পরীক্ষা আর্কাইভ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

পরীক্ষা৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়35 minutes
মোট প্রশ্ন৪৭
সিলেবাস
"Award Mania: Season - 13” এর জন্য প্রযোজ্য -------------------------------------------- ৪৭তম বিসিএস প্রস্তুতি - সাবজেক্ট ফাইনাল ও রিভিশন [রাউন্ড ⎯ ২] বিষয়ের নাম: বাংলাদেশ বিষয়াবলি⎯২ [১০০ নাম্বার] (টপিকগুলোর বিস্তারিত সিলেবাস বাটনে বা পিএসসির সিলেবাসেই পাবেন।) ১) বাংলাদেশের সংবিধান। ২) বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও সরকার ব্যবস্থা। ৩) বাংলাদেশের জনসংখ্যা, আদমশুমারি, জাতি, গোষ্ঠী ও উপজাতি সংক্রান্ত বিষয়াদি। ৪) বাংলাদেশের জাতীয় অর্জন, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনাসমূহ, জাতীয় পুরস্কার, বাংলাদেশের খেলাধুলাসহ চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৭ প্রশ্ন

.
মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় কোন সালে?
  1. ১৯০৯ সালে
  2. ১৯০৭ সালে
  3. ১৯০৫ সালে
  4. ১৯০৬ সালে
ব্যাখ্যা

মুসলিম লীগ: 
- মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর, ঢাকায়।
- এর পেছনের মূল প্রেক্ষাপট ছিল ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
- মুসলিম সমাজের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে নওয়াব খাজা সলিমুল্লাহ এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
- ঢাকার শাহবাগে সর্বভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনের অধিবেশনে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দলের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, এটি মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণে নিবেদিত থাকবে।
- সভার সভাপতি নওয়াব ভিকার-উল-মুলক প্রস্তাবটি সমর্থন করেন এবং এর মাধ্যমে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
- দলটি প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের শিক্ষা, প্রতিনিধি অধিকার এবং রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা।
- পরবর্তীকালেই এই দলটি পাকিস্তান সৃষ্টির মূল শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

.
নিন্মোক্ত কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সিলেট অঞ্চলে বাস করে না?
  1. মণিপুরী
  2. তঞ্চঙ্গ্যা
  3. খাসিয়া
  4. পাঙন
ব্যাখ্যা
- মণিপুরী, খাসিয়া, পাঙন সম্প্রদায় সিলেট অঞ্চলে বাস করে।
- তঞ্চঙ্গ্যা সিলেট অঞ্চলে বাস করে না। 

তঞ্চঙ্গ্যা:
- তঞ্চঙ্গ্যা পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার রইস্যাবিলি, বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়ার আশপাশের এলাকায় ও কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনার আশপাশের এলাকায়, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায়, কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফে তঞ্চঙ্গ্যা জাতিগোষ্ঠীর বসবাস।
- তঞ্চঙ্গ্যাদের পেশা মূলত কৃষি।
- এরা প্রধানত বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী।
- এদের ভাষায় বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায় অনুষ্ঠানকে ‘বিষু’ বলা হয়।
- তঞ্চঙ্গ্যা সমাজে পিতার অবর্তমানে পুত্রসন্তানরা সম্পদের মালিকানা পায়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
.
বাংলাদেশ সংবিধানের প্রস্তাবনা কয়টি?
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় ৷
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।

সংবিধানের প্রস্তাবনা:
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।

এগুলো হলো:
→ ১ম- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
→ ২য়- মূলনীতি গ্রহণ (অঙ্গীকার)।
→ ৩য়- শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা (অঙ্গীকার)।
→ ৪র্থ- সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা (ঘোষণা)।
→ ৫ম- গনপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা।

সূত্র- বাংলাদেশের সংবিধান
.
৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুসারে, সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম কোন বিভাগে?
  1. ঢাকা
  2. ময়মনসিংহ
  3. বরিশাল
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা:
- ২০১৩ সালে প্রণীত পরিসংখ্যান আইন অনুযায়ী, ইতিপূর্বে পরিচিত ‘আদমশুমারি'কে 'জনশুমারি' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- সে অনুসারে 'আদমশুমারি ও গৃহগণনার' পরিবর্তে ২০২২ সালের জুন মাসে '৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা' অনুষ্ঠিত হয়।
- স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে প্রথম আদমশুমারি পরিচালনা করা হয়।

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।
- দেশে পুরুষ ও নারীর অনুপাত: ৯৯.০৮ : ১০০.৯০।
- সাক্ষরতার হার: ৭৪.৮০%।
- সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে।
- সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে।
- সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে ঢাকা বিভাগে।
- সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে বরিশাল বিভাগে।

সূত্র: জনশুমারি ও গৃহগণনা চূড়ান্ত রিপোর্ট ২০২২।
.
নিম্নোক্ত কোন সালে বাংলাদেশে আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়নি?
  1. ১৯৭৪ সালে
  2. ১৯৮১ সালে
  3. ১৯৮৯ সালে
  4. ২০০১ সালে
ব্যাখ্যা
- ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশে আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়নি। 

জনশুমারি:

- স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।
- প্রথম জনশুমারিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭.৬৪ কোটি।
- এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৬টি জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- যথা- ১৯৭৪, ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১, ২০১১ ও ২০২২ সালে।
- ষষ্ঠ জনশুমারির নাম 'জনশুমারি ও গৃহগণনা'।
- পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

সূত্র - পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
.
নূন্যতম কত বছর এডভোকেট থাকলে কেউ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগের জন্য যোগ্য হন?
  1. ১২ বছর
  2. ১৫ বছর
  3. ১০ বছর
  4. ৯ বছর
ব্যাখ্যা
সুপ্রীম কোর্টের গঠন:
- বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের নাম হলো সুপ্রীম কোর্ট।
- এ আদালতের প্রধান হলেন প্রধান বিচারপতি।
- সুপ্রীম কোর্ট দুটি বিভাগে বিভক্ত—হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগ।

এছাড়াও, 
- সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন।
- এরপর প্রধান বিচারপতির পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সুপ্রীম কোর্টের অন্যান্য বিচারপতিদের নিয়োগ দিয়ে থাকেন।
- কোনো বাংলাদেশি নাগরিক যদি ১০ বছর এডভোকেট হিসেবে আইন পেশায় নিয়োজিত থাকেন অথবা বিচার বিভাগীয় কোনো পদে ১০ বছর চাকরি করেন, তবে তিনি সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হন।

