পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৩৩
সিলেবাস
বাংলাদেশের ইতিহাস: ১৯৪৭ থেকে বর্তমান। সোর্স: যেকোনো গাইড বই, ষষ্ঠ থেকে SSC & HSC বোর্ড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৩ প্রশ্ন

.
পাকিস্তানে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন কে?
  1. ক) গোলাম মোহাম্মদ
  2. খ) আইয়ুব খান
  3. গ) ইস্কান্দার মির্জা
  4. ঘ) ইয়াহিয়া খান
ব্যাখ্যা
- পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই স্বেচ্ছাচারী শাসন কায়েম হয়। 
- গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ ১৯৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল নাজিমুদ্দিন মন্ত্রিসভাকে বাতিল করেন। 
- মোহাম্মদ আলীকে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্বেচ্ছাচারিতার ভিত্তিতে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করেন ।
-  ১৯৫৫ সালের ৮ নভেম্বর গণপরিষদ বাতিল করা হয়। 
- পূর্ব বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠতা মোকাবেলার জন্য পূর্ব ও পশ্চিমের সব প্রদেশ সংযুক্ত করে এক ইউনিট গঠন করে সংখ্যা সাম্যনীতি গ্রহণ করা হয়। 
- জন্মলাভের নয় বছর পর ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ পাকিস্তানে প্রথম সংবিধান রচনা করা হয় । 
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জা সামরিক শাসন জারি করেন। 
- পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আইয়ুব খান ২০ দিনের মাথায় তাকে সরিয়ে নিজে ক্ষমতায় আসীন হন এবং সংবিধান বাতিল করে দেন । 
- ১৯৬২ সালে আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্র পদ্ধতি নির্ভর সংবিধান প্রণয়ন করেন। 
- ১৯৬৯ এর মার্চে পূর্ববাংলার গণ আন্দোলনে টিকতে না পেরে সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াহিয়ার হাতে ক্ষমতা দিয়ে তিনি রাজনীতি থেকে বিদায় নেন । 
- জেনারেল ইয়াহিয়া পুনরায় সামরিক শাসন জারি করেন । 
- এইভাবে পাকিস্তানের আইন পরিষদকে অকার্যকর এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয় । দীর্ঘ ২৪ বছরই সামরিক চক্র ও আমলারা দেশ শাসন করেন।
 
উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
.
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ছিল কতটি?
  1. ক) ৬টি
  2. খ) ১১টি
  3. গ) ১৭টি
  4. ঘ) ১২টি
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।
- শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এম.এন.এ এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী এম.এন.এ।
- নবগঠিত সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে এখানে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
- মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন হয় ১৮ এপ্রিল।
- এছাড়া কয়েকটি বিভাগ মন্ত্রিপরিষদের কর্তৃত্বাধীনে থাকে। 

[শুধু মন্ত্রণালয় বললে ১২ টি কিন্তু বিভাগ ও মন্ত্রণালয় বললে ১৫ টি।]

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের কততম প্রধানমন্ত্রী?
  1. ক) দ্বাদশ
  2. খ) দশম
  3. গ) একাদশ
  4. ঘ) নবম
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ১২তম প্রধানমন্ত্রী।
- তিনি ২০০৯ সাল থেকে টানা তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত।
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ।
- দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

(সূত্র: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ওয়েবসাইট)
.
বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্ব পালন করা নির্বাচন কমিশন কোনটি?
  1. ক) ইদ্রিস কমিশন
  2. খ) সাদেক কমিশন
  3. গ) নুরুল ইসলাম কমিশন
  4. ঘ) হেনা কমিশন
ব্যাখ্যা
- স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৩টি নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে বাংলাদেশে৷
- বর্তমান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল ১৩ তম নির্বাচন কমিশনার ।
- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি এম ইদ্রিস।
- তাঁর কমিশনের মেয়াদ ছিল ১৯৭২ সালের ৭ জুলাই থেকে ১৯৭৭ সালের ৭ জুলাই।
- ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এই কমিশনের অধীনে।
- বিচারপতি একেএম নুরুল ইসলাম বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্ব পালন করা প্রধান নির্বাচন কমিশনার৷।
 
