পরীক্ষা আর্কাইভ

Science Expert

পরীক্ষাScience Expertতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৫
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৪ টপিক: - সরল ছন্দিত স্পন্দন - তরঙ্গ ও এর বৈশিষ্ট্য - তরঙ্গ সংক্রান্ত কয়েকটি সংজ্ঞা - তরঙ্গের প্রকারভেদ - তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ - শব্দ তরঙ্গ - শব্দের দ্রুতি - শব্দের প্রতিফলন: প্রতিধ্বনি - শ্রাব্যতার সীমা, শব্দেতর তরঙ্গ, শব্দোত্তর তরঙ্গ - শব্দ দূষণ - চার্জ বা আধান - ঘর্ষন তড়িৎ ও তড়িৎ আবেশ - স্থির তড়িৎ বল - তড়িৎক্ষেত্র প্রাবল্য - তড়িৎ বিভব, সমবিভব তল - ধারক ও ধারকত্ব, তুল্য ধারকত্বের রাশিমালা - কুলম্বের সূত্রের সীমাবদ্ধতা - স্থির বিদ্যুতের ব্যবহার - তড়িৎ প্রবাহ, সমপ্রবাহ ও পর্যাবৃত্ত প্রবাহ - তড়িৎ কোষ, তড়িচ্চালক শক্তি ও বিভব পার্থক্য - ওহমের সূত্র - রোধ ও তড়িৎ পরিবাহিতা - রোধের নির্ভরশীলতা - পরিবাহী, অপরিবাহী ও অর্ধপরিবাহী - তড়িৎ বর্তনী ও তুল্য রোধের রাশিমালা - বৈদ্যুতিক ক্ষমতা ও ব্যয়িত বিদ্যুৎ শক্তির হিসাব - বিভিন্ন তড়িৎ যন্ত্র ও তড়িৎ এর নিরাপদ ব্যবহার [ক্লাস – ৮, ৯ (পার্ট-১, পার্ট-২)] (২য় রাউন্ড)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Science Expert

Science Expert · তারিখ অনির্ধারিত · ১৫ প্রশ্ন

.
শব্দ দূষণ পরিমাপ করতে কোন একক ব্যবহার করা হয়?
  1. Nanometer
  2. Hertz
  3. Decibel
  4. Newton
ব্যাখ্যা

• শব্দ দূষণ পরিমাপের জন্য সাধারণত ডেসিবেল (Decibel) একক ব্যবহার করা হয়। শব্দের তীব্রতা বা লাউডনেসকে ডেসিবেলে মাপা হয়। বেশি ডেসিবেলের শব্দ মানুষের কানের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং দীর্ঘ সময় ধরে শোনা হলে শুনার সমস্যা তৈরি করতে পারে। অন্য একক যেমন ন্যানোমিটার, হার্টজ বা নিউটন শব্দের দূষণ মাপার জন্য ব্যবহার হয় না। তাই শব্দ দূষণের মাত্রা বোঝাতে ডেসিবেল সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক।

শব্দদূষণ:
- মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতার উর্ধ্বে সৃষ্ট যে কোনো শব্দ যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ব্যাঘাত ঘটায় তাই হলো শব্দ দূষণ।
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক একক হচ্ছে ডেসিবল।
- শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবল হলেই সাধারণত মানুষ ঘুমাতে পারে না।
- ৮৫ ডেসিবল শ্রবণ শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুর করে এবং মাত্রা ১২০ ডেসিবল হলে কানে ব্যথা শুরু হয়।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)- এর মতে, সাধারণত ৬০ ডেসিবেল শব্দ একজন মানুষকে সাময়িকভাবে এবং ১০০ ডেসিবেল শব্দ পুরোপুরি বধির করে ফেলে।
- সুতরাং, ৬০ ডেসিবলের চেয়ে বেশি মাত্রার শব্দ শব্দদূষণ ঘটায়।

