উত্তর
ব্যাখ্যা
প্রথম অগ্নীবিমা চালু হয় ১৬৭৬ সালে, যখন নিকোলাস বারবন হ্যামবার্গ ফিউরকাসে (Hamburg Fire Office) নামে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। এই কোম্পানিটি ছিল বিশ্বের প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত অগ্নি বীমা কোম্পানি।
৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৭ প্রশ্ন
প্রথম অগ্নীবিমা চালু হয় ১৬৭৬ সালে, যখন নিকোলাস বারবন হ্যামবার্গ ফিউরকাসে (Hamburg Fire Office) নামে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। এই কোম্পানিটি ছিল বিশ্বের প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত অগ্নি বীমা কোম্পানি।
১৯৭৯ সালে সুদান প্রথম ইসলামী বীমার কার্যক্রম শুরু করে, যা শরিয়া-ভিত্তিক অর্থব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি প্রচলিত বীমা ব্যবস্থার একটি ইসলামী বা শরিয়া-সম্মত বিকল্প। তাকাফুল হলো পারস্পরিক সুরক্ষার জন্য একটি সমবায় ব্যবস্থা, যেখানে সম্ভাব্য ক্ষতির ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়। শুরু হওয়া এ প্রথম বীমার নাম হলো- Islamic Insurance Company of Sudan।
খুলাফায়ে রাশীদার যুগে নৌ-ব্যবসায়ীরা জলদস্যুদের হামলা থেকে সবার স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি সমন্বিত তহবিল গড়ে তোলেন। ইসলামী বীমা বা তাকাফুল ধারণাটি ইসলামের আবির্ভাবের পর থেকেই প্রচলিত ছিল এবং এর প্রথম অনুশীলনকারী ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী জুবায়ের ইবনে আল-আওয়াম। যেটি শুরু হয়েছিল ৭ম শতাব্দীতে।
মালয়েশিয়ায় ১৯৮৩ সালে ‘তাকাফুল (বীমা) অ্যাক্ট ১৯৮৪’ পাস হয়। ঘটনাপ্রবাহ:
১৯৮২ সাল: মালয়েশিয়া একটি ইসলামী বীমা কোম্পানি প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করে।
১৯৮৩ সাল: মালয়েশিয়ায় ইসলামী ব্যাংকিং আইন পাস হয়।
১৯৮৪ সাল: তাকাফুল (বীমা) অ্যাক্ট ১৯৮৪ পাস হয়। এই আইনের অধীনেই শরিকাত তাকাফুল মালয়েশিয়া বারহাদ (STMB) নামে দেশের প্রথম তাকাফুল বীমা কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৮৪ সালের ২৯শে নভেম্বর: মালয়েশিয়া ইসলামী বীমা কোম্পানি লিমিটেড, অর্থাৎ শরিকাত তাকাফুল মালয়েশিয়া বারহাদ (STMB) কার্যক্রম শুরু করে।
'কাফালাহ' (كفالة) একটি আরবি শব্দ, যার আভিধানিক অর্থ দায়িত্ব নেওয়া, জামিন দেওয়া, বা স্পন্সরশিপ করা। এই শব্দটির দুটি প্রধান ব্যবহার দেখা যায়: প্রথমত, এটি একটি ইসলামী আর্থিক চুক্তি যেখানে একজন ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির ঋণ বা দায়ের জন্য দায়বদ্ধ হয়। দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে প্রচলিত 'কাফালা ব্যবস্থা'র (Kafala system) ক্ষেত্রে এর ব্যবহার দেখা যায়, যেখানে একজন স্থানীয় নিয়োগকর্তা (কফিল) একজন বিদেশী কর্মীকে স্পন্সর করে এবং তার ভিসাসহ সার্বিক দেখাশোনা করে।
ইসলামে মূলত তিন ধরনের মালিকানা স্বীকৃত: ব্যক্তিগত মালিকানা, রাষ্ট্রীয় মালিকানা এবং সম্মিলিত বা যৌথ মালিকানা। এর মধ্যে আল্লাহ সর্বজীবের চূড়ান্ত মালিক এবং মানুষেরা তার আমানতদার হিসেবে সম্পদ অর্জন ও ভোগ করে।
