রতম সংখ্যার সাথে কোন ক্ষুদ্রতম সংখ্যা যোগ করলে যোগফল ১০, ১৫ এবং ২০ দ্বারা নিঃশেষে বিভাজ্য হবে?

সমাধান:
১০, ১৫ এবং ২০ এর ল.সা.গু = ৬০

পাঁচ অংকের ক্ষুদ্রতম সংখ্যা = ১০০০০

১০০০০ কে ৬০ দ্বারা ভাগ করলে ভাগশেষ থাকে ৪০

∴ নির্ণেয় ক্ষুদ্রতম সংখ্যা = ৬০ - ৪০ = ২০

১৯.
একটি নির্বাচনে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিজয়ী প্রার্থী মোট ভোটের ৬০% ভোট পেয়ে পরাজিত প্রার্থী থেকে ৮০ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেন। ঐ নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা কত ছিল?
  1. ৪০০ জন
  2. ৪৮০ জন
  3. ৫৩০ জন
  4. ৬০০ জন
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি নির্বাচনে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিজয়ী প্রার্থী মোট ভোটের ৬০% ভোট পেয়ে পরাজিত প্রার্থী থেকে ৮০ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেন। ঐ নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা কত ছিল?

সমাধান:
ধরি, মোট ভোট = ১০০%
বিজয়ী প্রার্থী ভোট পান = ৬০%
∴ পরাজিত প্রার্থী ভোট পান = (১০০% - ৬০%) = ৪০%

বিজয়ী প্রার্থী বেশি ভোট পান = (৬০% - ৪০%) = ২০%

প্রশ্নমতে,
২০% = ৮০ জন
⇒ ১% = ৮০/২০ জন
∴ ১০০% = (৮০ × ১০০)/২০ জন
= ৪ × ১০০
= ৪০০ জন

∴ মোট ভোটারের সংখ্যা ৪০০ জন।

২০.
১২% হারে ২৫,০০০ টাকার ২ বছরে চক্রবৃদ্ধি মুনাফা কত টাকা হবে?
  1. ৫১০০ টাকা
  2. ৬৩৬০ টাকা
  3. ৬৭৮০ টাকা
  4. ৭০৫০ টাকা
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ১২% হারে ২৫,০০০ টাকার ২ বছরে চক্রবৃদ্ধি মুনাফা কত টাকা হবে?

সমাধান:
দেয়া আছে,
আসল (P) = ২৫,০০০ টাকা
মুনাফার হার (r) = ১২%
সময় (n) = ২ বছর

আমরা জানি,
চক্রবৃদ্ধি বা যৌগিক মূলধন (A) = P{১ + (r/১০০)}n
= ২৫,০০০ × {১ + (১২/১০০)}
= ২৫,০০০ × (১১২/১০০)
= ২৫,০০০ × (১১২/১০০) × (১১২/১০০) 
= ৩১,৩৬০ টাকা

∴ মুনাফা = চক্রবৃদ্ধি বা যৌগিক মূলধন - আসল
= ৩১,৩৬০ - ২৫,০০০
= ৬৩৬০ টাকা

২১.
পিতা ও পুত্রের বর্তমান বয়সের সমষ্টি ৬৬ বছর। ০৬ বছর আগে তাদের বয়সের অনুপাত ছিল ৮ : ১। ০৬ বছর পর তাদের বয়সের অনুপাত কত হবে?
  1. ৯ : ১
  2. ৭ : ৪
  3. ৫ : ১
  4. ১০ : ৩
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: পিতা ও পুত্রের বর্তমান বয়সের সমষ্টি ৬৬ বছর। ০৬ বছর আগে তাদের বয়সের অনুপাত ছিল ৮ : ১। ০৬ বছর পর তাদের বয়সের অনুপাত কত হবে?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
পিতা ও পুত্রের বর্তমান বয়সের সমষ্টি ৬৬ বছর।

৬ বছর পূর্বে পিতা ও পুত্রের বয়সের সমষ্টি ছিল = {৬৬ - (৬ + ৬)} বছর
= (৬৬ - ১২) বছর
= ৫৪ বছর

মনে করি,
৬ বছর পূর্বে পিতার বয়স ছিল = ৮ক বছর
৬ বছর পূর্বে পুত্রের বয়স ছিল = ক বছর

প্রশ্নমতে,
৮ক + ক = ৫৪
⇒ ৯ক = ৫৪
⇒ ক = ৫৪/৯
⇒ ক = ৬

৬ বছর পূর্বে পিতার বয়স ছিল = (৮ × ৬) বছর = ৪৮ বছর
৬ বছর পূর্বে পুত্রের বয়স ছিল = ৬ বছর

∴ পিতার বর্তমান বয়স = (৪৮ + ৬) বছর = ৫৪ বছর
এবং পুত্রের বর্তমান বয়স = (৬ + ৬) বছর = ১২ বছর

৬ বছর পর,
পিতার বয়স হবে = (৫৪ + ৬) বছর = ৬০ বছর
পুত্রের বয়স হবে = (১২ + ৬) বছর = ১৮ বছর

৬ বছর পর পিতা ও পুত্রের বয়সের অনুপাত = ৬০ : ১৮
= ১০ : ৩

২২.
দুটি সংখ্যার অনুপাত ৪ : ৫ এবং তাদের ল.সা.গু. ১৪০ হলে সংখ্যা দুটির যোগফল কত?
  1. ৫৪
  2. ৬৩
  3. ৭৫
  4. ৮১
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: দুটি সংখ্যার অনুপাত ৪ : ৫ এবং তাদের ল.সা.গু. ১৪০ হলে সংখ্যা দুটির যোগফল কত?

