পরীক্ষা আর্কাইভ

IBA ফ্যাকাল্টি ভিত্তিক প্রস্তুতি

পরীক্ষাIBA ফ্যাকাল্টি ভিত্তিক প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৭
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১০ বিষয়: বাংলা - ২ টপিক: ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান, বাংলা বর্ণমালা ও যুক্তবর্ণ; সন্ধি।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

IBA ফ্যাকাল্টি ভিত্তিক প্রস্তুতি

IBA ফ্যাকাল্টি ভিত্তিক প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৭ প্রশ্ন

.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. পরিস্কার
  2. কাষ্ঠ
  3. পুরষ্কার
  4. বহিস্কার
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

- ট–বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়৷
যথা:
- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 

- র-ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে, তবে তার পরে 'ষ' বসে।
যেমন - পরিষ্কার, বহিষ্কার, পুরস্কার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ কয়টি?
  1. ৬টি
  2. ৮টি
  3. ১০টি
  4. ১২টি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• উপযুক্ত বর্ণসমূহকে মাত্রার উপর ভিত্তি করে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। ।
• মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা ১০ টি।
- এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।

• অর্ধমাত্রার বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮টি।
এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।

• পূর্ণমাত্রার বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণ মাত্রার বর্ণ ৩২টি।
এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. রোষ
  2. জিনিষ
  3. পোষ্ট
  4. পোষাক
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - রোষ। 

কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন -ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

• বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না।
যেমন - জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
পূর্ণ মাত্রার ব্যঞ্জনবর্ণ কয়টি?
  1. ১০টি
  2. ২৬টি
  3. ৩০টি
  4. ৩২টি
  5. ৩৭টি
ব্যাখ্যা

• মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা ১০ টি। 
- এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ) ।

 • অর্ধমাত্রার বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮টি। 
- এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)। 

• পূর্ণমাত্রার বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণ মাত্রার বর্ণ ৩২টি। 
- এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।

উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
'পর্যালোচনা' এর সন্ধিবিচ্ছেদ কী?
  1. পর্যা + আলোচনা
  2. পরি + আলোচনা
  3. পরি + লোচনা
  4. পর্যা + লোচনা
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

 - পরি + আলোচনা = পর্যালোচনা।- এটি একটি স্বরসন্ধি।
- স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনি মিলে যে সন্ধি হয় তাকে স্বরসন্ধি বলে।

• ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে 'য' বা য ফলা হয়। য ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।
যেমন:
- অতি + অন্ত = অত্যন্ত,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- পরি + আলোচনা = পর্যালোচনা,
- মসী + আধার = মস্যাধার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯সংস্করণ )।

.
কোনটি সঠিক যুক্তবর্ণ?
  1. ঞ্‌ + ঙ = ঞ্জ
  2. ঞ্‌ + ছ = ঞ্চ
  3. ঙ্‌ + ক = ঙ্ক
  4. ক্ + ত্‌ + র = ক্র
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• সঠিক যুক্তবর্ণ - ঙ্‌ + ক = ঙ্ক।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ যুক্তবর্ণের শুদ্ধরূপ:
- ঞ + চ = ঞ্চ,
- ঞ + ছ = ঞ্ছ,
- ঞ + ন = ঞ্জ।
- ক্‌ + র = ক্র

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- গু = (গ্ + উ),
- গ্ধ = (গ্ + ধ), 
- ঙ্গ = (ঙ্ + গ), 
- ণ্ড = (ণ্ + ড),
- জ্ঞ = (জ + ঞ)ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ।

.
ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে কোনটি অশুদ্ধ?
  1. প্রতিষেধক
  2. অনুষঙ্গ
  3. অগ্নিষাৎ 
  4.  সুষুপ্ত
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও ষ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
নিচের কোন যুক্তবর্ণের বিশ্লেষণ ভুল?
  1. ক্ষ = ক্ + ষ
  2. গ্ধ = গ্ + ধ
  3. জ্ঞ = জ্‌ + ঞ
  4. ঞ্জ = ঞ্ + জ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• সবগুলো যুক্তবর্ণের বিশ্লেষণ সঠিক।
- তাই উত্তর হবে কোনোটিই নয়।

• কয়েকেটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ:
- ক্ত = (ক্ + ত), 
- ক্ম = (ক্ + ম), 
- ক্ষ = (ক্ + ষ), 
- ক্ষ্ম = (ক্ + ষ্ + ম),
- ক্স = (ক্ + স), 
- গু = (গ্ + উ),
- গ্ধ = (গ্ + ধ), 
- ঙ্গ = (ঙ্ + গ), 
- ণ্ড = (ণ্ + ড),
- জ্ঞ = (জ + ঞ), 
- ঞ্চ = (ঞ্ + চ), 
- ঞ্জ = (ঞ্ + জ), 
- ষ্ণ = (ষ্ + ণ)
- হু = (হ্ + উ), 
- হৃ = (হ + ঋ), 
- হ্ন = (হ্ + ন), 
- হ্ম = (হ্ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি( ২০২২ সংস্করণ)।

