পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১২ টপিক: পদ প্রকরণ বা ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি (বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ, অনুসর্গ, যোজক ও আবেগ শব্দ) [লাইভ ক্লাস - ২৩, ২৪, ২৫ ও ২৬]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · প্রশ্ন

.
কোনটি সকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. সালমা ঘুমায়।
  2. হাসিব বলছে।
  3. নাছরিন খেলা করছে।
  4. সুমাইয়া লিখছে।
ব্যাখ্যা
• বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার।
যথা:
১. সকর্মক ক্রিয়া,
২. অকর্মক ক্রিয়া,
৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া।

সকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- নাছরিন খেলা করছে।
এই বাক্যে 'করছে' হলো সকর্মক ক্রিয়া। 'খেলা' হলো 'করছে' ক্রিয়ার কর্ম।

অকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- সুমাইয়া লিখছে। 
- হাসিব বলছে।
- সালমা ঘুমায়।
উপর্যুক্ত বাক্যগুলোতে কোনো কর্ম নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
নিচের কোন বাক্যে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ আছে?
  1. মাথার উপরে নিল আকাশ।
  2. কার কাছে গেলে জানা যাবে?
  3. এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
  4. মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
• করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
• ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
• দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
• বলে: তুমি আসবে বলে আমি দাঁড়িয়ে আছি।

সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন: 
• উপরে: মাথার উপরে নিল আকাশ।
• কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
• দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ ও ২০২১ সংস্করণ)।
.
নিচের কোন বাক্যে কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণের দৃষ্টান্ত রয়েছে?
  1. আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
  2. তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
  3. ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।
  4. কখনো বা দেখা হবে।
ব্যাখ্যা
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন -
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

অন্যদিকে,
• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ - কখনো বা দেখা হবে। 
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ - ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।
• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ - তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
সাপেক্ষ সর্বনামের উদাহরণ কোনটি?
  1. যেমন-তেমন
  2. স্বয়ং
  3. কারা
  4. একজন
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নে 'যেমন-তেমন' হচ্ছে সাপেক্ষ সর্বনামের উদাহরণ।

সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- আত্মবাচক সর্বনাম: যেমন - নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।
- অনির্দিষ্ট সর্বনাম: যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।
- প্রশ্নবাচক সর্বনাম: যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী (কী দিয়ে ভাত খায়?) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
.
'জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।' এখানে 'কারণ' কোন ধরনের যোজক?
  1. সাপেক্ষ যোজক
  2. কারণ যোজক
  3. বিকল্প যোজক
  4. সাধারণ যোজক
ব্যাখ্যা
কারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন-
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

অন্যদিকে,
সাধারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন –
- রহিম করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো ।

বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন -
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান ।

সাপেক্ষ যোজক:
- এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব ।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ)।
.
নির্দেশক সর্বনাম কোনটি?
  1. পরস্পর
  2. উনি
  3. অপর
  4. যারা-তারা
ব্যাখ্যা
নির্দেশক সর্বনাম:
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম  বলে।
যেমন -
নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি।
দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি

অন্যদিকে,
• অপর - অন্যবাচক সর্বনাম।
• যারা-তারা - সাপেক্ষ সর্বনাম।
• পরস্পর - পারস্পরিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'তবু' কোন ধরনের যোজকের উদাহরণ?
  1. বিরোধ যোজক
  2. বিকল্প যোজক
  3. কারণ যোজক
  4. সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা
বিরোধ যোজক: 
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে। 
যেমন-
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

অন্যদিকে,
কারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন-
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

সাধারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন –
- রহিম করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন -
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ)।
.
বাক্যে বিধেয় বিশেষণ কোথায় বসে?
  1. বিশেষ্যের শেষে
  2. বিশেষ্যের পূর্বে
  3. বিশেষণের শেষে
  4. বিশেষণের পূর্বে
ব্যাখ্যা
- বাক্যে পদ সংস্থাপনার ক্রম অনুসারে, সম্বন্ধ পদ বিশেষ্যের পূর্বে বসে।
যেমন - ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এসেছে।
- তবে কবিতায় ইত্যাদিতে ছন্দের প্রয়োজনে পরেও বসতে পারে।
যেমন - হে আদি জননী সিন্ধু, বসুন্ধরা সন্তান তোমার।

- বিধেয় বিশেষণ সর্বদাই বাক্যের বিশেষ্যের পরে বসে।
যেমন - লোকটি যে জ্ঞানী তাতে সন্দেহ নেই। 

উৎস:
১) ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
২) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।