পরীক্ষা আর্কাইভ

বিসিএস প্রিলি ও লিখিত সমন্বিত প্রস্তুতি

পরীক্ষাবিসিএস প্রিলি ও লিখিত সমন্বিত প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes২৭ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন২৯
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১ বিষয় - বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ প্রিলি অংশের সিলেবাস: শব্দ (শব্দ ও পদের গঠন, শব্দদ্বিত্ব, নরবাচক ও নারীবাচক শব্দ, সংখ্যাবাচক শব্দ, শব্দের শ্রেণিবিভাগ), বানান ও বাক্য শুদ্ধি (নম্বর কাভার: ৩); লিখিত অংশের সিলেবাস: শব্দগঠন, বানান/বানানের নিয়ম (নম্বর কাভার: ১২) মোট নম্বর কাভার: ১৫ উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক পর্যন্ত বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বিসিএস প্রিলি ও লিখিত সমন্বিত প্রস্তুতি

বিসিএস প্রিলি ও লিখিত সমন্বিত প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২৯ প্রশ্ন

.
সন্ধির ক্ষেত্রে কোন বর্ণগুলো পরে থাকলে পূর্ব পদের অন্তস্থিত ম্ এর স্থানে অনুস্বার ( ং  ) হবে?
  1. ক খ গ ঘ 
  2. চ ছ জ য
  3. ত ঠ ড ঢ
  4. ত থ দ ধ
সঠিক উত্তর:
ক খ গ ঘ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক খ গ ঘ 
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
• সন্ধির ক্ষেত্রে ক খ গ ঘ পরে থাকলে পূর্ব পদের অন্তস্থিত 'ম' স্থানে অনুস্বার (ং) হবে।
যেমন:
- অহম্ + কার = অহংকার
এভাবে ভয়ংকর, সংগীত, শুভংকর, হৃদয়ংগম, সংঘটন।

• সন্ধিবদ্ধ না হলে 'ঙ' স্থানে ং হবে না।
যেমন:
অঙ্ক, অঙ্গ, আকাঙ্ক্ষা, আতঙ্ক, কঙ্কাল, গঙ্গা, বঙ্কিম, বঙ্গ, লঙ্ঘন, শঙ্কা, শৃঙ্খলা, সঙ্গে, সঙ্গী।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।

.
'হিমাঙ্গ' শব্দটি কোন উপায়ে গঠিত হয়েছে?
  1. সমাস
  2. সন্ধি
  3. উপসর্গ
  4. বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধি
ব্যাখ্যা

• হিম + অঙ্গ = হিমাঙ্গ সন্ধিসাধিত শব্দ।

সূত্র: অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন-
- অ+ অ = আ; নর+ অধম = নরাধম। এরূপ-হিমাচল, প্রাণাধিক, হস্তান্তর, হিতাহিত ইত্যাদি।
- অ + আ = আ; হিম + আলয় = হিমালয়। এরূপ দেবালয়, রত্নাকর, সিংহাসন ইত্যাদি।
- আ + অ = আ; যথা + অর্থ = যথার্থ। এরূপ – আশাতীত, কথামৃত, মহার্ঘ ইত্যাদি।
- আ + আ = আ; বিদ্যা+ আলয় = বিদ্যালয়। এরূপ- কারাগার, মহাশয়, সদানন্দ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

.
লগ্নক নয় কোনটি?
  1. বিভক্তি
  2. বচন
  3. নির্দেশক
  4. প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

• 'প্রত্যয়' - লগ্নক নয়।

• লগ্নক:
- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।

• লগ্নক চার ধরনের।
যথা:

বিভক্তি:
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
- 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

বচন:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে।
- 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।

বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

.
নিচের কোন শব্দে বিসর্গ ( ঃ ) এর সঠিক ব্যবহার হয়েছে?
  1. দুঃস্থ
  2. নিঃশ্বাস
  3. পুনঃপুন
  4. ইতস্ততঃ
সঠিক উত্তর:
পুনঃপুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনঃপুন
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
• বিসর্গ ( ঃ ) :

শব্দের শেষে বিসর্গ ( ঃ ) থাকবে না।
যেমন:
ইতস্তত, কার্যত, ক্রমশ, পুনঃপুন, প্রথমত, প্রধানত, প্রয়াত, প্রায়শ, ফলত, বস্তুত, মূলত।

