পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived

পরীক্ষা৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন২৮
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১৯: বিষয়: সাধারণ বিজ্ঞান সিলেবাস ভৌত বিজ্ঞান: পদার্থের অবস্থা, এটমের গঠন, কার্বনের বহুমুখী ব্যবহার, এসিড, ক্ষার, লবণ, পদার্থের ক্ষয়, সাবানের কাজ, ভৌত রাশি এবং এর পরিমাপ, ভৌত বিজ্ঞানের উন্নয়ন, চৌম্বকত্ব, তরঙ্গ এবং শব্দ, তাপ ও তাপগতি বিদ্যা, আলোর প্রকৃতি, স্থির এবং চল তড়িৎ, ইলেকট্রনিক্স, আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান, শক্তির উৎস এবং এর প্রয়োগ, নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস, পারমাণবিক শক্তি, খনিজ উৎস, শক্তির রূপান্তর, আলোক যন্ত্রপাতি, মৌলিক কণা, ধাতব পদার্থ এবং তাদের যৌগসমূহ, অধাতব পদার্থ, জারণ-বিজারণ, তড়িৎ কোষ, অজৈব যৌগ, জৈব যৌগ, তড়িৎ চৌম্বক, ট্রান্সফরমার, এক্সরে, তেজস্ক্রিয়তা ইত্যাদি। আধুনিক বিজ্ঞান: পৃথিবী সৃষ্টির ইতিহাস, কসমিক রে, ব্লাক হোল, হিগের কণা, বারিমণ্ডল, টাইড, বায়ুমণ্ডল, টেকটোনিক প্লেট, সাইক্লোন, সুনামি, ডায়োড, ট্রানজিস্টর, আইসি, আপেক্ষিক তত্ত, ফোটন কণা ইত্যাদি। উৎস: যেকোনো গাইড বই, ষষ্ঠ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বোর্ড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ২৮ প্রশ্ন

.
হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে কণা পাওয়া যায় তাকে কী বলে?
  1. নিউট্রন
  2. ইলেকট্রন
  3. প্রোটন
  4. পজিট্রন 
সঠিক উত্তর:
প্রোটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটন
ব্যাখ্যা

• হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক তড়িৎধর্মী কণা পাওয়া যায়, সেটিই প্রোটন।

• মৌলিক কণিকা (Fundamental Particles):
- যে সকল অতিক্ষুদ্র কণিকার সমন্বয়ে পরমাণু গঠিত হয়, তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়।
- একটি পরমাণুর মধ্যে মোট তিনটি মৌলিক কণিকা বিদ্যমান। যথা—
- ইলেকট্রন,
- প্রোটন,
- নিউট্রন।
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস অবস্থিত।
- পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে।
 
• ইলেকট্রন (Electron):
- ইলেকট্রন হলো পরমাণুর ক্ষুদ্রতম মৌলিক কণিকা।
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হলো ইলেকট্রন।
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় প্রায় ১৮৪০ গুণ হালকা।
- ইলেকট্রন একটি একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা।
 
• প্রোটন (Proton):
- ইলেকট্রনের মতো প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মৌলিক কণিকা।
- প্রোটন পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থান করে।
- হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক তড়িৎধর্মী কণা পাওয়া যায়, তাকে প্রোটন বলা হয়।
- প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেন পরমাণুর ভরের সমান।
 
• নিউট্রন (Neutron):
- নিউট্রন একটি আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা।
- ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী জেমস চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন।
- নিউট্রনের ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান।
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান।
 
উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
যেসব এসিড পানিতে দ্রবীভূত হয়ে সম্পূর্ণরূপে আয়নিত হয়, সেগুলোকে কী বলা হয়?
  1. দুর্বল এসিড
  2. শক্তিশালী এসিড
  3. জৈব এসিড
  4. খনিজ এসিড
সঠিক উত্তর:
শক্তিশালী এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শক্তিশালী এসিড
ব্যাখ্যা

• যেসব এসিড পানিতে দ্রবীভূত হয়ে সম্পূর্ণরূপে আয়নিত হয় এবং অধিক পরিমাণে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) উৎপন্ন করে, সেগুলোকে শক্তিশালী এসিড বলা হয়।

• শক্তিশালী ও দুর্বল এসিড:
- যেসব এসিড পানিতে দ্রবীভূত হয়ে সম্পূর্ণরূপে আয়নিত হয় এবং প্রচুর পরিমাণে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) উৎপন্ন করে, তাদেরকে শক্তিশালী এসিড বলা হয়।
- অপরদিকে, যেসব এসিড পানিতে সম্পূর্ণরূপে আয়নিত হয় না, বরং আংশিকভাবে আয়নিত হয়, সেগুলোকে দুর্বল এসিড বলা হয়।
- অর্থাৎ, দুর্বল এসিডের ক্ষেত্রে এসিডের সব অণু থেকে H+ আয়ন উৎপন্ন হয় না।
- কিন্তু শক্তিশালী এসিডের ক্ষেত্রে পানিতে দ্রবীভূত হলে প্রায় সব অণুই H+ আয়নে বিযুক্ত হয়।
 
• গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- সব জৈব এসিডই যে দুর্বল হবে, তা নয়।
- উদাহরণস্বরূপ, কার্বনিক এসিড (H2CO3) একটি জৈব এসিড হলেও এটি দুর্বল এসিড।
- আবার কোনো এসিড খনিজ (Inorganic) হলেই যে তা শক্তিশালী হবে, এমনটিও নয়।
 
• দুর্বল এসিডের উদাহরণ:
- এসিটিক এসিড (CH3COOH),
- সাইট্রিক এসিড (C6H8O7),
- অক্সালিক এসিড (HOOC–COOH)।
 
• শক্তিশালী এসিডের উদাহরণ:
- সালফিউরিক এসিড (H2SO4),
- নাইট্রিক এসিড (HNO3),
- হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl)। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
তেল বা চর্বিকে NaOH বা KOH দ্বারা আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে কী উৎপন্ন হয়?
  1. এসিড
  2. লবণ
  3. সাবান
  4. অ্যালকোহল
সঠিক উত্তর:
সাবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাবান
ব্যাখ্যা

• তেল বা চর্বিকে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH)–এর জলীয় দ্রবণ দ্বারা আর্দ্র বিশ্লেষণ (Hydrolysis / Saponification) করলে সাবান উৎপন্ন হয়।

• সাবান (Soap):
- সাবান একটি বহুল ব্যবহৃত পরিষ্কারক পদার্থ, যা দেহ ও কাপড়–চোপড় পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- আধুনিক জীবনে সাবানের পাশাপাশি ডিটারজেন্ট, ইমালশন, পলিশ ইত্যাদিও পরিষ্কারক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
 
• রাসায়নিক গঠন:
- সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ।
 
• কাঁচামাল:
- সাবান তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো তেল বা চর্বি।
 
• সাবান তৈরির প্রক্রিয়া:
- তেল বা চর্বিকে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) অথবা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH)–এর জলীয় দ্রবণের সাথে আর্দ্র বিশ্লেষণ (Hydrolysis) করলে—
- সোডিয়াম সাবান অথবা
- পটাশিয়াম সাবান উৎপন্ন হয়।
 
• উপজাত পদার্থ:
- সাবান তৈরির সময় উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন (Glycerin) পাওয়া যায়।

