পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন২৪
সিলেবাস
[For iPad Mania] --------------------------- বিষয় - বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ টপিক - শব্দ প্রকরণ [শব্দের শ্রেণিবিভাগ; শব্দের উৎসমূল; ধাতু, প্রকৃতি - প্রত্যয়; ক্রিয়ার কাল ও এর প্রয়োগ] উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ২৪ প্রশ্ন

.
‘জোছনা’ কোন ধরনের শব্দ?
  1. তৎসম
  2. অর্ধ-তৎসম
  3. দেশি
  4. বিদেশি
সঠিক উত্তর:
অর্ধ-তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধ-তৎসম
ব্যাখ্যা
• ‘জোছনা’ অর্ধ-তৎসম শব্দ।
এটি জ্যোৎস্না সংস্কৃত শব্দ থেকে সৃষ্টি।
অর্থ: চাঁদের আলো; কৌমুদী।

• তৎসম মানে সংস্কৃত। আর অর্ধ-তৎসম মানে আধাসংস্কৃত। তৎসম শব্দ থেকে বিকৃত উচ্চারণের ফলে অর্ধ-তৎসম শব্দ উৎপন্ন হয়ে থাকে।
- আরো কিছু অর্ধ-তৎসম শব্দ দেওয়া হলো: ‘গিন্নি’ ও ‘কেষ্ট’।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
উৎপত্তি অনুসারে বাংলা শব্দ ভাণ্ডার কয় ভাগে বিভক্ত?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
উৎস/উৎপত্তি বিবেচনায় বাংলা শব্দভাণ্ডারকে চারভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা,
- তৎসম,
- তদ্ভব,
- দেশি,
- বিদেশি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

উল্লেখ্য, মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বইয়ের ২০১৯ সংস্করণে উৎস বিবেচনায় শব্দকে ৫ শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যা সঠিক নয়।
কেননা, বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে, শব্দের উৎস বিবেচনায় ৪ শ্রেণিতে শব্দ বিভক্ত হিসাবে আলোচনা করা হয়েছে।
.
অর্থগত দিক থেকে 'চিকন' কোন প্রকার শব্দ?
  1. ক) যৌগিক শব্দ
  2. খ) মৌলিক শব্দ
  3. গ) রূঢ়ি শব্দ
  4. ঘ) যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
গ) রূঢ়ি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রূঢ়ি শব্দ
ব্যাখ্যা
অর্থগত দিক থেকে শব্দ তিন প্রকার‌।
যথা-
- যৌগিক শব্দ,
- রূঢ়ি বা রূঢ় শব্দ ও
- যোগরূঢ় শব্দ।

রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ী শব্দ।

উদাহরণ-
- সন্দেশ - সংবাদ (মূল অর্থ) - মিষ্টান্ন (পরিবর্তিত অর্থ)।
- চিকন - চকচকে (মূল অর্থ) - সরু (পরিবর্তিত অর্থ)।
- জ্যাঠামি - জেঠার ভাব (মূল অর্থ) - চাপল্য (পরিবর্তিত অর্থ)।
- প্রবীণ - প্রকৃষ্ট বীণাবাদক (মূল অর্থ) - বয়স্ক ব্যক্তি (পরিবর্তিত অর্থ)।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'তাজমহল' শব্দটি কোন দুটি ভাষার মিশ্রণে তৈরি?
  1. ক) আরবি + ফারসি
  2. খ) ফারসি + আরবি
  3. গ) বাংলা + আরবি
  4. ঘ) ফারসি + বাংলা
সঠিক উত্তর:
ক) আরবি + ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আরবি + ফারসি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
তাজমহল (বিশেষ্য)
- তাজ (আরবি শব্দ) + মহল (ফারসি শব্দ)
অর্থ:
- মোঘল সম্রাট শাহজাহান কর্তৃক ভারতের আগ্রা নগরে যমুনা নদীর তীরে সম্রাজ্ঞী মমতাজমহলের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে হযরত মুহম্মদ (স) মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন।- বাক্যটি কোন কালের?
  1. ক) সাধারণ বর্তমান
  2. খ) নিত্যবৃত্ত অতীত
  3. গ) পুরাঘটিত বর্তমান
  4. ঘ) ঘটমান অতীত
সঠিক উত্তর:
ক) সাধারণ বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সাধারণ বর্তমান
ব্যাখ্যা
• সাধারণ বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে তার কালকে বর্তমান কাল বলে। যেমন: তৃণা স্কুলে যায়।
সাধারন বর্তমানে দুটি রূপ পাওয়া যায়। যথা:

• নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল: যে ক্রিয়া সাধারণভাবে নিত্য বা সব সময় ঘটে অর্থাৎ ক্রিয়া সংঘটনের স্বাভাবিকতা বা অভ্রস্ততা বোঝালে সাধারন বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- সকালে সূর্য উঠে।
- আমি প্রত্যহ সকালে চা খাই।

• ঐতিহাসিক বর্তমান কাল: ঐতিহাসিক বর্তমান কাল অতীত অর্থে বর্তমান। অতীত কালের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনার বর্ণনায় অনেক ক্ষেত্রে নিত্য বর্তমান কালের প্রয়োগ বা ব্যবহার হয়। এরূপ ক্ষেত্রে সাধারণ বর্তমান বা নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।
- ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দে নবদ্বীপ শ্রীচৈতন্য দেবের জন্ম হয়।
- ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে হযরত মুহম্মদ (স) মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
.
তদ্ধিত প্রত্যয় কোন প্রকৃতির সাথে যুক্ত হয়?
  1. ক) নাম প্রকৃতি
  2. খ) নৈশ প্রকৃতি
  3. গ) সান্ধ্য প্রকৃতি
  4. ঘ) ক্রিয়া প্রকৃতি
সঠিক উত্তর:
ক) নাম প্রকৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নাম প্রকৃতি
ব্যাখ্যা
প্রাতিপদিক :
- ‘লাজ’, ‘বড়’, ‘ঘর’- এ শব্দগুলাের সঙ্গে কোন বিভক্তি যুক্ত হয় নি।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলা হয়।
- প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম-প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া- প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম-প্রকৃতি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
নিচের কোনটি মৌলিক ধাতু?
  1. ক) বলা
  2. খ) শোনায়
  3. গ) দেখা
  4. ঘ) আস
সঠিক উত্তর:
ঘ) আস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আস
ব্যাখ্যা
• ধাতুর প্রকারভেদ:
প্রকৃতি ও উৎপত্তি বিচারে বাংলা ধাতুসমূহকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে:

মৌলিক বা সিদ্ধ ধাতু:
যে ধাতুকে আর বিশ্লেষণ করা যায় না তাকে বলা হয় মৌলিক বা সিদ্ধ ধাতু। এসব ধাতুর রূপ গঠনের দিক থেকে ন্যূনতম একক। এসব ধাতু আবার স্বয়ংসিদ্ধ ধাতু নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে।
যেমন: কর, চল, দেখ, খি, যা, আস ইত্যাদি।

সাধিত ধাতু:
যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করলে অন্য একটি ধাতু বা নাম শব্দ এবং এক বা একাধিক প্রত্যয় পাওয়া যায় তাকে বলা হয় সাধিত ধাতু।
যেমন: দেখ্+আ = দেখা, পড়্ +আ = পড়া, বল্ + আ = বলা ইত্যাদি।

সাধিত ধাতুর সঙ্গে কাল ও পুরুষবাচক বিভক্তি যোগ করে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।
যেমন:
মা শিশুকে চাঁদ দেখায়। এখানে দেখ্ +আ + বর্তমান কালের সাধারণ নাম পুরুষের ক্রিয়াবিভক্তি য় = দেখায়। এরূপ শোনায়, বসায়, শেখায় ইত্যাদি। 

যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর, দে, পা, খা, ছাড় ইত্যাদি মৌলিক ধাতু যুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু গঠিত হয়, তাকে বলা হয় সংযোগমূলক ধাতু।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোনটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. ক) নীলিমা
  2. খ) স্মরণীয়
  3. গ) পানীয়
  4. ঘ) জয়
সঠিক উত্তর:
ক) নীলিমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নীলিমা
ব্যাখ্যা
• নীলিমা = নীল + ইমন; সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ। 

তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে। 

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিতপ্রত্যয়যুগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়। 
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- মেধা + বিন = মেধাবী,
- মায়া + বিন = মায়াবী,
- যশঃ + বিন = যশস্বী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) ।
.
'পাহাড়' - শব্দটি কোন ভাষার?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) হিন্দি
  3. গ) তুর্কি
  4. ঘ) আরবি
সঠিক উত্তর:
খ) হিন্দি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হিন্দি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

পাহাড় (বিশেষ্য)
- হিন্দি শব্দ।
অর্থ:
- মাটির উঁচু স্তূপ,
- উচ্চ তীরভূমি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০.
'বোষ্টম' - কি ধরনের শব্দ?
  1. ক) তৎসম
  2. খ) অর্ধ-তৎসম
  3. গ) তদ্ধব
  4. ঘ) দেশী
সঠিক উত্তর:
খ) অর্ধ-তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অর্ধ-তৎসম
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দ: যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে সোজাসুজি বাংলা ভাষায় এসেছে এবং যাদের রূপ অপরিবর্তিত রয়েছে সেসব শব্দকে তৎসম শব্দ বলা হয়।
'তৎসম একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ - তৎ (তার) + সম (সমান) = তার সমান অর্থ্যাৎ, সংস্কৃতের সমান।

অর্ধ-তৎসম শব্দ: বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত হয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেগুলোকে অর্ধ-তৎসম শব্দ বলা হয়।
অর্ধ-তৎসম অর্থ আধা সংস্কৃত।

কয়েকটি উদাহরণ:
তৎসম ↔ অর্ধ-তৎসম,
জ্যোৎস্না ↔ জ্যোছনা,
শ্রাদ্ধ ↔ ছেরাদ্দ,
বৈষ্ণব ↔ বোষ্টম,
কুৎসিত ↔ কুচ্ছিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১.
অর্থগত দিক থেকে বাংলা ভাষার শব্দ সমূহ কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
সঠিক উত্তর:
খ) তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তিন
ব্যাখ্যা
অর্থগত দিক থেকে শব্দ মুলত ৩ প্রকার।
যথা:
• যৌগিক শব্দ: যে সকঅল শব্দের ব্যুৎপত্তি গত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে। যেমন: গায়ক = গৈ + নক (অক) অর্থ - গান করে যে।
• রূঢ়ি শব্দ: যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গ যগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে,
তাকে রূঢ়ি বলে।
যেমন: হস্তী = হস্ত + ইন, অর্থ - হস্ত আচে যার; কিন্তু হস্তী
বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
• যোগরূঢ় শব্দ: সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পুর্ণ ভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে।
জলধি = জল ধারণ করে এমন অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র সমুদ্র অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২.
‘রিকশা' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. বাংলা
  2. পর্তুগিজ
  3. জাপানি
  4. ফরাসি
সঠিক উত্তর:
জাপানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাপানি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
রিকশা (বিশেষ্য):
- জাপানি ভাষা থেকে আগত শব্দ 
অর্থ: মানুষ্যবাহিত দুই বা তিন চাকার সড়কযান

