পরীক্ষা আর্কাইভ

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৭
সিলেবাস
"[৯ম - ১৩তম গ্রেড নিয়োগ প্রস্তুতি: পরীক্ষা - ১২] সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষা - ৩ টপিক: ১. মুক্তিযুদ্ধ ও ২. সংবিধান। উৎস: ইতিহাস সংক্রান্ত বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সহ সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট, বাংলাদেশের সংবিধান ও যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]"
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৭ প্রশ্ন

.
মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করে -
  1. ৩ নভেম্বর, ১৯৭১
  2. ৪ নভেম্বর, ১৯৭১
  3. ২১ নভেম্বর, ১৯৭১
  4. ২৩ নভেম্বর, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
২১ নভেম্বর, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ নভেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান:
- মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই ভারত বাংলাদেশকে সকল প্রকার সহযোগিতা দেয়।
- যুদ্ধকালীন সরকারকে আশ্রয়দান, প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় ও ভরণ-পোষণ, বহির্বিশ্বে জনমত গঠন ও সহানুভূতি, মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা সহ শেষ দিকে প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
- ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন ছিলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- পাকিস্তান ৩ ডিসেম্বর ভারত আক্রমণ করলে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।
- ৬ থেকে ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে ভারতীয় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীও পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী।
.
বাংলাদেশ সংবিধানের প্রথম সংশোধনী কবে আনা হয়?
  1. ১৫ জুলাই, ১৯৭৩
  2. ২২ জুলাই, ১৯৭৩
  3. ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩
  4. ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩
সঠিক উত্তর:
১৫ জুলাই, ১৯৭৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫ জুলাই, ১৯৭৩
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধন:
- সংবিধান সর্বমোট ১৭বার সংশোধন হয়েছে।

⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের প্রথম সংশোধনী:
- ১৯৭৩ সালের ১৫ জুলাই বাংলাদেশ সংবিধানে প্রথম সংশোধনী আনা হয়।
- এ সংশোধনীতে বাংলাদশ সংবিধানের ৪৭নং অনুচ্ছেদ পরিবর্তন করা হয়।
- ৪৭ অনুচ্ছেদে দুটি নতুন উপধারা সংযোজন করা হয়।
- উক্ত সংশোধনীর মাধ্যমে ৪৭-(ক) নামে একটি নতুন অনুচ্ছেদ সন্নিবেশিত হয়েছে।
- প্রথম সংশোধনীর মূল বিষয়বস্তু ছিল 'গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনে অন্যান্য অপরাধ' এর বিচার ও শাস্তি অনুমোদন।
- এ সংশোধনীর ফলে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধী ও গণহত্যার অভিযোগে বন্দিদের বিচারের পথ সহজ হয়।

অন্যদিকে,
⇒ দ্বিতীয় সংশোধনী:
- এই সংশোধনীর দ্বারা দেশে 'জরুরি অবস্থা' জারির বিধান করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এটি পাস হয়।
- এই সংশোধনীতে সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বিনা বিচারে যে কাউকে আটকের বিধান করা হয়।
- মূলত এ সংশোধনীর মাধ্যমে শাসন বিভাগ তথা নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
- এটি সংবিধানের নবম ভাগে সন্নিবেশিত হয়েছে।

