পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স

পরীক্ষাব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্সতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৭
সিলেবাস
Exam - 76 Bangla : Topic: সন্ধি, সমাস, পদ-প্রকরণ, উপসর্গ, অনুসর্গ।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স · তারিখ অনির্ধারিত · ১৭ প্রশ্ন

.
কোনটি উপমিত কর্মধারয় সমাস নির্দেশ করে?
  1. সিংহাসন
  2. সিংহপুরুষ
  3. বিষাদসিন্ধু
  4. ক্রোধানল
ব্যাখ্যা
• উপমিত কর্মধারয়:
- সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে (এ ক্ষেত্রে সাধারণ গুণটিকে অনুমান করে নেওয়া হয়) এ সমাসে উপমেয় পদটি পূর্বে বসে।
যেমন:
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ।

অন্যদিকে,
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন; মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
- ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল; বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;রূপক কর্মধারয় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
'এ জন্মের তরে বিদায় নিলাম।' এই বাক্য 'তরে' কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ব্যাপ্তি অর্থে
  2. মধ্যে অর্থে
  3. সক্ষমতা অর্থে
  4. মত অর্থে
ব্যাখ্যা
'এ জন্মের তরে বিদায় নিলাম।' এই বাক্য 'তরে' মত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

এছাড়াও,
• অনুসর্গের প্রয়োগ:
- বিনা/বিনে: কর্তৃ কারকের সঙ্গে- তুমি বিনা (বিনে) আমার কে আছে?
- বিনি : করণ কারকের সঙ্গে- বিনি সুতায় গাঁথা মালা।
- বিহনে : উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ?

- সহ : সহগামিতা অর্থে-  তিনি পুত্রসহ উপস্থিত হলেন।
- সহিত : সমসূত্রে অর্থে-  শত্রুর সহিত সন্ধি চাই না।
- সনে: বিরুদ্ধগামিতা অর্থে-  'দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে।'
- সঙ্গে : তুলনায়-  মায়ের সঙ্গে এ মেয়ের তুলনা হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
নিচের কোনটি সংস্কৃত উপসর্গ?
  1. উৎ
  2. ইতি
  3. অনা
ব্যাখ্যা
• 'উৎ' একটি সংস্কৃত উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
'পরিচ্ছদ' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ-
  1. পরি + চ্ছদ
  2. পরিঃ + চ্ছদ
  3. পরি + ছদ
  4. পরিঃ + ছদ
ব্যাখ্যা
• 'পরিচ্ছদ' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ- পরি + ছদ।

• সূত্র:
• স্বরধ্বনির পর ছ থাকলে উক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিটি দ্বিত্ব (চ্ছ) হয়। যথা-
- অ + ছ = চ্ছ; এক + ছত্র = একচ্ছত্র।
- আ+ ছ = চ্ছ; কথা + ছলে = কথাচ্ছলে।
- ই+ছ = চ্ছ; পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।
এরূপ মুখচ্ছবি, বিচ্ছেদ, পরিচ্ছেদ, বিচ্ছিন্ন, অঙ্গচ্ছেদ, আলোকচ্ছটা, প্রতিচ্ছবি, প্রচ্ছদ, আচ্ছাদন, বৃক্ষচ্ছায়া, স্বচ্ছন্দে, অনুচ্ছেদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
'বিপদাপন্ন' কোন সমাস?
  1. ২য়া তৎপুরুষ
  2. ৩য়া তৎপুরুষ
  3. ৫মী তৎপুরুষ
  4. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।
- ব্যাপ্তি অর্থেও দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন:
- চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী - চিরসুখী।
- এরকম: গা-ঢাকা, রথদেখা, বীজবোনা, ভাতরাঁধা, ছেলে-ভুলানো (ছড়া), নভেল-পড়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
উপসর্গ সম্পর্কে কোনটি ভুল?
  1. উপসর্গের প্রভাবে শব্দটির কোনো পরিবর্তন হয় না।
  2. উপসর্গ স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না।
  3. অন্য শব্দের আগে বসে।
  4. উপসর্গের প্রভাবে শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে।
ব্যাখ্যা
• উপসর্গের প্রভাবে শব্দটির কোনো পরিবর্তন হয় না। এই তথ্যটি ভুল।