উৎস: রসায়ন, নবম–দশম শ্রেণি।

.
দিন-রাত্রি হওয়ার কারণ কোনটি?
  1. আহ্নিক গতি 
  2. মধ্যাকর্ষণ শক্তি
  3. বার্ষিক গতি
  4. দোলন গতি
সঠিক উত্তর:
আহ্নিক গতি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহ্নিক গতি 
ব্যাখ্যা

পৃথিবীতে দিন-রাত্রি সংঘটিত হয় আহ্নিক গতির কারণে। আহ্নিক গতি বলতে পৃথিবী তার অক্ষের চারপাশে ঘূর্ণনকে বোঝায়। এই ঘূর্ণনের ফলে পৃথিবীর এক পাশ সূর্যের দিকে থাকে, যা দিন, আর বিপরীত পাশ অন্ধকারে থাকে, যা রাত সৃষ্টি করে। পৃথিবী একবার পূর্ণ ঘূর্ণন করতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে। তাই প্রতিদিন এই ঘূর্ণনের কারণে সূর্য উঠা ও অস্ত যাওয়ার পরিবর্তন ঘটে এবং দিন-রাত্রির পর্যায়বতী চক্র চলতে থাকে। মধ্যাকর্ষণ শক্তি, দোলন গতি বা বার্ষিক গতি দিন-রাত্রির জন্য নয়, বরং অন্যান্য প্রাকৃতিক ঘটনা ও ঋতু পরিবর্তনের জন্য দায়ী। তাই দিন-রাত্রির জন্য সঠিক কারণ হলো আহ্নিক গতি।

আহ্নিক গতি:
- পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে নির্দিষ্ট গতিতে আবর্তিত হচ্ছে যা আহ্নিক গতি নামে পরিচিত।
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলাফল সমূহ-
দিন-রাত্রি সংঘটন,
• জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি,
• বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি,
• তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি,
• জীব জগতের সৃষ্টি ও বংশবিস্তার প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
- সূর্যের মহাকর্ষ বলের প্রভাবে পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর অবিরাম ঘূর্ণনের সাথে সাথে নির্দিষ্ট পথে নির্দিষ্ট দিকে (ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে) নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে যা পৃথিবীর বার্ষিক গতি নামে পরিচিত।
- পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারণে ঋতু পরিবর্তন ও দিন- রাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি হয়ে থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

.
কোনটি মৃৎক্ষার ধাতু?
  1. সোডিয়াম
  2. পটাসিয়াম
  3. সিজিয়াম
  4. স্ট্রনসিয়াম
সঠিক উত্তর:
স্ট্রনসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ট্রনসিয়াম
ব্যাখ্যা

• স্ট্রনসিয়াম (Sr) মৃৎক্ষার ধাতু। এটি পর্যায় সারণির 2 নং গ্রুপে অবস্থিত। এর পারমাণবিক সংখ্যা ৩৮।

ক্ষার ধাতু:
- পর্যায় সারণির 1নং গ্রুপে 7 টি মৌল আছে।
- এদের মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি 6 টি মৌল লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাসিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb), সিজিয়াম (Cs) এবং ফ্রান্সিয়াম (Fr) -কে ক্ষারধাতু বলে।
- এই ছয়টি মৌলের প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষার ধাতু (Alkali Metals) বলা হয়।

মৃৎক্ষার ধাতু:
- পর্যায় সারণির 2নং গ্রুপে বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), স্ট্রনসিয়াম (Sr), বেরিয়াম (Ba) এবং রেডিয়াম (Ra) এই 6 টি মৌল আছে, যাদেরকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে।
- এই মৃৎক্ষার ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়, আবার এরা ক্ষার তৈরি করে। এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

.
বৈদ্যুতিক প্রবাহের SI একক কোনটি?
  1. ভোল্ট
  2. ওয়াট
  3. অ্যাম্পিয়ার
  4. ওহম
সঠিক উত্তর:
অ্যাম্পিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাম্পিয়ার
ব্যাখ্যা

• বৈদ্যুতিক প্রবাহের SI একক হলো অ্যাম্পিয়ার (Ampere), যা বিদ্যুৎ প্রবাহের মাত্রা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়।

• ভৌত রাশি এবং তাদের পরিমাপ (Physical Quantities and Their Measurement):
- পানি ঠান্ডা করলে তা বরফে পরিণত হয়, আবার গরম করলে তা বাষ্পে রূপান্তরিত হয়—এটি একটি পরিচিত ভৌত পরিবর্তন।
- মানুষ দৈনন্দিন জীবনে এসব পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করলেও, কেবল পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রকৃত বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জন সম্ভব নয়।
- প্রকৃত বিজ্ঞান বুঝতে হলে পরিমাপের মাধ্যমে বিষয়গুলো নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করতে হয়।
- উদাহরণস্বরূপ—
- কোন তাপমাত্রায় পানি বরফে পরিণত হয়,
- কোন তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে রূপান্তরিত হয়,
- এগুলো পরিমাপের মাধ্যমেই নির্দিষ্টভাবে জানা যায়।
- বিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো পরিমাপের মাধ্যমে ভৌত রাশিগুলোকে নির্ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা।
 
• ভৌত রাশি (Physical Quantity):
- যে সকল রাশির পরিমাপ করা যায় এবং যেগুলোকে সংখ্যা ও এককের মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়, সেগুলোকে ভৌত রাশি বলা হয়।
 
• SI পদ্ধতি ও মৌলিক ভৌত রাশি:
- আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতি (SI System) অনুযায়ী মোট সাতটি মৌলিক ভৌত রাশি নির্ধারিত আছে।
 
• SI একক পদ্ধতির মৌলিক ভৌত রাশি, একক ও প্রতীক:
• দৈর্ঘ্য:
- একক: মিটার (meter),
- প্রতীক: m

• ভর:
- একক: কিলোগ্রাম (kilogram),
- প্রতীক: kg

• সময়:
- একক: সেকেন্ড (second),
- প্রতীক: s

• বৈদ্যুতিক প্রবাহ:
- একক: অ্যাম্পিয়ার (ampere),
- প্রতীক: A

• তাপমাত্রা:
- একক: কেলভিন (kelvin),
- প্রতীক: K

• পদার্থের পরিমাণ:
- একক: মোল (mole),
- প্রতীক: mol

• দীপন তীব্রতা:
- একক: ক্যান্ডেলা (candela),
- প্রতীক: cd

• Other Options:
ক) ভোল্ট হলো বৈদ্যুতিক বিভব পার্থক্যের একক।
খ) ওয়াট হলো ক্ষমতার একক।
ঘ) ওহম হলো বৈদ্যুতিক রোধের একক।

উৎস: রসায়ন, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

.
“Response in the Living and Non-living” গ্রন্থটি কার লেখা?
  1. আইনস্টাইন
  2. নিউটন
  3. রাদারফোর্ড
  4. জগদীশচন্দ্র বসু
সঠিক উত্তর:
জগদীশচন্দ্র বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জগদীশচন্দ্র বসু
ব্যাখ্যা

• “Response in the Living and Non-living” গ্রন্থটি জগদীশচন্দ্র বসুর রচনা, যেখানে তিনি জীব ও জড়বস্তুর প্রতিক্রিয়ার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করেছেন।

