পরীক্ষা আর্কাইভ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

পরীক্ষাGKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৪ টপিক: বাংলায় ইংরেজ শাসনের সূচনা, ইংরেজ শাসনামলে বাংলায় প্রতিবাদ বিভিন্ন আন্দোলন ও সংস্কার, বাংলার স্বাধিকার আন্দোলন মেন্টর: নিশাত রায়হান অমনি [Live Class - 5, 6 & 7 ক্লাস মেন্টর: নিশাত রায়হান অমনি]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ কোথায় অবস্থিত?
  1. কলকাতা
  2. হুগলি
  3. মুর্শিদাবাদ
  4. দিল্লি
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
ব্যাখ্যা

• ইংরেজ :
- ইংল্যান্ড রানি এলিজাবেথের অনুমতি নিয়ে সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ১৬০০ সালে ভারত বর্ষে আসে ইংরেজরা ।
- তারা সুরাটে প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন ১৬১২ সালে।
- সম্রাট শাজাহানের সময় বাংলায় প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন।
-  কলকাতায় রাজা তৃতীয় উইলিয়ামের নাম অনুসারে, ফোর্ট উলিয়াম দুর্গা নির্মাণ করে হয় ১৭০০ সালে।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ও সভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

.
বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে কে পরাজিত হন?
  1. মীর কাশিম
  2. নবাব সিরাজউদ্দৌলা
  3. মীর জাফর
  4. আলী বর্দি খান
সঠিক উত্তর:
মীর কাশিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর কাশিম
ব্যাখ্যা

• বক্সারের যুদ্ধ:
- বক্সারের যুদ্ধে মীর কাসিম পরাজিত হন।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৬০ সালের ২০ অক্টোবর মীর জাফরকে সরিয়ে দিয়ে তার জামাতা মীর কাসিমকে মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করেছিল।
- মীর কাসিম নবাব হয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে চেষ্টা করে।
- ১৭৬৩ সালের ৭ জুলাই নবাব বাহিনীর সাথে ইংরেজদের ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়। 
- পরপর কাটোয়া, ঘেরিয়া, মুর্শিদাবাদ, সুটি, উদয়নালা ও মুঙ্গেরে নবাব বাহিনীর সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ হয়েছিল।
- নবাব তখন পরাজিত হয়ে পাটনায় পালিয়ে গিয়েছিলেন।
- এরপর অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা এবং মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাহায্য নিয়ে তিনি বাংলাকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন। 
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে দু'পক্ষে প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়।
- তাদের সম্মিলিত বাহিনী বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের’ সময় বাংলার ইংরেজ গভর্নর ছিলেন কে?
  1. কার্টিয়ার
  2. ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. মাউন্টব্যাটেন
  4. কর্নওয়ালিস
সঠিক উত্তর:
কার্টিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্টিয়ার
ব্যাখ্যা

• ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
• ১১৭৬ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে।
• খাদ্যের অভাবে মােট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ (১ কোটি) মৃত্যুমুখে পতিত হয়।
• তখন দিল্লীর সম্রাট ছিলেন শাহ আলম।
• জন কার্টিয়ার ১৭৬৯ থেকে ১৭৭২ সাল পর্যন্ত বাংলার ফোর্ট উইলিয়ম কাউন্সিলের গভর্নর ছিলেন।
• বাংলার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ১৭৬৯-৭০ সালের মহাদুর্ভিক্ষের দ্বারা জন কার্টিয়ারের শাসনকাল সমালোচনার মুখে পড়ে।
• নায়েব দীউয়ান ও নায়েব নাজিম সৈয়দ মুহম্মদ রেজা খান আসন্ন দুর্ভিক্ষ সম্পর্কে বারবার জন কার্টিয়ারকে অবহিত করা সত্ত্বেও তিনি তার সতর্কবাণীকে তেমন গুরুত্ব দেন নি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