জাবিল ফুরুজে নারীর সংখ্যা ৮ জন: স্ত্রী, কন্যা, পুত্রের কন্যা, মাতা, দাদি ও নানি, সহোদর বোন, বৈমাত্রেয় বোন (একই বাবার সন্তান, ভিন্ন মায়ের), বৈপিত্রেয় বোন (একই মায়ের সন্তান, ভিন্ন বাবার)।
'মুদারাবা' শব্দটি আরবি 'দারবুন' (ضرْب) শব্দমূল থেকে উদ্ভূত হয়েছে, যার অর্থ হলো অন্বেষণ করা, পরিভ্রমণ করা বা আঘাত করা। 'দারব' শব্দটির বিভিন্ন অর্থ থাকলেও, মুদারাবার ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো আল্লাহর রহমতের সন্ধানে ভ্রমণ করা বা অনুসন্ধান করা।
ইসলামী প্রেক্ষাপটে: মুদারাবা হলো এক প্রকার অংশীদারি ব্যবসা পদ্ধতি যেখানে একজন ব্যক্তি তার মেধা ও শ্রম দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং অন্যজন সেই ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন সরবরাহ করেন। এখানে লাভ হলে উভয় পক্ষ লাভ ভাগ করে নেয় এবং লোকসান হলে মূলধন প্রদানকারী ব্যক্তি লোকসানের ভার বহন করেন।
বাংলাদেশে প্রচলিত ইসলামী ব্যাংকগুলো ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক লেনদেন করে, যেখানে সুদের (রিবা) পরিবর্তে লাভভিত্তিক পদ্ধতি, যেমন মুদারাবা অনুসরণ করা হয়। এই ব্যাংকগুলো গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত গ্রহণ করে এবং শরিয়াহসম্মত উপায়ে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ করে মুনাফা অর্জন করে।
শ্রম ৩ প্রকার। যথা: ১. শারীরিক শ্রম ২. বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রম ৩. শৈল্পিক দক্ষতা ও কুশলতাবৃত্তিক শ্রম। এছাড়া শ্রম সাধারণত শারীরিক ও মানসিক এই দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়।
'মুযারাআ' বলতে এমন কৃষিভিত্তিক চুক্তিকে বোঝায় যেখানে একজন ব্যক্তি জমি চাষ করবে এবং উৎপন্ন ফসলের একটি নির্দিষ্ট অংশ ভূমির মালিককে প্রদান করবে, যা ভাগচাষের একটি রূপ। এই চুক্তিতে উভয় পক্ষই লাভবান হয়, কারণ চাষী ফসল উৎপাদন করে এবং মালিক তার জমিতে ফসল উৎপাদিত হওয়ার অংশ পায়।
জাবিল ফুরুজ ঐ শ্রেণির ওয়ারিশ যাদের আংশ কুরআন ও হাদিস দ্বারা নির্ধারিত এবং যাদের অংশ দেওয়া ব্যতিত অন্য কারো অংশ দেওয়া যায় না। এদের সংখ্যা মোট ১২ জন। পুরুষ ৪ জন, নারী ৮ জন। পুরুষ ৪জন হলেন-
বাবা: মৃত ব্যক্তির বাবা;
স্বামী: মৃত ব্যক্তির স্বামী;
দাদা: মৃত ব্যক্তির দাদা;
ভাই: মৃত ব্যক্তির ভাই।
সুতরাং পুত্র জাবিল ফুরুজ নন।
বিশ্বের প্রথম ইসলামি ব্যাংক হলো মিশরের মিটগামার সেভিংস ব্যাংক, যা ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর অল্প কিছুদিন পরেই অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে, যা দেশের প্রথম শরিয়াহ-সম্মত ব্যাংক।
"অপচয় করো না" — এই নির্দেশ পবিত্র কুরআনের সুরা আল-আ'রাফ (সুরা নম্বর ৭), আয়াত ৩১-এ রয়েছে। এই আয়াতে বলা হয়েছে, "হে বনী আদম, তোমরা প্রতি সালাতে তোমাদের বেশ-ভূষা গ্রহণ কর এবং খাও, পান কর ও অপচয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপচয়কারীদেরকে পছন্দ করেন না"।
ইসলামে উৎপাদনের চারটি মৌলিক উপাদান হলো — প্রাকৃতিক সম্পদ (ভূমি), শ্রম, মূলধন এবং সংগঠন বা ব্যবস্থাপনা। এই উপাদানগুলি প্রচলিত অর্থনীতিতেও ব্যবহৃত হয় এবং ইসলামি অর্থনীতিতেও এগুলির ভূমিকা স্বীকৃত।
