পরীক্ষা আর্কাইভ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

পরীক্ষাভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৭ প্রধান নদ-নদী সমূহের উপ ও শাখা নদী; বাংলাদেশের পরিবেশ, প্রকৃতি ও সম্পদ [Live Class – 12 & 13]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা · তারিখ অনির্ধারিত · প্রশ্ন

.
‘টিপাইমুখ বাঁধ’ কোন নদীর ওপর অবস্থিত?
  1. যমুনা
  2. ব্রহ্মপুত্র
  3. বরাক
  4. গঙ্গা
ব্যাখ্যা
টিপাইমুখ বাঁধ:

- বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ১০০ কিলোমিটার উজানে ভারতের বরাক নদীর ওপর নির্মিতব্য বাঁধটিই টিপাইমুখ বাঁধ নামে পরিচিত।
- এই বরাক নদীই বাংলাদেশে প্রবেশের আগে দুই ভাগ হয়ে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে প্রবেশ করেছে; যা পরিশেষে মিলিত হয়ে মেঘনা নদী গঠন করেছে।
- এক হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে ভারত সরকার এই কাজ করেছে।
-  ১৯৩০-এর দশক থেকে আসামের কাছাড় উপত্যকায় এক ভয়াবহ বন্যা হওয়ার পর থেকে একটি দীর্ঘমেয়াদি বন্যা নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা করা হয়; যার অংশ হিসেবে ১৯৫৪ সালে ভারতের Central Water Commission (CWC) একটি বহুমুখী জলাধারের জন্য সমীক্ষার কাজ হাতে নেয়।
- এই বাঁধের উচ্চতা ১৬২.৮ মিটার।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কন্ঠ, ৩১ মে, ২০১৪।
.
নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. চাঁদপুর
  2. বরিশাল
  3. ফরিদপুর
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা
নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট:

- অসংখ্য বিনুনি শাখা প্রশাখা সহ গঙ্গা-পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও মেঘনা এ ৩টি অন্যতম প্রধান ও সুবৃহৎ আন্তর্জাতিক নদীমালা কর্তৃক বাহিত পলিতে গঠিত এ বাংলাদেশ।
- এই বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে তৎকালীন সরকার ১৯৪৮ সালে ঢাকার গ্রীণরোডে প্রায় ১২ একর জমির উপর “হাইড্রলিক রিসার্চ ল্যাবরেটরী” নামে একটি গবেষণাগার স্থাপন করে।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে ব্যাপক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৭ সালে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে এবং “হাইড্রলিক রিসার্চ ল্যাবরেটরী” প্রতিষ্ঠানটি ইহার সহিত একীভূত করে।
- ১৯৮৯ সালে ফরিদপুর শহরের উপকণ্ঠে ৮৬ একর জমির উপর এক মনোরম পরিবেশে নদী গবেষণা ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে পানি সম্পদ সেক্টরে বহুমুখী গবেষণা কার্যক্রম উত্তরোত্তর বৃদ্ধির লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ১৯৯০ সনের ৫৩নং আইন বলে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট কেএকটি সংবিধিবদ্ধ স্বায়ত্ব-শাসিত সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
- বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন হতে আলাদা করে সরাসরি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট ও ফরিদপুর জেলা ওয়েবসাইট।
.
বাংলাদেশের বৃহত্তম বনভূমি -
  1. পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চল
  2. সিলেট বনাঞ্চল
  3. মধুপুর বনাঞ্চল
  4. ভাওয়াল বনাঞ্চল
ব্যাখ্যা
পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চল:
- বাংলাদেশের বৃহত্তম বনভূমি হলো পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চল।
- দেশের মোট বনভূমির ৪০ শতাংশ রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে।
- সারা দেশে যে পরিমাণে বৃক্ষ বেড়েছে, তার ৭৮ শতাংশ চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে। 
- বৃক্ষের বেশির ভাগই প্রাকৃতিক বন কেটে ও কৃষিজমিতে রোপণ করা ফলবাগান ও কাঠবাগান।
- দেশের মোট বনভূমি ও জীববৈচিত্র্যের বড় অংশ রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামে।
- হাতি, চিতাসহ দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী সেখানে এখনো বাস করে।

তথ্যসুত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ২২ মার্চ ২০২২।
.
নিচের কোন নদীকে 'বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ' ঘোষণা করা হয়?
  1. নাফ নদী
  2. হালদা নদী
  3. তিতাস নদী
  4. ডাকাতিয়া নদী
ব্যাখ্যা
হালদা নদী:
- সম্প্রতি সরকার এই নদীকে 'বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ' ঘোষণা করেছে।
- বাংলাদেশের সীমানায় উৎপত্তি ও সমাপ্তি হয়েছে হালদা নদী। 
- চট্টগ্রামে অবস্থিত হালদা নদী বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র।
- এটি খাগড়াছড়ি (বাদনাতলী) থেকে উৎপন্ন হয়ে কর্ণফুলী নদীতে পতিত হয়েছে।
- হালদী নদী সরকার ঘোষিত একটি মৎস্য অভয়াশ্রম।

