পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২৫
সিলেবাস
[নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।] বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক - i) বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা [বাংলাদেশ ও উপমহাদেশের বিখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজ সংস্কারক।] ii) বাংলাদেশের জাতীয় অর্জন, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনাসমূহ। উৎস: পৌরনীতি ও সমাজবিজ্ঞান বিষয়ক বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া ও যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৫ প্রশ্ন

.
স্বাধীনতা পদক ২০২৫-এ ‘শিক্ষা ও গবেষণা’ বিভাগে পদক প্রাপ্ত ব্যাক্তি কে?
  1. অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর)
  2. মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ (মরণোত্তর)
  3. স্যার ফজলে হাসান আবেদ (মরণোত্তর)
  4. বদরুদ্দীন মোহাম্মদ উমর
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতা পদক:
- স্বাধীনতা পদক বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ সরকার এ পুরস্কার প্রবর্তন করে।
- স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
- মেজর মোঃ জিয়াউর রহমান এ পুরস্কার প্রবর্তন করেন । 

• স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৫ প্রাপ্তরা হলেন-
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর),
- সাহিত্য: মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ (মরণোত্তর),
- সংস্কৃতি: নভেরা আহমেদ (মরণোত্তর),
- সমাজসেবা: স্যার ফজলে হাসান আবেদ (মরণোত্তর),
- মুক্তিযুদ্ধ ও সংস্কৃতি: মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান ওরফে আজম খান (মরণোত্তর),
- শিক্ষা ও গবেষণা: বদরুদ্দীন মোহাম্মদ উমর,
- প্রতিবাদী তারুণ্য: আবরার ফাহাদ (মরণোত্তর)।

উৎস: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

.
কোন মতবাদের ভিত্তিতে হাজী শরীয়তুল্লাহ্ তাঁর সংস্কারমূলক আন্দোলন শুরু করেন?
  1. মনরো মতবাদ
  2. ওয়াহাবি মতবাদ
  3. দার্শনিক মতবাদ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

হাজী শরীয়তুল্লাহ্:
- হাজী শরীয়তুল্লাহ্ ফরিদপুর জেলার মাদারীপুর মহকুমার অন্তর্গত শামাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ১৭৮১ সালে।
- শরিয়তপুর জেলার নামকরণ করা হয়েছে তাঁর নামানুসারে। 
- দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থানকালে তিনি ওয়াহাবি মতবাদের প্রতি আকৃষ্ট হন।
- ওয়াহাবি মতবাদের ভিত্তিতেই হাজী শরীয়তুল্লাহ্ তাঁর সংস্কারমূলক আন্দোলন শুরু করেন।
- অত্যাচারী জমিদারদের শোষণ হতে কৃষকদের মুক্ত করার লক্ষ্যে তাঁর সংস্কারমূলক আন্দোলন পরিচালিত হয়। 
- হাজী শরীয়তুল্লাহর আন্দোলন পরবর্তীতে ’ফরায়েজি আন্দোলন’ নামে পরিচিতি পায়।
- ১৮৪০ সালে শরীয়তুল্লাহ মৃত্যুবরণ করলে, পুত্র দুদুমিয়া ফরায়েজিদের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।

উৎস: সমাজকল্যাণ ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ইকরামুল হাসান শাকিল মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন কবে?
  1. ১৭ মে, ২০২৫ সাল
  2. ১৯ মে, ২০২৫ সাল
  3. ২০ মে, ২০২৫ সাল
  4. ২৫ মে, ২০২৫ সাল
ব্যাখ্যা

ইকরামুল হাসান শাকিল: 
- ২০২৫ সালের ১৯ মে সকালে তিনি মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন দেশের সপ্তম বাংলাদেশি হিসেবে।
- তিনি গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- অভিযানটির নাম ছিল “Sea to Summit”। 
- “Sea to Summit” অভিযানটি শুরু হয় কক্সবাজারের ইনানী সৈকত থেকে এবং শেষ হয় বিশ্বের সর্বোচ্চ চূড়ায়। 
- প্রায় ১,৩০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে তিনি ৮৪ দিনে এই সাফল্য অর্জন করেন। 
- অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল পরিবেশ সচেতনতা ও প্লাস্টিক দূষণ রোধের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।