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা (নবম-দশম শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলাদেশের কোন নৃগোষ্ঠী সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ‘পাঞ্চেস’ ব্যবস্থার প্রচলন করেছে?
  1. সাঁওতাল
  2. ওরাঁও
  3. রাজবংশী
  4. রাখাইন
ব্যাখ্যা
ওরাওঁ:
- বাংলাদেশের একটি প্রাচীন নৃগোষ্ঠী হলো ওরাওঁ।
- মূলত তারা দেশের বরেন্দ্র অঞ্চলে বসবাস করলেও বর্তমানে কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, বগুড়া, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাজীপুর, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় তারা ছড়িয়ে রয়েছে। নৃবিজ্ঞানীদের মতে, ওরাওঁরা দ্রাবিড় বংশোদ্ভূত একটি জনগোষ্ঠী।

উল্লেখ্য, 
- তারা মূলত কুঁড়ুখ ভাষায় কথা বলে, এটা দ্রাবিড় ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি আদি ও কথ্য ভাষা।
- এই ভাষার নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই। এছাড়াও ওরাওঁদের মধ্যে সাদরি ভাষাও প্রচলিত রয়েছে।

এছাড়াও, 
- ওরাওঁ সমাজে সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা ও বিবাদ নিষ্পত্তির জন্য একটি বিশেষ গ্রাম সংগঠন রয়েছে, যাকে ‘পাঞ্চেস’ বলা হয়।
- পাঞ্চেস সাধারণত গ্রামের সাত থেকে আটজন বয়স্ক ও অভিজ্ঞ ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত হয়, যারা বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক বিরোধ মীমাংসা করেন এবং গ্রামবাসীদের মধ্যে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখেন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য কী?
  1. সরকারি ক্ষমতা দখল করা
  2. সরকারি নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করা
  3. নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা
  4. জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা
ব্যাখ্যা

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী: 
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য হলো সরকারি নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করা।
- তারা রাজনৈতিক দলের মতো সরাসরি সরকারি ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে না।
- বরং তারা সরকারের গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্তকে নিজেদের স্বার্থের পক্ষে প্রভাবিত করতে চায়।
- এই গোষ্ঠীগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় বা পেশাগত স্বার্থকে কেন্দ্র করে গঠিত হয় এবং তারা সংঘবদ্ধভাবে সেই স্বার্থ রক্ষার জন্য কাজ করে।
- অ্যালান বল, এইচ জিগলার ও অ্যালমন্ড-পাওয়েল প্রমুখ রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা এই গোষ্ঠীগুলোর সংজ্ঞায় একমত যে, এগুলো সংগঠিত এবং লক্ষ্য-সচেতন।
- তাই বলা যায়, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য হচ্ছে নীতিনির্ধারক মহলে চাপ সৃষ্টি করে নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করা।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুসারে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কত?
  1. ১.০২%
  2. ১.১৭%
  3. ১.১২%
  4. ১.৩২%
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯ জন।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৪.৮০%।
- পুরুষের সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৬.৭১%।
- মহিলার সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭২.৯৪%।

সূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
১০.
অ্যাটর্নি-জেনারেল কতদিন পদে বহাল থাকবেন?
  1. ৫ বছর
  2. ৪ বছর
  3. প্রধানমন্ত্রীর সন্তোষানুযায়ী
  4. রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী
ব্যাখ্যা

অ্যাটর্নি-জেনারেল: 
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অ্যাটর্নি-জেনারেল সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হবার যোগ্য এমন একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগ দেওয়া হয়।
- তিনি রাষ্ট্রপতির দেওয়া দায়িত্ব পালন করেন এবং বাংলাদেশের সকল আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন করার অধিকার রাখেন।
- অ্যাটর্নি-জেনারেল কতদিন পর্যন্ত এই পদে বহাল থাকবেন, তা কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদে বাঁধা নয়।
- সংবিধানের ভাষ্যমতে, তিনি “রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত” এই পদে বহাল থাকবেন।
- অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতি যখন পর্যন্ত সন্তুষ্ট থাকবেন, তখন পর্যন্ত অ্যাটর্নি-জেনারেল স্বীয় দায়িত্ব পালন করবেন।
- এই পদটি মূলত নির্বাহী ক্ষমতার আওতাভুক্ত এবং এতে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি চাইলে যেকোনো সময় পদত্যাগ করতে পারেন অথবা রাষ্ট্রপতি চাইলে তাঁকে অপসারণ করতেও পারেন।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

১১.
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রথম কবে প্রদান শুরু হয়?
  1. ১৯৫৫ সালে
  2. ১৯৫৬ সালে
  3. ১৯৫৭ সালে
  4. ১৯৬০ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সমসাময়িক জীবিত লেখকদের সামগ্রিক মৌলিক অবদান চিহ্নিত করে তাঁদের সৃজনী প্রতিভাকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি করাই বাংলা একাডেমির সাহিত্য পুরস্কার প্রদানের উদ্দেশ্য।
- প্রতি বছর মাসব্যাপী আয়োজিত অমর একুশে গ্রন্থমেলা ও অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার প্রাপ্তদের পুস্কারের অর্থমূল্যের চেক, সম্মাননা পত্র ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, 
- ১৯৫৫ সালে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণা ও প্রকাশনার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু হয় একাডেমির।
- ১৯৬০ সাল থেকে প্রবর্তন করা হয় বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার।
-২০২৫ সালে ৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে 'বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৪' প্রদান করা হয়।

সূত্র: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো।
১২.
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তিতে জনসংহতি সমিতির পক্ষে স্বাক্ষর করেন কে?
  1. জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা
  2. প্রসেনজিত চাকমা
  3. উষাতন তালুকদার
  4. রাজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা
পার্বত্য চট্রগ্রাম শান্তি চুক্তি:
- ২ ডিসেম্বর, ২০২২ সালে পার্বত্য চট্রগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি হয়েছে।
- ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয়েছিল ‘পার্বত্য চট্রগ্রাম শান্তি চুক্তি’।
- বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

