গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে দেশের কোন জেলা জলমগ্ন হবে?
ক
ক) রংপুর
খ
খ) দিনাজপুর
গ
গ) বগুড়া
ঘ
ঘ) সাতক্ষীরা
ব্যাখ্যা
• গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে দেশের নিম্নভূমি তলিয়ে যাবার আশংকা রয়েছে। • এক্ষেত্রে সাতক্ষীরা, বরিশাল ও নোয়াখালী জেলা নিম্নাংশসহ উপকূলবর্তী নিম্নভূমি প্লাবিত হতে পারে।
তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ ইত্যাদি সৃষ্টি হয়?
ক
ক) মেসোমন্ডল
খ
খ) ট্রপোমন্ডল
গ
গ) এক্সোমন্ডল
ঘ
ঘ) স্ট্রাটোমন্ডল
ব্যাখ্যা
ট্রপোমন্ডল • বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো ট্রপোমন্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার। • এই স্তরে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদির সৃষ্টি হয়। • ট্রপোমন্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি বা ট্রপোপজ। • ট্রপোবিরতি এলাকায় তাপমাত্রা ৫৪০ সেলসিয়াসের নিচে থাকে। • ট্রপোমন্ডলের গভীরতা পৃথিবীর চারিদিকে সবসময় সমান থাকে না। ভিন্ন ভিন্ন অক্ষাংশে ও ঋতুভেদে এই গভীরতার পার্থক্য হয়।
তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩.
কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বাৎসরিক বৃষ্টিপাতের প্রায় কত অংশ সংঘটিত হয়?
ক
ক) এক-পঞ্চমাংশ
খ
খ) এক-চর্তুথাংশ
গ
গ) এক- তৃতীয়াংশ
ঘ
ঘ) এক-দশমাংশ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহের মধ্যে কালবৈশাখী ঝড় এবং টর্নেডো অন্যতম। কালবৈশাখী ঝড় গ্রীষ্মকালীন জলবায়ুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। • সাধারণত বৈশাখ মাসের শেষের দিকে এ ঝড় হতে দেখা যাওয়ায় একে কালবৈশাখী ঝড় বলে। • মার্চ-এপ্রিল মাসে সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়। এ ঝড়ই কালবৈশাখী ঝড় নামে পরিচিত। • এ সময় বাৎসরিক বৃষ্টিপাতের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সংঘটিত হয়। অনেক সময় বৃষ্টিপাতের সাথে শিলাবৃষ্টিও হয়ে থাকে। দেশের পূর্বাঞ্চলে এ ঝড় অধিক হয়ে থাকে।
তথ্যসূত্র:- ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪.
দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে কয় ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়?
ক
ক) ২
খ
খ) ৪
গ
গ) ৫
ঘ
ঘ) ৩
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র বলতে দুর্যোগ মোকাবেলার সাথে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত পর্যায়গুলোকে বুঝানো হয়ে থাকে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রকে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা- ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায় এবং খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়।
ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায় : দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং প্রশমন। খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায় : দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন।
আইএফআরসি এর বৈশ্বিক দুর্যোগ রিপোর্ট ২০১৮ অনুযায়ী বিশ্বের দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান কততম?
ক
ক) দ্বিতীয়
খ
খ) তৃতীয়
গ
গ) অষ্টম
ঘ
ঘ) পঞ্চম
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক নিয়মে প্রতিনিয়ত আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহের পরিবর্তন হয়। কিন্তু যখন আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহের স্থায়ী পরিবর্তন হয়, তখন তাকে জলবায়ু পরিবর্তন বলে। • বিশ্বের সামগ্রিক পরিবেশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। • আইএফআরসি এর বৈশ্বিক দুর্যোগ রিপোর্ট, ২০১৮ অনুযায়ী বিশ্বের ১৭৩টি দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে অষ্টম। • জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। যেমন- ১। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের হার ও মাত্রা বৃদ্ধি পাছে। ২। আকস্মিক বন্যা ও ভারি বৃষ্টিপাত দেখা যাচ্ছে। ৩। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে খরা দেখা যাচ্ছে। ৪। সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কোথায় ভূমিকম্পের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়?