.
'ত্বরান্বিত' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ত্বরা + অন্বিত 
  2. ত্বরণ + ইত
  3. ত্বরা + আন্বিত
  4. ত্বরা + ন্বিত
  5. ত্বর + আন্বিত
ব্যাখ্যা

'ত্বরান্বিত' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ ত্বরা + অন্বিত।

সূত্র:

প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির যোগে আ-ধ্বনি হয়।
- বানানে তা আ-কার রূপে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।
- নব + অন্ন = নবান্ন,
- স্ব+ অধীন = স্বাধীন,
- সর্বস্ব + অন্ত = সর্বস্বান্ত,
- সূর্য + অস্ত = সূর্যাস্ত,
- সিংহ + আসন = সিংহাসন,
- দণ্ড + আদেশ = দণ্ডাদেশ,
- হত + আশ = হতাশ, 
- মহা + অর্ঘ = মহার্ঘ,
- আশা + অতীত = আশাতীত,
- যথা + অযথ = যথাযথ,
- ত্বরা + অন্বিত = ত্বরান্বিত।
- মহা + আশয় = মহাশয়,
- কারা + আগার = কারাগার,
- ব্যথা + আতুর = ব্যথাতুর।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১০.
নিচের কোনটি ভুল?
  1. অচ্ + অন্ত =  অজন্ত
  2. অপ্ + ইন্ধন = অবিন্ধন
  3. তদ্‌ + জন্য = তজ্জন্য
  4. তত্‌ + মধ্যে = তন্মধ্যে।
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

তত্‌ + মধ্যে = তন্মধ্যে; সন্ধিবিচ্ছেদটি ভুল।
সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ - তদ্‌ + মধ্যে = তন্মধ্যে।

অন্যদিকে,
অচ্ + অন্ত =  অজন্ত; অপ্ + ইন্ধন = অবিন্ধন; তদ্‌ + জন্য = তজ্জন্য সন্ধিবিচ্ছেদগুলো সঠিক।

সূত্র:

- আগে ৎ বা দ এবং পরে ন/ম্ থাকলে ৎ বা দ স্থানে 'ন' হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে ন্ন কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে ন্ম হয়।
কিন্তু, ৎ বা দ এর পর ল্ থাকলে ৎ বা দ  সন্ধিতে 'ল' হয় এবং ল্ পরের ল-এর সঙ্গে মিলে ল্ল হয়।
যেমন:
- উৎ + নতি = উন্নতি,
- জগৎ + নাথ = জগন্নাথ।
- তদ্‌ + নিমিত্ত = তন্নিমিত্ত,
- তদ্‌ + নিষ্ঠ= তন্নিষ্ঠ।
- ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি।
- মৃৎ + ময় = মৃন্ময়,
- সৎ + মার্গ = সন্মার্গ।
- তদ্‌ + মাত্র = তন্মাত্র,
- তদ্‌ + মধ্যে = তন্মধ্যে।
- উৎ + লাস = উল্লাস, 
- উৎ + লিখিত = উল্লিখিত।
- তদ্‌ + লিখিত = তল্লিখিত।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১১.
কোন শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ষড়ঋতু
  2. আষাঢ়
  3. ঊষা
  4. দ্বেষ
  5. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা

ষ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে 'ষ'-এর প্রয়োগ রয়েছে।
- যেসব তৎসম শব্দে 'ষ' রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে।
- তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য 'ষ'-এর ব্যবহারের নিয়মকে ষত্ব বিধান বলে।

• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না।
যেমন - জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১২.
'তস্কর' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. তৎ + কর
  2. তশ্‌ + কর
  3. তঃ + কর
  4. তস্‌ + কার
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

নিপাতনে সিদ্ধ সংস্কৃত ব্যঞ্জনসন্ধি:
সংস্কৃত ব্যঞ্জনসন্ধির ক্ষেত্রে এমন কতকগুলো ব্যঞ্জনসন্ধি আছে যেগুলো কোনো নিয়মের মধ্যে পড়ে না।
এসব সন্ধিকে 'নিপাতনে সিদ্ধ' সন্ধি বলে।
যেমন:
- তৎ + কর = তস্কর,
- এক + দশ = একাদশ,
- দিব্‌ + লোক = দ্যুলোক,
 - ষট্ + দশ = ষোড়শ, হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র,
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোস্পদ,
 - আ + পদ = আপদ,
- পতৎ+ অঞ্জলি = পতঞ্জলি,
- পশ্চাৎ + অর্ধ = পশ্চার্ধ,
- বাক্ + ঈশ্বরী = বাগেশ্বরী,
- বিশ্ব + মিত্র = বিশ্বামিত্র।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১৩.
'সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না।' এর উদাহরণ কোনটি?
  1. অন্ত
  2. ক্রন্দন
  3. দুর্নিবার
  4. গ্রন্থ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়।
যেমন - ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।