• উপসর্গ:

- বাংলা ভাষায় এমন কতগুলো অব্যয়সূচক শব্দাংশ রয়েছে, যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না
- এগুলো অন্য শব্দের আগে বসে। 
- এর প্রভাবে শব্দটির কয়েক ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়।
যেমন-
১. নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়।
২. শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধিত হয়।
৩. শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে।
৪. শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটে। এবং
৫. শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
নিচের কোন সন্ধিবিচ্ছেদটি ভুল?
  1. পর্ + পর = পরস্পর
  2. তৎ+ কর = তস্কর
  3. মন + ঈষা = মনীষা
  4. আ + চর্য = আশ্চর্য
ব্যাখ্যা
• 'মনীষা' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ মনস্ + ঈষা।

• কতগুলো সন্ধি নিপাতনে সিদ্ধ হয়:
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- বন্ + পতি = বনস্পতি
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
- তৎ + কর = তস্কর,
- পর্ + পর = পরস্পর,
- মনস্ + ঈষা = মনীষা,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ
- এক্ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
'অবিশ্বাস' কোন সমাস?
  1. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  2. নঞ্ তৎপুরুষ সমাস
  3. নঞ্ বহুব্রীহি সমাস
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস:
না বাচক নঞ্‌ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা- ন আচার = অনাচার, ন কাতর = অকাতর।

- না-বাচক অর্থ ছাড়াও বিশেষ বিশেষ অর্থে নঞ তৎপুরুষ সমাস হতে পারে। যথা-
- ন কেশা = অকেশা।
- ন লৌকিক = অলৌকিক।
- ন বিশ্বাস = অবিশ্বাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
তোমার তরে এনেছি মালা গাঁথিয়া। এখানে 'তরে' শব্দটি কী অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. সঙ্গে
  2. মধ্যে
  3. নিকট
  4. নিমিত্ত
ব্যাখ্যা
• 'তোমার তরে এনেছি মালা গাঁথিয়া।' বাক্যে 'তরে' অনুসর্গটি "নিমিত্ত" অর্থে ব্যবহৃ হয়েছে।

• আরো কয়েকটি অনুসর্গের ব্যবহার:
- কাছে : 'নিকট' অর্থে = আমার কাছে আর কে বলবে?
- মাঝে: 'মধ্যে' অর্থে = সীমার মাঝে অসীম তুমি।
- জন্য: 'নিমিত্তে' অর্থে = এ ধন-সম্পদ তোমার জন্য।
- পানে : প্রতি, দিকে অর্থে ঐ তো ঘর পানে ছুটেছেন।
- পক্ষে : সক্ষমতা অর্থে রাজার পক্ষে সব কিছুই সম্ভব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১০.
নিচের কোনটি ক্রিয়া বিশেষ্য?
  1. ভোজন
  2. গুরুত্ব
  3. আনন্দ
  4. সরলতা
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
- যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
- যেমন- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার: ১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
১১.
বিদেশি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. বনাম
  2. বরখাস্ত
  3. কারখানা
  4. অভিসার
ব্যাখ্যা
• 'অভিসার' সংস্কৃত উপসর্গ 'অভি' যোগে গঠিত শব্দ।

অন্যদিকে,
বনাম, বরখাস্ত ও বনাম ফারসি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ।

• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি উপসর্গ- আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ- কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ-  হর।
- ইংরেজি উপসর্গ-  হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১২.
'বহিষ্কার' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ-
  1. বহিঃ + কার
  2. বহি + কার
  3. বহি + ষ্কার
  4. বহিঃ + স্কার
ব্যাখ্যা
• 'বহিষ্কার' শব্দের সঠি সন্ধিবিচ্ছেদ- বহিঃ + কার।

• সূত্র:
- অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশু ধ্বনি (ষ) হয়।
যেমন-
- অ এর পরে বিসর্গঃ + ক = স্ + ক; নমঃ + কার = নমস্কার।
- অ এর পরে বিসর্গঃ + খ = স্ + খ; পদঃ + খলন = পদস্খলন।
- ই এর পরে বিসর্গঃ + ক = ষ্‌ + ক; নিঃ + কর = নিষ্কর।
- উ এর পরে বিসর্গঃ + ক = ষ + ক; দুঃ + কর = দুষ্কর।