ক
ক) নিরক্ষীয় অঞ্চলে
খ
খ) উপকেন্দ্রে
গ
গ) মেরু অঞ্চলে
ঘ
ঘ) ভূ-পৃষ্ঠে
ব্যাখ্যা
• ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের ফলে আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিকম্প বলা হয়। • ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে ভূমিকম্পের কেন্দ্র বলা হয়। কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূপৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র বলে। এই উপকেন্দ্রে ভূমিকম্পের তীব্রতা সর্বাধিক হয়ে থাকে। • ভূমিকম্পের কেন্দ্র ভূ-অভ্যন্তরের সাধারণত ১৬-২০ কিলোমিটারের মধ্যে হয়ে থাকে। • সিসমোগ্রাফ যন্ত্রের সাহায্যে ভূমিকম্প পরিমাপ করা হয়। তবে ভূমিকম্পের তীব্রতা নির্ণয় করা হয় রিখটার স্কেলের সাহায্যে।
তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল।
৭.
ঘুর্ণিঝড় সিত্রাং কোন অঞ্চলে আঘাত হানে?
ক
ক) বরিশাল
খ
খ) চট্রগ্রাম
গ
গ) খুলনা
ঘ
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• ২৪ অক্টোবর ২০২২ ঘুর্ণিঝড় সিত্রাং বাংলাদেশের উপকূলবর্তী বরিশাল, চট্রগ্রাম ও খুলনা বিভাগে আঘাত হানে। ‘সিত্রাং’ নামকরণ করে থাইল্যান্ড। ভিয়েতনামি ভাষায় যার অর্থ ‘পাতা’।
তথ্যসূত্র:- লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার নভেম্বর ২০২২।
৮.
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করার জন্য প্রধানত কোন দুইটি কৌশল অবলম্বন করা হয়?
ক
ক) মিটিগেশন
খ
খ) অভিযোজন কৌশল
গ
গ) অভিবাসন
ঘ
ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করার জন্য প্রধান দুইটি কৌশল অবলম্বন করা হয়। যথা - ১। মিটিগেশন (Mitigation) ২। অভিযোজন কৌশল (Adaptation Strategy)
১। মিটিগেশন (Mitigation): মিটিগেশন হলো জলবায়ু পরিবর্তনের হার কমানো। জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ বায়ুমণ্ডলে গ্রিন হাইস গ্যাসসমূহের (CO2, CH4, CFC) বৃদ্ধি যা বায়ুমণ্ডলে তাপমাত্রা ধরে রেখে গ্রিন হাউসের ন্যায় করার দরুন বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করছে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা কমানোর জন্য কয়লা, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জীবাণুজ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তি যেমন সৌরশক্তি, বায়ু শক্তি ইত্যাদির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বনায়ন করতে উৎসাহিত করতে হবে। বন নিধন হ্রাস করতে হবে। ২। অভিযোজন (Adaptation Strategy): পরিবর্তিত জলবায়ুতে বেঁচে থাকার জন্য গৃহীত সকল ধরনের কর্মকাণ্ড হলো অভিযোজন বা জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানো।
• শীতপ্রধান দেশে গ্রিন হাউসের (কাঁচ নির্মিত একটি ঘর) মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সবুজ উদ্ভিদ জন্মানো হয়। • গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ শীতপ্রধান দেশের গ্রিন হাউস ঘরের ন্যায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাঁধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে। গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমণ্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট বলে। • গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট কথাটি সর্বপ্রথম সোভানটে আরহেনিয়াস প্রথম ব্যবহার করেন। • গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো - কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন।
• গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা সমূহ জলমগ্ন হবে। • ফলাফল স্বরূপ এই অঞ্চলের মানুষদের বৃহৎ অংশ উস্বাস্তুতে পরিণত হবে। • বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলেও জনসংখ্যার আধিক্য থাকায় এই উদ্বাস্তু সমস্যার আশু সমাধান সম্ভব হবে না। ফলস্বরূপ এটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় রূপ নেবে।
তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা।
১১.
প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা কত ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্যস্থির করা হয়?
ক
ক) ২ ডিগ্রি
খ
খ) ৪ ডিগ্রি
গ
গ) ৩ ডিগ্রি
ঘ
ঘ) ৫ ডিগ্রি
ব্যাখ্যা
• ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হওয়া ‘প্যারিস জলবায়ু চুক্তি’তে প্রাক-শিল্পযুগের তুলনায় ২১০০ সাল নাগাদ বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্যস্থির করা হয়। • সম্ভব হলে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা। • এজন্যে উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্যে দায়ী কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার লক্ষ্য স্থির করা হয়।
তথ্যসূত্র:- প্যারিস জলবায়ু চুক্তি।
১২.