উৎস: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইট এবং পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
আলোর তড়িৎ-চুম্বকীয় তত্ত্ব কে প্রস্তাব করেছিলেন?
  1. ম্যাক্স প্ল্যাংক
  2. ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
  3. ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড
  4. হেন্রিখ হার্জ
ব্যাখ্যা

• আলোর তড়িৎ-চুম্বকীয় তত্ত্ব (Electromagnetic Theory of Light) প্রস্তাব করেছিলেন ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল। তিনি  Maxwell’s Equations এর মাধ্যমে দেখান, আলো একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ যা স্থান জুড়ে প্রলেপিত হয়। তাঁর তত্ত্ব অনুসারে, বৈদ্যুতিক ও চুম্বকীয় ক্ষেত্র একে অপরকে উত্পন্ন করে এবং তরঙ্গের আকারে স্থান মাধ্যমে ছড়ায়। এটি আলোর প্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে এক বিপ্লবাত্মক ধারণা।

তড়িৎ-চুম্বকীয় তত্ত্ব:
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভ‚তপূর্ব উন্নতি ঘটে।
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল (১৮৩১-১৮৭৯) আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্তে¡র ধারণা দেন।
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেন্রিখ হার্জের (১৮৫৭-১৮৯৪) পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়।
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী (১৮৭৪-১৯৩৭) তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে
সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন।
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও (১৮৫৮-১৯৩৭) একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। পরবর্তীতে বেতার যন্ত্র আবিষ্কার হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস.এস.সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কোন ধরনের মাধ্যম শব্দ তরঙ্গকে বহন করতে পারে না?
  1. কঠিন মাধ্যমে
  2. তরল মাধ্যমে
  3. শূন্য মাধ্যমে
  4. বায়ু মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

• শব্দ তরঙ্গ হলো কণার কম্পন থেকে উৎপন্ন সংকেত, যা কণার মাধ্যমে সংক্রমণ ঘটে। শব্দের জন্য কোনো মাধ্যমের কণা থাকা আবশ্যক। কঠিন, তরল এবং বায়ুর কণার উপস্থিতি থাকায় শব্দ এগুলোতে চলতে পারে। কিন্তু শূন্য বা ভ্যাকুয়ামে কণা নেই, তাই শব্দের জন্য কোন মাধ্যম নেই এবং শব্দ তরঙ্গ শূন্যে চলতে পারে না। সুতরাং, শূন্য মাধ্যম শব্দ বহন করতে অক্ষম।

শব্দ তরঙ্গ:
- বস্তু একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয়। 
- তরঙ্গ চলাচলের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- শব্দ তরঙ্গ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গ প্রবাহের দিক ও কম্পনের দিক একই। 
- সব তরঙ্গই শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ করে। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
তড়িৎ চৌম্বক আবেশ আবিষ্কার করেছিলেন কোন বিজ্ঞানী?
  1. গ্যালিলিও
  2. ম্যাক্সওয়েল
  3. নিউটন
  4. ফ্যারাডে
ব্যাখ্যা

তড়িৎ চৌম্বক আবেশ বা ইলেকট্রোম্যাগনেটিজম আবিষ্কার করেছিলেন ইংরেজ বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডে। ফ্যারাডের পরীক্ষায় দেখা যায়, চলমান তড়িৎ প্রবাহ চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি করতে পারে, এবং পরিবর্তনশীল চৌম্বক ক্ষেত্র তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করতে পারে। এই আবিষ্কার আধুনিক বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির ভিত্তি স্থাপন করে।