.
ইংরেজরা প্রথম কোথায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে?
  1. সুরাটে
  2. হুগলি
  3. চট্টগ্রাম
  4. কলকাতা
সঠিক উত্তর:
সুরাটে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুরাটে
ব্যাখ্যা

• ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- ব্রিটেনের রানী প্রথম এলিজাবেথের নিকট থেকে প্রাপ্ত সনদের মাধ্যমে ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
- ১৬১২ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৭০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করে।
- ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশী যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয়।
- ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে।
- এরপর ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার নিজে নিয়ে নেয়।

তথ্যসূত্র: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাপিডিয়া।

.
'ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির’ বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র বিদ্রোহ কোনটি ছিল?
  1. ফকির বিদ্রোহ
  2. সিপাহী বিদ্রোহ
  3. চাকমা বিদ্রোহ
  4. নীল বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
ফকির বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফকির বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা

• ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্ষমতা লাভের পর সর্বপ্রথম যে বিদ্রোহ হয়েছিল তা ইতিহাসে 'ফকির বিদ্রোহ নামে পরিচিত। 
- ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ব্যাপ্তিকাল প্রায় ৪০ বছর (১৭৬০-১৮০০ খ্রিস্টাব্দে)।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গে ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু হয়।
- বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে।
- এ সব সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা অনেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুঠ করে।
- ফকির মজনু শাহর যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি।
- তিনি ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

.
ব্রিটিশবিরোধী চাকমা বিদ্রোহের নেতা কে?
  1. রোহান বক্স
  2. জোয়ান বক্স
  3. রাস্মিন চাকমা
  4. মঙ্গল পান্ডে
সঠিক উত্তর:
জোয়ান বক্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জোয়ান বক্স
ব্যাখ্যা

• চাকমা বিদ্রোহ (১৭৭৬-১৭৮৯):
- চাকমা বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয় চাকমা রাজা জোয়ান বক্স খান ।
- কারণ চাকমা রাজা জুয়ান বক্স মুদ্রার রাজস্ব দিতে বাধ্য করা হয় ।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে মুদ্রা অর্থনীতি প্রচলনের ব্যবস্থা করায় চাকমা বিদ্রোহ সংঘঠিত হয়।
- সরকারি নথিপত্র থেকে জানা যায় যে, জুয়ান বক্স ও রানু খান সম্পূর্ণ পাহাড়ি এলাকা ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীন করেছিলেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।

.
বেঙ্গল রেনেসাঁর ‘ইয়াং বেঙ্গল’ আন্দোলনের প্রবক্তা কে ছিলেন?
  1. হেনরি লুই ডিরোজিও 
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. রাধানাথ সিকদার
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুই ডিরোজিও 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুই ডিরোজিও 
ব্যাখ্যা

- বেঙ্গল রেনেসাঁসের 'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা হেনরি লুই ডিরোজিও।

• ডিরোজিও ও ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট :
- 'রেনেসাঁস যুগে বাঙালি যুব সমাজের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টিকারী 'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ডিরোজিও ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ছিলেন পর্তুগিজ এবং মা ছিলেন বাঙালি। 
- ডিরোজিও ইংরেজি শিক্ষার স্কুল ডেভিড ড্রামন্ডের ধর্মতলা একাডেমিতে পড়ালেখা শুরু করেন। 
- এই শিক্ষকের আদর্শ ডিরোজিওকে তাঁর শিশুকাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রভাবিত করে রেখেছিল। 
- বাঙালি যুব সমাজের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টিকারী 'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা। 
- বয়সে তরুণ হলেও তিনি ইতিহাস, ইংরেজি, সাহিত্য, দর্শন শাস্ত্রে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।
-  ডিরোজিওর অনুসারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন রামতনু লাহিড়ী, রাধানাথ সিকদার, প্যারিচাঁদ মিত্র, কৃষ্ণমোহন ব্যানার্জি প্রমুখ।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর ছাত্র না হলেও তাঁর আদর্শ দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। ডিরোজিওর অনুসারীদের আন্দোলন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকেও প্রভাবিত করেছিল।


তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

.
বাংলায় প্রবর্তিত 'দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা' কে বিলুপ্ত করেছিলেন?
  1. ওয়ারেন হেস্টিংস
  2. লর্ড মিন্টো
  3. লর্ড ওয়েলেসলি
  4. লর্ড কর্ণওয়ালিস
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা

• দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা:
- ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- দ্বৈতশাসন অনুসারে রাজস্ব প্রশাসন ও দেশ রক্ষার ভার থাকে কোম্পানির হাতে এবং নিয়ামত বা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পিত হয় নবাবের হাতে।
- দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে।
- অবাধ লুণ্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়ে যায়।
- নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হন। 
- সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
- এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

.
ব্রিটিশবিরোধী তিতুমীর কোথায় বাঁশেরকেল্লা গড়ে তোলেন?
  1. নারিকেলবাড়িয়া
  2. হুগলি
  3. ব্যারাকপুর
  4. মুর্শিদাবাদ
সঠিক উত্তর:
নারিকেলবাড়িয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারিকেলবাড়িয়া
ব্যাখ্যা

• তিতুমীর:
- তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলন তাহরিক ই মুহম্মদীয়া।
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- উত্তর ভারত ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে যখন ওয়াহাবি আন্দোলনের (তাহরিক ই মুহম্মদীয়া) জোয়ার চলছে, তখন পশ্চিম বঙ্গের বারাসাত অঞ্চলে তিতুমীরের নেতৃত্বে এই আন্দোলন প্রবল আকার ধারণ করে।
- ওয়াহাবি আন্দোলন ছিল উত্তর ভারতের সৈয়দ আহমদ শহীদের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত।
- তিতুমীর হজ করার জন্য মক্কা শরিফ যান এবং ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে দেশে ফিরে আসেন।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিতুমীর তাঁর প্রধান ঘাটি স্থাপন করেন।
- নির্মাণ করেন ইতিহাস খ্যাত তাঁর বাঁশের কেল্লা।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে তিতুমীরের বিরুদ্ধে ইংরেজ সরকার এক বিশাল সুশিক্ষিত সেনা বাহিনী প্রেরণ করে। মেজর স্কটের নেতৃত্বে এই বাহিনী তিতুমীরের নারিকেলবাড়িয়ার বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে।এই যুদ্ধে তিনি নিহত হন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উদ্যোগে বিধবা বিবাহ আইন কবে প্রবর্তিত হয়?
  1. ১৮৩৫ সালে
  2. ১৮৪৮ সালে
  3. ১৮৫৬ সালে
  4. ১৮৬১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৫৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৬ সালে
ব্যাখ্যা

- ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উদ্যোগে বিধবা বিবাহ আইন কবে প্রবর্তিত - ১৮৫৬।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: 

- জন্ম: ২৬ সেপ্টেম্বর ১৮২০, বীরসিংহ গ্রাম, মেদিনীপুর, 
- পশ্চিমবঙ্গ মৃত্যু: ২৯ জুলাই ১৮৯১, কলকাতা।
- পিতার নাম: ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, মাতার নাম: ভগবতী দেবী।
- উপাধি: “বিদ্যাসাগর” ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ থেকে।
- পেশা: শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক।

• সমাজ সংস্কার: 
- বিধবা বিবাহ আইন (১৮৫৬) প্রবর্তনের অন্যতম উদ্যোক্তা। 
- বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব
- নারীশিক্ষা প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা: নদিয়া, হুগলি, বর্ধমান, মেদিনীপুরে স্কুল স্থাপন করেন। 

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

১১.
বাংলায় 'পাঁচসালা বন্দোবস্ত' চালু করেন কে?
  1. ওয়ারেন হেস্টিংস
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. রবার্ট ক্লাইভ
  4. লর্ড ওয়েলেসলি
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা

• পাঁচসালা বন্দোবস্ত:

- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের আগে ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস রাজস্ব আদায়ের জন্য পাঁচসালা বন্দোবস্ত চালু করেন
- জমি বন্দোবস্তের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকায় জমিদাররা অর্থ আদায়ের জন্য কৃষকদের প্রতি চরম নির্যাতন মূলক ব্যবস্থা নিতো।
- অথচ কৃষকের বা জমির উন্নয়নের প্রতি তাদের কোনো লক্ষ ছিল না।
- এ অবস্থায় হেস্টিংস জমিদারদের সঙ্গে এক সালা বন্দোবস্ত চালু করেন।
- ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে কর্নওয়ালিস দশসালা বন্দোবস্ত চালু করেন। 

তথ্যসূত্র:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
'ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' কোন সালে গঠিত হয়?
  1. ১৬০০
  2. ১৬০১
  3. ১৬৫০
  4. ১৭৫০
সঠিক উত্তর:
১৬০০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬০০
ব্যাখ্যা

• ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:

- ব্রিটেনের রানী প্রথম এলিজাবেথের নিকট থেকে প্রাপ্ত সনদের মাধ্যমে ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
- ১৬১২ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৭০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করে।
- ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশী যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয় এবং ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে। এরপর ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার নিজে নিয়ে নেয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।

১৩.
কোন প্রতিষ্ঠান থেকে সৈয়দ আমীর আলী ব্যারিস্টার হন?
  1. ইননার টেম্পল
  2. লিঙ্কন্স ইন
  3. মিডল টেম্পল
  4. কেমব্রিজ ইন
সঠিক উত্তর:
লিঙ্কন্স ইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিঙ্কন্স ইন
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ আমীর আলী:
→ সৈয়দ আমীর আলী ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে হুগলীতে জন্ম গ্রহণ করেন।
→ উনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে যিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ছিলেন তিনি হলেন সৈয়দ আমীর আলী। 
→ তিনি পাশ্চাত্য শিক্ষার মাধ্যমে বাঙালি মুসলমানদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি করতে চেয়েছেন। 
→ তিনি কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ ও বি.এল ডিগ্রি লাভ করেন। 
→ ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনের 'লিঙ্কন্স ইন' থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে দেশে ফেরেন। 
→ তিনি ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কোলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন। 
→ ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি লন্ডনে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য হন। 

তথ্যসূত্র: বাংলাশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
১৮৫৭ সালের 'সিপাহী বিদ্রোহে' সর্বপ্রথম শহীদ হন- 
  1. মঙ্গল পাণ্ডে
  2. রানি লক্ষ্মীবাঈ
  3. প্রীতিলতা
  4. ক্ষুদিরাম
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল পাণ্ডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল পাণ্ডে
ব্যাখ্যা

• সিপাহী বিদ্রোহ:
- পলাশী যুদ্ধের একশ বছর পর ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে প্রধানত সিপাহীদের নেতৃত্বে যে ব্যাপক সশস্ত্র বিদ্রোহ সংঘটিত হয়, তাকেই ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
- ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম সংঘটিত হয় - সিপাহী বিদ্রোহ (১৮৫৭ সালে)।
- ব্যারাকপুরে প্রথম প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করেন -মঙ্গল পাণ্ডে।
- সিপাহী বিদ্রোহের প্রথম শহীদ মঙ্গল পাণ্ডে।
- ভারতবর্ষে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে - ১৮৫৭ সালে।
- সিপাহী বিদ্রোহের স্মৃতি বিজড়িত স্থান - বাহাদুর শাহ পার্ক।
- সিপাহী বিদ্রোহকালীন গভর্নর জেনারেল ছিলেন - লর্ড ক্যানিং।

