পরীক্ষা আর্কাইভ

GKpedia - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

পরীক্ষাGKpedia - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes১৪ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন১৫
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১ টপিক: বৈশ্বিক ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) প্রস্তর যুগ · ধাতুরযুগ, নৃগোষ্ঠী - ককেশীয়, মঙ্গোলীয়, নিগোয়েড ও অস্ট্রেলীয় । সভ্যতা, মেসোপটেমিয়া সভ্যতা (সুমেরীয়, ব্যাবিলনীয়, অ্যাসেরীয় ও ক্যালডীয়) এবং মিশরীয় সভ্যতা, সিন্ধু সভ্যতা ফিনিশীয় সভ্যতা, পারস্য সভ্যতা, হিব্রু সভ্যতা। প্রাচীন যুগ (বাকী অংশ) চৈনিক সভ্যতা, ইজিয়ান সভ্যতা, গ্রীক সভ্যতা, রোমান সভ্যতা। [Live Class - 1 & 2]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

GKpedia - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

GKpedia - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৫ প্রশ্ন

.
বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা মেসোপটেমীয়ার বেশিরভাগ অঞ্চল বর্তমানে কোথায় অবস্থিত? 
  1. ইরানে
  2. ইরাকে
  3. গ্রিসে
  4. ইতালিতে
সঠিক উত্তর:
ইরাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরাকে
ব্যাখ্যা
মেসোপটেমিয়া সভ্যতা (Mesopotamian Civilization):
- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা মেসোপটেমিয়া সভ্যতা।
- ‘মেসোপটেমিয়া' একটি গ্রিক শব্দ যার অর্থ দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি৷ টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী উপত্যকাটির নাম মেসোপটেমিয়া।
- মেসোপটেমিয়া দুই ভাগে বিভক্ত ছিলো: উত্তর ও দক্ষিণ। উত্তর অংশের বর্তমান নাম অ্যাসেরীয়। দক্ষিণ অংশের নাম মেসোপটেমিয়া।

⇒ বর্তমান ইরাক রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যেই প্রাচীন মেসোপটেমীয়ার বেশিরভাগ অঞ্চল অবস্থিত।
- এছাড়াও সিরিয়া, তুরস্ক, ইরান ও কুয়েতে এই সভ্যতার কিছু অংশ রয়েছে।
- মেসোপটেমিয়ার লোকজন বহুঈশ্বরবাদে বিশ্বাসী ছিলো।

উৎস: i) History.com
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
কোন সভ্যতায় সর্বপ্রথম জ্যামিতি আলোচনা শুরু হয়?
  1. মেসোপটেমীয় সভ্যতা 
  2. চীন সভ্যতা
  3. গ্রিক সভ্যতা
  4. মিশরীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
মিশরীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতার অবদান: 
- মিশরীয় সভ্যতা ছিল কৃষিনির্ভর। সে কারণে নীল নদের প্লাবন, নাব্যতা, পানি প্রবাহের মাপ জোয়ারভাটা ইত্যাদি ছাড়াও জমির মাপ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।
- এসবের সঙ্গে জ্যোতিষশাস্ত্র ও অংক শাস্ত্রের ছিল গভীর যোগাযোগ। ফলে এ দুটি বিদ্যা তারা আয়ত্ত করেছিল প্রয়োজনের তাগিদে।
- তারা অংক শাস্ত্রের দুটি শাখা- জ্যামিতি এবং পাটিগণিতের প্রচলন করে।
- মিশরীয় সভ্যতার মানুষ যোগ, বিয়োগ ও ভাগের ব্যবহার জানত।

এছাড়াও,
- খ্রিস্টপূর্ব ৪২০০ অব্দে তারা পৃথিবীতে প্রথম সৌর পঞ্জিকা আবিষ্কার করে। ৩৬৫ দিনে বছর এ হিসাবের আবিষ্কারকও তারা।
- প্রাচীন মিশরের অধিবাসীরা সময় নির্ধারণের জন্য সূর্য ঘড়ি, ছায়াঘড়ি, জলঘড়ি আবিষ্কার করে।
- চিকিৎসা শাস্ত্রে মিশরীয়রাই সর্বপ্রথম ‘মেটেরিয়া মেডিকা' বা ঔষুধের তালিকা প্রণয়নে সক্ষম হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
পৃথিবীর প্রথম আইন সংকলন কোন সভ্যতার?
  1. পারস্য সভ্যতা
  2. হিব্রু সভ্যতা
  3. সুমেরীয় সভ্যতা
  4. অ্যাজটেক সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
সুমেরীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুমেরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
সুমেরীয় আইন:
- সুশৃঙ্খল জীবন পরিচালনার জন্য সুমেরীয়গণ একটা আইনের কাঠামো গড়ে তোলে।
- প্রাচীন সুমেরীয় সম্রাট 'ডুঙ্গি' এ আইন তৈরি করেন।
- তাদের আইন ছিল খুব কঠোর। চোখের বদলে চোখ, দাঁতের বদলে দাঁত ও অঙ্গের পরিবর্তে অঙ্গ কর্তন ছিল আইনের বিধান।