- সঠিক উত্তর: ঘ) ফ্যারাডে।

• তড়িৎ চৌম্বক আবেশ: 
- ওয়েরস্টেড (১৮২০) তড়িৎ প্রবাহে চৌম্বকীয় ক্রিয়া আবিস্কারের পর থেকেই বিজ্ঞানীদের মাথায় চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টির কথা চিন্তা করেন।
- তখন তিন দেশের তিন জন বিজ্ঞানী ইংল্যান্ডে মাইকেল ফ্যারাডে, আমেরিকাতে জোসেফ হেনরী এবং রাশিয়ায় এইচ. এফ. ই. লেনজ পৃথক পৃথক ভাবে এ বিষয়ের উপর গবেষণা করে সফলতা অর্জন করেন। 
- কিন্তু মাইকেল ফ্যারাডে ১৮৩১ সালে সর্বপ্রথম তাঁর গবেষণালব্ধ ফলাফল প্রকাশ করেছিলেন।
- সেজন্য মাইকেল ফ্যারাডে তড়িৎ চৌম্বক আবেশের আবিষ্কারক হিসাবে পরিচিত। 
- ফ্যারাডের পরীক্ষাগুলো থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, কোনো বদ্ধ কুণ্ডলী এবং কোনো চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আপেক্ষিক গতি থাকলে ঐ কুণ্ডলীতে
একটি আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাকে তড়িৎ চৌম্বক আবেশ বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
আধান/তড়িৎ প্রাবল্যের ব্যবহারিক একক হচ্ছে -
  1. ওহম
  2. ওয়াট/ডাইন
  3. নিউটন/কুলম্ব
  4. জুল
ব্যাখ্যা

• আধান বা তড়িৎ প্রাবল্যের (Electric Field) ব্যবহারিক একক হলো নিউটন প্রতি কুলম্ব (N/C)। এটি একটি ভেক্টর পরিমাণ, যা কোনো চার্জের উপর একক চার্জ দ্বারা প্রয়োগকৃত বলের মাত্রা প্রকাশ করে। অর্থাৎ, যদি এক কুলম্ব চার্জ কোনো ক্ষেত্রের মধ্যে স্থাপন করা হয় এবং সেই চার্জে কোনো বল প্রয়োগ হয়, তা দ্বারা ক্ষেত্রের শক্তি বা প্রাবল্য নির্ধারিত হয়।

- সুতরাং সঠিক উত্তর হলো নিউটন/কুলম্ব।

তড়িৎ ক্ষেত্র: 
- একটি আহিত বস্তুর চারপাশে যে অঞ্চলব্যাপী তার প্রভাব বজায় থাকে অর্থাৎ অন্য কোনো আহিত বস্তু আনা হলে সেটি আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল লাভ করে সেই অঞ্চলকে ঐ আহিত বস্তুর তড়িৎ ক্ষেত্র বলে।

তড়িৎ প্রাবল্য: 
- তড়িৎ ক্ষেত্রের কোনো বিন্দুতে একটি একক ধনাত্মক আধান স্থাপন করলে সেটি যে বল অনুভব করে তাকে ঐ বিন্দুর তড়িৎ প্রাবল্য বলে।

তড়িৎ বিভব: 
- অসীম থেকে প্রতি একক ধনাত্মক আধানকে তড়িৎ ক্ষেত্রের কোনো বিন্দুতে আনতে সম্পন্ন কাজের পরিমাণকে ঐ বিন্দুর তড়িৎ বিভব বলে।

তড়িৎ দ্বিমেরু: 
- এক জোড়া সমান ও বিপরীত বিন্দু আধান অল্প দূরত্বে অবস্থিত থাকলে তাকে তড়িৎ দ্বিমেরু বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।

.
প্রতি 1 কেলভিন তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের গতিবেগ কতটুকু বৃদ্ধি পায়?
  1. 0.2 ms-1
  2. 1.9 ms-1
  3. 1.6 ms-1
  4. 0.6 ms-1
ব্যাখ্যা

• প্রতি 1 কেলভিন তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে শব্দের গতিবেগ প্রায় 0.6 মিটার প্রতি সেকেন্ড বৃদ্ধি পায়। তাই সঠিক উত্তর হলো ঘ) 0.6 ms -1