উল্লেখ্য, 
- চুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং জনসংহতি সমিতির পক্ষে জোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) স্বাক্ষর করেন।
- এই চুক্তির ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি স্থাপনের পথ সুগম হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বিবিসি বাংলা রিপোর্ট।
১৩.
অধিদপ্তরের প্রধান দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন কে?
  1. পরিচালক
  2. সচিব
  3. মন্ত্রী
  4. মহাপরিচালক
ব্যাখ্যা
অধিদপ্তর: 
- অধিদপ্তরের প্রধান দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন মহাপরিচালক।
- দপ্তরের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন পরিচালক।
- কোনো মন্ত্রণালয় বা তার বিভাগগুলোর প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হলো- সচিব বা জ্যৈষ্ঠ সচিব এবং নির্বাহী প্রধান মন্ত্রী।
- অধিদপ্তরের অধীনস্ত এক বা একাধিক দপ্তরকে পরিদপ্তর বলে, যার প্রধান হলেন পরিচালক।
- যিনি একজন যুগ্ম সচিব বা উপসচিবের মর্যাদাসম্পন্ন।

সচিবালয়:
- সচিব হলেন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রধান।
- তিনি এর প্রশাসন, নিয়ম-শৃঙ্খলা ও ন্যস্ত যাবতীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করেন।
- সচিব মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও অধীনস্থ অফিসসমূহে কার্যবিধি অনুযায়ী কার্যাদি সম্পন্ন হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে তদারকি করেন এবং এ সকল বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীকে অবহিত করেন।

মন্ত্রণালয়:
- মন্ত্রণালয় শাসন বিভাগের কার্য নির্বাহের জন্য জাতীয় পর্যায়ে গঠিত সরকারের প্রশাসনিক ইউনিট।
- যার প্রধান হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিভাগে বা মন্ত্রণালয়ে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী থাকবেন।
- সরকারের কার্যাবলি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে বণ্টন করা হয়।
- প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অধীনে রয়েছে অধিদপ্তর, অধীনস্থ দপ্তর এবং কতিপয় আধা সরকারি সংস্থা।

সূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও বিভিন্ন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।
১৪.
কোন দেশের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট ক্রিকেটে জয়লাভ করে?
  1. ওয়েস্ট ইন্ডিজ
  2. জিম্বাবুয়ে
  3. ভারত
  4. শ্রীলঙ্কা
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম জয় লাভ করে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।
- ২০০৫ সালে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ তাদের প্রথম টেস্ট জয় পায়।
- এর আগে, ২০০০ সালে বাংলাদেশ টেস্ট মর্যাদা অর্জন করে এবং
- ২০০০ সালের নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলে।
- জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ওয়েবসাইট।
১৫.
বর্তমানে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা পরিচালনা করে—
  1. বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
  2. বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর
  3. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ
ব্যাখ্যা
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন সংগ্রহশালা: 
- শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন সংগ্রহশালাঃ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন বাংলাদেশের আধুনিক ও সমসাময়িক শিল্প আন্দোলনের অগ্রগামী ছিলেন।
- ময়মনসিংহের স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তিনি একটি আর্ট গ্যালারী প্রতিষ্ঠা শুরু করেন,
- এটি ১৫ এপ্রিল ১৯৭৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
- পরবর্তীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ জাতীয় যাদুঘর কর্তৃক পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে এটির উন্নতি করা হয় এবং একটি যাদুঘরে রূপান্তরিত হয়।
- প্রয়াত শিল্পীর স্মৃতির সম্মানে যাদুঘরের নামকরন করা হয় শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন সংগ্রহশালা।
- এটি ময়মনসিংহ জেলার ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে অবস্থিত।

সূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ওয়েবসাইট।
১৬.
‘সৈয়দ রেফাত আহমেদ’ বাংলাদেশের কততম বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন?
  1. ২৩তম
  2. ২৪তম
  3. ২৫তম
  4. ২৬তম
ব্যাখ্যা
সৈয়দ রেফাত আহমেদ: 
- দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ শপথ নিয়েছেন।
- সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। 

প্রধান বিচারপতি: 
- সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- প্রধান বিচারপতিকে শপথ পড়ান মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করেই অন্যান্য বিচারপতি দের নিয়োগ দেয়া হয়।   

উল্লেখ্য,                       
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মো. সায়েম।

সূত্র - সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট।
১৭.
সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির অনুমতি ছাড়া বিদেশি উপাধি গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়?
  1. অষ্টম সংশোধনী
  2. নবম সংশোধনী
  3. সপ্তম সংশোধনী
  4. দশম সংশোধনী
ব্যাখ্যা
অষ্টম সংশোধনী:
- অষ্টম সংশোধনী আইন ১৯৮৮ সালের ৭ জুন এই সংশোধনী আইন পাস হয়।
- এর দ্বারা সংবিধানের ২, ৩, ৫, ৩০ ও ১০০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়।

এই সংশোধনী আইনবলে -
(১) ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষিত হয়;
(২) ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের ছয়টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়;
(৩) সংবিধানের ৫ অনুচ্ছেদে ইবহমধষর শব্দটি পরিবর্তন করে ইধহমষধ করা হয় এবং উধপপধ পরিবর্তন করে উযধশধ করা হয়;
(৪) সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি ছাড়া এদেশের কোনো নাগরিক কর্তৃক কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের প্রদত্ত কোনো খেতাব, সম্মাননা, পুরস্কার বা অভিধা গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়।

উল্লেখ করা যেতে পারে যে, পরবর্তী সময়ে সুপ্রীম কোর্ট সংবিধানের ১০০ অনুচ্ছেদের সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে, কারণ তার দ্বারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তিত হয়েছে।

অন্যদিকে:
- সপ্তম সংশোধনী আইন ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর এই আইন পাস হয়। এই আইন দ্বারা সংবিধানের ৮৬ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়; এর দ্বারা সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের সংশোধন করা হয়।

- দশম সংশোধনী আইন ১৯৯০ সালের ১২ জুন দশম সংশোধনী আইন কার্যকর হয়। এর দ্বারা, অন্যান্যের মধ্যে, সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে পরবর্তী ১০ বছরের জন্য জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য ৩০টি আসন সংরক্ষণের বিধান করা হয়, যেসব আসনে নারীরা নির্বাচিত হবেন সংসদ সদস্যদের ভোটে।

- নবম সংশোধনী আইন সংবিধান আইন, ১৯৮৯ (নবম সংশোধনী) পাস হয় ১৯৮৯ সালের জুলাই মাসে। এই সংশোধনী দ্বারা রাষ্ট্রের উপ-রাষ্ট্রপতি পদে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের বিধান করা হয়; রাষ্ট্রপতির পদে একই ব্যক্তির দায়িত্ব পালন পর পর দুই মেয়াদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয় (প্রতি মেয়াদকাল ৫ বছর)।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১৮.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) কত?
  1. ৭১.৮০%
  2. ৭৪.৮০%
  3. ৮০.৮০%
  4. ৭৯.৮০%
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯ জন।

উলেখ্য, 
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৪.৮০%।
- পুরুষের সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৬.৭১%।
- নারীর সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭২.৯৪%।

সূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
১৯.
নভেরা আহমেদ কী হিসেবে পরিচিত?
  1. স্থপতি
  2. ভাস্কর
  3. নাট্যকার
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

নভেরা আহমেদ:  
- নভেরা আহমেদ ছিলেন বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান ভাস্কর।
- বিংশ শতাব্দীর প্রথম বাংলাদেশী আধুনিক ভাস্কর হিসেবে তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে নেন।
- ১৯৯৫ সালে তিনি ‘হিউমানিটি’ শিরোনামে একটি প্রশংসিত শিল্পকর্ম তৈরি করেন।
- তার আরেকটি উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি ‘নিঃসঙ্গ’—১৯৮৯ সালে নির্মিত এটি বাংলাদেশের প্রথম নগ্ন নারী অবয়ব ভাস্কর্য বলে বিবেচিত।
- ২০১২ সালে আঁকা তার অন্যান্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘আত্মা’, ‘স্নান’ এবং ‘কক্সবাজার’।
- তার অসামান্য শিল্পকর্ম ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৭ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে। 

সূত্র: প্রথম আলো ও বণিক বার্তা পত্রিকা রিপোর্ট।

২০.
'রাজবংশী' নৃগোষ্ঠী বাংলাদেশের কোন জেলায় বাস করে?
  1. রংপুর
  2. দিনাজপুর
  3. রাজশাহী
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

রাজবংশী: 
- রাজবংশী বাংলাদেশে বসবাসরত একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদেরকে ক্ষত্রিয় নামক এক কোচ শাখার সঙ্গেও অভিন্ন বলে অনেকে মনে করেন।
- দূরাতীত কালে হিমালয় অঞ্চল বা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা থেকে আগত রাজবংশীরা খর্বকায়, চ্যাপ্টা নাক, উঁচু চোয়ালবিশিষ্ট এক মিশ্র জনগোষ্ঠীর মানুষ। এরা বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী।
- বর্তমানে এদের কেউ কেউ মুসলমান, কেউবা খ্রিস্টান।
- বাংলাদেশে এদের বসবাস প্রধানত রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী এবং অতি অল্পসংখ্যায় বগুড়া ও ময়মনসিংহ জেলায়।
- ১৯৪১ ও পরবর্তী আদমশুমারিতে রাজবংশীদের হিন্দু জনগোষ্ঠীর অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
- ১৯৯১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এদের মোট জনসংখ্যা পাঁচ হাজারের একটু বেশি।
- রাজবংশীরা মূলত কৃষিজীবী, তবে মাছধরা এবং মাছ বিক্রয় এদের অন্যতম পেশা।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

২১.
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের জন্য মামলা করেন -
  1. বিচারপতি মাজদার হোসেন
  2. বিচারপতি আবু সাঈদ
  3. বিচারপতি মোহাম্মদ সালেহ
  4. বিচারপতি মো. মেসবাহউদ্দিন
ব্যাখ্যা
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ:
- নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের জন্য মামলা করেন বিচারপতি মো. মাজদার হোসেন।

উল্লেখ্য, 

- ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর, তাঁর দায়ের করা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ঐতিহাসিক রায় প্রদান করে।
- এই রায়ে অধস্তন আদালতের বিচারকদের প্রশাসনিক ক্যাডার থেকে আলাদা করে একটি স্বাধীন জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
- আদালত আরও নির্দেশ দেয় যে, বিচারকদের নিয়োগ, বদলি ও শৃঙ্খলা সম্পর্কিত বিষয়সমূহ সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
- এই রায় বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় মাইলফলক হয়ে ওঠে।
- পরে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আইন কার্যকর করে পৃথকীকরণ বাস্তবায়ন শুরু করে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
২২.
জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট) কোথায় অবস্থিত?
  1. শাহবাগ, ঢাকা
  2. সেগুনবাগিচা, ঢাকা
  3. আজিমপুর, ঢাকা
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ:
- জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট) ঢাকার আজিমপুরে অবস্থিত।

উল্লেখ্য, 

- ১৯৭৭ সালে জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট)-এর আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- নিপোর্ট স্বস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এবং মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মনোভাবের পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ প্রদান করে আসছে।
- নিপোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল প্রজনন স্বাস্থ্য, শিশু স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি জোরদার করার জন্য কর্মসূচিভিত্তিক মূল্যায়ন, গবেষণা এবং সার্ভে পরিচালনা করা এবং গবেষণার ফলাফলকে বিভিন্ন পর্যায়ে উপস্থাপন করে কর্মসূচি উন্নয়নে কাজে লাগানো।

সূত্র: জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট)।
২৩.
মারমা জনগণ কোন বর্ণগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত?
  1. অস্ট্রিক
  2. মঙ্গোলয়েড
  3. দ্রাবিড়
  4. আর্য
ব্যাখ্যা

মারমা: 
- মারমা জনগণ মঙ্গোলয়েড বর্ণগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

- এ বর্ণগোষ্ঠীর মানুষের বৈশিষ্ট্য হিসেবে চ্যাপ্টা মুখমণ্ডল, ছোট ও চওড়া নাক, বাদামি চোখ এবং সোজা চুল পরিলক্ষিত হয়।
- বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী এই জনগোষ্ঠী শারীরিক গঠন ও নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মঙ্গোলয়েড জনগণের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

উল্লেখ্য, 
- মারমা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- এই জনগোষ্ঠীর জনগণের অধিকাংশই বাংলাদেশের তিনটি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতে বসবাস করে।
- তাদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে।
- এই ভাষা ‘ভোট বর্মী’ শাখার বর্মী দলভুক্ত একটি ভাষা।
- মারমারা মূলত বৌদ্ধ ধর্মালম্বী।
- মারমা জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম ‘সাংগ্রাই’।
- গ্রাম পর্যায়ের প্রশাসনিক প্রধান হলেন একজন কারবারি।
- মৌজা পর্যায়ের প্রধান হলেন একজন হেডম্যান।

