পরীক্ষা আর্কাইভ

GKpedia - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

পরীক্ষাGKpedia - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৯
সিলেবাস
পরীক্ষা- ৪ টপিক ভৌগোলিক পরিচিতি – নাম, উপনাম, সাগর, উপসাগর, সমুদ্রবন্দর, নদী, প্রণালী, দ্বীপ, ভূমিরূপ এবং স্বতন্ত্র রাষ্ট্র ও শহর, মানব জীবনের বিবর্তন ও সভ্যতার উত্তরণ এবং প্রাচীন যুগ [ক্লাস ৭ ও ৮]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

GKpedia - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

GKpedia - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৯ প্রশ্ন

.
উত্তরের ভেনিস (Venice of the North) বলা হয় কোন শহরকে?
  1. কোপেনহেগেন
  2. অসলো
  3. হেলসিঙ্কি
  4. স্টকহোম
সঠিক উত্তর:
স্টকহোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টকহোম
ব্যাখ্যা

ভৌগলিক উপনাম:- 
- সুইডেনের রাজধানী  স্টকহোম শহরটি অসংখ্য দ্বীপ ও খালের ওপর গড়ে উঠেছে এবং বহু সেতুর মাধ্যমে সংযুক্ত।
- এ কারণে এর জলময় সৌন্দর্য ইতালির ভেনিসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় স্টকহোমকে “উত্তরের ভেনিস (Venice of the North)” বলা হয়।
--------------------
কিছু ভৌগলিক উপনাম:
শ্বেতহস্তীর দেশ — থাইল্যান্ড,
পবিত্র ভূমি — জেরুজালেম,
ম্যাপল পাতার দেশ - কানাডা, 
হাজার হ্রদের দেশ বলা হয়- ফিনল্যান্ড,
পবিত্র দেশ — ফিলিস্তিন,
বজ্রপাতের দেশ — ভুটান,
পিরামিডের দেশ / নীল নদের দেশ — মিশর,
সূর্যোদয়ের দেশ — জাপান,
ভূমিকম্পের দেশ — জাপান,
প্রাচ্যের ম্যানচেস্টার — ওসাকা,
পবিত্র পাহাড় — ফুজি পর্বত,
চীনের নীলনদ — ইয়াংসিকিয়াং,
লবঙ্গ দ্বীপ — জাঞ্জিবার,
নিষিদ্ধ দেশ — তিব্বত,
নিষিদ্ধ শহর — লাসা,
পৃথিবীর ছাদ — পামির মালভূমি / তিব্বত মালভূমি, 
দ্বীপের মহাদেশ — অস্ট্রেলিয়া, 
আগুনের দ্বীপ — আইসল্যান্ড, 
মুক্তার দেশ — কিউবা, 
মুক্তার দ্বীপ — বাহরাইন, 
পৃথিবীর চিনির আধার — কিউবা।
------------------------ 
অন্যদিকে,
- Copenhagen : ডেনমার্কের রাজধানী।
- Oslo : নরওয়ের রাজধানী।
- Helsinki : ফিনল্যান্ডের রাজধানী। 

উৎস: Britannica. 

.
কানাডার পশ্চিমে কোন মহাসাগর অবস্থিত?
  1. আটলান্টিক মহাসাগর
  2. প্রশান্ত মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর
  4. দক্ষিণ মহাসাগর 
সঠিক উত্তর:
প্রশান্ত মহাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা

প্রশান্ত মহাসাগর:
- প্রশান্ত মহাসাগর পৃথিবীর বৃহত্তম, গভীরতম ও প্রশস্ততম মহাসাগর।
- এর আয়তন প্রায় ৬৩ মিলিয়ন বর্গমাইল এবং
- আকৃতিতে এটি বৃহদাকার ত্রিভুজ এর মতো দেখতে।
- এ মহাসাগরটি এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে অবস্থিত।
- কানাডার পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগর (Pacific Ocean) অবস্থিত।
- বিশেষ করে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশটি এই মহাসাগরের তীরে অবস্থান করছে, যা কানাডার পশ্চিম সীমানা নির্ধারণ করে।

- প্রশান্ত মহাসাগরের গড় গভীরতা ( সংলগ্ন সমুদ্র ব্যতীত) ১৪,০৪০ ফুট (৪,২৮০ মিটার)।
- উত্তর গোলার্ধে প্রশান্ত মহাসাগর বেরিং সাগরের মাধ্যমে আর্কটিক মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত হয়।
- অপরদিকে, দক্ষিণ গোলার্ধে প্রশান্ত মহাসাগর আটলান্টিক মহাসাগরের সঙ্গে একটি তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ অঞ্চলে মিলিত হয়।

- প্রশান্ত মহাসাগরের তথা পৃথিবীর গভীরতম স্থান মারিয়ানা ট্রেঞ্চ, যার গভীরতা প্রায় ১১,০৩৪ মিটার।
- মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরতম বিন্দু হচ্ছে Challenger Deep.
- পাশাপাশি এই মহাসাগরেই অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম প্রবালপ্রাচীর গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ।
- এটি অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূল জুড়ে অবস্থিত।  

উৎস: Britannica. 

.
আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম সাগর কোনটি?
  1. কোরাল সাগর
  2. আরব সাগর 
  3. ফিলিপাইন সাগর 
  4. ওয়েডেল সাগর
সঠিক উত্তর:
ফিলিপাইন সাগর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিলিপাইন সাগর 
ব্যাখ্যা

• পৃথিবীর বৃহত্তম সাগর:
- আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম সাগর- ফিলিপাইন সাগর।
- এর আয়তন- ৫,৬৯৫,০০০ বর্গকি.মি.। 