সমাধান:
ধরি, সংখ্যা দুটি যথাক্রমে ৪ক ও ৫ক।

∴ সংখ্যা দুটির ল.সা.গু. = (৪ × ৫ × ক) = ২০ক।

প্রশ্নমতে,
২০ক = ১৪০
⇒ ক = ১৪০/২০
⇒ ক = ৭

সংখ্যা দুটি হলো: (৪ × ৭) = ২৮ এবং (৫ × ৭) = ৩৫

∴ সংখ্যা দুটির যোগফল = ২৮ + ৩৫ = ৬৩

২৩.
পানি ও চিনির একটি ৫০ লিটারের মিশ্রণে চিনির পরিমাণ ৩ শতাংশ। মিশ্রণটি থেকে কতটুকু পানি বাষ্পীভূত করলে চিনির পরিমাণ ৫ শতাংশতে বৃদ্ধি পাবে?
  1. ১২ লিটার
  2. ১৬ লিটার
  3. ২০ লিটার
  4. ৩০ লিটার
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: পানি ও চিনির একটি ৫০ লিটারের মিশ্রণে চিনির পরিমাণ ৩ শতাংশ। মিশ্রণটি থেকে কতটুকু পানি বাষ্পীভূত করলে চিনির পরিমাণ ৫ শতাংশতে বৃদ্ধি পাবে?

সমাধান:
৫০ লিটার মিশ্রণে চিনির পরিমাণ = ৫০ এর ৩%
= (৫০ × ৩)/১০০ = ১.৫ কেজি (বা লিটার)

পানি বাষ্পীভূত হলেও চিনির পরিমাণের কোনো পরিবর্তন হবে না। অর্থাৎ নতুন মিশ্রণেও চিনির পরিমাণ ১.৫ কেজিই থাকবে।

শর্তমতে, নতুন মিশ্রণে এই ১.৫ লিটার চিনির পরিমাণই হবে মোট মিশ্রণের ৫%।

মনে করি, নতুন মিশ্রণের মোট পরিমাণ = ক লিটার।

প্রশ্নমতে,
ক এর ৫% = ১.৫
⇒ ক × (৫/১০০) = ১.৫
⇒ ৫ক/১০০ = ১.৫
⇒ ৫ক = ১৫০
⇒ ক = ১৫০/৫
⇒ ক = ৩০

নতুন মিশ্রণের পরিমাণ ৩০ লিটার হলে,
বাষ্পীভূত পানির পরিমাণ = (৫০ - ৩০) লিটার
= ২০ লিটার

২৪.
ক্রয়মূল্যের উপর ২০% লাভ ধরার পর একটি পণ্যের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হল ১৮০ টাকা। বিক্রয়মূল্য আরো কত টাকা বৃদ্ধি করলে ক্রয়মূল্যের উপর ৫০% লাভ থাকবে?
  1. ৩০ টাকা
  2. ৫ টাকা
  3. ৪৫ টাকা
  4. ২৫ টাকা
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ক্রয়মূল্যের উপর ২০% লাভ ধরার পর একটি পণ্যের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হল ১৮০ টাকা। বিক্রয়মূল্য আরো কত টাকা বৃদ্ধি করলে ক্রয়মূল্যের উপর ৫০% লাভ থাকবে?

সমাধান:
২০% লাভে,
বিক্রয়মূল্য ১২০ টাকা হলে ক্রয়মূল্য ১০০ টাকা
∴ বিক্রয়মূল্য ১ টাকা হলে ক্রয়মূল্য ১০০/১২০ টাকা
∴ বিক্রয়মূল্য ১৮০ টাকা হলে ক্রয়মূল্য (১০০ × ১৮০)/১২০ টাকা
= ১৫০ টাকা

৫০% লাভে,
ক্রয়মূল্য ১০০ টাকা হলে বিক্রয়মূল্য ১৫০ টাকা
∴ ক্রয়মূল্য ১ টাকা হলে বিক্রয়মূল্য ১৫০/১০০ টাকা
∴ ক্রয়মূল্য ১৫০ টাকা হলে বিক্রয়মূল্য (১৫০ × ১৫০)/১০০ টাকা
= ২২৫ টাকা

∴ বিক্রয়মূল্য বৃদ্ধি করতে হবে = (২২৫ - ১৮০) টাকা = ৪৫ টাকা

২৫.
হরিকেল জনপদ কোন কোন জেলায় বিস্তৃত ছিল?
  1. কুমিল্লা ও নোয়াখালী
  2. সিলেট ও চট্টগ্রাম
  3. নোয়াখালী ও বরিশাল
  4. ঢাকা ও বগুড়া
ব্যাখ্যা

হরিকেল:
- হরিকেল জনপদের কথা প্রথম জানা যায় প্রথম শতকের চট্টগ্রামে প্রাপ্ত লিপিতে।
- চন্দ্রবংশীয় লিপিতেও হরিকেল রাজ্যের কথা আছে।
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত দুটি প্রাচীন গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিতে হরিকোল (হরিকেল) ও বর্তমান সিলেট বিভাগ অভিন্ন উলিণ্ঢখিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদগুলোর সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে এ কথা বলা যায় যে, জনপদগুলোর নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ণয় করা বা যুগে যুগে তাদের সীমার বিস্তার ও সংকোচনের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা দুরূহ কাজ।
- হরিকেল প্রাচীন পূর্ববঙ্গের একটি জনপদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬.
সিপাহি বিদ্রোহের সূচনা হয় কোন জেলায়?
  1. ব্যারাকপুর
  2. কানপুর
  3. মিরাট
  4. সুরাট
ব্যাখ্যা

→ সিপাহি বিদ্রোহের সূচনা হয় ব্যারাকপুরে।

সিপাহি বিদ্রোহ:
- সিপাহি বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে মঙ্গলপাণ্ডে নামে এক সিপাহী কর্তৃক গুলি বর্ষণের মাধ্যমে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে।
- দ্রুত এই বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে মিরাট, কানপুর, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার, বাংলাসহ ভারতের প্রায় সর্বত্র। বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী এই বিদ্রোহে শামিল হয় ।
- পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
- তবে এ বিদ্রোহের ফলে ভারতে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে।
- ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার সরাসরি তার হাতে নিয়ে নেয়।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭.
আদিনা মসজিদ কোন শাসকের সময়ে নির্মিত হয়?
  1. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  2. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  3. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  4. সিকান্দর শাহ
ব্যাখ্যা