• জগদীশচন্দ্র বসুর অবদান (Contributions of Jagadish Chandra Bose):
-জগদীশচন্দ্র বসু (১৮৫৮–১৯৩৭) ছিলেন একজন প্রখ্যাত ভারতীয় বিজ্ঞানী।
- তিনি মূলত উদ্ভিদবিদ্যা, পদার্থবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
 
• বৈজ্ঞানিক অবদান:
- তিনি প্রমাণ করেন যে উদ্ভিদও উদ্দীপনায় সাড়া দেয় এবং উদ্ভিদের মধ্যেও সংবেদনশীলতা বিদ্যমান।
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি, উদ্দীপনা ও প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণের জন্য তিনি ক্রেস্কোগ্রাফ (Crescograph) নামক একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেন।
- এই যন্ত্রের সাহায্যে উদ্ভিদের সূক্ষ্মতম বৃদ্ধি ও প্রতিক্রিয়া পরিমাপ করা সম্ভব হয়।
 
• তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ গবেষণা:
- জগদীশচন্দ্র বসু তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ নিয়ে গবেষণা করেন এবং রেডিও তরঙ্গের ধর্ম ব্যাখ্যায় অবদান রাখেন।
- তিনি বেতার যোগাযোগ গবেষণার প্রাথমিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন।
 
• স্বীকৃতি ও সম্মান:
- তিনি রয়্যাল সোসাইটি (Fellow of the Royal Society – FRS)–এর ফেলো নির্বাচিত হন।
- তার গবেষণা কাজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়।
 
• গ্রন্থ:
- তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “Response in the Living and Non-living”, যেখানে জীব ও জড়বস্তুর প্রতিক্রিয়ার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

.
বস্তু নিজে আলো উৎপন্ন না করলে আমরা কীভাবে সেটি দেখি?
  1. আলো শোষণের মাধ্যমে
  2. আলো প্রতিফলনের মাধ্যমে
  3. আলো বিচ্ছুরণের মাধ্যমে
  4. আলো প্রতিসরণের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
আলো প্রতিফলনের মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলো প্রতিফলনের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

• বস্তু নিজে আলো উৎপন্ন না করলে, সেই বস্তুতে পতিত আলো প্রতিফলিত হয়ে চোখে প্রবেশ করে, ফলে আমরা বস্তুটি দেখতে পাই।

• আলোর চলাচল:
- আলো এক প্রকার শক্তি, যা সরলরেখায় চলে।
- আলো উৎস থেকে নির্গত হয়ে সোজা পথে অগ্রসর হয়।
- স্বচ্ছ মাধ্যমে আলো সাধারণত বাঁকা পথে চলে না।
- আলো চলার পথে কোনো অস্বচ্ছ বস্তু থাকলে ছায়া সৃষ্টি হয়, যা প্রমাণ করে যে আলো সরলরেখায় চলে।
- আলো চলার এই ধর্মকে আলোর সরলরৈখিক গতি বলা হয়।
 
• আমরা যেভাবে দেখি:
- কোনো বস্তুকে দেখতে হলে সেই বস্তু থেকে আলো আমাদের চোখে প্রবেশ করতে হয়।
- বস্তু নিজে আলো উৎপন্ন করতে পারে অথবা অন্য উৎস থেকে আলো প্রতিফলিত করে চোখে পাঠায়।
- আলো চোখে প্রবেশ করার পর আমরা বস্তুটি দেখতে পাই।
- আলো যদি চোখে প্রবেশ না করে, তবে বস্তু দেখা সম্ভব নয়।
- তাই দেখার জন্য আলো, বস্তু ও চোখ—তিনটির উপস্থিতি প্রয়োজন।

উৎস: বিজ্ঞান, ৬ষ্ঠ শ্রেণি।

.
১ ক্যালরি তাপের মান প্রায় কত জুল?
  1. ২.১ জুল
  2. ৩.২ জুল
  3. ৪.২ জুল
  4. ৫.২ জুল
সঠিক উত্তর:
৪.২ জুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪.২ জুল
ব্যাখ্যা

• ১ ক্যালরি তাপের মান প্রায় ৪.২ জুল।

• তাপ ও তাপমাত্রা (Heat and Temperature):

• তাপ (Heat):
- তাপ এক প্রকার শক্তি।
- তাপের আদান–প্রদানের ফলে বস্তুর তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়।
- তাপ সর্বদা উচ্চ তাপমাত্রার বস্তু থেকে নিম্ন তাপমাত্রার বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়।
- তাপের একক ক্যালরি (calorie) এবং জুল (joule)।
- ১ ক্যালরি ≈ ৪.২ জুল।
 
• তাপমাত্রা (Temperature):
- তাপমাত্রা দ্বারা কোনো বস্তুর গরম বা ঠান্ডা হওয়ার মাত্রা বোঝায়।
- তাপমাত্রা কোনো শক্তি নয়; এটি বস্তুর তাপীয় অবস্থার পরিমাপক।
- তাপমাত্রা পরিমাপের একক হলো—
- ডিগ্রি সেলসিয়াস (°C),
- কেলভিন (K)।
 
• তাপ ও তাপমাত্রার পার্থক্য:
- তাপ হলো শক্তি, কিন্তু তাপমাত্রা শক্তি নয়।
- তাপের প্রবাহ ঘটে, কিন্তু তাপমাত্রা প্রবাহিত হয় না।
- তাপ বস্তুর ভরের উপর নির্ভরশীল, কিন্তু তাপমাত্রা ভরের উপর নির্ভরশীল নয়।

 উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

১০.
ক্যালরিমিতির মূলনীতি কোন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত?
  1. ভরের সংরক্ষণ
  2. শক্তির সংরক্ষণ
  3. তাপমাত্রার সংরক্ষণ
  4. আয়তনের সংরক্ষণ
সঠিক উত্তর:
শক্তির সংরক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শক্তির সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা

• ক্যালরিমিতির মূলনীতি শক্তির সংরক্ষণ নীতির উপর ভিত্তি করে, যেখানে তাপ আদান–প্রদানের সময় শক্তি নষ্ট হয় না, কেবল এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে স্থানান্তরিত হয়।

• ক্যালরিমিতির মূলনীতি (Fundamental Principles of Calorimetry):
- শীতকালে গোসলের সময় অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, গরম পানির সঙ্গে ঠান্ডা পানি মেশালে কিছু সময় পর উভয় পানি একই তাপমাত্রায় পৌঁছে যায়।
- গরম পানি ঠান্ডা পানিকে তাপ প্রদান করে, ফলে গরম পানির তাপমাত্রা কমে এবং ঠান্ডা পানির তাপমাত্রা বাড়ে।
- এই তাপ আদান–প্রদানের ফলে একটি সমতাবস্থার তাপমাত্রা সৃষ্টি হয়।
- এই ঘটনাই ক্যালোরিমিতির মূল ধারণার ভিত্তি।
 
• ক্যালরিমিতির মূলনীতি:
- তাপ আদান–প্রদানের সময় একটি বন্ধ সিস্টেমে—
- উষ্ণ বস্তুর ত্যাগকৃত তাপ = শীতল বস্তুর গৃহীত তাপ।
 
• মূল শর্তসমূহ:
- বেশি তাপমাত্রার বস্তু কম তাপমাত্রার বস্তুকে তাপ দিতে পারে, কিন্তু উল্টোটি সম্ভব নয়।
- উষ্ণ বস্তু যতটুকু তাপ ত্যাগ করে, শীতল বস্তু ঠিক ততটুকু তাপ গ্রহণ করে।
- এই প্রক্রিয়ায় সিস্টেমের বাইরে কোনো তাপ ক্ষয় বা গ্রহণ হয় না বলে ধরা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