শব্দের বেগের পরিবর্তন: 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, আলোর দ্রুতি শূন্যস্থানে সব সময় 3×108 ms-1 নির্দিষ্ট। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1 । 
- তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেও শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- হিসাব করে দেখা গেছে, প্রতি 1°C বা 1 K তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি প্রায় 0.6 ms-1 পরিমাণ বেড়ে যায়। 
- মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়। 

- মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয়। 
যেমন- 
• বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
• পানি মাধ্যমে 1450 ms-1 এবং 
• লোহার মধ্যে 5220ms-1। 
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম, তরল পদার্থের মধ্যে তা থেকে বেশি। 
- কঠিন পদার্থের মধ্যে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে বেশি। 
- বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
প্রতিধ্বনি তৈরি হওয়ার জন্য সর্বনিম্ন দূরত্ব কত হওয়া উচিত?
  1. 3.32 মি.
  2. 1.165 মি.
  3. 1.68 মি.
  4. 16.5 মি.
ব্যাখ্যা

• প্রতিধ্বনি বা ইকো শুনতে হলে শব্দকে উৎস থেকে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ে ভিন্নতার প্রয়োজন। সাধারণত মানুষের কানে দুটি আলাদা শব্দ আলাদা হিসেবে চিনতে কমপক্ষে 0.1 সেকেন্ডের সময়ের পার্থক্য থাকা উচিত। 
- সঠিক উত্তর হলো ঘ) 16.5 মি.

• শব্দের প্রতিফলন (Reflection of Sound):
- যখন কোনো শব্দ তরঙ্গ কোনো কঠিন ও মসৃণ পৃষ্ঠে আঘাত করে ফিরে আসে, তখন সেই ঘটনাকে বলা হয় শব্দের প্রতিফলন।
- শব্দ প্রতিফলনের জন্য পৃষ্ঠটি হতে হবে কঠিন, মসৃণ ও সমতল (যেমন: দেওয়াল, পাহাড়, ভবন ইত্যাদি)।

- বায়ুতে শব্দের বেগ ৩৩০ মিটার প্রতি সেকেন্ড হলে, শব্দটি প্রতিফলিত দেয়ালে গিয়ে ফিরে আসার মোট সময় হবে ০.১ সেকেন্ড।
-  সুতরাং, 2d = v × t অনুযায়ী, 2d = 330 × 0.1 = 33, অর্থাৎ d = 16.5 মিটার।
-  তাই শব্দের প্রতিফলন ঘটার জন্য ন্যূনতম দূরত্ব হতে হবে ১৬.৫ মিটার।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।

.
ধারকের (Capacitor) ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. 1 μF = 10- 10 F
  2. 1 μF = 10- 19 F
  3. 1 μF = 10- 6 F
  4. 1 μF = 10- 3 F
ব্যাখ্যা

• ধারকের ক্ষেত্রে  সঠিক 1 μF = 10- 6 F
- ধারক বা ক্যাপাসিটার হল এমন একটি বৈদ্যুতিক উপাদান যা চার্জ সঞ্চয় করতে পারে। “μF” মানে মাইক্রোফারাড, যেখানে “মাইক্রো” মানে 10-6 

• ধারক:
- কোনো বস্তুকে তাপ দিলে বস্তু তাপ ধারণ করে রাখে, তাই বস্তুকে তাপ ধারক বলা যায়।
- তেমনি যে বস্তু আধান ধারণ অর্থাৎ সঞ্চয় করে রাখে, তাকে আধান ধারক বা শুধু ধারক বলে।
- পাত্রে পানি ঢাললে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়, কোনো বস্তুকে তাপ দিলে তার তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় তেমনি কোনো বস্তুতে আধান প্রদান করলে বস্তুর বিভব বৃদ্ধি পায়।
- যে পরিমাণ আধান প্রদান করলে একটি বস্তুর বিভব 1V বৃদ্ধি পায় তাকে তার ধারকত্ব বলে।
- সহজ কথায় বলতে গেলে যে ধারণ করে সেই ধারক। যেমন গ্লাস, বালতি বা কলসী পানি ধারণ করে। সুতরাং তাদেরকে পানি ধারক বলা যায়।
- ধারকত্বকে C দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- ধারকের একক ফ্যারাড (F)।
- ধারকের একক ফ্যারাডে একটি বেশ বড় একক। এজন্য এর কতগুলো ছোট একক ব্যবহার করা হয়।