- ফিলিপাইন সাগর হল পশ্চিম উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের একটি অংশ, যা ফিলিপাইনের পূর্ব ও উত্তরে অবস্থিত।
- এর তলদেশ ভূতাত্ত্বিক ভাঁজ ও চ্যুতির সিরিজ দ্বারা গঠিত, যা সীমানা দ্বীপ বৃত্তের আকারে পৃষ্ঠে দেখা যায়।
- এখানে লুজন, সামার, মিন্দানাও, পালাউ, ইয়াপ, উলিথি, মারিয়ানা (গুয়াম, সাইপান, টিনিয়ান), বনিন, জাপানের হোনশু, শিকোকু, কিউশু, রিউকিউ (ওকিনাওয়া) এবং তাইওয়ান অন্তর্ভুক্ত।
- ফিলিপাইন সাগরের বিস্তার প্রায় ১,৮০০ মাইল উত্তর–দক্ষিণ ও ১,৫০০ মাইল পূর্ব–পশ্চিমে।
- এর গভীরতম স্থলফল ফিলিপাইন ট্রেঞ্চ (১০,৫৩৯ মিটার) পর্যন্ত পৌঁছে।
- এখানে অসংখ্য সীমাউন্ট ও আগ্নেয়গিরি রয়েছে।
- সমুদ্রের স্রোত, যেমন উষ্ণপ্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত ও কুরোশিও স্রোত, মাছ ধরা ও সমুদ্রের পরিবেশকে প্রভাবিত করে।
- এছাড়া, সেপ্টেম্বরে এই অঞ্চলে শক্তিশালী টাইফুন ঘটে।
-----------------
অন্যদিকে,
• কোরাল সাগর অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
- এর আয়তন-  ৪,৭৯১,০০০ বর্গকি.মি.। 

• আরব সাগর ভারত মহাসাগরের উত্তর-পশ্চিম অংশে, ভারতীয় উপমহাদেশ (পূর্বে) এবং আরব উপদ্বীপের (পশ্চিমে) মধ্যে অবস্থিত।
- এর আয়তন- ৩,৮৬২,০০০ বর্গকিমি। 

• ওয়েডেল সাগর দক্ষিণ মহাসাগরের একটি অংশ।
এটি অ্যান্টার্কটিকার পূর্ব উপকূলে (বিশেষ করে অ্যান্টার্কটিক উপদ্বীপের পূর্বে) অবস্থিত।
এর আয়তন- ২,৮০০,০০০ বর্গকিমি।  

উৎস: Britannica. 

.
হাইফা সমুদ্রবন্দর কোন দেশে অবস্থিত? 
  1. ইসরায়েল
  2. লিবিয়া
  3. কানাডা
  4. রাশিয়া
সঠিক উত্তর:
ইসরায়েল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসরায়েল
ব্যাখ্যা

হাইফা সমুদ্রবন্দর:
- হাইফা হলো উত্তর-পশ্চিম ইসরায়েলের প্রধান সমুদ্রবন্দর। 
- এটি ভূমধ্যসাগরের হাইফা উপসাগরের ধারে অবস্থিত।
- শহরটি প্রাচীনকাল থেকে উল্লেখযোগ্য, ক্রুসেডাররা ১১০০ সালে দখল করেছিল এবং ১৮৩৯ ও ১৮৪০ সালে বিভিন্ন শাসকরা নিয়ন্ত্রণ করেছিল।
- ১৯১৮ সালে ব্রিটিশ বাহিনী দখল করে।
- এবং ১৯২২ সালে এটি বাধ্যতামূলক ফিলিস্তিনের অংশ হয়ে যায়।  
-------------------- 
উল্লেখ্য,
• বিখ্যাত সমুদ্রবন্দর ও সংশ্লিষ্ট দেশ (এশিয়া):
সাংহাই — চীন, 
গুয়াংঝু / ক্যান্টন — চীন,
হংকং — চীন (বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল),
ইয়োকোহামা — জাপান,
ওসাকা — জাপান,
বন্দর আব্বাস — ইরান,
হাম্বানটোটা — শ্রীলঙ্কা,
এডেন — ইয়েমেন। 

• বিখ্যাত সমুদ্রবন্দর ও সংশ্লিষ্ট দেশ (আফ্রিকা):
বেনগাজি — লিবিয়া, 
পোর্ট মোম্বাসা — কেনিয়া, 
পোর্ট সাইদ — মিশর,
আলেকজান্দ্রিয়া — মিশর,
কেপ টাউন — দক্ষিণ আফ্রিকা,
ক্যাসাব্লাংকা — মরক্কো। 

• বিখ্যাত সমুদ্রবন্দর ও সংশ্লিষ্ট দেশ (ইউরোপ):
নভোরোসিস্ক — রাশিয়া, 
হামবুর্গ — জার্মানি,
ব্রিস্টল — যুক্তরাজ্য,
কার্ডিফ — যুক্তরাজ্য (ওয়েলস),
নিউক্যাসল — যুক্তরাজ্য,
গ্লাসগো — যুক্তরাজ্য (স্কটল্যান্ড),
লিসবন — পর্তুগাল,
অ্যান্টওয়ার্প — বেলজিয়াম,
ডানজিগ (বর্তমান গদানস্ক) — পোল্যান্ড। 

• বিখ্যাত সমুদ্রবন্দর ও সংশ্লিষ্ট দেশ (উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা):
ভ্যাঙ্কুভার, মন্ট্রিয়াল — কানাডা, 
নিউ অরলিন্স — যুক্তরাষ্ট্র,
ব্রিসবেন — অস্ট্রেলিয়া। 

উৎস: Britannica.  

.
নিম্নলিখিত কোন দেশটি স্থলবেষ্টিত নয়?
  1. লেসোথো
  2. নেপাল
  3. লিচেনস্টাইন
  4. জর্ডান
সঠিক উত্তর:
জর্ডান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জর্ডান
ব্যাখ্যা

 জর্ডান স্থলবেষ্টিত দেশ নয়।
- কারণ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে লোহিত সাগরের সঙ্গে সংলগ্ন একটি ক্ষুদ্র উপকূলরেখা রয়েছে।
- জর্ডানের একমাত্র সমুদ্রবন্দর হলো আকাবা, যা এই উপকূলে অবস্থিত।
--------------
• স্থলবেষ্টিত দেশ (Landlocked Countries):
- যেসব দেশের নিজস্ব সমুদ্র উপকূল নেই, অর্থাৎ সরাসরি সমুদ্রবন্দর নেই, সেগুলোকে Landlocked Country (স্থলবেষ্টিত দেশ) বলা হয়।
- বর্তমানে বিশ্বে ৪৪টি স্বীকৃত স্থলবেষ্টিত দেশ রয়েছে।
- যদি কসোভোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাহলে সংখ্যা ধরা হয় ৪৫ (কারণ কসোভোর স্বীকৃতি সর্বজনীন নয়)*।

- মহাদেশভিত্তিক স্থলবেষ্টিত দেশ:

• এশিয়া মহাদেশে ১০টি স্থলবেষ্টিত দেশ রয়েছে:
আফগানিস্তান,
নেপাল,
ভুটান,
লাওস,
মঙ্গোলিয়া,
কাজাখস্তান,
কিরগিজস্তান,
উজবেকিস্তান,
তাজিকিস্তান,
তুর্কমেনিস্তান। 