সূত্র - বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট।

২৪.
মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. টাঙ্গাইল
  2. সিরাজগঞ্জ
  3. কুষ্টিয়া
  4. শরীয়তপুর
ব্যাখ্যা
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী:
- ভাসানী ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯১৯ সালে ব্রিটিশ বিরোধী অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনে যোগদানের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়।
- পরে তিনি টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষে গিয়ে তথাকার অত্যাচারিত কৃষকদের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
- ১৯৩৭ সালে ভাসানী মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং অচিরেই দলের আসাম শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন।
- ১৯৪৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল জন্মলাভ করে।
- নবগঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন মাওলানা ভাসানী, এবং টাঙ্গাইলের শামসুল হক হন সাধারণ সম্পাদক।
- আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি হিসেবে ভাসানী তখনকার বিরোধী দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট নামে একটি মোর্চা গঠন করেন।
- এ মোর্চার অপরাপর নেতা ছিলেন এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেখ মুজিবুর রহমান ও হাজী মোহাম্মদ দানেশ।
- ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে এবং মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৭টি আসন।
- টাঙ্গাইলের কাগমারিতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে আওয়ামী লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং আওয়ামী লীগ নেতা ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মধ্যে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে মতবিরোধ দেখা দেয়।
- ঐ বছর ১৮ মার্চ মওলানা ভাসানী পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ ত্যাগ করেন।
- এর প্রেক্ষিতে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠিত হয়।
- মওলানা ভাসানী ফারাক্কা চুক্তিকে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি বলে মনে করেন।
- তিনি ১৯৭৬ সালের ১৬ মে রাজশাহী থেকে ফারাক্কা অভিমুখে এক লং মার্চে নেতৃত্ব দেন।
- ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

সূত্র: সিরাজগঞ্জ জেলা ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।
২৫.
"প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা" – কথাটি সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১
  2. অনুচ্ছেদ ৩
  3. অনুচ্ছেদ ৫
  4. অনুচ্ছেদ ৭
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগের অনুচ্ছেদ - ৩ - এ রাষ্ট্র ভাষার কথা বলা হয়েছে।

অনুচ্ছেদ - ৩: রাষ্ট্রভাষা
- প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা৷

বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগ:
- অনুচ্ছেদ ১: প্রজাতন্ত্র। 
- অনুচ্ছেদ ২: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা। 
- অনুচ্ছেদ ২ক: রাষ্ট্রধর্ম। 
- অনুচ্ছেদ ৩: রাষ্ট্রভাষা। 
- অনুচ্ছেদ ৪: জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক। 
- অনুচ্ছেদ ৫: রাজধানী। 
- অনুচ্ছেদ ৬: নাগরিকত্ব। 
- অনুচ্ছেদ ৭: সংবিধানের প্রাধান্য।
- অনুচ্ছেদ ৭ক:সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ। 
- অনুচ্ছেদ ৭খ: সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য। 

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
২৬.
সংবিধানের ৬(২) অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনগণের জাতিগত পরিচয় কী?
  1. বাঙালী
  2. বাংলাদেশী
  3. বাংলা ভাষী
  4. বঙ্গবাসী
ব্যাখ্যা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৬(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে-
 'বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে বাঙালি এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলে পরিচিত হবেন।'

৬। নাগরিকত্ব:

(১) বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে।
(২) বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে "বাঙালী" আর একজন নাগরিক হিসেবে তাঁরা "বাংলাদেশী" নামে পরিচিত হবেন।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

২৭.
বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধের স্থপতি -
  1. মোস্তফা আলী কুদ্দুস ও মৃণাল হক
  2. ফরিদউদ্দীন আহমেদ ও মোস্তফা আলী কুদ্দুস
  3. ফরিদউদ্দীন আহমেদ ও জামি-আল-শফি
  4. নিতুন কুণ্ডু ও জামি-আল-শফি
ব্যাখ্যা
বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ:
- বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধের নকশা প্রণয়ন করেন স্থপতি ফরিদউদ্দীন আহমেদ ও স্থপতি জামি-আল-শফি।
- ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ সরকার রায়েরবাজারে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে এই স্মৃতিসৌধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়।
- এরপর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস্ বাংলাদেশ একটি জাতীয় ডিজাইন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
- এই প্রতিযোগিতায় জমা পড়া ২২টি নকশার মধ্যে ফরিদউদ্দীন আহমেদ ও জামি-আল-শফি প্রণীত নকশাটি নির্বাচিত হয়।
- এ নকশা ছিল প্রতীকী ও আবেগনির্ভর, যা বধ্যভূমির বেদনা ও শোককে শৈল্পিকভাবে তুলে ধরে।
- প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় গণপূর্ত বিভাগ এবং কাজটি ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যে সম্পন্ন হয়।
- তাঁদের নকশায় ইতিহাস, শোক, এবং স্থাপত্যের এক অনন্য সংমিশ্রণ ঘটেছে। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
২৮.
'উদীচী' কোন ধরনের সংগঠন?
  1. মানবাধিকার সংগঠন
  2. রাজনৈতিক সংগঠন
  3. অর্থনৈতিক সংগঠন
  4. সাংস্কৃতিক সংগঠন
ব্যাখ্যা
উদীচী:
- উদীচী বাংলাদেশের বৃহত্তম সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ১৯৬৮ সালে বিপ্লবী কথাশিল্পী সত্যেন সেন, রণেশ দাশগুপ্ত, সহ একঝাঁক তরুণ উদীচী গঠন করেন।
- জন্মলগ্ন থেকে উদীচী অধিকার, স্বাধীনতা ও সাম্যের সমাজ নির্মাণের সংগ্রাম করে আসছে।
- ১৯৭১ সালে উদীচীর কর্মীরা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়।
- ২০১৩ সালে এই সংঠনটি দেশের সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক লাভ করে।
- বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঢাকার তোপখানা সড়ক (দোতলায়) অবস্থিত।

সূত্র: বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ওয়েবসাইট।
২৯.
বাংলাদেশের সংবিধানের ৮১নং অনুচ্ছেদে কী নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. অর্থবিল
  2. আইন প্রণয়ন পদ্ধতি
  3. অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা
  4. বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৮১ নং অনুচ্ছেদে 'অর্থবিল' সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

৮১। অর্থবিল:

(১) এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, “অর্থবিল” বলতে সেই সব বিলকে বোঝায়, যেগুলোর মধ্যে কর আরোপ, রদবদল বা মওকুফ, সরকারি ঋণ গ্রহণ বা গ্যারান্টি দেওয়া, সংযুক্ত তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় বা বরাদ্দ, তহবিলের হিসাব-নিকাশ ও সরকারের আর্থিক দায়দায়িত্বের বিষয় থাকে। এ ছাড়া এসব বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত যেকোনো বিষয় থাকলেও সেটি অর্থবিল হিসেবে গণ্য হবে।