→ আদিনা মসজিদ সিকান্দর শাহ এর সময়ে নির্মিত হয়।

সিকান্দর শাহ:
- ইলিয়াস শাহের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সিকান্দর শাহ ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি প্রায় ৩৪ বছর রাজত্ব করেন।
- তাঁর এ সুদীর্ঘ রাজত্বকালে বাংলাদেশে মুসলিম শাসন সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- সিকান্দর শাহ সুশাসক ও বিদ্যানুরাগী ছিলেন। 
- সুফি শেখ আলাউল হক ও শেখ শরফউদ্দীন ইয়াহিয়ার সাথে সিকান্দর শাহের সৌহার্দ্য ও পত্রালাপ ছিল।
- তাঁর রাজত্বকালে স্থাপত্যশিল্পের যথেষ্ট উন্নতি হয়।
- তাঁর সময় তৈরি আদিনা মসজিদ মধ্যযুগের বাংলার স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮.
হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন প্রবর্তন করেন কে?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড ক্যানিং
  3. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
  4. লর্ড রিপন
ব্যাখ্যা

→ হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন প্রবর্তন করেন লর্ড ডালহৌসি।

সামাজিক সংস্কার:
- সংস্কারপন্থী বাঙালি নেতা ও শিক্ষিত শ্রেণির উদারবাদীদের সহযোগিতায় ইংরেজ শাসকরা সামাজিক ধর্মীয় অনেক অমানবিক প্রথা কুসংস্কার দূর করতে সক্ষম হন।
- লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক, রাজা রামমোহন রায়, প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের মতো উদারপন্থী হিন্দু নেতৃবর্গ এবং সদর নিজামত আদালতের জজদের অকুণ্ঠ সমর্থনে ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ডিসেম্বরে সতীদাহ প্রথা রহিত করতে সক্ষম হন।
- স্বামীর মৃত্যুর পর কোনো বিধবাকে স্বামীর সঙ্গে মরতে বাধ্য করলে তা আইনত দণ্ডনীয় বলে আইন জারি করা হয়।
- লর্ড এলেনবরা-এর সময়ে ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে দাস প্রথা উচ্ছেদ করা হয়।
- লর্ড ডালহৌসি পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সহায়তায় হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন পাস করে বিধবা বিবাহের প্রচলন করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯.
'দিওয়ান-ই-আম' কোন মুঘল সম্রাটের সময়ে নির্মিত?
  1. আকবর
  2. বাবর
  3. শাহজাহান
  4. হুমায়ুন
ব্যাখ্যা

সম্রাট শাহজাহান:
- ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দের ৪ ফেব্রুয়ারি 'আবুল মুজাফফর শিহাব উদ্দিন মুহাম্মদ শাহজাহান বাদশাহ গাজী' উপাধি ধারণ করে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন।
- তাঁর ত্রিশ বছরের রাজত্বকালে মোগল সাম্রাজ্য গৌরবের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিল।
- সমরকুশলী হিসেবে সম্রাট শাহজাহান দক্ষতার পরিচয় দেন।
- মোগল আধিপত্য বিস্তারেও তিনি বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দেন।
- তাঁর আমলে আহমদনগর, বিজাপুর, গোলকুণ্ডায় মোগল আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- তিনি পর্তুগিজদের দমন করে হুগলী দখল করেন।
- সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে সর্বপ্রথম পশ্চিম এশিয়ার এবং ইউরোপের সাথে ভারতবর্ষের বহির্বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
- সম্রাট শাহজাহান ছিলেন সৌন্দর্য পিপাসু শিল্পমনা মানুষ।
- The Prince of Builder নামে খ্যাত সম্রাট শাহজাহানের আমলে মোগল শিল্প ও স্থাপত্যের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- সম্রাটের স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর নির্মিত স্মৃতিসৌধ তাজমহল বিশ্বের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম একটি নিদর্শন।
- তাজমহলকে ঐতিহাসিক হ্যাভেল ভারতের 'ভেনাস দ্যা মিলো' নামে আখ্যায়িত করেছেন।
- এছাড়া মতি মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস, জামে মসজিদ তাঁর আমলের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম কীর্তি।
- শাহজাহানের ময়ূর সিংহাসন তাঁর শিল্পানুরাগের এক অপূর্ব নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩০.
রাজা টোডরমল কোন মুঘল সম্রাটের অর্থমন্ত্রী ছিলেন?
  1. আকবর
  2. জাহাঙ্গীর
  3. বাবর
  4. আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা

→ রাজা টোডরমল সম্রাট আকবরের অর্থমন্ত্রী ছিলেন।

 সম্রাট আকবরের শাসনকাল:
- সম্রাট আকবর ভারতে মুঘল শাসন বিস্তার ও সুদৃঢ় করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।
- এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে তার রাজপুত নীতি, ভূমি ব্যবস্থা তথা মনসবদারী প্রথা ইত্যাদি।
- ভারতে মুঘল রাজ্য বিস্তারের বিরুদ্ধে অন্যতম প্রধান শক্তি ছিল রাজপুত জাতি।
- জাতিগতভাবে রাজপুতরা ছিল বীর ও স্বজাত্যবোধে সচেতন যোদ্ধা।
- তিনি রাজা টোডরমল, রাজা বিহারী মল, ভগবান দাস এবং মানসিংহকে প্রশাসনের উচ্চ পদে নিযুক্ত করেন।
- তিনি কবি পণ্ডিত ও চিত্রশিল্পীদের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- আকবরের রাজপুত নীতি মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় করে।
- সম্রাট আকবরের ভূমি শাসন ব্যবস্থা অনন্য কৃতিত্বের দাবীদার।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১.
ড. স্মিথ কোন শাসককে 'ভারতীয় নেপোলিয়ন' আখ্যা দিয়েছেন?
  1. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  2. অশোক
  3. সমুদ্রগুপ্ত
  4. দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা

সমুদ্রগুপ্ত:
- সমুদ্রগুপ্ত সম্ভাব্য ৩৩৫ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং ৩৮০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে তাঁর মৃত্যু হয়।
- প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে রাজ্য বিজেতারূপে যে সকল সম্রাট খ্যাতি লাভ করেছেন, সমুদ্রগুপ্ত তাঁদের মধ্যে প্রথম সারিতে স্থান পেয়েছেন।
- উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত গাঙ্গেয় উপত্যকার স্থানীয় একটি রাজ্যকে তিনি সর্বভারতীয় এক সাম্রাজ্যে পরিণত করেন।
- প্রাচীন ভারতের তৃতীয় সাম্রাজ্যবাদী পুরুষ হিসাবে সমুদ্রগুপ্ত বিখ্যাত।
- সমুদ্রগুপ্তের রাজ্যজয় সম্পর্কে হরিষেণ রচিত এলাহাবাদ প্রশস্তিতে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়।
- এলাহাবাদ প্রশস্তিলিপি সমুদ্রগুপ্তের ইতিহাসের প্রধান উৎস।
- আর্যাবর্তের সকল রাজাকে পরাজিত করে তিনি 'সর্বরাজোচ্ছেত্তা' উপাধি গ্রহণ করেন।
- সমুদ্রগুপ্তের সাম্রাজ্য ছিল প্রভুত্ব ও স্বায়ত্ত্বশাসনের এক অপূর্ব সমন্বয়।
- দিগ্বিজয় সম্পন্ন করে তিনি 'অশ্বমেধযজ্ঞ' অনুষ্ঠান করেন এবং এই যজ্ঞের স্মৃতিরক্ষায় স্বর্ণমুদ্রা প্রচলন করেন।
- তিনি ছিলেন প্রচন্ড সাম্রাজ্যবাদী।
- ড. স্মিথ সম্ভবত এ কারণেই সমুদ্রগুপ্তকে 'ভারতীয় নেপোলিয়ন' আখ্যা দিয়েছেন।
- ভারতের জাতীয়তাবাদী ঐতিহাসিকগণ মনে করেন, আসমুদ্রহিমাচল বিস্তৃত ভারতভূমিকে এক শাসনে আবদ্ধ করাই ছিল সমুদ্রগুপ্তের লক্ষ।
- কুষাণ সাম্রাজ্যের পতনের পর ভারতের রাজনীতিতে যে শক্তিশূন্যতা দেখা দেয় গুপ্ত সাম্রাজ্য তা দূর করে।
- সমুদ্রগুপ্ত ছিলেন সাধুব্যক্তিদের আশাস্বরূপ, আর অসাধুদের জন্য প্রলয়। হরিষেণ সমুদ্রগুপ্তকে মানুষের আকৃতিতে দেবতা তুল্য 'অচিন্ত্যপুরুষ' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২.
সমতটের কেন্দ্র ছিল কোনটি?
  1. লালমাই
  2. কর্ণসুবর্ণ
  3. কোটিবর্ষ
  4. মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা

সমতট:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটির অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- কালিদাসের রঘুবংশ কাব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- তিনি বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- মেঘনা পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- সমতটের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- প্রাচীন ত্রিপুরা বা বর্তমান কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট জনপদ।
- হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩.
কোন মুঘল সুবেদার চট্টগ্রাম থেকে মগ ও ফিরিঙ্গি জলদস্যুদের বিতাড়িত করেন?
  1. মীর জুমলা
  2. ইসলাম খান চিশতী
  3. মান সিংহ
  4. শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা

সুবেদার শায়েস্তা খান:
- শায়েস্তা খানের সুবাদারি আমল দুঅধ্যায়ে বিভক্ত ছিল।
- তিনি প্রথম অধ্যায়ে ১৬৬৪ খ্রিঃ থেকে ১৬৭৮ খ্রিঃ পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় অধ্যায়ে ১৬৮০ খ্রিঃ থেকে ১৬৮৮ খ্রিঃ পর্যন্ত বাংলাদেশের সুবাদার ছিলেন।
- তিনি একজন দক্ষ সেনাপতি ও জনপ্রিয় সুবেদার ছিলেন।
- চট্টগ্রাম থেকে মগ ও ফিরিঙ্গি জলদস্যুদের বিতাড়িত করেন শায়েস্তা খান।
- মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের ইচ্ছানুযায়ী চট্টগ্রামের নাম রাখা হয় ইসলামাবাদ।
- শুল্ক ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করলে ইংরেজ কোম্পানির সঙ্গে শায়েস্তা খানের প্রথম সংঘর্ষ ঘটে এবং ইংরেজরা বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। এভাবে তিনি ইংরেজ বণিকদের ঔদ্ধত্যের সমুচিত জবাব দেন।
- শায়েস্তা খান রাজস্ব সংস্কারে বড় ধরনের অবদান রাখেন।
-তাঁর সময়ে বাংলাদেশ কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছিল। তখন বাংলাদেশে জিনিসপত্রের দাম খুব কম ছিল।
- শায়েস্তা খান ঢাকায় ছোট কাটরা, হুসায়েনী দালান, লালবাগ দুর্গের একাংশ এবং আরও বহু অট্টালিকা ও মসজিদ নির্মাণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪.
শশাঙ্কের রাজধানী ছিল -
  1. কোটিবর্ষ
  2. পুণ্ড্রনগর
  3. কর্ণসুবর্ণ
  4. গৌড়
ব্যাখ্যা