• আফ্রিকা মহাদেশে ১৬টি স্থলবেষ্টিত দেশ রয়েছে:
মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র,
লেসোথো,
বুরকিনা ফাসো,
এসওয়াতিনি (সাবেক সোয়াজিল্যান্ড),
মালি,
নাইজার,
উগান্ডা,
বতসোয়ানা,
জিম্বাবুয়ে,
রুয়ান্ডা,
বুরুন্ডি,
মালাউই,
জাম্বিয়া,
ইথিওপিয়া,
চাদ,
দক্ষিণ সুদান। 

• ইউরোপ মহাদেশে ১৫টি স্থলবেষ্টিত দেশ রয়েছে:
অ্যান্ডোরা,
অস্ট্রিয়া,
আর্মেনিয়া,
বেলারুশ,
চেক প্রজাতন্ত্র,
হাঙ্গেরি,
লিচেনস্টাইন,
লুক্সেমবার্গ,
মলদোভা,
উত্তর মেসিডোনিয়া,
স্যান মারিনো,
সার্বিয়া,
স্লোভাকিয়া,
সুইজারল্যান্ড,
ভ্যাটিকান সিটি,
কসোভো*

• দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে ২টি স্থলবেষ্টিত দেশ রয়েছে:
বলিভিয়া,
প্যারাগুয়ে। 

উৎস: Britannica. 

.
দক্ষিণ আফ্রিকার আটলান্টিক উপকূলে অবস্থিত অন্তরীপ- 
  1. হর্ন অন্তরীপ
  2. ট্রাফালগার অন্তরীপ 
  3. উত্তমাশা অন্তরীপ
  4. গার্দাফুই অন্তরীপ
সঠিক উত্তর:
উত্তমাশা অন্তরীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তমাশা অন্তরীপ
ব্যাখ্যা

উত্তমাশা অন্তরীপ দক্ষিণ আফ্রিকার আটলান্টিক উপকূলে অবস্থিত। 
--------------------------------------- 
• উত্তমাশা অন্তরীপ (Cape of Good Hope):
- উত্তমাশা অন্তরীপ হলো আফ্রিকার এক গুরুত্বপূর্ণ ভূ-প্রান্ত।
- এটি দক্ষিণ আফ্রিকার আটলান্টিক উপকূলে অবস্থিত কেপ পেনিনসুলার অংশ।
- সাধারণভাবে, যখন কোনো ভূপৃষ্ঠ ক্রমশ সরু হয়ে সাগরে প্রবেশ করে, তখন সেই অংশকে অন্তরীপ বলা হয়।

- উত্তমাশা অন্তরীপের প্রথম আবিষ্কার করেন পর্তুগিজ অভিযাত্রী বার্থোলোমিউ ডিয়াজ।
- তিনি ১৪৮৮ সালে এই কেপে পৌঁছান এবং প্রথমে এটিকে নাম দেন ‘কেপ অব স্টর্মস’।
- পরে পর্তুগিজরা এই নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘কেপ অব গুড হোপ’ বা উত্তমাশা অন্তরীপ।
----------------------------------------------
• অন্যান্য উল্লেখযোগ্য অন্তরীপের উদাহরণ:
- হর্ন অন্তরীপ: চিলি। 
- ট্রাফালগার অন্তরীপ: স্পেন।
- গার্দাফুই অন্তরীপ: সোমালিয়া। 
- মরিস জেসাপ অন্তরীপ: গ্রিনল্যান্ড

উৎস: ব্রিটানিকা ও ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস। 

.
১৯৮৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের জন্য পরিচিত স্কয়ার কোনটি?
  1. ট্রাফালগার স্কয়ার
  2. তিয়েনআনমেন স্কয়ার
  3. রেড স্কয়ার
  4. টাইমস স্কয়ার 
সঠিক উত্তর:
তিয়েনআনমেন স্কয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিয়েনআনমেন স্কয়ার
ব্যাখ্যা

১৯৮৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের জন্য পরিচিত স্কয়ার- তিয়েনআনমেন স্কয়ার। 
----------------
তিয়েনআনমেন স্কয়ার:
- বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রধান শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন বিখ্যাত স্কয়ার।
- এই সব স্কয়ারগুলো শুধু পর্যটন কেন্দ্র নয়, বরং ইতিহাস, রাজনীতি এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতীক।

- তিয়েনআনমেন স্কয়ার চীনের বেইজিং শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ও ঐতিহাসিক সিটি স্কয়ার।
- এটি নিষিদ্ধ নগরের দক্ষিণে, ‘স্বর্গীয় শান্তির তোরণ’- নামে পরিচিত।
- ১৯৪৯ সালে মাও সেতুং এখান থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করেছিলেন।
- ১৯৮৯ সালের গণতন্ত্রকামী ছাত্র ও নাগরিক বিক্ষোভ এবং পরবর্তী রক্তাক্ত দমনের জন্য স্কয়ারটি বিশ্বব্যাপী পরিচিত
- এটি চীনের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ এবং বর্তমানে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টিত বিশ্বের বৃহত্তম জনসমাগম স্থলগুলোর একটি।
-----------
উল্লেখ্য, 
• বিশ্বের বিখ্যাত কিছু স্কয়ার:

ট্রাফালগার স্কয়ার লন্ডনের একটি প্রসিদ্ধ জনসভা ও পর্যটন কেন্দ্র।
• তাহরির স্কয়ার মিশরে অবস্থিত।
• রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর রেড স্কয়ার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
• যুক্তরাষ্ট্রের টাইমস স্কয়ার নিউইয়র্কে অবস্থিত এবং এটি বাণিজ্যিক ও বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বখ্যাত। 
• চেক প্রজাতন্ত্রের প্রাগে ওয়েন্সেসলাস স্কয়ার সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত।
বাংলাদেশ স্কয়ার লাইবেরিয়ায় অবস্থিত। 

উৎস: Britannica ও BBC. 