১. 1 μF (মাইক্রো ফ্যারাড) = 10- 6 F
২. 1 nF (ন্যানো ফ্যারাড) = 10- 9 F
৩. 1 pF (পিকো ফ্যারাড) = 10- 12 F

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কুলম্ব কোন পরিমাপের একক?
  1. আধান
  2. ভোল্ট
  3. ওহম
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• কুলম্ব (Coulomb) হল বৈদ্যুতিক চার্জের একক। এটি আধানের পরিমাপ নির্দেশ করে। এক কুলম্ব হল এমন একটি চার্জ যা এক অ্যাম্পিয়ারের ধারা এক সেকেন্ড ধরে প্রবাহিত হলে তৈরি হয়। সুতরাং, কুলম্ব ভোল্ট, সিমেন্স বা ওহম নয়; এটি সরাসরি বৈদ্যুতিক চার্জের পরিমাণকে প্রকাশ করে।

সঠিক উত্তর: ক) আধান।

- SI এককে পরিবাহিতার একক সিমেন্স(S)।

• এছাড়াও,
- তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপের একক হলো অ্যাম্পিয়ার।
- তড়িৎ বিভব পার্থক্য পরিমাপের একক হলো ভোল্ট।
- রোধ পরিমাপের একক হলো ওহম।

উৎস: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

১০.
মানুষের শ্রাব্যতার শব্দোত্তর তরঙ্গের সীমা হচ্ছে:
  1. 5,000 Hz
  2. 35,000 Hz
  3. 20,000 Hz
  4. 200 Hz
ব্যাখ্যা

• মানুষ সাধারণত ২০ হের্টজ থেকে ২০,০০০ Hz পর্যন্ত শব্দ শুনতে সক্ষম। এই সীমার মধ্যে আমাদের কানের সংবেদনশীলতা থাকে, যা দৈনন্দিন জীবনে কথোপকথন, সংগীত এবং পরিবেশের শব্দ বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই মানুষের শ্রাব্যতার শব্দোত্তর তরঙ্গের সীমা হলো ২০,০০০ Hz।
- সুতরাং সঠিক উত্তর হলো গ) 20,000 Hz

শব্দ তরঙ্গ:
- শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন।
- কিন্তু কম্পন হলেই শব্দ শোনা যাবে তা সত্য নয়।
- মানুষের শ্রবণ যন্ত্রের সীমাবদ্ধতা আছে।
- উৎসের কম্পন প্রতি সেকেন্ডে 20 টির নিচে হলে যে শব্দ উৎপন্ন হয় তা আমরা শুনতে পাই না। আবার উৎসের কম্পন যদি প্রতি সেকেন্ডে 20,000 টির বেশি হয় তাহলে যে শব্দ উৎপন্ন হয় তাও আমরা শুনতে পাই না। 
- আসলে আমাদের (মানুষের) শ্রবণ ইন্দ্রিয় 20 Hz থেকে 20, 000 Hz কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পারে।
অর্থাৎ মানুষের শ্রাব্যতার সীমা 20 থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের মধ্যে। 

- এই সীমার নিচের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় (শব্দ থেকে কম) শব্দেতর তরঙ্গ এবং উপরের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় (শব্দ থেকে বেশি) শব্দোত্তর তরঙ্গ।
- কয়েকটি প্রাণীর গড় শ্রাব্যতার পাল্লা নিচের ছকে উল্লেখ করা হলো-

