পরীক্ষা আর্কাইভ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

পরীক্ষাশিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২২
সিলেবাস
"পরীক্ষা – ৩৭ বিষয়: বাংলা ব্যাকরণ টপিক: পদ প্রকরণ, কাল, উপসর্গ, বাক্য। উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।)"
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম] · তারিখ অনির্ধারিত · ২২ প্রশ্ন

.
কোনটি নিত্যবৃত্ত অতীত কাল?
  1. তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।
  2. কাজটি কি তুমি করেছিলে?
  3. তুমি নাচছিলে।
  4. সুমন রোজ সকালে ব্যায়াম করত।
ব্যাখ্যা
নিত্যবৃত্ত অতীত কাল:
অতীতকালে যে ক্রিয়া সাধারণভাবে এবং সচরাচর ঘটতো তার কাল নিত্যবৃত্ত অতীত কাল।
যেমন:
- প্রতিদিন সকালে আমরা শহিদ মিনারে আড্ডা দিতাম।
- সুমন রোজ সকালে ব্যায়াম করত।

অন্যদিকে,
সাধারণ অতীত:
অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন –
- তারা সেখানে বেড়াতে গেল।
- তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।

ঘটমান অতীত:
যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন -
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- তারা মাঠে খেলছিল।
- তুমি নাচছিলে।

পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীতকাল বলে।
যেমন:
- খবরটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
"তাঁর বয়স বেড়েছে, কিন্তু বুদ্ধি বাড়েনি।" এটি কোন বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. মিশ্র বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা জটিল বাক্য মিলিত হয়ে যখন একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
যেমন:
তিনি অর্থশালী কিন্তু শিক্ষিত নন।
হিমেল নিয়মিত পড়াশোনা করে, তাই সে প্রথম হয়।
তাঁর বয়স বেড়েছে, কিন্তু বুদ্ধি বাড়েনি।


• যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো ও, এবং, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি, সুতরাং, অতএব, যেহেতু, যেন প্রভৃতি অব্যয়যোগে সংযুক্ত থাকে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
.
বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্যে এক পদের পর অন্য পদ শোনার ইচ্ছাকে কী বলে?
  1. আসত্তি
  2. আকাঙ্ক্ষা
  3. যোগ্যতা
  4. অর্থসংগতি
ব্যাখ্যা
আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা, তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন:
'আমি গিয়ে দেখলাম'- এতে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয় না। যখন বলা হয়- 'আমি গিয়ে দেখলাম তারা চলে গেছে।' এখন এটি একটি বাক্য হলো। কেননা, এ কথা বলার পরে আর কিছু জানার আকাঙ্ক্ষা থাকে না

অন্যদিকে,
আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
যেমন – কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত। লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি। তাই এটি একটি বাক্য হয়নি।
- মনোভাব পূর্ণভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
যেমন - কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাক্যটি আসত্তি সম্পন্ন।

যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলনের নাম যোগ্যতা।
যেমন- বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়।
- এটি একটি যোগ্যতা সম্পন্ন বাক্য। কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
.
কোন শব্দটি তৎসম উপসর্গ দিয়ে গঠিত
  1. সজ্ঞান
  2. উৎফুল্ল
  3. পাতকুয়া
  4. হাহুতাশ
ব্যাখ্যা
• "উৎ' একটি তৎসম উপসর্গ।
- 'উৎ' উপসর্গ দিয়ে গঠিত শব্দ:
- উৎসব, উৎক্ষিপ্ত, উদগ্রীব, উত্তোলন, উত্তপ্ত, উৎফুল্ল, উৎসুক, উৎপাদন, উচ্চারণ, উদ্দেশ্য।

অন্যদিকে,
- 'হাহুতাশ' শব্দে 'হা' একটি বাংলা উপসর্গ।
- 'পাতকুয়া' শব্দে 'পাতি ' একটি বাংলা উপসর্গ।
- 'সজ্ঞান' শব্দে 'স' একটি বাংলা উপসর্গ।

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
.
'সমুদয়' কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. নির্দেশক
  2. আত্মবাচক
  3. সাকল্যবাচক
  4. অনির্দেশক
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় সর্বনাম পদ নানারকম হয়।