উল্লেখ্য,
⇒ ডুঙ্গির আইন
- পৃথিবীর প্রথম আইন সংকলন
- এই আইন ছিল প্রতিশোধমূলক।
- পরবর্তী অনেক সভ্যতা এই আইন অনুসরণ করে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন সভ্যতায় বাটখারা ব্যবহার শুরু করে?
  1. সিন্ধু সভ্যতা
  2. হিব্রু সভ্যতা
  3. ক্যালডীয় সভ্যতা
  4. চৈনিক সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু সভ্যতা
ব্যাখ্যা
সিন্ধু সভ্যতা:
- সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল বলে এই সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা।

⇒ সিন্ধু সভ্যতায় পরিমাপ পদ্ধতি:
- সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসিরা দ্রব্যের ওজন ও পরিমাপ পদ্ধতির উদ্ভাবক ছিল।
- তাদের এই পরিমাপ পদ্ধতির আবিষ্কার সভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান বলে বিবেচিত।
- তারা বিভিন্ন দ্রব্য ওজনের জন্য নানা মাপের ভিন্ন ভিন্ন আকৃতির বাটখারা ব্যবহার করত।
- দাগ কাটা স্কেল দিয়ে দৈর্ঘ্য মাপার পদ্ধতিও তাদের জানা ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
‘বার বিধি’ (The Twelve Tables) কী?
  1. রোমান আইনের ভিত্তি
  2. গ্রিক আইনের ভিত্তি
  3. স্থাপত্যের ১২টি নিদর্শন
  4. মিশরীয় বারো জন ফারাও
সঠিক উত্তর:
রোমান আইনের ভিত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান আইনের ভিত্তি
ব্যাখ্যা
রোমান সভ্যতা:
- ইতালিতে টাইবার নদীর তীরে একটি বিশাল সম্রাজ্য ও সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- রােমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সভ্যতা রােমান সভ্যতা নামে পরিচিত।
- রােমান সভ্যতা প্রায় ছয়শ’ বছর স্থায়ী হয়েছিল।
- ৭৫৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে রোম নগরী প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দে জার্মান বর্বর জাতিগুলোর হাতে রোমান সম্রাজ্যের চূড়ান্ত পতন হয়।

⇒ খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০ অব্দে সর্বপ্রথম লিখিত রোমান আইন প্রচলিত হয়।
- ইতিহাসের পাতায় 'Twelve Tables বা বারো বিধি' নামে পরিচিত সেই আইনের মাধ্যমে রোমে এক নতুন যুগের সূচনা হয়।
- প্রায় বারটি ধাপে রোমের সকল নাগরিকের অধিকারের নিশ্চয়তা নিয়ে প্রণীত সেই বারো টেবিল আইনটি আজও ইতিহাসবিদগণের নিকট এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিগণিত হয়।

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
কোন সভ্যতায় প্রথম লৌহের ব্যবহার শুরু হয়?
  1. হিট্টাইট
  2. হেলেনেস্টিক
  3. ইনকা
  4. ইজিয়ান
সঠিক উত্তর:
হিট্টাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিট্টাইট
ব্যাখ্যা
লৌহযুগ:
- সাধারণ মানুষ তাদের দৈনন্দিন নানা প্রয়োজনে লৌহ নির্মিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে শুরু করে।
- এভাবেই লৌহযুগ নামে নতুন এক সভ্যতার বিকাশ লাভ ঘটে।
- এশিয়া মাইনরে হিট্টাইটরা (Hittites) প্রথম লোহার আবিষ্কার ও এর ব্যবহার শুরু করে।

 খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে মধ্যপ্রাচ্যে লোহার ব্যবহার শুরু হয়।
- লৌহযুগে বর্ণমালাভিত্তিক লিখন পদ্ধতির প্রচলন শুরু হয়।
- ব্যবসাবাণিজ্য ও মুদ্রা-অর্থনীতি ব্যাপকতা লাভ করে।
- জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে শুরু হওয়ার ফলে যাতায়াতব্যবস্থা সহজ হয়।
- এর ফলে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আর্থ- সামাজিক ও সাংস্কৃতিক লেনদেন ও ভাবের আদান-প্রদান বৃদ্ধি পায়।
- গৃহনির্মাণ, বিভিন্ন ধরনের গৃহসামগ্রী, আসবাবপত্র, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কুঠার, লাঙলের ফলা, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে লোহার ব্যবহারের মাধ্যমে সভ্যতার দ্রুত উত্থান ঘটে।
- লৌহযুগে গ্রিসে এক উন্নত গণতান্ত্রিক নগরসভ্যতার বিকাশ ঘটে।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
‘মাচু পিচু’ কোন সভ্যতার নিদর্শন?
  1. মায়া
  2. ইনকা
  3. অ্যাসিরিয়ান
  4. ফিনিশীয়
সঠিক উত্তর:
ইনকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইনকা
ব্যাখ্যা
মাচু পিচু:
- ইনকা সভ্যতার অন্যতম নির্দশন মাচু পিচু।
- মাচু পিচু পেরুতে অবস্থিত।

উল্লেখ্য
- ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, মাচু পিচু ১৪৪০ কিংবা ১৪৫০ সালে নির্মাণ করা হয়েছে।
- যেসব 'ইনকা' এই প্রাচীন শহরটি প্রতিষ্ঠা করেছিল, তারা আসলে শহরটিকে 'হুয়ানা পিচু' নামে ডাকতো।
- পরবর্তীতে স্প্যানিশরা ইনকা সাম্রাজ্য দখল করে নিলে হুয়ানা পিচু পরিত্যক্ত হয়ে যায়।
- ১৯১১ সালে আমেরিকান প্রত্নতত্ত্ববিদ হিরাম বিংহাম এটি পুনরায় আবিষ্কার করেন।
- মাচু পিচুকে ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

উৎস: i) UNESCO.
ii) Britannica.
.
হোমারের মহাকাব্যের নাম কী?
  1. ইডিপাস
  2. ইনিট
  3. ইলিয়াড
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ইলিয়াড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলিয়াড
ব্যাখ্যা
হোমারের মহাকাব্য:
- গ্রিক সভ্যতার ক্রমবিকাশে আদিকালকে 'হোমারিক যুগ' বলা হয়। গ্রিক কবি হোমারের নাম থেকে এ যুগের নামকরণ করা হয়। খ্রিস্টপূর্ব ১২০০ থেকে ৮০০ অব্দ পর্যন্ত এই যুগের বিস্তৃতি।
- বিখ্যাত কবি হোমার 'ইলিয়ড' এবং 'ওডিসি' নামে দুটি মহাকাব্য রচনা করেন।
- তার রচনাবলী থেকে গ্রিক ইতিহাস, ভূগোল, সাহিত্য, লোক ঐতিহ্যের সন্ধান পাওয়া যায়।

⇒ ঐতিহাসিকদের মতে হোমার ছিলেন একজন অন্ধ কবি।
- হোমারের মহাকাব্যের নাম ইলিয়াড (Iliad) এবং ওডিসি (Odyssey)।

• ইলিয়াড: এটি ট্রয়ের যুদ্ধের পটভূমিতে রচিত একটি মহাকাব্য, যেখানে হেলেনের অপহরণ এবং ট্রয় শহরের বিরুদ্ধে গ্রিসের যুদ্ধের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।

• ওডিসি: এটি ট্রয়ের যুদ্ধের পর, গ্রিক নায়ক উলিসিসের বাড়ি ফেরার কাহিনী নিয়ে রচিত। এটি এক সাহসী অভিযানের গল্প, যেখানে উলিসিস বিভিন্ন বিপদ ও ভয়ংকর সত্ত্বার মুখোমুখি হয়।

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
.
প্রাচীন ঐতিহাসিক নগরী 'ব্যাবিলন' কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. ফোরাত
  2. ইউফ্রেটিস
  3. নীলনদ
  4. ইজিয়ান সাগর
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) ফোরাত ও খ) ইউফ্রেটিস। 
অপশনে দ্বৈত উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো। 
------------------------------------ 