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধে নিচের কোন চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়?
ক
ক) কিয়োটো প্রটোকল
খ
খ) বাসেল কনভেনশন
গ
গ) অটোয়া চুক্তি
ঘ
ঘ) মন্ট্রিয়াল প্রটোকল
ব্যাখ্যা
• বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্যে দায়ী গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানোর উদ্দেশ্যে ১৯৯৭ সালের ১১ ডিসেম্বর জাপানের কিয়োটো শহরে কিয়োটো প্রটোকল গৃহিত হয়। • এর অংশীদার মোট ১৯২টি দেশ ও সংস্থা। • ২০০৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি এটি কার্যকর হয়। ২০১২ সালে এর মেয়াদ শেষ হলে দোহা অ্যামেন্ডমেন্টের মাধ্যমে এটির মেয়াদ ২০২০ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি।
ভূ-অভ্যন্তরের আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে কোন ধরনের দুর্যোগটি সংঘটিত হয়?
ক
ক) কালবৈশাখি ঝড়
খ
খ) বন্যা
গ
গ) নদী ভাঙন
ঘ
ঘ) অগ্ন্যুৎপাত
ব্যাখ্যা
• ভূ-অভ্যন্তর উত্তপ্ত বলে প্রচণ্ড তাপ ও চাপের যে তারতম্য হয়, তাতে ভূ-অভ্যন্তরে প্রচন্ড শক্তির সৃষ্টি হয় এবং ভূ-ত্বকের আকস্মিক ও ধীর পরিবর্তন হয়। • ভূ-অভ্যন্তরের আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত প্রভৃতি হয়ে থাকে। • এসব দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়ায় দূষণের উদ্ভব হতে পারে। যেমন- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে গ্রাম, শহর ও জনপদ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে, ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে পম্পেই নগর লাভার নিচে চাপা পড়ে। এছাড়া ছাই, ভস্ম ইত্যাদি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে বাতাস দূষিত করে তোলে। • আবার ভূমিকম্পের ফলে বহু মানুষ, জীবজন্তু মারা যায় এবং ঘরবাড়ি বিনষ্ট হয়। মৃতদেহসমূহ দ্রুত সরাতে না পারলে তা পচে দুর্গন্ধ এবং রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বায়ু, পানি এবং মৃত্তিকা দূষণ দেখা দেয়। সুতরাং বলা যায় যে, ভূ-অভ্যন্তরস্থ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট দুর্যোগসমূহ দূষণের কারণ হিসেবে কাজ করে।
নিম্নের কোন জেলায় আকস্মিক বন্যার প্রকোপ লক্ষ্য করা যায়?
ক
ক) হবিগঞ্জ
খ
খ) জামালপুর
গ
গ) রংপুর
ঘ
ঘ) চট্রগ্রাম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে সাধারণত চার ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়। এগুলো হলো: ১। বৃষ্টিজনিত বন্যা ২। উপকূলীয় বন্যা ৩। নদীসৃষ্ট বন্যা ৪। আকস্মিক বন্যা।
আকস্মিক বন্যা • এপ্রিল-মে, সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে স্থানীয় পযার্য়ে স্বল্পস্থায়ী ভারি বর্ষণের দরুন পাহাড়ি নদীর পানি উপচে পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এলাকায় আকস্মিক ভাবে যে বন্যা দেখা যায় তাকে আকস্মিক বন্যা বলে। • এদেশের সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি প্রভৃতি আকস্মিক বন্যাপ্রবণ জেলা। • আকস্মিক বন্যায় হাওরাঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।
তথ্যসূত্র:- বন্যা সাড়াদান ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা : বাংলাদেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
ভূমিকম্পের প্রবণতার ভিত্তিতে সমগ্র বাংলাদেশকে কয়টি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে?