.
জলপ্রবাহের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম নদী হলো-
  1. ইয়াংসি
  2. ভলগা
  3. আমাজন
  4. নীলনদ
সঠিক উত্তর:
আমাজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমাজন
ব্যাখ্যা

জলপ্রবাহের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম নদী- আমাজন নদী।
------------
আমাজন নদী:
- আমাজন নদী দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় নদী।
- এটি পানি প্রবাহ এবং অববাহিকার আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম।
- নদীর উৎস দক্ষিণ পেরুর উকায়ালি-অ্যাপুরিমাক নদী থেকে শুরু, আন্দিজ পর্বতমালার কাছে।
- নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,০০০ মাইল (৬,৪০০ কিমি), যা নীলনদের চেয়ে সামান্য কম।
- নদীর মুখ ব্রাজিলের উত্তর-পূর্ব উপকূলে আটলান্টিক মহাসাগরে পতিত হয়। 
------------- 
উল্লেখ্য,
- এশিয়ার দীর্ঘতম নদী: ইয়াংসি। 
- ইউরোপের দীর্ঘতম নদী: ভলগা।
- আফ্রিকার দীর্ঘতম নদী: নীলনদ।
- “চীনের দুঃখ” নামে পরিচিত নদী: হোয়াংহো।
- পঞ্চনদের দেশ: পাঞ্জাব (সিন্ধুর উপনদীগুলোর জন্য)।
- আন্তর্জাতিক নদী: দানিয়ুব।
- মেসোপটেমিয়া সভ্যতার অববাহিকা নদী: টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস। 

উৎস: Britannica. 

.
গ্রেট বেরিয়ার রিফ কোথায় অবস্থিত?
  1. কুইন্সল্যান্ড
  2. ভিক্টোরিয়া
  3. নিউ সাউথ ওয়েলস
  4. টাসম্যানিয়া
সঠিক উত্তর:
কুইন্সল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুইন্সল্যান্ড
ব্যাখ্যা

অস্ট্রেলিয়া:
- অস্ট্রেলিয়া হলো দক্ষিণ গোলার্ধের দেশ।
- দেশটির একটি বিশেষ ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য হলো গ্রেট বেরিয়ার রিফ। 
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রবাল প্রাচীর।
- এই প্রাচীরটি অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে অবস্থিত।
-------------------------------------------- 
উল্লেখ্য,
- অস্ট্রেলিয়ার শাসন ব্যবস্থায় রাজা চার্লস তৃতীয় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আছেন। 
- তিনি কমনওয়েলথের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- বাস্তবে, গভর্নর-জেনারেল রাজার প্রতিনিধি হিসাবে দেশ পরিচালনা করেন এবং নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।
- গভর্নর-জেনারেলকে রাষ্ট্রপ্রধান নিযুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী সরকারের পরামর্শে।
- প্রধানমন্ত্রী হলো সরকারের প্রধান এবং দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

- অর্থনীতি ও পরিবেশ সংক্রান্ত ক্ষেত্রে, অস্ট্রেলিয়া ২০১২ সালে কার্বন কর চালু করে।
- এটি কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পণ্যের উপর নির্ভর করে ধার্য করা হয়। 
- এর উদ্দেশ্য ছিল কার্বন নিঃসরণের নিয়ন্ত্রণ করা।
- অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক উইকিলিকস হলো একটি ওয়েবসাইট, যা বিভিন্ন সরকারি তথ্য ও নথি প্রকাশের জন্য পরিচিত।

উৎস: Britannica. 

১০.
কোন শহরটি নীল নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. কায়রো
  2. লন্ডন 
  3. নিউইয়র্ক
  4. বুদাপেস্ট
সঠিক উত্তর:
কায়রো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়রো
ব্যাখ্যা

• কায়রো- নীল নদীর তীরে অবস্থিত। 
--------------- 
• কায়রো:
- কায়রো মিশরের রাজধানী এবং আফ্রিকার বৃহত্তম শহরগুলির একটি।
- এটি নীল নদীর ব-দ্বীপের শীর্ষ ভাগে অবস্থিত, যেখানে নদী দুই শাখায় বিভক্ত—রোসেটা এবং দামিয়েটা।
- কায়রো ১,০০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নীল নদীর তীরে গড়ে উঠেছে। 
- এই শহরের নাম এসেছে আল-ক্বাহিরা থেকে, যার অর্থ “বিজয়ী”।
- ধারণা করা হয়, কায়রোর খুব কাছেই প্রাচীন মিশরীয় বাবিলন শহর অবস্থিত ছিল।
- কায়রো নীল ব-দ্বীপের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
---------------- 
উল্লেখ্য,
- বিশ্বের অনেক প্রধান শহরই নদীর তীরে গড়ে উঠেছে।
- হাঙ্গেরির বুদাপেস্ট এবং সার্বিয়ার বেলগ্রেড দানিয়ুব নদীর তীরে অবস্থিত।
- যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন টেমস নদীর তীরে গড়ে উঠেছে।
- ফ্রান্সের প্যারিস সিন নদীর তীরে গড়ে উঠেছে।
- বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থান করছে। 
- যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক হাডসন নদীর তীরে গড়ে উঠেছে। 
- এবং রাশিয়ার মস্কো মস্কোভা নদীর তীরে গড়ে উঠেছে।

উৎস: Britannica. 

১১.
৪৯° উত্তর অক্ষরেখা কোন দেশের সীমান্তে অবস্থিত?
  1. যুক্তরাষ্ট্র–মেক্সিকো
  2. যুক্তরাষ্ট্র–কানাডা
  3. ভারত–চীন
  4. পাকিস্তান–আফগানিস্তান 
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র–কানাডা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র–কানাডা
ব্যাখ্যা

৪৯° উত্তর অক্ষরেখা:
- ৪৯° উত্তর অক্ষরেখা (49th Parallel North) মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত হিসেবে কাজ করে।
- এটি ১৮১৮ সালের চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। 
- এটি পশ্চিমে জর্জিয়া প্রণালী থেকে পূর্বে লেক অফ দ্য উডস পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এই সীমান্ত কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, আলবার্টা, সাসকাচোয়ান এবং ম্যানিটোবা প্রদেশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন, আইডাহো, মন্টানা, নর্থ ডাকোটা এবং মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য থেকে আলাদা করে।
- ১৮১৮ সালের অ্যাংলো-আমেরিকান কনভেনশন এবং ১৮৪৬ সালের ওরেগন চুক্তির মাধ্যমে এই সীমান্ত চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়।
-----------------
উল্লেখ্য, 
- বিশ্বে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক সীমারেখা রয়েছে, যা রাজনৈতিক এবং সামরিক কারণে পরিচিত।
- যেমন-
• ৩৮° উত্তর অক্ষরেখা উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে, যা কোরিয়া যুদ্ধে (১৯৫০) পূর্ববর্তী বিভাজনরেখা হিসেবে পরিচিত।