ব্যাবিলনীয় সভ্যতার অবস্থান ও সময়কাল:
- মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে গড়ে ওঠা সভ্যতা- ব্যাবিলনীয় সভ্যতার জনক ছিলো সেমিটিক জাতি।
- এরা এক সময় মেসোপটেমিয়ায় এসে নগর সভ্যতা গড়ে তোলে।
- এ ব্যাবিলনীয় সভ্যতা গড়ে তোলে এ্যামোরাইট নামক সেমিটিক জাতি।
- প্রকৃত পক্ষে সুমেরীয় রাজা ডুঙির মৃত্যুর পর পরই সুমেরীয় সভ্যতার পতন ঘটে।
- সুমেরীয় সভ্যতার ধ্বংসস্তূপের ওপর গড়ে ওঠে ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্য বা সভ্যতা।
- অ্যামোরাইটরা খ্রিস্টপূর্ব ১৮৯৪ অব্দে মেসোপটেমিয়ার সুমের ও আক্কাদ নগরীর মাঝামাঝি অবস্থিত ব্যাবিলন নামক স্থানে একটি সভ্যতা গড়ে তোলে। 
- আমোরাইট নেতা হাম্মুরাবী ছিলেন ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা।

উল্লেখ্য,
- ব্যাবিলন শব্দটির অর্থ দেবতার নগরী।
- টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর দুটি যেখানে সবচেয়ে কাছাকাছি এসেছে, সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে এই নগরী।
- ব্যাবিলনীয় সভ্যতার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন প্রথম সারগন।
- এই সভ্যতার ঘরবাড়ি রোদে শুকানো ইট দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল।

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১০.
কোন যুগে মানুষ খাদ্য সংগ্রহ থেকে খাদ্য উৎপাদনে পর্যায়ক্রমে মন দিয়েছিল?
  1. ধাতব যুগ
  2. নব্য প্রস্তর যুগ
  3. মধ্য প্রস্তর যুগ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নব্য প্রস্তর যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নব্য প্রস্তর যুগ
ব্যাখ্যা
নব্যপ্রস্তর যুগ (Neolithic Age):
- বিখ্যাত ইংরেজ প্রত্নতত্ত্ববিদ Sir John Lubbock ১৮৬৫ সালে প্রথম Neolithic শব্দটি ব্যবহার করেন।
- আনুমানিক ৮০০০-৩৫০০ খ্রিস্টপূর্ব অব্দের মধ্যে ও নিকট প্রাচ্যে নব্য প্রস্তরযুগের প্রথম বিকাশ ঘটে।
- অতঃপর ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল এবং অবশেষে খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ অব্দে ইংল্যান্ডে এ যুগের সূচনা হয়।
- বিখ্যাত ইংরেজ ঐতিহাসিক গর্ডন চাইল্ড (Gordon Childe) খাদ্য-আহরণ পর্যায় থেকে খাদ্য উৎপাদনের জন্য কৃষিকাজে উত্তরণকে নব্য প্রস্তরযুগের বিপ্লব হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। 

কৃষিকাজের মাধ্যমে নব্য প্রস্তরযুগের মানুষেরা খাদ্য-উৎপাদনমুখী এক সৃজনশীল যুগের সূচনা করে।
- প্রকৃতপক্ষে কৃষিকাজের সূচনা করাই ছিল প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানব সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উদ্ভাবন।
- শিকার ও সংগ্রহভিত্তিক অনিশ্চিত অর্থনীতি থেকে মানুষ খাদ্য উৎপাদনের নিরাপদ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেল খাদ্যের নিশ্চয়তা মানুষের সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। 

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
রেনেসাঁ যুগের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. শিল্পকলা
  2. যুক্তিবাদ
  3. পুঁজিবাদ
  4. মানবধর্ম
সঠিক উত্তর:
পুঁজিবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুঁজিবাদ
ব্যাখ্যা
পুঁজিবাদ রেনেসাঁ যুগের বৈশিষ্ট্য নয়। 

রেনেসাঁ:

- ইংরেজি 'রেনেসাঁ' Renaissance) শব্দের অর্থ নবজাগরণ বা পুনর্জন্ম।
- ধর্মভাবনা নিয়ন্ত্রিত ও সামন্ততান্ত্রিক মধ্যযুগীয় দীর্ঘ বদ্ধ দশা থেকে মুক্ত হয়ে নতুনভাবে জীবনের সবকিছুকে জানার জন্য মানব মনের যে আগ্রহ তারই পরিণতি স্বরূপ যে নবজীবনবাদের সূচনা, তাকেই সাধারণভাবে রেনেসাঁ বা নবজাগরণ নামে আখ্যায়িত করা হয়।