• এ সশোধনীর মূল কথা হলো "যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ অথবা অভ্যন্তরীণ গোলযোগ দ্বারা বাংলাদেশ বা এর যে কোন অংশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপন্ন হবার আশঙ্কা দেখা দিলে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবেন।
- এ ধরনের ঘোষণার বৈধতার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি-স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে।
- জরুরি অবস্থা ঘোষণা পরবর্তী কোন ঘোষণার দ্বারা প্রত্যাহার করা হবে অথবা জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হবে কিংবা ১২০ দিন অতিবাহিত হবার পূর্বে সংসদের প্রস্তাব দ্বারা অনুমোদিত না হলে তা কার্যকর হবে না।
- জরুরি অবস্থা চলাকালীন নাগরিকদের মৌলিক অধিকার স্থগিত থাকবে।
- এ সংবিধানে আরো উল্লেখ করা হয়, এ জরুরি অবিস্থায় গ্রেফতার ও আটকাদেশ সম্পর্কিত বিধানের অবসান ঘটবে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
.
১৯৭১ সালে 'অপারেশন সার্চ লাইট'-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে কে ছিলেন?
  1. ইয়াহিয়া খান
  2. মেজর খাদিম হোসেন রাজা
  3. মেজর রাও ফরমান আলী
  4. লে. জে. টিক্কা খান
সঠিক উত্তর:
লে. জে. টিক্কা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লে. জে. টিক্কা খান
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চ লাইট:
- সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন: গভর্নর লে. জে. টিক্কা খান।
- ঢাকা শহরের দায়িত্বে: মেজর রাও ফরমান আলী।
- ঢাকার বাইরে দায়িত্বে: মেজর খাদিম হোসেন রাজা।
- ১৯৭১ সালের ১৫ মার্চ ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবের সাথে সমঝোতার উদ্দেশ্যে কয়েকজন জেনারেলসহ ঢাকায় আসেন।
- ১৯৭১ সালের ১৬ - ২৪ মার্চ পর্যন্ত মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক চলে।
- ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ৩ ব্যাটেলিয়ান পাকিস্তানী সৈন্য 'অপারেশন সার্চলাইট-এ' অংশগ্রহণ করে।
- তারা ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা সংগঠিত করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র কবে জারি করা হয়?
  1. ২ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. ৮ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ১২ এপ্রিল, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
১০ এপ্রিল, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র:
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র বলতে মুজিবনগর সরকার কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাকে বোঝানো হয়।
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।
- ৬ষ্ঠ তফসিলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতা ঘোষনা সংযুক্ত করা হয়।
- ৭ম তফসিলে ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র সংযুক্ত করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
মুক্তিযুদ্ধের 'তেলিয়াপাড়া স্ট্র্যাটেজি' কবে প্রণীত হয়?
  1. ২৭ মার্চর ১৯৭১
  2. ২ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. ৪ এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
৪ এপ্রিল, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ:
- তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলাধীন তেলিয়াপাড়ায় অবস্থিত।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রথম বৈঠক এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- এই স্মৃতিসৌধ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত স্মৃতিসৌধ।
- তেলিয়াপাড়া চা বাগানের বাংলোর পূর্ব দিকে নির্মাণ করা হয়েছে ২, ৩ ও ৪নং সেক্টরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মরণে তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ।
- ১৯৭৫ সালের জুন মাসে এ স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন করেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ।

⇒ মুক্তিবাহিনী:
- ১৯৭১ সালের একাত্তর সালের ৪ এপ্রিল সামরিক বাহিনীর বাঙালি কর্মকর্তারা সিলেটের তেলিয়াপাড়া চা বাগানে এক বৈঠকে মিলিত হন।
- সেখানে তারা মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল প্রণয়ন করে।
- পরে এটি তেলিয়াপাড়া স্ট্র্যাটেজি নামে পরিচিত হয়।
- বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় এম এ জি ওসমানী যুদ্ধে নেতৃত্ব দেবেন এবং বাংলাদেশকে চারটি সামরিক অঞ্চলে ভাগ করে সশস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হবে।
- ১২-১৭ জুলাই কলকাতায় মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত একটি দীর্ঘ সম্মেলন হয়, সেখানেই তিনটি নিয়মিত বাহিনী তৈরি এবং বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩, বিবিসি বাংলা।
.
কোনটি বাংলাদেশের সংবিধানের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার
  2. এককক্ষবিশিষ্ট আইনসভা
  3. দুষ্পরিবর্তনীয়
  4. প্রজাতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকরী হয়।

⇒ মূল সংবিধানের বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
১. লিখিত দলিল।
২. দুষ্পরিবর্তনীয়।
৩. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
৪. মৌলিক অধিকার।
৫. এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র।
৬. প্রজাতন্ত্র।
৭. এককক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
৮. সংসদীয় পদ্ধতির সরকার।
৯. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা।
১০. ন্যায়পাল।
১১. সাংবিধানিক প্রাধান্য।

উল্লেখ্য,
- রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার বাংলাদেশের সংবিধানের বৈশিষ্ট্য নয়।