ইসলামে যাকাত একটি অপরিহার্য ইবাদত, যা ব্যক্তিগত মালিকানার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে এবং সম্পদকে পবিত্র করে। এটি ধনী ও সম্পদশালীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সম্পদ সংগ্রহ করে গরিব ও অভাবীদের মধ্যে বিতরণ করে, যার ফলে সমাজের সম্পদ বণ্টন সুষম হয় এবং সম্পদশালীদের মধ্যে কৃপণতা ও সঞ্চয় প্রবণতা কমে যায়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাকাত একদিকে যেমন ব্যক্তিগত মালিকানাকে সীমিত করে, তেমনি অন্যদিকে সামাজিক বৈষম্য দূর করতে সহায়তা করে।
ইসলামে মানুষের মালিকানা সীমিত, কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা হলেন সবকিছুর চূড়ান্ত মালিক। তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং মানুষের জন্য সম্পদ ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছেন, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে মানুষের সম্পদ নিরঙ্কুশভাবে মালিকানাধীন। বরং, মানুষ একটি আমানতদার বা তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে বিবেচিত হয়, এবং যাকাত, উত্তরাধিকার ইত্যাদি বিধানের মাধ্যমে এই মালিকানা সীমিত হয়, যা সমাজের কল্যাণ নিশ্চিত করে।
- "অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই" – এই উক্তিটি পবিত্র কোরআনের সুরা ইসরা (১৭:২৭) আয়াতে আছে। এই আয়াতে বলা হয়েছে: "নিশ্চয় অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই, আর শয়তান তার প্রতিপালকের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ"।
এই উক্তিটির মাধ্যমে অপচয় বা অপব্যয়কে শয়তানের কার্যকলাপের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয় একটি কাজ।
ইসলামী অর্থনীতির মালিকানা নীতি পুঁজিবাদের বিপরীত, কারণ পুঁজিবাদ ব্যক্তিগত মালিকানা ও মুনাফার উপর জোর দেয়, কিন্তু ইসলামী অর্থনীতিতে সম্পদের মালিক একমাত্র আল্লাহ এবং মানুষ তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে আমানতদার। ইসলামী অর্থনীতিতে সম্পদ মানবজাতির কল্যাণে ব্যবহৃত হয় এবং এর ব্যবহারের উপর সামাজিক ও ধর্মীয় বিধিনিষেধ থাকে, যা পুঁজিবাদের সীমাহীন ব্যক্তিগত অধিকারের ধারণার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ইসলামে আয় বণ্টন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি দরিদ্র ও অভাবীদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য জরুরি। ইসলাম যাকাত, সাদাকা, এবং অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা নীতির মাধ্যমে সম্পদ পুনর্বণ্টনের ওপর জোর দেয়। যাকাত হলো আর্থিক সম্পদশালীদের বাধ্যতামূলকভাবে তাদের সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ (সাধারণত ২.৫%) দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করা, যা দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।
ব্যয়ের কুরআরিক পরিভাষা হলো- ইনফাক (إنفاق) । "ইনফাক" (إنفاق) একটি আরবি শব্দ যা কুরআনে "ব্যয়" বা "দান" করার অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং এটি ব্যয়ের কুরআনিক পরিভাষা। এই ব্যয় আল্লাহকে খুশি করার উদ্দেশ্যে নিজের সম্পদ থেকে করা হয়, এবং এর মাধ্যমে আর্থিক ইবাদত (মালী ইবাদত) হিসেবেও গণ্য করা হয়।