⇒ রেনেসাঁ যুগের বৈশিষ্ট্য:
- মানবতাবাদ: রেনেসা দর্শনের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল মানবতাবাদ। মানবতাবাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল ধ্রুপদী সাহিত্য চর্চা। সে সময়ের মানবতাবাদ (Humanism)-কে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: i. পেত্রার্কের পুনর্জন্মবাদ, ii. পৌর মানবতাবাদ ও iii. নতুন ধাতুত্ববাদ।

- ব্যক্তিত্বের বিকাশ: রেনেসাঁর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল ব্যক্তিত্বের বিকাশ। এ বিকাশ শিল্পকলা, সাহিত্যসহ সর্বক্ষেত্রে লক্ষণীয়। 

- যুক্তিবাদী মানসিকতার উদ্ভব: রেনেসাঁর উদ্ভব হয়েছিল মানুষের যুক্তিবাদী মানসিকতা ও ধ্যানধারণা থেকে। তখন ইউরোপে যেকোন বিষয়ে যুক্তিবাদী আলোচনার সূচনা হয়। সে সময় মানুষ মধ্যযুগীয় ধ্যানধারণাকে যুক্তির আলোচনায় যাচাই করতে শুরু করে এবং এরফলে অনেক তত্ত্বই ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়।

- ধর্মনিরপেক্ষতা: রেনেসাঁর সর্বপ্রধান ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা এবং এটাই ছিল রেনেসাঁর মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। 

- ধর্মনিরপেক্ষ ও জীবনমুখী সাহিত্য: রেনেসাঁর সময় ইউরোপে যেসব সাহিত্য রচিত হয়েছিল তার প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা ও জীবনমুখিতা। 

- চিত্রকলা: ধর্মীয় বিষয়াদির পাশাপাশি প্রকৃতি, মানুষ, বাস্তবতা প্রভৃতি চিত্রকলায় স্থান পায়। চিত্রকলা নিয়মগতভাবেও পরিবর্তিত হয়। আলো ছায়া, মানবদেহের সঠিক সংস্থাপন প্রভৃতি চিত্রকলায় প্রতিফলিত হয়। এ সময়কার প্রখ্যাত চিত্রশিল্পীরা হলেন মাসা কেকা, লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি, রাফেল, মাইকেল অ্যাঞ্জেলা, টাইটিয়ান প্রমুখ। এছাড়া ভাস্কর্যে দোনাতোল্লা, অ্যাঞ্জেলা এবং স্থাপত্য ব্রামান্ডে নতুনত্ব নিয়ে আসেন।

- বিজ্ঞানের চর্চা: এ সময়কার গবেষকরা প্রকৃতির রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করেন। আর এক্ষেত্রে কোপার্নিকাস, গ্যালিলিও, কেল্লার, টলেমি প্রমুখ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। 

উৎস: i) আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
১২.
চীনের কোন রাজবংশের আমলে সিল্ক রোড গড়ে উঠেছিল?
  1. সং
  2. মিং
  3. চৌ
  4. হান
সঠিক উত্তর:
হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হান
ব্যাখ্যা
সিল্ক রোড:
- ‘সিল্ক রোড’ হলো চীনের চালু করা বাণিজ্য পথ।
- প্রাচীনকালে সিল্ক রোড বলতে চীনের সাথে পশ্চিমাঞ্চলের সংযোগ বোঝাতো। 
- চীন থেকে মধ্য এশিয়া হয়ে দক্ষিণ এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া তথা ইউরোপে আর উত্তর আফ্রিকায় চীনের রেশম আর রেশমী কাপড় পাঠানো হয়েছিল বলে এ পথ ‘সিল্ক রোড (Silk Road)’ বা ‘সিল্ক রুট (Silk Rute)’ নামে সুপরিচিত ।
- সিল্ক রোড গড়ে উঠেছিল খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতকে চীনের হান রাজবংশের আমলে।

⇒ সিল্ক রোড চীনের সিল্ক, মশলা, মূল্যবান রত্ন এবং অন্যান্য পণ্য পশ্চিমে পৌঁছানোর প্রধান পথ ছিল।
- এটি দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, এবং ইউরোপের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছিল।

উল্লেখ্য,
- দশম শতাব্দীতে চীনের সং রাজবংশের আমলে 'সিল্ক রোড' বাণিজ্যের মাল পরিবহনের পথ হিসেবে ব্যবহার বন্ধ হয়।