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
ওহমের সূত্রকে গাণিতিকভাবে কিভাবে প্রকাশ করা হয়?
  1. Q = It
  2. P = VI
  3. F = ma
  4. V = IR
ব্যাখ্যা

• ওহমের সূত্র গাণিতিকভাবে V = IR দ্বারা প্রকাশ করা হয়, যেখানে V হলো বৈদ্যুতিক ভোল্টেজ, I হলো বৈদ্যুতিক প্রবাহ এবং R হলো প্রতিরোধ। এটি নির্দেশ করে যে কোনো পরিবাহকের দুই প্রান্তের ভোল্টেজ তার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কারেন্টের সমানুপাতিক এবং সেই পরিবাহকের বৈদ্যুতিক প্রতিরোধের উপর নির্ভরশীল। এই সূত্র বৈদ্যুতিক পরিমাপ ও সার্কিট বিশ্লেষণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
 
ওহমের সূত্র:
 • সূত্রটির গাণিতিক রূপ হলো-
V = IR

এখানে,
V = ভোল্টেজ বা বিভব পার্থক্য (Volt)
I = কারেন্ট বা বিদ্যুৎ প্রবাহ (Ampere)
R = রোধ  (Ohm)
এই সূত্র অনুসারে, কোনো পরিবাহকের দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য পরিবাহকের রোধ ও পরিবাহকের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কারেন্টর সাথে সম্পর্কযুক্ত।

অন্যদিকে,
• P = VI – এটি বিদ্যুৎ শক্তি বা Power-এর সূত্র।
• Q = It – এটি আধান (Charge) নির্ণয়ের সূত্র।
• F = ma – এটি নিউটনের দ্বিতীয় গতি সূত্র (বলের সূত্র)। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচ.এস.সি. প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে ________ বলে। 
  1. কম্পাঙ্ক
  2. তরঙ্গ দৈর্ঘ্য
  3. তরঙ্গ বেগ
  4. বিস্তার
ব্যাখ্যা

• তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে কম্পাঙ্ক বলা হয়। এটি তরঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য যা তরঙ্গের ঘনত্ব ও তার গতির সাথে সম্পর্কিত। কম্পাঙ্ক বৃদ্ধি পেলে স্পন্দনের সংখ্যা বাড়ে এবং কম্পাঙ্ক কমলে স্পন্দনের সংখ্যা কমে। এটি সাধারণত হার্জ (Hz) এককে পরিমাপ করা হয়।
 
 তরঙ্গ:
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে কম্পাঙ্ক বলে।
- একে সাধারণত f দ্বারা প্রকাশ করা হয়। এর একক হার্জ। সংক্ষেপে লেখা হয় Hz।
- তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণা কোনো বিন্দু থেকে যাত্রা শুরু করে একই দিক থেকে পুনরায় ঐ বিন্দুতে ফিরে এলে তাকে একটি পূর্ণস্পন্দন বলে।
- সঞ্চারণকারী কোনো কণার একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে ঐ তরঙ্গের পর্যায়কাল বলে। পর্যায়কালকে T দ্বারা প্রকাশ করা হয়। পর্যায়কালের একক সেকেন্ড।
- সঞ্চারণকারী কোনো কণার একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন হতে যে সময় লাগে, সেই সময়ে তরঙ্গ যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বলে।
- তরঙ্গ নির্দিষ্ট দিকে একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে ঐ তরঙ্গের বেগ বা সংক্ষেপে তরঙ্গ বেগ বলে।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপ করার জন্য কোন একক ব্যবহৃত হয়?
  1. ওহম
  2. ভোল্ট
  3. অ্যাম্পিয়ার
  4. কুলম্ব
ব্যাখ্যা