উৎস: পৌরনীতি, বাংলাদেশের সংবিধান, এস এস সি প্রোগ্রাম।
.
বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. তাজউদ্দিন আহমদ
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. শেখ মুজিবুর রহমান
  4. এম. এ. জি. ওসমানী
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দিন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের সদস্যগণ মেহেরপুর বৈদ্যনাথ তলায় শপথ গ্রহণ করেন।
- সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তাঁর নাম অনুসারে বৈদ্যনাথ তলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং সরকার পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে।
- আওয়ামী লীগের চীপ হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী অস্থায়ী সরকারের (মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত) সদস্যদের শপথ পাঠ করান।
- শপথ অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
- এ সরকার গঠনের মাত্র দুই ঘন্টা পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে এবং মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- ফলে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তরিত হয়।

⇒ মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
- উপ-রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমদ,
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়: খন্দকার মোশতাক আহমেদ,
- অর্থ মন্ত্রণালয়: এম. মনসুর আলী,
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়: এ এইচ এম কামরুজ্জামান,
- প্রধান সেনাপতি: কর্নেল (অব.) এম. এ. জি. ওসমানী,
- চিফ অব স্টাফ: লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব,
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ: গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন দেশ থেকে 'বাংলাদেশ স্ফুলিঙ্গ' নামক সংবাদপত্র প্রকাশিত হত?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. যুক্তরাজ্য
  3. ফ্রান্স
  4. কানাডা
সঠিক উত্তর:
কানাডা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানাডা
ব্যাখ্যা
গণমাধ্যম:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন দেশে সংবাদপত্রে মুক্তিবাহিনীর তৎপরতা, বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রম ও নির্দেশাবলী, নেত্রবৃন্দের বিবৃতি ও তৎপরতা, প্রবাসী বাঙ্গালীদের আন্দোলনের খবর ইত্যাদি প্রকাশিত হত।
- এদের মধ্যে মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত জয় বাংলা, বাংলাদেশ, বঙ্গবাণী, স্বদেশ, রণাঙ্গন, স্বাধীন বাংলা, মুক্তিযুদ্ধ, সোনার বাংলা, বিপ্লবী বাংলাদেশ, জন্মভূমি, বাংলার বাণী, নতুন বাংলা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

এছাড়াও,
- মার্কিন যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত হতো বাংলাদেশ নিউজ লেটার, বাংলাদেশ সংবাদ পরিক্রমা।
- আমেরিকা থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ নিউজ লেটার, বাংলাদেশ নিউজ বুলেটিন, শিক্ষা উল্লেখযোগ্য।
- কানাডা থেকে বাংলাদেশ স্ফুলিঙ্গ নামক সংবাদপত্র প্রকাশিত হত।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
.
জেনারেল আবদুল্লাহ নিয়াজী কত হাজার সৈন্য ও অফিসারসহ মিত্রবাহিনীর নিকটে আত্মসমর্পণ করে?
  1. ৮১ হাজার
  2. ৯৩ হাজার
  3. ৯৭ হাজার
  4. ৮৭ হাজার
সঠিক উত্তর:
৯৩ হাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৩ হাজার
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করে।
- তাদের এ আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ২৬ মার্চ শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।