যেমন:
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তিনি, এরা, ওরা ইত্যাদি।
২. নির্দেশক সর্বনাম: এ, এটি, সেটি, সেগুলো ইত্যাদি।
৩. সাকল্যবাচক সর্বনাম: সকল, সব, সমুদয় ইত্যাদি।
৪. সাপেক্ষ সর্বনাম: যে-সে, যা-তা, যিনি-তিনি ইত্যাদি।
৫. প্রশ্নসূচক সর্বনাম: কী, কার, কাদের, কিসে ইত্যাদি।
৬. অনির্দেশক সর্বনাম: কেউ, কোন, কেহ, কিছু ইত্যাদি।
৭. আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি ইত্যাদি।
৮. অন্যাদিবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
.
'অপনোদন' শব্দের 'অপ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. স্থানান্তর
  2. বিপরীত
  3. বিকৃত
  4. নিকৃষ্ট
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন অর্থে 'অপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- বিপরীত অর্থে = অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ।
- নিকৃষ্ট অর্থে = অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
- স্থানান্তর অর্থে = অপসারণ, অপহরণ, অপনোদন
- বিকৃত অর্থে = অপমৃত্যু।

তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

.
"রতন নিঃশব্দে গৃহে প্রবেশ করিল।" - গঠন অনুসারে এটি কোন বাক্য?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. আশ্রিত খণ্ডবাক্য
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
ফুল ফুটেছে।
ছেলেরা খেলা করে।

• এখানে 'ফুল' এবং 'ছেলেরা' কর্তা বা উদ্দেশ্য এবং 'ফুটেছে', 'খেলা করে' সমাপিকা ক্রিয়া বা বিধেয়।

অনুরূপ - রতন নিঃশব্দে গৃহে প্রবেশ করিল।

অন্যদিকে,
যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা জটিল বাক্য মিলিত হয়ে যখন একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
যেমন:
তিনি অর্থশালী কিন্তু শিক্ষিত নন।
হিমেল নিয়মিত পড়াশোনা করে, তাই সে প্রথম হয়।

জটিল বাক্য:
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে ।

যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
.
'সারি' কোন প্রকার বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ভাববাচক
  2. সমষ্টিবাচক
  3. নামবাচক
  4. শ্রেণিবাচক
ব্যাখ্যা
সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্যপদ দ্বারা একজাতীয় ব্যক্তি, বস্তু বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায়, তাকে সমষ্টিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- জনতা, সভা, সমিতি, শ্রেণি, দল, সংঘ, পাল, ঝাঁক, গুচ্ছ, মালা, সারি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নামবাচক বা সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোন ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান, বা গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞাপিত হয়, তাকে সংজ্ঞা বা নামবাচক বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন-
- নজরুল, ঢাকা, মেঘনা, হিমালয়, গীতাঞ্জলি, ফাল্গুন, বিজু, বৈসাবি ইত্যাদি।

শ্রেণিবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্যপদ দ্বারা ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, নদী, পর্বত ইত্যাদির সাধারণ নাম বোঝায়, তাকে শ্রেণিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- মানুষ, পাখি, পর্বত, কবি, শহর, বই, গাছ, বাঙালি, মাছ, সাগর ইত্যাদি।

ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্যপদ দ্বারা ক্রিয়ার ভাব বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ভাববাচক বা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- ভোজন, শয়ন, দর্শন, গমন, শ্রবণ, করা, দেখা, শোনা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
.
'গররাজি' শব্দে ব্যবহৃত 'গর্‌' কোন বিদেশি উপসর্গ?
  1. হিন্দি
  2. ফারসি
  3. ইংরেজি
  4. আরবি
ব্যাখ্যা
• 'গররাজি' শব্দে ব্যবহৃত 'গর্‌' একটি আরবি উপসর্গ।

• আরবি উপসর্গ ৪টি।
যথা:
- আম্‌,
- খাস,
- লা,
- গর্‌।

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি – এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে।
- এর কতগুলো খাঁটি উচ্চারণে আবার কতগুলো বিকৃত উচ্চারণে বাংলায় ব্যবহৃত হয়। এ সঙ্গে কতগুলো বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু রয়েছে।
- দীর্ঘকাল ব্যবহারে এগুলো বাংলা ভাষায় বেমালুম মিশে গিয়েছে। বেমালুম শব্দটিতে 'মালুম' আরবি শব্দ আর 'বে' ফারসি উপসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০.
সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের উদাহরণ কোনটি?
  1. রেখো মা, দাসেরে মনে এ মিনতি করি পদে।
  2. শীঘ্রই বৃষ্টি আসবে।
  3. আমার জন্য একটি বই আনবেন।
  4. আমি গল্প লিখতে থাকব।
ব্যাখ্যা
সাধারণ ভবিষ্যৎ:
- ভবিষ্যৎ কালে যে কাজ সাধারণভাবে সম্পন্ন হবে বোঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন-
- আমরা রংপুরে যাব।
- দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।
- শীঘ্রই বৃষ্টি আসবে।