• তড়িৎ প্রবাহ বা বৈদ্যুতিক কারেন্ট পরিমাপ করার জন্য ব্যবহৃত একক হলো অ্যাম্পিয়ার। এটি বৈদ্যুতিক পরিবাহী মাধ্যমে ইলেকট্রনের প্রবাহের মাত্রা নির্দেশ করে। এক অ্যাম্পিয়ার কারেন্ট মানে হলো প্রতি সেকেন্ডে এক কুলম্ব চার্জ প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে, ওহম হল প্রতিরোধের একক, ভোল্ট হল বৈদ্যুতিক চাপের একক, এবং কুলম্ব হল চার্জের পরিমাণের একক। তাই বৈদ্যুতিক কারেন্ট পরিমাপের জন্য সঠিক একক হলো অ্যাম্পিয়ার।

• তড়িৎ প্রবাহ:
- তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপের একক হচ্ছে অ্যাম্পিয়ার।
- তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপের একক হলো অ্যাম্পিয়ার।
- যার প্রতীক হলো A
- তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপ করার জন্য অ্যামিটার নামক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।

অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- আধান বা চার্জের একক হলো কুলম্ব।
- তড়িৎ বিভব পার্থক্য পরিমাপের একক হলো ভোল্ট।
- রোধ পরিমাপের একক হলো ওহম।

উৎস: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪.
6Ω, 8Ω ও 9Ω মানের তিনটি রোধ শ্রেণি সমবায়ে সংযুক্ত থাকলে তাদের তুল্য রোধ হবে:
  1. 23 Ω
  2. 20 Ω
  3. 0.8 Ω
  4. 1.4 Ω
ব্যাখ্যা

• 6Ω, 8Ω ও 9Ω মানের তিনটি রোধ শ্রেণি সমবায়ে সংযুক্ত থাকলে তাদের তুল্য রোধ হবে: 23 Ω

দেওয়া আছে, 
রোধ, R1 = 6Ω, 
রোধ, R2 = 8Ω এবং 
রোধ, R3 = 9Ω 

যেহেতু রোধ তিনটি শ্রেণি সমবায়ে সংযুক্ত সুতরাং তুল্য রোধ, R = R1 + R2 + R3 
= 6Ω + 8Ω + 9Ω 
= 23Ω 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
বিদ্যুৎ শক্তির হিসাবের জন্য ব্যবহৃত একক কী?
  1. জুল
  2. ওয়াট
  3. কিলোওয়াট-ঘণ্টা 
  4. ওয়াট-ঘণ্টা
ব্যাখ্যা

• বিদ্যুৎ শক্তির হিসাব করার জন্য সাধারণভাবে ব্যবহৃত একক হলো কিলোওয়াট-ঘণ্টা। এটি একটি শক্তি একক যা বোঝায় যে একটি যন্ত্র কত কিলোওয়াট শক্তি ব্যবহার করেছে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, সাধারণত ঘণ্টায়। জুল হলো শক্তির মৌলিক একক, ওয়াট হলো শক্তির হার, আর ওয়াট-ঘন্টা শক্তির একটি ছোট একক। 
- সুতরাং, বিদ্যুৎ বিল হিসাব করার জন্য কিলোওয়াট-ঘণ্টা  ব্যবহার করা হয়।

 
 কিলোওয়াট-ঘন্টা:
- বিদ্যুৎ শক্তির বাণিজ্যিক একক কিলোওয়াট-ঘন্টা।
- কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্রের বা উৎসের কাজ করার হারকে এর ক্ষমতা বলে।
- অর্থাৎ কোনো বৈদ্যুতিক উৎস একক সময়ে যে কাজ করে তাকে তার ক্ষমতা বলে।
- বৈদ্যুতিক ক্ষমতার ব্যবহারিক একক হল ওয়াট (Watt)।
- ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎস ১ ঘণ্টা চলতে থাকলে যে পরিমাণ শক্তি ব্যয় হয় তাকে ১ ওয়াট-ঘণ্টা বলা হয়।
- ১ কিলোওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎস ১ ঘণ্টা ধরে চলতে থাকলে যে পরিমাণ শক্তি ব্যয় হয় তাকে ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বা ১ ইউনিট বলা হয়।
- ১ ইউনিট= ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।