এরূপ পুরস্কার, মনস্কামনা, তিরস্কার, চতুষ্পদ, নিষ্ফল, নিষ্পাপ, দুষ্প্রাপ্য, বহিষ্কৃত, দুষ্কৃতি, আবিষ্কার, চতুষ্কোণ, বাচস্পতি, ভাস্কর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৩.
কোন সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে?
  1. অব্যয়ীভাব
  2. বহুব্রীহি
  3. কর্মধারয়
  4. দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয়এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম নীলপদ্ম।
- শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।
- কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।

• কর্মধারয় সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়:
১. দুটি বিশেষণ পদে একটি বিশেষ্যকে বোঝালে। যেমন- যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর।
২. দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে। যেমন- যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব
।৩. কার্যে পরম্পরা বোঝাতে দুটি কৃতন্ত বিশেষণ পদেও কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন- আগে ধোয়া পরে মোছা = ধোয়ামোছা।
৪. পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়। যেমন- সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা, মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি।
৫. বিশেষণবাচক মহান বা মহৎ শব্দ পূর্বপদ হলে, 'মহৎ' ও 'মহান' স্থানে 'মহা' হয়। যেমন- মহৎ যে জ্ঞান = মহাজ্ঞান, মহান যে নবি = মহানবি।
৬. পূর্বপদে 'কু' বিশেষণ থাকলে এবং পরপদের প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে 'কু' স্থানে 'কৎ' হয়। যেমন - কু যে অর্থ = কদর্থ, কু যে আচার = কদাচার।
৭. পরপদে 'রাজা' শব্দ থাকলে কর্মধারয় সমাসে 'রাজ' হয়। যেমন- মহান যে রাজা = মহারাজ।
৮. বিশেষণ ও বিশেষ্য পদে কর্মধারয় সমাস হলে কখনো কখনো বিশেষণ পরে আসে, বিশেষ্য আগে যায়। যেমন- সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ, অধম যে নর = নরাধম।

অন্যদিকে,
- অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
- বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্যপদ বুঝায়।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ের অর্থ প্রাধান্য পায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৪.
বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. অপমৃত্যু
  2. প্রগাঢ়
  3. সমাদর
  4. হাভাতে
ব্যাখ্যা
• বাংলা উপসর্গ 'হা' যোগে গঠিত শব্দ 'হাভাতে'।

• 'হা' উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ:
- হাপিত্যেশ,
- হাভাতে,
- হাঘরে

অন্যদিকে,
অপমৃত্যু, প্রগাঢ়, সমাদর যথাক্রমে অপ, প্র ও সম তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত হয়েছে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৫.
'সুবর্ণ' কোন সমাস?
  1. অব্যয়ীভাব
  2. কর্মধারয়
  3. বহুব্রীহি
  4. তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• সুন্দর বর্ণ যার = সুবর্ণ; সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।

• বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যথা- বহু ব্রীহি (ধান) আছে যার = বহুব্রীহি।

• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
• যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয়ে থাকে তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন - কালো বরণ যার - কালোবরণ; সুন্দর বর্ণ যার সুবর্ণ; পোড়া কপাল যার পোড়াকপাল ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৬.
অনুসর্গ মূলত-
  1. শব্দ বিভক্তি
  2. ক্রিয়া বিভক্তি
  3. বিশেষণ
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয়:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন -
- বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)
- সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
- দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
- বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭.
ক্রিয়ার রূপ পরিবর্তিত হয়-
  1. পক্ষভেদে
  2. বচন ভেদে
  3. কালভেদে
  4. ক + গ
ব্যাখ্যা
বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
যেমন-
- রাজীব খেলছে।
- বৃষ্টি হতে পারে

• পক্ষ (পুরুষ) এবং কাল ভেদে ক্রিয়ার রূপভেদ হয়। যেমন-
- পক্ষভেদ: আমি পড়ি, আমরা পড়ি, তুমি পড়ো, তোমরা পড়ো, সে পড়ে, তারা পড়ে।
- কালভেদ: আমি পড়ি, আমি পড়ছি, আমি পড়েছি, আমি পড়েছিলাম, আমি পড়ছিলাম, আমি পড়ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।