উল্লেখ্য,
⇒ মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর যৌথ দুর্বার আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনী ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে।
- ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পূর্বাঞ্চলের কমান্ডার জেনারেল এ কে নিয়াজিকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
- ১৫ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যাম মানেকশ পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সংবরণ করে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান।
- আত্মসমর্পণ ব্যতীত বিকল্প কোন পথ না পেয়ে বিপর্যস্ত পাক-বাহিনী ১৫ ডিসেম্বর নিঃশর্ত আত্মসমর্পণে সম্মত হয়।
- সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়।
- ১৬ ডিসেম্বর সকাল সোয়া নয়টার সময় মানেকশ ভারতের পূর্বাঞ্চল বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল জে এফ আর জেকবকে আত্মসমর্পণের দলিল ও আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করার জন্য ঢাকায় পাঠান।
- ঐ দিন বিকাল ৪ টা ১৯ মিনিটে পাকিস্তান ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্য ও অস্ত্র-শস্ত্রসহ ভারতীয় ইস্টার্ন কামান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং আরোরার নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- নিয়াজী পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- যৌথবাহিনীর পক্ষে স্বাক্ষর করেন লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা, জিওসি এবং পূর্বাঞ্চলীয় ভারতীয় বাহিনী ও বাংলাদেশ বাহিনীর সর্বাধিনায়ক।
- উল্লেখ যে, আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে নির্বাসিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ১নং সেক্টরের সদরদপ্তর কোথায় ছিল?
  1. হরিণা
  2. হেজামারা
  3. মেলাঘর
  4. বাঁশতলা
সঠিক উত্তর:
হরিণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরিণা
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
= ১নং সেক্টর:
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র পূর্বাঞ্চল বেলোনিয়া বুলগের মুহুরী নদীর তীরে নিয়ে গঠিত।
- বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রব।
- সদরদপ্তর: হরিণা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান, পরে মেজর রফিকুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ২নং সেক্টর:
- ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মেলাঘর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ, পরে মেজর এটিএম হায়দারের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৩নং সেক্টর:
- উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: হেজামারা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে এম শফিউল্লাহ, পরে মেজর এএনএম নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৪ নং সেক্টর:
- উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: প্রথমে করিমগঞ্জে এবং পরে আসামের মাসিমপুর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরাজন দত্ত, পরে ক্যাপ্টেন এ রবের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৫নং সেক্টর:
- সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান।
- সদরদপ্তর: বাঁশতলা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।

= ৬নং সেক্টর:
- সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: বুড়ি মাড়ি (বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে একমাত্র সদর দপ্তর)।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খেদেমুল বাশার।

= ৭নং সেক্টর:
-রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর।
- সদরদপ্তর: তরঙ্গপুর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নজরুল হক, পরে সুবেদার মেজর এ রব এবং মেজর কাজী নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৮নং সেক্টর:
- কুষ্টিয়া, যশোর থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা,
- বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল,
- বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ।
- সদরদপ্তর: কল্যাণী।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী, পরে মেজর এম এ মঞ্জুর স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৯নং সেক্টর:
- বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বশিরহাট।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম জলিল, পরে মেজর এম এ মঞ্জুর এবং মেজর জয়নাল আবেদীনের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ১০নং সেক্টর:
- সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল,
- বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন।

= ১১নং সেক্টর:
- টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মহেন্দ্রগঞ্জ।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম আবু তাহের।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১.
ভারত কত তারিখে বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়?
  1. ৫ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  2. ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  3. ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  4. ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণ:
- নভেম্বর, ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করে।
- প্রায় এক লক্ষ মুক্তিযোদ্ধা ঢাকা-চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহসহ দেশের অন্যান্য স্থানে হানাদার বাহিনীর উপর তীব্র আঘাত হানতে থাকে।
- নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ হতে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে মুক্তিবাহিনীর অভিযান ব্যাপক ফলপ্রসূ হয়।
- এসময় দিনাজপুর, কুষ্টিয়া ও যশোরের বিস্তীর্ণ এলাকা শত্রুমুক্ত হয়।
- ক্রমান্বয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলও মুক্তিযোদ্ধারা দখল করে নিতে থাকে।
- ফলে পাকিস্তানি বাহিনীর মনোবল ভেঙ্গে পড়ে।