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৩.
'বাতি নিভে গেল'- বাক্যটিতে কোন কালের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) সাধারণ অতীত কাল
  2. খ) সাধারণ বর্তমান কাল
  3. গ) পুরাঘটিত অতীত কাল
  4. ঘ) নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
সঠিক উত্তর:
ক) সাধারণ অতীত কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সাধারণ অতীত কাল
ব্যাখ্যা
• সাধারণ অতীত: অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বােঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
- ‘বাতি নিভে গেল’ - সাধারণ অতীত কালের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
সাধারণ বর্তমান কাল: যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে বর্তমান কাল বলে।
যেমন: আমি রোজ সকালে বেরাতে যাই। 

নিত্যবৃত্ত অতীত: অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
- আমরা তখন রোজ সকালে গ্রামের নদী তীরে বেড়াতাম।

পুরাঘটিত অতীত: অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরাে কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম - পুরাঘটিত অতীত কাল।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪.
অতীত কালে প্রায় ঘটতো এমন বুঝালে, তাকে বলা হয়-
  1. ক) সাধারণ অতীত
  2. খ) ঘটমান অতীত
  3. গ) পুরাঘটিত অতীত
  4. ঘ) নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
ব্যাখ্যা
• নিত্যবৃত্ত অতীত:
অতীত কালে প্রায় ঘটতো এমন বুঝালে, তাকে বলে, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে। যেমন:
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমন করতাম। 
- খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
- তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত।

অতীত কাল চার প্রকার যথা: 
• সাধারণ অতীত: বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটনই সাধারণ অতীত কাল। যেমন: প্রদীপ নিভে গেল। শিকারি পাখিটিকে গুলি করল। 

• নিত্যবৃত্ত অতীত: অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে। যেমন: আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমন করতাম। 

• ঘটমান অতীত: অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি- ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বোঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়। যেমন:
কাল সন্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল। আমরা তখন বই পড়ছিলাম। বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন। 

• পুরাঘটিত অতীত: যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়। যেমন : সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম। কাজটি কি তুমি করেছিলে?

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্বনিদ্যালয়।

উল্লেখ্য - নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বোর্ড বই (২০২১-২২ সংস্করণ) থেকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান বাদ দেয়া হয়েছে।
১৫.
'বাচ্চারা মাঠে খেলছিল'- বাক্যটিতে কোন কালের ক্রিয়া আছে?
  1. ক) ঘটমান অতীত কাল
  2. খ) সাধারণ অতীত কাল
  3. গ) ঘটমান বর্তমান কাল
  4. ঘ) সাধারন বর্তমান কাল
সঠিক উত্তর:
ক) ঘটমান অতীত কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ঘটমান অতীত কাল
ব্যাখ্যা
• ঘটমান অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতে কিছু সময় ধরে চলছিল- এমন বোঝাতে ঘটমান অতীত হয়।
- ঘটমান প্রকারের অতীত কাল ক্রিয়ার সমাপ্তি নির্দেশ করে না।
- বরং যে সময়ের কথা বলা তখনও কাজটি শেষ হয়নি এমনই বোঝায়।
যেমন:
- তুমি কি তখন খাচ্ছিলে?
- বাচ্চারা মাঠে খেলছিলো।
- সেদিন সকালে আমি বইটা পড়ছিলাম।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
১৬.
নিচের কোনটি সাধিত শব্দ নয়?
  1. ক) তিন
  2. খ) ডুবুরি
  3. গ) পরিচালক
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তিন
ব্যাখ্যা
• গঠনগত দিক থেকে শব্দকে ২ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা:
- মৌলিক শব্দ ও
- সাধিত শব্দ।

• মৌলিক শব্দ:
যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গােটা শব্দটাই নিজে নিজেই সমপূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভাঙতে চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনাে অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন- মা, পা, ঘােড়া, উট, বউ, গােলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন - পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।
শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন: ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭.
কোনো কাজ ভবিষ্যতে চলতে থাকবে, এমন বোঝাতে কোন কাল ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
  2. খ) সাধারণ ভবিষ্যৎ
  3. গ) ঘটমান ভবিষ্যৎ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) ঘটমান ভবিষ্যৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঘটমান ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা
• কোনো কাজ ভবিষ্যতে চলমান বুঝালে তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।