- এছাড়া নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে শব্দমধ্যস্থ বিসর্গ-বর্জিত রূপ গৃহীত হবে।
যেমন:
দুস্থ, নিস্তব্ধ, নিস্পৃহ, নিশ্বাস।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।

.
কোনটি ব্যঞ্জন সন্ধিসাধিত শব্দ?
  1. নাতি + বৌ = নাতবৌ
  2. মা + এর = মায়ের
  3. কুড়ি + এক = কুড়িক
  4. রুপা + আলি = রুপালি
সঠিক উত্তর:
নাতি + বৌ = নাতবৌ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাতি + বৌ = নাতবৌ
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জনসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সঙ্গে ব্যঞ্জনধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে ব্যঞ্জনধ্বনি মিলিত হয়ে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

যেমন:
- নাতি + বৌ = নাতবৌ,
- উৎ + চারণ = উচ্চারণ, 
- চার + টি = চাট্টি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- স্বরসন্ধির উদাহরণ:
- রুপা + আলি = রুপালি, 
- কুড়ি + এক = কুড়িক, 
- মা + এর = মায়ের।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. কৃতিত্ব
  2. প্রতিযোগিতা
  3. মন্ত্রি
  4. প্রাণী
সঠিক উত্তর:
মন্ত্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্ত্রি
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত ইন্‌-প্রত্যয়ান্ত শব্দের দীর্ঘ ঈ-কারান্ত রূপ সমাসবদ্ধ হলে সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়ম-অনুযায়ী সেগুলিতে হ্রস্ব ই-কার হয়।
যেমন:
- গুণী → গুণিজন, প্রাণী →প্রাণিবিদ্যা, মন্ত্রী → মন্ত্রিপরিষদ।

• তবে এগুলির সমাসবদ্ধ রূপে ঈ-কারের ব্যবহারও চলতে পারে। 
যেমন:
- গুণী → গুণীজন, প্রাণী → প্রাণীবিদ্যা, মন্ত্রী → মন্ত্রীপরিষদ।

• ইন্‌-প্রত্যয়ান্ত শব্দের সঙ্গে-ত্ব ও-তা প্রত্যয় যুক্ত হলে ই-কার হবে। 
যেমন:
- কৃতী → কৃতিত্ব, দায়ী → দায়িত্ব, প্রতিযোগী→ প্রতিযোগিতা, সহযোগী → সহযোগিতা, মন্ত্রী → মন্ত্রিত্ব।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।

.
নিচের কোনটি ভুল বানান?
  1. ঊর্ধ্ব
  2. কার্তিক
  3. মূর্চ্ছা
  4. বার্ধক্য
সঠিক উত্তর:
মূর্চ্ছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূর্চ্ছা
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
- রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
যেমন:
অর্জ্জন, উর্দ্ধ, কর্ম্ম, কার্ত্তিক, কার্য্য, বার্দ্ধক্য, মূর্চ্ছা, সূর্য্য ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে অর্জন, ঊর্ধ্ব, কর্ম, কার্তিক, কার্য, বার্ধক্য, মূর্ছা, সূর্য ইত্যাদি হবে।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।

.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার।
  2. অতিলোভে তাতী নষ্ট।
  3. আমি সন্তোষ হলাম।
  4. 'গীতাঞ্জলি' একখানা কাব্যগ্রন্থ।
সঠিক উত্তর:
'গীতাঞ্জলি' একখানা কাব্যগ্রন্থ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
'গীতাঞ্জলি' একখানা কাব্যগ্রন্থ।
ব্যাখ্যা

• 'গীতাঞ্জলি' একখানা কাব্যগ্রন্থ। শুদ্ধবাক্য।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: অধ্যাপনাই ছাত্রদের তপস্যা।
- শুদ্ধ: অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।
- অশুদ্ধ: অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার।
- শুদ্ধ: অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার।
- অশুদ্ধ: অতিলোভে তাতী নষ্ট।
- শুদ্ধ : অতিলোভে তাঁতি নষ্ট।
- অশুদ্ধ: অতিশয় দুঃখিত হলাম।
- অশুদ্ধ: আমি সন্তোষ হলাম।
- শুদ্ধ: আমি সন্তুষ্ট হলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
ষষ্ঠী বিভক্তিযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. চুলার
  2. আজহারকে
  3. মদিনায়
  4. সকালে
সঠিক উত্তর:
চুলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুলার
ব্যাখ্যা