উপার্জনের আরবি প্রতিশব্দ- কাসাব (كسب)। ইসলামে বৈধ পথে হালাল উপার্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 'কাসাব' দ্বারা সেই বৈধ উপার্জনকেই বোঝানো হয় যা মানুষকে আল্লাহ্র কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
মুশারাকা (Musharaka) একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ শরিকানা বা অংশীদারিত্ব। এটি একটি যৌথ উদ্যোগ বা ব্যবসায়িক চুক্তি যেখানে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি তাদের মূলধন বা শ্রম একত্রিত করে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করে এবং সেখানে লাভ-ক্ষতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ভাগ করে নেয়। অপশনের ৩টিই এর শাব্দিক অর্থ হিসেবে অন্তর্ভূক্ত।
ইসলামে আয় বণ্টন মালিকানার সঙ্গে সম্পর্কিত, কারণ সম্পদকে আল্লাহর দেওয়া আমানত হিসেবে দেখা হয় এবং মালিকানাধীন সম্পদের একটি অংশ (যেমন যাকাত) সমাজের দরিদ্র ও অভাবী মানুষের জন্য বরাদ্দ করা হয়। ইসলামি অর্থনীতিতে সম্পদ আহরণ ও বণ্টনের নীতিমালাগুলো মালিকানার ধারণার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যেখানে ব্যক্তিগত, সরকারি এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাসহ বিভিন্ন ধরনের মালিকানা বিদ্যমান।
বলো, ‘হে আল্লাহ, রাজত্বের মালিক, আপনি যাকে চান রাজত্ব দান করেন, আর যার থেকে চান রাজত্ব কেড়ে নেন এবং আপনি যাকে চান সম্মান দান করেন। আর যাকে চান অপমানিত করেন, আপনার হাতেই কল্যাণ। নিশ্চয় আপনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান’। (আলে ইমরান ২৬) এ আয়াতের মাধ্যমে মালিকানা নীতি প্রমাণিত হয় ।
১৯২৪ সালের ৩ মার্চ তুরস্কের গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে একটি আইন পাসের মাধ্যমে উসমানীয় খিলাফতের চূড়ান্ত অবসান ঘটে, যা ছিল মুসলিম বিশ্বের সর্বশেষ ব্যাপকভাবে স্বীকৃত খিলাফত। এই বিলুপ্তির মধ্য দিয়ে প্রায় ৭০০ বছরের পুরনো উসমানীয় সাম্রাজ্যের শাসনেরও অবসান হয়।
ফাতেমীয় খিলাফতের কেন্দ্র ছিল মিশরের কায়রো শহর। ফাতেমীয়রা মিশর জয় করার পর ৯৬৯ সালে কায়রো শহর নির্মাণ করে এবং এটিই তাদের খিলাফতের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কেন্দ্রে পরিণত হয়।
'আল-মদিনা আল-ফাদিলা' বা 'আদর্শ রাষ্ট্র' গ্রন্থের রচয়িতা হলেন প্রখ্যাত মুসলিম দার্শনিক ও বিজ্ঞানী আল-ফারাবি। এই গ্রন্থে তিনি প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের ধারণার আদলে একটি আদর্শ নগর বা আদর্শ রাষ্ট্রের কল্পনা করেছেন।
'ইসলাম আওর সিয়াসি নজরিয়াত' বইটির লেখক হলেন শাইখুল ইসলাম মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী। তিনি একজন বিখ্যাত ইসলামিক স্কলার এবং তার লেখা বইটি রাজনীতি ও ইসলামী চিন্তাধারার উপর ভিত্তি করে রচিত।
স্পেনে উমাইয়া বংশের কেন্দ্র ছিল কর্ডোভা শহর, যেখানে তারা ৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দে এক স্বাধীন উমাইয়া রাজবংশ গড়ে তোলে এবং একাদশ শতাব্দী পর্যন্ত শাসন করে।