• ভবিষ্যৎ কাল:
- ভবিষ্যতে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হবে তাকে ভবিষ্যৎ কাল বলে।
- ভবিষ্যৎ কাল তিন প্রকার: সাধারণ ভবিষ্যৎ, ঘটমান ভবিষ্যৎ এবং অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ।

• ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল:
-  যে ক্রিয়া ভবিষ্যৎ কালে চলতে থাকবে বোঝায়, তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
- এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮.
নিম্নের কোন শব্দগঠন প্রক্রিয়াটি সমাস নিষ্পন্ন?
  1. ক) মৌলিক
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) যােগরূঢ়
  4. ঘ) রূঢ়ি
সঠিক উত্তর:
গ) যােগরূঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যােগরূঢ়
ব্যাখ্যা
• বাগর্থ অনুসারে বাংলা শব্দের শ্রেণিবিভাগ:

যৌগিক শব্দ: প্রতিটি শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ যেমন থাকে তেমনি এর ব্যবহারিক অর্থও থাকে। প্রসঙ্গত বলা যায় যে, একটি শব্দের উৎপত্তি যখন ঘটেছিল তখন তার যে অর্থ ছিল তা-ই হলাে ওই শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ; আর শব্দটি বর্তমানে কোন অর্থে প্রযুক্ত হচ্ছে তা-ই তার ব্যবহারিক অর্থ। যৌগিক শব্দের ক্ষেত্রে এই দুটি অর্থই অভিন্ন থাকবে। অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যেসব শব্দের ব্যবহারিক অর্থ তাদের ব্যুৎপত্তিগত অর্থকেই অনুসরণ করে তাদের যৌগিক শব্দ বলে। যেমন, ‘জীবনী’ শব্দটি গঠিত হয়েছে ‘জীব+ অন+ ঈ' অর্থাৎ ‘জীব’ শব্দ হতে। তাই ‘জীবনী' শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হওয়া উচিত জীব সংশ্লিষ্ট কোনাে অর্থ। আর ‘জীবনী’ শব্দের অর্থ ‘জীবের বেঁচে থাকার বিবরণ'। অর্থাৎ, ‘জীবন’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ বজায় থেকেছে। 

রূঢ়ি শব্দ: ব্যুৎপত্তিগত এবং ব্যবহারিক অর্থের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে এমন প্রত্যয় বা উপসর্গ যােগে গঠিত শব্দকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন: হস্তী শব্দটির বুৎপত্তিগত অর্থ হাত আছে যার, কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ হাতি।

যােগরূঢ় শব্দ: সমাস নিষ্পন্ন শব্দ যদি ব্যুৎপত্তিগত অর্থ থেকে ভিন্ন কোনাে ব্যবহারিক অর্থ ধারণ করে তবে তাকে যােগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন: পঙ্কজ শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ পঙ্কে জন্মে যে কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ পদ্মফুল। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯.
'যদি বৃষ্টি হতাে, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম।' - বাক্যটি কোন কালের?
  1. ক) সাধারণ অতীত
  2. খ) নিত্যবৃত্ত বর্তমান
  3. গ) পুরাঘটিত অতীত
  4. ঘ) পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ
সঠিক উত্তর:
ক) সাধারণ অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সাধারণ অতীত
ব্যাখ্যা
• সাধারণ অতীত কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়ােগ:

- শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল। (ঘটনা পুরাঘটিত বর্তমানের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।)
- যদি বৃষ্টি হতাে, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।) 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২০.
'বেহাল' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) আরবি + ফারসি
  2. খ) বাংলা + আরবি
  3. গ) ফারসি + আরবি
  4. ঘ) ফরাসি + আরবি
সঠিক উত্তর:
গ) ফারসি + আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফারসি + আরবি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
বেহাল (বিশেষ্য)
- বে (ফারসি) + হাল (আরবি) শব্দ।
অর্থ:
- দুর্ভোগ,
- দুর্দশা,
- বিশৃঙ্খলা।