• 'চুলার' ষষ্ঠী বিভক্তিযোগে গঠিত শব্দ।
• চুলা + র = চুলার; এখানে র ষষ্ঠী বিভক্তি।

বিভক্তি:

- যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি। বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭ প্রকার।যথা:
- প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: ০, অ।
- দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
- তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
- চতুর্থী বিভক্তি:কে, রে।
- পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
- ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
- সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১০.
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে, নিচের কোন বানানটি সঠিক নয়?
  1. বাঙালি
  2. রঙের
  3. গাঙ
  4. পালং
সঠিক উত্তর:
গাঙ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাঙ
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
• 'গাঙ' বানানটি অশুদ্ধ।

শুদ্ধ বানান: গাং।
• শব্দের শেষে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অনুস্বার (ং) ব্যবহৃত হবে।
যেমন:
গাং, ঢং, পালং, রং, রাং, সং।
- তবে অনুস্বারের সঙ্গে স্বর যুক্ত হলে ঙ হবে।
যেমন:
- বাঙালি, ভাঙা, রঙিন, রঙের।
- বাংলা ও বাংলাদেশ শব্দে অনুস্বার থাকবে।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।

১১.
শুদ্ধ বাক্য নির্ণয় কর - 
  1. কীর্তিবাস বাংলা রামায়াণ লিখেছেন। 
  2. শিমু বুদ্ধিমান মেয়ে। 
  3. নীরোগ লোক আসলে সুখী।
  4. সে এ মোকদ্দমায় সাক্ষি দিয়েছে।
সঠিক উত্তর:
নীরোগ লোক আসলে সুখী।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীরোগ লোক আসলে সুখী।
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বাক্য: নীরোগ লোক আসলে সুখী।

অন্যদিকে, 
অশুদ্ধ বাক্য: কীর্তিবাস বাংলা রামায়াণ লিখেছেন। 
শুদ্ধ বাক্য: কৃত্তিবাস বাংলা রামায়াণ লিখেছেন।

অশুদ্ধ বাক্য: শিমু বুদ্ধিমান মেয়ে। 
শুদ্ধ বাক্য: শিমু বুদ্ধিমতী মেয়ে।

অশুদ্ধ বাক্য: সে এ মোকদ্দমায় সাক্ষি দিয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: সে এ মোকদ্দমায় সাক্ষ্য দিয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১২.
'এখনও এই  চাকুরীতে আছো?' বাক্যে এখনও শব্দের সাথে যুক্ত 'ও' কে কী বলে? 
  1. বিভক্তি
  2. নির্দেশক
  3. বচন
  4. বলক
সঠিক উত্তর:
বলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বলক
ব্যাখ্যা

বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

• লগ্নক:
- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।

• লগ্নক চার ধরনের।
যথা:

বিভক্তি:
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
- 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

বচন:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে।
- 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।

বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৩.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. বন্দ্যোপাধায়
  2. বন্দ্যপাধ্যায়
  3. বন্দ্যোপাধ্যায় 
  4. বন্দ্যোপোধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বন্দ্যোপাধ্যায় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্দ্যোপাধ্যায় 
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান - 'বন্দ্যোপাধ্যায়'
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: বন্দ্য + উপাধ্যায়।
অর্থে:
- পদবিবিশেষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৪.
সংস্কৃত কৃৎপ্রত্যয় সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. পূজক
  2. জনক
  3. চালক
  4. ঝলক
সঠিক উত্তর:
ঝলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝলক
ব্যাখ্যা

• কৃৎপ্রত্যয়: 
ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎপ্রত্যয় বলে।
যেমন -
দুল্ + অনা = দোলনা,
কৃ + তব্য = কর্তব্য।
- কৃৎপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
উপরের উদাহরণে, 'অনা' ও 'তব্য' হলো কৃৎপ্রত্যয় এবং 'দোলনা' ও 'কর্তব্য' হলো কৃদন্ত শব্দ।

• বাংলা কৃৎপ্রত্যয়:
- অক - প্রত্যয়: √মুড় + অক = মোড়ক, √ঝল্‌ + অক = ঝলক।

• সংস্কৃত কৃৎপ্রত্যয়:
- ণক - প্রত্যয়: ণক - প্রত্যয় পরে থাকলে ণিজন্ত ধাতুর 'ই' কারের লোপ হয়।
যেমন -
√পূঁজি + ণক = পূজক,
√জন + ণক = জনক,
√চাল + ণক = চালক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।