(২) কোনো জরিমানা, ফি, উসুল বা স্থানীয় সরকারের কর সংক্রান্ত বিষয় থাকলেই কোনো বিলকে অর্থবিল বলা যাবে না—এই কারণে সেটা অর্থবিল হবে না।

(৩) অর্থবিল রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানোর সময় স্পীকারকে অবশ্যই একটি সনদ দিতে হবে যে, এটি একটি অর্থবিল। এই সনদ চূড়ান্ত হবে, এবং এ বিষয়ে আদালতে কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না।

অন্যদিকে:
- অনুচ্ছেদ ৮০: আইন প্রণয়ন পদ্ধতি।
- অনুচ্ছেদ ৯৩: অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ৮৭: বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৩০.
মনিপুরী নৃগোষ্ঠী বসবাস করে কোথায়?
  1. সিলেট
  2. পটুয়াখালী
  3. রাঙ্গামাটি
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

মণিপুরী: 
- মণিপুরী আদিবাসীদের আদি নিবাস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর।
- ঐতিহাসিক মণিপুর রাজ্য থেকে যুদ্ধ ও রাজনৈতিক সংকটে তারা বাংলাদেশে আগমন করে।
- প্রথম অভিবাসন ঘটে মণিপুর-বার্মা যুদ্ধের সময় (১৮১৯–১৮২৫)।
- তখন মণিপুর রাজপরিবারের সদস্যরা সিলেট অঞ্চলে আশ্রয় নেন।
- বর্তমানে তারা প্রধানত বাংলাদেশের সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলায় বাস করে।
- মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও বড়লেখা থানায় এদের ঘন বসতি রয়েছে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৩১.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে নাগরিকদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে?
  1. ৩৬নং অনুচ্ছেদে
  2. ৩১নং অনুচ্ছেদে
  3. ২৭নং অনুচ্ছেদে
  4. ২৯নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭নং অনুচ্ছেদে নাগরিকদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে:
- ৩১নং অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার এবং
- ২৯নং অনুচ্ছেদে সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা,
- ৩৬নং অনুচ্ছেদে চলাফেরার স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের সংবিধান।
৩২.
রাখাইন জনগোষ্ঠী প্রধানত বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে বসবাস করে?
  1. কক্সবাজার
  2. রাজশাহী
  3. রংপুর
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
রাখাইন: 
- রাখাইন হলো বাংলাদেশে বসবাসরত একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, এরা মূলত আরাকান (বর্তমান রাখাইন রাজ্য, মিয়ানমার) থেকে অভিবাসিত হয়ে এদেশে বসতি গড়ে তোলে। তারা প্রথমে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে এসে বসবাস শুরু করে।
- বর্তমানে এদের প্রধান আবাসভূমি কক্সবাজার, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায় হলেও রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলাতেও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখাইন বসতি রয়েছে।

উল্লেখ্য, 
- রাখাইনরা মূলত কৃষিনির্ভর। কৃষি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করেই তারা জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। তাদের রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি। রাখাইন ভাষার আঞ্চলিক দুটি প্রচলিত নাম হলো ‘র‌্যামরা’ ও ‘মারৌও’।
- রাখাইনদের বর্ষবরণ উৎসবকে বলা হয় ‘সাংগ্রাং পোয়ে’ বা জলকেলি উৎসব। 

সূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ ও বাংলাপিডিয়া।
৩৩.
সংবিধানের ৩৪নং অনুচ্ছেদের সাথে সম্পর্ক রয়েছে কোনটির? 
  1. সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা
  2. আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার
  3. জবরদস্তি শ্রম
  4. চলাফেরার স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় ৷
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- সংবিধানের ভাগ আছে ১১টি।
- সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- তফসিল আছে ৭টি।

সংবিধানে মৌলিক অধিকার:
- অনুচ্ছেদ ৩৪ (১), ৩৪ (২ ক) অনুযায়ী সকল প্রকার জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধ।
- এই বিধান কোনভাবে লঙ্ঘিত হলে তা আইনতঃ দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে।
- তবে ফৌজদারি অপরাধের জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।

এছাড়াও,
- ২৯ নং অনুচ্ছেদে সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা,
- ৩১ নং অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার,
- ৩৬ নং অনুচ্ছেদে চলাফেরার স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৩৪.
"বঙ্গীয় কৃষক পার্টি" গঠন করেন কে?
  1. দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস
  2. আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  3. এ. কে. ফজলুল হক
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
ফজলুল হকের অবদান:
- 'বঙ্গীয় কৃষক পার্টি' গঠন করেন শেরে বাংলা এ, কে, ফজলুল হক।
- ১৯২৭ সালে তিনি এই পার্টি গঠন করেন।

উল্লেখ্য, 
- ১৯০৬ সালে ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনের তিনি অন্যতম সংগঠক ছিলেন।
- ১৯১২ সালে তার বলিষ্ঠ উদ্যোগে “কেন্দ্রীয় জাতীয় মুসলিম শিক্ষা সমিতি” গঠিত হয়। এই সমিতির উদ্দেশ্য ছিল মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং তাদের জন্য বৃত্তি, অনুদান প্রভৃতির ব্যবস্থা করা।
- ১৯২০ সালে আলীগড় ও ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তিনি প্রভূত অবদান রাখেন।

সূত্র: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৫.
গারোদের সমাজব্যবস্থা হচ্ছে -
  1. পিতৃতান্ত্রিক
  2. মাতৃতান্ত্রিক
  3. যৌথ পরিবারভিত্তিক
  4. উপজাতীয় গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

গারো: 
- গারোদের সমাজব্যবস্থা মূলত মাতৃতান্ত্রিক (matrilineal)
। অর্থাৎ, সম্পত্তির উত্তরাধিকার, পারিবারিক নাম এবং সামাজিক মর্যাদা নারীর দিক থেকেই বিবেচিত হয়। গারো সমাজে মেয়েরা পারিবারিক সম্পত্তির প্রধান উত্তরাধিকারী, বিশেষ করে কনিষ্ঠ কন্যা পিতামাতার সব সম্পত্তির মালিক হন।

