পরীক্ষা আর্কাইভ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

পরীক্ষাশিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন১৫
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১৮: GK – বাংলাদেশ বিষয়াবলি ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছয়দফা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৫ প্রশ্ন

.
'তমদ্দুন মজলিশ' প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন -
  1. ক) অধ্যাপক আবুল কাশেম
  2. খ) আবুল হাসেম
  3. গ) সৈয়দ আমির আলি
  4. ঘ) আবুল কালাম
ব্যাখ্যা

তমদ্দুন মজলিশ
• প্রতিষ্ঠা ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর।
• উদ্যোক্তা- অধ্যাপক আবুল কাশেম, পদার্থবিজ্ঞান , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
• অন্য সদস্যরা ছিলেন- কাজী মোতাহার হোসেন,আবুল মনসুর আহমদ
• ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে পুস্তিকা প্রকাশ- ১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর।
• প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক- অধ্যাপক আবুল কাশেম।
• প্রথম সভাপতি- দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ।

তথ্যসূত্র:- ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।

.
বাঙ্গালি জাতির মুক্তির সনদ ছয় দফা দাবি উত্থাপিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৬৫
  2. খ) ১৯৬৯
  3. গ) ১৯৬৬
  4. ঘ) ১৯৬৮
ব্যাখ্যা

- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রথম ছয় দফা দাবী উত্থাপন করেন।
- একই বছরের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহিত হয় এবং
- ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করেন।
পরবর্তীতে, বঙ্গবন্ধু ছয়দফা উত্থাপনের জের ধরে গ্রেপ্তার হন।
- ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ছয় দফা দাবী এবং বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবীতে হরতাল চলাকালে নারায়ণগঞ্জে পুলিশের গুলিতে অনেকে নিহত হয়।
- এর ফলশ্রুতিতে ৭ জুনকে ছয় দফা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া। 

.
গণপরিষদে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৫৩
  2. খ) ১৯৫৬
  3. গ) ১৯৫৫
  4. ঘ) ১৯৫৪
ব্যাখ্যা

• ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করলে ৯ মে অনুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
• ১৯৫৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ দলীয় জাতীয় পরিষদ সদস্য আদেলউদ্দিন আহমেদ জাতীয় পরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিল উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়।
• ১৯৫৬ সালের ২৩শে মার্চ পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান গৃহিত হয়। এই সংবিধানের বাংলা ও উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া। 

.
ঐতিহাসিক ছয় দফার প্রথম দফা কোনটি?
  1. ক) শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি
  2. খ) পররাষ্ট্র সংক্রান্ত
  3. গ) বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
  4. ঘ) অর্থ ও মুদ্রা
ব্যাখ্যা
ছয় দফা কর্মসূচি বাঙালিদের অধিকারের সনদ যার মধ্যে বাঙালিদের জীবনের দাবি নিহিত ছিল। নিম্নে ছয় দফা কর্মসূচি উল্লেখ করা হল।
১। শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি: ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচিত হবে। 
২। পররাষ্ট্র সংক্রান্ত: বৈদেশিক সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা ছাড়া সকল বিষয় অঙ্গরাষ্ট্র বা প্রদেশের হাতে ন্যস্ত থাকবে। বৈদেশিক সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা বিষয় ন্যস্ত থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে।
৩। অর্থ ও মুদ্রা: দেশের দুই অঞ্চলের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু করার ব্যবস্থা থাকবে। 
৪। শুল্ক সম্বন্ধীয়: সকল প্রকার ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য এবং আদায়ের ক্ষমতা প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক সরকারের হাতে থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় নিবার্হের জন্য আদায়কৃত অর্থের একটা অংশ কেন্দ্রীয় সরকার পাবে।
৫। বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা: বৈদেশিক মুদ্রার ওপর প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্যগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। 
৬। আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা: আঞ্চলিক সংহতি ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্যগুলো আধা—সামরিক বাহিনী বা মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করতে পারবে। 

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয় -
  1. ক) ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২
  2. খ) ১১ মার্চ, ১৯৫০
  3. গ) ২ মার্চ, ১৯৪৮
  4. ঘ) ১ অক্টোবর, ১৯৪৭
ব্যাখ্যা

• ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
• কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
• রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় ১ অক্টোবর, ১৯৪৭ সালে যার আহ্বায়ক ছিলেন নুরুল হক ভূঁইয়া।
• দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় ২ মার্চ, ১৯৪৮ সালে যার আহ্বায়ক ছিলেন শামসুল আলম।
• ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এর আহবায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি , বাংলাপিডিয়া। 