উৎস: প্রথম আলো এবং BBC পত্রিকা রিপোর্ট।

.
বিধবা বিবাহের পক্ষে কে সামাজিক আন্দোলন শুরু করেছিলেন?
  1. হাজী শরীয়তুল্লাহ্
  2. হাজী মুহম্মদ মুহসীন
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

বিধবা বিবাহ আইন:
- বিধবা বিবাহ আইন প্রবর্তন করেন লর্ড ডালহৌসী।
- এই আইন প্রণয়ন করেন -১৮৫৪ সালে।
- বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়- ১৮৫৬ সালে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিধবা বিবাহের জন্য সামাজিক আন্দোলন শুরু করেন।
- তিনি বাল্যবিবাহ ও বহু বিবাহ নিষিদ্ধের পাশাপাশি বিধবা বিবাহ জন্য সংগ্রাম করেন
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তার ছেলের সাথে বিধবা বিবাহ দিয়েছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

.
'মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' প্রতিষ্ঠা করেন কে? 
  1.  হাজী শরীয়তুল্লাহ্
  2. শহীদ তিতুমীর
  3. নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
  4. নওয়াব আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা

নওয়াব আবদুল লতিফ:
- ১৮২৮ সনে ফরিদপুর জেলার রাজাপুরে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- মাত্র উনিশ বছর বয়সে তিনি শিক্ষকতা শুরু করেন।
- তিনি ১৮৪৯ সালে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত হন। 
- তিনিই প্রথম সরকারি আমলা যিনি নীলকরদের অত্যাচারের হাত থেকে নীল চাষীদের রক্ষায় এগিয়ে আসেন। 
- ভুপালের নবাবের দরবারেও কিছুকাল প্রধানমন্ত্রীর পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- নওয়াব আবদুল লতিফ মুসলমানদের শিক্ষিত করতে ১৮৬৭ সালে মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি স্থাপন করেন।
- বাংলার মুসলিম সমাজে একটি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে তার অবদান গুরুত্বপূণ।
- ১৮৯৩ সালের ১০ জুলাই নওয়াব আবদুল লতিফের জীবনাবসান হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

.
‘The spirit of Islam' গ্রন্থ কে রচনা করেন?
  1. সৈয়দ আহমদ খান
  2. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. সৈয়দ আমীর আলী
ব্যাখ্যা

দি স্পিরিট অব ইসলাম (The Spirit of Islam):
- এর লেখক সৈয়দ আমীর আলী।
- এটি বিশ্লেষণধর্মী / যুক্তিভিত্তিক ইসলামি চিন্তাগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু: ইসলাম ধর্মের ইতিহাস, দর্শন, নৈতিকতা ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি।
- আধুনিক যুগে ইসলামের ব্যাখ্যায় এটি একটি মাইলফলক গ্রন্থ।
- এর মূল উদ্দেশ্য ইসলামকে একটি যুক্তিবাদী, বিজ্ঞানসম্মত ও মানবতাবাদী ধর্ম হিসেবে উপস্থাপন করা।

• সৈয়দ আমীর আলী:

- সৈয়দ আমীর আলী ছিলেন মুসলিম রেনেসাঁর অগ্রদূত।
- ইসলামী ও পাশ্চাত্য জ্ঞানের অধিকারী আমীর আলী ছিলেন একজন সুলেখক।
- তিনি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ক বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেন।
- এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে: (১) দি স্পিরিট অব ইসলাম এবং (২) এ সর্ট হিস্টরি অব দি স্যারাসিন। 
- এ গ্রন্থ দুটি পণ্ডিত হিসেবে আমীর আলীকে অমরত্ব দান করেছে।
- আমীর আলী তাঁর লেখায় ইসলাম ধর্মের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা দান করেছেন।
- মুসলমানদের গৌরবময় অতীতের প্রতি বারংবার অঙ্গুলি নির্দেশ করে মুসলিম সমাজকে আত্মসচেতন করার চেষ্টা করেছেন।
- তাঁর এ চেষ্টায় হতাশাগ্রস্ত মুসলিম সমাজে প্রাণের সঞ্চার ঘটে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত কে?
  1. দ্বিতীয় আকবর
  2. শ্যামাপ্রসাদ
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. শ্রীচৈতন্য
ব্যাখ্যা