১৫.
বিসর্গ সন্ধিসাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. দুষ্কৃতি
  2. পরিষ্কৃত
  3. পুরস্কার
  4. বহিষ্কৃত
সঠিক উত্তর:
পরিষ্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিষ্কৃত
ব্যাখ্যা

• বিসর্গ সন্ধি নয় - পরিষ্কৃত = পরি + কৃত।
- এটি বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।

• বিসর্গ সন্ধির নিয়মানুসারে,
অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশ্ ধ্বনি (ষ) হয়।
যেমন -
- অ এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (স্ + ক) ⇒ নমঃ + কার = নমস্কার; পুরঃ + কার = পুরস্কার।
- অ এর পরে বিসর্গ ঃ + খ = = (স্ + খ) ⇒ পদঃ + খলন = পদস্খলন।
- ই এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (ষ + ক) ⇒ নিঃ + কর = নিষ্কর; বহিঃ + কৃত = বহিষ্কৃত।
- উ এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (ষ + ক) ⇒ দুঃ + কর = দুষ্কর; দুঃ + কৃতি = দুষ্কৃতি।

এরূপ - মনস্কামনা, তিরস্কার, চতুষ্পদ, নিষ্ফল, নিষ্পাপ, দুষ্প্রাপ্য, আবিষ্কার, চতুষ্কোণ, বাচস্পতি, ভাস্কর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬.
অশুদ্ধ বানান নির্ণয় করুন-
  1. সমীচীন
  2. ভাগীরথি
  3. শ্রমজীবী
  4. বিভীষিকা
সঠিক উত্তর:
ভাগীরথি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাগীরথি
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• অশুদ্ধ বানান - 'ভাগীরথি'।
- শুদ্ধরূপ ভাগীরথী। 
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
এর অর্থ:
- গঙ্গা নদীর অন্য নাম, গঙ্গার শাখা নদী বিশেষ।

অন্যদিকে,
- বিভীষিকা, কৃষিজীবী এবং সমীচীন - বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৭.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
  2. তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
  3. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
  4. বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
সঠিক উত্তর:
আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বাক্য: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ বাক্য: তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
- শুদ্ধ বাক্য: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।

- অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
- শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

- অশুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
- শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৮.
'যোগিনী' কোন প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ?
  1. ইনি
  2. ইনী
সঠিক উত্তর:
ইনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইনী
ব্যাখ্যা

• নরবাচক শব্দ থেকে নারীবাচক শব্দগঠন:
- প্রত্যয় যোগে নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়।
এ রকম কয়েকটি প্রত্যয়ের প্রয়োগ দেখানো হলো:
- আচ্ছা প্রত্যয়: বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, প্রিয়-প্রিয়া, কনিষ্ঠ-কনিষ্ঠা।
- ই প্রত্যয়: দাদা-দাদি, জেঠা-জেঠি, পাগল-পাগলি।
- ইনি প্রত্যয়: কাঙাল-কাঙালিনি, বাঘ-বাঘিনি।
- ইনী প্রত্যয়: বিজয়ী-বিজয়িনী, যোগী-যোগিনী, তেজস্বী-তেজস্বিনী।
- ঈ প্রত্যয়: কিশোর-কিশোরী, নর-নারী, সুন্দর-সুন্দরী।
- নি প্রত্যয়: জেলে-জেলেনি, বেদে-বেদেনি, ধোপা-ধোপানি।
- বতী প্রত্যয়: গুণবান-গুণবতী, পুণ্যবান-পুণ্যবতী।
- মতী প্রত্যয়: বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, শ্রীমান-শ্রীমতী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি(২০২৫ সংস্করণ)

১৯.
অশুদ্ধ বানান নির্ণয় করুন।
  1. ভ্রাতুষ্পুত্র
  2. নূপুর
  3. ঔজ্জ্বল্য
  4. স্নেহাশীষ
সঠিক উত্তর:
স্নেহাশীষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্নেহাশীষ
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• অশুদ্ধ বানান - 'স্নেহাশীষ'

- এর শুদ্ধরূপ - স্নেহাশিস'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- স্নেহপূর্ণ আশীর্বাদ।