ক
ক) ৪ ভাগে
খ
খ) ৫ ভাগে
গ
গ) ২ ভাগে
ঘ
ঘ) ৩ ভাগে
ব্যাখ্যা
⇨ ২০১৬ সালে প্রকাশিত 'Bangladesh National Building Code' (BNBC) রিপোর্টে প্রথম সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্পনীয় সংঘটিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়। ⇨ সর্বশেষ ২০২০ সালে প্রকাশিত রির্পোটেও সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চলে বা Seismic Zone এ বিভক্ত করা হয়েছে। অঞ্চলগুলো হলো - ১. খুবই গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট, ময়মনসিংহ সহ উত্তরাঞ্চল।) এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.36 ২. গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- উচ্চ মধ্য, উত্তর-পশ্চিম অংশ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রংপুর ইত্যাদি জেলা)। এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.28 ৩. মাঝারী ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- নিম্ন মধ্য এবং উত্তর পশ্চিম অংশ (ঢাকা, কুমিল্লা, নাটোর, নোয়াখালী, পাবনা, সুন্দরবন ইত্যাদি) এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.2 ৪. কম ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ইত্যাদি) এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.12
উল্লেখ্য, ⇨ BANGLADESH NATIONAL BUILDING CODE (BNBC) সর্বপ্রথম ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত রিপোর্টে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূমিকম্প সংঘটন অঞ্চলে (Seismic Zone) বিভক্ত করে। অঞ্চলগুলো হলো - ১. মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ - উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (রিখটার স্কেলে তীব্রতা -৭) ২. মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ - মধ্যাঞ্চল (রিখটার স্কেলে তীব্রতা ৬) ৩. কম ঝুঁকিপূর্ণ - দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল (রিখটার স্কেলে তীব্রতা-৫)। পরে, ২০০৬ সালে প্রকাশিত রির্পোটেও তিনটি ভূমিকম্পনীয় সংঘটিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ বইয়ের সর্বশেষ সংস্করণে ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত রির্পোর্ট অনুসারে, ভূমিকম্পের প্রবণতার ভিত্তিতে সমগ্র বাংলাদেশকে ৩টি অঞ্চলে ভাগ করে দেখানো হয়েছে।
তথ্যসূত্র:- BNBC প্রকাশিত Seismic Design সমীক্ষার রিপোর্ট।
১৬.
জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ঝুঁকি মোকাবেলা করার জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গঠিত তহবিলের নাম কি?
ক
ক) Bangladesh Climate Change Resilience Fund
খ
খ) Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan
গ
গ) Climate Change Trust Fund
ঘ
ঘ) National Adaptation Plan
ব্যাখ্যা
• জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ঝুঁকি মোকাবেলা ও অভিযোজন কর্মসূচি ত্বরান্বিত করার জন্য সরকার “Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan (BCCSAP), 2009” প্রণয়ন করে এবং নিজস্ব অর্থায়নে ‘জলবায়ু পরিবর্তন তহবিল’ গঠন করে। • বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় “জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড নীতিমালা” ও “জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড আইন, ২০১০” প্রণয়নের পাশাপাশি উন্নয়ন সহোযোগীদের সহায়তায় “Bangladesh Climate Change Resilience Fund (BCCRF)” গঠন করা হয়।
ভূ-গর্ভস্থ যে স্থানে কম্পনের সৃষ্টি হয় তা কী নামে পরিচিত?
ক
ক) কম্পনবেগ
খ
খ) কম্পকেন্দ্র
গ
গ) কম্পনস্থল
ঘ
ঘ) ভূকম্পন
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প • ভূ-আলোড়নের সময়ে অথবা অন্য কোন প্রাকৃতিক কারণে ভূ-পৃষ্ঠের একটি অংশ যখন হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য কেঁপে উঠে, তখন ভূ-ত্বকের এই কম্পনকে ভূমিকম্প বলা হয়। • ভূ-গর্ভস্থ যে স্থানে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের উৎস স্থল বা কম্পকেন্দ্র বলা হয়। • কম্পকেন্দ্র বরাবর লম্বভাবে ভূ -পৃষ্ঠের যে বিন্দুটি রয়েছে,তাকে উপকেন্দ্র বলা হয়। • সাধারণত ভূ-ত্বকের ৩২ কি.মি. এর মধ্যে ভূমিকম্পের উৎস স্থান থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে গভীরতা আরও বেশি হতে পারে। • কম্পকেন্দ্র থেকে ভূমিকম্প চারিদিকে ঢেউ এর মত ছড়িয়ে পড়ে। • ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়ে থাকে। • ভূমিকম্প মাপন যন্ত্রের নাম সিসমোমিটার। • ভূমিকম্পনের রেখা যে কাগজে অংকিত হয়, তাকে সিসমোগ্রাফ বলে।
তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।