• Other Options:
ক) ভরের সংরক্ষণ
→ এটি ভরের পরিবর্তন সম্পর্কিত।

গ) তাপমাত্রার সংরক্ষণ
→ তাপমাত্রা সংরক্ষিত থাকে না; বরং পরিবর্তিত হয়ে সমতাবস্থায় পৌঁছে।

ঘ) আয়তনের সংরক্ষণ
→ এটি জ্যামিতিক ধারণা।

১১.
বজ্রপাত কোন ধরনের বিদ্যুতের উদাহরণ?
  1. প্রবাহ বিদ্যুৎ
  2. স্থির বিদ্যুৎ
  3. চৌম্বক বিদ্যুৎ
  4. বিকল্প বিদ্যুৎ
সঠিক উত্তর:
স্থির বিদ্যুৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থির বিদ্যুৎ
ব্যাখ্যা

• বজ্রপাত ঘটে মেঘের মধ্যে সঞ্চিত ধনাত্মক ও ঋণাত্মক স্থির চার্জের হঠাৎ নির্গমনের ফলে, তাই এটি স্থির বিদ্যুতের উদাহরণ।

• স্থির বিদ্যুৎ (Static Electricity):
- স্থির বিদ্যুৎ হলো এমন বিদ্যুৎ, যেখানে বৈদ্যুতিক চার্জ কোনো বস্তুর উপর স্থির অবস্থায় জমা থাকে এবং প্রবাহিত হয় না।
- দুইটি বস্তুকে ঘর্ষণ করলে এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে ইলেকট্রন স্থানান্তরিত হয়।
- ইলেকট্রন গ্রহণকারী বস্তু ঋণাত্মক চার্জযুক্ত হয় এবং ইলেকট্রন হারানো বস্তু ধনাত্মক চার্জযুক্ত হয়।
- এই চার্জের সৃষ্টি ও সঞ্চয় প্রক্রিয়াকে স্থির বিদ্যুৎ বলা হয়।
 
• স্থির বিদ্যুতের উদাহরণ:
- শীতকালে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ানোর পর চিরুনি কাগজের টুকরা আকর্ষণ করা।
- শুকনো আবহাওয়ায় দরজার হাতল বা ধাতব বস্তু স্পর্শ করলে হালকা ঝাঁকুনি লাগা।
- মেঘের মধ্যে চার্জ সঞ্চয়ের ফলে বজ্রপাত হওয়া।
 
• বজ্রপাত ও স্থির বিদ্যুৎ:
- মেঘের মধ্যে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জ পৃথকভাবে জমা হয়।
- চার্জের পার্থক্য বেশি হলে হঠাৎ বিদ্যুৎ নির্গমন ঘটে, যাকে বজ্রপাত বলা হয়।
- বজ্রপাত হলো স্থির বিদ্যুতের একটি প্রাকৃতিক উদাহরণ।
 
• স্থির বিদ্যুতের বৈশিষ্ট্য:
- এতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় না।
- চার্জ সাধারণত অন্তরক বস্তুর উপর সহজে জমা হয়।
- চার্জ নিরপেক্ষ করতে ভূমিসংযোগ (Earthing) কার্যকর।
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২.
ইলেকট্রনিক্সে স্থির বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কেন প্রয়োজন?
  1. যন্ত্রের ওজন কমাতে
  2. যন্ত্রের গতি বাড়াতে
  3. যন্ত্রের ক্ষতি প্রতিরোধ করতে
  4. বিদ্যুৎ খরচ কমাতে
সঠিক উত্তর:
যন্ত্রের ক্ষতি প্রতিরোধ করতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যন্ত্রের ক্ষতি প্রতিরোধ করতে
ব্যাখ্যা

• স্থির বিদ্যুৎ ইলেকট্রনিক উপাদান, বিশেষ করে IC, ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে; তাই ক্ষতি এড়ানোর জন্য স্থির বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।

• স্থির বিদ্যুৎ ও ইলেকট্রনিক্স:
- শীতপ্রধান দেশে বাতাসের জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম থাকায় সেখানে স্থির বিদ্যুতের প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।
- ইলেকট্রনিক্স এমন একটি প্রযুক্তি যেখানে স্থির বিদ্যুতের প্রভাব ও আচরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- আধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সামান্য স্থির বিদ্যুতেও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
- ইলেকট্রনিক যন্ত্রে কাজ করার সময় মানবদেহে সঞ্চিত স্থির বিদ্যুৎ হঠাৎ যন্ত্রের সাথে স্পর্শের মাধ্যমে নির্গত হলে ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হয়।
- ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (Integrated Circuit) ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক উপাদান স্থির বিদ্যুতের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
- এজন্য ইলেকট্রনিক্সে কাজ করার সময় স্থির বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১৩.
তড়িৎ ক্ষমতা বলতে কী বোঝায়?
  1. নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবহৃত তড়িৎ শক্তির পরিমাণ
  2. মোট ব্যবহৃত তড়িৎ শক্তির পরিমাণ
  3. তড়িৎ প্রবাহের পরিমাণ
  4. তড়িৎ বিভবের পরিমাণ
সঠিক উত্তর:
নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবহৃত তড়িৎ শক্তির পরিমাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবহৃত তড়িৎ শক্তির পরিমাণ
ব্যাখ্যা

• তড়িৎ ক্ষমতা দ্বারা বোঝায় কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র একক সময়ে কত তড়িৎ শক্তি ব্যবহার বা রূপান্তর করে।

• তড়িৎ ক্ষমতা (Electric Power):
- তড়িৎ ক্ষমতা বলতে নির্দিষ্ট সময়ে কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্রে ব্যবহৃত বা রূপান্তরিত তড়িৎ শক্তির পরিমাণকে বোঝায়।
- কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র যত বেশি তড়িৎ শক্তি অল্প সময়ে ব্যবহার করে, তার তড়িৎ ক্ষমতা তত বেশি হয়।
- তড়িৎ ক্ষমতা দ্বারা বোঝা যায় কোনো যন্ত্র কত দ্রুত তড়িৎ শক্তিকে আলো, তাপ বা যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে।
- বৈদ্যুতিক বাতি, হিটার, ফ্যান, মোটর ইত্যাদি যন্ত্রের গায়ে তাদের তড়িৎ ক্ষমতার মান লেখা থাকে।
- বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহারের প্রচলিত একক হলো কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh)।
- কিলোওয়াট-ঘণ্টা একককে বোর্ড অব ট্রেড (BOT) ইউনিট বা সংক্ষেপে ইউনিট বলা হয়।
- বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানার বিদ্যুৎ বিল গণনায় এই kWh (ইউনিট) এককই ব্যবহার করা হয়।
- বিদ্যুৎ বিল নির্ধারণে সরাসরি তড়িৎ ক্ষমতা নয়, বরং যন্ত্র কত সময় ধরে কত ক্ষমতায় ব্যবহৃত হয়েছে—তা বিবেচনা করা হয়।
- তড়িৎ ক্ষমতা যত বেশি হবে, নির্দিষ্ট সময়ে তড়িৎ শক্তি ব্যবহারের পরিমাণও তত বেশি হবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১৪.
চুম্বককে সুতোয় ঝুলিয়ে মুক্তভাবে রাখলে কোন দিকে স্থির হয়?
  1. পূর্ব–পশ্চিম
  2. উত্তর–দক্ষিণ
  3. উত্তর–পূর্ব
  4. দক্ষিণ–পশ্চিম
সঠিক উত্তর:
উত্তর–দক্ষিণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর–দক্ষিণ
ব্যাখ্যা