অন্যদিকে,
- ভ্রাতুষ্পুত্র, বৈয়াকরণ, নূপুর এবং ঔজ্জ্বল্য - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২০.
শুদ্ধ বাক্য-
  1. একটা গোপন কথা বলি।
  2. এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
  3. তার সৌজন্যে মুগ্ধ হয়েছি।
  4. বিদ্যান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেয়।
সঠিক উত্তর:
তার সৌজন্যে মুগ্ধ হয়েছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তার সৌজন্যে মুগ্ধ হয়েছি।
ব্যাখ্যা

 • শুদ্ধ বাক্য: তার সৌজন্যে মুগ্ধ হয়েছি।

তাছাড়া,
অশুদ্ধ বাক্য: একটা গোপন কথা বলি।।
শুদ্ধ বাক্য: একটা গোপনীয় কথা বলি।

অশুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: বিদ্যান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেয়। 
শুদ্ধ বাক্য:  বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২১.
শুদ্ধ বানান নির্ণয় করুন- 
  1. প্রাঙ্গন
  2. নিস্পৃহ
  3. মনযোগ
  4. বঙ্গপসাগর
সঠিক উত্তর:
নিস্পৃহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিস্পৃহ
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
শুদ্ধ বানান - 'নিস্পৃহ'।

নিস্পৃহ অর্থ: বাসনাহীন, নিরাকাঙ্ক্ষ; অনাসক্ত।

অন্যদিকে, 
• প্রাঙ্গন - প্রাঙ্গণ (উঠান);
• মনযোগ - মনোযোগ (বাসনাহীন);
• বঙ্গপসাগর - বঙ্গোপসাগর(গরমকাল)।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২২.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. শুধুমাত্র গায়ের জোরে সব হয় না।
  2. নদীর জল হ্রাস হয়েছে।
  3. বমাল চোর ধরা পড়েছে।
  4. যার লাঠি, তার ঘাঁটি।
সঠিক উত্তর:
বমাল চোর ধরা পড়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বমাল চোর ধরা পড়েছে।
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বাক্য: বমাল চোর ধরা পড়েছে।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: শুধুমাত্র গায়ের জোরে সব হয় না।
শুদ্ধ বাক্য: শুধু গায়ের জোরে সব হয় না।

অশুদ্ধ বাক্য: যার লাঠি, তার ঘাঁটি।
শুদ্ধ বাক্য: যার লাঠি, তার মাটি।

অশুদ্ধ বাক্য: নদীর জল হ্রাস হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: নদীর জল হ্রাস পেয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৩.
নিচের কোন শব্দটি রূপক কর্মধারয় সমাস নির্দেশ করে?
  1. ক্রোধানল
  2. নয়নপদ্ম
  3. শশব্যস্ত
  4. কুসুমকোমল
সঠিক উত্তর:
ক্রোধানল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রোধানল
ব্যাখ্যা

• রূপক কর্মধারয় সমাস:
- উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে তাকে বলা হয় রূপক কর্মধারয় সমাস।

- এ সমাসে উপমেয় পদ পূর্বে এবং উপমান পদ পরে বসে এবং সমস্যমান পদে ‘রূপ’ অথবা ‘ই’ যোগ করে ব্যাসবাক্য গঠন করা হয়।

- যেমন:
- মন রূপ মাঝি= মনমাঝি,
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু,
- ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল,
- মন রূপ বাউল = মনবাউল,
- দিল রূপ দরিয়া= দিলদরিয়া,
- ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল ইত্যাদি।

• উপমিত কর্মধারয়:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম;
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি;
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ; 
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

[এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।]

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে;
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত;
- কুসুমের ন্যায় কোমল = কুসুমকোমল।

[এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।]

উৎস: বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

২৪.
কোন বাক্যে বহুবচন ব্যবহৃত না হয়েও বহুবচন বোঝাচ্ছে?
  1. ছাত্ররা এসে জড়ো হয়েছে।
  2. বাজারে লােক কম।
  3. এ নিয়ে আমাদের বলার কিছু নেই।
  4. হাজার হাজার কৃষক ফুলের চাষ করেন।
সঠিক উত্তর:
বাজারে লােক কম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাজারে লােক কম।
ব্যাখ্যা

• অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন -
- বাজারে লােক কম।
- মৌমাছি মৌচাক বানায়।
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।