• দক্ষিণ এশিয়ায়, র‍্যাডক্লিফ লাইন ভারত ও পাকিস্তানকে বিভক্ত করেছে; 
• ডুরান্ড লাইন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমা নির্ধারণ করেছে;
• আর ম্যাকমোহন লাইন ভারত ও চীনের সীমান্ত চিহ্নিত করেছে।

• ইউরোপে, ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা জন্য ম্যাজিনো লাইন এবং জার্মানির জন্য সিগফ্রাইড লাইন তৈরি করা হয়েছিল। 

• মধ্যপ্রাচ্যে, ইসরায়েল ও প্যালেস্টাইন অঞ্চলের বিভাজনের জন্য গ্রিন লাইন স্থাপন করা হয়েছে।

উৎস: The 49th Parallel Wealth [লিঙ্ক].

১২.
কোন প্রণালী রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমা নির্ধারণ করেছে?
  1. মালাক্কা প্রণালী
  2. জিব্রাল্টার প্রণালী 
  3. বেরিং প্রণালী
  4. হরমুজ প্রণালী
সঠিক উত্তর:
বেরিং প্রণালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেরিং প্রণালী
ব্যাখ্যা

প্রণালী:
- প্রণালী বিশ্ব বাণিজ্য, সামরিক এবং কূটনৈতিক ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- বেরিং প্রণালী- আর্কটিক মহাসাগরকে বেরিং সাগরের সাথে সংযুক্ত করে;
- এবং এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশগুলিকে তাদের নিকটতম বিন্দুতে পৃথক করে।
- এই প্রণালীতে অসংখ্য দ্বীপ রয়েছে, যার মধ্যে দুটি ডায়োমেড দ্বীপপুঞ্জ এবং প্রণালীর দক্ষিণে সেন্ট লরেন্স দ্বীপ রয়েছে।
- তাছাড়া, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সীমা নির্ধারণ করে বেরিং প্রণালী। 
--------------- 
অন্যদিকে, 
• মালাক্কা প্রণালী:
- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো মালাক্কা প্রণালী। 
- এটি ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ চীন সাগরের মধ্যে প্রধান শিপিং লিংক।
- মালাক্কা প্রণালী- আন্দামান সাগর ( ভারত মহাসাগর ) এবং দক্ষিণ চীন সাগর ( প্রশান্ত মহাসাগর ) এর মধ্যে সংযোগকারী জলপথ ।

জিব্রাল্টার প্রণালী:
- ইউরোপ এবং আফ্রিকার সংযোগপথ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে জিব্রাল্টার প্রণালী। 
- এটি ভূমধ্যসাগরকে আটলান্টিক মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে। 

হরমুজ প্রণালী:
- পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার হলো হরমুজ প্রণালী। 
- হরমুজ প্রণালী একমাত্র সমুদ্রপথ যা তেল সমৃদ্ধ পারস্য উপসাগর (পশ্চিম) ওমান উপসাগর এবং আরব সাগর (দক্ষিণ-পূর্ব) এর সাথে সংযুক্ত করে। 

উৎস: Britannica. 

১৩.
কোন রাষ্ট্রটি ছিদ্রায়িত রাষ্ট্রের উদাহরণ?
  1. ভ্যাটিকান সিটি 
  2. সান মারিনো
  3. লেসোথো
  4. সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
সবগুলো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো 
ব্যাখ্যা

ছিদ্রায়িত রাষ্ট্র (Perforated State):
- ছিদ্রায়িত রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বোঝায় যার অভ্যন্তরে এক বা একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র অবস্থিত। 
- উদাহরণস্বরূপ,
- ইতালির ভেতরে সান মারিনো ও ভ্যাটিকান সিটি রয়েছে,
- এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে অবস্থিত স্বাধীন রাষ্ট্র হলো লেসোথো।
- এরকম রাষ্ট্রে অভ্যন্তরের স্বাধীন রাষ্ট্রগুলো সম্পূর্ণভাবে মূল রাষ্ট্রের ভেতরে আবদ্ধ থাকে। 
-------------------
উল্লেখ্য,
- গুরুত্বপূর্ণ কিছু রাষ্ট্র:

বাফার রাষ্ট্র:
- বাফার রাষ্ট্র (Buffer State) হলো এমন ছোট, নিরপেক্ষ দেশ, যা দুই বা ততোধিক বড় ও শক্তিশালী রাষ্ট্রের মধ্যে অবস্থিত।
- বাফার রাষ্ট্রগুলো আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং অনেক সময় বাণিজ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
- এর মূল উদ্দেশ্য হলো বড় রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সরাসরি সংঘাত বা যুদ্ধ আটকানো।
- এই রাষ্ট্রগুলো সাধারণত নিরপেক্ষ থাকে এবং সামরিক উপস্থিতি সীমিত রাখে।
- উদাহরণ:
- নেপাল ও ভুটান – ভারত ও চীনের মধ্যে অবস্থিত।
- মঙ্গোলিয়া – রাশিয়া ও চীনের মধ্যে অবস্থিত।
- পোল্যান্ড (ঐতিহাসিক) – WWII-এর আগে জার্মানি ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে অবস্থিত ছিল।
- বেলজিয়াম – ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে অবস্থিত।

কল্যাণমূলক রাষ্ট্র:
- উইলিয়াম বেভারিজ আধুনিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের জনক হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৪২ সালে তিনি তার বিখ্যাত ‘বেভারিজ রিপোর্ট’ প্রকাশ করেন, যা যুদ্ধ-পরবর্তী ব্রিটিশ কল্যাণ রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন করে।
- এই রিপোর্টে সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের রূপরেখা প্রস্তাব করা হয় এবং দারিদ্র্য, রোগ, অজ্ঞতা, নোংরা পরিবেশ ও অলসতা—এই পাঁচটি প্রধান সামাজিক সমস্যা দূর করার লক্ষ্যে নীতি নির্ধারণ করা হয়।
- ১৯৪৫ সালে যুক্তরাজ্যের লেবার সরকার তার রিপোর্টের ভিত্তিতে আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্র কার্যকর করে।