শরীয়াহকে একটি অপরিবর্তনশীল বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেহেতু শরীয়াহর মূলনীতি অপরিবর্তনীয়, ইসলামি শাসনব্যবস্থাও সাধারণভাবে অপরিবর্তনশীল। যদিও কখনো কখনো ইসলামি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনশীলতা বা অপরিবর্তনশীলতা নির্ভর করে এর বাস্তবায়ন ও ব্যাখ্যার উপর, যা সময় ও পরিস্থিতির সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।
ইসলামি রাষ্ট্রে মৌলিক ইবাদত (যেমন নামাজ, রোজা, হজ) প্রতিষ্ঠা ও পালনের মূল দায়িত্ব রাষ্ট্রের, তবে এর অর্থ এই নয় যে রাষ্ট্র সরাসরি এগুলো আদায় করে দেবে, বরং রাষ্ট্র এমন একটি পরিবেশ তৈরি করবে যেখানে নাগরিকরা স্বাধীনভাবে ও সঠিকভাবে এই ইবাদতগুলো করতে পারবে। এর মধ্যে রয়েছে শরিয়াহর বিধান অনুযায়ী আইন প্রণয়ন, নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, এবং ইবাদত পালনে কোনো বাধা না রাখা।
ইসলামি রাষ্ট্র বা খিলাফতে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা সাধারণত রাষ্ট্রপ্রধান বা খলিফার হাতে থাকে, তবে এটি একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত হতে পারে যা পরামর্শদাতা পরিষদ বা মজলিশে শুরা দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং রাষ্ট্রপ্রধানকে এই সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। আধুনিক ইসলামী প্রজাতন্ত্রগুলোতে, এই ক্ষমতা সাধারণত রাষ্ট্রপতি বা নির্বাচিত সরকারের হাতেই থাকে।
ইসলামী খেলাফতে কুরআন ও সুন্নাহর বিরোধী কোনো আইন প্রবর্তন করা যাবে না, এটি একটি মৌলিক নীতি। এর অর্থ হলো, যেকোনো আইন প্রণয়নের সময় ইসলামী মৌলিক নীতি, আদেশ ও নিষেধাজ্ঞা, এবং নৈতিকতার ওপর ভিত্তি করে হতে হবে, যা ইসলামি রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য প্রযোজ্য।
হযরত উমর (রা.)-এর শাসনকাল ছিল আবু বকর (রা.)-এর পর, অর্থাৎ ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দের ২৩ আগস্ট থেকে ৬৪৪ খ্রিস্টাব্দের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ে তিনি প্রায় ১০ বছর শাসন করেন এবং তার শাসনামল ছিল ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে উল্লেখযোগ্য সাম্রাজ্য বিস্তার, সুসংগঠিত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং মুসলিমদের পারস্য বিজয় সম্পন্ন হয়।
হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর প্রধান অবদানগুলোর মধ্যে রয়েছে, পবিত্র কুরআনকে গ্রন্থাকারে সংকলন, মিথ্যা নবুয়তবাদীদের দমন, যাকাত আদায়ে অনীহাকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ইত্যাদী। তিনি ছিলেন একজন ধৈর্যশীল, সাহসী, বিচক্ষণ এবং দয়ালু খলিফা, যিনি ইসলামের প্রাথমিক যুগে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
কুরআন মাজিদের একটি পঠনরীতি রেখে বাকিগুলো বিলোপ করেন হযরত উসমান (রা)।
'মিল্লাত' শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো সম্প্রদায়, জাতি, ধর্ম, বা একটি নির্দিষ্ট বিশ্বাস অনুসরণকারী গোষ্ঠী। এটি একটি আরবি শব্দ যা কোনো বিশ্বাস বা আদর্শের অনুসারী সম্প্রদায়কে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
মিল্লাতের মূল ভিত্তি তাওহিদ (একত্ববাদ), রিসালাত (নবুওয়াত), শরিয়াহ (ইসলামি আইন), এক উম্মাহর ধারণা ইত্যাদি। ক্বিয়ামত মিল্লাতের মূল ভিত্তি নয়।