• চুম্বককে সুতোয় ঝুলিয়ে মুক্তভাবে স্থির অবস্থায় রাখলে এটি পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে উত্তর–দক্ষিণ দিকে অবস্থান করে।

• চুম্বক (Magnet):
- চুম্বক হলো এমন একটি বস্তু যা লোহা, নিকেল, কোবাল্ট প্রভৃতি চৌম্বকীয় পদার্থকে আকর্ষণ করতে পারে।
- চুম্বকের আকর্ষণ ক্ষমতা মূলত তার চারপাশের চৌম্বক ক্ষেত্রের কারণে সৃষ্টি হয়।
- একটি চুম্বকের দুটি প্রান্ত থাকে, যেগুলোকে চৌম্বক মেরু বলা হয়।
- চুম্বকের এক প্রান্তকে উত্তর মেরু (North Pole) এবং অন্য প্রান্তকে দক্ষিণ মেরু (South Pole) বলা হয়।
- সমধর্মী মেরু পরস্পরকে বিকর্ষণ করে এবং বিপরীতধর্মী মেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করে।
- চুম্বককে সুতোয় ঝুলিয়ে মুক্তভাবে স্থির অবস্থায় রাখলে এটি সর্বদা উত্তর–দক্ষিণ দিকে অবস্থান করে।
- চুম্বকের আকর্ষণ ক্ষমতা তার মেরু অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি এবং মাঝখানে তুলনামূলকভাবে কম হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১৫.
ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার কোন প্রযুক্তির বিকাশে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে?
  1. যান্ত্রিক প্রযুক্তি
  2. তাপ প্রযুক্তি
  3. রাসায়নিক প্রযুক্তি
  4. আধুনিক ইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তি
সঠিক উত্তর:
আধুনিক ইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধুনিক ইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তি
ব্যাখ্যা

• ট্রানজিস্টরের আবিষ্কারের ফলে ছোট, দ্রুত, কম বিদ্যুৎ খরচে কাজ করা ইলেকট্রনিক যন্ত্র তৈরি সম্ভব হয়, যা আধুনিক ইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তির বিকাশে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।

• ট্রানজিস্টর (Transistor):
- ১৯৪৭ সালে প্রথম ট্রানজিস্টর আবিষ্কৃত হয়।
- এই আবিষ্কারের জন্য জন বার্ডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন এবং উইলিয়াম শকলিকে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়।
- ট্রানজিস্টর একটি ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক উপাদান, যা বৈদ্যুতিক সংকেতকে নিয়ন্ত্রণ ও প্রবর্ধন (amplify) করতে সক্ষম।
- ট্রানজিস্টর ভ্যাকুয়াম টিউবের মতো কাজ করলেও আকারে অনেক ছোট, হালকা এবং অধিক কার্যকর।
- ভ্যাকুয়াম টিউবের তুলনায় ট্রানজিস্টর কম বিদ্যুৎ খরচ করে এবং কম তাপ উৎপন্ন করে।
- ট্রানজিস্টর ব্যবহারের ফলে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি আরও দ্রুত, নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।
- ট্রানজিস্টরের আবিষ্কারের মাধ্যমে আধুনিক ইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১৬.
নিচের কোনটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টর?
  1. তামা
  2. সিলিকন
  3. রূপা
  4. অ্যালুমিনিয়াম
সঠিক উত্তর:
সিলিকন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলিকন
ব্যাখ্যা

• সিলিকন সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টর, কারণ এটি সহজলভ্য, স্থিতিশীল এবং তাপমাত্রা ও অমিশ্রণের মাধ্যমে এর তড়িৎ পরিবাহিতা সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

• সেমিকন্ডাক্টর (Semiconductor):

- যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা পরিবাহী ও অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি, সেগুলোকে সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী পদার্থ বলা হয়।
- আধুনিক ইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তির ভিত্তি হলো সেমিকন্ডাক্টর।
- সেমিকন্ডাক্টরের পরিবাহিতা তাপমাত্রা, আলো ও অমিশ্রণ (Impurity) দ্বারা প্রভাবিত হয়।
- সাধারণ তাপমাত্রায় সেমিকন্ডাক্টরের পরিবাহিতা কম থাকে, কিন্তু তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়।
- সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টর হলো সিলিকন (Silicon)।
- সিলিকন পরমাণুর বহিঃকক্ষে চারটি ইলেকট্রন থাকে।
- বিশুদ্ধ সিলিকনে প্রতিটি পরমাণু চারটি প্রতিবেশী পরমাণুর সাথে সমযোজী বন্ধনে যুক্ত থাকে।
- বিশুদ্ধ সেমিকন্ডাক্টরে মুক্ত ইলেকট্রনের সংখ্যা খুব কম থাকায় তড়িৎ পরিবাহিতা সীমিত হয়।
- সেমিকন্ডাক্টরে উপযুক্ত অমিশ্রণ যোগ করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
- ট্রানজিস্টর, ডায়োড ও ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট তৈরিতে সেমিকন্ডাক্টর অপরিহার্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১৭.
কোন কণার মাধ্যমে কণার ভর ব্যাখ্যা করা হয়?
  1. ইলেকট্রন
  2. প্রোটন
  3. নিউট্রন
  4. হিগস বোসন
সঠিক উত্তর:
হিগস বোসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিগস বোসন
ব্যাখ্যা

• Standard Model অনুযায়ী কণাগুলোর ভর ব্যাখ্যা করার জন্য হিগস বোসন নামক বিশেষ কণার ধারণা দেওয়া হয়, যা ভরের উৎস হিসেবে কাজ করে।

• স্ট্যান্ডার্ড মডেল ও হিগস বোসন:
- আধুনিক প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্সের অগ্রগতির ফলে শক্তিশালী এক্সিলারেটর (Accelerator) তৈরি করা সম্ভব হয়েছে, যার মাধ্যমে কণাকে অত্যন্ত উচ্চ শক্তিতে ত্বরিত করা যায়।
- ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার গঠন ও আচরণ ব্যাখ্যার জন্য Standard Model ব্যবহৃত হয়।
- Standard Model অনুযায়ী মৌলিক কণার মাধ্যমে সকল পদার্থের গঠন ব্যাখ্যা করা হয়।
- এই মডেলে কণাগুলোর ভর ব্যাখ্যা করার জন্য হিগস বোসন (Higgs boson) নামক বিশেষ কণার ধারণা দেওয়া হয়।
- ২০১৩ সালে পরীক্ষামূলকভাবে হিগস বোসনের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়।
- আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে কণা পদার্থবিজ্ঞান (Particle Physics) একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা।
- কঠিন পদার্থবিজ্ঞান (Solid State Physics) অর্ধপরিবাহী পদার্থের ওপর গবেষণার ভিত্তি গড়ে তোলে, যা আধুনিক ইলেকট্রনিক্সের মূল ভিত্তি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১৮.
ভরকে শক্তিতে রূপান্তরের ধারণা কোন সূত্রের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়?
  1. E = mc2
  2. F = ma
  3. V = IR
  4. P = VI
সঠিক উত্তর:
E = mc2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
E = mc2
ব্যাখ্যা