• মঙ্গল পাণ্ডে: 
- তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে একজন সিপাহী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। 
- ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে ব্যারাকপুর সেনা ছাউনিতে তিনি বিদ্রোহ করেন। 
- গ্রেপ্তারের পর বিচারে তার ফাঁসি হয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
কোন আইনের মাধ্যমে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে?
  1. রেগুলেটিং অ্যাক্ট, ১৭৭৩
  2. পিটস ইন্ডিয়া অ্যাক্ট, ১৭৮৪
  3. ভারত শাসন আইন, ১৮৫৮
  4. ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অ্যাক্ট, ১৮৬১
সঠিক উত্তর:
ভারত শাসন আইন, ১৮৫৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারত শাসন আইন, ১৮৫৮
ব্যাখ্যা

 • ভারত শাসন আইনম - ১৮৫৮:
- সিপাহী বিদ্রোহ সংঘটিত হওয়ার পর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট 'ভারত শাসন আইন' নামক একটি আইন পাস করা হয়।
- এই আইনে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটানো হয়।
- ভারতের রাষ্ট্র ক্ষমতা ব্রিটিশ রাজ্যের উপর ন্যস্ত করা হয়।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

উল্লেখ্য,
- ভারতবর্ষে ১৭৭২ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট-এর আওতায় চার সদস্য বিশিষ্ট গভর্নর জেনারেল অ্যান্ড কাউন্সিলকে ক্ষুদ্র পরিসরের আইনসভা বলা যেতে পারে।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৮৬১ সালে ভারত সরকারকে বাংলায় প্রতিনিধিত্বমূলক আইনসভা স্থাপন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
- এর ফলে ১৮৬১ সালের ১আগস্ট ভারতীয় কাউন্সিল আইন ঘোষিত হয়।
- বঙ্গীয় আইনসভা প্রতিষ্ঠার ঘোষণাও দেওয়া হয়

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬.
“জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থী” উক্তিটি কার?
  1. দুদু মিয়া
  2. হাজী শরীয়ত উল্লাহ
  3. তিতুমীর
  4. সৈয়দ আমীর আলী
সঠিক উত্তর:
দুদু মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুদু মিয়া
ব্যাখ্যা

• দুদু মিয়া:
- হাজী শরীয়তুল্লাহ ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে মাদারীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ফরায়েজী আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ছিল ফরিদপুর জেলায় এবং তার নেতৃত্বে এটি শুরু হয়।
- হাজী শরীয়তুল্লাহর মৃত্যুর পর ফরায়েজী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর পুত্র দুদু মিয়া।
- তিনি ধর্মীয় সংস্কারমূলক এ আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দেন।
- দুদু মিয়া ঘোষণা করেন, “জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থি”।

অপরদিকে,
- হাজী শরীয়তুল্লাহ একটি ইসলামী সংস্কার আন্দোলনের ডাক দেন।
- আল্লাহ কর্তৃক নির্দেশিত অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর্তব্যসমূহকে ফরজ বলা হয়।
- শরীয়তুল্লাহ মুসলমানদের স্থানীয় লোকাচার পালনের বিরোধী ছিলেন।
- ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে।
- অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর্তব্যসমূহকে কার্যকর করতে হাজী শরিয়তউল্লাহ ফরায়েজি মতাদর্শ প্রতিষ্ঠিত করেন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথমপত্র, মো. মোজাম্মেল হক।

১৭.
ইংরেজ ও নবাব সিরাজউদ্দৌলার মধ্যে পলাশীর যুদ্ধের তারিখ কোনটি?
  1. ২৩ জুন, ১৭৫৭
  2. ২৩ জুন, ১৭৫৬
  3. ২৩ জুন, ১৭৫৮
  4. ২১ মে, ১৭৫৫
সঠিক উত্তর:
২৩ জুন, ১৭৫৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ জুন, ১৭৫৭
ব্যাখ্যা