উল্লেখ্য, 
- গারো  বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি নৃগোষ্ঠী।
- টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় এদের বাস।
- তবে ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী, টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলায় এরা অধিক সংখ্যায় বসবাস করে। এদের সংখ্যা প্রায় দেড়লক্ষ। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের মেঘালয় রাজ্যে এদের বসবাস রয়েছে। নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে গারোরা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর তিববতীবর্মণ শাখার বোড়ো উপশাখার অন্তর্ভুক্ত।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৩৬.
বাংলাদেশের একমাত্র মুসলিম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোনটি?
  1. গারো
  2. খাসিয়া
  3. পাঙন
  4. খিয়াং
ব্যাখ্যা

পাঙন:
- পাঙন সম্প্রদায় সিলেট অঞ্চলে বসবাস করে।
- তবে এদের অধিকাংশের বসবাস মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায়।
- পাঙন বা পাঙাল হচ্ছে বাংলাদেশের একমাত্র মুসলিম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী।
- তারা জাতিগতভাবে মণিপুরি হলেও ধর্মীয়ভাবে মুসলমান।
- তাদের বসবাস প্রধানত মৌলভীবাজার ও সিলেট অঞ্চলে।
- পাঙালরা নিজেদের ভাষা, রীতি-নীতি ও সামাজিক পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ধরে রেখেছে।
- তারা ইসলামী রীতিতে বিয়ে করে, তবে সামাজিক অনুষ্ঠান পালন করে নিজস্ব ঐতিহ্যে।  

সূত্র: বিবিসি নিউজ ও কালের কণ্ঠ। 

৩৭.
প্রধানমন্ত্রী কোন বিধি অনুযায়ী "প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা" নিয়োগ করেন?
  1. রুলস অব বিজনেস
  2. রুলস অব প্রসিডিউর
  3. রুলস অব পার্লামেন্ট
  4. রুলস অব কমার্স
ব্যাখ্যা
প্রধানমন্ত্রী:
- প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের 'রুলস অব বিজনেস' অনুযায়ী 'প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা' পদেও নিয়োগ দিতে পারেন।
- প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন এবং
- এর মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রের সকল প্রশাসনিক কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকেন।
- জাতীয় সংসদের নেতা ও মন্ত্রিপরিষদের প্রধান হিসেবে আইন প্রণয়ন থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সর্বাধিক।

এছাড়াও, 
- প্রধানমন্ত্রী শাসন বিষয়ক, আইন বিষয়ক, নিয়োগ সংক্রান্ত, বাজেট সংক্রান্ত বিবিধ কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকেন।
- সংবিধানের ৫৬ ধারা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের কমপক্ষে ৯০ শতাংশ সদস্য জাতীয় সংসদ সদস্যের মধ্য থেকে থেকে নিয়োগ প্রদান করবেন।
- এছাড়া বাইরে থেকে ১০ শতাংশ সদস্য তিনি মন্ত্রিসভায় যোগ করতে পারবেন (টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী)।

সূত্র: পেীরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ডেইলি স্টার।
৩৮.
মন্ত্রিসভা কার নিকট যৌথভাবে দায়ী থাকে?
  1. রাষ্ট্রপতির নিকট
  2. প্রধানমন্ত্রীর নিকট
  3. জনগণের নিকট
  4. সংসদের নিকট
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদের ৩ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে যে,
- মন্ত্রিসভা যৌথভাবে জাতীয় সংসদের নিকট দায়ী থাকিবে।
- অর্থাৎ, প্রধানমন্ত্রীসহ সকল মন্ত্রী সংসদের প্রতি দায়বদ্ধ থাকেন এবং তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে সংসদকে জবাবদিহি করতে হয়।
- এটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি, যেখানে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সরকারের কর্মকাণ্ড তদারকি করা হয়।
- সংসদে যদি মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করা হয় এবং তা গৃহীত হয়, তাহলে মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগ করতে হয়।
- এই যৌথ দায়বদ্ধতা সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এবং নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ রাখে।
- ফলে সংসদ কর্তৃক নিয়ন্ত্রণের এই ব্যবস্থা কার্যত জনগণের অধিকার ও মতামতের প্রতিফলন ঘটায়।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

৩৯.
কোনটির ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে?
  1. অর্থনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে
  2. স্বজাতিবোধের ভিত্তিতে
  3. নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে
  4. উপরের কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দল:
- নীতি ও কর্মসূচি ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে।
- সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে।

উল্লেখ্য, 
- সাধারণত বহুমুখী ও ব্যাপক সামাজিক বা জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি হয়।
- বহু ও বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দায়-দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির অন্তর্ভূক্ত থাকে।
- রাজনৈতিক দলের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হল বৃহত্তম জাতীয় ও সামাজিক স্বার্থ সাধন।
- রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রেই সম্প্রসারিত।

সূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ২৩
  2. অনুচ্ছেদ ২১
  3. অনুচ্ছেদ ১৯
  4. অনুচ্ছেদ ২০
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৯-এ সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
- এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্র মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য দূর করতে সচেষ্ট থাকবে।
- সম্পদের সুষম বণ্টন ও জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও এর অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে: 
অনুচ্ছেদ ২৩ - জাতীয় সংস্কৃতি। 
অনুচ্ছেদ ২১ - নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য। 
অনুচ্ছেদ ২০ - অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম। 

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

৪১.
হাজং নৃগোষ্ঠী প্রধানত কোন জেলায় বসবাস করে?
  1. ময়মনসিংহ
  2. কুমিল্লা
  3. রাঙামাটি
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা
হাজং:
- হাজং বাংলাদেশের একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- ময়মনসিংহ জেলার পর্বত সংলগ্ন ভূমিতে হাজংদের বসবাস।
- এদের কিছুসংখ্যক শেরপুর, সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলেও বাস করে।
- হাজং ভাষার নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী হাজংদের প্রধান ভাষা বাংলা।
- হাজংরা ভাষার লিখিত রূপ দিতে অসমীয়া বর্ণমালা ব্যবহার করে।
- হাজং সমাজ পিতৃতান্ত্রিজ
- হাজংরা সনাতন ধর্মাবলম্বী।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৪২.
মন্ত্রিসভার অন্যূন কত ভাগ সদস্য সংসদ-সদস্যদের মধ্য থেকে নিযুক্ত হতে হবে?
  1. এক-চতুর্থাংশ
  2. এক-তৃতীয়াংশ
  3. নয়-দশমাংশ
  4. দুই-দশমাংশ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (২) দফা অনুযায়ী,
- মন্ত্রিসভার অন্যূন নয়-দশমাংশ (৯০%) সদস্যকে সংসদ-সদস্যদের মধ্য থেকে নিযুক্ত হতে হবে।
- অর্থাৎ, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের মোট সংখ্যার অন্তত ৯০ শতাংশ অবশ্যই বর্তমান সংসদের নির্বাচিত সদস্য হতে হবে।
- বাকী অনধিক এক-দশমাংশ সদস্য সংসদে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।
- এই বিধান গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত হন।
- একইসঙ্গে এটি নির্বাহী বিভাগের কার্যক্রমে সংসদের জবাবদিহিতা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সহায়ক হয়। 