• আইনস্টাইনের এই সূত্র অনুযায়ী ভর ও শক্তি পরস্পর রূপান্তরযোগ্য; অর্থাৎ ভরকে শক্তিতে রূপান্তরের ধারণা E = mc2 সূত্রের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়।

• প্রাকৃতিক নিয়ম ব্যবহার করে প্রযুক্তির বিকাশ:
- আইনস্টাইন তার আপেক্ষিক তত্ত্ব থেকে E = mc2 সূত্র প্রদান করেন, যার মাধ্যমে ভরকে শক্তিতে রূপান্তরের ধারণা ব্যাখ্যা করা হয়।
- ১৯৩৮ সালে অটোহান ও স্ট্রেসম্যান পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে ইউরেনিয়াম নিউক্লিয়াস বিভাজিত হলে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়।
- নিউক্লিয়ার বিভাজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি বিকশিত হয়।
- এই প্রক্রিয়ার বাস্তব প্রয়োগ হিসেবে নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ কেন্দ্র (Nuclear Power Plant) স্থাপন করা হয়।
- আধুনিক সভ্যতায় শক্তি উৎপাদনে নিউক্লিয়ার প্রযুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
- পদার্থবিজ্ঞানের একটি শাখা হলো কঠিন অবস্থার পদার্থবিজ্ঞান (Solid State Physics), যেখানে অর্ধপরিবাহী পদার্থ নিয়ে গবেষণা করা হয়।
- অর্ধপরিবাহী পদার্থের বিশেষ ধর্ম কাজে লাগিয়ে ট্রানজিস্টর উদ্ভাবন করা হয়।
- ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার আধুনিক ইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
- প্রাকৃতিক নিয়ম ও সূত্রের ব্যবহার প্রযুক্তি উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

• Other Options:
F = ma → এটি নিউটনের দ্বিতীয় গতিসূত্রের সাথে সম্পর্কিত।
V = IR → এটি ওহমের সূত্র; তড়িৎ বর্তনী সংক্রান্ত।
P = VI → এটি তড়িৎ ক্ষমতার সূত্র।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১৯.
কোন তরঙ্গ শূন্য মাধ্যমে চলতে সক্ষম?
  1. শব্দ তরঙ্গ
  2. পানির তরঙ্গ
  3. যান্ত্রিক তরঙ্গ
  4. তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

• তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গের প্রসারণের জন্য কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না, তাই এটি শূন্য মাধ্যমে চলতে পারে।

• তরঙ্গের শ্রেণিবিভাগ:
- তরঙ্গকে প্রধানত দুই ভাগে শ্রেণিবিভাগ করা যায়। যথা—
- যান্ত্রিক তরঙ্গ (Mechanical Wave),
- তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ (Electromagnetic Wave)।
 
• যান্ত্রিক তরঙ্গ (Mechanical Wave):
- যে তরঙ্গের প্রসারণের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়, তাকে যান্ত্রিক তরঙ্গ বলা হয়।
- যান্ত্রিক তরঙ্গ শূন্য মাধ্যমে চলতে পারে না।
- এই তরঙ্গের মাধ্যমে শক্তি সঞ্চালিত হয়, কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলোর স্থায়ী স্থানান্তর ঘটে না।
- মাধ্যমের কণাগুলো নিজ নিজ সাম্য অবস্থার চারপাশে কম্পন করে।
- উদাহরণ—
- শব্দ তরঙ্গ,
- পানির তরঙ্গ।
 
• তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ (Electromagnetic Wave):
- যে তরঙ্গের প্রসারণের জন্য কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না, তাকে তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ বলা হয়।
- তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ শূন্য মাধ্যমেও চলতে সক্ষম।
- এই তরঙ্গের মাধ্যমেও শক্তি পরিবাহিত হয়।
- উদাহরণ—
- আলো,
- রেডিও তরঙ্গ।
 
• তরঙ্গ সঞ্চালনের সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
- তরঙ্গের মাধ্যমে শক্তি পরিবাহিত হয়, বস্তু পরিবাহিত হয় না।
- মাধ্যমের কণাগুলো কেবল কম্পনের মাধ্যমে শক্তি সঞ্চালনে অংশগ্রহণ করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২০.
পৃথিবীর মোট পানির প্রায় কত শতাংশ সমুদ্রে বিদ্যমান?
  1. ৭০%
  2. ৯০%
  3. ৯৭%
  4. ৫০%
সঠিক উত্তর:
৯৭%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৭%
ব্যাখ্যা

• পৃথিবীর মোট পানির প্রায় ৯৭% মহাসাগর, সাগর ও উপসাগরে সংরক্ষিত থাকে, যা লবণাক্ত পানি।

• বারিমণ্ডলের ধারণা (Concept of Hydrosphere):
- ‘Hydrosphere’ শব্দটি গ্রিক শব্দ Hydro (পানি) ও Sphere (মণ্ডল) থেকে উদ্ভূত।
- পৃথিবীতে বিদ্যমান সকল প্রকার পানির সমষ্টিকে বারিমণ্ডল বলা হয়।
- পৃথিবীর পানি বিভিন্ন অবস্থায় বিদ্যমান—কঠিন (বরফ), তরল (পানি) ও গ্যাসীয় (জলীয় বাষ্প)।
- বায়ুমণ্ডলে পানি জলীয় বাষ্প হিসেবে থাকে, ভূ-পৃষ্ঠে ও ভূ-গর্ভে পানি তরল ও কঠিন অবস্থায় বিদ্যমান।
- পৃথিবীর সকল জলাশয়ের অবস্থানগত বিস্তৃতিকেই বারিমণ্ডল বলা হয়।
- পৃথিবীর মোট পানির প্রায় ৯৭% রয়েছে সমুদ্রে (মহাসাগর, সাগর ও উপসাগরে)।
- অবশিষ্ট প্রায় ৩% পানি নদী, হ্রদ, হিমবাহ, ভূগর্ভস্থ পানি, মাটি ও বায়ুমণ্ডলে বিদ্যমান।
- পৃথিবীর পানি মূলত দুই প্রকার—লবণাক্ত পানি ও মিঠা পানি।
- মহাসাগর, সাগর ও উপসাগরের পানি লবণাক্ত, আর নদী, হ্রদ, হিমবাহ ও ভূগর্ভস্থ পানি মিঠা পানির উৎস।

উৎস: ভূগোল, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

২১.
বায়ুমণ্ডল না থাকলে কোনটি সম্ভব হতো না?
  1. শব্দ শোনা
  2. আলো দেখা
  3. তাপ উৎপন্ন হওয়া
  4. ছায়া পড়া
সঠিক উত্তর:
শব্দ শোনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দ শোনা
ব্যাখ্যা

• শব্দ তরঙ্গ চলাচলের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন; বায়ুমণ্ডল না থাকলে শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলিত ও পরিবাহিত হতো না, ফলে শব্দ শোনা সম্ভব হতো না।

• বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরের গুরুত্ব (Importance of Different Atmospheric Layers):
- বায়ুমণ্ডল না থাকলে পৃথিবী থেকে প্রতিফলিত শব্দ তরঙ্গ ফিরে আসতে পারত না; ফলে কোনো শব্দ শোনা যেত না।
- ট্রপোস্ফিয়ার স্তর ছাড়া পৃথিবীতে কোনো আবহাওয়াজনিত ঘটনা ঘটত না; যেমন—মেঘ সৃষ্টি, বৃষ্টি, কুয়াশা, শিশির, ঝড়, শিলাবৃষ্টি ইত্যাদি সম্ভব হতো না, ফলে কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় বৃষ্টিও হতো না।
- বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরের কারণে সূর্য থেকে আগত ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির বড় অংশ শোষিত বা প্রতিহত হয়; বিশেষ করে ওজোন স্তর না থাকলে এসব রশ্মি সরাসরি পৃথিবীতে পৌঁছে জীবজগতের মারাত্মক ক্ষতি করত।
- বায়ুমণ্ডলের স্তরসমূহ না থাকলে পৃথিবীতে জীবনের অস্তিত্ব থাকত না; তখন পৃথিবী চাঁদের মতো শুষ্ক, নিষ্প্রাণ ও বসবাসের অনুপযোগী হতো।

উৎস: ভূগোল, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

২২.
ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে কী সৃষ্টি হয়?
  1. উচ্চচাপ
  2. নিম্নচাপ
  3. সমচাপ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নিম্নচাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিম্নচাপ
ব্যাখ্যা

• ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে তীব্র নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়, যার কারণে চারপাশের বাতাস দ্রুত কেন্দ্রের দিকে ধাবিত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি করে।

• ঘূর্ণিঝড় (Cyclone):
- ঘূর্ণিঝড় একটি শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- এটি সাধারণত সমুদ্রের উষ্ণ অঞ্চলে সৃষ্ট হয় এবং কেন্দ্রের দিকে প্রবল বায়ু প্রবাহ ঘূর্ণায়মান অবস্থায় প্রবেশ করে।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয় এবং চারদিকে উচ্চচাপ থেকে বাতাস দ্রুত বেগে কেন্দ্রের দিকে ধাবিত হয়।
- বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় সাধারণত বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়ে উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে।
- ঘূর্ণিঝড়ের সাথে প্রবল বৃষ্টি, ঝড়ো বাতাস ও জলোচ্ছ্বাস ঘটে।
- এর ফলে মানুষের প্রাণহানি, ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
- বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চল ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।

উৎস: ভূগোল, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

২৩.
বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব কে এবং কোন সালে উপস্থাপন করেন?
  1. নিউটন, ১৬৮৭ সালে
  2. আইনস্টাইন, ১৯০৫ সালে
  3. গ্যালিলিও, ১৬৩২ সালে
  4. ম্যাক্সওয়েল, ১৮৬৫ সালে
সঠিক উত্তর:
আইনস্টাইন, ১৯০৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনস্টাইন, ১৯০৫ সালে
ব্যাখ্যা

• আলবার্ট আইনস্টাইন ১৯০৫ সালে বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব উপস্থাপন করেন, যা আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

• বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য (Postulates of Special Relativity):
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর ভিত্তি করে গঠিত।
- ১৯০৫ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন এই স্বীকার্যদ্বয় উপস্থাপন করেন।

• প্রথম স্বীকার্য:
- স্থির বা সমবেগে গতিশীল সকল জড় কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ একই রূপে প্রযোজ্য থাকে।
- কোনো জড় কাঠামোকে অপরটির তুলনায় পরম স্থির বা পরম গতিশীল বলা যায় না।
- সকল গতি আপেক্ষিক এবং সকল স্থিতি আপেক্ষিক।

• প্রথম স্বীকার্যের ব্যাখ্যা:
- দুটি জড় কাঠামো যদি পরস্পরের তুলনায় সমবেগে গতিশীল হয়, তবে কোনো পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা সম্ভব নয় কোনটি স্থির এবং কোনটি গতিশীল।
- ফলে সব জড় কাঠামোতেই পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রগুলো একইভাবে কার্যকর হয়।

• দ্বিতীয় স্বীকার্য:
- শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় কাঠামোতে একই থাকে।
- আলোর বেগ আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়।

• দ্বিতীয় স্বীকার্যের ব্যাখ্যা:
- কোনো জড় কাঠামোতে আলোর বেগ যত হবে, অন্য যেকোনো সমবেগে গতিশীল জড় কাঠামোতেও আলোর বেগ একই থাকবে।
- অর্থাৎ আলোর বেগ সর্বত্র ধ্রুব এবং সর্বাধিক।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪.
অস্থিতিশীল পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কণা বা বিকিরণ নির্গত হওয়ার ঘটনাকে কী বলা হয়?
  1. পরমাণুকরণ
  2. তেজস্ক্রিয়তা
  3. আয়নন
  4. নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
তেজস্ক্রিয়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেজস্ক্রিয়তা
ব্যাখ্যা

• অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কণা বা বিকিরণ নির্গত হওয়ার ঘটনাই তেজস্ক্রিয়তা নামে পরিচিত।

• তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity):
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে, যেখানে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে।
- কিছু পরমাণুর নিউক্লিয়াস স্বাভাবিকভাবে অস্থিতিশীল হয়।
- অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কণা বা বিকিরণ নির্গত হওয়ার ঘটনাকে তেজস্ক্রিয়তা বলা হয়।
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটন ও নিউট্রনের বিন্যাসের ভারসাম্য নষ্ট হলে তেজস্ক্রিয়তা দেখা দেয়।
- নিউক্লিয়াস অত্যন্ত ছোট হলেও এতে পরমাণুর প্রায় সমগ্র ভর কেন্দ্রীভূত থাকে।
- নিউক্লিয়াসের স্থায়িত্ব মূলত প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যাগত সম্পর্কের উপর নির্ভর করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

২৫.
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সুনামির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি হওয়ার কারণ কী?
  1. রিং অফ ফায়ার (Ring of Fire)-এ অবস্থিতি
  2. অতিরিক্ত দ্বীপের উপস্থিতি
  3. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
  4. সমুদ্রের তলদেশে শৈবাল স্তরের আধিক্য
সঠিক উত্তর:
রিং অফ ফায়ার (Ring of Fire)-এ অবস্থিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিং অফ ফায়ার (Ring of Fire)-এ অবস্থিতি
ব্যাখ্যা

• প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকাটি রিং অফ ফায়ার নামক একটি ভৌগোলিক অঞ্চলে অবস্থিত। এটি মূলত টেকটোনিক প্লেটের একটি অতি সক্রিয় সীমানা যেখানে পৃথিবীর অধিকাংশ ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত ঘটে।সমুদ্রের তলদেশে এই প্রবল ভূ-আলোড়নের কারণেই এখানে সুনামির হার পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি।

• রিং অফ ফায়ারের বৈশিষ্ট্য:
- এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় বেসিন জুড়ে বিস্তৃত একটি ঘোড়ার খুরের মতো আকৃতির অঞ্চল।
- বিশ্বের সক্রিয় আগ্নেয়গিরির প্রায় ৭৫ শতাংশই এই বলয়ে অবস্থিত।
- এই অঞ্চলে প্লেট টেকটোনিকসের কারণে প্রায়ই সমুদ্রতলদেশীয় ভূমিকম্প হয়।
- জাপান, ইন্দোনেশিয়া এবং চিলির মতো দেশগুলো এই বলয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি সুনামির ঝুঁকিতে থাকে।