রাজা রামমোহন রায়:
- ১৭৭২ (মতান্তরে ১৭৭৪) সালের ২২ শে মে পশ্চিম বঙ্গের হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে ব্রাহ্মন পরিবারে রাজা রামমোহন রায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর বংশগত পদবী ছিল বন্দোপাধ্যায়।
- নবাবের কাছ থেকে রায় রায়হান উপাধি লাভ করেন।
- কট্টর হিন্দু পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেও ইসলাম ও খৃষ্ট ধর্মের গ্রন্থ পবিত্র কোরআন ও বাইবেল অধ্যয়ন করেন।
- তিনি হিন্দুদের ধর্মশাস্ত্র উপনিষদ ও বেদান্ত অধ্যয়ন করে একেশ্বর বাদের অস্তিত্ব খুঁজে পান।
- ১৮২২ সালে অ্যাংলো হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- সম্রাট 'দ্বিতীয় আকবর' রাজা রামমোহন রায়কে 'রাজা' উপাধি দেন।
- ১৮২৫ সালে বেদান্ত কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা, গঙ্গা সাগরে সন্তান বিসর্জন, শিশুকন্যা হত্যার প্রতিবাদ করেন।
- তার প্রচেষ্টায় ৪ ডিসেম্বর ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত করেন।
- রাজা রামমোহন রায়কে ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত বলা হয়।
- ব্রাহ্ম সমাজ নামের পরিবর্তে ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করা হয় ১৮৪৩ সালে।
- ১৮৩৩ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের ব্রিষ্টল নগরীতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

.
বাঁশেরকেল্লা কে নির্মাণ করেন?
  1. হাজী শরীয়তুল্লাহ অপশন
  2. মওলানা ভাসানী
  3. তিতুমীর
  4. নবাব আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা

তিতুমীর:
- তিতুমীর ওরফে মীর নিসার আলী প্রথমে ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন শুরু করেন।
- পরবর্তীতে তার এই আন্দোলন জমিদার ও ব্রিটিশবিরোধী রূপ লাভ করে।
- তিনি বারাসাতের নিকটবর্তী নারিকেলবাড়িয়ায় একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন।
- ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর লে. কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সাথে যুদ্ধে কামানের গোলায় তার বাঁশেরকেল্লা ধ্বংস হয়ে যায় এবং তিনিসহ তার বহু অনুসারী শহিদ হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।

.
ই-পাসপোর্ট চালুতে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় কততম দেশ?
  1. প্রথম
  2. দ্বিতীয়
  3. চতুর্থ
  4. পঞ্চম
ব্যাখ্যা

ই-পাসপোর্ট:
- মালয়েশিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৯৯৮ সালে ই-পাসপোর্ট চালু করে।
- বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয় ২৪ এপ্রিল, ২০১৬ সালে।
- বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় ২২ জানুয়ারি, ২০২০ সালে।
- ই-পাসপোর্ট চালু করায় বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম। 
- বাংলাদেশ বিশ্বের ১১৯তম দেশ হিসাবে ই-পাসপোর্ট চালু করে।

সূত্র: দৈনিক যুগান্তর, ডয়েচে ভেলে।

১০.
‘তাহযিব-উল-আখলাক’ পত্রিকা প্রকাশ করেন কে?
  1. নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
  2. নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. হাজী শরীয়তুল্লাহ্
  4. স্যার সৈয়দ আহমেদ খান
ব্যাখ্যা

স্যার সৈয়দ আহমেদ খানের পত্রিকা প্রকাশ:
 - স্যার সৈয়দ আহমেদ খান ১৮৬৯ সালে ‘তাহযিব-উল-আখলাক’ নামে পত্রিকা প্রকাশ করেন।
- এই পত্রিকার উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার ও গোঁড়ামিমুক্ত করে সামাজিকভাবে সচেতন করা।
- বিভিন্ন কুসংস্কার, দাসপ্রথা, পীরমুরিদ সম্পর্ক ইত্যাদি সম্পর্কে উলে−খিত পত্রিকায় ব্যাপকভাবে প্রচার করেন।
• এছাড়াও, তিনি নিম্ন লিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন-
- বিজ্ঞান সমিতি গঠন।
- ভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সমিতি গঠন। 
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি স্থাপন।

 উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান কে?
  1. হাবিবুল বাশার
  2. নাইমুর রহমান দুর্জয়
  3. আমিনুল ইসলাম বুলবুল
  4. মুশফিকুর রহিম
ব্যাখ্যা