নুরুল ইসলাম কমিশন
বিচারপতি একেএম নুরুল ইসলাম বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্ব পালন করা প্রধান নির্বাচন কমিশনার৷ তিনি ১৯৭৭ সালের ৮ জুলাই দায়িত্ব নেন৷ অব্যাহতি নেন ১৯৮৫ সালের ১৭ ফ্রেব্রুয়ারি৷ আট বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি৷ 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, dw.com।
.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে -
  1. ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. খ) ৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ঘ) ১৭ মার্চ, ১৯৭৩
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর থেকে জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠন করা হয়।
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে।
- শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী করা হয় মুজিবনগরকে।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
.
১৯৭১ সালে সংঘটিত বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারায় -
  1. ক) চিকিৎসক
  2. খ) আইনজীবী
  3. গ) সাংবাদিক
  4. ঘ) শিক্ষাবিদ
ব্যাখ্যা
- বুদ্ধিজীবী হত্যা  ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি বুদ্ধিজীবী নিধন ইতিহাসের নৃশংসতম ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ। 
- বাঙালি বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানি, আইনজীবী, শিল্পী, দার্শনিক ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদগণ এই সুপরিকল্পিত নিধনযজ্ঞের শিকার হন।
- জানা যায় যে, বুদ্ধিজীবী নিধনের নীলনকশা পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীর নেতৃত্বে অন্যূন দশ জনের একটি কমিটি কর্তৃক প্রণীত হয়। 
- পরবর্তীকালে জানা যায় যে, ১৪ ডিসেম্বরের নিধনযজ্ঞ সরাসরি রাও ফরমান আলী কর্তৃক পরিচালিত হয়। 
- শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির উদ্দেশে বাংলাদেশে ১৪ ডিসেম্বর শোকাবহ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়। 
- সব শহীদ বুদ্ধিজীবীর পরিচয় দূরের কথা, তাঁদের প্রকৃত সংখ্যাই অদ্যাবধি নিরূপণ করা সম্ভব হয় নি। 
- প্রাপ্ত তথ্যসূত্র থেকে শহীদদের মোটামুটি একটা সংখ্যা দাঁড় করানো যায়। 
- এঁদের মধ্যে ছিলেন ৯৯১ জন শিক্ষাবিদ, ১৩ জন সাংবাদিক, ৪৯ জন চিকিৎসক, ৪২ জন আইনজীবী, ৯ জন সাহিত্যিক ও শিল্পী, ৫ জন প্রকৌশলী,এবং অন্যান্য ২ জন।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া 
.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান অভিযুক্ত বঙ্গবন্ধু কত সালে আগরতলায় যাওয়ার অভিযোগ উঠে?
  1. ক) ১৯৬৭
  2. খ) ১৯৬৮
  3. গ) ১৯৬৫
  4. ঘ) ১৯৬২
ব্যাখ্যা
- শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয় ৩ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে।
- মামলায় পাকিস্তান সরকার অভিযোগ করেছিল যে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কতিপয় সেনা অফিসারের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে শেখ মুজিব ভারতের সহযোগিতায় সশস্ত্র উপায়ে পূর্ব পকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিলেন। 
- এজন্য ১৯৬২ সালে তিনি গোপনে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা যান। 
- সেখানে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী শচীন্দ্রলাল সিংহের সংগে দেখা করেন এবং তাঁর মাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর সঙ্গেও যোগাযোগ হয়। সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেনের ভূমিকা ছিল বেশি।
- এখন প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণ থেকে বলা যায় যে, মামলাটির ভিত্তি ছিল। 
- তবে পাকিস্তান সরকার যেভাবে মামলাটি সাজিয়েছিল আসলে ঘটনাটি তেমন ছিল না। তবে, অভিযুক্তরা দেশকে মুক্ত করার জন্য একটা পরিকল্পনা করেছিলেন এবং তাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন।

আগরতলা মামলায় অভিযুক্ত তৎকালীন ক্যাপ্টেন শওকত আলীর স্মৃতিকাহিনী পড়ে এই ধারণা হয় যে, তিনটি বিষয়কে একত্রিত করে এই মামলাটি সাজানো হয়েছিল।
(১) ১৯৬২-৬৩ থেকে লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন প্রধানত নিম্ন পর্যায়ের কিছু নৌসদস্যদের সাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিষয়ে আলোচনা করছিলেন,
(২) ক্যাপ্টেন শওকতরা একই উদ্দেশ্যে আলাপ করছিলেন মূলধারার কিছু বাঙালি অফিসারের সাথে,
(৩) সিভিল সার্ভিসের রুহুল কুদ্দুস, আহমেদ ফজলুর রহমান ও খান শামসুর রহমান এবং আরও কয়েকজন সদস্য নিজেদের মধ্যে এনিয়ে চিন্তাভাবনা করছিলেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের সাথেও হয়তো তাঁদের আলাপ হয়েছিল। কিন্তু ঐক্যবদ্ধ কোনো পরিকল্পনা তাঁরা নিতে পারেননি ।
 
শওকত আলীর মন্তব্য যে, মোয়াজ্জেম হোসেন তাড়াহুড়া করেছেন এবং তাঁর গ্রুপ গোপনীয়তা সম্পর্কে সজাগ ছিলেন না। ফলে সেনা সদস্যরা ধরা পড়েন। বঙ্গবন্ধু এই প্রয়াসের সঙ্গে হয়তো সরাসরি যুক্ত ছিলেন না, তবে হয়তো তাঁর প্রশ্রয় ছিল। 
তবে তিনি যে বাংলাদেশের মুক্তির প্রচেষ্টায় আগরতলা গিয়েছিলেন তা সত্য। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার কথা ভেবেছেন তাও সত্য। 
পাকিস্তান সরকারের গোয়েন্দা দফতর তা জানতো। তাই অঙ্কুরেই সে চেষ্টা বিনাশ করার লক্ষ্যে শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে মামলাটি সাজানো হয়েছিল।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
"ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ" জারি করেন কে?
  1. ক) মো. সায়েম
  2. খ) আব্দুস সাত্তার
  3. গ) খন্দকার মুশতাক
  4. ঘ) জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা
- ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ হলো দায়মুক্তি অধ্যাদেশ। 
- এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত হত্যাকারীদের বিচারানুষ্ঠান থেকে রেহাই দেওয়া হয়। ১৯৭৫ সালের ২০ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন যা ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭৯ সালে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে সাংবিধানিক বৈধতা দেওয়া হয়। 
- ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে। যার ফলে বঙ্গবন্ধু'র খুনীদের বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়।