⇒ বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর হাতে পর্যুদস্ত পাক-বাহিনী ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর আকস্মিকভাবে ভারতের অমৃতসর শ্রীনগরসহ অন্যান্য স্থানে আক্রমণ করলে ৪ ডিসেম্বর ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
- ভারতের ইন্দিরা গান্ধী সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতার জন্য ভারতীয় মিত্রবাহিনী পাঠায়।
- ৬ ডিসেম্বর ভারত স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- ভারতীয় মিত্রবাহিনী এবং মুক্তিবাহিনী একত্রে যৌথ বাহিনী গঠন করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাক-বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রচণ্ড আক্রমণ শুরু করে।
- ভারতীয় বিমান ও নৌ-বাহনীও পাক-বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযানে অংশগ্রহণ করে।
- ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে যশোর সেনানিবাস, সাতক্ষীরা, মাগুরা, নড়াইল, ঝিনাইদহ যৌথবাহিনীর দখলে আসে।
- ১০ ডিসেম্বর বিমান হামলা বন্ধ রেখে বিদেশীদের ঢাকা ত্যাগের সুযোগ দেওয়া হয়।
- ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে যৌথবাহিনী ভৈরব, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল মুক্ত করে ঢাকার খুব নিকটে চলে আসে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণার কথা প্রথম কে প্রচার করেন?
  1. মেজর রফিকুল ইসলাম
  2. এম এ হান্নান
  3. মীর শওকত আলী
  4. মেজর জিয়াউর রহমান
সঠিক উত্তর:
এম এ হান্নান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম এ হান্নান
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ঘোষণা:
- ২৫ মার্চ রাত ১:৩০ মিনিটে হানাদার সেনারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ধানমন্ডিস্থ ৩২ নম্বর বাসভবন হতে গ্রেপ্তার করে।
- মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের মীয়ানওয়ালী কারাগারে বন্দি ছিলেন।
- গ্রেপ্তারের পূর্বে তিনি মধ্যরাতে অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং এ ঘোষণা ওয়‍্যারলেসের মাধ্যমে চট্টগ্রাম প্রেরণ করেন।
- পরের দিন বিবিসি'র প্রভাতি অধিবেশনে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাটি প্রচারিত হয়।
- চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে ঘোষণাটি প্রচার করেন।
- ২৭ মার্চ কালুরঘাটে স্থাপিত অস্থায়ী বেতার কেন্দ্র থেকে বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার আর একটি ঘোষণা পাঠ করেন।

উল্লেখ্য,
- বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার কথা প্রচারিত হওয়ার পর মাতৃভূমিকে মুক্ত করার আশায় প্রবল শক্তিতে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার জনগণ ঝাঁপিয়ে পড়ে।
- হানাদারদের বিরুদ্ধে সর্বত্র সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়।
- স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাংলার ছাত্র-যুবক, নারী, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবীসহ সকল পেশাজীবী ও আপামর জনতা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
- তারা ঢাকা, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হানাদারদের বিরুদ্ধে জোর প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
- এভাবেই প্রতিরোধ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশকে শত্রু মুক্ত করার জন্য শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে 'যুদ্ধাপরাধীদের বিচার' সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ৪৮ (২) নং
  2. ৪৭ (৩) নং
  3. ৪৮ (১) নং
  4. ৭২(১) নং
সঠিক উত্তর:
৪৭ (৩) নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৭ (৩) নং
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান:
• সংবিধানের তৃতীয় ভাগের ৪৭ (৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
- গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের জন্য কোন সশস্ত্র বাহিনী বা প্রতিরক্ষা বাহিনী বা সহায়ক বাহিনীর সদস্য বা অন্য কোন ব্যক্তি, ব্যক্তি সমষ্টি বা সংগঠন কিংবা যুদ্ধবন্দীকে আটক, ফৌজদারীতে সোপর্দ কিংবা দণ্ডদান করার বিধান-সংবলিত কোন আইন বা আইনের বিধান এই সংবিধানের কোন বিধানের সাথে অসমঞ্জস বা তাহার পরিপন্থী, এই কারণে বাতিল বা বেআইনী হিসেবে গণ্য হবে না কিংবা কখনও বাতিল বা বেআইনী হয়েছে বলে গণ্য হবে না ।

অন্যদিকে -
- ৪৮ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হবেন।
- ৪৮ (২) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপ্রধানরূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করবেন এবং এই সংবিধান ও অন্য কোন আইনের দ্বারা তাঁকে প্রদত্ত ও তাঁর উপর অর্পিত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্য পালন করবেন।
- সংবিধানের ৭২(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত ও ভঙ্গ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৪.
মুক্তিযুদ্ধের সময় নিম্নের কোন ব্যক্তি সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ছিলেন না?
  1. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. মনসুর আলী
  3. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. তাজউদ্দীন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটি:
- মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ।
- দেশের সর্বস্তরের মানুষ এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ

⇒ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি),
- মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি),
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা),
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি),
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি),
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