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

৪৩.
শিশুদের জন্য ‘শিশুস্বর্গ’ ও ‘চারুপীঠ’ নামে দুটি চিত্রাংকন প্রতিষ্ঠান কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. এস এম সুলতান
  2. হাশেম খান
  3. জয়নুল আবেদীন
  4. কামরুল হাসান
ব্যাখ্যা
এস এম সুলতান:
- এস এম সুলতান বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী।
- তার পুরো নাম শেখ মোহাম্মদ সুলতান।
- তিনি ১৯২৩ সালে নড়াইলের মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- এস এম সুলতান নড়াইলে ‘শিশুস্বর্গ' ও 'চারুপীঠ' নামে শিশুদের জন্যে দুটি চিত্রাংকন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন।

• এস এম সুলতানের চিত্রকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- হত্যাযজ্ঞ,
- চরদখল,
- সভ্যতার ক্রমবিকাশ প্রভৃতি।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৪৪.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে স্থানীয় শাসনের কথা বলা হয়েছে?
  1. ৫৯নং অনুচ্ছেদে
  2. ৬১নং অনুচ্ছেদে
  3. ৬২নং অনুচ্ছেদে
  4. ৬০নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

স্থানীয় শাসন: 
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৯ নং অনুচ্ছেদে স্থানীয় শাসনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
- এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের প্রতিটি প্রশাসনিক এককে আইনানুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত স্থানীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে স্থানীয় শাসনের দায়িত্ব প্রদান করতে হবে।
- অর্থাৎ, ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে প্রশাসন পরিচালনা করা হবে।
- এই অনুচ্ছেদে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রশাসন পরিচালনা, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসাধারণের কল্যাণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে।
- এতে করে স্থানীয় পর্যায়ে গণতন্ত্র চর্চা, বিকেন্দ্রীকরণ ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।

এছাড়াও, 
- সংবিধানের ৬১নং অনুচ্ছেদে 'সর্বাধিনায়কতা' কথা বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ৬২নং অনুচ্ছেদে 'প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগে ভর্তি প্রভৃতি' কথা বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ৬০নং অনুচ্ছেদে 'স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা' কথা বলা হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

৪৫.
রাজধানী ছাড়া অন্য কোথাও হাইকোর্ট বিভাগের অধিবেশন আয়োজন করতে হলে কার অনুমতি প্রয়োজন?
  1. আইনমন্ত্রীর
  2. রাষ্ট্রপতির
  3. স্পিকারের
  4. অ্যাটর্নি জেনারেলের
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০০ অনুযায়ী, সুপ্রীম কোর্টের স্থায়ী আসন রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত।
- তবে, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে প্রধান বিচারপতি অন্য যেকোনো স্থান নির্ধারণ করে সেখানে হাইকোর্ট বিভাগের অধিবেশন আয়োজন করতে পারেন।

সুপ্রীম কোর্ট:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের এখতিয়ার বর্ণিত হয়েছে।
- সংবিধানের ৯৪ (১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে বাংলাদেশের জন্য সুপ্রীম কোর্ট গঠিত হবে।
- সুপ্রীম কোর্টের এই দুই বিভাগের পৃথক এখতিয়ার রয়েছে।
- সংবিধান ও সংবিধানের পাশাপাশি দেশের সাধারণ আইন (সংসদ কর্তৃক পাশকৃত আইন) এই এখতিয়ারের উৎস।
- ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট প্রতিষ্ঠিত করা হয়।
- ২০১৭ সাল থেকে সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালিত হয়ে আসছে।
- ১৮ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালিত হয়। 

সূত্র: সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট ও বাংলাদেশ সংবিধান। 

৪৬.
কান্তজীউ মন্দির বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. রংপুর
  2. দিনাজপুর
  3. বগুড়া
  4. লালমনিরহাট
ব্যাখ্যা
কান্তজীউ মন্দির:
- দিনাজপুর জেলার কাহারোল থানার কান্তনগর গ্রামে অবস্থিত কান্তজীউ মন্দির বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত হিন্দু ধর্মীয় স্থাপত্য।
- অনেকের মতে, কান্তনগরে অবস্থিত হওয়ায় এই মন্দিরের নামকরণ করা হয়েছে “কান্তজীউ মন্দির”।
- জনশ্রুতি রয়েছে যে, শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ অধিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে এই মন্দির নির্মাণ করা হয়েছিল।
- দিনাজপুরের তৎকালীন জমিদার প্রাণনাথ রায় ১৭২২ খ্রিস্টাব্দে পোড়ামাটির কারুকাজে সুসজ্জিত এই মন্দিরের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
- তবে তিনি তাঁর জীবদ্দশায় এই মন্দির নির্মাণ শেষ করে যেতে পারেননি।
- পরবর্তীতে তাঁর পালক পুত্র রাম নাথ রায় ১৭৫২ খ্রিস্টাব্দে মন্দিরটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন।
- টেরাকোটার অলংকরণ ও স্থাপত্যশৈলীর জন্য এটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।

সূত্র: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও পত্রিকা রিপোর্ট। 
৪৭.
সাংগ্রাই কোন সম্প্রদায়ের উৎসব?
  1. চাকমা
  2. তঞ্চঙ্গ্যা
  3. মারমা
  4. গারো
ব্যাখ্যা
মারমা:
- সাংগ্রাই উৎসব হলো মারমা জনগণের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব।

- এটি মূলত বাংলা নববর্ষের সময়, অর্থাৎ এপ্রিল মাসে পালিত হয়।
- উৎসবটি মূলত বৌদ্ধ নববর্ষ উদ্‌যাপনের একটি রূপ। 

উল্লেখ্য, 
- মারমা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে।
- বাসস্থান: রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি।
- ধর্ম: বৌদ্ধ।
- সবচেয়ে বড় উৎসব: সাংগ্রাই।
- গ্রাম পর্যায়ের প্রশাসনিক প্রধান: কারবারি।
- মৌজা পর্যায়ের প্রধান: হেডম্যান।
- সার্কেল প্রধান: রাজা।

সূত্র - বাংলাপিডিয়া।