(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
.
ছয়দফা কর্মসূচী প্রথম কোথায় উত্থাপিত হয়?
  1. ক) লাহোরে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় সম্মেলনে
  2. খ) প্রেসিডেন্ট আইউবের দপ্তরে
  3. গ) আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে
  4. ঘ) সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটিতে
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ ও পরবর্তী তাসখন্দ চুক্তির প্রেক্ষাপটে পশ্চিম পাকিস্তানকেন্দ্রিক নেতারা ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী লাহোরে এক জাতীয় সম্মেলন আহবান করলে বাঙালির জাতীয় মুক্তি ও পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তাহীনতার প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐ সভায় তাঁর ঐতিহাসিক “ছয় দফা” কর্মসূচি উত্থাপন করেন। 
- কর্মসূচিটি ১৮ মার্চ তারিখে পূর্ব পাকিস্ড়ান আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে “আমাদের বাঁচার দাবী- ছয় দফা কর্মসূচী” শিরোনামে ব্যাখ্যাসহকারে বিলি করা হয়।
 
উৎস: সিভিক এডিকশন -২, এসএসএইচএল প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১০.
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৬৯ সালে জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য কয়টি আসন অর্জন করা সম্ভব হয়?
  1. ক) ১৫০টি
  2. খ) ৭৫টি
  3. গ) ১৬৯টি
  4. ঘ) ২২৩টি
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসার মূলে ছিল বাঙালির অধিকার আদায়ে তার ত্যাগ ও আজীবনের আপসহীন সংগ্রাম।
- পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বণ্টন ছিল তাঁর অন্যতম প্রধান দাবি।
- এ দাবি আদায় করতে পারলেই যে সকল দাবি আদায় করা সম্ভব, এটি তিনি প্রতিটি বাঙালিকে উপলব্ধি করাতে সক্ষম হয়েছিলেন।
- এ জন্য বাঙালিরা তার  নেতৃত্বে অবিচল থাকে।
- তাঁর এ দৃঢ় নেতৃত্বের কারণেই ১৯৬৯ সালে ইয়াহিয়া খানের কাছ থেকে সমগ্র পাকিস্তানের ৩১৩টি আসনের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য ১৬৯টি আসন অর্জন করা সম্ভব হয়েছিল।
- তিনি তাঁর জনসমর্থনের আকাশচুম্বি শক্তি নিয়ে ইয়াহিয়া খানের ওপর প্রচণ্ড চাপ প্রয়ােগ করেছিলেন, যা উপেক্ষা করে সে সময়ে ইয়াহিয়া খানের পক্ষে ক্ষমতায় টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব ছিল।
- বঙ্গবন্ধু তা জানতেন এবং এ জন্য মৌলিক এ দাবি আদায়ে তিনি কোনােরূপ ছাড় না দিয়ে অবিচল থাকেন। ফলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়।
- বাংলা ভাষার অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি অর্জনের পর এটি ছিল তখন পর্যন্ত বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।
- এ অর্জনই ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বাঙালিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথ প্রশস্ত করে। এ নির্বাচনে পূর্বের ন্যায় পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে আসনসংখ্যার সমতার ভিত্তিতে বণ্টন হলে বাঙালিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের কোনাে সুযােগ থাকত না।
- বঙ্গবন্ধু এ বিষয়টি পাকিস্তান রাষ্ট্রের শুরু থেকেই উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই সকল আন্দোলনসংগ্রামের মধ্যে এ লক্ষ্য থেকে কখনােই তিনি বিচ্যুত হননি।

উৎস: এশিয়াটিক সোসাইটি ওয়েবসাইট
১১.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান প্রবর্তিত হয় -
  1. ক) ১৭ নভেম্বর, ১৯৭২
  2. খ) ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২
  3. গ) ৪ নভেম্বর, ১৯৭২
  4. ঘ) ৭ ডিসেম্বর, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর গণপরিষদ সদস্যরা চূড়ান্তভাবে গৃহীত সংবিধানের কপিতে স্বাক্ষর করেন।
- সবার প্রথমে স্বাক্ষর করেন বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমান।
- তারপর যথাক্রমে - সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং তাজউদ্দিন আহমদ স্বাক্ষর করেন।
- তবে গণপরিষদের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এতে স্বাক্ষর করেননি।
- ১৯৭২ সালের হাতে লেখা সংবিধান কপিতে মোট ৩৯৯ জন গণপরিষদ সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
১২.
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলে নিহত হন -
  1. ক) ৩ জন
  2. খ) ৬ জন
  3. গ) ৪ জন
  4. ঘ) ৫ জন
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে আবুল বরকত, রফিক উদ্দিন, আবদুল জব্বার ঘটনাস্থলে নিহত হন। আবদুস সালাম গুলিবিদ্ধ হয়ে ৭ এপ্রিল মেডিকেল কলেজে মারা যান। 
অর্থাৎ, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলে নিহত হন ৩ জন। 
 
- ২১ ফেব্রুয়ারি গুলিতে ঠিক কতজন মারা গিয়েছে তা নিয়ে পরবর্তীকালে নানা কারণে মতভেদ দেখা দিয়েছে। 
- ২১ ফেব্রুয়ারি গুলি লেগে কেউ আবার পরে মৃত্যুবরণ করেছেন। 
- শেষপর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে ভাষার কারণে ৬ জন শহীদ হয়েছিলেন। 
 