• আধুনিক নগর রাষ্ট্র:
- আধুনিক নগর রাষ্ট্র (City-state) হলো একটি ছোট, স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র, যা মূলত একটি শহর এবং তার আশেপাশের কিছু অঞ্চল নিয়ে গঠিত।
- এ ধরনের রাষ্ট্রের নিজস্ব সরকার ও আইন থাকে এবং এটি সম্পূর্ণভাবে স্বায়ত্তশাসিত।
- আধুনিক বিশ্বে সিঙ্গাপুর, মোনাকো এবং ভ্যাটিকান সিটি প্রধান উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত।

উৎস: Britannica ও Fiveable Website [লিঙ্ক ]।  

১৪.
"পৃথিবীর ছাদ" বলা হয়- 
  1. তিব্বত মালভূমিকে
  2. পামির মালভূমিকে
  3. দক্ষিণাত্য মালভূমিকে 
  4. কোনটি নয় 
সঠিক উত্তর:
পামির মালভূমিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পামির মালভূমিকে
ব্যাখ্যা

পামির মালভূমি:
- সাধারণত বিস্তীর্ণ ভূ-ভাগ সমুদ্র সমতল উঁচু প্রায় ৩০০ মিটার, অথচ যার পৃষ্ঠদেশ বা উপরিভাগ খুব অসমতল নয় এবং চারপাশ খাড়া ঢালযুক্ত থাকে তাকে মালভূমি বলা হয়। মালভূমি হলো এক বা একাধিক পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত সমতল অঞ্চল। কয়েকটি পাহাড়ের সম্মিলিত স্থানে যে সমতল অঞ্চল তৈরি হয় তাই মালভূমি। 
- পৃথিবীর ছাদ বলা হয় পামির মালভূমিকে।

⇒ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা হচ্ছে প্রায় ১৬,০০০ ফুটের মতো।
- মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত পামীর পর্বতমালাকে ঘিরে এ মালভূমিটির অবস্থান।
- তাজিকিস্তান, আফগানিস্তান, উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান, তিব্বত, চীন এবং পাকিস্তানের কিছু অংশ পর্যন্ত এ মালভূমিটি বিস্তৃত।
- পামীর মালভূমির চতুর্দিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বহু উঁচু-নিচু পর্বতশ্রেণি। এর উত্তর দিকে রয়েছে তিয়েনশান পর্বতমালা, পূর্ব দিকে রয়েছে কুনলুন পর্বতশ্রেণি, দক্ষিণ-পশ্চিমে কারাকোরাম পর্বতশ্রেণি এবং দক্ষিণে রয়েছে হিমালয় পর্বতমালা ও হিন্দুকুশ পর্বতশ্রেণি।
- পামীর মালভূমি মূলত, কুনলুনের শাখা আনতিনতাগ, তিয়েনশানের তারিম মালভূমি ও হিমালয়ের মধ্যভাগে অবস্থিত।

অন্যদিকে,
• তিব্বত মালভূমি: 
- তিব্বত মালভূমি পৃথিবীর সর্বোচ্চ ও বৃহত্তম মালভূমি। 
- কয়েকটি সোর্স অনুযায়ী তিব্বত মালভূমিও "পৃথিবীর ছাদ" নামে পরিচিত।

- অপশনে দুটোই থাকলে অধিক প্রচলিত উত্তর হিসেবে সঠিক হবে 'পামির মালভূমি'।

উৎস:
i) Worldatlas.
ii) UNESCO World Heritage Centre.

১৫.
হাম্মুরাবির আইনসংহিতা কোন সভ্যতার অন্তর্গত?
  1. সুমেরীয়
  2. অ্যাসিরীয়
  3. ব্যাবিলনীয়
  4. ক্যালডীয়
সঠিক উত্তর:
ব্যাবিলনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাবিলনীয়
ব্যাখ্যা

ব্যাবিলনের রাজা হাম্মুরাবি তার বিখ্যাত লিখিত আইনসংহিতা প্রণয়ন করেন।
------------
• মেসোপটেমীয় সভ্যতা:
- মেসোপটেমীয় সভ্যতা মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ সভ্যতা।
- এটি টাইগ্রিস (দজলা) ও ইউফ্রেটিস (ফোরাত) নদীর মধ্যবর্তী উর্বর অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল।
- গ্রিক শব্দ Mesopotamia-র অর্থই হলো “দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি”।
- বর্তমান সময়ে এই অঞ্চল প্রধানত ইরাকের মধ্যে পড়েছে, তবে তুরস্ক, সিরিয়া, ইরান ও কুয়েতের কিছু অংশও এর অন্তর্ভুক্ত।
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ অব্দ থেকে এখানে নগরসভ্যতার বিকাশ শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে বিভিন্ন জাতি ও রাষ্ট্রের মাধ্যমে এই সভ্যতা সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।

- মেসোপটেমীয় সভ্যতা একক কোনো জাতির সৃষ্টি নয়; বরং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সভ্যতার ধারাবাহিক বিকাশের ফল।
- প্রথমে সুমেরীয় সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- সুমেরীয়রা কিউনিফর্ম নামের বিশ্বের প্রাচীনতম লিপিগুলোর একটি সৃষ্টি করে।
- তারা চাকা আবিষ্কার, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, চন্দ্রপঞ্জিকা প্রণয়ন এবং বিখ্যাত মহাকাব্য ‘গিলগামেশ’ রচনার জন্য পরিচিত।

- এরপর ব্যাবিলনীয় সভ্যতা শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
- এই সভ্যতার অন্যতম বড় অবদান হলো লিখিত আইনব্যবস্থার বিকাশ।
- রাজা হাম্মুরাবি তার বিখ্যাত হাম্মুরাবির আইনসংহিতা (Code of Hammurabi) প্রণয়ন করেন, যা মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন লিখিত আইন।

- পরবর্তীতে অ্যাসিরীয় সভ্যতা টাইগ্রিস নদীর তীরে আশুর নগরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে।
- অ্যাসিরীয়রা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী সামরিক জাতি।
- তারা লোহার অস্ত্র ব্যবহার করে শক্তিশালী সাম্রাজ্য গড়ে তোলে এবং প্রশাসন ও যুদ্ধকৌশলে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করে।

- সবশেষে ক্যালডীয় বা নব্য ব্যাবিলনীয় সভ্যতা বিকশিত হয়।
- এই সময়ের বিখ্যাত শাসক ছিলেন রাজা নেবুচাদনেজার।
- তাঁর আমলেই বিখ্যাত ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান নির্মিত হয়, যা প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের একটি বলে ধরা হয়।
- এছাড়া জ্যোতির্বিজ্ঞান ও সময় গণনায় উন্নতি করে তারা সপ্তাহকে ৭ দিনে ভাগ করার ধারণাও প্রচলিত করে।