অন্যদিকে, 
• ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না, ন হয়।
যেমন - অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪.
'চক্ষূরোগ' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. চক্ষূ + রোগ
  2. চক্ষু + রোগ
  3. চক্ষুঃ + রোগ
  4. চক্ষূঃ + রোগ
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

-  চক্ষুঃ + রোগ = চক্ষূরোগ।

সূত্র:
পূর্বপদের শেষে বিসর্গযুক্ত ই/উ-ধ্বনি থাকলে এবং পরপদের প্রথমে র থাকলে সন্ধিতে বিসর্গ লোপ পায় এবং ই বা উ-ধ্বনি দীর্ঘতা পেয়ে দীর্ঘ-ঈ বা দীর্ঘ-উ-তে রূপান্তরিত হয়।
যেমন:
- নিঃ + রব = নীরব,
- নিঃ + রস = নীরস,
- নিঃ + রোগ = নীরোগ,
- নিঃ + রন্দ্র = নীরন্দ্র ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১৫.
স্বভাবত 'ণ' ব্যবহার হয়েছে কোন শব্দে?
  1. লক্ষণ
  2. অর্পণ
  3. স্থাণু
  4. হরিণ
  5. ব্রাহ্মণ
ব্যাখ্যা

• স্বভাবত 'ণ' ব্যবহার হয়েছে - স্থাণু।

ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম:
- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন - কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প + অ+ণ্‌), লক্ষণ (ক্+ ষ্‌ + অ + ণ্‌)।
এরূপ - রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
- 'কৃপণ' শব্দটি ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে হয়েছে।

স্বভাবতই 'ণ' হয় এমন কিছু শব্দ:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, শোণিত, মণি, স্থাণু ,গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু , বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ, শাণ, চিক্বণ, নিক্বণ, তূণ, বণিক, গুণ, গণনা, পিণাক, পণ্য, বাণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৬.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. চতুঃ + পদ = চতুষ্পদ
  2. অন্তঃ + রাষ্ট্রীয় = অন্তরাষ্ট্রীয়
  3. অতঃ + পর = অতঃপর
  4. বহিঃ + প্রকাশ = বহিঃপ্রকাশ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ: অন্তঃ + রাষ্ট্রীয় = অন্তঃরাষ্ট্রীয়।
• পূর্বপদের অন্ত্য-বিসর্গের পর ক/দ/খ/প/ফ/র/শ/স্ থাকলে সন্ধিতে বিসর্গ অপরিবর্তিত বা অক্ষত থাকে।
যেমন
- অধঃ + ক্রম = অধঃক্রম,
- মনঃ কষ্ট = মনঃকষ্ট।
- অধঃ + ক্ষেপ = অধঃক্ষেপ,
- মনঃক্ষুণ্ণ = মনঃক্ষুণ্ণ।
- অতঃ + পর = অতঃপর,
- বহিঃ + প্রকাশ = বহিঃপ্রকাশ।
- অন্তঃ + রাষ্ট্রীয় = অন্তঃরাষ্ট্রীয়।
- দুঃ + শাসন = দুঃশাসন,
- নিঃ+ শেষ = নিঃশেষ।
- দুঃ+ স্বপ্ন = দুঃস্বপ্ন,
- নিঃ সন্দেহ = নিঃসন্দেহ।

• বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনি বা উ-ধ্বনির পর ক/খ/প/ফ থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গ(ঃ) স্থানে য হয়। 
- এবং বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির পর ক/খ/প/ফ থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গ (ঃ) স্থানে স-ধ্বনি হয়। স পরবর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়।
যেমন:
- চতুঃ + পদ = চতুষ্পদ।
- আবিঃ + কার = আবিষ্কার।
- নিঃ + পত্তি = নিষ্পত্তি, 
- নিঃ + ফল =  নিষ্ফল।
- দুঃ + কৃতি = দুষ্কৃতি,
- চতুঃ + কোণ = চতুষ্কোণ।
- ভ্রাতুঃ পুত্র = ভ্রাতুষ্পুত্র।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১৭.
নিচের কোন বানানটি ভুল?
  1. কিষান
  2. তৎক্ষণ
  3. ধরুন
  4. পরাণ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'পরাণ' বানানটি অশুদ্ধ।
- শুদ্ধ বানান - পরান।
- পরান একটি অর্ধতৎসম শব্দ।

অন্যদিকে,
- 'কিষান' অর্ধতৎসম শব্দ।খাঁটি বাংলা শব্দে ও অতৎসম শব্দে (অর্থাৎ তদ্ভব শব্দে) সর্বদা দন্ত্য ন হবে।
- তৎক্ষণ তৎসম শব্দ। ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
শোনা
- ক্রিয়াপদে সর্বদাই 'ন' হয়। যেমন করেন, করুন, ধরুন, ধরেন, মারেন ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।