- শহীদ রফিকউদ্দীন আই.কম. পড়তেন। তাঁর বয়স উনিশ/বিশ ছিল। তাঁর বাড়ি মানিকগঞ্জ। 
- আবুল বরকত ১৯২৭ সালের ১৬ জুন জন্মগ্রহণ এবং ১৯৪৫ সালৈ ম্যাট্রিক পাশ করেছিলেন। ১৯৪৮ সালে তিনি পাকিস্তানে আসেন। তাঁর পিতার নাম শামসুজ্জোহা। 
- শহীদ শফিউর রহমান ছিলেন হাইকোর্টের কর্মচারী। ১৯১৮ সালের ২৪ জানুয়ারি তার জন্ম। এঁদের তিনজনকেই আজিমপুর দাফন করা হয়। 
- শহীদ আব্দুল জব্বার ছিলেন পেশায় দর্জি। গফরগাঁওয়ের পাচাইয়া গ্রামে তাঁর বাড়ি। 
- শহীদ অলিউল্লাহর বয়স ৮/৯ বছর। তিনি রাজমিস্ত্রি হাবিবুর রহমানের ছেলে।
আবদুস সালাম ২১ ফেব্রুয়ারি গুলিবিদ্ধ হয়ে ৭ এপ্রিল মারা যান। তিনি পেশায় পিয়ন ছিলেন।

 
উৎস: ইতিহাস,  এসএসএইচএল প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সহ-সভাপতি ছিলেন -
  1. ক) শামসুল হক
  2. খ) এ.কে রফিকুল হোসেন
  3. গ) আলী আমজাদ খান
  4. ঘ) শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
এর প্রথম কমিটি:
- সভাপতি :  মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
- সাধারণ সম্পাদক : শামসুল হক
- সহ সভাপতি : আতাউর রহমান খান, আলী আমজাদ খান, আলী আহমদ খান, শাখাওয়াত হোসেন ও আবদুস সালাম খান।
- যুগ্ম সম্পাদক : শেখ মুজিবুর রহমান (তখন কারাগারে আটক ছিলেন),খন্দকার মোশতাক আহমদ, এ.কে রফিকুল হোসেন ( খায়ের মিয়া ) 
- ট্রেজারার : ইয়ার মোহাম্মদ খান(যার মালিকানাধীন রোজ গার্ডেনে প্রথম সভার আয়োজন হয়)

তথ্যসূত্র: অসমাপ্ত আত্মজীবনী, শেখ মুজিবুর রহমান, (ইউ পি এল) ২০১২, পৃ. ১২১-১২২; বিডিনিউজ২৪
১৪.
মানচিত্র খচিত প্রথম পতাকা কবে উত্তোলন করা হয়??
  1. ক) ২৩ জানুয়ারি, ১৯৭১
  2. খ) ৩ মার্চ, ১৯৭০
  3. গ) ৭ এপ্রিল, ১৯৭২
  4. ঘ) ২ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের ১ মার্চ হঠাৎ করেই জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করলে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে গোটা দেশ।
- ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসমাবেশে প্রথম বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- সেদিন পতাকা উত্তোলন করেন ছাত্রনেতা আ স ম আবদুর রব। 
- সঙ্গে ছিলেন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা তোফায়েল আহমদ, আবদুল কুদ্দুস মাখন এবং নূরে আলম সিদ্দিকী। 
- স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকার এবং শেষ পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প ঘোষণা করা হয় সেই সভা থেকে। 
 
উৎস: বিডিনিউজ 
১৫.
মারী চুক্তিতে নিম্নের কোনটি উল্লেখ ছিল না?
  1. ক) পাকিস্তানে দুটি প্রদেশ থাকবে।
  2. খ) উভয় প্রদেশে ভিন্ন কারেন্সি থাকবে।
  3. গ) প্রদেশ দুটিতে পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন থাকবে।
  4. ঘ) উভয় প্রদেশে সংখ্যাসাম্য নীতি অনুসরণ করা হবে।
ব্যাখ্যা
- পাকিস্তান দ্বিতীয় গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে ১৯৫৫ সালের ৭ জুলাই পশ্চিম পাকিস্তানের মারীতে
- দ্বিতীয় গণপরিষদ সদস্যগণ সংবিধান প্রণয়ন সম্পর্কে একটি চুক্তি সম্পাদন করেন, যা মারী চুক্তি' নামে খ্যাত।

এ চুক্তির বিষয়বস্তু ছিল নিম্নরুপ - 
১. পাকিস্তানে দুটি প্রদেশ থাকবে। একটি গঠিত হবে ‘পূর্ব বাংলা' নাম পরিবর্তন করে পূর্ব পাকিস্তান’ নামে এবং পশ্চিম পাকিস্তানের সকল প্রদেশকে নিয়ে একটি ইউনিট গঠিত হবে এবং এর নাম হবে ‘পশ্চিম পাকিস্তান।
২. প্রদেশ দুটিতে পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হবে।
৩. উভয় প্রদেশে সংখ্যাসাম্য নীতি’ (Principle of Parity) অনুসরণ ও কার্যকর করা হবে।
৪. যুক্ত নির্বাচন ব্যবস্থা কার্যকর হবে।
৫. বাংলা ও উর্দু উভয়ই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে।