উৎস: Britannica ও ইসলামের ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৬.
মিশরের বিখ্যাত ফারাও তুতেনখামেনের সমাধি কে আবিষ্কার করেছিলেন?
  1. হাম্মুরাবি
  2. মেনেস
  3. হাওয়ার্ড কার্টার
  4. রিচার্ড লেভার
সঠিক উত্তর:
হাওয়ার্ড কার্টার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাওয়ার্ড কার্টার
ব্যাখ্যা

• ১৯২২ সালে প্রত্নতত্ত্ববিদ হাওয়ার্ড কার্টার তুতেনখামেনের সমাধি আবিষ্কার করেন।
-----------
• মিশরীয় সভ্যতা:
- প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন ও সমৃদ্ধ সভ্যতা, যা মূলত নীল নদ (Nile River) তীরে গড়ে উঠেছিল।
- এই সভ্যতার সূচনা প্রাক-রাজবংশীয় যুগ এ, আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০–৩২০০ অব্দ (circa 5000–3200 BCE) সময়কাল।
- খ্রিস্টপূর্ব ৩২০০ সালে রাজা মেনেস (Menes) সমগ্র মিশরকে একত্রিত করে একটি ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর ফলে সংগঠিত রাজনৈতিক শাসনের সূচনা ঘটে।
- তখন মিশরের রাজধানী ছিল মেমফিস (Memphis)।
- মিশরের রাজাদের বলা হতো ফারাও। 
- তারা ধর্মীয় ও রাজনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন।
- মিশরের অন্যতম বিখ্যাত ফারাও ছিলেন তুতেনখামেন (Tutankhamun) (খ্রি.পূ. ১৩৩৩–১৩২৪)।
- তাঁর সমাধি ১৯২২ সালে প্রত্নতত্ত্ববিদ হাওয়ার্ড কার্টার (Howard Carter) আবিষ্কার করেন। 
- এটি প্রত্নতত্ত্বের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
---------------
উল্লেখ্য,

- স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে মিশরীয়রা অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছিল। 
- ফারাওদের মৃতদেহ সংরক্ষণ ও সমাধিস্থ করার জন্য তারা বিশাল পিরামিড (Pyramid) নির্মাণ করে। 
- এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো গিজার গ্রেট পিরামিড (Great Pyramid of Giza), যা ফারাও খুফু (Khufu) এর সমাধি হিসেবে নির্মিত। 
- এছাড়া বিখ্যাত ভাস্কর্যের মধ্যে রয়েছে স্ফিংস (Great Sphinx of Giza), যার দেহ সিংহের এবং মাথা ফারাওয়ের আকৃতির।

 - লিখনপদ্ধতির ক্ষেত্রে মিশরীয়দের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল হায়ারোগ্লিফিক লিপি।
- এটি ছিল চিত্রভিত্তিক লিখন পদ্ধতি। 
- ‘হায়ারোগ্লিফিক’ শব্দের অর্থ হলো “পবিত্র লিপি”।
- তারা প্যাপিরাস গাছের বাকল দিয়ে কাগজ তৈরি করত, যা প্রাচীন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ লেখার উপকরণ ছিল।

- ধর্ম ও সমাজব্যবস্থায় মিশরীয়রা মূলত বহুদেবতাবাদী ছিল।
- তারা সূর্য, নীল নদ, আকাশ, মাটি ইত্যাদি শক্তিকে দেবতা হিসেবে পূজা করত।
- তবে একসময় ফারাও আমেনহোটেপ চতুর্থ সূর্যদেবতা এটন এর একক উপাসনা প্রচলন করেন;
- এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে ইখনাটন রাখেন।
- তাঁর স্ত্রী নেফারতিতি সৌন্দর্য ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে ইতিহাসে বিখ্যাত।

- তাছাড়া বিজ্ঞান ও জ্ঞানচর্চায়ও মিশরীয়দের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।
- তারা প্রথম বছরে ১২ মাস এবং প্রতি মাসে ৩০ দিন ধরে সময় গণনার পদ্ধতি চালু করে।
- এছাড়া মৃতদেহ দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য তারা মমি তৈরির কৌশল উদ্ভাবন করে।
- এসব কারণে প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা মানবসভ্যতার বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

উৎস: Britannica ও ইসলামের ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৭.
সিন্ধু সভ্যতা কোন যুগের সভ্যতা?
  1. লোহা যুগ
  2. প্রস্তর যুগ
  3. মধ্যযুগ
  4. ব্রোঞ্জ যুগ
সঠিক উত্তর:
ব্রোঞ্জ যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রোঞ্জ যুগ
ব্যাখ্যা

সিন্ধু সভ্যতা ব্রোঞ্জ যুগের সভ্যতা। 
-------------
• সিন্ধু সভ্যতা:
- প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতা (Indus Valley Civilization) ভারতের উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন নগরভিত্তিক সভ্যতা।
- এটি মূলত সিন্ধু নদ এবং তার অববাহিকায় গড়ে উঠেছিল।
- সভ্যতার সময়কাল আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩৩০০–১৩০০ অব্দ, যা ব্রোঞ্জ যুগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- সিন্ধু সভ্যতার প্রধান নগরগুলো হলো হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো।  
- এই নগরগুলোতে উন্নত নগর পরিকল্পনা লক্ষ্য করা যায়, যেখানে পাকা রাস্তা, দোতলা-তিনতলা বাড়ি এবং প্রতিটি বাড়িতে শৌচাগার, গোসলখানা ও কূপ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- এই সভ্যতার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর ছিল, তবে বাণিজ্যও ছিল অত্যন্ত উন্নত।

- সিন্ধু সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ অবদানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- 
• নগর পরিকল্পনা, যেখানে পাকা রাস্তা ও সুসংগঠিত জল নিষ্কাশন ব্যবস্থার সঙ্গে বাড়িগুলো নির্মাণ করা হতো।
• এছাড়া এই সভ্যতায় দ্রব্যের ওজন মাপার জন্য বাটখারা এবং দৈর্ঘ্য মাপার জন্য স্কেল ব্যবহার করা হতো।