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল:
- টেস্ট স্ট্যাটাস লাভ: ২০০০ সালে।
- প্রথম টেস্ট ম্যাচ: ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর, ভারতের বিপক্ষে।
- অধিনায়ক (প্রথম টেস্টে): নাইমুর রহমান দুর্জয়।
- প্রথম টেস্ট জয়: ২০০৫ সালে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চট্টগ্রামে।
- প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান: আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

উল্লেখ্য,  
- প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি: মুশফিকুর রহিম।
- প্রথম ১০০০ রান সংগ্রাহক: হাবিবুল বাশার।
- শততম টেস্ট ম্যাচ: ২০১৭ সালে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, কলম্বোতে অনুষ্ঠিত।
- শততম টেস্টে সেঞ্চুরি: সাকিব আল হাসান।
- বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে নিজের শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করেন- মুশফিকুর রহিম।

• বিশেষ তথ্যঃ 
-মোহাম্মদ আশরাফুল টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে সেঞ্চুরি করার রেকর্ড গড়েন।
-তিনি এই কৃতিত্ব অর্জন করেন ২০০১ সালে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার টেস্ট ম্যাচের তৃতীয় দিনে।

তথ্যসূত্র- ১. ESPNcricinfo.com ও ২. The Business Standard পত্রিকা রিপোর্ট।

১২.
আলীগড় আন্দোলনের প্রবক্তা কে?
  1. সৈয়দ আহমদ খান 
  2. এ.কে. ফজলুল হক
  3. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  4. স্যার সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা

আলীগড় আন্দোলন:
- ১৮৭৫ সালে সৈয়দ আহমদ খান আলীগড়ে 'মোহামেডান এ্যাংলো ওরিয়েন্টাল স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৭৭ সালে এটি কলেজে উন্নীত হয়।
- এ কলেজ প্রতিষ্ঠার পর আলীগড় ভারতীয় মুসলমানদের ধর্মীয়, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
- সৈয়দ আহমদ খান এ আলীগড় কলেজকে কেন্দ্র করে অধঃপতিত অবস্থা থেকে মুসলমানদের পুনরুদ্ধার ও তাদের পুনর্জাগরণের জন্য একটি আন্দোলন পরিচালনা করেন।
- ইতিহাসে এটিই 'আলীগড় আন্দোলন' নামে প্রসিদ্ধ।
- এ আন্দোলন মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক ভাবধারা ও চিন্তা-চেতনা জাগ্রত করে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
বাংলাদেশের প্রথম নারী এভারেস্ট বিজয়ী কে?
  1. ওয়াসফিয়া নাজরিন
  2. নিশাত মজুমদার
  3. তানজিনা নিশাত
  4. শিরিন সুলতানা
ব্যাখ্যা

নিশাত মজুমদার: 
- বাংলাদেশের প্রথম নারী এভারেস্ট বিজয়ী -  নিশাত মজুমদার।  
- তিনি প্রথম বাংলাদেশী নারী হিসেবে ২০১২ সালের ১৯ মে, শনিবার সকাল ৯ :৩০ মিনিটে এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় করেন।

• অন্যান্য বাংলাদেশি এভারেস্ট জয়ী- 
- ১ম বাংলাদেশি: মুসা ইব্রাহিম, ২০১০ সালের ২৩ মে।
- ২য় বাংলাদেশি: এম এ মুহিত, ২০১১ সালের ২১ মে।
- ৩য় বাংলাদেশি: নিশাত মজুমদার, ২০১২ সালের ১৯ মে।
- ৪র্থ বাংলাদেশি: ওয়াসফিয়া নাজরিন, ২০১২ সালের ২৬ মে।
- ৫ম বাংলাদেশি: বাবর আলী, ২০২৪ সালের ১৯ মে।
- ষষ্ঠ বাংলাদেশি: ইকরামুল হাসান শাকিল ২০২৫ সালের ১৯ মে।
উল্লেখ্য, 
- মো. খালেদ হোসেন এভারেস্ট  চূড়া থেকে নামার পথে দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি।
- তাই এভারেস্ট জয়ী হিসেবে নিবন্ধিত হতে পারেননি।