- মারী চুক্তির ফলে পাকিস্তানের জন্য একটি সংবিধান প্রণয়নের সুযােগ সৃষ্টি হয়।

তথসুত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন , প্রফেসর মোজাম্মেল হক।
১৬.
বাংলাদেশে সর্বশেষ জরুরী অবস্থা কে জারি করেন?
  1. ক) জিয়াউর রহমান
  2. খ) ইয়াজউদ্দীন আহম্মেদ
  3. গ) জেনারেল এরশাদ
  4. ঘ) আব্দুস সাত্তার
ব্যাখ্যা
- সাধারণভাবে বলা যায় জরুরি অবস্থা বলতে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থে কোনো আকস্মিক সংকটকালীন অবস্থা কাটিয়ে ওঠার জন্য কতিপয় মৌলিক অধিকারের উপর বাধানিষেধ আরোপ করা বোঝায়।
- ১৯৭৩ সালে ২য় সংশোধনীর মাধ্যমে জরুরী অবস্থার বিধান সংযুক্ত করা হয় । 
- এ সংবিধানের ১৪১(ক), ১৪১(খ) ও ১৪১(গ) অনুচ্ছেদের আওতায় দেশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবনে হুমকির কারণে জরুরি অবস্থা (সর্বাধিক ১২০ দিনের জন্য) ঘোষিত হতে পারে। 
- বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৫ বার জরুরী অবস্থা জারি করা হয়েছে।

১. ১৯৭৪ সালের ২৮শে ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা মোকাবেলা করার জন্য জরুরী অবস্থা জারি করেন ।
২. জিয়াউর রহমান খুন হলে উপ-রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার রাষ্ট্রপতি হয়ে  ১৯৮১ সালের ৩০শে মে জরুরী অবস্থা জারি করেন।
৩. ১৯৮৭ সালের ২৭শে নভেম্বর জেনারেল এরশাদ জরুরী অবস্থা জারি করেন।
৪. ১৯৯০ সালের ২৭শে নভেম্বর জেনারেল এরশাদ জরুরী অবস্থা জারি করেন। 
৫. ২০০৭ সালের ১১ই জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইয়াজউদ্দীন আহম্মেদ জরুরী অবস্থা জারি করেন। এই দিনটি ১/১১ নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষাকে অন্যতম সরকারি ভাষা হিসেবে ঘোষণা করে -
  1. ক) ১৯৫২ সালে
  2. খ) ১৯৫৬ সালে
  3. গ) ১৯৬২ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৪ সালে
ব্যাখ্যা
- ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি প্রাদেশিক পরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার সুপারিশ পাকিস্তান গণপরিষদের বিবেচনার জন্য প্রেরণের একটি প্রস্তাব স্বয়ং মুসলিম লীগ পাস করে। যদিও গণপরিষদে তা বাধার সম্মুখীন হয়। 
- ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনের আগে এ বিষয় কোন অগ্রগতি হয়নি।
- যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ২১ ফেব্রুয়ারি শোক দিবস হিসেবে ছুটি ও শহীদ দিবস ঘোষণা করে। 
- এছাড়া একই বছর গণপরিষদ পাকিস্তানের সরকারি ভাষা হিসেবে উর্দু ও বাংলা এবং পার্লামেন্টে ইংরেজী ছাড়াও উর্দু ও বাংলায় বক্তব্য রাখার বিধান করা হয়। 
- গণপরিষদের এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের ১৯৫৬ সালের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং এইভাবে বাংলা ভাষা অন্যতম রাষ্ট্রভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃত পায়।
- ১৯৬২ সালের সংবিধানেও একইভাবে বাংলাকে বহাল রাখা হয় যা পাকিস্তান আমলে আর পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি। এতে বাঙালির আন্দোলনের বিজয় সূচিত হয়। অন্যদিকে বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
 
উৎস: ইতিহাস, এসএসএইচএল প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৮.
জেনারেল আইয়ুব খান কত সালে রাজনীতি নিষিদ্ধ করে PODO ও EBDO নামক দুটি আদেশ জারি করে?
  1. ক) ১৯৫৮ সালে
  2. খ) ১৯৬১ সালে
  3. গ) ১৯৫৯ সালে
  4. ঘ) ১৯৬০ সালে
ব্যাখ্যা
- জেনারেল আইয়ুব খান ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পর পাকিস্তানের শাসন ও রাজনৈতিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেন। 
- তিনি কঠোর হস্তে দূর্নীতি দমন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করেন। 
- অতঃপর তিনি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। 
- ১৯৫৯ সালে ‘পোডো' (Public Office Disqualification Order, PODO) এবং ‘এবডো (Elective Bodies Disqualification Order, EBDO) নামক দুটি আদেশ জারি করে রাজনৈতিক দলের কার্যকলাপ ও নির্বাচনে রাজনীতিবিদদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেন।
 
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন -
  1. ক) কৃষি, সমবায়
  2. খ) বাণিজ্য, শ্রম
  3. গ) শিল্প, অর্থ
  4. ঘ) শিক্ষা, স্বাস্থ্য
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- তিনি নিজে মুখ্যমন্ত্রির দায়িত্ব ছাড়াও অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্ব নেন।
- মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে আবু হোসেন সরকার বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার, সৈয়দ আজিজুল হক শিক্ষা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্ব লাভ করেন।
- মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার অবসান ঘটে।
- কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পূর্ববাংলায় গভর্নরের শাসন ঘোষণা করে।
- যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভার মেয়াদ ছিল ৫৬ দিন।
 