• সুনামি (Tsunami):
- সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্পের ফলে সুনামি সংঘটিত হয়।
- বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সুনামি সংঘটনের সম্ভাবনা কম।
- ১৭৬২ সালের ২রা এপ্রিল কক্সবাজার এবং সন্নিহিত অঞ্চলে সুনামির প্রভাব দেখা যায়।
- ১৯৪১ সালে আন্দামান সাগরে ভূমিকম্পের ফলে বঙ্গোপসাগরে সুনামি সংঘটিত হয়। তবে এর ফলে প্রচন্ড আঘাতপ্রাপ্ত হয় ভারতের পূর্ব উপকূল। যার পরিণতিতে ৫,০০০ মানুষ প্রাণ হারায়।
- ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার সিনুয়েলেষু দ্বীপে সংঘটিত ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামির আঘাতে সমগ্র ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় বহু সংখ্যক লোকের মৃত্যু ঘটে।

তথ্যসূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬.
কোনটি নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটরে মডারেটরের কাজ করে? 
  1. ভারী জল 
  2. ক্যাডমিয়াম দণ্ড
  3. তরল সোডিয়াম
  4. ইউরেনিয়াম-২৩৫
সঠিক উত্তর:
ভারী জল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারী জল 
ব্যাখ্যা

• নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটরে ফিশন বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন উচ্চ গতিসম্পন্ন নিউট্রনের গতি কমানোর জন্য যে পদার্থ ব্যবহার করা হয় তাকে মডারেটর বলে। ভারী জল (D2O) বা গ্রাফাইট মডারেটর হিসেবে সবচেয়ে বেশি কার্যকর। নিউট্রনের গতি কমলে তা পরবর্তী ইউরেনিয়াম নিউক্লিয়াসকে আঘাত করে একটি নিয়ন্ত্রিত শৃঙ্খল বিক্রিয়া (Chain Reaction) বজায় রাখতে সাহায্য করে।

• নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর: 
- নিউক্লিয় বিভাজন থেকে উৎপন্ন তাপশক্তিকে তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য এমন ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, যাতে অতি অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়ে সমগ্র প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় এবং যাতে দীর্ঘ সময় ধরে সমহারে শক্তির সরবরাহ পাওয়া যায়। একে নিয়ন্ত্রিত বিভাজন বা নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর বলা হয়। 
- পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্রের নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরকে এই নিয়ন্ত্রিত বিভাজনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়। 

• মডারেটর: 
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার জন্য তাপীয় নিউট্রন অর্থাৎ ধীর গতির নিউট্রন প্রয়োজন। 
- অথচ এই বিক্রিয়ায় নির্গত নিউট্রনের শক্তি প্রায় 181MeV অর্থাৎ দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রন, সেইজন্য এর গতি কমিয়ে তাপীয় নিউট্রন তৈরি করা প্রয়োজন। 
- মডারেটরের কাজ হলো দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে পরবর্তী বিভাজনে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মন্দন ঘটিয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত করে নিতে হয়। 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে পাঠালে উচ্চ গতির নিউট্রন মন্দীভূত হয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত হতে পারে, তাদের বলা হয় মডারেটর। 
- বহুল প্রচলিত দুটি মডারেটর হলো- ১। ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড (D2O) এবং ২। গ্রাফাইট। 

অন্যান্য অপশন:
- ক্যাডমিয়াম দণ্ড: এটি অতিরিক্ত নিউট্রন শোষণ করে চেইন রিঅ্যাকশন নিয়ন্ত্রণের জন্য 'কন্ট্রোল রড' হিসেবে কাজ করে।
- তরল সোডিয়াম: এটি রিঅ্যাকটরে উৎপন্ন প্রচণ্ড তাপ সরিয়ে নেওয়ার জন্য 'শীতলকারক' বা কুল্যান্ট হিসেবে কাজ করে।
- ইউরেনিয়াম-২৩৫: এটি রিঅ্যাকটরের মূল জ্বালানি (Fuel) যা ফিশন প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপন্ন করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রাধান্য দেখা যায়?
  1. এক্সোস্ফিয়ার
  2. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  3. মেসোস্ফিয়ার
  4. ট্রপোস্ফিয়ার
সঠিক উত্তর:
এক্সোস্ফিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক্সোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা

• এক্সোস্ফিয়ার (Exosphere): 
- তাপমণ্ডলের (থার্মোস্ফিয়ার) উপরে প্রায় ৯৬০ কিলােমিটার পর্যন্ত যে বায়ুস্তর আছে তাকে এক্সোস্ফিয়ার বলে। 
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রাধান্য দেখা যায়। 

• এক্সোস্ফিয়ারের বৈশিষ্ট্য: 
- এক্সোস্ফিয়ার, তাপমণ্ডল (থার্মোস্ফিয়ার) অতিক্রম করে ৯৬০ কিলােমিটার পর্যন্ত প্রসারিত হয়। এটি ক্রমান্বয়ে ইন্টারপ্লানেটারি স্পেসে প্রবেশ করে। 
- এ স্তরের তাপমাত্রা প্রায় ৩০০° সেলসিয়াস থেকে ১৬৫০° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়। 
- এ স্তরে খুব সামান্য পরিমাণ গ্যাস যেমন অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, আর্গন এবং হিলিয়াম ধারণ করে, কেননা মাধ্যাকর্ষণের ঘাটতির কারণে গ্যাস অণু বা কণাগুলাে সহজে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২৮.
একটি স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি কুণ্ডলীর প্যাঁচ সংখ্যা ১০০ এবং সেকেন্ডারি কুণ্ডলীর প্যাঁচ সংখ্যা ৫০০ হলে এটি কী ধরণের ট্রান্সফরমার?
  1. স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার 
  2. আদর্শ ট্রান্সফরমার 
  3. জেনারেটর
  4. স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার 
সঠিক উত্তর:
স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার 
ব্যাখ্যা

• ট্রান্সফরমার এর মূলনীতি অনুযায়ী, যদি মুখ্য কুণ্ডলীর (Primary Coil) তুলনায় গৌণ কুণ্ডলীর (Secondary Coil) প্যাঁচ সংখ্যা বেশি হয়, তবে সেটি ভোল্টেজ বাড়িয়ে দেয়। যেহেতু এখানে মুখ্য কুণ্ডলীর প্যাঁচ ১০০ এবং গৌণ কুণ্ডলীর প্যাঁচ ৫০০ (অর্থাৎ গৌণ কুণ্ডলীর প্যাঁচ বেশি), তাই এটি একটি স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার (Step-up Transformer) বা আরোহী ট্রান্সফরমার।

ট্রান্সফরমার:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে পরিবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রুপান্তর করা হয়, তাকে ট্রান্সফরমার বলে।
- তড়িৎ চৌম্বক আবেশ এর উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্র তৈরি করা হয়।

ট্রান্সফরমার দুই প্রকার:
১. স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার এবং
২. স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার।

• স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার:
- যে ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি হয় এবং সে কারনে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে বেড়ে যায় তাকে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার বলে।
- বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য এই ধরনের ট্রান্সফরমার ব্যবহার করা হয়।

• স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার:
- যে ট্রান্সফর্মার অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহকে অল্প বিভবের অধিক তড়িৎ প্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার বলে।
অর্থাৎ, স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে বিদ্যুতের উচ্চতর ভোল্ট থেকে নিম্নতর ভোল্ট পাওয়া যায়।
- বাসা বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি পদার্থ বিজ্ঞান বই।