উৎস: প্রথম আলো এবং BBC পত্রিকা রিপোর্ট।

১৪.
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হককে 'শের-ই-বঙ্গাল' বা 'বাংলার বাঘ' উপাধি দেয় কারা?
  1.  কৃষক-প্রজারা
  2. পাঞ্জাববাসীরা
  3. লাহোরবাসীরা
  4. কলকাতাবাসীরা
ব্যাখ্যা

শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকঃ
- তার পূর্ণ নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক। 
- ১৮৭৩ সালের ২৯ অক্টোবর বরিশাল জেলার বানরীপাড়া থানার চাখার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯০৬ সালে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্টেটের চাকরি গ্রহণ করেন।
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরের অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯২৭ সালে তিনি কৃষক-প্রজা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- ১৯৩৫-৩৬ সালে প্রথম বাঙালি মুসলমান হিসাবে কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন।
- ১৯৩৭ সালে শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক অবিভক্ত বাংলার প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হন। 
- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাঁকে উপাধি দেয় শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ বাংলার বাঘ।
- তিনি ‘ঋণ সালিশী বোর্ড’ গঠন করেন।
- ১৯৪০ সালে মহাজনী আইন পাসের মাাধ্যমে সুদের হার ও চক্রবৃদ্ধি রহিত করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় ফ্লাউড কমিশন গঠিত হয় এবং এ কমিশনের সুপারিশেই ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারী দখল ও প্রজাস্বত্ব আইন পাস হয়। 
- ১৯৫৪ সালে দেশের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৯৫৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর-অব-ল উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৫৯ সালে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান তাঁকে ‘হিলাল-ই-পাকিস্তান’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল প্রায় ৮৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজাপুর উপজেলার ওয়েবসাইট [লিঙ্ক]।

১৫.
সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. সুভাষচন্দ্র বসু
  3. চিত্তরঞ্জন দাস
  4. এ.কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা

মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী:
- ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
- ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর ভারতে জন্ম নেন তিনি।
- ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলন করা এবং ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে বিদায় করতে তাঁর ভূমিকা অগ্রগণ্য।
- তিনি ছিলেন সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা।
- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে খিলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে।
- মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন সংঘঠিত হয় ১৯২০ সালে।
- ১৯২১-২২ খ্রিস্টাব্দে এই আন্দোলন সর্বভারতীয় গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে উত্তর প্রদেশের চৌরিচোরা নামক স্থানে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিলে হঠাৎ করে এই আন্দোলন বন্ধের ডাক দেন।
- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি গ্রেফতার হলে আন্দোলন স্থিমিত হয়ে যায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬.
“গণতন্ত্রের মানসপুত্র” বলা হয় কোন রাজনীতিবিদকে?
  1. শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক
  2. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. নওয়াব আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী:
- তিনি ছিলেন রাজনীতিক, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
- তিনি ১৮৯২ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাকে 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' বলা হয়
- হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী ১৯২১ থেকে ১৯৫৮ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভা এবং পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য ছিলেন।
- তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থেকেছেন।
- সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো
- ১৯২৪ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র,
- ১৯৩৭ সালের নির্বাচনোত্তর ফজলুল হক কোয়ালিশন মন্ত্রিসভার শ্রম ও বাণিজ্য মন্ত্রী,
- ১৯৪৩-১৯৪৫ সালে খাজা নাজিমউদ্দীন মন্ত্রিসভায় বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী,
- ১৯৪৬-৪৭ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী,
- পাকিস্তান আমলে ১৯৫৪-৫৫ সালে মোহাম্মদ আলীর মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী এবং
- ১৯৫৬-১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
'মজলুম জননেতা' নামে কে পরিচিত?
  1. শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক
  2. মওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশ
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা

মওলানা আবদলু হামিদ খান ভাসানী: 
- তিনি ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর তৎকালীন পাবনা জেলার সিরাজগঞ্জ মহকুমা শহরের অদূরবর্তী ধনপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে “মজলুম জননেতা” বলা হয়, কারণ তিনি সবসময় শোষিত, বঞ্চিত ও প্রান্তিক মানুষের পক্ষে লড়েছেন।
- টাঙ্গাইলের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। 
- ব্রিটিশ বিরোধী অসহযোগ-খেলাফত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ভাসানীর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়।
- মওলানা ভাসানী ১৯৩৭ সালে মুসলিম লীগে যোগদান করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি আসাম মুসলিম লীগের সভাপতি হন।
- ১৯৪৯ সালের ২৪ জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন মওলানা ভাসানী।
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে তাঁকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠায়।
- ১৯৫৭ সালে মওলানা ভাসানী ঢাকায় পাকিস্তানের সকল বামপন্থী দলের একটি সম্মেলন আহবান করেন। 
- এই সম্মেলনের মাধ্যমে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নামক নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- তিনি এই দলের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- ভাসানী ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। টাঙ্গাইলের সন্তোষে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম); বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
বাংলাদেশের প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয় কোথায়?
  1. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  2. জামালপুর
  3. সিলেট
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা

গ্যাসক্ষেত্র:
- বাংলাদেশের প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয় ১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে।
- প্রথম গ্যাস উত্তোলন শুরু হয় ১৯৫৭ সালে।
- দেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র হলো তিতাস গ্যাসক্ষেত্র, যা ১৯৬২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি কর্তৃক আবিষ্কৃত হয়।
- বাংলাদেশের প্রথম সামুদ্রিক গ্যাসক্ষেত্র হলো সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র।
- দেশে বর্তমানে মোট ২৯টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে।
- সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলায় দেশের ২৮তম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।
- সর্বশেষ ভোলার ইলিশা-১ হলো দেশের ২৯তম গ্যাসক্ষেত্র।
উল্লেখ্য,
- বাপেক্স জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের তারতাপাড়া গ্রামে নতুন কূপ খননের পর প্রাথমিক পরীক্ষায় গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে।
- সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এটি হতে পারে দেশের ৩০তম গ্যাসক্ষেত্র।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো।

১৯.
কান চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কারপ্রাপ্ত বাংলাদেশের ছায়াছবি-
  1. মুক্তির কথা (১৯৯৯)
  2. মাটির ময়না (২০০২)
  3. অন্তর্যাত্রা (২০০৬)
  4.  রানওয়ে (২০১০)
ব্যাখ্যা

তারেক মাসুদ:
- মাসুদ, তারেক একজন চলচ্চিত্রকার। 
- ১৯৫৬ সালের ৬ ডিসেম্বর ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নূরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রামাণ্যচিত্র মুক্তির গান (১৯৯৫)-এর মাধ্যমে চলচ্চিত্রকার হিসেবে তারেক মাসুদ বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
- মুক্তির গান ‘ফিল্ম সাউথ এশিয়া’ (১৯৯৭) থেকে বিশেষ সম্মাননা অর্জন করে।
- তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র মাটির ময়নার (২০০২) মাধ্যমে তারেক মাসুদ আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- মাটির ময়না (২০০২) বাংলাদেশে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র যা কান চলচ্চিত্র উৎসবে ফিপ্রেস্কি আন্তর্জাতিক সমালোচক পুরস্কারের আওতায় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার অর্জন করে। 
- তারেক মাসুদের উল্লেখযোগ্য আরও কয়েকটি চলচ্চিত্র হলো অন্তর্যাত্রা (২০০৬), নরসুন্দর (২০০৯) এবং রানওয়ে (২০১০)।
- স্বল্পদৈর্ঘ্য, পূর্ণদৈর্ঘ্য, প্রামাণ্যচিত্র ও অ্যানিমেশন মিলিয়ে তারেক মাসুদ মোট ১৬টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন।
- ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট কাগজের ফুল-এর সুটিংস্পট নির্বাচন করে ফেরার পথে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২০.
মাস্টারদা সূর্যসেনকে বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত করেন কে ?
  1. মহাত্না গান্ধী
  2. সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী
  3. দেশবন্ধুচিত্তরঞ্জন দাশ 
  4. সুভাষচন্দ্র বস
ব্যাখ্যা