উসমানীয় সাম্রাজ্যের শেষ খলিফা ছিলেন দ্বিতীয় আবদুল মজিদ। ১৯২৪ সালের ৩ মার্চ তুরস্কের গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি উসমানীয় খিলাফত বিলুপ্ত করার পর তিনিই ছিলেন সর্বশেষ খলিফা।
মিল্লাত' বলতে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা নৈতিক আদর্শকে বোঝায়, যা অনুসরণ করার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায় বা গোষ্ঠী পরিচালিত হয়। অপরদিকে, উম্মাহ (أمة) একটি আরবি শব্দ যা দ্বারা মুসলিম সম্প্রদায় বা বিশ্বাসীদের সমষ্টিকে বোঝানো হয়, যারা একটি একক, ঐক্যবদ্ধ সম্প্রদায় হিসেবে পরিচিত।
স্পেনে খিলাফত উমাইয়া বংশ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, বিশেষত কর্ডোভার খিলাফতে, যা ৯২৯ সালে আব্দুল রহমান তৃতীয় কর্তৃক খলিফা উপাধি গ্রহণের মাধ্যমে শুরু হয়। তিনি ছিলেন এই আরব মুসলিম রাজবংশের প্রথম খলিফা এবং তার শাসনের অধীনে কর্ডোবার খিলাফত একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রা.) মদিনা থেকে তাঁর রাজধানী কুফায় স্থানান্তর করেন। প্রশাসনিক সুবিধা বিবেচনা করে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং এটি জামালের যুদ্ধের পর ৩৬ হিজরি সনে ঘটেছিল।
প্রথম মুসলিম শাসক যিনি রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন তিনি হলেন মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান। তিনি উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং ৬৪১ খ্রিস্টাব্দে সিরিয়ার তৎকালীন গভর্নর থাকা অবস্থায় নিজেকে খলিফা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন, যা খুলাফায়ে রাশেদীনের (সঠিকভাবে পরিচালিত খলিফাদের) গণতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটায় এবং প্রথম বংশভিত্তিক রাজতন্ত্রের সূচনা করে।
খারেজি এবং শিয়া গোষ্ঠী উমাইয়া খিলাফতকে স্বীকৃতি দেয়নি। উমাইয়া খিলাফতকে তাদের অনৈসলামিক শাসন ও আচরণের কারণে ধার্মিক, শিয়া ও খারিজিদের অসন্তোষের সম্মুখীন হতে হয়েছিল।
হালাকু খান ১২৫৮ সালে বাগদাদ আক্রমণ করেন এবং শহরটি দখল করেন। এই আক্রমণের সময় মঙ্গোলরা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়, যার মধ্যে ছিল বাসস্থান পোড়ানো এবং খলিফা আল-মুস্তা'সিমসহ শহরটির অধিকাংশ বাসিন্দাকে হত্যা করা।
ন্যায়বিচারের প্রতীক বলা হয় ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা)-কে, কারণ তাঁর শাসনামলে ন্যায়বিচার ও নিষ্ঠার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন এবং সবাইকেই সমান চোখে দেখতেন। তিনি তাঁর নিজের ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রতিও কোনো প্রকার ছাড় দিতেন না, যা তাকে ন্যায় ও ইনসাফের মূর্ত প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
হযরত আবু বকর (রা) মদিনার সাকিফা নামক স্থানে খলিফা নির্বাচিত হয়েছিলেন, যেখানে বিভিন্ন গোত্রের নেতারা রাসুলে কারিম (সা) এর ইন্তেকালের পর একত্রিত হয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য আলোচনা করেন এবং তাকে খলিফা হিসেবে নির্বাচন করেন। তাঁর এই নির্বাচন কোনো সুনির্দিষ্ট নির্বাচনের প্রক্রিয়া বা ভোটদানের মাধ্যমে না হয়ে, বরং উপস্থিত নেতাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে হয়েছিল।