- ১৯৫৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পূর্ব পাকিস্তানে আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে কোয়ালিশন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়।
- বঙ্গবন্ধু ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৫৬ এই মন্ত্রিসভায় শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ এইড দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে যোগ দেন।
- কিন্তু ১৯৫৭ সালের ৩০ মে দলীয় কাজে মনোনিবেশের জন্যে স্বেচ্ছায় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি; বাংলাপিডিয়া এবং অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
২০.
ইন্দিরা গান্ধীর প্রথম ঢাকা সফরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার কয় বছর মেয়াদী 'মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ক) ২৫ বছর
  2. খ) ২৭ বছর
  3. গ) ৩০ বছর
  4. ঘ) ৩৫ বছর
ব্যাখ্যা
- ১৯৭২ সালের ১৭ মার্চে প্রথম ঢাকা সফরে আসেন ইন্দিরা গান্ধী। 
- ইন্দিরা গান্ধীর বাংলাদেশ আগমন উপলক্ষে দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশ সফরকারী প্রথম বিদেশি সরকার প্রধান। 
- ইন্দিরা গান্ধীর এই প্রথম ঢাকা সফরেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি ২৫ বছর মেয়াদী দীর্ঘ মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তিটিতে শেখ মুজিবুর রহমান ও ইন্দিরা গান্ধী সই করেন মিসেস গান্ধীর ঢাকা সফরের তৃতীয় দিনে।
 
উৎস: বিবিসি 
২১.
আসাদ গেট কোন স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত হয়?
  1. ক) ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
  2. খ) ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান
  3. গ) ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন
  4. ঘ) ১৯৬৬ সালের ছয় দফা
ব্যাখ্যা
- আসাদ, শহীদ (১৯৪২-১৯৬৯)  উনিশশত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এর শহীদ ছাত্রনেতা। 
- আসাদুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। 
- তিনি ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম কমিটির ১১ দফা আদায়ের মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- তাঁর মৃত্যু ঊনসত্তরের ছাত্র-গণআন্দোলনের গোটা অবয়বকেই পাল্টে দেয় এবং তা আইয়ুব খানের শাসন ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
- এভাবে ‘আইয়ুব গেট’ হয়ে যায় ‘আসাদ গেট’, ‘আইয়ুব এভিনিউ’ নামান্তরিত হয়ে হয় ‘আসাদ এভিনিউ’। তখন থেকে আসাদের নাম হয়ে ওঠে নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
২২.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকুস) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়—
  1. ক) ১৯৯০ খ্রিঃ
  2. খ) ১৯৯২ খ্রিঃ
  3. গ) ১৯৮৯ খ্রিঃ
  4. ঘ) ১৯৯৩ খ্রিঃ
ব্যাখ্যা
- ৬ জুন, ১৯৯০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- ছাত্র আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরশাদ বিরোধী রাজনৈতিক তৎপরতা অধিক জোরদার হয়ে ওঠে। 
- ডাকসু নির্বাচনে সরকার বিরোধী সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। 
- ফলে এরশাদ বিরোধী ছাত্র আন্দোলন আরো সংগঠিত হওয়ার সুযোগ লাভ করে ।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচ.এস.সি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২৩.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ঢাকা জেলা কোন সেক্টরের অধীন ছিল?
  1. ক) সেক্টর - ৬
  2. খ) সেক্টর - ৫
  3. গ) সেক্টর - ২
  4. ঘ) সেক্টর - ৪
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১০-১৭ জুলাই কলকাতায় তাজউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত যুদ্ধাঞ্চলের অধিনায়কদের সম্মেলনে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- প্রত্যেক সেক্টরে একজন করে সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়। ১১টি সেক্টরকে ৬৪টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
এগারোটি সেক্টর হলো:
১ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর জিয়াউর রহমান এবং মেজর রফিকুল ইসলাম
২ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশবিশেষ
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর খালেদ মোশাররফ এবং মেজর এ.টি.এম হায়দার
৩ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান
৪ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত
৫ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর মীর শওকত আলী
৬ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা
- সেক্টর কমান্ডার : উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার
৭ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর নাজমুল হক এবং সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান
৮ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং মেজর এম.এ মঞ্জুর
৯ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর এম. এ জলিল এবং মেজর এম. এ মঞ্জুর
১০ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : সমুদ্র ও নৌ অঞ্চল
- সেক্টর কমান্ডার : নিয়মিত কোন সেক্টর কমান্ডার ছিলো না
১১ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর এম. আবু তাহের এবং স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহ

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
২৪.
বাংলাদেশের প্রথম প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. ক) লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
  2. খ) জে. আতাউল গণি ওসমানি
  3. গ) লে. জে. এইচ. এম. এরশাদ
  4. ঘ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
ব্যাখ্যা
- জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন।
- মুক্তিবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ছিলেন লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।
 
আতাউল গণি ওসমানী ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। 
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন। স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সালের ২৬ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর জেনারেল পদে উন্নীত হন এবং তাঁর এ পদোন্নতি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়।

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তিনি অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশর মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। 


উৎসঃ বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী
২৫.
কার অধীনে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ক) লতিফুর রহমান
  2. খ) শাহাবুদ্দিন আহম্মদ
  3. গ) হাবিবুর রহমান
  4. ঘ) ইয়াজউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
- ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গৃহিত হয়। এর অধীনে ৩০ মার্চ বিচারপতি হাবিবুর রহমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান।
- তার অধীনে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন একটি সর্বজন গ্রাহ্য সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। 
- সর্বমোট ৮১টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। 
- এই নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক ৭৩.৬১ ভাগ ভোটার ভোটাধিকার প্রদান করেন। 
- মোট নির্বাচক ছিল ৫,৬৭,১৬,৯৩৫ জন।
 
 - ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাদ দেওয়া হয়।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৬.
বঙ্গবন্ধুর সরকার কতজন মুক্তিযােদ্ধাকে 'বীর বিক্রম' খেতাবে ভূষিত করে?
  1. ক) ১৭৫ জন
  2. খ) ১৭৪ জন
  3. গ) ১৭৬ জন
  4. ঘ) ১৭২ জন
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়:
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন
- বীর উত্তম - ৬৮ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৬ জন

তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম) [সেনাবাহিনী]
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)

∴ বর্তমানে (২০২১) মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন

তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
২৭.
১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত কতজন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন?
  1. ক) ৩ জন
  2. খ) ৫ জন
  3. গ) ২ জন
  4. ঘ) ৮ জন
ব্যাখ্যা
১৯৭১ -১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ৮ জন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করেন :
   
          রাষ্ট্রপতিগণ       -       মেয়াদকাল 
১.  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান   -  (২৬-০৩-১৯৭১  -  ১২-০১-১৯৭২)
২.  সৈয়দ নজরুল ইসলাম(অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি) -  (২৬-০৩-১৯৭১  -  ১০-০১-১৯৭২)    
৩. বিচারপতি আবু সাঈদ চৈধুরী  - (১২-০১-১৯৭২ -  ১৭-১২-১৯৭২)
     বিচারপতি আবু সাঈদ চৈধুরী   - (১৭-১২-১৯৭২  -  ১০-০৪-১৯৭৩)    
     বিচারপতি আবু সাঈদ চৈধুরী  -  (১০-০৪-১৯৭৩  -  ২৪-১২-১৯৭৩)   
৪.  স্পীকার জনাব মুহম্মদুল্লাহ্‌(রাষ্ট্রপতির দায়িত্বপ্রাপ্ত)  -  (২৪-১২-১৯৭৩  -  ২৭-০১-১৯৭৪)    
৫.  জনাব মুহম্মদুল্লাহ্‌   (২৭-০১-১৯৭৪  -  ২৫-০১-১৯৭৫)  
৬.  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান -  (২৫-০১-১৯৭৫ - ১৫-০৮-১৯৭৫)    
৭.   খন্দকার মোশ্‌তাক আহ্‌মাদ  - (১৫-০৮-১৯৭৫  - ০৬-১১-১৯৭৫)   
৮.   বিচারপতি জনাব আবুসাদাত মোহাম্মদ সায়েম  - (০৬-১১-১৯৭৫ - ২১-০৪-১৯৭৭)
 
উৎস: রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এর ওয়েবসাইট
২৮.
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন নূর হোসেন শহীদ হন কবে?
  1. ক) ১০ নভেম্বর, ১৯৮৮
  2. খ) ১০ নভেম্বর, ১৯৮৭
  3. গ) ১০ নভেম্বর, ১৯৯০
  4. ঘ) ১০ নভেম্বর, ১৯৮৯
ব্যাখ্যা
- নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর পুলিশের গুলিতে ঢাকার জিরো পয়েন্টে নূর হোসেন মারা যান। এ সময় তার গায়ে সাদা রঙ দিয়ে লেখা ছিলো ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র ‍মুক্তি পাক’।
- নূর হোসেন ব্যতীত নাজিউর রহমান জেহাদ এবং ডা. শামসুল আলম মিলন নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে মারা যান।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
২৯.
মুক্তিযুদ্ধে কোন বীরশ্রেষ্ঠ আগস্ট মাসে শহীদ হন?
  1. ক) সিপাহী হামিদুর রহমান
  2. খ) ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ
  3. গ) ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান
  4. ঘ) ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমিন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠদের শাহাদাতের তারিখ:
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ৮ এপ্রিল ১৯৭১
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : ১৮ এপ্রিল ১৯৭১
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : ২০ আগস্ট ১৯৭১
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭১
- সিপাহী হামিদুর রহমান : ২৮ অক্টোবর ১৯৭১
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমিন : ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১।

(তথ্যসূত্র: প্রথম আলো এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়)
৩০.
জাতীয় স্মৃতিসৌধের ফলকসংখ্যা স্বাধীনতা সংগ্রামের কয়টি ঐতিহাসিক পর্যায়কে নির্দেশ করছে?
  1. ক) ৫টি
  2. খ) ৭টি
  3. গ) ৬টি
  4. ঘ) ৮টি
ব্যাখ্যা
সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিসৌধ "সম্মিলিত প্রয়াস" নামে পরিচিত। এটির স্থপতি সৈয়দ মইনুল হোসেন।
১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় স্মৃতিসৌধের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। তবে মূল সৌধের নির্মাণ শুরু হয় ১৯৭৮ সালে। 
১৯৮২ সালের ১৬ ডিস্বেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এটি উদ্বোধন করা হয়।

এই জাতীয় স্মৃতিসৌধের ফলক সাতটি। স্বাধীনতা আন্দোলনের সাতটি ঐতিহাসিক পর্যায়ের জন্য স্মৃতিসৌধে ফলক সংখ্যা ৭টি রাখা হয়েছে।
পর্যায় গুলো হলো-
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন;
- ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন;
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র আন্দোলন; (অনেকেই, ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনকেও বলে থাকেন।)
- ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন;
- ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন;
- ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং
- ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ।

উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বাংলাপিডিয়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট। 
৩১.
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বপ্রথম কততম কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন?
  1. ক) একাদশ
  2. খ) দশম
  3. গ) ত্রয়োদশ
  4. ঘ) ষষ্ঠ
ব্যাখ্যা
আওয়ামী লীগের সভাপতিবৃন্দ : 
- আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সেল (সিআরআই) সূত্রে জানা যায়, দলের প্রথম সভাপতি ছিলেন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। তিনি ১৯৪৯ থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত চারটি কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হন। 
 
এরপর ওই বছর একটি বিশেষ কাউন্সিলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ। ১৯৬৪ সালে দলের পঞ্চম কাউন্সিলে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। সভাপতি পদে ছিলেন ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত। 
 
ওই বছর ষষ্ঠ কাউন্সিলে দলের সভাপতি হন শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত সভাপতি পদে ছিলেন। 
 
১৯৭৪ সালে দশম কাউন্সিলে সভাপতি হন এ এইচ এম কামরুজ্জামান। ১৯৭৫ সালে ঘাতকের গুলিতে কেন্দ্রীয় কারাগারে নিহত হন তিনি। 
এরপর ১৯৭৮ সালে কাউন্সিলে সভাপতি হন আবদুল মালেক। তিনি ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ছিলেন। 
 
১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে দলের সভাপতি পদে আছেন শেখ হাসিনা। দলের ১৩তম কাউন্সিলে তিনি প্রথম সভাপতি হন। সর্বশেষ ২০তম কাউন্সিলেও তিনি একই পদে নির্বাচিত হয়েছেন।
 
বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর ৬ বছর পর নির্বাসিত জীবন শেষ করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশে ফিরে আসেন।
- তার আগেই ১৯৮১ সালের ১৪ - ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দলীয় কাউন্সিলে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
 
উৎস: প্রথম আলো, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট।
৩২.
৩ নভেম্বর ১৯৭৫ এর অভ্যূত্থানে কে নেতৃত্ব দেন?
  1. ক) মেজর ডালিম
  2. খ) খালেদ মোশাররফ
  3. গ) জিয়াউর রহমান
  4. ঘ) কর্ণেল তাহের
ব্যাখ্যা
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট দৃশ্যত কতিপয় বিপদগামী সামরিক কর্মকর্তাদের ঘৃন্য ষড়যন্ত্র ও অংশগ্রহণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। 
- এ নারকীয় হত্যাযজ্ঞ বাংলাদেশের রাজনীতিকেও এক অন্ধকারে নিমজ্জিত করে। 
- দেশের শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় সামরিক বাহিনী। 
- অভ্যূত্থানকারীরা খন্দকার মোশতাক আহমদকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করে এবং ১৫ আগস্টই ২২ সদস্যের মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেন। 
- ৩ নভেম্বর ১৯৭৫ তারিখে ১৫ই আগস্টের অভ্যূত্থানকারীদের বিরুদ্ধে একটি সেনা অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এই সেনা অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফ। 
- কিন্তু খালেদ মোশাররফও বেশি দিন স্থায়ী হতে পারেন নি। 
- মাত্র ৩ দিন পর অর্থাৎ ৭ নভেম্বর সংঘটিত পাল্টা অভ্যুত্থানে প্রাণ হারান খালেদ মোশাররফ। 
- এই ধারাবাহিকতায় ক্ষমতার দখল নিয়ে নেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। 
- তিনি বিচারপতি আবু সাদাত সায়েমকে সামনে রেখে ক্ষমতা সুসংহত করার জন্য নানা ধরনের উদ্যোগ নেন। 
- জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সামরিক শাসন পরিচালনা করেন। 
- পরবর্তী সময়ে তিনি তাঁর বৈধতার সঙ্কট অতিক্রমের জন্য নির্বাচন, দল গঠনসহ নানা কর্মকান্ড শুরু করেন। 
- ১৯৮১ সালের ৩০ মে সংঘটিত সেনা অভ্যুত্থানে প্রাণ হারান জিয়াউর রহমান।
 
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩৩.
ডা. শামসুল আলম মিলন কোন আন্দোলনে শহীদ হন?
  1. ক) উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  2. খ) ভাষা আন্দোলন
  3. গ) নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে
  4. ঘ) অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা ও সরকারের নিঃশর্ত পদত্যাগের দাবি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছলে এরশাদ সরকার বিচলিত বোধ করে বটে; কিন্তু ক্ষমতায় টিকে থাকার মানসে স্বৈরাচারী মনোভাব প্রদর্শন করে।
- স্বৈরাচারী এরশাদ যত দিন ক্ষমতায় (১৯৮২-৯০) ছিলেন সেই পুরো সময়টাই দেশের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে আন্দোলন-সংগ্রাম চলেছে। ১৯৯০ সালে এই আন্দোলন গণ-অভ্যুত্থানের রূপ পায়।
১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশনের (বি.এম.এ)-এর নেতা ডা. শামসুল আলম মিলন আঁততায়ীর গুলিতে নিহত হলে সারা দেশ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। 
- পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সরকার দেশে জরুরি অবস্থা ও কারফিউ জারি করে। কিন্তু এতে জনগণের বিক্ষোভ ও আন্দোলন দমন করা আর সম্ভবপর হয়নি।
 
উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, কালের কণ্ঠ।