.
কত দফার ভিত্তিতে যুক্তফ্রন্ট ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে?
  1. ক) ১১ দফা
  2. খ) ৬ দফা
  3. গ) ১৯ দফা
  4. ঘ) ২১ দফা
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের ২১-দফা কর্মসূচি
• আওয়ামী মুসলীম লীগের নির্বাচনী কর্মসূচীর ৪২ দফার প্রধান প্রধান দফা নিয়ে যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী ইসতেহার ঘোষণা করা হয় ।
• আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল মনসুর আহমদের প্রণীত ২১ দফায় বিভিন্ন নেতা স্বাক্ষর করেন।
• ২১ দফার ভিত্তিতে যুক্তফ্রন্ট ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল নৌকা এবং মুসলিম লীগের প্রতীক ছিল হারিকেন।
• ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নেতাগণ ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা শহীদের স্মৃতি অম্লান করে রাখার জন্য শ্রদ্ধাভরে তাদের কর্মসূচিকে ২১টি দফায় লিপিবদ্ধ করেন।
• ২১ দফার মধ্যে ভাষা সংক্রান্ত দফা ৫ টি যথা - ১,১০,১৬,১৭,১৮।    

তথ্যসূত্র:-স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারকার্য শুরু হয় কোথায়?
  1. ক) ঢাকা দায়রা জজ আদালত
  2. খ) ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
  3. গ) আগারগাঁও
  4. ঘ) পিলখানা
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
• ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
• ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
• বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
• মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
• এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
• গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
.
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল লতিফ
  2. খ) আলতাফ মাহমুদ
  3. গ) আবদুল গাফফার
  4. ঘ) আবদুল জব্বার
ব্যাখ্যা
''আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি......''
• গানটির রচয়িতা সাংবাদিক ও লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরী।
• গানটির প্রথম সুরকার ছিলেন আবদুল লতিফ।
• বর্তমান সুরকার আলতাফ মাহমুদ।
• ঢাকা কলেজের নতুন নতুন ছাত্র ইউনিয়নের অভিষেক অনুষ্ঠানে গানটি প্রথম গাওয়া হয়। 

তথ্যসূত্র:- জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।
.
ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কোন আসামিকে?
  1. ক) সার্জেন্ট জহু্রুল হক
  2. খ) ড. শামসুজ্জোহা
  3. গ) আসাদুজ্জামান
  4. ঘ) নূর হোসেন
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
• ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
• এই মামলার ১৭ নং আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
• রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহাকে ১৮ ফেব্রুয়ারি,১৯৬৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। 
• গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১০.
‘ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ (Students Action Committee) এর সভাপতি ছিলেন কে?
  1. ক) নুরে আলম সিদ্দিকী
  2. খ) তোফায়েল আহমেদ
  3. গ) আবুল কাসেম
  4. ঘ) শাজাহান সিরাজ
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৮ সালের ডিসেম্বর মাসে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন এবং জাতীয় ফেডারেশনের একাংশ মিলিত হয়ে ‘ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ (Students Action Committee = SAC)  গঠন করে।
• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (DUCSU) এর সহ-সভাপতি তোফায়েল আহমেদ SAC এর সভাপতি নিযুক্ত হন।
• SAC বা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আইয়ুব বিরোধী গণ আন্দোলনে মূল ভূমিকা পালন করে। 

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া। 
১১.
নিচের কোন দিনটি ছয় দফা দিবস হিসেবে পালন করা হয়?
  1. ক) ২৩ মার্চ
  2. খ) ২৩ জুন
  3. গ) ৭ জুন
  4. ঘ) ৫ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রথম ছয় দফা দাবী উত্থাপন করেন।
• একই বছরের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহিত হয় এবং
• ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করেন।
পরবর্তীতে, বঙ্গবন্ধু ছয়দফা উত্থাপনের জের ধরে গ্রেপ্তার হন।
• ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ছয় দফা দাবী এবং বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবীতে হরতাল চলাকালে নারায়ণগঞ্জে পুলিশের গুলিতে অনেকে নিহত হয়।
• এর ফলশ্রুতিতে ৭ জুনকে ছয় দফা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া। 
১২.
১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদে মোট আসন ছিল -
  1. ক) ৩১৩টি
  2. খ) ৩১০টি
  3. গ) ২৮৮টি
  4. ঘ) ২৯৮টি
ব্যাখ্যা
• ১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন হয়েছিল ৩০০ টি আসনে। ১০টি সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ মোট আসন সংখ্যা ছিল ৩১০ টি
• '৭০ সালে প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তান অ্যাসেম্বলির ৩১০টি আসনের মধ্যে ২৯৮টিতে জয়লাভ করে। যার মধ্যে ২৮৮টি আসনের মধ্যে সরাসরি নির্বাচনে জয়লাভ করে।