অন্যদিকে,
ঘটমান ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়া ভবিষ্যৎ কালে চলতে থাকবে বোঝায়, তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন -
- আমি গল্প লিখতে থাকব।
- এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন –
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।
- আমার জন্য একটি বই আনবেন
- 'রেখো মা, দাসেরে মনে এ মিনতি করি পদে।'

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১১.
"আড়ক্ষ্যাপ্যা" শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. বাংলা
  2. সংস্কৃত
  3. ফারসি
  4. আরবি
ব্যাখ্যা
• "আড়" একটি বাংলা উপসর্গ।
- "আড়" উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ:
- আড়চোখে, আড়নয়নে, আড়পাগলা, আড়ক্ষ্যাপ্যা, আড়কোলা, আড়গড়া।

বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

আরবি উপসর্গ:
- আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।

ফারসি উপসর্গ: 
- কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১২.
কোনটি বিদেশি উপসর্গ?
  1. দুর
  2. অঘা
  3. ঊন
  4. হর
ব্যাখ্যা
বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
উর্দু উপসর্গ: হর।
ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

অন্যদিকে,
- 'অঘা, এবং ঊন' খাঁটি বাংলা উপসর্গ।
- 'দুর' সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩.
"কাঞ্চন পড়ছে।" - বাক্যে কোন ক্রিয়ার উদাহরণ রয়েছে?
  1. দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  2. সকর্মক ক্রিয়া
  3. অকর্মক ক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
অকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম থাকে না, তাকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- স্বপন লিখছে।
- কাঞ্চন পড়ছে।

অন্যদিকে,
দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকে তাকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রদের বাংলা পড়াচ্ছেন।
- মা শিশুকে দুধ খাওয়াচ্ছেন।

প্রযোজক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া অন্যের দ্বারা চালিত হয়, তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
মা খোকাকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
সাপুড়ে সাপ খেলায়।

সকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম থাকে, তাকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
স্বপন চিঠি লিখছে।
কাঞ্চন বই পড়ছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৪.
"যে ভিক্ষা চায় তাকে দান করো।" - এটি কোন বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য:
- কোন কোন বাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় অর্থাৎ কর্তা ও সমাপিকা ক্রিয়া ছাড়া এক বা একাধিক অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকতে পারে। এ অপ্রধান খণ্ডাংশ মূল বাক্যেরই অংশ। এ ধরনের বাক্যকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

যেমন -
- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে।
- যে ভিক্ষা চায় তাকে দান করো।
- যদি বৃষ্টি হয়, তবে বের হব না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫.
কোনটি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. টিপ টিপ
  2. যে
  3. যথাসময়ে
  4. কোথাও
ব্যাখ্যা
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!

অন্যদিকে,
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬.
কোনটি সাধারণ বর্তমান কালের উদাহরণ?
  1. এবার মা খেতে ডেকেছেন।
  2. টেলিভিশনে রবীন্দ্রনাথের লেখা নাটক দেখাচ্ছে।
  3. দুই আর দুইয়ে চার হয়।
  4. অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।
ব্যাখ্যা
সাধারণ বর্তমান:
- যে ক্রিয়ার কাজটি বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে বা হয়, তাকে সাধারণ বর্তমান বা নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
সকালে সূর্য ওঠে।
দুই আর দুইয়ে চার হয়।
আমি রোজ বিদ্যালয়ে পড়তে যাই।

অন্যদিকে,
- ঘটমান বর্তমান - টেলিভিশনে রবীন্দ্রনাথের লেখা নাটক দেখাচ্ছে।
- পুরাঘটিত বর্তমান - এবার মা খেতে ডেকেছেন। এবং অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৭.
কোন বাক্যে ভাববাচক বিশেষ্যের উদাহরণ আছে?
  1. আমরা খেয়েছি।
  2. খুকু নাচছে।
  3. খুকুর নাচন দেখে যা।
  4. আমি কোটবাড়ি দেখেছি।
ব্যাখ্যা
ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্যপদ দ্বারা ক্রিয়ার ভাব বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ভাববাচক বা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- ভোজন, শয়ন, দর্শন, গমন, শ্রবণ, করা, দেখা, শোনা ইত্যাদি।

• ভাববাচক বিশেষ্য ও ক্রিয়াপদ এক নয়।
যেমন:

ভাববাচক বিশেষ্য:
১. কোটবাড়ি দর্শন করে এলাম।
২. মহারাজের ভোজন-পর্ব শেষ হয়েছে।
৩. বাবার শয়ন এখনো সম্পন্ন হয় নি।
৪. খুকুর নাচন দেখে যা।
৫. তার বোধহয় ফেরা হবে না।

ক্রিয়াপদ:
১. আমি কোটবাড়ি দেখেছি।
২. আমরা খেয়েছি।
৩. বাবা শুয়েছেন।
৪. খুকু নাচছে।
৫. সে ফিরেছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৮.
কোন বাক্যটিতে নাম-বিশেষণের বিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সামান্য একটু দুধ দাও।
  2. বাগানটি অত্যন্ত সুন্দর।
  3. ঘোড়া খুব দ্রুত চলে।
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
বিশেষণের বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে ,তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন-

নাম-বিশেষণের বিশেষণ হলো:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- বাগানটি অত্যন্ত সুন্দর।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।
- আজ আবহাওয়া অনেক ভালো।

ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ:
- রকেট অতি দ্রুত চলে।
- ঘোড়া খুব দ্রুত চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯.
"কুসঙ্গ কুফল বয়ে আনে।" - বাক্যে 'কুসঙ্গ' শব্দটি কোন উপসর্গ দিয়ে গঠিত?
  1. তৎসম
  2. হিন্দি
  3. আরবি
  4. বাংলা
ব্যাখ্যা
• "কুসঙ্গ কুফল বয়ে আনে।" বাক্যে 'কুসঙ্গ' শব্দটি বাংলা উপসর্গ দিয়ে গঠিত।
- "কু" উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ:
-  কুঅভ্যাস, কুকথা, কুসঙ্গ, কুনজর, কুকাম, কুযশ।

বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
২০.
"১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।" - বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. নিত্যবৃত্ত বর্তমান
  2. সাধারণ অতীত
  3. সাধারণ বর্তমান
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত
ব্যাখ্যা
নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল:
স্বাভাবিক বা অভ্যস্ততা বোঝালে সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।
যথা -
- সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়। (স্বাভাবিকতা)
- আমি রোজ সকালে বেড়াতে যাই। (অভ্যস্ততা)

• নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
(১) স্থায়ী সত্য প্রকাশে: চার আর তিনে সাত হয়।

(২) ঐতিহাসিক বর্তমান:
অতীতের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনায় যদি নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের প্রয়োগ হয়, তাহলে তাকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে।
যেমন -
- বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।

(৩) কাব্যের ভণিতায়:
- মহাভারতের কথা অমৃত সমান।
কাশীরাম দাস ভনে শুনে পুণ্যবান।

(৪) অনিশ্চয়তা প্রকাশে: কে জানে দেশে আবার সুদিন আসবে কি না।

(৫) 'যদি', 'যখন', 'যেন' প্রভৃতি শব্দের প্রয়োগে অতীত ও ভবিষ্যৎ কাল জ্ঞাপনের জন্য সাধারণ বর্তমান কালের ব্যবহার হয়।
যেমন -
- বৃষ্টি যদি আসে, আমি বাড়ি চলে যাব।
- সকলেই যেন সভায় হাজির থাকে।
- বিপদ যখন আসে, তখন এমনি করেই আসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২১.
কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে, কোন ক্রিয়া বলে?
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. নাম ক্রিয়া
  3. সংযোগ ক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।

অন্যদিকে,
যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- গরম করা, গান করা, মার খাওয়া, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা ইত্যাদি।

নাম ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ' বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে - 'আনো' প্রত্যয় যুক্ত করে হয় 'চমকানো'; আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।
২২.
"আমি তোমাকে ভালোবেসেছিলাম।" - বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত অতীত
  2. নিত্যবৃত্ত অতীত
  3. ঘটমান অতীত
  4. সাধারণ অতীত
ব্যাখ্যা
পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীতকাল বলে।
যেমন:
- খবরটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
- আমি তোমাকে ভালোবেসেছিলাম।

অন্যদিকে,
সাধারণ অতীত:
অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন –
- তারা সেখানে বেড়াতে গেল।
- তখন বাতিটা জ্বলে উঠল

ঘটমান অতীত:
যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন -
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- তারা মাঠে খেলছিল।

নিত্যবৃত্ত অতীত কাল:
অতীতকালে যে ক্রিয়া সাধারণভাবে এবং সচরাচর ঘটতো তার কাল নিত্যবৃত্ত অতীত কাল।
যেমন:
- প্রতিদিন সকালে আমরা শহিদ মিনারে আড্ডা দিতাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।