শশাঙ্ক:
- বাংলার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ নৃপতি শশাঙ্ক সপ্তম শতাব্দীর প্রথমার্ধের শাসক।
- গুপ্ত শাসনের পর বাংলার গৌড় রাজ্যের তিনি অধিপতি হন।
- বাংলাদেশের ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ- পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- শশাঙ্কই বাংলার প্রথম নৃপতি যার ভূমিদান করার মতো এবং মুদ্রা প্রকাশ করার মতো স্বাধীন ক্ষমতা ছিল।
- তিনি গৌড় রাজ্যকে ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।
- শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু (শৈব) ধর্মের অনুসারী ছিলেন।
- উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন হর্ষবর্ধন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস, এস এস এইচ এল প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫.
লক্ষ্মণ সেন কত বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন?
  1. ৪৮ বছর
  2. ৬০ বছর
  3. ৭২ বছর
  4. ৮০ বছর
ব্যাখ্যা

লক্ষ্মণ সেন:
- বল্লাল সেন ও রমাদেবীর পুত্র লক্ষ্মণ সেন ১১৭৯ সালে প্রায় ৬০ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- বখতিয়ার খিলজির আক্রমণকালে তিনি আশি বছরের বৃদ্ধ ছিলেন।
- গৌড় লক্ষ্মণসেনের রাজত্বকালেই পুরোপুরি সেন সাম্রাজ্যভুক্ত হয়েছিল।
- লক্ষ্মণ সেন নিজ সাম্রাজ্যকে বাইরের শত্রুদের হাত থেকে খুব একটা সুরক্ষিত রাখতে পারেননি।
- রাজত্বের শেষের দিকে তিনি বার্ধক্যের কারণে বেশ দুর্বলও হয়ে পড়েছিলেন।
- ১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজি বাংলা আক্রমণ করেন। লক্ষ্মণ সেন তখন নদীয়ায় অবস্থান করছিলেন, দুর্বল লক্ষ্মণ সেন কোনো প্রতিরোধ না করে নদীপথে দক্ষিণপূর্ব বাংলায় চলে যান।
- লক্ষ্মণ সেনের নদীয়া ত্যাগের মাধ্যমেই বাংলায় হিন্দুশাসনের পতন হয়েছিল বলে ধরা হলেও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় লক্ষ্মণ সেন আরও কয়েক বছর রাজত্ব করেন।
- লক্ষ্মণ সেন একজন বিদ্বান ও কবি ছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬.
'কোটিবর্ষ' কোন জনপদের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল?
  1. বঙ্গ
  2. সমতট
  3. গৌড়
  4. রাঢ়
ব্যাখ্যা

রাঢ়:
- বিভিন্ন ঐতিহাসিক উৎস থেকে বলা যায় যে, রাঢ় বলতে পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চলকেই বুঝানো হতো।
- এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ ও পশ্চিম ভাগে সীমাবদ্ধ ছিল।
- তবকত-ই-নাসিরীর বর্ণনায়ও গঙ্গার দক্ষিণে রাঢ়ের অবস্থান নির্দেশিত হয়েছে।
- এই জনপদটি দুটি অংশে বিভক্ত ছিল।
• দক্ষিণ রাঢ়।
• উত্তর রাঢ়।
- এই উত্তর ও দক্ষিণ রাঢ়ই ছিল যথাক্রমে বজ্রভূমি ও সুহ্মভূমি।
- রাঢ়ের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ।
- রাঢ় বা সূহ্মদেশের অন্তর্গত তাম্রলিপ্তের কথা টলেমির ভূগোলে উল্লিখিত ছিল ।
- অনেক ঐতিহাসিক মেদিনীপুর জেলার পূর্বপ্রান্ত অবস্থিত আধুনিক তমলুককে প্রাচীন তাম্রলিপ্ত বলে চিহ্নিত করেছেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭.
বাংলায় মুঘল সম্রাট আকবরের শেষ সুবাদার ছিলেন -
  1. রাজা মানসিংহ
  2. মুনিম খান
  3. শাহবাজ খান
  4. মির্জা আজিজ
ব্যাখ্যা

রাজা মানসিংহ:
- বাংলায় আকবরের শেষ সুবাদার ছিলেন রাজা মানসিংহ।
- তিনি ছিলেন রাজপুত এবং একজন দক্ষ সেনাপতি।
- মানসিংহ তাঁর ছেলে দুর্জন সিংহকে বিশাল বাহিনী নিয়ে ভাটি আক্রমণ করতে পাঠান।
- ব্রহ্মপুত্র তীরে এগারসিন্ধুতে ঈসা খান দুর্জন সিংহকে পরাজিত ও নিহত করেন।
- ঈসা খানের সাথে মানসিংহের একক যুদ্ধ হয়।
- ঈসা খান মানসিংহকে একক যুদ্ধে আহ্বান করেন এবং ঘোষণা করেন যে, যুদ্ধে জয়ী যিনি হবেন তিনিই বাংলার কর্তৃত্ব লাভ করবেন। 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮.
উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা -
  1. লর্ড ক্যানিং
  2. লর্ড ডালহৌসি
  3. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  4. রবার্ট ক্লাইভ
ব্যাখ্যা

রবার্ট ক্লাইভ:
- উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট ক্লাইভ।
- উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের ইতিহাসে রবার্ট ক্লাইভের স্থান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
- তরুণ বয়সে মাদ্রাজে (বর্তমান চেন্নাই) ঈস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরী গ্রহণ করে স্বীয় কর্ম প্রচেষ্টার দ্বারা উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছেন।
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে রবার্ট ক্লাইভ সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষর করলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করে দ্বৈত শাসন প্রবর্তন করে।
- রবার্ট ক্লাইভের চারিত্রিক দোষ থাকা সত্বেও উপমহাদেশে ইংরেজ শক্তির গোড়াপত্তনে তাঁর অবদান অস্বীকার করা যায় না।
- উপমহাদেশের ইতিহাসে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্থপতি ও প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে লর্ড ক্লাইভের নাম অবিস্মরণীয়।
- কেননা প্রথম পর্যায়ে তিনি দাক্ষিণাত্যে কোম্পানিকে রক্ষা করেন।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে তিনি বাংলা জয় করেন। তৃতীয় পর্যায়ে তিনি নবাব ও সম্রাটকে নিয়ন্ত্রণ করে সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হন এবং ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯.
মুঘল প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ফৌজদার ছিলেন -
  1. সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা
  2. পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা
  3. সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক
  4. রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস
ব্যাখ্যা

মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থা:
- মুঘল শাসনব্যবস্থা এক-কেন্দ্রিক ও স্বৈরতন্ত্রী হলেও জনকল্যাণকামী ছিল।
- এই শাসনব্যবস্থা ছিল প্রধানত সামরিক শক্তি নির্ভর।
- একমাত্র সদর ও কাজী ছাড়া অন্যসব কর্মচারিকে সামরিক দায়িত্ব পালন করতে হত।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি রচিত হয় তুর্কি-পারস্য শাসন ব্যবস্থার অনুকরণে।
- মুঘলরা একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রাদেশিক শাসন কাঠামোও গড়ে তুলেছিল।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস ছিলেন 'পাদশাহ' বা সম্রাট।
- তিনি একাধারে রাষ্ট্রীয় প্রধান, সামরিক প্রধান এবং প্রধান বিচারক হিসেবে রাজ্য পরিচালনা ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতেন।
- সম্রাটের পরই প্রধানমন্ত্রী বা ওয়াজিরের স্থান ছিল।
- বিশাল মুঘল সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু শাসনের জন্য সমগ্র সাম্রাজ্যকে কতগুলো 'সুবাহ' বা প্রদেশে ভাগ করা হয়েছিল।
- সুবাহদার ছিলেন সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক।
- মুঘল আমলে প্রতিটি প্রদেশ কয়েকটি সরকার বা জেলায় এবং প্রতিটি সরকার কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত ছিল।
- ফৌজদার ছিলেন সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা।
- শিকদার ছিলেন পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০.
মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার লুণ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯২১ সালে
  2. ১৯২৬ সালে
  3. ১৯৩০ সালে
  4. ১৯৩৪ সালে
ব্যাখ্যা

মাস্টারদা সূর্য সেন:
- মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার লুণ্ঠিত হয় ১৯৩০ সালে।
- ১৯৩০ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের প্রধান সংগঠক মাস্টারদা সূর্যসেন।
- মাস্টারদা সূর্যসেনের জন্ম ১৮৯৪ সালে চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামে।
- পুরো নাম সূর্যকুমার সেন। ডাক নাম কালু।
- শিক্ষকতা করার কারণে তিনি পরিচিত মহলে 'মাস্টারদা' আখ্যা পান।
- ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিলের সশস্ত্র বিদ্রোহ ছিল সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীদের দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার ফসল।
- ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কারাগারে তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৪১.
মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটান কে?
  1. শশাঙ্ক
  2. দেবপাল
  3. ধর্মপাল
  4. গোপাল
ব্যাখ্যা

মাৎস্যন্যায় ও গোপালের উত্থান:
- শশাঙ্কের পর সপ্তম শতকের মাঝামাঝি থেকে অষ্টম শতক পর্যন্ত বাংলায় বিরাজ করছিল এক অন্ধকার যুগ। বাংলার ইতিহাসে এই সময়টি ‘মাৎস্যন্যায়' নামে খ্যাত।
- মাৎস্যন্যায় একটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ হল অরাজক পরিস্থিতি।
- অরাজকতা এবং রাষ্ট্রহীনতার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল শত বছরের হানাহানির অবসান ঘটে যখন গোপাল রাজা হলেন। 
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলা যেন পরিণত হয়েছিল মাছের রাজ্যে।
- শাসকের অভাবে সবল অত্যাচার করে দুর্বলের ওপর।
- মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কে মায়া, মমতা, সৌহার্দ্যের যে স্থান তা দখল করে নেয় হিংসা ও দ্বেষ। লামা তারানাথ লিখেছেন, সমগ্র দেশের কোনো রাজা ছিল না।
- এক চরম অরাজক পরিস্থিতিতে বাংলার ইতিহাসে অনেকটা ধূমকেতুর মতো গোপালের আবির্ভাব হয়।
- মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটান গোপাল।
- খালিমপুর তাম্রশাসনের বলা হয়েছে যে, মাৎস্যন্যায় দূর করার অভিপ্রায়ে প্রকৃতিগণ গোপালকে রাজা নির্বাচন করেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২.
পূর্বে মহাস্থানগড় কী নামে পরিচিত ছিল?
  1. কর্ণসুবর্ণ
  2. পুণ্ড্রনগর
  3. বঙ্গ
  4. রাঢ়
ব্যাখ্যা

মহাস্থানগড়:
- মহাস্থানগড় করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত।
- পূর্বে মহাস্থানগড়ের নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- বগুড়া শহর হতে ১৫ কিঃমিঃ দূরে পুণ্ড্রবর্ধনের প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই মহাস্থানগড়।
- মহাস্থানগড় সমগ্র বাংলার সর্বপ্রধান ও সর্বপ্রাচীন এ দূর্গনগরী ।
- সমগ্র বাংলার সর্বপ্রধান ও সর্বপ্রাচীন এ দুর্গ নগরী ইটের বেষ্টনী প্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত যা উত্তর দক্ষিনে ১৫২৫ মিঃদীর্ঘ এবং পূর্ব পশ্চিমে ১৩৭০মিঃ প্রশস্থ ও চতুপার্শ্বস্থ সমতল ভূমি হতে ৫মিঃ উঁচু।
- কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত এ স্থান পরাক্রমশালী মৌর্য, গুপ্ত এবং পাল শাসকবর্গের প্রাদেশিক রাজধানী ও পরবর্তীকালে হিন্দু সমান্ত রাজাগণের রাজধানী ছিল।
- বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হয়েন সাঙ ভারতবর্ষ ভ্রমণকালে (৬৩৯-৬৪৫) পুন্ড্রনগর পরিদর্শন করেন।