অন্যদিকে, 
• ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
• এই নির্বাচনে পুরো পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের মোট আসন ছিলো ৩১৩টি।
• আসনগুলোর মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের আসন সংখ্যা ছিলো ১৬৯টি। যার মধ্যে ৭টি ছিলো সংরক্ষিত মহিলা আসন।
• নির্বাচনে ১৬৯টি আসনের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামীলীগ ১৬৭টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে যার মধ্যে ৭টি আসন ছিল সংরক্ষিত।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩.
'আইনগত কাঠামো আদেশ' জারি করেন কে?
  1. ক) আইয়ুব খান
  2. খ) নুরুল আমিন
  3. গ) ইস্কান্দার মির্জা
  4. ঘ) ইয়াহিয়া খান
ব্যাখ্যা
জেনারেল ইয়াহিয়ার আইনগত কাঠামো আদেশ
জেনারেল ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা গ্রহণের পর ১৯৭০ সালের ৩০ মার্চ সাধারণ নির্বাচনের ভিত্তি হিসেবে পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়ন, গ্রহণ এবং মূলনীতি ও নির্বাচনের পদ্ধতি সম্বলিত এক আইনগত কাঠামো আদেশ জারি করেন। তাঁর আইনগত কাঠামো আদেশ ছিল নিম্নরূপ-
(১) সাধারণ নির্বাচনের পদ্ধতিগত নীতিমালা-
(ক) সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার নীতি গ্রহীত হবে।
(খ) ‘এক ব্যক্তি, এক ভোট’ এ নীতি অনুসৃত হবে।
(গ) পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদে প্রত্যেক প্রদেশ জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রতিনিধিত্ব প্রদান করবে। 

২) জাতীয় পরিষদ গঠন সম্পর্কে নিয়মাবলি-
(ক) ৩১৩ জন সদস্য নিয়ে জাতীয় পরিষদ গঠিত হবে
(খ) জাতীয় পরিষদের ৩১৩টি আসনের মধ্যে ৩০০টি সাধারণ আসন এবং বাকি ১৩টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। সাধারণ আসন জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া এবং অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
১৪.
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ফলে আইয়ুব খান কার নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করেন?
  1. ক) ইস্কান্দার মির্জা
  2. খ) জেনারেল ইয়াহিয়া খান
  3. গ) জেনারেল টিক্কা খান
  4. ঘ) জুলফিকার আলী ভু্ট্টো
ব্যাখ্যা
• উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ফলে ১৯৬৯ সালের ২৫শে মার্চ প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগে বাধ্য হন।
• এর আগে ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর পাকিস্তানের প্রথম প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জাকে জোরপূর্বক সরিয়ে আইয়ুব খান ক্ষমতা দখল করেন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫.
ছয় দফার 'অর্থ ও মুদ্রা' সংক্রান্ত দফা কোনটি?
  1. ক) দ্বিতীয়
  2. খ) তৃতীয়
  3. গ) চতুর্থ
  4. ঘ) পঞ্চম
ব্যাখ্যা
ছয় দফা কর্মসূচি বাঙালিদের অধিকারের সনদ যার মধ্যে বাঙালিদের জীবনের দাবি নিহিত ছিল। নিম্নে ছয় দফা কর্মসূচি উল্লেখ করা হল।
১। শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি: ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচিত হবে। 
২। পররাষ্ট্র সংক্রান্ত: বৈদেশিক সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা ছাড়া সকল বিষয় অঙ্গরাষ্ট্র বা প্রদেশের হাতে ন্যস্ত থাকবে। বৈদেশিক সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা বিষয় ন্যস্ত থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে।
৩। অর্থ ও মুদ্রা: দেশের দুই অঞ্চলের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু করার ব্যবস্থা থাকবে। 
৪। শুল্ক সম্বন্ধীয়: সকল প্রকার ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য এবং আদায়ের ক্ষমতা প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক সরকারের হাতে থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় নিবার্হের জন্য আদায়কৃত অর্থের একটা অংশ কেন্দ্রীয় সরকার পাবে।
৫। বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা: বৈদেশিক মুদ্রার ওপর প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্যগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। 
৬। আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা: আঞ্চলিক সংহতি ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্যগুলো আধা—সামরিক বাহিনী বা মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করতে পারবে। 

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।