- এই সভ্যতার আরেকটি উল্লেখযোগ্য অবদান হলো সিলমোহর।
- সিলমোহর পাথর বা হাড়ের তৈরি হতো এবং বাণিজ্য ও প্রশাসনে ব্যবহার করা হতো।
- সিলমোহরের মাধ্যমে তারা প্রশাসনিক স্বাক্ষর এবং বাণিজ্য চিহ্ন হিসেবে ব্যবহার করত।

উৎস: Britannica ও ইসলামের ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৮.
ফিনিশীয়দের উদ্ভাবিত বর্ণমালায় কতটি ব্যঞ্জনবর্ণ ছিল?
  1. ২০টি 
  2. ২২টি 
  3. ২৪টি 
  4. ২৬টি
সঠিক উত্তর:
২২টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২টি 
ব্যাখ্যা

ফিনিশীয়দের বর্ণমালায় ২২টি ব্যঞ্জনবর্ণ ছিল।
------------
• ফিনিশীয় সভ্যতা (Phoenician Civilization):
- প্রাচীন ফিনিশীয় সভ্যতা মূলত লেবানন পর্বত ও ভূমধ্যসাগর এর মধ্যবর্তী উপকূলীয় অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল।
- বর্তমানে এটি প্রধানত লেবানন, সিরিয়া এবং ইসরায়েল অঞ্চলের অংশ।
- ফিনিশীয়দের জন্য উর্বর জমি কম ছিল, তাই তাদের প্রধান অর্থনৈতিক কাজ ছিল সমুদ্র বাণিজ্য।
- তারা প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম দক্ষ নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা হিসেবে পরিচিত।

- ফিনিশীয় সভ্যতার প্রধান অবদানগুলো হলো:

• নৌচালনা ও বাণিজ্য:
- ফিনিশীয়রা অত্যন্ত দক্ষ নাবিক ছিল।
- তারা ধ্রুবতারা দেখে সমুদ্রপথ নির্ণয় করত।
- ধ্রুবতারাকে কখনো কখনো “Phoenician Star” বলা হতো।

• বর্ণমালার উদ্ভাবন:
- ফিনিশীয়রা ২২টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা তৈরি করেন।
- এটি ছিল আধুনিক বর্ণমালার ভিত্তি।
- পরে গ্রিকরা স্বরবর্ণ যোগ করে বর্ণমালাকে সম্পূর্ণ করেন।

• কারিগরি দক্ষতা:
- তারা মাটির পাত্র, কাপড় তৈরি ও রং এবং কাঁচ ও ধাতব দ্রব্য তৈরিতে পারদর্শী ছিল।

উৎস: Britannica ও ইসলামের ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৯.
১৯২৯ সালে কোথায় পিকিং মানবের মাথার খুলি ও চোয়ালের হাড় আবিষ্কৃত হয়?
  1. জার্মানি   
  2. ইথিওপিয়া
  3. ইন্দোনেশিয়া
  4. চীন 
সঠিক উত্তর:
চীন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চীন 
ব্যাখ্যা

• ১৯২৯ সালে কোথায় পিকিং মানবের মাথার খুলি ও চোয়ালের হাড় আবিষ্কৃত চীনে। 
---------------
• পিকিং মানব:

- পিকিং মানব হলো হোমো ইরেক্টাস প্রজাতির বিলুপ্ত হোমিনিন।
- এরা প্রায় মধ্য প্লাইস্টোসিন যুগে চীনের বেইজিংয়ের কাছে ঝোউকৌদিয়ান গুহায় বসবাস করত।
- প্রাথমিকভাবে ১৯২৭ সালে ডেভিডসন ব্ল্যাক একটি মাত্র দাঁতের ভিত্তিতে পিকিং মানবকে সনাক্ত করেছিলেন।
- পরে ১৯২৯ সালে চীনা বিজ্ঞানীরা প্রথম সম্পূর্ণ মাথার খুলি আবিষ্কার করেন।
- খননকাজে আরও অনেক কপালের খুলি, চোয়ালের হাড়, মুখমণ্ডল এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের হাড়সহ প্রায় ৪০ জন ব্যক্তির দাঁত পাওয়া যায়।

• পিকিং মানবের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
- অবস্থান ও সময়কাল: চীনের বেইজিংয়ের ঝোউকৌদিয়ান গুহা, মধ্য প্লাইস্টোসিন যুগ।
- শারীরিক গঠন: কপালের অংশ হেলানো, ভুরু ও কপালের হাড় বেশ পুরু।
- প্রযুক্তিগত দক্ষতা: আগুনের ব্যবহার জানত এবং পাথর দিয়ে অস্ত্র ও সরঞ্জাম তৈরি করতে পারত।
- বিবর্তনগত গুরুত্ব: মানুষের বিবর্তনের ধারায় সরাসরি পূর্বপুরুষ হিসেবে বিবেচিত।
--------------
উল্লেখ্য,
- প্রাগৈতিহাসিক মানুষের জীবাশ্ম আবিষ্কারের ইতিহাস থেকে জানা যায়, মানব বংশের বিবর্তনকে বোঝার জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতির জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়েছে বিভিন্ন সময়ে ও স্থানে।
- এগুলো হলো:

• জাভা মানব:
- ১৮৯১ সালে ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে আবিষ্কৃত। এটি হোমো ইরেক্টাস প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত।

• হেইডেলবার্গ মানব:
- ১৯০৭ সালে জার্মানির হেইডেলবার্গে আবিষ্কৃত।
- এটি হোমো সারপিয়েন্সের পূর্বপুরুষ হিসেবে বিবেচিত।

• লুসি (Lucy):
- ১৯৭৪ সালে ইথিওপিয়ার আফার অঞ্চলে পাওয়া যায়।
- এটি Australopithecus afarensis প্রজাতির প্রায় পূর্ণাঙ্গ কঙ্কাল এবং প্রাগৈতিহাসিক মানব গবেষণার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

• ফ্লোরেন্স মানব:
- ২০০৩ সালে ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেন্স দ্বীপে আবিষ্কৃত।
- এদের উচ্চতা প্রায় ৩ ফুট, তাই এদেরকে 'হবিট' বলা হয়।

• ডেনিসোভান:
- ২০১০ সালে সাইবেরিয়ার আলতাই পর্বতমালার ডেনিসোভা গুহা থেকে আবিষ্কৃত।
- এটি ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া সম্পূর্ণ নতুন মানব প্রজাতি।

উৎস: Britannica.