অন্যদিকে,
- ছাত্ররা এসে জড়ো হয়েছে।
- এ নিয়ে আমাদের বলার কিছু নেই।
- হাজার হাজার কৃষক ফুলের চাষ করেন।
- উপরের বাক্যগুলোতে ছাত্ররা, আমাদের, হাজার হাজার শব্দগুলো বহুবচন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২৫.
নিচের কোনটি উপপদ তৎপুরুষ সমাস?
  1. পকেটমার
  2. গৃহান্তর
  3. প্রভাত
  4. বর্ণচোরা
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা


সঠিক উত্তর: ক) পকেটমার ও ঘ) বর্ণচোরা
অপশনে দ্বৈত উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে।
--------------------

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:

- যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর।
- জল দেয় যে = জলদ।
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।
- পকেট মারে যে = পকেটমার।
•  এরূপ সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছাড়পোকা এবং বর্ণচোরা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'গৃহান্তর'- নিত্য সমাসের উদাহরণ।
- 'প্রভাত' প্রাদি সমাসের উদাহরণ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৬.
কোনটি শব্দের শেষে যুক্ত হয় না?
  1. নির্দেশক
  2. প্রত্যয়
  3. বলক
  4. উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ
ব্যাখ্যা

শব্দের শেষে যুক্ত হয়না - উপসর্গ।

• উপসর্গ:
- যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
'পরিচালক' শব্দের ‘পরি অংশ একটি উপসর্গ ।

অন্যদিকে,
প্রত্যয়:
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
সাংবাদিক” শব্দের ইক’ অংশ একটি প্রত্যয়।

নির্দেশক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
‘লোকটি বা ভালোটুকু পদের টি' বা ‘টুকু হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
তখনই বা ‘এখনও পদের ই বা ‘ও’ হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি।(২০২২ সংস্করণ)

২৭.
অশুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. যুক্তি খণ্ডন হয়েছে, তবে মুক্তি মেলেনি।
  2. তোমার মতো এমন হীনচরিত্র লোক আমার প্রয়োজন নেই।
  3. মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
  4. দলিলে সবাই স্বাক্ষর করেন।
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) ও গ) 
অপশনে দ্বৈত উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে।
--------
• মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন। - বাক্যটি অশুদ্ধ।
- বাক্যটি বানানজনিত ভুল।
- শুদ্ধ বাক্য: মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।

• যুক্তি খণ্ডন হয়েছে, তবে মুক্তি মেলেনি। - বাক্যটিও অশুদ্ধ।
- বাক্যটি বাচ্যজনিত ভুল।
- কর্তৃবাচ্যে বিশেষ্য ও করা ক্রিয়ার রূপ থাকলে কর্মবাচ্যে বিশেষণ ও হওয়া ক্রিয়ার রূপ হবে।
- এর শুদ্ধ রূপ: যুক্তি খণ্ডিত হয়েছে, তবে মুক্তি মেলেনি।

• অন্যদিকে শুদ্ধবাক্য:
- তোমার মতো এমন হীনচরিত্র লোক আমার প্রয়োজন নেই।
- দলিলে সবাই স্বাক্ষর করেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৮.
উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. মেঘলা
  2. নিবৃত্তি
  3. দোকানি
  4. হিমালয়
সঠিক উত্তর:
নিবৃত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিবৃত্তি
ব্যাখ্যা

• 'নি' উপসর্গের ব্যবহার:
- 'নিশ্চয়' অর্থে 'নি' উপসর্গ - নির্ণয়, নিবারণ।
- 'নিষেধ' অর্থে 'নি' উপসর্গ - নিবৃত্তি।
- 'আতিশয্য' অর্থে 'নি' উপসর্গ - নিদাঘ, নিদারুন।
- 'অভাব' অর্থে 'নি' উপসর্গের ব্যবহার - নিষ্কলুষ, নিষ্কাম।

অন্যদিকে,
• বাবুয়ানা = বাবু + (আনা) - তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
• দোকানি = দোকান + (ই) - বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
• মেঘলা = মেঘ + লা - বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৯.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. সকল আলেমগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
  2. এটা অপক্ক হাতের লেখা।
  3. অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি।
  4. পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
সঠিক উত্তর:
অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি।
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ: অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
শুদ্ধ: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।

অশুদ্ধ: এটা অপক্ক হাতের লেখা।
শুদ্ধ: এটা কাঁচা হাতের লেখা।

অশুদ্ধ: সকল আলেমগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
শুদ্ধ: সকল আলেম সভায় উপস্থিত ছিলেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।