মাস্টারদা সূর্যসেনঃ 
- মাস্টারদা সূর্যসেন ১৮৯৪ সালে চামের রাউজান থানার নাাপা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সূর্যসেন পেশায় ছিলেন একজন শিক্ষক।
- তাঁকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য বলা হত মাস্টারদা সূর্যসেন।  
- ১৯১৬ সালে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর কৃঞ্চনাথ কলেজে বি.এ পড়ার সময় তিনি তাঁর এক শিক্ষক শতীশচন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন। 
- রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের চট্রগ্রাম অঞ্চলের নেতা হিসেবে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকান্ডে তৎপর হয়ে ওঠেন।
- ১৯৩০ সালের এপ্রিল মাস থেকে ভারতবর্ষের স্বাধীনতার লক্ষ্যে মাস্টারদা ব্রিটিশদের উপর আক্রমণ চালাতে শুরু করেন।
- ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিলের সশস্ত্র বিদ্রোহ ছিল সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীদের দীর্ঘ সময়ের প্রস্ত্ততি ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার ফসল।
-  এ যুদ্ধে ১৪ জন বিপ্লবী শহীদ হন।
- ১৯৩২ সালের জুন মাসে মাস্টারদা প্রীতিলতা ও কল্পনা দত্তকে বোমা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম কারাগার ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেবার নির্দেশ প্রদান করেন।
- মাস্টারদা পটিয়া এলাকার গৈরালা গ্রামে আত্নগোপন করেন।
- একজন গ্রামবাসীর বিশ্বাসঘাতকতায় ১৯৩৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মাস্টারদা গ্রেফতার হন।
- ১৯৩৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সূর্যসেনকে ফাঁসি দেয়া হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

২১.
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন কবে উদ্বোধন করা হয়?
  1. ১৯৭৫ সালে
  2. ১৯৭৮ সালে
  3. ১৯৮০ সালে
  4. ১৯৮২ সালে
ব্যাখ্যা

জাতীয় সংসদ ভবনঃ
- জাতীয় সংসদ ভবন রাজধানী ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত।
- এ অসাধারণ ভবনটি আমেরিকার স্থাপতি  লুই আই কান-এর সৃষ্টিশীল ও কাব্যিক প্রকাশের নিদর্শন।
- ১৯৫৯ সালে প্রথম ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সটির পরিকল্পনা গৃহীত হয়।
- ১৯৬৪ সালে সংসদ ভবনের নকশা সম্পন্ন হয় এবং এর পরপরই  নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
- ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নির্মাণাধীন প্রধান অবকাঠামোটির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। 
- ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ সরকার ভবনের মূল নকশায় কোনো রকম পরিবর্তন না এনে নির্মাণ সম্পন্ন করার কৃতিত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
- মূল ভবন কমপ্লেক্সটির নয়টি স্বতন্ত্র বিভাগে বিভক্ত।
- এ ভবন কমপ্লেক্সটির সর্বমোট নির্মাণ ব্যয় ১২৮ কোটি টাকা।
- ১৯৮২ সালের প্রথম দিকে ভবনটির কাজ সম্পন্ন হয় 
- ১৯৮২ সালের ২৮ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট জাস্টিস আব্দুস সাত্তার এটির উদ্বোধন করেন। 
- ১৯৮২ সালের ১৫ ফের্রুয়ারি এ ভবনে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২২.
'ব্র্যাক' কোন জেলায়, কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. কুড়িগ্রাম জেলা, ১৯৭১
  2. পঞ্চগড় জেলা, ১৯৭২
  3. চট্টগ্রাম জেলা, ১৯৭১
  4. সিলেট জেলা, ১৯৭২
ব্যাখ্যা

স্যার ফজলে হাসান আবেদ ও ব্র্যাক:
- স্যার ফজলে হাসান আবেদ বিশ্বের সর্ববৃহৎ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক-এর প্রতিষ্ঠাতা।
- ব্র্যাক (বাংলাদেশ রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি) একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন।
- ১৯৭২ সালে স্যার ফজলে হাসান আবেদ সিলেট জেলার শাল্লা এলাকায় ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা করেন।
- ব্র্যাক বৈষম্য ও দারিদ্র্যের সাথে বসবাসকারী ১০ কোটিরও বেশি মানুষের সাথে অংশীদারিত্ব করে মানব সম্ভাবনাকে বাস্তবায়িত করার সুযোগ তৈরি করে।
- ২০১৪ এবং ২০১৭ সালে ‘ফরচুন’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত বিশ্বের ৫০ জন সেরা নেতার তালিকায় স্যার ফজলে হাসান আবেদের নাম স্থান পায়।
- ব্র্যাকের পাশাপাশি আবেদ বিভিন্ন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯৮০ সালে তিনি ‘রেমন ম্যাগসাসাই কমিউনিটি লিডারশীপ’ পুরস্কার প্রাপ্ত হন।
- তিনি ২০০৪ সালে ‘ইউএনডিপি মাহবুবুল হক পুরস্কার’ লাভ করেন।
- ২০১০ সালে তিনি ‘নাইট কমান্ডার অব দি ওয়ার্ডার অব সেইন্ট মাইকেল’ এবং ‘সেইন্ট জর্জ’ (কেসিএমজি) পুরস্কারে ভূষিত হন।
- স্যার ফজলে হাসান আবেদ ২০১৯ সালের ২০শে ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২৩.
’বেঙ্গল প্যাক্ট’ (১৯২৩) অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে মুসলমানদের জন্য কত শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়?
  1. ৪০ শতাংশ
  2. ৫০ শতাংশ
  3. ৫৫ শতাংশ
  4. ৬০ শতাংশ
ব্যাখ্যা