তথ্যসূত্র - বগুড়া জেলা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

৪৩.
বেঙ্গল প্যাক্ট স্বাক্ষরিত হয় কত সালে?
  1. ১৯০৫ সালে
  2. ১৯১১ সালে
  3. ১৯২৩ সালে
  4. ১৯২৮ সালে
ব্যাখ্যা

→ বেঙ্গল প্যাক্ট স্বাক্ষরিত হয় ১৯২৩ সালে।

বেঙ্গল প্যাক্ট:
- অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলন কার্যত ব্যর্থ হলে ভারতবর্ষে হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কে মারাত্মক অবনতি ঘটে।
- আন্দোলনে ব্যর্থতার জন্য হিন্দু-মুসলমান নেতৃবৃন্দ পরস্পরকে দোষারোপ করে বক্তৃতা-বিবৃতি প্রদান করেন। 
- এ বিষয়টি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসকে বিচলিত করে তোলে। তিনি বিশ্বাস করতেন, ভারতের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার
জন্য হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।
- এ ঐক্য প্রতিষ্ঠায় তিনি বাংলা প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ অথচ পশ্চাৎপদ বাঙালি মুসলমানদেরকে তাদের যৌক্তিক সুযোগ-সুবিধা দানের পক্ষপাতী ছিলেন।
- এ বিষয়ে তিনি শের-ই-বাংলা এ.কে. ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে আলোচনা করেন।
- একই সঙ্গে তিনি মৌলভী আব্দুল করিম, মওলানা আকরাম খান, মৌলভী মজিবর রহমান প্রমুখ নেতাদের সঙ্গেও রাজনৈতিক সমস্যা এবং দাবি-দাওয়া নিয়ে
বৈঠক করেন।
- কংগ্রেস থেকে বের হয়ে এসে ১৯২২ সালে তিনি গঠন করেন 'স্বরাজ পার্টি'।
- স্বরাজ দলের সভাপতি হিসেবে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস মুসলমান নেতাদের সঙ্গে ১৯২৩ সালে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
- এ চুক্তির লক্ষ্য ছিলো, বাংলায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতি জোরদারকরণ।
- ইতিহাসে এই চুক্তিই 'বেঙ্গল প্যাক্ট' নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৪৪.
মহামুনি বিহার কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. বগুড়া
  2. কুমিল্লা
  3. চট্টগ্রাম
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা

মহামুনি বিহার:
- মহামুনি বিহার চট্টগ্রামের রাউজানে অবস্থিত।
- রাউজান উপজেলার ২০০ বছরের ঐতিহাসিক প্রাচীন নিদর্শন মহামুনি বিহার।
- 'চাইঙ্গা ঠাকুর' নামের এক বৌদ্ধ ধর্মগুরু এই বিহারে ১৮০৫ মতান্তরে ১৮১৩ খ্রিষ্টাব্দে মহামানব গৌতম বুদ্ধের মূর্তি স্থাপন করেন।
- এ কারণে গৌতম বুদ্ধের নামে এ বিহারের নামকরণ করা হয় মহামুনি মন্দির।
- এই মন্দিরটির কারণে মহামুনি গ্রাম ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র তীর্থস্থানে পরিণত হয়।
- এ মন্দিরকে কেন্দ্র করে মং সার্কেল রাজা ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে মহামুনি মন্দির চত্বরে মেলার প্রবর্তন করেন, যা চৈত্র মাসের শেষ দিন থেকে শুরু হয়।

তথ্যসুত্র - বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট জেলার ওয়েবসাইট ও দৈনিক সমকাল, ১৪ এপ্রিল ২০১৮।

৪৫.
কার পতনের মধ্য দিয়ে বাংলায় হাবশি শাসনের অবসান ঘটে?
  1. জালালউদ্দিন ফাতেহ শাহ
  2. শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ
  3. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  4. রুকনউদ্দিন বারবক শাহ
ব্যাখ্যা

⇒ শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ এর পতনের মধ্য দিয়ে বাংলায় হাবশি শাসনের অবসান ঘটে।

বাংলায় হাবশি শাসন:
- বাংলার ছয় বছরের হাবশি শাসনামলে চারজন সুলতান বাংলা শাসন করেছেন।
- তাদের প্রত্যেকেই পূর্বসুরীকে হত্যা করে ক্ষমতায় এসেছেন এবং ষড়যন্ত্রকারী উত্তরসূরীর হাতেই নিহত হয়েছেন।
- মূলত হাবশি আমল বলতে মাহমুদ শাহী সুলতান জালালুদ্দিন ফতেহ শাহের পরে বাংলা শাসনকৃত গিয়াসুদ্দিন বারবক শাহ বা সুলতান শাহজাদা, ফিরোজ শাহ, মাহমুদ শাহ এবং মুজাফ্ফর শাহের শাসনকালকে বোঝানো হয়।
- হাবশি নেতা সুলতান শাহজাদা (১৪৮৭ খ্রি.) প্রথম ক্ষমতায় বসে কয়েক মাসের মধ্যে হাবশি সেনাপতি মালিক আন্দিলের হাতে নিহত হন।
- আন্দিল 'সাইফুদ্দিন ফিরুজ শাহ' উপাধি নিয়ে তিনবছর (১৪৮৭-১৪৯০ খ্রি.) শাসন করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসেন নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ।
- কিন্তু তাঁকে হত্যা করে ক্ষতায় বসেন 'শামসুদ্দীন আবু নছর মুজাফফর শাহ' (১৪৯০-১৪৯৩ খ্রি.) নামে এক হাবশি সর্দার।
- তিনি ছিলেন অত্যাচারী শাসক।
- তাই গৌড়ের সম্ভ্রান্ত লোকেরা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং এই বিদ্রোহে যোগ দেন তাঁর উজির সৈয়দ হোসেন।
- অবশেষে শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ নিহত হন এবং এর মধ্য দিয়ে বাংলায় হাবশি শাসনের অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬.
বখতিয়ার খলজি কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?
  1. তুরস্ক
  2. আফগানিস্তান
  3. উজবেকিস্তান
  4. ইরান
ব্যাখ্যা