উল্লেখ্য,
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ছিলেন না।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগের ২ক নং অনুচ্ছেদে কী সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. রাষ্ট্রধর্ম
  2. প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা
  3. নাগরিকত্ব
  4. সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রধর্ম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগের অনুচ্ছেদ -
- ১ নং অনুচ্ছেদ: প্রজাতন্ত্র,
- ২ নং অনুচ্ছেদ: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা,
- ২ক নং অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রধর্ম,
- ৩ নং অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রভাষা,
- ৪ নং অনুচ্ছেদ: জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় প্রতীক,
- ৪ক নং অনুচ্ছেদ: জাতির পিতার প্রতিকৃতি,
- ৫ নং অনুচ্ছেদ: রাজধানী,
- ৬ নং অনুচ্ছেদ: নাগরিকত্ব,
- ৭ নং অনুচ্ছেদ: সংবিধানের প্রাধান্য,
- ৭ক নং অনুচ্ছেদ: সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ,
- ৭খ নং অনুচ্ছেদ: সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৬.
বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে সর্বশেষ কে শহীদ হন?
  1. ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ
  2. সিপাহী মোস্তফা কামাল
  3. ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
  4. নূর মোহাম্মদ শেখ
সঠিক উত্তর:
ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর:
- মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের জন্ম ৭ মার্চ ১৯৪৯, বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে।
- ছাত্রজীবনে তিনি মাষ্টার দা সূর্যসেনের জীবনীগ্রন্থ, ক্ষুদীরামের ফাঁসি, তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা, চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার লুণ্ঠন এবং প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের জীবনীসহ বহু গ্রন্থ তিনি নিয়মিত পড়তেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৬৭ সালের ৩রা অক্টোবর ১৫তম শর্ট সার্ভিস কোর্সে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
- ১৯৬৮ সালের ২রা জুন তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে কমিশন লাভ করেন।
- সেনাবাহিনীতে তার নম্বর ছিল PSS-১০৪৩৯।
- পাকিস্তান সেনাবাহিনী যখন পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা চালাচ্ছিলো তখন তিনি কারাকোরামে কর্মরত ছিলেন।
- তার পোস্টিং হয় ৭নং সেক্টর-এর মহোদিপুর সাব-সেক্টরে।
- ১২ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী তার নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আক্রমণ করে।
- যুদ্ধে অপরিসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে ১৪ ডিসেম্বর সকালে পাকিস্তানী বাহিনীর স্নাইপার বুলেটের আঘাতে তিনি শহিদ হন।
- পরদিন সহযোদ্ধারা লাশ উদ্ধার করে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জ-এর সোনামসজিদ চত্বরে সমাহিত করে।
- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার তার অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ তাকে 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করা হয়।

⇒ বীরশ্রেষ্ঠ:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে এই পদক দেয়া হয়েছে।

১। ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর,
- মৃত্যু: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ (বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে শেষ শহীদ)।

২। সিপাহী হামিদুর রহমান,
- মৃত্যু: ২৮ অক্টোবর, ১৯৭১।

৩। সিপাহী মোস্তফা কামাল,
- মৃত্যু: ১৮ এপ্রিল, ১৯৭১।

৪। মোহাম্মদ রুহুল আমিন,
- মৃত্যু: ১০ ডিসেম্বর, ১৯৭১।

৫। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান,
- মৃত্যু: ২০ আগস্ট, ১৯৭১।

৬। ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ,
- মৃত্যু: ৮ এপ্রিল, ১৯৭১ (বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে ১ম শহীদ)।

৭। নূর মোহাম্মদ শেখ,
- মৃত্যু: ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১৭.
'২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা' বাংলাদেশের সংবিধানের কোন তফসিলে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে?
  1. ৪র্থ তফসিল
  2. ৫ম তফসিল
  3. ৬ষ্ঠ তফসিল
  4. ৭ম তফসিল
সঠিক উত্তর:
৬ষ্ঠ তফসিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ষ্ঠ তফসিল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের তফসিল:
- বাংলাদেশের সংবিধানে তফসিল ৭টি।
- যথা:

• প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
• দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বর্তমানে বিলুপ্ত)।
• তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা।
• চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী।
• পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ।
• ষষ্ঠ তফসিল: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা।
• সপ্তম তফসিল: ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।