উৎস: Britannica.
১৩.
রোমান সভ্যতার স্থাপত্য নিদর্শন ‘কলোসিয়াম’ হলো -
  1. উপসনালয়
  2. বিশ্ববিদ্যালয়
  3. খেলার মাঠ
  4. নাট্যশালা
সঠিক উত্তর:
নাট্যশালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাট্যশালা
ব্যাখ্যা
কলোসিয়াম:
- রোমান সভ্যতার স্থাপত্য নিদর্শন ‘কলোসিয়াম’।
- কলোসিয়াম হচ্ছে রোমানদের তৈরি এক বিশাল অ্যাম্ফিথিয়েটার বা নাট্যশালা।
- কালোসিয়ামের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ৭২ খ্রিস্টাব্দে রোমান সম্রাট ভেসপেসিয়ান (Vespasian) এর শাসনামলে এবং তার পুত্র টিটাস (Titus) ৮০ খ্রিস্টাব্দে এটি সম্পূর্ণ করেন।
- পরে, সম্রাট ডমিশিয়ান (Domitian) কিছু সংস্কার কাজ করেন।
- এটি প্রায় ৫০,০০০ দর্শক ধারণক্ষম ছিল।
- ইউনেস্কো ১৯৯০ সালে কলোসিয়ামকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪.
'কোড অব হাম্মুরাবি' কোন সভ্যতার?
  1. ব্যাবিলনীয়
  2. অ্যাসিরীয়
  3. পারস্য
  4. গ্রিক
সঠিক উত্তর:
ব্যাবিলনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাবিলনীয়
ব্যাখ্যা
কোড অব হাম্মুরাবি:
- নগররাষ্ট্র ব্যাবিলন ছিল মেসোপটেমিয়ার কেন্দ্রবিন্দু।
- ১৭৬০ খ্রিষ্টপূর্ব বেশ কয়টি ধারাবাহিক যুদ্ধের পর ব্যাবিলনের শক্তিমান রাজা হাম্মুরাবি অন্য সব বিপক্ষ নগররাষ্ট্রগুলো গুঁড়িয়ে দেন।
- রাজা হাম্মুরাবি ১৭৯২ থেকে ১৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ব্যাবিলন শাসন করেন। 

⇒ ২৮২টি আইনের সমন্বয়ে তৈরি, পাথরে খোদাই করা এই কোডটি ব্যাবিলনের রাজা হাম্মুরাবি প্রাচীন মেসোপটেমিয়া শাসনের জন্য তৈরি করেছিলেন।
- তাঁর আইনগুলো ‘কোড অব হাম্মুরাবি’ নামে পরিচিত।
- এটি সবচেয়ে পুরোনো লিখিত আইন।
- আইনগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী কাদামাটিতে লিখে আগুনে পুড়িয়ে সংরক্ষণ করা হতো।
- বিষয় অনুসারে আইনগুলো নানা শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। যেমন পারিবারিক বিষয়, বাণিজ্য, ধর্ম ও দাসপ্রথা।
- জনসাধারণ যদিও পড়তে জানত না, তবু আইনভঙ্গকারীদের দাঁত উপড়ে নেওয়া বা শূলে চড়ানোর মতো শাস্তি ভোগ করতে হতো।

উৎস: i) History.com
ii) প্রথম আলো।
১৫.
মিশরীয় সভ্যতার চিত্রলিপিকে কী বলা হয়?
  1. ক্যালিওগ্লিফিক্স
  2. হায়ারোগ্লিফিক
  3. প্যাপিরাস
  4. ওডিসি
সঠিক উত্তর:
হায়ারোগ্লিফিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হায়ারোগ্লিফিক
ব্যাখ্যা
হায়ারোগ্লিফিক লিপি:
- নগরসভ্যতা গড়ে তোলার সাথে মিশরীয়রা প্রথম লিখন ও লিপি পদ্ধতি আবিষ্কার করে।
- এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল হায়ারোগ্লিফিক (Hieroglyphic) বা চিত্র লিখন পদ্ধতি।
- এটি গ্রীকদের দেয়া নাম যার অর্থ দাঁড়ায় 'পবিত্র লিপি'।
- তারা এমনি ২৪টি ব্যঞ্জনধ্বনি বা চিহ্ন আবিষ্কার করে।
- তারা প্যাপিরাসের পাতায় লিখত, ক্রীট, ফিনিশিয়া, লিভিয়া সভ্যতা এ লিপির ব্যবহার করে।
- অনেক ভাষাবিদের মতে, ফারাও রাজা মেনেসের রাজত্বকালে এই লিপির সূচনা হয়।

উৎস: i)  Britannica.
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।