তথ্যসূত্র - মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
.
'কৈলাশটিলা' গ্যাসক্ষেত্র কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. সিলেট
  3. খাগড়াছড়ি
  4. নোয়াখালী
ব্যাখ্যা
• কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্র: এটি সিলেট জেলায় অবস্থিত। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র। পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি ১৯৬২ সালে এই গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। এর মোট অনুমিত মজুত ৩.৬৫ টিসিএফ যার মধ্যে উত্তোলনযোগ্য মজুত ২.৫২ টিসিএফ গ্যাস। কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাসের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কনডেনসেটও উৎপাদিত হয়ে থাকে। ১৯৮৩ সাল থেকে এই গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে।

• হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র: এটি ১৯৬৩ সালে আবিষ্কৃত দেশের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র। এটি ১১ কিমি দীর্ঘ এবং ৪.৫ কিমি প্রশস্ত। প্রায় ৩০ শতাংশ সচ্ছিদ্রতাবিশিষ্ট হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র একটি উন্নতমানের গ্যাসাধার হিসেবে খ্যাত। বর্তমানে এটি দেশের অন্যতম একটি গ্যাস উৎপাদনক্ষেত্র। আজ পর্যন্ত এই গ্যাসক্ষেত্রে ১০টি কূপ খনন করা হয়েছে।

• বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্র: এটি কুমিল্লা জেলায় অবস্থিত। ১৯৬৯ সালে শেল অয়েল কোম্পানি এই গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কার করে। ১৯৮৪ সালে এখান থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হয় এবং ১৯৯৩ সালে এর উৎপাদন সর্বোচ্চে পৌঁছে (দৈনিক ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস)। তখন থেকে এই গ্যাসক্ষেত্রের চাপ ও উৎপাদনে দ্রুত পতন ঘটে। ২০০০ সালের শেষদিকে এখান থেকে প্রতিদিন মাত্র ৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে যে, বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রটি দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাবে।

• সেমুতাং গ্যাসক্ষেত্র: এটি খাগড়াছড়ি জেলায় অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার একমাত্র গ্যাসক্ষেত্র। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের জাতীয় তেল কোম্পানি ও.জি.ডি.সি এই গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। খননকৃত ৪টি কূপের মধ্যে ৩নং ও ৪নং কূপে কোন গ্যাস পাওয়া যায় নি। এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে কোন গ্যাস উত্তোলিত হয় নি।

• কুতুবদিয়া গ্যাসক্ষেত্র: এটি চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় ৯২ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিয়ন অয়েল কোম্পানি ১৯৭৬ সালে এই গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। যদিও গ্যাসক্ষেত্রটি ছোট আকৃতির, তবুও এর উন্নয়নে এখন পর্যন্ত কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় নি।

• বেগমগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র: এটি নোয়াখালী জেলায় অবস্থিত। পেট্রোবাংলা ১৯৭৭ সালে এই গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কার করে। বেগমগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রটি একটি ছোট আকৃতির গ্যাসক্ষেত্র এবং এর উন্নয়নে এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় নি। এখানে খননকৃত দুটি গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে একটি শুষ্ক পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
.
বাকল্যান্ড বাঁধ কোন নদীতে অবস্থিত?
  1. তুরাগ
  2. যমুনা
  3. বুড়িগঙ্গা
  4. পদ্মা
ব্যাখ্যা
বাকল্যান্ড বাঁধ:
- বাকল্যান্ড বাঁধ ঢাকা শহরের দক্ষিণ দিক দিয়ে প্রবহমান বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর তীরে একটি শহর পরিবেষ্টনী বাঁধ।
- ১৮৬৪ সালে তৎকালীন নগর কমিশনার সি.টি বাকল্যান্ড এই বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেন।
- নদীর ঘাট পর্যন্ত কার্গো ও যাত্রীবাহী স্টিমার চলাচল সুগম করার জন্য পাড়ের নিম্নভাগে পলি প্রতিরোধ করা এবং প্লাবন ও ভাঙন থেকে ঢাকা শহর রক্ষা প্রকল্পের অধীনে এই বাঁধ নির্মিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
.
সুন্দরবনের পশ্চিমে কোন নদী অবস্থিত?
  1. পশুর
  2. রায়মঙ্গল নদী
  3. তিস্তা
  4. মাতামুহুরী
ব্যাখ্যা
রায়মঙ্গল নদী: 
- ইছামতি-কালিন্দী-রায়মঙ্গল মূলত একই নদী, বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন নামে পরিচিত।
- ইহা একটি জোয়ারে মোহনার নদী। ইছামতি নদী সাতক্ষীরা জেলার পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে কালিন্দী নামে প্রবাহিত হয়ে আরও দক্ষিণে সুন্দরবনের ভিতর প্রবেশের পর রায়মঙ্গল নাম ধারণ করে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- সুন্দরবনের পশ্চিমে রায়মঙ্গল নদী অবস্থিত।
- মোহনায় রায়মঙ্গল নদীর মুখ ফানেলের মতো। একসময় এই পথে স্টিমার সার্ভিস কলকাতা থেকে বরিশাল হয়ে বাংলাদেশের অন্যান্য বন্দরে চলাচল করতো।
- রায়মঙ্গল জোয়ারভাটা দ্বারা প্রভাবিত নদী এবং এর পানি লবণাক্ত।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।