বেহাল (বিশেষণ)
- দুর্দশাগ্রস্ত,
- নিয়ন্ত্রণের অসাধ্য,
- অরাজক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২১.
'খোদা' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ক) ফারসি
  2. খ) ফরাসি
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) তুর্কি
সঠিক উত্তর:
ক) ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ফারসি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• খোদা (বিশেষ্য)

- ফারসি শব্দ।
অর্থ:
- আল্লাহ,
- বিধাতা,
- ঈশ্বর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২২.
অর্থ অনুসারে বাংলা ভাষার শব্দ কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
সঠিক উত্তর:
খ) তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তিন
ব্যাখ্যা
অর্থ অনুসারে বাংলা ভাষার শব্দ ৩ ভাগে বিভক্ত। এগুলো হলো -
- যৌগিক শব্দ,
- রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ এবং
- যৌগরূঢ় শব্দ।

যৌগিক শব্দ: যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত ও ব্যবহারিক অর্থ অভিন্ন তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন: গায়ক, দৌহিত্র, চিকামারা, বাবুয়ানা, মধুর, কর্তব্য ইত্যাদি।

যৌগরূঢ় শব্দ: সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ সমস্যমান পদসমূহের অনুগামি না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাকে যৌগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন: পঙ্কজ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।

রূঢ়ি শব্দ: যেসব শব্দ প্রত্যয় ও উপসর্গযোগে মূল শব্দের অনুগামি না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন: বাঁশি, তৈল, সন্দেশ, প্রবীণ, হরিণ, পাঞ্জাবী, হস্তী ইত্যাদি।

উংস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩.
‘দাতা‘ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √দা+তৃচ
  2. √দাত+আ
  3. √দা+তৃ
  4. √দাতৃ+আ
সঠিক উত্তর:
√দা+তৃ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√দা+তৃ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• দাতা (বিশেষ্য) 

- সংস্কৃত শব্দ,
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √দা+তৃ।
অর্থ: যে ব্যক্তি দান করে।

কিন্তু, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) অনুসারে,

• কৃৎ প্রত্যয়: উৎস অনুসারে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কৃৎ প্রত্যয়সমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
এগুলো হলো:
- বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ও
- সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়। 

• সংস্কৃৃৃত তৃচ্‌-প্রত্যয়: তৃচ্‌-প্রত্যয়ে চ্ লোপ পেয়ে প্রথমা একবচনে 'তৃ' থাকলে 'তৃ' এর স্থলে 'তা'  হয়।
যেমন-
√দা+তৃচ = √দা+তা = দাতা।
√মা+তৃচ = √মা+তা = মাতা।

তবে প্রকৃত-প্রত্যয়ের ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমির অভিধান অধিক গ্রহণযোগ্য হওয়ায়। অধিক গ্রহণযোগ্য সঠিক উত্তর অপশন ‘গ’।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪.
সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল এর উদাহরণ কোনটি?
  1. আমরা ঢাকা যাব।
  2. আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
  3. ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।
  4. তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
সঠিক উত্তর:
আমরা ঢাকা যাব।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমরা ঢাকা যাব।
ব্যাখ্যা
• ভবিষ্যতে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হবে তাকে ভবিষ্যৎ কাল বলে।
ভবিষ্যৎ কাল তিন প্রকার:
- সাধারণ ভবিষ্যৎ
- ঘটমান ভবিষ্যৎ এবং
- অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ।

সাধারণ ভবিষ্যৎ:
ভবিষ্যৎ কালে যে কাজ সাধারণভাবে সম্পন্ন হবে বোঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে। যেমন:
- আমরা ঢাকা যাব।
- দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।

ঘটমান ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া ভবিষ্যৎ কালে চলতে থাকবে বোঝায়, তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে। যেমন: 
- আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
- এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে। যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।