• পলাশীর যুদ্ধ: 
- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে।
- জেতার সবধরণের সুযোগ সুবিধা এবং এদের প্রাণপাত লড়াইয়ের পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- পলাশী যুদ্ধের ফলে ইংরেজ বা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে জোর প্রচারণা চালিয়েছিলেন কোন সংস্কারক?
  1. রাজা রামমোহন রায় 
  2. সৈয়দ আমীর আলী
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. নওয়াব আদুল লতিফ
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায় 
ব্যাখ্যা

• সতীদাহ প্রথা: 
- সতীদাহ প্রথা ভারত উপমহাদেশে নিষিদ্ধ করেছিলেন ব্রিটিশ শাসক লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক। 
- রাজা রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। 
- ১৮২৯ সালে তিনি "রেগুলেশন XVII" আইন পাস করেন, এর মাধ্যমে হিন্দু বিধবা নারীদের জীবন্ত দাহ করা বা সতীদাহ প্রথা বেআইনি ঘোষণা করা হয়।
- এই আইনে ‘সতীদাহ প্রথা বা হিন্দু বিধবা নারীকে জীবন্ত দাহ বা সমাধিস্থ করা বেআইনি’ বলে ঘোষণা করা হয়। 
- লর্ড বেন্টিঙ্ক ছিলেন একজন মানবহিতৈষী সংস্কারপন্থী, এবং তার প্রচেষ্টার ফলে সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।

১৯.
ব্রিটিশ সরকার কোন ব্যক্তিকে ‘খান বাহাদুর’ ও ‘নওয়াব বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. হেনরি লুই ডিরোজিও
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা

• নওয়াব আব্দুল লতিফ:
- নওয়াব আবদুল লতিফ ১৮২৮ সালে ফরিদপুর জেলার রাজাপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- নওয়াব আব্দুল লতিফকে কর্মজীবনে তাঁর কৃতিত্বের জন্য সরকার তাঁকে প্রথমে 'খান বাহাদুর' পরে নওয়াব এবং নওয়াব বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে ‘মুসলমান ছাত্রদের পক্ষে ইংরেজি শিক্ষার সুফল’ শীর্ষক এক রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় কোলকাতা মাদরাসায় এ্যাংলো পার্সিয়ান বিভাগ খোলা হয়।
- ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি বা মুসলিম সাহিত্য সমাজ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০.
নীল বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল কোন সালে?
  1. ১৮৫৯
  2. ১৮৫৬
  3. ১৮৫৮
  4. ১৮৬৮
সঠিক উত্তর:
১৮৫৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৯
ব্যাখ্যা

• নীল বিদ্রোহ:

- ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ নীলকরদের সীমাহীন অত্যাচার শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে নীল চাষিরা যে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে তাই ইতিহাসে নীল বিদ্রোহ নামে খ্যাত।
- এর নেতৃত্ব দিয়েছিল স্থানীয় পর্যায়ের সাধারণ কৃষকরা।
- বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন নেতা স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ সংগ্রাম পরিচালিত করে। এ আন্দোলনে যশোর অঞ্চলের কৃষকদের নেতৃত্ব দেন নবীন মাধব ও বেণী মাধব নামে দুই ভাই। হুগলিতে নেতৃত্ব দেন বৈদ্যনাথ ও বিশ্বনাথ সর্দার এবং নদীয়ায় মেঘনা সর্দার।
- এই নেতৃত্ব এতটাই শক্তিশালী এবং সুসংহত ছিল যে শেষ পর্যন্ত ইংরেজরা নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়।
- ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে সরকার 'ইন্ডিগো কমিশন' বা 'নীল কমিশন' গঠন করে।
- এই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে নীলচাষ করা, না করা কৃষকদের ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেয়া হয় এবং ‘ইন্ডিগো কন্ট্রাক্টস অ্যাক্ট' বাতিল করা হয়।
- ফলে নীল বিদ্রোহের অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।