বাংলায় মুসলিম শাসন:
- বখতিয়ার খলজি আফগানিস্তানের গরমশীরের (দস্ত-ই-মার্গ) অধিবাসী ছিলেন। 
- রাজধানী নদীয়া আক্রমন করে বখতিয়ার খলজি বাংলা দখল করেন।
- বখতিয়ার খলজি লক্ষন সেনকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন।
- বখতিয়ার খলজির বাংলা দখলের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা পায়।
- বখতিয়ার খলজি ১২০৪-০৫ সালে শীতকালীন সময়ে নদীয়া আক্রমণ করেছিলেন।
- নদীয়া দখলের পর বখতিয়ার খলজি গৌড় বা লক্ষ্মণাবতীর দিকে যাত্রা করেন। তিনি লক্ষ্মণাবতী অধিকার করে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- এটি মুসলমান আমলে লখনৌতি নামে পরিচিত হয়।
- বাংলাদেশে বখতিয়ার খলজি রাজ্য পূর্বে তিস্তা ও করতোয়া নদী, দক্ষিণে পদ্মা নদী ও উত্তরে দিনাজপুর জেলার দেবকোট হয়ে রংপুর শহর অবধি ছিল।
- অতি সাধারণ অবস্থা থেকেই তিনি অল্প সময়ের মধ্যে নিজ প্রতিভাবলে লখনৌতিতে মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
- এ মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর জীবনের বড় কৃতিত্ব।
- বখতিয়ার খলজি  বিজিত এলাকায় খুতবা পাঠ ও মুদ্রা প্রচলনের ব্যবস্থা করেন এবং সমগ্র এলাকাকে তাঁর সহকর্মী তুর্কি খলজি আমীরদের মধ্যে ভাগ করে দেন ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭.
ভারতীয় উপমহাদেশের কোন বন্দরে সর্ব প্রথম পর্তুগীজদের আগমন ঘটে?
  1. কোচিন
  2. হুগলি
  3. মাদ্রাজ
  4. কালিকট
ব্যাখ্যা

বাংলায় ইউরোপীয়দের আগমন:
- পর্তুগীজরা প্রথম আগত ইউরোপীয়ান বাণিজ্যিক দল।
- পর্তুগীজরা ভারতীয় উপমহাদেশের কালিকট বন্দরে প্রথম আসে।
- ১৪৯৮ সালে পর্তুগীজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন, তিনি ভাস্কো-ডা-গামা।
- এরপর ১৫০৯ খ্রিস্টাব্দে আলবুকার্ক গোয়াতে আগমন করেন।
- আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
- কলম্বাস এবং ম্যাজিলানও বিখ্যাত পর্তুগিজ নাবিক ছিলেন।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে পর্তুগীজরা কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি অঞ্চলে কুঠি স্থাপন এবং ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে শুল্কঘাটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে।
- পর্তুগিজরা কেবল ব্যবসা-বাণিজ্যই করত না, তারা এদেশের জমিদার ও প্রতাপশালী বার ভূঁইয়াদের সেনাবাহিনীতে চাকরী করত।
- তারা সুযোগ পেলেই জুলুম, অত্যাচার ও লুণ্ঠন করতো।
- অনেক সময় সম্রাট বা নবাবের আইন অমান্য করে বিনা শুল্কে স্বাধীনভাবে ব্যবসা চালাত। এতে তাঁরা মোগল সম্রাটের বিরাগভাজন হন।
- পর্তুগিজরা আরও নানা প্রকার অপরাধমূলক কাজ করত।
- তাদের এ অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেলে সম্রাট শাহজাহান পর্তুগিজদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করেন।
- সম্রাটের নির্দেশে কাসিম খান তাদের হুগলী কুঠি থেকে বিতাড়িত করেন।
- সর্বশেষ বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান তাদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ ঘাঁটি দখল করে চিরতরে এ দেশ থেকে উচ্ছেদ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮.
নিচের কোন জেলা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ফরিদপুর
  2. ঢাকা
  3. ক ও খ 
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো। 
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল । 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯.
তালপাতার পুঁথিচিত্র কোন যুগের নিদর্শন?
  1. পাল যুগ
  2. সেন যুগ
  3. গুপ্ত যুগ
  4. কুষাণ যুগ
ব্যাখ্যা

পাল রাজবংশ:
- প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে পাল রাজবংশ দীর্ঘকাল শাসন করেছে।
- সুশাসন, জনকল্যাণ, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, উন্নত জীবনবোধ ইত্যাদি বাংলায় সর্বপ্রথম পালরাই প্রতিষ্ঠিত করে।
- পাল রাজারা বাংলা ও বিহার অঞ্চলে অষ্টম শতকের মাঝামাঝি থেকে প্রায় চারশ বছর শাসন করেছেন।
- নৈরাজ্য ও চরম অরাজকতার হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করে গোপাল নামক এক উচ্চবর্গীয় ব্যক্তি এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- ধর্মপাল, দেবপাল, মহিপাল নামে অনেক পাল রাজারা বাংলা শাসন করেছেন।
- তালপাতার পুঁথিচিত্র পাল যুগের নিদর্শন।
- তালপাতার উপরে চিত্রসম্বলিত বৌদ্ধ গ্রন্থ অষ্টসাহস্রিকা-প্রজ্ঞাপারমিতা পান্ডুলিপির বারোটি রঙ্গিন চিত্র বঙ্গীয় চিত্রকলার প্রাচীনতম নিদর্শন। 
- বর্তমানে দুর্লভ এই পান্ডুলিপি কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটিতে সংরক্ষিত আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।