’বেঙ্গল প্যাক্ট’ ও চিত্তরঞ্জন দাশ:
- চিত্তরঞ্জন দাশের সময়ে ভারতবর্ষের রাজনীতিতে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য সমস্যাটি অত্যন্ত প্রকট ছিল।
- ১৯২৩ সালে তিনি মুসলমান সম্প্রদায়ের সাথে একটি চুক্তি করেন যা ’বেঙ্গল প্যাক্ট’ নামে পরিচিত।
- ’বেঙ্গল প্যাক্ট’ এ সরকারি চাকুরিতে মুসলমানদের জন্য শতকরা ৫৫ ভাগ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়। 
- যতদিন মুসলমানরা ৫৫ শতাংশে না পৌঁছায়, ততদিন পর্যন্ত মোট সরকারি চাকুরির ৮০ ভাগ মুসলমানদের জন্য সংরক্ষণের কথা বলা হয়।
- রাজনৈতিক নিষ্ঠা ও গভীর দেশপ্রেমের জন্য এই উপমহাদেশের জনগণ চিত্তরঞ্জন দাশকে 'দেশবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

২৪.
মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী দলের প্রথম মহিলা সদস্য কে ছিলেন?
  1. আম্বিকা চক্রবর্তী
  2.  কল্পনা দত্ত
  3. কল্যাণী দাস
  4. প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার
ব্যাখ্যা

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার:
- ১৯১১ সালে চট্টগ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার মাস্টারদা সূর্যসেন-এর ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা ছিলেন।
- প্রীতিলতা মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী দলের প্রথম মহিলা সদস্য হন।
- তিনি টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ অফিস ধ্বংস এবং রিজার্ভ পুলিশ লাইন দখল অভিযানে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি জালালাবাদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
- ১৯৩২ সালের জুন মাসে মাস্টারদা প্রীতিলতা ও কল্পনা দত্তকে বোমা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম কারাগার ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেবার নির্দেশ প্রদান করেন।
- ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রীতিলতা পাহাড়তলীতে ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- ক্লাব আক্রমণ সফল করে ফিরে যাওয়ার সময়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হলে তাৎক্ষণিকভাবে পটাসিয়াম সায়ানাইড খেয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২৫.
কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবির মর্যাদা দিয়ে গেজেট প্রকাশিত হয় কত তারিখে?
  1. ৫ ডিসেম্বর ২০২৪
  2. ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪
  3. ৫ জানুয়ারি ২০২৫
  4. ২৪ জানুয়ারি ২০২৫
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবি স্বীকৃতি:
- বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবি স্বীকৃতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।
- রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান স্বাক্ষরিত এক গেজেট প্রজ্ঞাপনে বলা হয়,
- উপদেষ্টা পরিষদের এক সভায় অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের জাতীয় কবি ঘোষণা করা হয়েছে এবং এটি সবার অবগতির জন্য গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। 
- গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে প্রজ্ঞাপিত বিজ্ঞপ্তি অনুসারে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ২৪ মে ১৯৭২ সালে সপরিবারে কলকাতা থেকে ঢাকায় আনা হয়। 
- পরবর্তীতে কাজী নজরুল ইসলাম-কে ১৯৭৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য,
- গত ৫ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে উপদেষ্টা পরিষদে কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।




উৎস: বাংলাদেশ সরকারি গেজেট ও বাংলাপিডিয়া।